আপাতদৃষ্টিতে আরেকটি পাতানো নির্বাচনের পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার ও প্রশাসনের কিছু পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে। নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ দলের প্রতি সরকারী কর্মকর্তাদের অশোভন অংশগ্রহণ এবং এক দলের নেতাদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য বেশ চিন্তার বিষয়। তিনি আরও জানান, যদি কোনো পুরানো সেটেলমেন্টের পথে হাঁটা হয়, তবে তা কঠোরভাবে রুখে দিতে প্রস্তুত থাকবেন তারা। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না দলটি। এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন, একবারের জন্য নয়, মাঝে মধ্যে জাতীয় সুরক্ষা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তাদের একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়ে কিছু নির্বাচনী প্রচারমূলক কার্যকলাপের জন্য দলটি সমালোচিত হয়েছে। ভোটের পরিবেশের ব্যাপারে তিনি বলেন, কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জেলে না পাঠানো পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এনসিপি পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এই অবস্থায় নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়েও তারা শঙ্কিত। তিনি বলেন, মনোনয়নের ফাইলে নিরপেক্ষতা রক্ষা হয়নি; বড় দলের পক্ষে রিটার্নিং অফিসার কাজ করেছেন বলে অভিযোগ। আপিলের ক্ষেত্রে ইসির পক্ষপাতিত্ব থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি, আসিফ মাহমুদ এও সতর্ক করে দেন, যেন জাতীয় পার্টি (জাপা) নির্বাচন থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা না হয়। তিনি বলেন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) বাইরে রাখার জন্য নির্বাচনী কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। দলটি বলেছে, বিগত শাসনতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বিগত ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোর সঙ্গে ছিল। আমরা চাই না তারা নির্বাচনে অংশ নাক, এ বিষয়ে আমরা স্পষ্টভাবে ইসিকে জানিয়ে দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য তারা যেন নির্বাচন থেকে প্রত্যাহার হয় বা পুনর্বাসিত না হয়।’ এই দাবির প্রেক্ষাপটে, নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কমিশন আমাদের কথা শুনেছে ও জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দেখা গেছে, দলটির ২৪৪ প্রার্থী মধ্যে ৫৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৭।
Leave a Reply