Category: রাজনীতি

  • ক্ষমতায় গেলে আন্দোলন প্রয়োজন হবে না: জামায়াত আমির

    ক্ষমতায় গেলে আন্দোলন প্রয়োজন হবে না: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি ক্ষমতায় আসা সম্ভব হয়, তাহলে আর আন্দোলনের প্রয়োজন পড়বে না। বরং, সরকার সরাসরি নাগরিকদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেবে। এই মন্তব্য তিনি রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে করেন, যেখানে ‘প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা হয়।

    জামায়াতের আমির বলেন, অতীতের সরকারগুলো শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করেছ না। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা এক ভাষায় কথা বলি, এক জাতির অংশ; আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।

    তিনি দেশের মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, খারাপ রাজনীতিবিদদের কারণে অনেক সময় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তবে, তিনি আশ্বাস দেন, আমরা মূল ধারণা ধরে দেশের উন্নয়নে টেকসই উদ্যোগ নেবো।

    শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাব রয়েছে। তিনি জানান, সন্তানের পড়াশোনার বিষয়টি মা-বাবাদের নয়, বরং শিক্ষকদের কাছে যাওয়া উচিত। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি শিশুকে সম্পদে রূপান্তর করা।

    বিচারব্যবস্থার উপর মত প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ন্যায়বিচার পেতে অনেক সময় টাকা দিতে হয়, যা বদলে যেতে হবে।

    আমির আরও বলেন, ‘সরকারে গেলে, কোনো নাগরিককেই তার দাবির জন্য দফতর দফতরে ঘুরতে হবে না। আন্দোলন ছাড়াই সরকার সরাসরি সেবা দিতে সক্ষম হবে।’ এছাড়াও, তিনি জানান, জামায়াতের উদ্যোগে বর্তমানে ১০০টি ক্লিনিকে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে, যা দেশের অগ্রগামী উদ্যোগের একটি।

  • বিএনপি বিজয় মশাল রোড শো ও মহাসমাবেশের ঘোষণা

    বিএনপি বিজয় মশাল রোড শো ও মহাসমাবেশের ঘোষণা

    দেশব্যাপী সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে তারা ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় একটি বিশাল মহাসমাবেশের পরিকল্পনা করেছে। শনিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ ও জনগণের জন্য বিজয় অর্জনের এই অনন্দময় দিবসটিকে আরও রঙিন ও অর্থবহ করে তোলার জন্য বিএনপি এবারও সারাদেশে নানা ধরনের কার্যক্রম চালাবে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, বিজয় মশাল রোড শো এবং মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে, ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’ আয়োজন করা হবে৷

    তিনি আরো বলেন, ২০২৫ সালের মহান বিজয় দিবসের আগত এই মুহূর্তে আমি সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এই দিবস আমাদের জন্য গৌরবের মুহূর্ত, যা আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির স্বপ্নের বাস্তবায়ন। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকলেও, স্বাধীনতার জন্য শহীদদের আত্মত্যাগের ফলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য মুক্তিযুদ্ধের স্বক্ষমতা ও ইতিহাসকে স্মরণ করে নতুন আরেকটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।

    বিজয় দিবসের শুরু থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান এই কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক স্থানকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবারের বিজয় মাসের কর্মসূচি শুরু করবে। ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কালুর ঘাট থেকে বিজয় মশাল যাত্রা শুরু হবে, যা চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে সমাপ্ত হবে। ঐতিহাসিক এই মশাল বহন করবেন এক মুক্তিযোদ্ধা, যার মধ্যে একজন ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যজন ২০১৪ সালে যোদ্ধা। এই মশাল র‌্যালির মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার পাশাপাশি বর্তমান পাকিস্তানবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরা হবে।

    পরবর্তী পর্যায়ে এই বিজয় মশাল রোড শো কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি অঞ্চলে একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাই যোদ্ধা এই মশাল বহন করবেন। এছাড়া, রোড শো চলাকালে ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধের গান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হবে। নেতাদের বক্তব্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি তাদের ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরবে, যার মূলテーマ হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

    সর্বশেষ, এই বিজয় মশাল রোড শো ঢাকায় এসে শেষ হবে ১৬ ডিসেম্বর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিশাল মহাসমাবেশের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি বিজয় মাস জুড়ে আরও নানা কর্মসূচি পালন হবে।

