জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ দিনের আলোচনায় এই কথা বলেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে এবং আমরা মনে করি, আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি আছি।” গণভোটের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সকল রাজনৈতিক দল মিলে ধারণা করছি, আমাদের কি জনগণের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। যদি জনগণের কাছে এই গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করা যায় যে, আমরা এই সনদে স্বাক্ষর করেছি এবং অঙ্গীকার করেছি, তখন জনগণের পক্ষ থেকেও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত হবে।”তিনি আরও বলেন, “গণভোটের জন্য সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগ সরকার যে আর্টিকেল ১৪২ এর অধীনে গণভোটের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিল, তা হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন কেউ সংবিধানে কোথাও গণভোটের প্রতিবন্ধকতা দেখতে পাবেন না। এক্ষেত্রে একটি অর্ডিন্যান্স জারি করে নির্বাচন কমিশনকে এই সুবিধা দিতে পারা সম্ভব, যাতে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করা যায়।” স্লাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনস্ব idée সার্বভৌম ক্ষমতার অভিপ্রায়। তাই সংসদ এবং সংসদ সদস্যরা এই রায় মানতে বাধ্য হবেন।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি আগামী সংসদে এই সনদের বিরোধী সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে তারা জনমতকে অগ্রাহ্য করতে পারবেন না। কারণ, এই ভোট সার্বভৌম সিদ্ধান্ত, যা মান্যতা পাবে।”তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষরিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই বিষয়ক ইশতেহারে নিজেদের অঙ্গীকার প্রকাশ করবেন। সেটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ হবে এবং জনগণ জানবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি কি-কি। যাঁরা এই বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট করবেন, তারা তা অনুসরণ করতে পারবেন।” সুবিধার্থে বোঝানোর জন্য বলে রাখা ভালো, এই প্রক্রিয়া সমন্বিতভাবে চলবে, যাতে সকলের মধ্যে স্পষ্ট যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
Category: রাজনীতি
-

জুলাই সনদ: নির্বাচনের আগে ভোটের দাবি জামায়াতে ইসলামী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীরা জুলাই সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্যে একটি গণভোটের প্রস্তাব তুলে ধরছেন, যা নির্বাচন আগে সম্পন্ন করতে চায়। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আইনি ভিত্তির জন্য এই গণভোট জরুরি এবং সব রাজনৈতিক দল—বিশেষ করে বিএনপি—এ বিষয়ে একমত। তবে জামায়াত মনে করে, নির্বাচন আগে হলে সমস্যা থাকা দূর হবে।
রোববার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এই বৈঠকটি ছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পরিচালিত, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ক সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবনা যাচাই-বাছাই চলছিল।
এসময় একটি প্রশ্নে তিনি বলেন, গণভোট কবে হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মনে করে, নভেম্বর বা ডিসেম্বরে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে তফসিলের পূর্বেও এই ভোট সম্পন্ন সম্ভব। গণভোট হলে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব বলে তারা মনে করেন, এতে করে জনগণও কোন ঝামেলার মধ্যে পড়বে না এবং সবকিছু সহজে এগোবে।
আযাদ আরো জানান, যদি গণভোট থেকে ফলাফল তাঁদের বিপক্ষে যায়, তাঁরা সেটি মান্য করবেন এবং কোনো আপত্তি করবে না। তিনি বলেন, গণভোটের আগে কিংবা পরে এর আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। সবাই এই প্রস্তাবের পক্ষে, এবং নির্বাচনী কমিশন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে। সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে এই ভোট আয়োজন করা সম্ভব হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও দলের আইনজীবী শিশির মনির।
-

