Category: রাজনীতি

  • নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্তে জাতিকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে

    নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্তে জাতিকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের মানুষের ভবিষ্যত এবং গণতান্ত্রিক ইতিহাসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই নির্বাচনে আমরা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে ফলে আমাদের জাতিকে অনেক মূল্য দিতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশিরা ভুল করবেন না। বুধবার ঠাকুরগাঁও শহরের ইএসডিওর কার্যালয়ে এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল জানান, বাংলাদেশের ইতিহাস হলো অভ্যুত্থানের ইতিহাস, প্রতিরোধের ইতিহাস এবং অন্যায়কে না মানার ইতিহাস। ১৯৭১ সালে আমরা যে লড়াই ও যুদ্ধ করেছিলাম, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়া। তিনি জানান, তিনি এখনও সেই পথেই আছেন এবং বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষও একই পথ অনুসরণ করছে।

    তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সত্যের জয় হবে, যার প্রমাণ হলো ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন। এরপর তিনি দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধন করেন এবং আলোকসজ্জায় অংশ নেন। সেই সময় তিনি সরকারকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান, বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সাহায্য ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাগুলোর মূল্যায়ন করা উচিত এবং যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের আইনের আওতায় আনা আবশ্যক।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কিছু মানুষ গাফিলতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তিনি মনে করেন, যদি সঠিকভাবে আইনের প্রয়োগ হয় এবং যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকে, তাহলে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

    অতীতের বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বাউলরা মাঠে-ঘাটে গান করেন, তাদের ওপর হামলা উগ্র ধর্মান্ধদের দ্বারা সংঘটিত হয় বলে মনে করে তিনি। এই ধরনের হিংসা ও প্রতিহিংসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

  • এনসিপির নতুন শাপলা কলি প্রতীকের ছবি প্রকাশ ও ওয়েবসাইটে সংযুক্ত

    এনসিপির নতুন শাপলা কলি প্রতীকের ছবি প্রকাশ ও ওয়েবসাইটে সংযুক্ত

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’র অফিসিয়াল ছবি প্রকাশ করেছে। তবে এটি শুধু গণমাধ্যমে নয়, এখন থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এনসিপির পক্ষ থেকে এই প্রতীকের নতুন ছবি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ছবি বুঝতে গেলে দেখা যায়, একটি অঙ্কুরিত শাপলা ফুলের কলি সরাসরি গোলাকার শাপলা পাতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দলের মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন জানান, এখন থেকে গণমাধ্যমে এই ছবি বা প্রতীকের অন্যান্য ফুটেজ ব্যবহার করতে হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসির কাছ থেকে এই প্রতীকের চূড়ান্ত ছবি পাওয়ার নিশ্চয়তা অর্জন করেছেন। এরপরই এই ছবি ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, গত ৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন এনসিপিকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক বরাদ্দ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই নতুন ছবি ও সংযুক্তি প্রমাণ করে, এনসিপির নির্বাচনী প্রচার ও পরিচিতিতে এবার একটু পরিবর্তন আসছে।

  • শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে তোলপাড়, গ্রেফতার দাবি বিএনপি’র

    শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে তোলপাড়, গ্রেফতার দাবি বিএনপি’র

    চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর বিদায়ী বক্তব্যের কারণে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথা বসবে।’ এই মন্তব্যের কারণে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি তাকে আইনের আওতায় এনে দমন করার জন্য দাবি জানিয়েছে। রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক মোঃ এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান এই দাবি পেশ করেন। নেতারা বলতে থাকেন, শাহাজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্য স্পষ্টতই প্রমাণ করে তারা অধিকতর অন্ধকার যুগের ফ্যাসিবাদ আবারও প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত মতামত, দলীয় বা প্রতিষ্ঠানের কোনও বক্তব্য নয়। তাদের মতে, এই মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ষড়যন্ত্রপ্রসূত, ঔদ্ধত্যপূর্ণ, স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের প্রকাশ। এটি নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল ও উত্তেজনামূলক করতে এক ধরনের অপচেষ্টা, যা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানে। বিএনপি নেতারা বলেন, প্রশাসনের প্রতি প্রকাশ্য হুমকি, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেওয়া এবং ভোটাধিকার খর্ব করার এই ধরনের বক্তব্য এক অন্যায় ও জঘন্য কাজ। এটি দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংসের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যায়। নেতারা আরও বলেন, এই মন্তব্যে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, যা অতীতের মানবতাবিরোধী অপশক্তির বর্বরতা ও দমননীতির স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তারা দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সকল রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, কিন্তু শাহাজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্য প্রকাশ পেয়ে ভোটের পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। নেতারা সুস্পষ্টভাবে জানান, শাহাজাহান চৌধুরীকে তার এই বিষোদগার অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, জনসম্মুখে মোক্ষম ক্ষমা চাইতে হবে এবং এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। তারা বলছেন, দেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এসব উসকানিমূলক কাজ একতরফা গর্হিত অপরাধ। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সবসময় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে থাকবে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আপসহীনভাবে কাজ করে যাবে। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম শহরের জি.ই.সি. কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা শাহাজাহান চৌধুরী, যেখানে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে প্রশাসনের মানুষদের আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, গ্রেফতার হবে, মামলা হবে।’ তবে, এই বক্তব্যের সময় জামায়াতের আমির উপস্থিত ছিলেন না। শাহাজাহান আরও বলেন, ‘আপনাদের প্রতিটি স্কুলের শিক্ষকরা যেন আমাদের কথায় হাঁটেন, পুলিশ যেন আমাদের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সব কিছুতেই যেন আমাদের প্রাধান্য পায়।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সচিব আরেক নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এগুলো তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য, দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। প্রশাসন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবে, দলীয় হস্তক্ষেপ বা প্রভাবের আশঙ্কা থাকলে সেটা সঠিক নয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করবে। স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করাই কঠিন হবে।’

  • ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি, ঘোষণা মির্জা ফখরুল

    ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি, ঘোষণা মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের বিলাসিতা বেস্ট শহরে অনুষ্ঠিত ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট কেন্দ্র-বিজেসি আয়োজিত মিডিয়া সংস্কার প্রতিবেদনের পর্যালোচনা শীর্ষক এক সেমিনারে জানান, দেশের ক্ষমতা গেলে বিএনপি গণমাধ্যমের স্বায়ত্তশাসন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার দেবে।

    মির্জা ফখরুল স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমাদের মূল প্রতিশ্রুতি হলো একটি স্বাধীন গণমূল্য তৈরি করা, যা আমরা ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি অবাধ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম প্রতিষ্ঠা। এর জন্যই আমরা একটি কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছিলাম, যা ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং এর রিপোর্টও প্রস্তুত। তবে দুঃখের বিষয়, এই রিপোর্টের উপর এখনো কোনো দিকনির্দেশনা বা আলোচনা হয়নি।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে আমি নিশ্চিত যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কার খুবই গুরুত্বের সাথে নেওয়া হবে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখন তারা সাধারণের জন্য উপযুক্ত ও আধুনিক গণমাধ্যমের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে টেলিভিশন চ্যানেলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী কাজের জন্য বিএনপির অবদান অনেক, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা বিভিন্ন ইউনিয়ন বা সংবাদ সংস্থার সদস্য। বিএফইউজে, ডিআরইউ সহ বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার থাকলেও, অনেক সময় তাদের মধ্যে দলীয় দোষ থাকতে দেখা যায়। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি সাংবাদিকরা দলীয় স্বার্থে কাজ করেন বা দলীয় পলিটিক্সে জড়িয়ে পড়েন, তবে সেটি ক্ষতিকর।

    অতীতে সংবাদমাধ্যমের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরে গণমাধ্যম ফ্যাসিবাদী নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল। এখন জরুরি সামনে এসে পড়েছে, স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকসমাজকে নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। এই সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও জনমত গড়ে ওঠার জন্য সাংবাদিকদের দায়িত্ব অনেক বেশি, যা তারা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

  • জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

    জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের কোনো প্রার্থী এখন থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

    আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে মোটরসাইকেল র‌্যালি ও শোভাযাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এই ধরনের কর্মসূচিতে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা ও আহতের ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে দলটির আমিরে জামায়াত সমস্ত জেলা ও মহানগরে যেন আর কোনও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বা র‌্যালি না হয়, সে জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এতে করে নির্বাচনী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতা চায় দলটি।

  • সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়েছে, ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

    সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়েছে, ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং কোনও ধরনের অশান্তি বা ঝামেলা ছাড়াই ২৬ নভেম্বর তারিখের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলার বিভিন্ন স্তরের আইনজীবীরা অংশ নেন এবং দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং আইনের শাসন রক্ষা করতে আইনজীবীরা সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি এও বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকৃত বড় রাজনৈতিক দল, যা নদীর মতো বহমান। তিনি আশ্বস্ত করেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথেষ্ট উন্নত এবং এবারের নির্বাচনে কোনো বাঁধার সৃষ্টি হবে না।

