Category: রাজনীতি

  • সব দল প্রস্তুত না হলে তফসিল হবে না: নাহিদ ইসলাম

    সব দল প্রস্তুত না হলে তফসিল হবে না: নাহিদ ইসলাম

    ন্যাশনাল নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে সরকারের অবশ্যই সব রাজনৈতিক দল প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা (ইসি) তখনই সিদ্ধান্ত নেবে যখন রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাকরণগত ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হবে। এজন্য তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব দল যখন প্রস্তুত হবে, তখনই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে।

    শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিপির পলিসি ডায়লোগ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম জানান, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান কোন ব্যক্তির বা দলের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং এটি ছিল ফ্যাসিস্ট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ আন্দোলন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীচর্চা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দলগুলোই দেশের প্রতিষ্ঠান গড়ে দেয়। তবে স্বাধীনতার পর সেটি অন্যায়ভাবে হারিয়ে গেছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীনও তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পূর্ণরূপে এগিয়ে নিতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    নাহিদ ইসলামের মতে, দেশের উন্নয়নে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতিতে ব্যক্তিগত নির্ভরতা থাকায় সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতিগুলি বদলে যায়। এর ফলে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো একপক্ষের হয়ে কাজ করতে শুরু করে।

    তিনি জানান, তিনি তাদের ভিশন ও মিশন থেকে কোনো আপস করবেন না। গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারই তার মূল এজেন্ডা। আন্দোলনের নাম ‘বৈষম্যবিরোধী’ ছিল সচেতনভাবেই নেওয়া, কারণ এই নামটি আন্দোলনের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছিল।

    এছাড়াও, তিনি বলেন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের পর ৭০ এর নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়, কিন্তু তখনকার সরকারের ঔদ্ধত্যের কারণে তা মানা হয়নি, ফলে দেশে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ৯০ এর অভ্যুত্থানেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা রক্ষিত হয়নি। যদি ২০২৪ এর অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি পালন না করা হয়, তাহলে দেশ বিপর্যয়ের পথে যেতে পারে।

    নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, এনসিপি কারো সঙ্গে আগে থেকে কোনো গোপন বা প্রকাশ্য চুক্তিতে যায়নি। অপপ্রচার চালানো হয়েছে তাদের ব্যাপারে। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন। তৃতীয় একটি জোটের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরোনো দলগুলো, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে জনগণের আস্থা আর থাকেনা। তাই নতুন ধারার রাজনীতি করতে চান তারা।

  • সরকার গঠনের হলে কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড ও সহজ ঋণ নিশ্চিত করবো: সালাহউদ্দিন

    সরকার গঠনের হলে কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড ও সহজ ঋণ নিশ্চিত করবো: সালাহউদ্দিন

    দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে তিনি কৃষকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা, ন্যায্য মূল্যে বীজ এবং সার সরবরাহ, পাশাপাশি সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, সকল নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে যাতে কেউ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ না করে। দরিদ্র পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় এনে পরিবারভিত্তিক কার্ডের মাধ্যমে অতি প্রয়োজনীয় চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।

    শুক্রবার সকালে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে গণসংযোগ এবং পথসভায় এ কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকায় আর কোনো উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে না; বরং অতীতের তুলনায় শতগুণ বেশি উন্নয়ন হবে এবং এলাকার শান্তি ও উন্নতি প্রতিষ্ঠিত হবে।

    তিনি আরো বলেন, জনগণের ত্যাগ, শহীদদের রক্ত এবং গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। বিএনপি বিশ্বাস করে, ভবিষ্যতে একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের সংগ্রামের ফলে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি হবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে, এবং চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এক থেকে দেড় কোটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।

    তিনি দাবি করেন, বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তা বাস্তবায়ন করে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হলো স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র রক্ষার দল এবং দেশের উন্নয়নের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।

    এদিন সালাহউদ্দিন আহমদের জনসংযোগ ও পথসভায় মানুষের উপস্থিতি ব্যাপক ছিল। উপস্থিত ভক্তরা তাকে ফুলের ভারসাম্য দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া, তিনি পেকুয়ার মগনামায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সাংসদ, সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, মাতামুহুরী (সাংগঠনিক) উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ বদরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ অনেকে।

