Category: জাতীয়

  • বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখোমুখি রাখা না মানা যাবে: গণসংহতি আন্দোলন

    বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখোমুখি রাখা না মানা যাবে: গণসংহতি আন্দোলন

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন এই তিনটি বিষয় এখন বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় স্বার্থ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুক্রবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সাকি বলেন, আমাদের জন্য নির্বাচন সম্পন্ন করা জরুরি যাতে আমরা সংস্কারগুলো কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে পারি। একইসঙ্গে বিচারকে এগিয়ে নিতে হলে নির্বাচন অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাধ্যমেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, এটি আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি করা აუცილ। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সংস্কার অগ্রগামী হয়েছে, সেই চেতনা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য যেন একটি জাতীয় সনদ তৈরির মাধ্যমে এই সংস্কারসমূহের আইনি নিশ্চিতকরণ হয়, যার জন্য দ্রুত ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

    সাকি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে কাজ করে একটি কার্যকর মনিটরিং কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি নির্বাচনী পরিবেশে কোন রকম বিঘ্ন ঘটলে তা প্রতিহত করবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের মূল ভিত্তি। এই পথে এগিয়ে গেলে দেশের গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হবে এবং বিভ্রান্তি, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সকল শত্রুতা নির্মূল হবে।

    তিনি আরও জানান, আজকের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাংলাদেশ এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকার পতনের পরও পুরো শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বদলানো যায়নি। শাসন কাঠামো ও সাংবিধানিক ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন ছাড়া বাস্তব পরিবর্তন আসবে না—এ সামঞ্জস্য তিনি বারবার দাবি করে এসেছেন।

    সাকি বলেন, ১৯৭২ সালে প্রস্তুত করা সংবিধানও ১৯৭১ সালের আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি। এই সংবিধান স্বৈরতান্ত্রিক ছিল, যেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ হয়েছিল এক ব্যক্তির হাতে। সেই সাংবিধানিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে একের পর এক স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এখন সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তনের অপেক্ষা বেশি জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

    সাকি বলেন, এখনও দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা গণঅভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগের ইতিহাসকে অস্বীকার করার অপচেষ্টা করছে, নাশকতা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিচার—সংস্কার ও নির্বাচন প্রতিষ্ঠার যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী পুরোনো ফ্যাসিস্ট কায়দায় নিজেদের মত চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে এবং মব রাজত্ব কায়েমের সহায়তা করছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার ও দক্ষিণপন্থি উত্থানের সব অপপ্রয়াসই জনগণের প্রবল প্রজ্ঞা ও অধিকারবোধের বিপরীতে।

    তিনি বলেন, জনগণ চায় একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হয়। তিনি আর অভিযোগ বা অস্বীকৃতিকে প্রশ্রয় দেননি। সবাইকে একত্রে এই ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হবে, সেটাও অবশ্যই আইনি ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করে। অন্যথায় আমাদের নিজেরাও ফ্যাসিবাদে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আশাবাদী, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে এবং কোনও অপশক্তি এই উন্নয়নকে থামাতে সক্ষম হবে না।

    উল্লেখ্য, গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠন সমন্বয়ে প্রথম প্রকাশ পায়, যার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্বার্থে গণতান্ত্রিক শক্তি গড়ে তোলা। নানা আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০১৫ সালে正式ভাবে এটি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানের জুবা ও মালাকাল অঞ্চলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট (ব্যানএফএমইউ-১০) এর ১৯৯ জন সদস্যকে সম্প্রতি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক প্রদান করা হয়েছে। এই গৌরবময় অর্জনের উৎসব হিসেবে গত বুধবার জুবায় একটি বিশাল মেডেল প্যারেডের আয়োজন করা হয়।

    উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড নেশন্স মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহান সুব্রামানিয়াম, যিনি এই প্রশংসনীয় কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও দেশের আরও বেশ কিছু কর্মকর্তাকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মেডেল প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাসহ দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে ফোর্স কমান্ডার বাংলাদেশের নৌবাহিনী দলের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, নীল নদের প্রতিকূল পরিবেশে এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সেনানীরা সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের সাহসিকতা, দক্ষতা এবং নিষ্ঠার ফলে জাতিসংঘের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনে তারা অসামান্য কাজ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নদী পথে নিয়মিত টহল, উদ্ধার অভিযান, ডাইভিং এবং অন্যান্য অপারেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রাণপণ কাজ করে চলেছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি বাংলাদেশের এই সাহসী কার্যক্রমের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এই পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দক্ষিণ সুদান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। এই কন্টিনজেন্টই একমাত্র মেরিন ফোর্স হিসেবে কাজ করছে নীল নদের বিস্তীর্ণ এলাকায়। তারা মহান দায়িত্বে ১৩১১ কিলোমিটার দীর্ঘ নীল নদে ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন সফলভাবে পরিচালনা করেছে। মোতায়েনের পর থেকেই তারা স্থানীয় সরকার ও জনসাধারণের উন্নয়ন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

    এছাড়াও, উত্তর মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জলসীমা মাক্টুরে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ বানৌজা সংগ্রাম সগৌরবে দেশের পতাকা উড়িয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচারে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই সকল কার্যক্রম বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।

  • এক হাজার আটশ’র বেশি গুমের অভিযোগ: নূর খান

    এক হাজার আটশ’র বেশি গুমের অভিযোগ: নূর খান

    গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানের জন্য গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশন। এখন পর্যন্ত এই কমিশনের হাতে মোট এক হাজার ৮০০’র বেশি গুমের অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত গুম দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘রিপ্রেশন টু রেভলুশন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এই তথ্য তুলে ধরেন গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই কমিশন একটি তদন্তকারী সংস্থা নয়। অর্থাৎ, তারা কোনো রিমান্ড বা গ্রেপ্তারি এর জন্য কার্যক্রম চালায় না, তারা মূলত তথ্য অনুসন্ধান ও সংগ্রহে নিযুক্ত। নূর খান জানান, ভুক্তভোগী, সাংবাদিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই কমিশন কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, যারা এই গুমের ঘটনার সাথে জড়িত ছিল এবং নির্দেশনা দিয়েছিল, তাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, যা কাজ চালিয়ে যেতে কঠিন করে তোলে। তিনি অতিরিক্ত বলেন, প্রায় ৩০০ জন গুমের শিকার ব্যক্তিকে কারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু তথ্য কমিশনের হাতে এসেছে। তবে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হয়েছিল এবং তাদেরকে নিয়ে গিয়েছিল কারা, এ বিষয়ে কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কমিশন তাদের তদন্তের একটি অংশের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রদান করতে পারবে। তবে, এক হাজার ৮০০ অভিযোগের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন একসঙ্গে দেয়া সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখে দাঁড় করানো গ্রহণযোগ্য নয়

    বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখে দাঁড় করানো গ্রহণযোগ্য নয়

