Category: রাজনীতি

  • সরকার চুপিসারে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চায়: রেজাউল করীম

    সরকার চুপিসারে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চায়: রেজাউল করীম

    অন্তর্র্বর্তী সরকার বিএনপিকে গোপনে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি শুক্রবার ঢাকা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের এক সমাবেশে এ কথা বলেন।

    রেজাউল করীম বলেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি আরও জানান, এই অভ্যুত্থানের ফলে দেশে ইসলামপন্থিদের ক্ষমতায় যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ৫৪ বছর ধরে চলে আসা নির্বাচনী অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে আগামীতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সাধারণ জনগণ বর্তমানে সরকারের এই স্ববিরোধী ধারা কঠোরভাবে সমালোচনা করছে। রেজাউল করীম আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার চুপিসারে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর চক্রান্ত করছে। তবে জনগণ এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক এবং এগিয়ে এসে তা প্রতিরোধ করবে।

    এছাড়াও, সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, সমাজে এক শ্রেণির অতি ধনী হবে এবং অন্য দলটি গাছতলায় বসবাস করবে—এটাই কেউ চায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামের পক্ষের শক্তি বনাম ইসলামের বিপক্ষের শক্তির মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • জুলাই স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতি নিশ্চিতের দাবি জামায়াতের

    জুলাই স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতি নিশ্চিতের দাবি জামায়াতের

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতিকালের গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে যে, জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত সনদে নিশ্চিত করতে হবে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি। দলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিআর পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়টি যেন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন এবং নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পর্যায়ে বৈঠক ও আলোচনা করে এটি বাস্তবায়ন করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন আলোচনাসভা, সেমিনার ও সম্পাদকীয়তে এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ পিআর পদ্ধতিতে ভোট দিতে চায়, এটি স্পষ্ট একটি গণতান্ত্রিক অধিকার যা একান্ত প্রয়োজন।

    অতীতে কিছু দল ও কুচক্রী মহল এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন, কিন্তু তার যুক্তি হলো, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি জনপ্রিয় এবং কার্যকর। তিনি সরকারের কাছে আবারো জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের স্বাক্ষরের আগে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই পদ্ধতিটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

    এছাড়াও, তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, দেশের কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠী ও ফ্যাসিবাদী দের দোসররা দীর্ঘদিন থেকে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূলধারাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে, বিএনপি, ইনু-মেননসহ অন্য কয়েকটি দল তাদের পছন্দের নেতা ও কর্মকাণ্ড চালাতে সরকারি বা প্রশাসনিক পদে হস্তক্ষেপ করছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবারও বিতর্কিত ও হঠকারি নির্বাচন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি অভিযোগ করেন, অনেকের মুখে দেশের স্বার্থের কথা শোনা গেলেও, তারা প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনের সংস্কারে সহযোগিতা করছে না। সব দলের অংশগ্রহণ ও সমান সুযোগের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।

    প্রসঙ্গক্রমে, তিনি বলেন, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি নতুন কিছু নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও কার্যক্ষম। বাংলাদেশেও নানা আলোচনা, সেমিনার ও মতবিনিময়ে এই পদ্ধতির সুফল তুলে ধরা হয়েছে। তাই, তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের স্বাক্ষরের আগে জাতীয় স্বার্থে এই পদ্ধতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    অন্যদিকে, মিয়া গোলাম পরওয়ার বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট দের দোসর ১৪ দল, ইনু-মেনন ও সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, তারা ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় টিকে থাকতে নানা অপকর্ম ও ষড়যন্ত্র করছে। এই সমস্ত চক্রান্ত ও দুষ্টচক্রের কারণে দেশের স্বার্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এরূপ অপরাধীদের বিচারের জন্য নিয়মিত ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছে, সেই বিচার প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, কালো শক্তির প্রভাবে সুষ্ঠু ও জনগণের দাবি মেনে নেওয়া নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্ক করেন।

    এমন পরিস্থিতিতে, রাজধানীতে জামায়াতের উদ্যোগে এক বিশাল গণমিছিল হয়েছে। জুমার নামাজের পর এই মিছিলের আয়োজন করা হয়, যা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর নেতৃবৃন্দ ও হাজারো দলীয় কর্মী অংশ নেন। তাৎক্ষণিক, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এই গণমিছিল দেশের জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক এক অংশ। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত এবং অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

