বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সংগঠনগতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রার্থীদের বোঝানোর জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে তিনি এই কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এর বহুপ্রার্থী থাকলেও অনেকের প্রত্যাশা থাকে যে, তারা মনোনীত হবেন। তবে দলের স্বার্থে অনেক সময় তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। ফলে, কিছু প্রার্থী মনোমতো না পেয়ে হতাশ হন। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনে তাদের মনের কথা শুনি; কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিই এবং শান্ত রাখার চেষ্টা করি। আশাকরি খুব শিগগির এই বিষয়গুলো সমাধান হবে। এছাড়াও, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফরে যাওয়ার সময় কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের কবর জিয়ারত করা জাতির জন্য প্রত্যাশিত। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আমরা সম্মান করি এবং এই চেতনাকে আরও উজ্জ্বল করতে চাই। এই জন্যই সেখানে যাচ্ছেন তিনি। কোনো নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন নেই। সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সকলকে অনুরোধ করব, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ও আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, শহীদদের আত্মত্যাগকে মহিমান্বিত করব। তারেক রহমান যদি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত করে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন, তাহলে এটি অভ্যুত্থানের প্রতি সম্মান ও জাতির প্রত্যাশাকে নির্দেশ করে। তিনি মন্তব্য করেন, এই ধরনের শহীদদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের সংগঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা জাতির জন্য উৎসাহের বার্তা।
Category: রাজনীতি
-

দেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট চক্র নতুন করে হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে: হেফাজত
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেছেন, দেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট চক্র আবারও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হকের পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পতিত এবং দেশবিরোধী এই অবৈধ চক্র পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের ওপর হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। জুলাইযোদ্ধা হাদি ও মুসাব্বিরকে হত্যা করে এই জঙ্গি চক্র রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে।
তিনি মনে করেন, এসব হামলার মূল লক্ষ্য হল দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, বিদেশে দেশের সুনাম ধ্বংস করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অসহায় করে তোলা। এই ঘটনাগুলোর পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে, কারা লাভবান হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। নারী নির্যাতন ও বিভিন্ন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে।
হেফাজতের মহাসচিব আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী এখনও ধরা পড়েনি। দিনে দিনে গুলি করে হত্যাকারী কিভাবে পালিয়ে যায়, সেটি রহস্যজনক। তারা জুলাই বিপ্লবীদের অপ্রিয় করে তুলতে চাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গড়ে তোলা বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি আরো জানান, নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের অভ্যন্তরেও একটি দুষ্টচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা ব্যাহত করতে চায়। এই জন্য তারা সন্ত্রাস ও সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
হেফাজত মহাসচিব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব খুনের রহস্য উদঘাটনে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। দ্রুত সময়ে বিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
-

পাতানো নির্বাচন হলে দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাহেরের সতর্কতা
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি অতীতে처럼 কোনো পাতানো নির্বাচন হয়, এর ফল খুবই ঘোরrə হবে। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনায় নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে আলোচনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অংশ নেন। তাঁরা জানান, দেশের আগের সমস্ত রাজনৈতিক সংকটের পেছনে ছিল নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হওয়ার কারণ। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি চোখে দেখা হয় কোনো পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমেই যদি ক্ষমতা নেওয়া হয়, তাহলে দেশ আরও গভীর সংকটে পড়ে যাবে। পাশপাশি, তাহের বলেন, কয়েকদিন ধরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা মূলত সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিপূর্ণ আচরণের ফল। যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে সাধারণ জনগণ ফুঁসে উঠবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। আলোচনা চলাকালীন, জামায়াতের নেতারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সরকারের ও রাজনৈতিক দলগুলোর করণীয় বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করেছেন। সার্বিকভাবে, এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে, এমন আভাস দিয়েছেন দলের নেতারা।
-