তারেক রহমান বললেন, দ্রুত দেশে ফিরে আসব এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি দ্রুত দেশের মাটিতে ফিরে আসবেন এবং আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। আজ সোমবার বিবিসি বাংলার বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পরে প্রথমবারের মতো তিনি কোনো মৌখিক সাক্ষাৎকারে অংশ নিলেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি আগামী নির্বাচনের জন্য দলের কৌশল, আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের নেতাকর্মীদের বিচার, বাংলাদেশের নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিপ আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির ও সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোল। সাক্ষাৎকারের প্রথম অংশ আজ বিবিসি বাংলার পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো।
বিবিসি বাংলার প্রশ্নে, তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের এক বছর সম্পন্ন হল, এবং অনেকের মনে ছিল যে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি দেশে এসে দলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে এখনো নিজেকে দেশে ফিরবেন কি না, তার ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলতে না পারলেও তিনি জানান, ফেরার সময় খুবই কাছাকাছি এবং শীঘ্রই তিনি দেশে ফিরবেন।
তিনি বলেন, ‘কিছু সংগত কারণে এখনো ফিরতে পারেননি, তবে এখন সময় এসেছে। ইনশআল্লাহ, শীঘ্রই ফিরে আসব।’ তারেক রহমানের এই কথায় বোঝা যায়, তিনি খুব দ্রুত দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি জানান, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইচ্ছা এবং প্রবল আগ্রহ নিয়ে সেই প্রত্যাশিত নির্বাচনে অংশ নিতে। নির্বাচন যখন হবে, আমি অবশ্যই জনগণের মাঝে থাকব।’
একই সাথে, তিনি বলেন, তার দলের কিছু নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কিছু নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এখনো দেশে ফিরছেন না। তিনি এই বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে নানা রকম শঙ্কার খবর শুনেছেন, যা সরকারের কাছ থেকেও কিছু কিছু প্রকাশ পেয়েছে।
পরবর্তী প্রশ্নে, তাকে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কি প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি উত্তর দেন, ‘আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। নির্বাচনে আমি অংশ নেব—এটা নিশ্চিত। নির্বাচন যেখানে হবে, সেখানে আমি থাকব।’ তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের জনগণের। এটি আমার নয়, তাদের সিদ্ধান্ত।’
শেষে, প্রশ্ন করা হয়, আসলেই কি তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি উত্তরে স্পষ্টভাবে বলেন, ‘নিশ্চয়ই। আমি ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে থাকব।’ এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি খুব দ্রুত দেশের রাজনীতিতে বড়ভাবে ফিরে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
-

তরুণ নির্বাচনী জোটের জন্য অক্টোবরের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত হতে পারে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান বিভিন্ন বাম জোটগুলোকে আরও শক্তিশালী ও একত্রিত করার জন্য আলোচনা শুরু হয়েছে, যার ফলে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই নতুন একটি বৃহৎ নির্বাচনী জোট গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।
-

খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য ২৫৬ প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে খেলাফত মজলিস। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইবি) ভবনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় দলের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এই তথ্য জানান। এই নির্বাচনের জন্য মোট ২৫৬ প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। বাকি প্রার্থীর নাম আগামী দিনগুলোতে ঘোষণা করা হবে। এছাড়া, যদি জোটের সঙ্গে আসনভিত্তিক অঙ্গীকার হয়, তবে প্রার্থীতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্তভাবে, আহমদ আবদুল কাদের ইসরায়েলি গণহত্যায় গাজাবাসীদের ওপর বৈশ্বিক অবরোধের কঠোর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, গাজায় মানবাধিকার কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি সেনাদের হামলা, তাদের আটক এবং সুমুদ ফ্লোটিলার করেন ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা বন্ধের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। তিনি আটক মানবাধিকার কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। একই সাথে, গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কঠোর উদ্যোগের আহ্বান করেন।
সংগঠনটির যুগ্ম-মহাসচিব মুনতাসির আলী বলেন, আগামীর নির্বাচনে মূল লক্ষ্য হবে বাতেল বিরুদ্ধে ইসলামের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা। তিনি বলেন, সংগঠনটি দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভোটারদের মধ্যে জনমত গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে ভোটপ্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি বন্ধ করা যায়। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা ভোট জালির বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করবেন।
মতবিনিময় সভাটি সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আবদুল বাছিদ আজাদ। এতে সংগঠনের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি তালিকা অনুযায়ী, সম্ভাব্য ২৫৬ প্রার্থীর মধ্যে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রার্থীদের নাম উল্লেখ করা হলো: খুলনা বিভাগের মধ্যে মেহেরপুর-১ আসনে অধ্যাপক আবদুল হান্নান, মেহেরপুর-২ আসনে হোসাইন বাদশাহ, কুষ্টিয়া-১ আসনে মাওলানা শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-২ আসনে মুফতি আবদুল হামিদ, কুষ্টিয়া-৩ আসনে অধ্যাপক সিরাজুল হক, কুষ্টিয়া-৪ আসনে মাওলানা আলী আশরাফসহ অন্যান্য প্রার্থীরা রয়েছেন। বাকি আসনের প্রার্থীর তালিকা খুব দ্রুত ঘোষণা করা হবে।
বরিশাল বিভাগে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে: বরিশাল-১ আসনে অধ্যাপক মোঃ সাইদুর রহমান শাহীন, বরিশাল-২ আসনে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বরিশাল-৩ আসনে অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ মুয়াজ্জেম হোসাইন, ও অন্যান্য প্রার্থী। এই তালিকায় যোগ হয়েছেন আরও বিভিন্ন জেলা থেকে প্রার্থীর নাম।
-