    মিছিলের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি ও অবস্থান জানান, শান্তিপূর্ণভাবে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মিছিল শেষ হয়। এ সময় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    অতঃপর, দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের মৌলিক অধিকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন, সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য এই ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত জরুরি। মূলত, তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের এই আন্দোলন শুধু জামায়াতের দাবি নয়, এটি সমগ্র জাতির মুক্তি ও কল্যাণের জন্য। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতারা ঘোষণা করেন, এই আন্দোলন ও দাবি জারি থাকবে এবং সকলের সমর্থন ও একাগ্রতা দিয়ে এই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া হবে।

  • তারেক রহমানের আশ্বাস: প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের পাশে থাকবে রাষ্ট্র

    তারেক রহমানের আশ্বাস: প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের পাশে থাকবে রাষ্ট্র

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের সঙ্গে থাকবে রাষ্ট্রের সহায়তা, বাধা নয়। শনিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে আমরা আনন্দে উদযাপন করছি সব কন্যাশিশুর স্বপ্ন দেখার, শিখার, নেতৃত্ব দেওয়ার এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপনের অধিকার।

    তারেক রহমান ব্যাখ্যা করেন, একজন বাবার দৃষ্টিকোণে মেয়েদের ক্ষমতায়ন কেবল একটি নীতির বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি মেয়ের জন্য একই স্বাধীনতা, সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে—এমন প্রত্যাশা যা একজন বাবা-মা তার সন্তানদের জন্য চায়।

    তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার সব সময় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ঐতিহ্যবাহী কাজ করে এসেছে, এবং ভবিষ্যতেও সেই উন্নয়ন ধারাবাহিক রাখার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় আমরা দেখেছি, তিনি কেমনভাবে তৈরি পোশাক শিল্পকে শুধু একটি শিল্প হিসেবে নয়, বরং আশার প্রতীক করে তুলেছিলেন। এতে লক্ষ লক্ষ নারী আনুষ্ঠানিক কাজে যোগদান করে অার্জন, সম্মান ও স্বাধীনতা লাভের সুযোগ পান। সেই সময়ের নেতৃত্বে নারী কল্যাণ ও উন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়, যেখানে নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের অধীনে মেয়েদের শিক্ষা একটি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা কেবল সুবিধা নয়, বরং সকলের জন্য আবশ্যক। নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ঘোষণা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মেয়েকে বিদ্যালয়ে রাখতে সহায়তা করে, যার ফলশ্রুতিতে পরিবেশের পরিবর্তন, শক্তিশালী সমাজ তৈরি ও নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উম্মোচন হয়।{

    তারিসহ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের স্কুলে অংশগ্রহণের পরিমাণ সমান হয় ছেলে মেয়েদের, যা বাল্যবিবাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বিশ্বের স্বীকৃতি পায়। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, যখন শাসনব্যবস্থা মেয়েদের মর্যাদা ও ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে, তখন অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

    বিএনপি ভবিষ্যৎ নীতিমালায় এ ধরনের ঐতিহ্য ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এর মাধ্যমে কিছু মৌলিক উদ্যোগ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন:

    ১. পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু, যাতে সহায়তা সরাসরি পরিবারের মূল স্তম্ভের হাতে পৌঁছায়।
    2. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ, ব্যবসায় প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা।
    3. শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ, যাতে শহর বা গ্রামে থাকা প্রতিটি মেয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
    4. নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, রাজনীতি ও শাসনে তাদের উপস্থিতি বাড়ানো।
    5. মর্যাদা ও স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করে মেয়েদের ভয়মুক্ত জীবন গড়ার ব্যবস্থা।
    6. পরিবারের কল্যাণ, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়া।

    শেষে তিনি বলেন, আমরা শূন্য শব্দে বিশ্বাস করি না, বরং বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে কাজ করি। প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের সঙ্গে দেশের রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব থাকবে, বাধা হয়ে না।

