Category: রাজনীতি

  • সালাহউদ্দিন: জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে, ভিন্নমতও থাকছে

    সালাহউদ্দিন: জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে, ভিন্নমতও থাকছে

    বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার সাথে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা সবাই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করব। তবে সব বিষয়ে ভিন্নমত বা আপত্তি থাকলেও সেগুলোর নোট অব ডিসেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে। এই নোট অপশনটি থাকছে কারণ আমরা ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য কমিশনে আলোচনা করেছি।

    সালাহউদ্দিন জানান, দেশের সামগ্রিক সংস্কার চায়, আমরাও চাই। ক্ষমতায় আসা অন্য দল কিংবা মেজরিটি দলই এই সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে, ১৭ অক্টোবর বোর্ডের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর কার্যক্রম, তার আগে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন বিষয়ে আশ্বস্ত হতে চেয়েছিলেন। তিনি সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন যাতে এটিকে একটা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে সংরক্ষণ ও স্বাক্ষর করা হয়।

    তিনি আরও বললেন, আমরা সবাই এ বিষয়ে একমত হয়েছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা কম হয়েছে, কিছু বক্তব্যে অংশ নেয়নি সবাই। আমি আমার বক্তব্যে উল্লেখ করেছি যে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে আগাম নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যেই এই সব কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে। জুলাই সনদ চূড়ান্ত করতে হবে, অন্য সব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য হবে বছর প্রথমার্ধে নির্বাচন সম্পন্ন করা—যা হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের মতো এক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই জন্যই আমরা জুলাই সনদ প্রণয়ন করছি, যার সাথে নির্বাচন অনুষ্ঠান নির্ধারিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    সালাহউদ্দিন বলেন, দেশের অন্য যেকোনো সংস্কারই জনগণের পক্ষে। তারা গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব সরাসরি সংসদে দেওয়ার ম্যান্ডেট দেবে। যাতে এই সংস্কারগুলো জনগণের রায়ের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি জানিয়েছেন, মূল উদ্দেশ্যই ছিল রাজনৈতিক দলগুলো একমত হওয়া বিষয়ে consensus তৈরি, যেখানে ভিন্নমতগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

    প্রস্তাবিত এই সনদে থাকছে নোট অব ডিসেন্ট, যেখানে ভিন্নমত থাকলে সেটি উল্লেখ করা হবে। একবার যদি এই সনদ স্বাক্ষরিত হয়, তবে গণভোটে প্রশ্ন থাকবে, ‘এই সনদ কি জনগণের পক্ষে থাকছে কি না’। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ভোটে ফলাফল খুব বেশি হবে না, কারণ সমগ্র জাতি সংস্কারসম্মত। এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সংসদকে সেই স্বায়ত্তশাসন ও কর্তৃত্ব দেবে, যা দেশের ভবিষ্যত পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  • দলটাকে রক্ষা করুন, বিভাজন সৃষ্টি করবেন না: মির্জা ফখরুল

    দলটাকে রক্ষা করুন, বিভাজন সৃষ্টি করবেন না: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পিআর বিষয়ে আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। দেশের স্বার্থে সবাই একত্রে থাকতে হবে, বিভাজন সৃষ্টি করা উচিত নয়। নির্বাচন কেবল গণভোট ও পিআর পদ্ধতিতে হতে পারে, এ অনুযায়ী দাবি ও মিছিলের মাধ্যমে কিছু মহল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।

    আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পিআর নিয়ে বিতর্ক পার্লামেন্টে আলোচনা হওয়া উচিত। যেখানে দলগুলো একমত হবে, সেখানে জুলাই সনদে স্বাক্ষর হবে, আর বাকিদের জন্য গণভোটের ব্যবস্থা থাকবে।’

    অতীতে দ্রুত নির্বাচন করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা হিংসার রাজনীতি চাই না, হিন্দু-মুসলিম বিভেদ চাই না। সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই। আমি যা ভোট দেব, তা আমি দেব, যেখানে ইচ্ছে সেই প্রার্থীকে ভোট দেব।

    বিভাজন আমাদের উচিত নয়। জনগণ যাকে ভোট দেবে, তিনি নির্বাচিত হবেন। বিভক্তি করে দেশের ক্ষতি করবেন না। আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে সবাই সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের মধ্যে থাকবে। ভুলে যাবেন না, আমাদের প্রতীক ধানের শীষ।