    এছাড়াও, এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মো. মকদুম সাব্বির মৃদুল ও অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীরা।

  • অনির্বাচিত সরকারের বন্দর ও এলডিসি উত্তরণের সিদ্ধান্তের এখতিয়ার নেই

    অনির্বাচিত সরকারের বন্দর ও এলডিসি উত্তরণের সিদ্ধান্তের এখতিয়ার নেই

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে দেশের বন্দর বা স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। তিনি বলেছেন, এমন সরকার যিনি নির্বাচিত নয়, দেশের আরও দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যত নির্ধারণের কোনও ক্ষমতা তাদের নেই।

    তিনি আরও বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে চলমান আলোচনা চলাকালে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফেসবুকে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন। তারেক রহমান তার ওয়েবসাইটে ইংরেজিতে একটি দীর্ঘ পোস্টে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

    প্রথমত, তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার গল্প দিয়ে ব্যাখ্যা করেন কিভাবে স্বল্পোন্নত দেশের দরকারি সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে উঠে যায়, যার ফলে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় কর্মীদের এবং কারখানা চালু রাখতে নানা চাপের মুখে পড়েন উদ্যোক্তারা। তিনি বলেন, এগুলো সাধারণ মানুষের জীবনে নিঃশব্দ সংকট, যা সংবাদ শিরোনামে আসে না।

    দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সিদ্ধান্তগুলো যে তাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে, তা জনগণের ভোটে নেওয়া হয়নি; তাদের কোনো সরাসরি প্রশ্ন বা তথ্য দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য চলমান সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হয় কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা ছাড়াই, শুধু দ্রুততা এবং জরুরি পরিস্থিতির অজুহাতে। এসব সিদ্ধান্তের কারণে দেশের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি আর্জি জানান।

    তারেক রহমান মনে করেন, এই উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্মাণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, সরকার তা উপেক্ষা করছে। তিনি বলেছেন, বিকল্পের অভাবে আমরা নিজেদের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছি; আন্তর্জাতিক আলোচনা ও দর-কষাকষিতে আমাদের শক্তি কমে যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বিবেচনায় যে ব্যাংকিং অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার সমস্যা ও রপ্তানি কমে যাওয়ার মতো বাস্তব সমস্যা বিদ্যমান, এ জন্য দেশের শক্তি ও সক্ষমতা সম্পন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া আবশ্যক। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত জাতীয় শক্তি আসলে হয় মূল্যবান সিদ্ধান্তের আগে কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে সিদ্ধহস্ত হওয়া।

    চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে তিনি বলেন, যা ঘটে, তা লাখ লাখ মানুষের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলো কেবল রুটিন আকারে নয় বরং নির্দিষ্ট কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে নেওয়া হয়। সরকার আওতায় এ সব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে যাদের কোনো গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি বা ম্যান্ডেট নেই। তিনি উল্লেখ করেন, একইভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণের সিদ্ধান্তগুলোও একইরকম কৌশলগত এবং অপ্রকাশ্য।

    তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ জনগণের মনে যুক্তি বা সমর্থন কামনা করে না; বরং এগুলো প্রতিষ্ঠান ও দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে নেওয়া উচিত। তিনি বলছেন, দেশের সরকার যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত হয়নি, তারা এই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো নেয়ার স্বত্বাধিকার রাখে না। এতে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে পড়বে বলে তার ধারণা।

    আন্তর্জাতিক নিয়ম বলছে, অর্থনৈতিকভাবে যদি কোনো দেশ অশান্ত হয়ে পড়ে, তখন সময়সীমা বাড়ানোর দরকার পড়ে। তিনি মনে করেন, সরকারকে দেরি হওয়া, বা ভবিষ্যতের জন্য সময় চাওয়ার ক্ষেত্রেও নমনীয়তা দেখানো উচিত। নিজস্ব সক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বেরানো কর্তব্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অন্তর্বর্তী সরকার যদি দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের ক্ষতি করে এর জন্য দায়িত্বশীল আচরণ না করে, তাহলে তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে আসবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক এবং পারদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা সরাসরি জনগণের শক্তি ও মতামতের ভিত্তিতে হয়।