  • আগামী নির্বাচনে শিক্ষকদের সমর্থন প্রত্যাশা তারেক রহমানের

    আগামী নির্বাচনে শিক্ষকদের সমর্থন প্রত্যাশা তারেক রহমানের

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে শিক্ষকদের সমর্থন এবং সহযোগিতা চান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, দেশের ক্ষমতা অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষকদের দাবিগুলো পূরণ হবে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের এক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী অংশ নেন। তাদের মূল দাবি ছিল, অবসর বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ এবং অন্যান্য চার দফা দাবির প্রতি সরকার মনোযোগী হোক। তারেক রহমান আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতের সফল দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রভাবশালী একটি রাষ্ট্র হিসেবে উন্নত মেধা, মনন এবং জ্ঞানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এক্ষেত্রে, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করতে হলে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী একটি সমাজ তৈরিতে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এর পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন এবং এ জন্য একটি সংস্কার কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।

  • নির্বাচন কাকে দিয়ে হবে তা জনগণই ঠিক করবে: আমীর খসরু

    নির্বাচন কাকে দিয়ে হবে তা জনগণই ঠিক করবে: আমীর খসরু

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিদেশিদের উপর নয়, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন কেমন হবে, তা নির্ধারণ করবে মূলত দেশের জনগণ। বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    এ prior, ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ একদল বিএনপি প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আমীর খসরু বলেন, বিএনপি স্বাগত জানায় যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহী। অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা অবজারভার দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যার মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে তারা।

    আমীর খসরু বলেন, আমাদের কাছে বিদেশিদের কাছে কোনও অভিযোগ বা নালিশ নেই। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোনো বিদেশির হাতেও নয়, বরং এর সিদ্ধান্ত হবে দেশের জনগণের ভোটের মাধ্যমে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক 유지 করে আসছে এবং এই সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। এছাড়া তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে দৃ solid করার জন্য, সংসদকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করতে চায়।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

    অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসায় কিছু বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে সম্প্রতি যে বৈঠক হয়েছে, সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, এসব বৈঠক কোথায় and কবে হয়, তা ব্যক্তি বিশেষের বিষয়। এ ব্যাপারে তাঁদের কোনও মন্তব্য নেই বোঝাতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের স্বার্থে ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাই সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেবে।

  • নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে সতর্ক থাকুন: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে সতর্ক থাকুন: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক চোখে চোখে সংকেত দিয়েছেন যে, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, অবসর বয়স ৬৫ বছর নির্ধারণ, নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পেশ করা। মির্জা ফখরুল শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন,

  • নতুন টেলিভিশন লাইসেন্সপ্রাপ্তরা নিজের যোগ্যতা নিয়ে হিমশিম

    নতুন টেলিভিশন লাইসেন্সপ্রাপ্তরা নিজের যোগ্যতা নিয়ে হিমশিম

    গণমাধ্যমের অনুমোদন পাওয়া টিভি চ্যানেলের লাইসেন্সধারীদের মধ্যে বেশিরভাগই নিজেদের পরিবারের পরিচালনা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

    তিনি বলেন, ‘‘শোনা যাচ্ছে, এনসিপির নেতাদের নামে দুটি গণমাধ্যমের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমি ওই দুইজনকে খুব ভালোভাবে চিনি। তারা নিজের পরিবারের জন্য চালাতে গিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছেন।’’

    নুরুল হক নুর যোগ করেন, ‘‘আমি একজন দলের প্রধান, কিন্তু ৫ অগস্টের পরে যেখানে ছিলাম, তখন থেকেই আছি। এর মধ্যে অনেক সহকর্মী রয়েছেন, যারা ছোট ছোট পত্রিকায় কাজ করেন। তাঁদের খুব ভালো বেতনও হয় না। মূলধারার মিডিয়ায় কেউ কাজ করেন না, কিভাবে কী দেওয়া হয়, আমি তা জানি না। আমি এটা দেখে অবাক হয়েছি, এবং মনে হয়, এর মধ্য দিয়ে সরকারের অস্বচ্ছতা ও পক্ষপাতিত্বের বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে।’’

    তিন Further, he highlighted the government’s actions during the previous government’s time, especially pointing to anti-corruption measures and efforts to establish discipline among the people. তবে তিনি বলেন, ‘‘আন্তবর্তী সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই সরকারের সময় আমরা সেই কার্যক্রম দেখছি না। বরং দেখা যাচ্ছে, পুরনো পদ্ধতিতে ভাগাভাগি, নিয়ন্ত্রণ, লোক উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠান দখল আরও প্রবল হয়েছে।

