Category: জাতীয়

  • কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সহিংসতা, আইএসপিআর বলছে

    কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সহিংসতা, আইএসপিআর বলছে

    রাজধানীর কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সহিংসতার পরিস্থিতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ (৩০ আগস্ট) শনিবার একটি বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টায় কাকরাইলে দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কিছুজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে চেষ্টা চালায়, কিন্তু পরিস্থিতি আরো গুরুতর হলে তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা চায়। এরপর পুলিশ যখন মারাত্মক আক্রমণের শিকার হয় এবং অনেকেরই আহত হন।

    আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত হয়ে স্থান ত্যাগের অনুরোধ জানিয়েছিল যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে বারবার অনুরোধ উপেক্ষা করে কিছু নেতাকর্মী মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও অশান্ত করে তোলে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আঘাতের পাশাপাশি রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চলে।

    এছাড়াও, এই সহিংসতায় বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও সংলগ্ন এলাকা বজ্রাঘাতের মতো জনচলাচল ব্যাহত হয়, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসুবিধা এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর শান্তিপূর্ণ সমাধান ও বুঝাবুঝির সব প্রচেষ্টা উপেক্ষা করে বেশ কিছুজনের দ্বারা হামলা চালানো হয়। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না আসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়। এই ঘটনায় প্রায় ৫ জন সেনা সদস্য আহত হন।

    আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, সরকার সব ধরনের মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই সিদ্ধান্তের পুনর্ব্যক্তি করে জানিয়েছে যে, দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে তারা সব সময় কঠোর অবস্থানে থাকবে। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় প্রস্তুত।

  • বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মান্যতা দেওয়া হবে না

    বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মান্যতা দেওয়া হবে না

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এ সবই বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় স্বার্থ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভাজনের মাধ্যমে দেখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুক্রবার সকালে গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

    জোনায়েদ সাকি বলেন, আমাদের জন্য নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি হচ্ছে সেই মাধ্যম যার মাধ্যমে আমরা বিচার এবং সংস্কার সম্পন্ন করতে পারি। নির্বাচন ছাড়া মানুষ অন্ধকারেই থাকবেন, অন্ধকারে থাকাকালীন অন্যায়ের মোকাবিলা করাও কঠিন। তিনি আরও যোগ করেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, তাই সবার উচিত এই বাস্তবতার স্বীকৃতি ও গ্রহণ করা। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং এই মাধ্যমে আমরা যে সংস্কারের পথচলা শুরু করেছি, সেখানে একটি জাতীয় সনদ তৈরি হচ্ছে, যা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেছেন, দ্রুতই দেশের আইনি বাধ্যবাধকতা ও সনদ বাস্তবায়নের জন্য ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ সুস্থ, স্বাধীন ও নিরপক্ষ হয়। এই পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং তারা আগামী দিনগুলোতে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।

    জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন তারিকভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বা লাপেটের কোনো ঘটনা ঘটলে তা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশেকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার, অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে। অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, আজকের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যখন বাংলাদেশ সময়ের চাপে রয়েছে। ২০২৪ সালে জাতীয় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শাসন পতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, এই শাসনব্যবস্থার একেবারে উচ্ছেদ হয়নি। তিনি বলেন, স্বৈরশাসন আর ফ্যাসিস্ট শাসন কেবল পতনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে না, শাসনব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধান ১৯৭১ সালের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারেনি; বরং এটি ছিল স্বৈরতান্ত্রিক, যেখানে সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল এক ব্যক্তির হাতে। এই স্বৈরাচারী কাঠামোতেই একের পর এক শাসন, হত্যা ও জুলুম চালানো হয়েছে। এই কারণে এখন জরুরি সংশোধনী ও কাঠামোগত পরিবর্তন।