    সবশেষে, তিনি প্রত্যয় পোষণ করেন যে দেশের মানুষ কখনো তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চুপ থাকেনি। বরং তারা সবসময় নিজেদের মর্যাদা রক্ষা, মত প্রকাশ ও নিজের চয়েসের সম্মানে অবিচল থেকেছে। দেশের চাওয়া একটাই – জনগণের কথা শোনা হোক, তারা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, এবং তাদের সম্মান বলিষ্ঠভাবে নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, এই চাওয়া বা দাবিই ভবিষ্যতের জ্বলজ্বল আলো উৎসাহিত করবে, যেখানে আসল সত্য হলো, দেশের ভবিষ্যৎ তারা নিজেরাই গড়ে তুলবেন যারা এখানে বাস করে এবং দেশের প্রতি গভীর বিশ্বাস রাখে।

  • বিএনপির পরিকল্পনা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার

    বিএনপির পরিকল্পনা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে—এমন পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত ইমাম-খতিব জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে যে, দেশের ইমাম, খতিব এবং মুয়াজ্জিনরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা অসংখ্য সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানুষের নৈতিক এবং আত্মিক উন্নয়নে প্রশংসনীয় অবদান রাখছেন। দেশের একটি নৈতিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনে এ সকল ধর্মীয় নেতাদের অবদান অমূল্য। সেই ভাবেই, যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো আর্থিক সহায়তা প্রদান।

    একারণে, বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্মানী ভাতা প্রদান করবে। যদি এবারের সংসদ নির্বাচনে তারা সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে এই কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

    অতিরিক্তভাবে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে শক্তিশালী করে আরও বেশি প্রকল্প চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে দলের। এর সাথে তিনি আলেম ও ওলামাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাধারণ মুসলমানদের চেয়ে আপনারা ইসলাম বিষয়ে বেশি সুসংগঠিত এবং বিশুদ্ধ জ্ঞানে সমৃদ্ধ। একজন মুসলমানের জন্য আবশ্যক, তওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের প্রতি অটুট বিশ্বাস। এছাড়া, কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত—এসব ইসলামবিধানের মূল ভিত্তি। এই পাঁচটি বিষয়ের উপরে সকল মুসলমানের সম্মতিও রয়েছে, তবে মাঝে মাঝে রাজনীতি বা দলীয় স্বার্থে এসব বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসঘেঁটেই ইসলামকে এগিয়ে নিতে হবে, যাতে ধর্মের মূল আদর্শ অক্ষুণ্ন থেকে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি কখনোই ইসলামের মূল নীতি-মূলবোধের সাথে আপস করবে না। আবারও বলি, দেশে তখনকার স্বৈরাচারী সরকারের রচিত সংবিধানে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও আস্থার কথা ছিল না। এখনো সেই বিশ্বাসের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এর মধ্যে নেই। কেন এ পরিবর্তন হলো, সেটাই এখনো স্পষ্ট নয়।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপি সব সময় ইসলামের স্বার্থবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালে রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান বন্ধের মতো ঘটনা ছিল প্রমাণ, এটা ছিল ইসলাম ও ইসলামী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত নেতা-কর্মীদের ওপর সরকারী দমন-পীড়নের প্রতিবাদেও বিএনপি বিক্ষোভ ও কর্মসূচি দিয়েছিল।

    শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রি স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ হাজারের অধিক মাদ্রাসা ও লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রত্যেকটি মসজিদসহ ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনদের জন্য এই দিকটি গুরুত্বপুর্ণ। বিএনপি ভবিষ্যতে এই সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জন্য পৃথক সার্ভিস রুল প্রণয়ন এবং তাদের দাবি অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উৎসাহ দেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

    অতীতে চালু থাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের দুর্যোগপ্রতিরোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নমূলক কাজে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এভাবে দেশের লক্ষ লক্ষ মুসলমানের ধর্মীয় জীবন আরো সুন্দর ও নিরাপদ হবে, পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও সমাজে ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    অশেষ দলে দলে ঈমানদার মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা, শান্তি এবং সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান। ভবিষ্যৎ স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত বাংলাদেশের জন্য বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সকল সম্মানিত ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা ও দোয়ার আকাঙ্খা প্রকাশ করেন।

  • নির্বাচকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসনের জন্য ‘হুমকি’ ও ‘মাফিয়াতন্ত্র’ কায়েমের ইঙ্গিত: চট্টগ্রাম জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের নিন্দা

    নির্বাচকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসনের জন্য ‘হুমকি’ ও ‘মাফিয়াতন্ত্র’ কায়েমের ইঙ্গিত: চট্টগ্রাম জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের নিন্দা