    ৫ আগস্টের পরে আরও অনেকটি গণমাধ্যম দখল করে নেওয়া হয়েছে, যা আমরা এই সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশা করিনি। এই দিক থেকে যারা আছেন, তাদের অবশ্যই দায় নিতে হবে।’’

    উল্লেখ্য, নতুন দু’টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চ্যানেল দুটি হচ্ছে ‘নেক্সট টিভি’ ও ‘লাইভ টিভি’। এর মধ্যে ‘নেক্সট টিভি’ এর লাইসেন্স পেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক মোঃ আরিফুর রহমান তুহিন। তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দলের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি একটি ইংরেজি দৈনিকের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। এনসিপি গঠিত হওয়ার পরে তিনি দলের যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সকলেই অপেক্ষা করছে ভোটের ফলাফলের জন্য: আমীর খসরু

    বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সকলেই অপেক্ষা করছে ভোটের ফলাফলের জন্য: আমীর খসরু

    বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খানসুর মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সবাই এখন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন। আজ বৃহস্পতিবার (০৯ অক্টোবর) সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের সঙ্গে দলের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর এ কথা তিনি বলেন। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের পর আমীর খসরু বলেন, জার্মান সরকার মনে করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। তবে, সব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানার জন্য তারা জানতে চেয়েছেন যখন দেশ নির্বাচনটি সম্পন্ন হবে। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগের জন্য সবাই এখন দেশের নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকছেন।

    একই সময়ে তিনি বলেছিলেন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এখন অত্যন্ত জরুরি, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা সম্ভব করতে, জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যতটুকু ঐকমত্য হয়, সেটির ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, জনগণ ম্যান্ডেটবিহীন রাজনৈতিক দলগুলোকে সব সমস্যার সমাধান দিতে দিচ্ছে না। যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই অগ্রসর হওয়া উচিত। বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। যারা সমঝোতা করতে পারবে না, তারা নির্বাচনের পরে বিষয়গুলো সমাধান করবে। বিএনপি যেসব বিষয়ে ঐকমত্যের বাইরে থাকছে, তাদের তিনি মান্য করছেন বলে জানিয়েছেন।

    নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন, দলগুলো কী করছে, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তবে, বিএনপির কবে প্রার্থী ঘোষণা করবে, তা সময় অনুযায়ী জানানো হবে। নির্বাচন উপলক্ষে যথাযথ ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং দল সে সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপি একটি বড় দল, তাই একাধিক প্রার্থী আসার প্রত্যাশা রয়েছে। দল যাকে মনে করবে, সবাই তাকে সমর্থন করবে।

    খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেছেন, খালেদা জিয়া কখনোই রাজনীতি থেকে চলে যাননি। তার জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করা সাধারণ ঘটনা, যা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক প্রসার ঘটানো উচিত নয়।

    অপর এক প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ নিয়ে বিএনপির মাথাব্যথা নেই। যেকোনো সময় যেকোনো দেশের কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক হওয়া সাধারণ ব্যাপার।

  • কিছু উপদেষ্টার মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই: সারজিস

    কিছু উপদেষ্টার মৃত্যু ছাড়া কোনো সেফ এক্সিট নেই: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, কিছু উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখাচ্ছেন এবং শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই ‘উত্তরণ’ বা ‘সেফ এক্সিট’ খোঁজার মানসিকতা বদ্ধমূল করে রেখেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এত শহীদের রক্তের বিনিময়ে গড়া এই দায়িত্ব পালন করেও যদি কেউ ভয় পান কিংবা পিছপা হন, তাহলে তাঁদের জন্য এই দায়িত্বে থাকা অর্থহীন। যারা এই ধরনের মানসিকতা পোষণ করেন, তাদের জন্য মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশের মানুষ তাদের খুঁজে বের করবে, বলেন তিনি।

    মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নওগাঁয় জেলা শাখার এক সমন্বয় সভার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ করে সারজিস বলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে শপথের প্রতীক (শাপলা) ব্যবহার করতে পারার জন্য এনসিপির কোন আইনি বাধা নেই। কিন্তু এরপরও যদি নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ না করে, তাহলে তা স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা গোষ্ঠীগত চাপেরই পরিচায়ক হবে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি কখনোই মেনে নেব না।