  • তারেক রহমানের ভাষণে দেশি-বিদেশি চক্রান্তের الإهতিয়াত

    তারেক রহমানের ভাষণে দেশি-বিদেশি চক্রান্তের الإهতিয়াত

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে সফল করে আমরা নতুনভাবে স্বাধীনতা লাভ করেছি, কিন্তু এমনকি এরপরও আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য বিদেশি ও দেশীয় ষড়যন্ত্র থামছে না।’’’ শহীদ ডা. মিলন দিবসের অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য তিনি করেন এক বাণীতে।

    তারেক রহমান বলেন, ‘‘পতিত আওয়ামী সরকার গত ১৬ বছরে তার দুর্বৃত্তশাসনে মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে, গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে অকার্যকর করে দেশের মালিকানা থেকে জনগণকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।’’

    তিনি আরও দাবি করেন, ‘‘আমরা একত্রিত থাকলে ষড়যন্ত্রকারীরা কখনোই সফল হতে পারবে না। শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।’’

    শহীদ ডা. মিলনসহ সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘‘৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক সাহসী সৈনিক শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলনের স্মৃতিকে আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।’’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার আত্মদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ৯ বছর ধরে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ফলে গণতন্ত্রের বিজয় এসেছে।’’

    তারেক রহমান যোগ করেন, ‘‘স্বৈরাচারকে উৎখাত করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতেই তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তার রক্তের বিনিময়ে দেশের স্বৈরাচার পতনের পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। এই ধারাবাহিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশর গণতন্ত্রের নতুন সূচনা হয়, যেখানে নেত্রীর নেতৃত্বে দেশের স্বৈরাচার পতন ঘটেছে।’’

    বাণীটি বুধবার দুপুরে (২৬ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত হয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

    অপরদিকে, শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিজের ভাষণে স্মরণ করেন শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের বিপ্লবী অবদান। তিনি বলেন, ‘‘৮০’র দশকে স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ডা. মিলনের নাম স্মরণীয় হয়ে উঠে।’’ তিনি বলেন, ‘‘১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর, তৎকালীন সরকার গুলিতে শহীদ হন ডা. মিলন। তার শাহাদাতের দিনটি প্রতিরোধের ইতিহাসে দাবি করে দাগ কেটে রাখবে। আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন ডা. শামসুল আলম খান মিলন। তার আত্মদান দেশের গণতন্ত্রের জন্য অনুপ্রেরণা।’’

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘বিজয়ী গণতন্ত্রের পথে না ফিরতে স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শহীদ ডা. মিলনের ভূমিকা আমরাও স্মরণ করে যাবো। ১৬ বছরের ভয়ঙ্কর দুঃশাসনে ভোট, বাক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হারিয়েছে দেশের মানুষ।’’

    তিনি বলেন, ‘‘৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কারণে স্বৈরাচার মুক্ত হলেও ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো দেশের অস্থিতিশীলতার চেষ্টা করছে। তবে দেশের জনগণ এখন একত্র, তাই তারা সফল হবে না।’’

    শেষে, তিনি বলেন, ‘‘শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা, আর গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি শক্ত করতে পারলেই তার স্বপ্ন সফল হবে।’’

  • নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, সচেতন থাকুন

    নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, সচেতন থাকুন

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্ত। এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যত ও গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিকের জন্য অমূল্য—এটি আমাদের সকলের collective দায়িত্ব। যদি আমরা এই নির্বাচনে ভুল পদক্ষেপ নিই বা অসর্তকতা প্রদর্শন করি, তাহলে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনমানুষের স্বাধিকার অনেকটাই compromised হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এই ভুলের ফাঁদে পা দেবে না। বুধবার ঠাকুরগাঁও শহরে ন্যাশনাল এসোসিয়েশন অফ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অফিসের (ইএসডিও) কার্যালয়ে এক বিশেষ সুধী সমাবেশে এই মন্তব্য করেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস হচ্ছে সংগ্রামের, প্রতিরোধের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ইতিহাস। এদেশের মানুষের সেই ঐতিহ্য আজও একইভাবে জাগরুক। ১৯৭১ সালে যাদের জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম, যুদ্ধে ঝাঁপিয়েছিলাম, সেটি ছিল একটি সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের নির্মাণের উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, আমরা এখনও সেই পথে অটল আছি এবং এই পথে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষও অনড়।

    তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সত্যের জয় হবে এবং এর উদাহরণ হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, এই দিন দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি, তিনি ঢাকা কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকা ও তাদের জন্য সরকারের আরও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অগ্নিনির্বাপণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা, দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয় থাকলে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কমে আসবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, সম্প্রতি বাউলদের ওপর হামলার জন্য। এই ঘটনা তিনি উল্লেখ করেন উগ্র ধর্মান্ধ অপশক্তির দ্বারা পরিচালিত একটি বরং অপ্রত্যাশিত দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, বাউলরা মাঠ-ঘাটে গান গেয়ে দেশের সংস্কৃতি বিকাশে অবদান রাখে, তাদের ওপর হামলা অপপ্রচার ও হিংসার ফল। এই ধরনের হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

