Category: রাজনীতি

  • কিছু উপদেষ্টার মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই: সারজিস

    কিছু উপদেষ্টার মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, কিছু উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখাচ্ছেন এবং শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই ‘উত্তরণ’ বা ‘সেফ এক্সিট’ খোঁজার মানসিকতা বদ্ধমূল করে রেখেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এত শহীদের রক্তের বিনিময়ে গড়া এই দায়িত্ব পালন করেও যদি কেউ ভয় পান কিংবা পিছপা হন, তাহলে তাঁদের জন্য এই দায়িত্বে থাকা অর্থহীন। যারা এই ধরনের মানসিকতা পোষণ করেন, তাদের জন্য মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশের মানুষ তাদের খুঁজে বের করবে, বলেন তিনি।

    মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নওগাঁয় জেলা শাখার এক সমন্বয় সভার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ করে সারজিস বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে শপথের প্রতীক (শাপলা) ব্যবহার করতে পারার জন্য এনসিপির কোন আইনি বাধা নেই। কিন্তু এরপরও যদি নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ না করে, তাহলে তা স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা গোষ্ঠীগত চাপেরই পরিচায়ক হবে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি কখনোই মেনে নেব না।

    এনসিপির জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দল অন্য কারো সাথে জোট বেঁধে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়টি এখনো দলের কেন্দ্রীয় নেতা নেত্রীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে, দলটির সংগঠনিক শক্তি আরও দৃঢ় করার জন্য আগামী নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিট পর্যায়ে কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    রাজনৈতিক বাস্তবতা বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সৎ ও আদর্শবান মানুষ যদি একত্রিত হন, তাহলে একটি কার্যকর রাজনৈতিক দল গঠন সম্ভব। তবে, আওয়ামী লীগের যে কোনো সংস্করণ বা সম্ভাব্য অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা বাংলাদেশে এখন আর কার্যকর নয়। এনসিপি এই অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে বজায় রাখবে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নওগাঁ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক মনিরা শারমিন। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • জনগণই নির্ধারণ করবেন নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে: আমীর খসরু

    জনগণই নির্ধারণ করবেন নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে: আমীর খসরু

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিদেশিরা নয়, বরং দেশের জনগণই ঠিক করবে কীভাবে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    এর আগে, ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি প্রতিনিধিদল। এই সাক্ষাৎকালে আমীর খসরু উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুবই আন্তরিক। গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরা এ দেশে নিয়মিত পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি তারা ইতিবাচকভাবে দেখেছে এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা অবজারভার দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

    আমীর খসরু বলেন, দেশের নির্বাচননীতি নির্ধারণ করার দায়িত্ব শুধু বিদেশিদের নয়; সেটা জনগণই করবে। সকল বিদেশি পরোক্ষে বা প্রকাশ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করে, দেশের মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিবাচক ভূমিকা ইসলামপ্রিয় এই অঞ্চলে অব্যাহত রাখতে চায়। তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন করতে কাজ করতে চাইছে।

    বৈঠকের আলোচনায় নির্বাচন প্রক্রিয়া, জনগণের প্রত্যাশা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি, এবং সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিএনপি পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

    অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসায় কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকের ঘটনার মন্তব্য জানতে চাইলে আমীর খসরু সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি বলেন, কে কোথায় বৈঠক করল, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয় এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশি দলের কিছু বলার নেই।

  • নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র-active থাকুন: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র-active থাকুন: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে বক্তৃতার সময় এ অভিযোগ করেন। এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা, অবসর বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ, নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ এবং শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সামনে রেখে। মির্জা ফখরুল শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন,

  • গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থা মানবতা হারিয়েছে, পশু তৈরি করছে

    গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থা মানবতা হারিয়েছে, পশু তৈরি করছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শুধু সেক্যুলার শিক্ষা মানুষকে নৈতিক চরিত্র দেয় না, বরং ইসলামের সুশিক্ষা ছাড়া এই শিক্ষাব্যবস্থা মানবতার চেয়ে বেশি পশু তৈরি করছে। তার এই মন্তব্যের প্রমাণ হিসেবে তিনি আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আব্দুস সালাম হলে শহীদ আবরার ফাহাদ দিবসের উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন, যা বাংলাদেশ জনতা দলের ‘রুখে দাঁড়াও ভারতীয় আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাগপার সহ সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আবরার ফাহাদ কোন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও মেধাবী ছাত্র। তিস্তা নদী, ফেনী নদী, গ্যাসের অবস্থা ও কলকাতার বন্দরের বিষয় নিয়ে তিনি ফেসবুকে ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্ররা এই ধরনের নৃশংস কাজ করতে পারে কীভাবে? এটি দেখায় তাদের মনন, শিক্ষা ও চরিত্রে মানবতা হারিয়ে গেছে।

    অতিরিক্তভাবে, তিনি বলেন, এখন আধিপত্যবাদ নৈরাজ্য বা শুধু ভৌগোলিক দখল নয়, বরং একটি দেশের অন্য দেশের ওপর রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে শাসন প্রতিষ্ঠা করাও আধিপত্যবাদের অংশ। এর মাধ্যমে দেশের সরকারি সিদ্ধান্ত, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে। এর কারণে বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাচ্ছে না এবং নানাভাবে শোষিত হচ্ছে।

    অতি গুরুত্বপূর্ণ এক প্রশ্নের উত্তরে, গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে, একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারহিসাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। এ জন্য বৈধ রাষ্ট্র কাঠামো বদলে, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার চালিয়ে নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্ট বা অসামাজিক নেতাদের আর জন্ম না হয়।

    তিনি আরও জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইসলামী ও দেশপ্রেমিক শক্তির মধ্যে যে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তা যেন কোনো আধিপত্যবাদী গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি না করে। পাশাপাশি ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সমতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, যাতে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।

  • একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন করলে বিলম্বের সুযোগ থাকবে না: সালাহউদ্দিন

    একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন করলে বিলম্বের সুযোগ থাকবে না: সালাহউদ্দিন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে কোনো পক্ষই নির্বাচন পেছানোর সুযোগ পাবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন যেন ততটাই হয় যেমনটি পরিকল্পনা করা হয়েছে, কোনো বিলম্বের স্থান নেই।

    সোমবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গুণমানসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’ বিষয়ে এক আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচন এক চ্যালেঞ্জ নয়; যারা নির্বাচন বিলম্ব করতে চাইছেন, তারাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।

    তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের সময় একই সঙ্গে গণভোট নেওয়া সম্ভব। এতে জনসম্পৃক্ততা কমবে না, বরং বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হবে না। আগের স্থানীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, একাধিক ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুবিধায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হননি। তাই সরকার দু’টি ভোটের জন্য আলাদা দিন না রেখে, একই দিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিতে পারে…

    সালাহউদ্দিন সরকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি গণভোটের আয়োজন করতে দেশের নির্বাচন কমিশনকে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণ এতে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

    আলোচনায় তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পেছানোর জন্য বিভিন্ন অজুহাত দেয়া হবে। তিনি এই সব চক্রান্তকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারা যেন অতিরিক্ত জটিলতা সৃষ্টি না করে।

    সালাহউদ্দিন দাবি করেন, বাইরে থেকে পাঠানো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা রাজনীতি সম্পর্কিত বার্তা সাধারণ মানুষের জন্য মূল্যহীন। তিনি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদবাদের বিরুদ্ধে একজোট থাকলে কোনো সংকট তৈরি হবে না।

  • ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে শঙ্কা নেই, তবে জুলাইয়ে সংস্কার প্রয়োজন

    ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে শঙ্কা নেই, তবে জুলাইয়ে সংস্কার প্রয়োজন

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী কোনো শঙ্কা করছি না বলে স্পষ্ট করে মন্তব্য করেছেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি মনে করছেন, তবে এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও ঐক্যবদ্ধ করার জন্য জুলাই মাসের সংশোধনী, বিশেষ করে সনদ সংস্কার, খুব জরুরি।