জামায়াতের অংশগ্রহণে আন্দোলন ও ২০২৪ সালের নির্বাচন: সত্যতা ও ভূমিকা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা জামায়াতের সাথে যুক্ত হয়ে এখন আন্দোলন করছে, তাদের ২০২৪ সালের নির্বাচনে কী ভূমিকা ছিল, তা জাতি স্পষ্টভাবে জানতে চায়। সোমবার (০৪ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্ন্স ইনস্টিটিউটে এনডিপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, যারা হীন রাজনীতি করতে চায়, তাদের দেশবাসীর স্বার্থে সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। তার মতে, রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পিআর ভিত্তিক আন্দোলন চালাচ্ছে কিছু চিহ্নিত দল, যারা এর মাধ্যমে নির্বাচন বিলম্ব করতে বা পুরো প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তিনি warning দিয়ে উল্লেখ করেন, যদি নির্বাচন ধাক্কা খায় বা বিলম্ব হয়, তাহলে দেশের ভিতরে অন্ধকার অন্ধকার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কার ইশতেহার গ্রহণ করবে বা কোন পথে যাবে।
এছাড়াও, সালাহউদ্দিন আহমদ গাজা উপক্রমণি নৌবহরে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানান এবং এ ব্যাপারে কঠোর প্রতিবাদ জানান। তিনি জাতিসংঘের ওপর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্যও আহ্বান জানান। পাশাপাশি, তিনি বলেন, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের দাবির পেছনে গণতান্ত্রিক চর্চা রয়েছে, তবে প্রকৃত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে। তিনি আরো বলেন, দেশের শান্তি এবং স্থিতির জন্য সকল পক্ষের দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।
-

ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, একসঙ্গে থাকতে চায় জামায়াতে ইসলামী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশে ৯০.৮ শতাংশ মানুষ মুসলমান। অন্যরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করার পক্ষে কেউ নয়। তিনি সম্মেলনে বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন।
আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় উলামা কমিটির উদ্যোগে দেশি-বিদেশি উলামা ও দাঈদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডা. শফিকুর রহমান এই মন্তব্য করেন।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে বাস করছি। বিশ্বে কয়েকটি দেশ রয়েছে যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বেশ উল্লেখযোগ্য, তার মধ্যে বাংলাদেশ বিশেষ স্থান অধিকার করে। তিনি যোগ করেন, আমরা সবাই আল্লাহর ইচ্ছায় এই দেশে জন্ম নিয়েছি। ধর্মের ভিত্তিতে আমাদের বিভাজন হয় না; বরং আল্লাহ মানুষকে বিচার-বিবেক দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেক মানুষ ভাবনায় ও বিবেকের দিক থেকে ধর্ম গ্রহণ করে।
তিনি আরও বলেন, দাঈদের দায়িত্ব হলো আল্লাহর শাশ্বত বিধান ও নবী মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনদর্শন অনুসরণ করে সমাজে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণমুখী পরিবর্তনের জন্য কাজ করা। মানুষের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে ইসলাম থেকে পাওয়া সত্যিকারের মূল্যবোধের বিকশিত করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, আল্লাহ তায়ালার দেওয়া নির্দেশনা ও নবী মুহাম্মদ (সা.) এর দাওয়াতই মূলত মুসলমানের দায়িত্ব। সকল মুসলমান ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে অবশ্যই এই দিশা অনুসরণের অনুরোধ জানান, যেন আমরা সবাই একটি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও সহিষ্ণু সমাজ গড়ে তুলতে পারি।
-