    সরকার পরিচালনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা সরকারে ছিলাম, কিভাবে দেশ চালাতে হয় তা জানি। বিএনপি নির্বাচিত হলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য বেশি নজর দেওয়া হবে।’

    সভায় বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • নাহিদ ইসলাম বললেন, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত না হলে অংশগ্রহণ হবে না

    নাহিদ ইসলাম বললেন, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত না হলে অংশগ্রহণ হবে না

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সভাপতি নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের কার্যকারিতা ও আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করবেন না। তিনি বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালের এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন।

    নাহিদ ইসলাম জানান, যদি আমরা কোনও অর্ডারে স্বাক্ষর করি, সে অর্ডার বা সিদ্ধান্ত যাতে আইনি দিক থেকে শক্তিশালী এবং নিশ্চিত হতে পারেন, সে নিশ্চয়তা আমাদের প্রয়োজন। তাহলে তবেই আমরা এই স্বাক্ষর ও অংশগ্রহণে রাজি হবো। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সরকার যদি এই সনদের উপর বিভিন্ন শর্ত বা পরিবর্তন আনে, তার জন্য আগে থেকেই বোঝাপড়া এবং নিশ্চিত থাকতে হবে। এই দিকগুলি স্পষ্ট না হলে, তারা কোনও দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।

    তার মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশের পুস্তিকা বা খসড়া আগে থেকে 공개 করতে হবে যেন সব পক্ষ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে। তিনি বলেন, এই আদেশটি জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার ভিত্তিতে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে জারি হবে। আর এই আদেশের খসড়া যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আমাদের একগুঁয়েমি থাকতে হবে।

    নাহিদ ইসলাম আরও জানান, ড. ইউনূস সেই সময়ের গণঅভ্যুত্থানের শক্তিতে আস্থা রেখে সরকার গঠন করেছেন, তাই এই সনদের অনুমোদন তাঁকেই করতে হবে, বর্তমান সরকার নয়। তিনি বলেন, সনদে ৮৪টি সংস্কার সংক্রান্ত বিষয় থাকবে, যেগুলি জনগণের গণভোটে যাবে। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইনি পরিবর্তনগুলি হবে। গণভোটে জনগণ যদি সনদে সমর্থন দেয়, তবে পরবর্তী সরকারের জন্য এটি একটি মৌলিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের নির্দেশনা দেবে।

    তিনি মনে করেন, এই দাবির পক্ষে প্রায় সবাই ঐক্যবদ্ধ, তবে এখনো স্পষ্ট নয়, কোন সংশোধন বা পরিবর্তন প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, তিনি স্পষ্ট করে দিতে চান, যতক্ষণ পর্যন্ত আইনি ভিত্তি ও নিশ্চিততা না এসছে, ততক্ষণ তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না।

  • তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেবেন: আমান

    তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেবেন: আমান

    ডেমোক্রেটিক লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। This কথা বলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, রাজধানীতে সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সভাটি হয়েছিল, যেখানে দলের প্রয়াত নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

    আমান উল্লাহ আমান আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশ্বাস দেন, ইনশাল্লাহ এই নির্বাচন হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং মূল নেতৃত্ব দেবেন, দেশে ফিরে এসে তিনি নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমে থাকবেন।

    বলাই থাকছেন না, মানুষ দেখেছেন তারেক রহমানের ভবিষ্যৎবানীর সত্যতা। তিনি বলে গেছেন, দেশ কখনো রাজপথেই ফয়সালা হবে। আজকে দেখা যাচ্ছে, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কিছু ষড়যন্ত্র চলছে। স্বাধীনতার পর থেকে যারা বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারা आज নির্বাচন বানচাল করার জন্য নানা চক্রান্ত করছে। বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা স্পষ্ট করে বলছেন, নির্বাচন নস্যাত করার এই চেষ্টাগুলি ব্যর্থ হবে।

    আমান উল্লাহ আমান বলেন, বিভিন্ন স্থানে এখন নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ সময়ে, বিশেষ বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপিকে টার্গেট করে কটাক্ষ করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৬ বছরে আন্দোলন করেছেন, স্বৈরাচার বিরোধী, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে জনগণের পাশে ছিলেন জিয়া পরিবার এবং বিএনপি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাইফুদ্দিন মনিরের ভূমিকার কথা তিনি স্মরণ করেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেমোক্রেটিক লীগের সহসভাপতি মাহবুব আলম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএনপির খায়রুল কবির খোকন, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, গ্লোভাল বাংলাদেশীজ এলায়েন্স ফর হিউম্যান রাইটসের আহ্বায়ক ও অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