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় এখন বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ কথা বলেন শুক্রবার সকালে, গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে। জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, বিচারকে এগিয়ে নিতে হবে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এজন্য আমাদের সবাইকে নির্বাচনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বোঝা জরুরি। একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে দেশে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আসে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংস্কার অর্জিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যা বাস্তবায়নে দ্রুত ঐক্যমত সৃষ্টি সম্ভব। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
    জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্দোলনকারী দলগুলোর সঙ্গে বসে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই কমিটি নির্বাচনী পরিবেশে কোনো বিঘ্ন ঘটলে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিরোধে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনই বর্তমান রাজনীতি ও দেশের অস্তিত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলার অন্যতম উপায়।
    তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ এখন সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। ২০২৪ সালে জনগণ বড় এক সংগ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকার পতন ঘটেছে। তবে পুরো স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে আমরা এখনও সরিয়ে ফেলতে পারিনি। তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বৈরাচার পতল মানেই পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়। শাসন ব্যবস্থা ও সংবিধান যদি রূপান্তর না করে, তাহলে গণতান্ত্রিক স্বপ্ন পূরণ হবে না। সংবিধানের ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনের দাবি পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।
    সাকি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান ১৯৭১ সালের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারনা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেখানে শক্তি বেশির ভাগই কেন্দ্রীভূত ছিল একজন ব্যক্তির হাতে, যা স্বৈরতন্ত্রের পথ সুগম করেছিল। এই সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনেই একের পর এক স্বৈরশাসন, হত্যাযজ্ঞ ও ফ্যাসিস্ট শাসন চেহারা নিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন এখন অপরিহার্য।
    তিনি আরও বলেন, এখনও দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা স্বৈরশাসন ও গণআন্দোলনকে অস্বীকার করার চেষ্টায় লিপ্ত। তারা হত্যাযজ্ঞকে আড়াল করতে চায় এবং বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, অর্থনৈতিক সাহায্য নিচ্ছে, নাশকতা ছড়াচ্ছে—যাতে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে কিছু গোষ্ঠী পুরোনো স্বৈরশাসক কায়দায় নিজস্ব মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে মব রাজত্ব বজায় থাকে। সাকি মনে করে, এক দিকে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যদিকে দক্ষিণপন্থি ফ্যাসিস্ট শক্তির উঠানে দেশের জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
    তিনি উল্লেখ করে বলেন, জনগণ চায় একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত। তিনি স্পষ্ট করেন, অন্যায়কে আমরা কখনও প্রশ্রয় দিই না এবং কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না। এ জন্য দরকার আইন ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মানসহ রক্ষা করা। অন্যথায়, নিজেরাই ফ্যাসিবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে; কোনো অপশক্তি এই অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না। গ্রন্থী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই দিন উপস্থিত ছিলেন।
    সংগঠনের ইতিহাসে জানা যায়, গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনের সমন্বয়ে জনগণের স্বার্থে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য হলো জনগণের নিজস্ব শক্তিকে শক্তিশালী করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা। ২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে সহায়তা ও নেতৃত্ব দেয়ার পর, ২০১৫ সালে তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।

  • দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন বাংলাদেশের নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন বাংলাদেশের নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানের জুবা ও মালাকাল প্রদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান রাখা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্যকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক প্রদান করা হয়েছে। এই অর্জন উদযাপন করতে গত বুধবার জুবায় একটি বিশাল মেডেল প্যারেডের আয়োজন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের ফোর্স মেরিন ইউনিট (বেনএফএমইউ-১০) এর সদস্যরা অংশ নেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড নেশন্স মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এর ফোর্স কমান্ডার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহান সুব্রামানিয়াম। তিনি তাদের সাহসিকতা এবং দক্ষতার জন্য প্রশংসা জানিয়ে এই শান্তিরক্ষা অভিযানে অবদান রাখার জন্য স্বীকৃতি স্বরূপ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের মধ্যে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মেডেল বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে আনমিস এর বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    মেডেল প্যারেডের সময় ফোর্স কমান্ডার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নীল নদের বিপদসংকুল পরিবেশ এবং সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলে এই সেনারা অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে। তারা জাতিসংঘের জন্য জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহন, নদীপথে নিয়মিত টহল, উদ্ধারের অপারেশন, ডাইভিং ও রেকি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই সব অবদান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বে অভিষিক্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অতিরিক্ত, এই পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের নৌবাহিনী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। এই মিশনে বাংলাদেশ একমাত্র মেরিন ফোর্স হিসেবে কাজ করছে, যেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট নীল নদের বিস্তার এলাকায় জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে। তারা দীর্ঘ ১৩১১ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মোতায়েনের পর থেকে তারা দক্ষিণ সুদান সরকার ও জনগণের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

    এছাড়াও, উত্তাল আরব সাগরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সংগ্রাম’ ধর্মের পতাকা উড়িয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে।