    সাকি জানান, এখনো দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকরা গণঅভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগের সত্যতা অস্বীকার করার চেষ্টায় লিপ্ত। তারা গণআন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে বিদেশি ও দেশীয় ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, অর্থের যোগান দিচ্ছে এবং বিভিন্ন অপতৎপরতা সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে মব রাজত্ব কায়েম করতে কিছু গোষ্ঠী চক্রান্ত করছে। তিনি বলেন, একদিকে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারিত্ব, অন্যদিকে দক্ষিণপন্থি উত্থানের সব ধরনের ষড়যন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার বিরুদ্ধ।

    সাকি emphasizing গেছেন, জনগণের মূল চাওয়া একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। তিনি বলেন, অন্যায়ের পাশে দাঁড়াবেন না, কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্রে প্রশ্রয় দেবেন না। আইন ও গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রেখে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে, অন্যথায় নিজেদেরই ফ্যাসিবাদের শিকার হয়ে পড়তে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে এবং অপশক্তি এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে পারবেন না।

    অন্তর্বর্তী সময়ে, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালে ছাত্র, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনের যৌথ রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে যাত্রা শুরু করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা এবং বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। ২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নানা গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়ার পর, ২০১৫ সালে তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিলে গণসংহতি আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে

    ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে নতুন করে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ প্রশস্ত করেছে। এই অভ্যুত্থান দেশের ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্তমূলক গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন, যিনি বলেন, আমরা পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ করছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বিভিন্ন সংস্কার ও পরিবর্তন শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে যেকোনো দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ তার অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশে আরোপিত মার্কিন শুল্কের বিষয়েও বাংলাদেশের সফলতা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরকে নির্দেশ করে। এই সমস্ত পরিবর্তন ও উন্নয়ন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।

  • বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝুঁকিতে ফেলা হবে না বললেন গণসংহতি আন্দোলনের নেতা

    বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝুঁকিতে ফেলা হবে না বললেন গণসংহতি আন্দোলনের নেতা

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এগুলো এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বিচার ও সংস্কারকে কোনোভাবেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে দাঁড় করানো গ্রহণযোগ্য হবে না। শুক্রবার সকালে, গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দেশের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জোনায়েদ সাকি আশাবাদী, নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের সংগ্রাম ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি বললেন, বিচারকে সামনে রাখতেই হলে নির্বাচনের মাধ্যমে সচ্চুর ও নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এর পাশাপাশি, তিনি জানান, জাতীয় সনদ প্রতিষ্ঠা জরুরি, যার আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়নের জন্য সবাই মিলিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে ঐকমত্য অর্জন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে আন্দোলনকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংস্থাগুলোর মধ্যে একত্রিত হয়ে একটি মতৈক্য গড়ে তুলতে হবে, যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

    আন্দোলনকারীরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করবে, যা নির্বাচনী পরিবেশের কোনও বিঘ্ন দেখা দিলে তা প্রতিরোধে সক্ষম হবে। তিনি emphasizing that, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন মানেই আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এগিয়ে যাওয়া। সত্যিকার পরিবর্তন এটাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের সময় যখন বাংলাদেশের পরিস্থিতি মনোকষ্টে ভুগছে, তখন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটলেও, পুরো ব্যবস্থা পরিবর্তন ছাড়া চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব নয়।’

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান মূলত স্বৈরতান্ত্রিক ছিল এবং ক্ষমতা একেকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। এর ফলে ঘটে পুনঃপুন স্বৈরশাসন, হত্যাকাণ্ড ও ফ্যাসিস্ট রাজনীতি। তাই, দেশের শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য সাংবিধানিক কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার অবিলম্বে সংস্কার দরকার।

    জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, অর্থায়ন ও নাশকতা চালিয়ে বিচার বা সংস্কার প্রক্রিয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, কিছু গোষ্ঠী পুরোনো স্বৈরাচারী কায়দায় নিজেদের ইচ্ছেমত চাপিয়ে দিতে চাইছে, যা জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে।

    তিনি বলেন, জনগণ চায় একটি এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদার সুরক্ষা রয়েছে। কোনো অন্যায় বা ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্র তারা বরদাশ্ত করছেন না, বরং তা রুখে দেওয়ার জন্য সবাই সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হবে, תוך জনস্বার্থে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রেখে। তিনি আশাবাদী, বাংলাদেশের মানুষ দ্রুত এগিয়ে যাবে, আর কোনও অপশক্তি এ অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।

