Category: জাতীয়

  • নির্বাচনে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ইসির চ্যালেঞ্জ ও সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা

    নির্বাচনে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ইসির চ্যালেঞ্জ ও সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা

    আগামী নির্বাচনের জন্য স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনাররা জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যেন নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে। তবে এভাবেও ভুলের সম্ভাবনা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো জরিমানা বা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সকলের সহযোগিতায় আমরা পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই, যা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন কমিশন ও সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) এর সদস্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন কমিশনের সদস্যরা।

    নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার মন্তব্য করেন, আমাদের সবাইকেই এখন আস্থার জায়গায় ফিরে আসার প্রয়োজন। বর্তমান এ আস্থার সংকটটি একটি জাতীয় সংকট, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং মর্যাদা রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে হবে।

    অপরদিকে, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্বচ্ছতা চান সবাই, বিশেষ করে সাংবাদিকরা, আমরা চাই। ভবিষ্যতে এই যেন আরও সুদৃঢ় হয়, তার জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য। কমিশন প্রতিজ্ঞা করেছে, কোনও অন্যায় কে আঁকড়ে ধরবে না ও অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোন রকম ছাড় দেবে না। ভুল হলে হতে পারে, তবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

    প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমেদ স্পষ্ট করেন, গোপন কক্ষে নির্বাচন স্বচ্ছতা আনা সম্ভব নয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনের proceedings খোলা মাঠে হতে হবে।

    আরও বক্তব্য দেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, যিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ছাড়াও, মোতাবেক, নির্বাচন কমিশন প্রণীত সাংবাদিক পর্যবেক্ষক নীতিমালায় উন্নয়ন ও সংশোধনের প্রস্তাব তুলে ধরেন আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল। সভায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আরএফইডির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

  • জিএম কাদের ও তাঁর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    জিএম কাদের ও তাঁর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) ও তাঁর স্ত্রী শেরীফা কাদেরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ আদেশ দেন।

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এই খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগের কারণে দুদক এসব ব্যক্তির দেশে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করে। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেছেন।

    দুদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিতে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে, যার মূল সুবিধাভোগী ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

    অভিযোগে বলা হয়, অর্থের চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ না করায় দলীয় পদ থেকে অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়, যার বদলে শেরীফা কাদের সংসদ সদস্য হন।

    আরো বলা হয়, জিএম কাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হন এবং দলীয় পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেন, যা পরে তিনি বিদেশে পাচার করেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বর্তমানে ৩০১ সদস্যের বদলে তার হাতে রয়েছে ৬০০-৬৫০ সদস্য, যা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ দেয়।

    ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুসারে, জিএম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, এবং ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। তাঁর স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নামে রয়েছে নগদ ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং ৮০ লাখ টাকার আরেকটি জিপ গাড়ি। তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে লালমনিরহাট ও ঢাকা এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট।

    এদিকে, অনুসন্ধানে জানা গেছে, মনোনয়ন বাণিজ্য ও অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে জিএম কাদের ও তাঁর স্ত্রীর জ্ঞাত আয়বিরোধী সম্পদ অর্জন হয়েছে, যা দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। এ কারণে তারা সম্ভবত যেকোনো সময় দেশ ত্যাগ করতে পারেন, যা অনুসন্ধান কার্যক্রমের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। ফলে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত তাদের দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

    অবশেষে, ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে জিএম কাদের বিভিন্নভাবে সংসদীয় ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি অবসর জীবনে ২০১৪ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে

    বাংলাদেশে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান নতুন করে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ প্রশস্ত করেছে। সাম্প্রতিক এই আন্দোলন দেশকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে সহায়তা করেছে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

    রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন, যিনি বলেন, আমরা পুরোনো রাজনৈতিক পদ্ধতিতে ফিরে যেতে চাই না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই বিষয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন, যাতে তারা ভবিষ্যত নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারে।

    আরেক বক্তা, মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক, মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আবার ফিরে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একগুচ্ছ ইতিবাচক পরিবর্তন চলছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে বোঝা যায়, এই আন্দোলনের ফলে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্থা আরও সংযুক্ত হচ্ছে এবং উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে।

    অতিরিক্ত বলে, এই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্কারগুলো কেবল দেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বের সব দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি বিভিন্ন দেশের জন্য একটি ধারাবাহিক উন্নয়নের নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান বলেন, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতের অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যে লড়াইয়ে নামছে, তাতে নতুন ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা শুল্ক নীতি নিয়ে বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের দিক নির্দেশ করে। এর মাধ্যমে দেখা যায়, দেশের অর্থনীতি এখন আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হতে চলেছে।

  • দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন ১৯৯ বাংলাদেশি নৌসেনা সদস্য

    দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন ১৯৯ বাংলাদেশি নৌসেনা সদস্য

    দক্ষিণ সুদানের জুবা এবং মালাকাল এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিট (ব্যানএফএমইউ-১০) এর ১৯৯ জন সদস্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা পদকে ভূষিত হয়েছেন। এই অর্জনের জন্য গত বুধবার দক্ষিণ সুদানের জুবায় এক বিশাল মেডেল প্যারেডের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহান সুব্রামানিয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি শান্তিরক্ষা অভিযানে অসামান্য অবদান রাখায় এই সব কর্মকর্তা ও নাবিকদের জন্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মেডেল প্রদান করেন। এছাড়াও, আনমিসের কর্মকর্তাগণ ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    মেডেল প্যারেডে ফোর্স কমান্ডার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, নীল নদে বিপদজনক পরিবেশের মধ্যে তারা সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। তারা জাতিসংঘের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন, নদী পথে টহল, উদ্ধার অভিযান, ডাইভিং এবং রেকি কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করে চলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী মহান ভূমিকা পালন করে আসছে যা শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে অংশগ্রহণ করে আসছে। একমাত্র মেরিন ফোর্স হিসেবে তারা নীল নদের বিস্তৃত অঞ্চলে ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে। এই কন্টিনজেন্ট ১৩১১ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথে ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মোতায়েনের পর থেকে তারা দক্ষিণ সুদান সরকার এবং জনগণের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এছাড়া, উত্তাল ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা সংগ্রাম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারে নতুন দিশা দেখিয়েছে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারে নতুন দিশা দেখিয়েছে

    ছাত্র-জনতার কেন্দ্রস্থলে থাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে নতুন দিশা দেখিয়েছে। বর্তমান সময়ে দেশটি একটি সুসংহত গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার পথে হাঁটছে। এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উঠে এসেছে শুক্রবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই অভ্যুত্থান সুদূরপ্রসারী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে। সেটি দেশের রাজনৈতিক সেতুবন্ধনকে আরও মজবুত করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো জ্বালিয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তরুণরা এই পরিবর্তনের জন্য সচেতন থাকবেন। বরেণ্য মালয়েশীয় শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি যোগ করেন, সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, যা খুবই প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন, এই অভ্যুত্থানোত্তর সংস্কারের সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং এটি বিশ্বের অন্য দেশের জন্যও একটি মাইলফলক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতের অর্থনীতির দিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করছে। তিনি কথা বলেন: বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা মার্কিন শুল্কবিধানের পরিবর্তন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই সম্ভব হয়েছে। এটি স্পষ্ট করে যে, বাংলাদেশ এখন নতুন ইতিহাসের পথে হাঁটছে এবং এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সংকেত।

  • জিএম কাদের ও তাঁর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি

    জিএম কাদের ও তাঁর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি

    সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) এবং তাঁর স্ত্রী শেরীফা কাদেরের দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এই নিষেধাজ্ঞা বহাল করেছেন।

    আজ শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় দুদক তার বিরুদ্ধে দেশের বাইরে যাওয়া বন্ধের জন্য আবেদন করে, যা আদালত গ্রহণ করেছেন।

    দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়, যেখানে মূল সুবিধাভোগী ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

    অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করায় অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, এবং তার পরিবর্তে জিএম কাদেরের স্ত্রী শরীফা কাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    এছাড়াও বলা হয়েছে, জিএম কাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের পদ লাভ করেছেন এবং বিভিন্ন মনোনয়ন ও দলীয় পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছেন, যা পরে বিদেশে পাচার করা হয়। বর্তমানে, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ৩০১ হলেও, মূলত ৬০০ থেকে ৬৫০ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ।

    জনপ্রতিনিধিত্বের এই ভূমিকায় থাকাকালীন, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের দাখিল করা হলফনামার অনুসারে, জিএম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার মূল্যের জিপের মালিকানা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে, নগদ ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৯ হাজার টাকা ও ৮০ লাখ মূল্যের একটি জিপ। তার সহিত, লালমনিরহাট ও ঢাকায় তার জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে।

    অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, মনোনয়ন বাণিজ্য ও বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে জিএম কাদের ও তাঁর স্ত্রী অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, যা দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধান চলাকালে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সময়ে দেশ ত্যাগ করতে পারেন, যা অনুসন্ধান কার্যক্রমে ব্যাঘতি সৃষ্টি করবে। সেজন্য, তাঁরা যাতে দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন, এ জন্য আদালত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

    প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জিএম কাদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ছিলেন।

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের রায় স্থায়ী

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : তারেক রহমান ও বাবরের খালাসের রায় স্থায়ী

    বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের আপিল বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট মামলার পুরনো রায় পরিবর্তন করে তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছেন। এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সাজা এই রায়ে বাতিল হয়নি। পাশাপাশি, হাইকোর্টের আগে দেওয়া তদন্তের পর্যবেক্ষণগুলোও এবার বাদ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই মামলার নতুন তদন্তের দায়িত্ব সরকারের।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্টের সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা বজায় থাকল, যেখানে আসামিদের খালাসের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

    রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে এই রায় unanimously প্রদান করেন বিচারপতিরা। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির, এর পক্ষ থেকে মামলার শুনানি করেন। সেখানে বিএনপির আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন, যেমন- জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমুখ।

    রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, আবদুল জব্বার ভূঁইয়া, এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশে সব আসামি খালাস পান। ওই রায়টি বিচারিক আদালতের পূর্বের রায়ের বিরুদ্ধে ছিল, যেখানে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বেশ কিছু নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। ওই রায় বলে, মামলার বিচার প্রক্রিয়া অবৈধ ও অকার্যকর।

    এই মামলায় বিশেষভাবে উল্লেখ্য এর আগে দেয়া নিম্ন আদালতের রায়, যেখানে ২০১৮ সালে লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে তথ্য অনুযায়ী, অনেক আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ২১ আগস্টের হামলায় নিহতের সংখ্যা ছিল ২৪ জন, ঢাকার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই ভয়ংকর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, যাতে সে সময় বেশ ক’জন নেতা-কর্মী আহত হন।

  • বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে সাংঘর্ষিক করা গ্রহণযোগ্য নয়

    বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে সাংঘর্ষিক করা গ্রহণযোগ্য নয়

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার ও সংস্কার এখন বাংলাদেশের মূল জাতীয় স্বার্থ। এই মুহূর্তে বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে বিপরীতধর্মী করে তুলতে চাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি শুক্রবার সকালে গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে এ কথা বলেন।

    জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, নির্বাচন আমাদের দীর্ঘদিনের সংস্কারপ্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করার জন্যো দরকার। বিচারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও নির্বাচন অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে হালনাগাদ সংস্কারের স্থান যেখানে রয়েছে, সেখানে এক ধরনের জাতীয় সনদ তৈরীর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার বাস্তবায়ন জরুরি। আমরা বিশ্বাস করি, এই জাতীয় সনদে আইনি বাধ্যবাধকতা ও কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত একমত হওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে, নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়বে।

    তিনি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্দোলনকারি দলের সঙ্গে নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করবে, যাতে করে কোথাও কোনো বিঘ্ন ঘটলে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবেলা করা যায়। আমরা চাই অনতিবিলম্বে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    জোনায়েদ সাকি বলেন, আজকের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন তখন, যখন বাংলাদেশ সংকটের মধ্যে পড়ে আছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকার পতনের ঘটনাও ঘটেছে, কিন্তু পুরোপুরি ভাবেই স্বৈরশাসন ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন হয়নি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন মানেই পুরো সিস্টেমের পরিবর্তন নয়, যদি সংবিধান ও শাসন কাঠামো পরিবর্তন না হয়, তবে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা দুর্বার হবে না। এজন্য তিনি সংবিধানের ক্ষমতা ও শাসন কাঠামোর সংস্কারের দাবি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন।

    তিনি পরিষ্কার করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান ১৯৭১ সালের গণতান্ত্রিক স্বপ্ন ধারণ করতে পারে নি, এটি ছিল স্বৈরতান্ত্রিক, যেখানে সব ক্ষমতা একক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। এই সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তিতে একের পর এক স্বৈরশাসন, হত্যাযজ্ঞ ও শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এখন সময় এসেছে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে।