    পরে তিনি ধারাবাহিকভাবে পূর্ব বড় ভেওলা, শাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ইউনিয়নের গণসংযোগ চালান এবং একাধিক পথসভায় বক্তব্য রাখবেন।

  • তারেক রহমান শীঘ্রই দেশে ফিরছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

    তারেক রহমান শীঘ্রই দেশে ফিরছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীঘ্রই দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আজ বুধবার (১ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ক পর্যালোচনা করা হয়।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনই জানাবেন। এভাবে দলের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

  • খালেদা জিয়া কোনো দলের নয়, সমগ্র মানুষের নেত্রী: ডাঃ তাহের

    খালেদা জিয়া কোনো দলের নয়, সমগ্র মানুষের নেত্রী: ডাঃ তাহের

    জামায়াতের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন দলটির নায়েবে আমির ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া কোনো রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন, বরং তিনি সব মানুষের বিরোধী নেত্রী ও সর্বজনীন নেতা।

    সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে হার্টের চিকিৎসা শেষে নিজের বাসায় ফেরার সময় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ডাঃ তাহের। এ সময় তিনি সঙ্গে ছিলেন ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডাঃ এস এম খালিদুজ্জামানসহ অন্যান্য দলীয় নেতা-কর্মীরা।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের জন্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরও বেশি সমঝোতা, বোঝাপড়া ও নীতিগত ঐক্য প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দেশকে প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। তিনি দেশের নেতা-কর্মী, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা যেন ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করতে কাজ করি।

    নিজের চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ডাঃ তাহের জানান, তার হার্টে একটি ব্লক ছিল। কুমিল্লায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর ব্যথা অনুভব করেন, তখনই ঢাকায় এসে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে বিখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট মনিরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত আন্তরিকতা, যোগ্যতা ও দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসা চালিয়ে যান।

    তিনি বলেন, তার হার্টের ব্লকটি পাথরের মতো শক্ত ছিল, যা চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে। কিছু চিকিৎসক সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন, কিন্তু তিনি এখানে রয়েছে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াই পছন্দ করেন। অবশেষে, চিকিৎসকরা সফলভাবে তার সুচিকিৎসা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ থাকলেও, পরিবারের পরামর্শে কিছুদিন বিশ্রামে থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

    বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়েও আলোকপাত করে ডাঃ তাহের বলেন, আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি তার দ্রুত সুস্থতার জন্য। তিনি একাধারে দলীয় নেত্রী ও গণতান্ত্রিক নেত্রী—তার আপসহীন নেতৃত্বে এইদেশ সাড়ে ১৫ বছর ভারতীয় আধিপত্যের কাছে মাথানত করেনি। তিনি কোনো দলের নেত্রী নহে, বরং তিনি সমগ্র মানুষের নেত্রী। জামায়াতের পক্ষ থেকে আমরা তার আশু সুস্থতা এবং দীর্ঘ আয়ু কামনা করছি।

  • তারেক রহমানের জিয়া পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতা

    তারেক রহমানের জিয়া পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতা

    শারীরিক বিভিন্ন জটিলতার কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সুস্থতার জন্য দেশবাসী ও বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা ও শুভকামনা জানানোয় তারেক রহমান আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন।

    আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর), তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বার্তা পোস্ট করেন। এই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক এবং বন্ধুরা যেভাবে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সহযোগিতা ও শুভকামনা জানাচ্ছেন, তার জন্য আমরা জিয়া পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দেশের নেতারা, বন্ধুরা এবং সাধারণ মানুষের জমা হওয়া ধ্বনি ও দোয়া আমাদের আবেগে গভীর প্রভাব ফেলছে।’