    তাহের বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন অত্যন্ত স্পষ্ট—নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ও দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে নিউইয়র্কে সফরকালে বহুবার আলোচনা হয়েছে। আমাদের সবাইকে একযোগে বলতে হয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য সময় মতো উদ্যোগ নিতে হবে। এর জন্য বৈধতা ও আইনের দিক থেকে অবশ্যই শক্তিশালী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    তাহের প্রমাণ দেয়, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের মতো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে, সমস্যার সমাধানে অবাধ, নিরপেক্ষ, ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই একমাত্র সমাধান। তিনি জানান, জুলাই মাসের সংশোধন ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন সম্ভব হয়।

    তাহের বলেন, বর্তমানে কিছু পক্ষের ষড়যন্ত্র ও দেরি করানো সংস্কার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। যদি এসবের কারণে নির্বাচনের সময় আবার সমস্যা হয় বা নির্বাচন সংশয় হয়, তাহলে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে তাহের বলেন, বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে সরকার ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে এই সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করেছিল। তিনি এটা একাত্মতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়াও, তিনি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে, জামায়াতে ইসলামী প্রথম এই দাবি তুলেছে বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, এবং জনগণের পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তাঁর আশাবাদ।

    এক প্রশ্নের জবাবে তাহের স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। সেখানে জাতিসংঘের অধিবেশন অংশগ্রহণের জন্য গিয়েছিলেন। আমেরিকায় তাঁদের পরিবার ও মেয়ে রয়েছে, তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন।

    অবশেষে, তিনি গুজবের সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, অনলাইনে ও মিডিয়ায় বারংবার ছড়ানো এই ধরনের গুজব, যেমন ভারতের সেনা প্রধানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও চিকিৎসারজন্য গিয়েছে—সবই মিথ্যা। এগুলো কৃত্রিম ও অপ্রামাণিত খবর, যা AI টেকনোলজি দিয়ে তৈরি। তিনি বলেন, এসব অপপ্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং সত্যের পথ অনুসরণ করতে হবে।

  • তারেক রহমানের মন্তব্য: উপযুক্ত অন্তর্বর্তী সরকার থাকলে সন্দেহ কমবে

    তারেক রহমানের মন্তব্য: উপযুক্ত অন্তর্বর্তী সরকার থাকলে সন্দেহ কমবে

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যত বেশি দৃঢ় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থির থাকবে, ততই সমাজে সংশয় বা অবিশ্বাস কমে যাবে। তিনি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন, যা মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশিত হয়েছে।

    সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—আপনি কয়েক মাস আগে বলেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে, তা কি আপনি এখনও অনুভব করেন?

    তারেক রহমান জবাব দেন, ‘আমার মনে আছে, আমি যখন এই মন্তব্য করেছিলাম, তখন সরকার কোনও নির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা নির্বাচনের জন্য সঠিক সময়সূচী ঘোষণা করেনি। তারা কেবলমাত্র সাধারণ কথাবার্তা বলেছে, কিছু পরিকল্পনা বা তারিখ উল্লেখ করেনি। এই জন্যই, অন্তর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে, যখন ওই সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন, এবং পরবর্তীতে তিনি বেশ কয়েকবার তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দৃঢ়তা দেখান, তখন ধীরে ধীরে মানুষের মন থেকে সংশয় কমতে শুরু করে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, যেখানে যত বেশি তাদের কার্যক্রমে দৃঢ়তা থাকবে, মানুষ ততই বিশ্বাসićে ফিরে আসবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে, যদি তারা জনগণের স্বার্থে কাজ করে।’

    বিএনপির নেতা বলছেন, ‘এই সরকারকে সফল করতে আমরা চাই, তারা মূলত সংস্কার ও সুষ্ঠু, স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের প্রতি মনোযোগী হোন। এই লক্ষ্য অর্জনই মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের প্রত্যাশা। আমাদের আশা, তারা উত্কৃষ্টভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন।’