    উল্লেখ্য, গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনের সমন্বয়ে সূচনাপ্রাপ্ত হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের শক্তি সংগঠিত করে বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলন চালানো। গত বছর তা উপজেলা পর্যায়ে গণসংহতি আন্দোলনের একক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানের জুবা ও মালাকাল এলাকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট (ব্যানএফএমইউ-১০) এর ১৯৯ জন সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক লাভ করেছেন। এ সুন্দর মুহূর্তের উদযাপন হিসেবে গত বুধবার জুবায় এক বিশাল মেডেল প্যারেডের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউএন মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এর ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহান সুব্রামানিয়াম, যিনি এই অর্থে তাদের প্রশংসা করেন এবং শান্তিরক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও নাবিকদের এই স্বীকৃতি প্রদান করেন। এ ছাড়াও আনমিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    ফোর্স কমান্ডার শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশের নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে তারা অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। নীল নদের এই বিপরীত পরিবেশে জাতিসংঘের জন্য জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যসমূহ নিরাপদে পরিবহন করার পাশাপাশি নদী পথে নিয়মিত টহল, রেকি অপারেশন, উদ্ধার অভিযান, ডাইভিং ও অন্যান্য কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এই মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। দক্ষিণ সুদানে আনমিসের একমাত্র মেরিন ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়োজিত রয়েছে, যেখানে তারা নীল নদের দীর্ঘ ১৩১১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মোতায়েনের পর থেকে তারা দেশ ও দেশের জনগণের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। পাশাপাশি উত্তাল মহাসাগরে বাংলাদেশের যুদ্ধজাহাজ পরিবেশের শান্তি ও নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক ভূমিকা পালন করে চলেছে।

  • নূর খানের অভিযোগ: এক হাজার আটশ’র বেশি গুমের অভিযোগ

    নূর খানের অভিযোগ: এক হাজার আটশ’র বেশি গুমের অভিযোগ

    গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে গঠিত হয়েছে একটি অন্তর্বর্তী সরকারী গুম কমিশন। এখন পর্যন্ত তারা মোট এক হাজার ৮০০-এর বেশি অভিযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ জনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে গুম দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘রিপ্রেশন টু রেভলুশন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এই তথ্য জানান গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান। তিনি জানান, এই কমিশনের তদন্ত একান্তভাবে তথ্য সংগ্রহের ওপর কেন্দ্রীভাবিত, তাদের কোনো রিমান্ড বা গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা নেই। আমরা শুধু ভুক্তভোগী, সাংবাদিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কাজ করছি। নূর খান আরও উল্লেখ করেন, যারা এই গুমের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জড়িত ছিলেন, তাদের অনেকেই আজও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, যা কাজ চালিয়ে যাওয়াকে কঠিন করে তুলছে। তিনি জানান, ৩০০ জনের বিষয়ে হয়েছে কিছু স্পষ্ট তথ্য, কিন্তু জানানো হয়নি কোথায় রাখা হয়েছিল তাদের। এছাড়া, কাউকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল কারা এবং তারপর কোথায় নিয়ে গেছে, তার সম্পর্কে কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। তিনি আগামী ডিসেম্বরে তাদের কাজের একটি অংশের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, তবে একদিকে সমস্ত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন একবারে দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

  • কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সহিংসতা: আইএসপিআর এর বিস্তার সংक्षিপ্ত বিবরণ

    কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সহিংসতা: আইএসপিআর এর বিস্তার সংक्षিপ্ত বিবরণ