  • নূর খান: এক হাজার ৮০০ এর বেশি গুমের অভিযোগ পেয়েছি

    নূর খান: এক হাজার ৮০০ এর বেশি গুমের অভিযোগ পেয়েছি

    গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশন এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮০০ এর বেশি অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে গুম দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘রিপ্রেশন টু রেভলিউশন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই তথ্য প্রকাশ করেন গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান। তিনি বলেন, আমাদের তদন্তকারী কমিশন কোনও তদন্তের দায়িত্ব নেয় না। ফলে, এই কমিশনের পক্ষে রিমান্ড নেওয়া বা গ্রেপ্তার করার অনুমতি নেই। আমরা শুধুই তথ্য সংগ্রহের কাজ করছি। ভুক্তভোগী, সাংবাদিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কাজ চলছে। নূর খান আরো জানিয়েছেন, যারা এই গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নির্দেশনা দিতেন, তাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ৩০০ জন ভুক্তভোগীকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল কারা, সেই সম্পর্কে কিছু তথ্য কমিশনের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। তবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকানোর পর কোথায় রাখা হয়েছিল এবং তারপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কারা, সে বিষয়ে কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। নূর খান আরও জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্য থেকে কমিশন তাদের কাজের একটি অংশের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে পারবে। তবে এক হাজার ৮০০ অভিযোগের পুরোপুরি প্রতিবেদন একবারে দেওয়া সম্ভব হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর সহিংসতা, আইএসপিআর বলছে

    কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর সহিংসতা, আইএসপিআর বলছে

    রাজধানীর কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮ টায় কাকরাইল এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এর ফলে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য অনুরোধ জানায়, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে থাকলে তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়। এ সময় পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং আহত হন কয়েকজন সদস্য।

    আইএসপিআর আরও জানায়, শুরুর দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে দেশের আইন মেনে চলার অনুরোধ করে। however, কিছু নেতাকর্মী সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে জনতার মধ্যে ক্ষিপ্তের সৃষ্টি করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা মিছিলের মাধ্যমে মিছিলে ইট-পাটকেল ছোড়ে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এর ফলে বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনজীবন ভুগমান হয়।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফেরানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করে, কিন্তু বারবার উপেক্ষা করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে আজকের ঘটনায় দুই পক্ষের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর পঞ্চম সদস্যও আহত হন।

    আইএসপিআর আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের জনবিক্ষোভ ও মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেনাবাহিনী এই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে সতর্ক করে দেয়, সকলের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য তারা সবসময় প্রস্তুত। তারা বলেছে, জননিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুত, এবং তারা যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিক উন্মোচন করেছে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিক উন্মোচন করেছে

    ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে নতুন করে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ সুসংহত করেছে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা থাকা খুবই জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী এবং গণতান্ত্রিক হয়ে উঠে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তরুণরা এই পথে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখবে।

    মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার হয়েছে। নতুন সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা খুবই ইতিবাচক একটি দিক। তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলি শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশের জন্য একটি মূল্যবান উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান জানান, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতের অর্থনীতি নিয়ে নতুন চেতনাকে উৎসাহিত করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে এগিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি বোঝায়, বাংলাদেশ এখন দ্রুতগতিতে উন্নতির পথে।

  • সর্বোচ্চ আদালত আবারও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল শুনবেন

    সর্বোচ্চ আদালত আবারও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল শুনবেন

    দেশের সব থেকে উচ্চ আদালত আজ বুধবার (২৮ আগস্ট) ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদমর্যাদার মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে করা আপিলের বিচার আবারও শুনানি হবে। একই সঙ্গে অ্যাপিলের নম্বর এবং তার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হলো ৪ নভেম্বর। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেয়।

    ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ বিচার করে দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নির্ধারণ করে। ওই রায় প্রকাশ পায় ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর। এই রায়ে বলা হয়, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন, তাই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বকে বিবেচনায় নিয়ে তাদের উচ্চতা নির্ধারণ করা উচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সরকারি সচিব, জেলা জজ ও সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থান।

    রায় অনুযায়ী, জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৬ নম্বর থেকে ২৪ নম্বরের মধ্যে থাকবেন এবং তারা সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন। জুডিশিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ হলো জেলা জজ। সরকারের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সচিবরা রয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা জজ ও অন্যান্য বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, অর্থাৎ ১৭ নম্বর পদের কাছাকাছি।

    আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সময়ই ব্যবহার করা উচিত। এটি নীতিনির্ধারণ বা অন্য কোনও কার্যক্রমে প্রয়োগ করা যাবে না।

    প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি হয়, যা পরে ২০০০ সালে সংশোধন করা হয়। মূলত, এই ওয়ারেন্টের বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট তখন এই ওয়ারেন্ট বাতিলের নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন এবং কিছু নির্দেশনা দেন যাতে এই নথির ব্যবহার সীমিত হয়।

  • দেশে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমতে পারে

    দেশে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমতে পারে

    বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতেও পারে বলে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।