  • এনসিপি প্রকাশ করলো ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের অফিসিয়াল ছবি

    এনসিপি প্রকাশ করলো ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের অফিসিয়াল ছবি

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’ এর অফিসিয়াল এবং অনুমোদিত ছবি প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর ওয়েবসাইটে এখন থেকে এই প্রতীকের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে এনসিপিকে দেশের ৫৮ নম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এনসিপির পক্ষ থেকে এই প্রতীকের ছবি গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো হয়। ছবিতে একটি অঙ্কুরিত শাপলা ফুলের কলি দেখা যায়, যা গোলাকার শাপলা পাতার ওপর সোজা ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দলের মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন জানান, এখন থেকে গণমাধ্যমে এই ছবি ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসির কাছ থেকে দলীয় প্রতীরকের চূড়ান্ত এবং অনুমোদিত ছবি নিশ্চিত হয়ে নিয়েছেন, এবং এরই ফলে এটি ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে, গত ৯ নভেম্বর ইসি এনসিপিকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

  • রিজভী বললেন, এরশাদ ও শেখ হাসিনার চারিত্রিক বৈষম্য নেই

    রিজভী বললেন, এরশাদ ও শেখ হাসিনার চারিত্রিক বৈষম্য নেই

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এরশাদ এবং শেখ হাসিনার চরিত্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তিনি এই মন্তব্য করেন আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে। রিজভী বলেন, এই দুই নেতা প্রকাশ্যে মুখোমুখি থাকলেও শেষ মুহূর্তে তারা হাত মিলিয়েছেন, এক হয়ে গেছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তারা বারবার ইতিহাসের ভয়ঙ্কর অধ্যায়ে গণতন্ত্রকে দমন ও গলা কেটে হত্যা করেছেন। উভয় শাসনামলেও দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল।

    রিজভী আরও বলেন, ইকোনোমিক্স শীর্ষক শব্দ থাকলেও শেখ হাসিনার সারে ১৫ বছরের শাসনে যা হয়েছে তা মোটেও উন্নয়ন নয়, বরং এটি বলা যেতে পারে ‘হাসিনোমিক্স’। ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে তা ফেরত না দিলেও কোন বাধা ছিল না—এটাই তার শাসনের মূল নীতির অংশ। পরিশোধ না করেও নতুন ঋণ নেওয়ার যেনো একটি সুবিধা তৈরি হয়ে গিয়েছে তার আমলে।

    তিনি জানান, বর্তমানে দেশ সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে। নতুন সরকারকে এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবে একদিকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনীতির পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান কমছে, বেকারত্ব বেড়ে চলেছে, যা সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

    অন্যদিকে, সম্প্রতি ব্যাংকের ভল্টে স্বর্ণের জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকের দুটি ভল্ট থেকে ৮৩২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। কীভাবে এই স্বর্ণগুলো এখনো ব্যাংকের ভল্টে রয়ে গেছে, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। এই স্বর্ণ কি শেখ হাসিনা বা তার দলের ঘনিষ্ঠ কারো কাছে থাকতে পারে, এমন ধারণাও উঠছে এবং বিষয়টি শিগগিরই প্রকাশ পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দীন আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ বিভিন্ন নেতা কর্মী।

  • খালেদা জিয়ার জন্য আজ দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি বিএনপির

    খালেদা জিয়ার জন্য আজ দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি বিএনপির

    বাংলাদেশের বিএনপি নেতা ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচি পালনের জন্য শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী বিক্ষিপ্তভাবে দোয়া এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরও সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে মিডিয়া দলের এক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • নির্বাচিত সরকার ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই: তারেক রহমান

    নির্বাচিত সরকার ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার বন্দর বা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে দেশ নির্বাচিত সরকার না থাকলে, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। তারেক রহমান এ মন্তব্য করেন, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ফেসবুকে প্রকাশিত এক পোস্টে, যেখানে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ঢাকার পানাগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানিকে নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করেন।

    নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি বললেন, “একটি ছোট গার্মেন্টস মালিকের গল্প দিয়ে শুরু করি। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তার ব্যবসা চালাচ্ছেন, তার শ্রমিকরা কয়েকশো। সীমিত আয়ে কাজ চালাতে হয় তাদের, আর তীব্র বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। একসময় যেসব শুল্ক সুবিধা পেতেন, সেগুলোর অবসান ঘটে নিঃশব্দে, যার ফলে তার ক্রয়াদেশ কমে যায়, আর অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে।”