  • নভেম্বরেই গণভোট করার প্রস্তাব জামায়াতের

    নভেম্বরেই গণভোট করার প্রস্তাব জামায়াতের

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী নভেম্বর মাসে সাধারণ নির্বাচন থেকে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এই তথ্য জানান জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, গণভোটটি যেন অন্য সময় এবং আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা এবং পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে সারা হিসাবের অন্যান্য কমিশন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের প্রতিনিধিদলে ছিলেন একজন উপ-নেতা, আঞ্জুমানে আল হাদিসের সদস্যরা ও আইনজীবীসহ অন্যান্যরা।

    আব্দুল্লাহ মো. তাহের জানান, আমরা কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে বলেছি, গণভোটটি অন্য সময় করতে হবে। একই দিনে ভোট হলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন কেন্দ্র দখল ও রিফর্মের ব্যাপারে জটিলতা। তিনি আরও বলেন, নভেম্বরের মধ্যে এই গণভোট করবো গোটা পরিকল্পনা রয়েছে। ইসি আমাদের জানিয়েছে, তারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম।

    তাহের ভাষ্য, এই আলাদা গণভোটের জন্য খরচও কম হবে, কারণ মূল ব্যালট ও বাক্স অপরিবর্তিত থাকবে। শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ ও ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তিনি আশাবাদী, যদি এই ভোট আলাদাভাবে হয়, তবে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং ঝামেলা কম হবে। দ্বৈত ভোটের ব্যাপারে তিনি জানান, একসঙ্গে দুই ভোটের প্রক্রিয়া থাকলে রাজনৈতিক চাপ ও বিভ্রান্তি বৃদ্ধি পায়। তাই তারা অগ্রাধিকার হিসেবে নভেম্বরের মধ্যে আলাদাভাবে ভোট করানোর দাবি জানিয়েছে।

    প্রায়ই দেখা যায়, গণভোটের সময় সরোত্তম পরিবেশ সৃষ্টি না হলেও, অতীতে ১৭ থেকে ২১ দিনের ব্যবধানে অনেক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই এই ব্যাপারে কোনও বড় বাধা নেই বলেও মত দিয়েছেন তাহের। তিনি আরও জানান, কমিশন অফিসিয়ালি এই বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; কেউ যদি ব্যক্তিগত মতামত দেয়, সেটি একটি নৈর্ব্যক্তিক মতানুযায়ী।

    অন্তঃমূলত, এই প্রস্তাবের পেছনে মূলটা হলো, নির্বাচন ও গণভোট দুটোর জন্য সময় এবং আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা। জামায়াতের এই বৈঠক ও প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসে আলাদাভাবে গণভোট করানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • নির্বাচনের উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনের উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। তিনি এই কথা জানান মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে সদর উপজেলা ও রুহিয়া থানার বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময়। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং তা নির্ভর করছে সঠিক সময়ে নির্বাচন হওয়ার উপর। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, সঠিক সিদ্ধান্ত ও সময়ে নির্বাচন হলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি করবে। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভুল ভোটের বা সিদ্ধান্তের ফলে দেশ আবারো ফ্যাসিস্ট শাসনের মুখোমুখি হতে পারে, যা শুধুই বারবার দুর্ভোগ আর দুঃখের কারণ হবে। তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রের বিকল্প কিছুই নেই এবং এই স্বর্গীয় উপাদানই দেশের মূল ভিত্তি। মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে একদলীয় শাসন বা দমনপীড়নের পর জনগণের গণঅভ্যুত্থানে তারা মুক্তি পেয়েছেন এবং আবারও গণতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশের বহু নেতাকর্মী ওপর অর্পিত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, হাজারো মামলায় জেল খেটেছেন, অনেককে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। তারপরও তারা দুর্বল নয়; তারা এখন চিরস্থায়ী স্বস্তিতে ঘুমাতে পারেন। তিনি জানান, প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। গুমের শিকার হয়েছে অন্তত ১৭০০ নেতা-কর্মী। এদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন ও মিথ্যা মামলায় সাজা ভোগ করছেন। মির্জা ফখরুল এই নেতাকর্মীদের পাশে থাকায় আইনজীবীদের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন এবং অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরাও।

  • তাহেরের অভিযোগ: উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, রেকর্ড আছে