    জোনায়েদ সাকি আরও বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এখনও দেখা যায়—আওয়ামী লীগ ও তাদের চতুর্দফায় থাকা সহযোগীরা গণঅভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগকে অস্বীকার করছে। তারা হত্যাযজ্ঞের ঘটনাগুলো আড়াল করার চেষ্ঠা করছে, বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অর্থ যোগান দিয়ে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, কিছু গোষ্ঠী পুরনো ফ্যাসিস্ট কায়দায় নিজেদের পরিকল্পনাগুলো চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা ও স্বৈরাচারী দমন-পীড়ান সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি মনে করেন, একদিকে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ ও অন্যদিকে দক্ষিণপন্থি উত্থান—এসবই জনগণের প্রত্যাশার বিরোধী।

    তিনি জনগণের কাছে বলতে চান, তারা একটাই চাই—একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, অধিকার ও মর্যাদার নিশ্চয়তা। অন্ধকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে আমাদের সবাইকে একত্রে থাকতে হবে ও সকল অস্বচ্ছতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধেও কঠোর হতে হবে। ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হলে অবশ্যই আইনি ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে বজায় রাখতে হবে। না হলে, নিজেকে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের থাবায় পড়ে যাব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে, এবং কোনো অপশক্তি এই অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না।

    অনুষ্ঠানে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জানা যায়, গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালে ছাত্র, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি যৌথ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তারপর থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। ২০১৫ সালে তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানের জুবা এবং মালাকাল এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিট (ব্যানএফএমইউ-10) এর ১৯৯ সদস্য এই মর্যাদাপূর্ণ শান্তিরক্ষা পদক লাভ করেছেন। এর স্বীকৃতিতে গত বুধবার জুবাতে একটি বিশেষ মেডেল প্যারেডের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহান সুব্রামানিয়াম, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন। তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের সম্মানে এই মেডেল প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আনমিসের হেডকোয়ার্টারের কর্মকর্তারা এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।  

    মেডেল প্যারেডে ফোর্স কমান্ডার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন এবং তাদের সাহসিকতা ও দক্ষতার মাধ্যমে এতটুকু পরিবেশে শান্তিরক্ষা কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নীল নদে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও তারা অপারেশন চালাচ্ছে, জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি পণ্যসমূহ পরিবহনে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে। এছাড়াও নদীতে নিয়মিত টহল, উদ্ধার ও ডাইভিং অপারেশন, রেকি চালানো এবং জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থাগুলির নদী পথ নিরাপদ করার জন্য মাঠে কাজ করছে তারা। তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রেসক্লাবকে এই কাজে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এই অবদান অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

    উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। বিশেষ করে, তারা আনমিসের একমাত্র মেরিন ফোর্স হিসেবে কাজ করছে, যেখানে দেশের দীর্ঘ ১৩১১ কিলোমিটারের নদী পথে বিভিন্ন সম্পদ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা ৭১টি লজিস্টিক অপারেশনের মাধ্যমে এই মিশনের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছে। মোতায়েনের পর থেকে তারা দক্ষিণ সুদানের সরকারের সাথে কাজ করে দেশটির উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে চলেছে।”

    অন্যদিকে, উত্তাল ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ বানৌজা সংগ্রাম বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় গৌরবময় ভূমিকা পালন করছে, দেশের পতাকা উড়িয়ে মহাদেশীয় ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রশংসিত হয়ে চলেছে।

  • নূর খান: এক হাজার আটশ’র বেশি গুমের অভিযোগ এখন পর্যন্ত

    নূর খান: এক হাজার আটশ’র বেশি গুমের অভিযোগ এখন পর্যন্ত

    গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশন এখন পর্যন্ত ১৮০০ এর বেশি অভিযোগ পেয়েছে। এই অভিযোগের মধ্যে প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে গুম দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘রিপ্রেশন টু রেভলুশন’ শীর্ষক আলোচনায় এই তথ্য জানিয়েছেন গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান।

    নূর খান বলেন, এই কমিশনের কাজ তদন্ত করা নয়। ফলে আমরা রিমান্ড বা গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই। আমাদের মূল কাজ হলো তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান। ভুক্তভোগী, সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি।

    তিনি আরও বলেন, যারা এই গুমের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের অনেককেই এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া অনেক চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    নূর খান জানিয়েছেন,প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীকে ধরে নিয়ে কোথায় রাখা হয়েছে এবং তাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু তথ্য পরিষ্কার হয়েছে। তবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাদের কারা নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক এখনো রয়ে গেছে।

    তনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কমিশন তাদের কাজের একের কিছু অংশের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে পারবে। তবে, এক হাজার ৮০০ অভিযোগের সামগ্রিক প্রতিবেদন একযোগে দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।