    তিনি আরো লিখেছেন, ‘দেশবাসীর সার্বজনীন সমর্থনই আমাদের পরিবারের জন্য একান্ত শক্তি ও আশার আলো। মমতাময়ী দেশনেত্রীর দ্রুত সুস্থতার জন্য সবাই অটুট দোয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে সকলের ঐক্য, সহমর্মিতা ও সংহতি আমাদের জন্য অমূল্য।’

    গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা খালেদা জিয়ার লিভারজনিত সমস্যা, কিডনির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এর ফলে তার চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। গত কয়েক দিনে তার অবস্থা আরও অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউ-সমমানের হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়। রোববার ভোরে তাকে এইচডিইউ থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

  • শাপলা কলি প্রতীকে নিবন্ধন পেল এনসিপি, আরপিও সংশোধনী নিয়ে রিটের নিন্দা

    শাপলা কলি প্রতীকে নিবন্ধন পেল এনসিপি, আরপিও সংশোধনী নিয়ে রিটের নিন্দা

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর নিবন্ধন সার্টিফিকেট দিয়েছে। দলের পক্ষে এই সনদ গ্রহণ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাদের জন্য বরাদ্দ করা প্রতীক হলো ‘শাপলা কলি’।

    বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিকেলে অনুষ্ঠিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে এক বৈঠকের শেষে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। নাহিদ ইসলাম এই সময় নির্বাচন সংক্রান্ত আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি ও আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

    নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন বলে জানিয়েছেন এনসিপি নেতা নাহিদ। নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে অবশেষে আমাদের প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। এবার ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের মাধ্যমে এনসিপি এই নির্বাচনে অংশ নেবে।

    নাহিদ উল্লেখ করেন, প্রত্যেক দলকে স্ব স্ব প্রতীকে নির্বাচন করার প্রস্তাবনা থেকে নির্বাচন কমিশন যেন সরে না আসে, সে জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি বিশেষ দল সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিয়ে বলে যাচ্ছে ‘এক মার্কায় নির্বাচনের জন্য’, এবং আদালতকে ব্যবহার করে এই সংস্কার প্রস্তাবনা বাতিল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এনসিপি এই ব্যাপারে ইসিকে শক্ত অবস্থানে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

    এছাড়া, নির্বাচনে অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, হলফনামায় প্রার্থীর তথ্য যাচাই-বাছাই করতে ইসিকে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থব্যয় সম্পর্কে ইসিকে কঠোর কর্মপন্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে, যাতে কালো টাকা হাসিলকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    ডিসি ও এসপি বদলির ওপর গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব পদে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে। সেজন্য সতর্ক থাকতে বলেছি।

    গণভোটের বিষয়ে যেন সঠিক ও নির্ভুল প্রচার হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নাহিদ বলেন, ভুল বা অপতথ্য প্রচার হলে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছবে না। তাই, নির্বাচনকে শক্তিশালীভাবে পরিচালনা করতে অপতথ্য বা বিভ্রান্তি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্যের জন্য মসজিদে দোয়া ও প্রার্থনা বিএনপির আহ্বান

    খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্যের জন্য মসজিদে দোয়া ও প্রার্থনা বিএনপির আহ্বান

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর), বিএনপি জনগণের গভীর আস্থা ও ভালোবাসার নেত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সারাদেশে বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মাহফিলের আয়োজন করেছে। এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বলেন, আগামীকাল শুক্রবার প্রতিটি মসজিদে, মন্দিরে ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া, প্রার্থনা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জনসাধারণের অংশগ্রহণ অনুরোধ করা হয়েছে। এর সাথে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে সবার উদ্দেশ্যে সৃষ্টিকর্তার কাছে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা, जैसे ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, যুব দলের সভাপতি এম মনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, ওলামা দলের আহ্বায়ক কাজী মো. সেলিম রেজা, ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃবৃন্দ দেশনেত্রীর দ্রুত স্বস্তি ও সুস্থতা কামনা করছেন।

  • খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উক্তি

    খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উক্তি

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফ একটি উষ্ণ ও আন্তরিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি খালেদা জিয়ার অপ্রত্যাশিত অসুস্থতার কথা জানতে পেরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের এই রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ, সরকার এবং ব্যক্তিগতভাবে তার পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য আন্তরিক প্রার্থনা ও শুভকামনা পাঠাচ্ছেন।