    তাহেরের অভিযোগ: উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, রেকর্ড আছে

    জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা একটি বিশেষ দলের পক্ষে নিয়োগ ও প্রশাসনকে দলীয়করণের ষড়যন্ত্র করছেন। তার মতে, এই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তাদের কাছে স্বচ্ছ রেকর্ড রয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর মৎসভবনের সামনের রাস্তায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তাহের বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জাতির পছন্দের ভোটের মাধ্যমে কার্যকরী সংসদ গঠন হবে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে আবারো প্রশাসনকে দলীয় করণের চক্রান্ত চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ডিসি, এসপি ও ইউএনও নিয়োগের মাধ্যমে দলীয়করণ হয়ে যাচ্ছে, আর এসব নিয়োগে প্রভাব সৃষ্টি করছেন সরকার পক্ষের কিছু উপদেষ্টা। এই উপদেষ্টাদের মধ্যে বেশ কিছু ব্যক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, যার বিস্তারিত রেকর্ডও আমাদের কাছে আছে।

    তাহের সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সতর্ক করে বলেন, এই ষড়যন্ত্র ঠেকাতে হবে, না হলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি এই বিষয়ে উদ্যোগ না নেয়, তাহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।

    আরও তিনি দাবি করেন, যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছেন, তাদের দ্রুত প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলVin করেন, নভেম্বরে সাধারণ জনগণকে গণভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানানো উচিত, যা অবলম্বন করে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব। তিনি জানান, ২১ দিনের মধ্যে সাধ্য অনুযায়ী গণভোট সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে চূড়ান্ত ভুলত্রুটি ধরার সুযোগ পাবেন।

    তাহের আরও বলেন, তাঁর পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে নিজস্ব পরবর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবে জামায়াত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত দখলবাজি বা চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়, বরং জনগণের জন্য রাজনীতি করে। সরকারের ব্যবহার করলে কৃষকের ঋণমুক্তির জন্য সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে, যাতে কৃষকরা মুক্তভাবে তাদের জীবনযাত্রা চালিয়ে যেতে পারেন।

  • শাপলা প্রতীকে নির্বাচনে যাবে এনসিপি: সারজিস আলম

    শাপলা প্রতীকে নির্বাচনে যাবে এনসিপি: সারজিস আলম

    আগামী নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে বা জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখপাত্র সারজিস আলম। তিনি যোগ করেন, জোটে থাকলেও তারা প্রত্যাশা করছে যে, শাপলা প্রতীকে নির্বাচনে যেতে তারা সক্ষম হবেন।

    সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটির সংহত সভার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

    সারজিস আলম বলেন, শাপলা প্রতীকের জন্য আইনগত কোনো বাধা নেই। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে এই প্রতীক তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, আর কমিশন চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই তালিকায় পরিবর্তনও করতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আইনি ভিত্তি ও বাস্তবতা বিবেচনায় এবং ডিসেম্বরের মধ্যে যদি গণহত্যার বিচারে সফলতা আসে, তাহলে আগামী নির্বাচনে কোনো বাধা থাকবে না বলে তিনি ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি, তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ভারত বা অন্য কোনও শক্তি যদি নির্বাচনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তার ফলাফল কেবল অসুবিধা বাড়াবে।

    একইসাথে, তিনি উল্লেখ করেন যে, এনসিপি উচ্চ কক্ষে পিআর বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সুবিধা পাচ্ছে, তবে নিম্নকক্ষে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপিকে ‘কিংস পার্টি’ বলে বিদ্রূপ করার জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন।

    সারজিস আলমের সভাপতিত্বে ও জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

  • মির্জা ফখরুলের দাবি, ধানের শীষের ওপর টানাটানি অযৌক্তিক

    মির্জা ফখরুলের দাবি, ধানের শীষের ওপর টানাটানি অযৌক্তিক

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কারো মার্কা বা নির্বাচনী প্রতীকের জন্য কোন ধরনের অবাঞ্ছিত চাপ বা টানাটানি আমরা সহ্য করব না। তিনি প্রশ্ন করেছেন, ধানে শীষের ওপর এই ধরনের অস্বাভাবিক চাপ কেন? তারা বলেন,’শাপলা মার্কা না দিলে ধানের শীষ বাতিল করতে হবে’—জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এটা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ধানের শীষ প্রতীকের উপর অপ্রতিরোধ্য চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।

    বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে শহীদ নাজিরউদ্দিন জেহাদের স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে, বুধবার (৯ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের এক আড়াই ঘণ্টা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, নির্বাচন কমিশনের সামনে দুটি পথ খোলা: এক, শাপলা প্রতীক স্বীকৃতি দেওয়া, বা দুটি, ধানের শীষ ও সোনালি আঁশ প্রতীক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।

    মির্জা ফখরুল বলেন, কিছু ব্যক্তি বা দল হুমকি দিচ্ছে, ‘তাদেরকে যদি অন্য মার্কা দেওয়া না হয়, তাহলে আমাদের ধানের শীষ প্রতীকও বাতিল করতে হবে’। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে জানান, ‘আমরা কারো মার্কা বা প্রতীক নিয়ে আলোচনা করিনি। তাহলে, এই ধরনের টানাটানি কেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ফেরার একমাত্র পথ। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে।’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘সারা দেশে ধানের শীষের স্লোগান উঠেছে, যা প্রমাণ করে এটি অপ্রতিরোধ্য। ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চক্রান্তকারীরা পিছিয়ে পড়বে।’

    ফখরুল আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরলে দেশের মানুষই চূড়ান্ত বিজয় লাভ করবেন। এর জন্য একমাত্র পথ হলো, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কিছুAnnouncements বা রাজনৈতিক দল এককভাবে আইন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, তারা যেনো দীর্ঘ সংগ্রাম করে এসেছে—শ্রেণি, স্বাধিনতা ও গণতন্ত্রের জন্য। তারা বারবার সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে। দুর্ভাগ্য, তাদের লড়াই কখনোই যেনো হাড় ভাঙা আঘাত নয়। তবে তারা বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় হাসিল করেছে।’

    হাসিনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘হাসিনা’ নামটি যদি সম্মানজনকভাবে মনে করা হয়, তাহলে তার জন্য একটু শান্তি বা সম্মান থাকবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তিনি দেশের বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দিকসহ মোট দেশের সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক ক্ষতি করেছেন। তার শাসন আমলে দেশের দুর্নীতি, অব্যবস্থা ও অস্থিরতা আরও বেড়েছে।

    ফখরুল বলেন, ‘কিছু মানুষ বা সংগঠন খুবই মনোযোগ দিয়ে JULY আন্দোলনকে নিজেদের আন্দোলন বলে দাবি করছে। তবে বলছি, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে এসেছে। দেশের জন্য তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে এবং সেটা আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে চলবে।’

  • নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে: দুদু

    নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে: দুদু

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, যদি এই সময়ে নির্বাচনে না দেখা যায়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসবে তিনি এ কথা বলেন।

    শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরবে। তবে, এক বিষয়ের প্রতি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, তা হলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা। বর্তমান সময়ে মানুষ তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি; তাদের ভোটের অধিকার অনেকটাই কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেকবারই ভোটের নামে তামাশা দেখানো হয়েছে। তাই, আসন্ন নির্বাচনটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের ভূমিকা সমালোচনা করে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ভারতের কখনোই গণতন্ত্রের বা স্বাধীনতার পক্ষে নয়। তারা নিজের স্বার্থের জন্য সবসময় বাংলাদেশকে ব্যবহার করে এসেছে। দেশের মানুষকে তারা শোষণের ক্ষেত্র হিসেবে দেখে। পাশাপাশি, তারা প্রচার চালাচ্ছে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনেক হিন্দু নাগরিকই নিজস্ব সংবাদ সম্মেলন করে বলছেন, ভারতের এই অভিযোগের সত্যতা নেই। এজন্য আমাদের অবশ্যই সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

    শামসুজ্জামান দুদু জানান, দেশবিরোধী শক্তি এবং পার্শ্ববর্তী দেশের এক ভয়ঙ্কর প্রভাবশালী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনা আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ যেভাবে চলার কথা, সেটি হলো তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা। তবে, সেটি এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকলেও, আমরা বিশ্বাস করি, এই ফেব্রুয়ারি নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায়, বাংলাদেশে বিরোধী ষড়যন্ত্র জোরদার হচ্ছে, যেখানে পরস্পরশক্তি কাজে লাগাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের এক ভয়ঙ্কর শক্তি; যেখানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাও আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মাইনুল ইসলাম তালুকদার (বাদল)। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, তাঁতি দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান (মনির), দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, তাঁতি দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এড. মোঃ মজিবুর রহমান টোটন প্রমুখ।