    তিনি আরও বলেন, “একইভাবে, নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ স্নাতক দেখছি—তার পরিবারে যেমন অনিশ্চয়তা, তেমনি তার বাবা একটি কারখানায় কাজ করেন। রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে ওভারটাইম বন্ধ হয়, তারপর শিফট কাটা হয়, শেষমেশ চাকরি হারানো হয়—এসব গল্প সংবাদ শিরোনামে আসে না, অথচ এটাই দেশের ঘরের অভ্যন্তরের বাস্তব সংকট।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, “এই পরিস্থিতির জন্যরা যে সিদ্ধান্ত নেয়, তার জন্য তারা ভোট দেননি আর কখনোও তাদের কোন জিজ্ঞাসা করা হয়নি। এলডিসি থেকে উত্তরণের সিদ্ধান্ত বা চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে একই চিত্র দেখা যায় — সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, জনগণের সমালোচনা উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং অতি দ্রুততার অজুহাতে যুক্তিগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।”

    সরকারি বিবৃতির উপর বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো আসলে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি আগেও বলেছে, সময় নেওয়ার বিকল্পের দিকে না গিয়ে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যাকে নিয়ে কোনো ভোট বা গণতান্ত্রিক মতামত নেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কোনো নির্বাচনমূলক ম্যান্ডেটও নেই, তবুও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে যা দেশের অর্থনীতিকে বহু বছর প্রভাবিত করবে।

    তিনি আরও বললেন, “আমাদের বলা হয়েছে দেরি করা অসম্ভব এবং অস্বীকারও অপমানজনক। জাতিসংঘও পর্যাপ্ত বিবেচনা করবে না। তবে ইতিহাস দেখায়, পরিস্থিতি আরও জটিল।”

    তিনি উল্লেখ করেন, অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে সময়সীমা পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করা যায়। এর মানে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। কেন আমরা সেটির পরিবর্তে বিকল্প না থাকার ভান করছি? কেন নিজেদের ভবিষ্যৎ সংকুচিত করছি?

    তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিকল্প প্রকাশ্যে বাতিল করে আমরা নিজেদের আলোচনা শক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছি। আন্তর্জাতিক দর-কষাকষির সময় আমাদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।”{newline}

    তিনি বলেন, “সরকারি নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, ঋণের ঝুঁকি ও রপ্তানি শ্লথ হয়ে আসার চাপ মোকাবিলা করছে। এগুলো উত্তরণের পক্ষে নয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা রেখেছে, কিন্তু ‘যোগ্য’ হওয়া আর ‘প্রস্তুত’ হওয়া আলাদা বিষয়। সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রকৃত শক্তি হলো, গভীর প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার শৃঙ্খলা রক্ষা।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড ও চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সেখানে যা ঘটে, তা নিয়মিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে নয়; বরং দেশের সম্পদ ও ভবিষ্যতের জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এইসব সিদ্ধান্ত কোনো গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট ছাড়া নেওয়া হয়েছে।”{newline}

    তিনি আরও বলেন, “এলডিসি থেকে উত্তরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো যেমনই হোক, একই রকম চিত্র চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষেত্রেও দেখা যায়—সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ, জনগণের সমালোচনা উপেক্ষা, অতি দ্রুততার অজুহাতে সত্যিকার উদ্বেগগুলো দমন।”

    আলোচনার একান্ত প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিষয়ে অপমান নয়। মূল বিষয় হলো, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও নীতির পালন। এসব সিদ্ধান্ত অবশ্যই সেই সরকারের নেওয়া উচিত, যাদের কাছে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে তিনি বার্তা দেন, “বাংলাদেশের কেউ বলে না যে এলডিসি থেকে উত্তরণ অসম্ভব, বা বন্দর সংস্কার ঠিক নয়। মূল বক্তব্য হলো, যে সরকার নির্বাচন দিয়ে আসেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কৌশলগত ধৈর্য কোনো দুর্বলতা নয়, জনগণের মতামত অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিলম্ব নয়, বরং দেশের সত্য ও স্বার্থের জন্য অপরিহার্য।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ কখনো তাদের ভবিষ্যৎ বিষয়ে নীরব থাকেনি; তারা সবসময় মর্যাদা রক্ষা, মতপ্রকাশ এবং চাহিদা জানানোর জন্য ত্যাগ স্বীকার করে এসেছে। দেশের মানুষের চাওয়া সাধারণ—তাদের কথা শোনা হোক, অংশ নিতে সুযোগ দেওয়া হোক এবং সম্মানিত করা হোক। এই কারণেই ভবিষ্যতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নিবার্চনে তাকানো হয়েছে। এটি একটি সুযোগ, যেখানে দেশের মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করতে, গ্রহণক্ষমতা দেখাতে ও নতুন সত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন। কারণ, এ দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতেই গড়ে উঠবে, যারা এখানে বসবাস করে এবং বিশ্বাস করে—সবার আগে বাংলাদেশ।”

  • সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি, ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

    সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি, ঝামেলা ছাড়াই নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এখন তা যথেষ্ট স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে চলমান। তিনি আরও বলছেন, সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো হয়েছে, ফলে ২৬ নভেম্বরের নির্বাচন তাৎক্ষণিকভাবে সুসংগঠিত ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

    মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্তরের বেশ কয়েকজন পরিচিত আইনজীবী, যারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-আদালতের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষা করার জন্য আইনজীবীরা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও শক্তিশালী নদীর মতো বহমান। এর পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করে বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন সন্তোষজনক এবং নির্বাচন বন্ধুসুলভ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে, কোনো অশান্তি বা বিঘ্ন ঘটবে না।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক মো. মকদুম সাব্বির মৃদুলসহ প্রখ্যাত সিনিয়র আইনজীবীরা। তারা সবাই তাদের মতামত ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচনের পরিবেশ যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

  • দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত: তারেক রহমান

    দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করলে নতুনভাবে স্বাধীনতা প্রদানের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। তবে, এর পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এখনো দেশি-বিদেশি চক্রান্ত থেমে নেই, যা আমাদের দেশমাতৃকে অস্থিতিশীল করে তোলার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে এক শোকবার্তায় এ সব কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ‘পতিত আওয়ামী সরকারের ১৬ বছরব্যাপী শাসনামলে মানুষ তার সব অধিকার হারিয়ে ফেলেছিল। গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে তাদেরকে দমন-পীড়ন করা হয়েছিল, দেশের মালিকানা থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়। এই শাসনামলে দেশের সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।’

    তিনি দৃঢ়ভাবে মন্তব্য করেন, ‘আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, ষড়যন্ত্রকারীরা সফলতা পাবে না। শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ আমাদের সবসময় প্রেরণা জুগিয়ে যাবে।’

    বলেন, ‘শহীদ ডা. মিলনের স্মৃতি আমাদের অটুট সাহস ও উৎসাহের উৎস। তার আত্মদানের মধ্য দিয়ে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল হয়, যা দেশের মানুষকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে অনুপ্রাণিত করে। এই আত্মদানই স্বৈরাচার এরশাদের পতন ও গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন সম্ভব করে।’

    তারেক রহমান আরো উল্লেখ করেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্রের নতুন অগ্রযাত্রা শুরু করেছি। তার দৃঢ় পরিশ্রম ও দূরদর্শিতায় দেশের মানুষ আবার মুক্ত মনে জীবনযাপন করছে।’

    বুধবার দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বাণী মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।

    অপরদিকে, শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও গভীর শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণা প্রকাশ করেছেন। তার বাণীতে তিনি বলেন, ‘৮০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন একজন অমর নাম, যার সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ‘১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন তিনি। তার জন্য শোকপ্রকাশ ও রুহের মাগফিরাত কামনাই আমাদের দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর আত্মদান আমাদের আন্দোলন সংগ্রামে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, বিশেষ করে স্বৈরাচার বিরোধী স্বাধীকার প্রতিষ্ঠার জন্য। দেশব্যাপী বিভিন্ন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ডা. মিলন সকলের জন্যই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’

    এছাড়াও, মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতীয় ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের নির্লজ্জ দমন-পীড়নের কারণে মানুষ ভোটাধিকারসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার অস্বীকৃত হয়। মানুষের জীবন, জীবনযাত্রা ও বাকস্বাধীনতা প্রহার করা হয়।’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই দেশের স্বৈরাচার পতন হয়েছে, তবে এখনো ষড়যন্ত্রকারীরা লুকিয়ে আছে। তাদের অপচেষ্টা দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়। তবে, দেশবাসী এখন একযোগে এগিয়ে আসায় তারা কখনো সফল হবে না।’

    অবশেষে, তিনি বলেন, ‘শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দৃঢ় করতে পারলে, তাঁর আত্মদান সার্থক হবে।’