    চট্টগ্রামের জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী দ্বারা দেওয়া ভাইরাল বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জরুরি বিবৃতি প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। দলটির দাবি, আফজাল বক্তব্যটি নির্বাচনের পরিস্থিতিতে একটি শঙ্কাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, যেখানে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, হুমকি-ধামকি এবং প্রশাসনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার গভীর ইচ্ছা প্রকাশ পায়।

    রোববার চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম-সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই পরিস্থিতির কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, পাবলিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা জানতে পেরেছি, গত ২২ নভেম্বর শাহজাহান চৌধুরী এক বক্তৃতায় পুলিশ-প্রশাসনকে জামায়াত দলের নেতাদের निर्देशन অনুযায়ী কাজ করতে, মামলার নির্দেশ ও গ্রেফতারি চালাতে বলেছেন। তিনি আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলের মার্কার প্রচার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জামায়াতের প্রার্থী অনুযায়ী উন্নয়ন বরাদ্দ দিতে বলেছেন।

    বিবৃতিতে দলটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক দলে পরিণত করার চেষ্টাকরছে যা ভোটের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। তারা আরও জানায়, এই ধরনের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য জনগণের ভোটাধিকার খর্ব করা এবং প্রশাসনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা যা একদমই কাম্য নয়।

    ডটর্য়াটিং করে জানা যায়, বাংলাদেশের জনগণের মুক্তিযুদ্ধের পর স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ, যেখানে প্রশাসন ও জনসাধারণের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নীলনকশা পরিলক্ষিত হচ্ছে যা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

    নাগরিক পার্টি স্পষ্টভাবে বলেছে, পুলিশ ও প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট দলের গোলাম নয়, তারা প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। দলটি প্রশাসনকে দলীয়করণ করার প্রচেষ্টা বন্ধ করতে এবং সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা প্রত্যাশা করে, বর্তমান সরকার জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে তদারকি ও নিরপেক্ষ রাখবে যাতে সব নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত হয় এবং একটি সত্যিকার মৌলিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  • শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড়, গ্রেফতার ডিBNP’র দাবি

    শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড়, গ্রেফতার ডিBNP’র দাবি

    চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর ‘প্রশাসন আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে’ কথাবার্তা দ্রুত দেশবাসীর মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে ফেলেছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান এই দাবি জানান। তারা বলেন, জামায়াতের নেতা শাহাজাহান চৌধুরীর মন্তব্য প্রমাণ করে, তারা আবারও এক ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত, দল বা সরকারের কোনও মতামত নয়।বিবৃতিতে নেতারা বলেন, শাহাজাহান চৌধুরীর এই মন্তব্য শুধু দায়িত্বহীন নয়, বরং ষড়যন্ত্রপ্রসূত, অগ্রহণযোগ্য এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিচয়। এটি নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল ও উত্তেজনাকর করার একটি স্পষ্ট চেষ্টা, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানে। তারা আরও উল্লেখ করেন, এই ভাষ্য প্রশাসনের প্রতি হুমকি, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত এবং ভোটাধিকার খর্ব করার অপপ্রয়াস, যা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংসের জন্য পরিকল্পিত একটি অপচেষ্টা। শাহাজাহান চৌধুরীর ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে স্বৈরশাসনের মনোভাব যা অতীতের মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্মৃতি আবারো মনে করিয়ে দেয়। নেতারা বলেন, স্বাধীন, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সব দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু তার বক্তব্য নির্বাচন ও প্রশাসনিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে উসকানি দেয়ার মতো, যা একদিক দিয়ে অগ্রহণযোগ্য। এই বক্তব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকিতে ফেলে। বিবৃতিতে তারা শাহাজাহান চৌধুরীকে তড়িৎ retract করে নিজেকে ক্ষমা চাইতে এবং তার বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানায়। এছাড়া, এই উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নেতারা বলছেন, চট্টগ্রাম বিএনপি সবসময় অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে থাকবে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম জিইসি কনভেনশনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আসনের জামায়াত প্রার্থী ও দলের প্রভাবশালী নেতা শাহাজাহান চৌধুরী বলেছিলেন, ‘সংবাদে আসবে, আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেফতার ও মামলা হবে।’ তবে, এই বক্তব্যের সময় জামায়াতের আমির উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি স্কুলের শিক্ষককে নির্দেশনা দিতে হবে, পুলিশ যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। সরকারি উন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আমাদের নেতাদের কাছে পৌঁছাতে হবে।’ এ বিষয়ে জানা যায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, এই বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত মতামত। তিনি বললেন, প্রশাসন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কাজ করবে, দলীয় হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ নেই, কারণ সেটি দেশের সুশাসনের জন্য বিরোধী।