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘সরকারের কাজের মান কতটাই বা ভালো হচ্ছে, তা নির্ভর করে কার্যকারিতার ওপর। দেশ পরিচালনায় অন্তর্বর্তী সরকারকে মূল্যায়ন করতে গেলে, এটি ক্ষণস্থায়ী হলেও এর দায়িত্ব রাজনৈতিক ও জনতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা বিচার করতে হলে তারেক রহমান ব্যাখ্যা করেন, ‘বাংলাদেশ একটি বড় দেশের মতো। জনসংখ্যার দিক থেকে সেটি বিশ্বে অনেক বড়। যুক্তরাজ্য যেমন সাত কোটি মানুষ থাকলেও, আমাদের দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটির কাছাকাছি। এর মানে, এই দেশ পরিচালনা একরকম শক্তি ও শক্তিমত্তার প্রয়োজন। এজন্য অবশ্যই জনগণের ম্যান্ডেট সহকারে দুর্দান্ত এক সরকার দরকার।’

    সন্ধি যুগের সরকার বা সেনা সমর্থিত সরকারের মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এক কথায় বলতে গেলে, এক এগারোর সরকার ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অনৈতিক। তারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চাইছিল। তবে আমাদের মতে, সেই সময়ের সরকারের নিহিত ছিল অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি, তারপরও নানা সংঘর্ষ ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্র ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিলো।’

    কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির মূলনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মূলনীতি একটাই—বাংলাদেশের স্বার্থের অখণ্ডতা। সবার আগে বাংলাদেশ, তার জনগণ, সার্বভৌমত্ব। এটা বাস্তব ও সরল বিষয়, এর বেশি কিছু নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘দ্রুত বলার জন্য, আমার দৃষ্টি শুধুই বাংলাদেশের স্বার্থে, বাইরের বিষয়াবলি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক, দেশের স্বার্থই আমার প্রথম প্রাধান্য।’

  • নির্বাচনে জয় ও একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

    নির্বাচনে জয় ও একক সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ করে এককভাবে সরকার গঠনের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। এই কথা তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন। ডের যুগের বেশি সময় ধরে লন্ডনে বসবাস করলেও তিনি দেশের রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের জন্য ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারেক রহমান বলেন, আমার বাংলাদেশের ফেরার সময় খুব দ্রুত অাসছে। তিনি আরও বলেন, একাধারে অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে শেখ হাসিনার সরকার পতন সম্ভব নয়, কারণ তা ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না। সাক্ষাৎকারে তিনি দৃঢ় বলে জনান, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা জয়ী হব। আমাদের ধারণা, আমরা এককভাবে সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত অবস্থানে আছি। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈদেশিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের জন্য তিনি কাজ করবেন। এ ছাড়াও তিনি বলেন, বিএনপি নতুন সরকারে দায়িত্ব নিলে কোন প্রতিহিংসার সুযোগ প্রদান করা হবে না। জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকায়, ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও সমালোচনাও করেছেন। তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, বিএনপি অন্যদের নিয়ে গঠন করবে সরকার, যাতে তরুণ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় করতে আমাজন, আলিবাবা এবং ই-কমার্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরবরাহ কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ৫৯ বছর বয়সী তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে নির্বাসনে রয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, নতুন বিএনপি সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটাবে। তবে আওয়ামী লীগের জনসমর্থনের বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে বলেন, যদি তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে আওয়ামী লীগ কীভাবে নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবে? প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকারালে দুর্নীতি ও বিরোধীদলের ওপর দমন-পীড়নের নানা বিষয় উঠে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখবেন, কারণ তাদের দাবি যারা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, তারা অর্থ চুরি করে বিদেশে পাচার করে চলেছেন।

  • বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কারা, জানালেন তারেক রহমান

    বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কারা, জানালেন তারেক রহমান

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের পেশি শক্তি বা অর্থের প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রার্থীর যোগাযোগ ও জনসমর্থনই মনোনয়নের মূল ভিত্তি হবে। বিএনপির এই নেতা বিবিসি বাংলাকে দেওয়া দুপর্বের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে এসব কথা ব্যক্ত করেন। প্রথম পর্বটি সোমবার প্রচারিত হয়, এবং আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে দ্বিতীয় পর্বের সাক্ষাৎকার দেখানো হবে।

    সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন, রাজনীতি এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। পছন্দের প্রার্থনির জন্য পেশিশক্তি বা অর্থের প্রভাবের অভিযোগের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ’আমরা কখনোই এইসব বিবেচনায় যেসব বিষয় আসে, তা বিবেচনা করি না। আমাদের মনোনয়নের সিদ্ধান্ত সাধারণত ওই এলাকায় যে ব্যক্তি এলাকার সমস্যা ভালো বোঝে, যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ রয়েছে, যারা পরিস্থিতির উন্নতিতে সক্ষম এবং জনগণের সমর্থন আছে, তাদের ভিত্তিতে হয়।”

    তিনি জানান, “অর্থাৎ, এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, যার সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ, নারী, বৃদ্ধ, ছাত্র-ছাত্রীরা যোগাযোগ রাখে। তার জনসমর্থন থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা এমন ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেই, যার জনসমর্থন রয়েছে, যে সেই সমর্থন বহন করতে পারে।”

    তৃণমূলের মতামত কতটা প্রাধান্য পাবে, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে যেখানে মতামত থাকা স্বাভাবিক। বিভিন্ন মতামত আসে, কেউ এককভাবে সব বলবে না। জনপ্রতিনিধি যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য মূলত মেজরিটি বা বেশি সংখ্যক মানুষের মতামতই বিবেচনা করা হয়। আমরা আমাদের এলাকাকার মানুষের মতামত খুঁজে থাকি।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা দলের নেতৃত্ব নির্বাচন করছি না, বরং এমন ব্যক্তিকে খুঁজছি, যে দলমত নির্বিশেষে এলাকার অধিকাংশ মানুষের সমর্থন পায়। এটি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন এবং নিজ এলাকায় জনপ্রিয়। আমরা চাই, এই ব্যক্তি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। কারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা সেই ধরনের ব্যক্তির খোঁজ করছি, যার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেও যে সমর্থন আছে।”

  • তারেক রহমানের আহবান: একসঙ্গে গড়ে তুলবো সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ

    তারেক রহমানের আহবান: একসঙ্গে গড়ে তুলবো সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক সঙ্গে সবুজ এবং টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব আরোপ করেছেন। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের সকলের জন্য একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুরক্ষিত বাসস্থান অধিকারের বিষয়টি অপরিহার্য। আমাদের গ্রামাঞ্চল, শহর, নদী, বন—সকলই আমাদের জীবনযাত্রার অংশ, এবং এগুলোর সংরক্ষণ ও উন্নয়ন ভবিষ্যৎকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলে। টেকসই উন্নয়ন ছাড়া একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাতি সম্ভব নয়, এর জন্য বিশৃঙ্খল নগরায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তির মোকাবিলা জরুরি। আজকের বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে তিনি বিএনপি’র ৩১-দফা পরিকল্পনাকে আমাদের রোডম্যাপ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষা, পরিকল্পিত ও সুষম নগরায়ন এবং বিকেন্দ্রীকরণ এই তিনটি বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হতে চাই। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ঢাকা কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বন্ধ করে, দেশের প্রত্যেক অঞ্চলে উন্নত ও আধুনিক শহর গড়ে তুলতে হবে যাতে সব নাগরিক উপকৃত হন। তিনি একটি জাতীয় সবুজায়ন কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দেন, যার আওতায় ২৫ কোটি গাছ রোপণ, নদী পুনরুদ্ধার, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, আধুনিক কৃষি, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমিকে প্রসারিত করা হবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি সরকার বাসস্থান ও ভবিষ্যৎ দু’টিই রক্ষা করবে। সবাই একসঙ্গে কাজ করে একটি সবুজ, টেকসই ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ‘বিশ্ব বাসস্থান’ দিবস প্রতি বছর অক্টোবরে প্রথম সোমবার পালিত হয়, যার প্রধান লক্ষ্য হলো সবাইকে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দ্রুত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জে সচেতনতা বৃদ্ধি।