জামায়াতের অভিযোগ: ডিসি-এসপি পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেন নায়েবে আমির
জামায়াতে ইসলামীনের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পক্ষপাতদুষ্টভাবে নির্বাচনকাজে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি বলেছেন, তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন এবং এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি-এসপিদের সরিয়ে দেয়ার জন্য।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাহের এ সব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন মামলায় পার্থক্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় এই অফিসাররা দলীয় স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তারা বলছেন, এই বিষয়গুলো তারা নীতিগতভাবে দেখবেন।
তাহের অভিযোগ করেন, একটি দলের পক্ষ থেকে কৃষি কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যা আচরণবিধির ব্যতিক্রম। তিনি অভিযোগ করেন যে, দলীয় ডিসি নিয়োগ দিয়ে এই অংশটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমতা ও ন্যায্যতা নেই বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার নিয়ে সরকার ইতিমধ্যে মত দিয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ করতে সহায়তা করবে। তবে, যদি নির্বাচন জালিয়াতির মাধ্যমে হয়, তাহলে দেশের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে দেন, এমন অবস্থায় দেশের স্বার্থে সবাইকে দৃঢ় থাকতে হবে।
তাহের বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে মাঠে প্রমাণ করতে হবে তাদের নির্ধারিত অযোগ্যতা বা পক্ষপাতের বিষয়গুলো। তিনি কোনো নির্দিষ্ট তালিকা দেননি, বরং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, আবার কোথাও ভুলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়ালের মনোনয়ন আমলে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, তাঁর নিজের দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে জানান।
উল্লেখ্য, এই বক্তব্য ও অভিযোগের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও কর্মকর্তা পর্যায়ে পক্ষপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
-

সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে: সালাউদ্দিন
বিএনপির স্তম্ভিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে সংগঠনগতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে দল। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সকাল বেলা রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা দেন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, দলের মধ্যে অনেক প্রার্থী এমন পরিস্থিতিতে আছেন, যেখানে তারা মনোনয়নের জন্য প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু হয়তো স্বাভাবিক কারণেই তাদের মনোনয়ন হয়নি। এর ফলে কিছু প্রার্থী অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের বোঝানোর জন্য নিয়মিত আলোচনা চলছে। তিনি আশা করেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধান শিগগিরই হয়ে যাবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিতর্কের মধ্যেও সম্ভাব্য সব প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। বৃহত্তর দলের স্বার্থে কিছু যোগ্য প্রার্থী চোখে পড়ে থাকতে পারেন, যা দল স্বাভাবিকভাবেই বিবেচনা করছে।
তিনি আরও জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফরকালে কোনও ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করার বিষয়টি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মর্যাদা আমরা অক্ষুণ্ণ রাখছি এবং আমাদের এই চেতনাকে আরও জোরদার করতে হবে। তারেক রহমান যদি শহীদদের কবর জিয়ারত করেন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, এটি গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত করবে এবং এটি জাতির প্রত্যাশাও।
সালাউদ্দিন আহমেদ সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান বা শহীদদের ত্যাগের ইতিহাসকে যেন ভুলে না যায়। তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে তুলতে দেশের সর্বস্তরে উৎসাহ ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের এই কার্যক্রম অভ্যুত্থানকে সমর্থন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে জাতির আশা-আকাঙ্খা আরও প্রশংসিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
-

চীন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে আসা একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সোমবার ঢাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা কার্যকর ও ফলপ্রদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, চীন এখনো নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য কীভাবে এগোতে হবে, তা নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকটি রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান এ আলোচনাটি ছিল কীভাবে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত এবং দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়েও মতামত নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, এবং অতিরিক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।
-

নেতা মীর আরশাদুল এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিলেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেন মীর আরশাদুল হক। তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির কনটেন্ট ক্রিয়েটর ড. সাইমুম পারভেজ ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন জন্য, মীর আরশাদুল হক চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সমঝোতার আলোচনা চলাকালে, তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন।
-

পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা চলছে, রুখে দেব: আসিফ মাহমুদ
আপাতদৃষ্টিতে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার ও প্রশাসনের কিছু পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে। নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ দলের প্রতি সরকারী কর্মকর্তাদের অশোভন অংশগ্রহণ এবং এক দলের নেতাদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য বেশ চিন্তার বিষয়। তিনি আরও জানান, যদি কোনো পুরানো সেটেলমেন্টের পথে হাঁটা হয়, তবে তা কঠোরভাবে রুখে দিতে প্রস্তুত থাকবেন তারা। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না দলটি। এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, একবারের জন্য নয়, মাঝে মধ্যে জাতীয় সুরক্ষা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তাদের একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়ে কিছু নির্বাচনী প্রচারমূলক কার্যকলাপের জন্য দলটি সমালোচিত হয়েছে। ভোটের পরিবেশের ব্যাপারে তিনি বলেন, কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলে না পাঠানো পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এনসিপি পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এই অবস্থায় নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়েও তারা শঙ্কিত। তিনি বলেন, মনোনয়নের ফাইলে নিরপেক্ষতা রক্ষা হয়নি; বড় দলের পক্ষে রিটার্নিং অফিসার কাজ করেছেন বলে অভিযোগ। আপিলের ক্ষেত্রে ইসির পক্ষপাতিত্ব থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি, আসিফ মাহমুদ এও সতর্ক করে দেন, যেন জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচন থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা না হয়। তিনি বলেন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) বাইরে রাখার জন্য নির্বাচনী কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। দলটি বলেছে, বিগত শাসনতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোর সঙ্গে ছিল। আমরা চাই না তারা নির্বাচনে অংশ নাক, এ বিষয়ে আমরা স্পষ্টভাবে ইসিকে জানিয়ে দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য তারা যেন নির্বাচন থেকে প্রত্যাহার হয় বা পুনর্বাসিত না হয়।’ এই দাবির প্রেক্ষাপটে, নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিশন আমাদের কথা শুনেছে ও জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দেখা গেছে, দলটির ২৪৪ প্রার্থী মধ্যে ৫৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৭।
-

একাত্তর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আত্মাআত্মের ভিত্তি: তারেক রহমান
বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধই হলো মূল বাস্তবতা ও ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর দেশেই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা যথাযথ ব্যবহার করে সরকার ও বিরোধী দলসহ সবাইকে একসঙ্গে দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করতে হবে।
আজ সোমবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাম দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এসব কথন ব্যক্ত করেন। সভায় উপস্থিত নেতারা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন, পাশাপাশি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধই আমাদের মূল ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে আমরা অস্তিত্ব রাখতে পারব না।” তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
এদিকে, বাম দলগুলোর নেতারা বলন, একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন আর কখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতায় বসতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানান।
পরিশেষে, বিএনপির এই নেতা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব দলসহ সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
-

পাতানো নির্বাচনে ফলাফল ভালো হবে না, হুঁশিয়ারি তাহেরের
সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে যে প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে গভীর শংকা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি ভবিষ্যতেও পাতানো বা নকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে এর ফলাফল সুস্থ ও গ্রহণযোগ্য হবে না। উল্টো দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়বে।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সাথে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে berlangsung এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেশের ভবিষ্যত নির্বাচন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বেলা ১০:৩০ মিনিটের পর দলীয় নেতারা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেন। সেখানে তাহের বলেন, দেশের একাধিক রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা না থাকা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ভবিষ্যতে আবারও পাতানো বা লুকানোভাবে নির্বাচন হয়, তবে দেশের সাধারণ জনগণ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে এবং দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তাহের অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের সহকারী কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেশের মূল গণতান্ত্রিক আদর্শে আঘাত হেনেছে। এর ফলে জনমনে নানা শঙ্কা ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই শঙ্কা যদি কাটানো না যায়, তবে দেশের জনগণ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
অতএব, ভবিষ্যত নির্বাচনগুলোকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের উচিত সতর্কতা অবলম্বন করা। এ বিষয়ে আরও আলোচনা ও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য মতবিনিময় চলমান রয়েছে।