  • হাসপাতালে ভিড় না করে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়ার আহবান বিএনপি’র

    হাসপাতালে ভিড় না করে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়ার আহবান বিএনপি’র

    বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে অন্যান্য রোগীদের এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। রিজভী বলেন, অনেকের মধ্যে আবেগে বিভোর হয়ে দ্রুত দেখতে স্বেচ্ছায় এই ভিড় করছে, যা অন্য রোগীদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি সবাইকে অনুরোধ করেছেন, যেন তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং হাসপাতালের আশপাশে ভিড় কমিয়ে দেন। শনিবার এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী এই আহবান জানান। এ ছাড়াও জানান, খালেদা জিয়ার পরিবার ও বিএনপি’র পক্ষ থেকেও এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে বেশি ভিড় না হয় আর চিকিৎসা কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে চলতে পারে।

  • দেশে ফিরতে তারেক রহমানের বাধা কোথায়?

    দেশে ফিরতে তারেক রহমানের বাধা কোথায়?

    দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরবেন বলে অনেক দিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তারেক রহমানের। গত বছর ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই এই খবর প্রবলভাবে শোনা যাচ্ছিল। বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা একাধিকবার বলছেন, তিনি শিগগিরই দেশের মাটিতে ফিরে আসবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে।

    তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খুব কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত খবর পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, তার মায়ের অবস্থা খুবই সংকটজনক—বেগম খালেদা জিয়া পঞ্চম দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    এর মাঝেও তারেক রহমান ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়,’ যা বেশ আলোচনার ঝড় তুলেছে। কেন তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না এবং এই সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন।

    শনিবার (৩০ নভেম্বর) দিনভর রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার মধ্যে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই সব ব্যাখ্যা রয়েছে। এ বিষয়ে আর কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।’ পাশাপাশি, তারেক রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসের কয়েক ঘণ্টা পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে জানিয়ে দেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের কোনো বাধা বা আপত্তি নেই।’

    অতীতে, অক্টোবরের প্রথমদিকে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘দ্রুতই দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেবেন’। তবে, নভেম্বরের শেষের খুব কাছাকাছি আসার আগে তিনি নিজেই জানান, এই সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে নয়।

    বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘দলের অনেক বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়ে তার দেশে ফেরার বিলম্ব হচ্ছে।’ তবে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তিনি অবশ্যই দেশে ফিরবেন এমন আভাসও রয়েছে নেতাদের বক্তব্যে।

    প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে তিনি জেল খেটেছিলেন। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে চলে যান। বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা বলেছেন, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে নানা ধরনের রাজনৈতিক এবং আইনি বাধা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকটাই influence করে থাকতে পারে কিছু প্রভাবশালী দেশের আপত্তি।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, তারেক রহমানের এই ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে বোঝা যায়, মূলত দেশের পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির বিষয়টি তার দেশে ফেরার পথে বড় বাধা। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বড়ই নির্ভর করছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর।’

    অন্যদিকে, বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশে বড় দুটি দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য একটি অগণতান্ত্রিক চক্রান্ত চলমান।’ এই মন্তব্যের পাশাপাশি তারেক রহমানের দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ সম্পর্কিত আলোচনা আবারও জোরদার হয়েছে।

    বিরোধী দুই পরিবারের শাসনের উদ্দেশ্যে, অনেকের কাছে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ পরিচিত, যেখানে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে, মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এই অঙ্গীকার বা পরিকল্পনা এখনো শেষ হয়নি, আর তারেক রহমানের দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা কি ‘মাইনাস ফোর’ তে গড়াবে, সেটাই এখন সময়ই বলবে।

    অন্যদিকে, কিছু নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল কার্যকর হলে কোনও পরিস্থিতিতেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন এবং দলের নেতৃত্ব হবেন। বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকলে, বিএনপি নির্বাচনে জিতলে, তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন—এ ধারণাও দুর্বারভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।