রিজভীর অভিযোগ: নতুন ইস্যু সৃষ্টি করে জনগণের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নতুন ইস্যু তৈরি করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-অ্যাবের নতুন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যান। এ সময় তিনি বলেন, মিথ্যা পরিসংখ্যান ও ভ্রান্ত কথার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে কিছু ষড়যন্ত্রকারী। তিনি সতর্ক করেন, যারা অহংকার করে মিথ্যাচার করে তারা মানুষ চিনতে পারা উচিত। রিজভী আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি ধর্ম ভিত্তিক দলের অনুগত ব্যক্তিরা বসানো হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষ এখনই প্রস্তুত, তারা আর ডামি নির্বাচন বা কারচুপির পক্ষে নয়। এদিকে, ভারতের পূজামণ্ডপে ডক্টর ইউনূসের ব্যঙ্গচিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কার্যক্রমটির দেশটির নিম্নমানের অবস্থা প্রতিফলিত বলে মন্তব্য করেন।
-

গণঅধিকার ও এনসিপি ক্ষতিগ্রস্ত: রাশেদ খান
গণঅধিকার পরিষদে সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেছেন, জামায়াত ও শিবিরের নানা অন্য দলগুলিতে নিজেদের কর্মী যুক্ত করার রাজনীতির কারণে গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। রাশেদ খান বলেন, “জামায়াত এবং শিবিরের অন্য দলে নিজেদের লোকবলের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। সম্প্রতিকালে এই নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের সংগঠন গুলোর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপি। এই দুই তরুণ দলসহ অন্যান্য সংগঠনে নিজেদের লোকজন যুক্ত করে তারা সংগঠনগুলোর মধ্যে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি করছে, বিভাজন বাড়াচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “শুধু রাজনৈতিক দল নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে পরিচয় প্রকাশ না করেই তাদের সংগঠনে যুক্ত করার প্রবণতা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকেও বাধাগ্রস্ত করছে। এই নীতির কারণে সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের এই কার্যকলাপ এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে সুদিনের সময়।” রাশেদ খান বলেন, “যদি জামায়াত-শিবির বাংলাদেশে মধ্যপন্থী রাজনীতিতে আসার চেষ্টা করে, সেটাকে অবশ্যই স্বাগত জানাতে হবে। তবে তাদের পুরো রাজনীতি হোক প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ। অন্যথায়, দলের মধ্যে বিভেদ বাড়বে, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে এবং বিরাজনীতির সৃষ্টি হবে।” তিনি সতর্ক করেন, “দেশের রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, জামায়াত-শিবিরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইসলামকে রাজনীতিতে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাদের সচেতন হওয়া জরুরি। বর্তমানে জামায়াত ও শিবিরের রাজনীতি মধ্যপন্থী ধারায় চলে আসছে। এই ধারার সঙ্গে ইসলামকে যুক্ত করলে মানুষ ভুল মেসেজ পাবে। ইসলামিক দল গঠনের নামে এমন কৌশল অবশ্যই বন্ধ হওয়া দরকার, কারণ এতে দেশের সম্পূর্ণ সিস্টেম বিপর্যস্ত হবে ও বিরাজনীতির সৃষ্টি হবে।” শেষ তিনি প্রার্থনা করেন, “সম্প্রদায়ের সবাই আল্লাহর রহমতে এই ক্ষতি থেকে রক্ষা পান, আমিন।”
-

শিগগিরই প্রতিটি আসনে একক প্রার্থীর জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন
বাংলাদেশি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্ব সহকারে চোখে পড়ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এর কথা। তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই প্রতিটি নির্বাচনী আসনে একক প্রার্থী হিসেবে ‘গ্রীন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে। গত শুক্রবার (৩ অক্টোম্বর) রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির অনেক আসনে বেশ কয়েকজন যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। কিছু কিছু আসনে নির্দিষ্ট করে ১০ থেকে ১২ জনের মতো প্রার্থীও রয়েছে। বাছাই প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করার জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। এতে দলের মনোভাব পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে যে, তারা জোড়া প্রার্থী বা বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের একত্রিত করার পরিকল্পনা করছে।
এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি জোট গঠনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, জরুরি কোনও বিষয় ছাড়া এমন কিছু সামনে আনা উচিত নয় যা জাতীয় জীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, গণতন্ত্র রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও, তারা সবাই একসূত্রে বাঁধা থাকবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিভাগের খোলাসা করে দিয়ে বলে, সব বিপদ কাটিয়ে উঠলেও আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না। বরং তারা দিল্লিতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের উচিত এখনই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করা।