    এনসিপির জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই দল অন্য কারো সাথে জোট বেঁধে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়টি এখনো দলের কেন্দ্রীয় নেতা নেত্রীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে, দলটির সংগঠনিক শক্তি আরও দৃঢ় করার জন্য আগামী নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও ইউনিট পর্যায়ে কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    রাজনৈতিক বাস্তবতা বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সৎ ও আদর্শবান মানুষ যদি একত্রিত হন, তাহলে একটি কার্যকর রাজনৈতিক দল গঠন সম্ভব। তবে, আওয়ামী লীগের যে কোনো সংস্করণ বা সম্ভাব্য অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা বাংলাদেশে এখন আর কার্যকর নয়। এনসিপি এই অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে বজায় রাখবে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নওগাঁ জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক মনিরা শারমিন। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • শাপলা প্রতীক চেয়ে এনসিপির ইসিকে নতুন চিঠি

    শাপলা প্রতীক চেয়ে এনসিপির ইসিকে নতুন চিঠি

    আবারও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে শাপলা প্রতীক বরাদ্দের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি ইসিকে 7টি বিভিন্ন প্রতীকের নমুনা তুলে ধরে আবেদন জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার (7 অক্টোবর) দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ইসি সচিবের কাছে পাঠানো হয়।

    এনসিপি তাদের চিঠিতে উল্লেখ করে, তারা গভীরভাবে শাপলা প্রতীকের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে, এবং এই প্রতীক ছাড়া তাদের পক্ষে অন্য কোনো প্রতীক নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এটি তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগ প্রতিষ্ঠা করে।

    চিঠিতে তারা জানায়, ওই প্রতীক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্বাচনী করপোরেট মিটিংয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইসি ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী নতুন করে প্রতীক তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এনসিপি দাবি করে, সংশ্লিষ্ট কমিটি মোট ১৫০টি প্রতীক তালিকাভুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছিল এবং ৪ জুন ইসির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে জানানো হয় যে, চূড়ান্ত তালিকায় ‘শাপলা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত আছে।

    এর আগে, ২২ জুন এনসিপি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে এবং ‘শাপলা’ প্রতীকের জন্য বিশেষ সংরক্ষণের দাবি জানায়। পরবর্তী সময়ে, ৩ আগস্ট, তারা তিনটি প্রতীর জন্য তালিকা পাঠায়: ১. শাপলা, ২. সাদা শাপলা, এবং ৩. লাল শাপলা।

    অভিযোগ করে এনসিপি জানায়, তাদের আবেদনপত্রের বিষয়ে ইসি অদ্যাবধি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, ৩০ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি প্রেরণ করেছে, যা আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত নয়। তারা আরও জানায়, দেশের বিশিষ্ট আইনজীবীসহ ১০১ জনবির দল জানিয়েছেন যে, শাপলা প্রতীকের বরাদ্দে কোনো আইনি বাধা নেই। এর পাশাপাশি, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি বলেছেন, শাপলা প্রতীক দেওয়া সম্ভব।

    এনসিপির মতে, এই প্রতীক বরাদ্দ না করে অবিচার করা হচ্ছে, এবং এটি একটি স্বেচ্ছাচারী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ। তারা মনে করে, ইসি প্রতীকের বিষয়টিতে অন্যান্যায্য আচরণ করছে, যা ইসির সংবিধানিক ও আইনি গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

    নির্বাচনী কার্যক্রমে বিভ্রান্তির অভিযোগে, এনসিপি অভিযোগ করে যে, নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করছে এবং শাপলা প্রতীকের বরাদ্দ না দিয়ে এনসিপিকে নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে বাঁধা দিচ্ছে, যা নির্বাচনপ্রক্রিয়ায়公平তা প্রতিষ্ঠায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

    সার্বিকভাবে, এনসিপি আশা করে ভবিষ্যতে নির্বাচন আইনে সংশোধন আনা হবে যেন তাদের পক্ষে শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা কোনোটিই পেতে পারে, এবং ইসি অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নিয়ে যথাযথ প্রতীক বরাদ্দের ব্যবস্থা করবে।