    রাজধানীর কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক সহিংস পরিস্থিতি, যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বর্ধমান রাতের বিভ্রান্তির এই ঘটনায় গত শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা রাত ৮টার দিকে কাকরাইল এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ওই সময় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে দাঙ্গার রূপ নেয়। সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা मागে। পুলিশ তখন সংঘর্ষে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলেও, এরপর তারা মারামারি ও ইট-পাটকেল পুঁতে আঘাত হানে και একাধিক স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টাও করে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, জনদুর্ভোগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। আইএসপিআর জানিয়েছে, শুরুতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করে, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। তবে কিছু নেতাকর্মী এই অনুরোধ উপেক্ষা করে মারামারি চালিয়ে যায় এবং আরও সহিংসতা সৃষ্টি করে। তারা পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়, রাতে মশাল মিছিলের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে। সংঘর্ষে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও আগুন ধরানোর চেষ্টা চলে, যা নিশ্চিতজনের জীবন ও সম্পদকে হুমকির মুখে রাখে। এর ফলে, বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষ চরম বিপর্যয়ে পড়েন এবং চলাচল বিপর্যস্ত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বেশ কিছু সময় চেষ্টা করলেও, সংঘর্ষ চলাকালীন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গেলে সেনাবাহিনী बल প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। আজকের এই সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হন। আইএসপিআর আরও জানায়, বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের মারামারি ও মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেনাবাহিনী এই সিদ্ধান্তের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে mọi কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। দেশের মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় বদ্ধপরিকর এবং তারা জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে দৃঢ় মনোবল রাখে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার পথ খুলে দিয়েছে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার পথ খুলে দিয়েছে

    ছাত্র-জনতার মুজিবনগর জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক চেতনা ও নাগরিক সচেতনতা আরও জোরদার করেছে, যা আগামী দিনগুলোতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের শক্তিশালী ভিত্তি রচনা করবে। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সবাই এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

    গত শুক্রবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এই সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চার বিকাশ ও গণঅভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তরুণ প্রজন্ম এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকবেন ও দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

    মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আবার ফিরে আসছে। সরকার এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরস্পর الحوار ও সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে, যা একটি খুবই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গণঅভ্যুত্থানে পরবর্তী সংস্কারগুলো কেবল বাংলাদেশে না, বরং সারা বিশ্বে দেশের অগ্রগতির মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

    ভারতীয় স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতের অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ এখন নতুন ঐতিহাসিক দিগন্তে পা রাখতে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের উপর আরোপিত মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ অনেক কিছু করতে পেরেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশক। এই সব ঘটনা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দৃশ্যপটে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করছে।

  • কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সহিংসতা: আইএসপিআর၏ বিবৃতি

    কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে সহিংসতা: আইএসপিআর၏ বিবৃতি

    রাজধানীর কাকরাইলে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সার্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) মঙ্গলবার এক বিস্তারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি issued করেছে।

    বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাতে প্রায় সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ এগিয়ে আসেন পরিস্থিতি শান্ত করতে, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা চান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছু সময় পরে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়, এতে কিছু পুলিশ সদস্য আহত হন।

    আইএসপিআর জানিয়েছে, বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু বারবার আর্থ-সন্ধান উপেক্ষা করে কিছু নেতাকর্মী মেব ভায়োলেন্সের আশ্রয় নেন। তারা বেশ কিছু সময় ধরে আইনি বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে সংঘর্ষ জিইয়ে রাখে। সংঘর্ষের সময় তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন স্থাপনা আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঢেউয়ে বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়, জনদুর্ভোগ নেমে আসে। শান্তিপূর্ণ সমাধানে অগ্রসর হওয়ার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে, তারা নিরীহ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়।

    নিহত হয় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য। সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়।

    সেনাবাহিনী জানায়, বাংলাদেশ সরকার সকল ধরণের মেব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তারা আরও জানিয়েছেন, জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সবসময় প্রস্তুত। জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষায় সেনাবাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ, এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে

    ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে জুলাই মাসে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান দেশটিতে নতুন করে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ প্রশস্ত করেছে। এই আন্দোলন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচিত ঘটনার অভ্যুত্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশ একটি ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের দর্শনীয় মোড় সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি উন্নত করেছে।

    শুক্রবার ঢাকা নগরীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা ব্যক্ত করেন। এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন, যিনি উল্লেখ করেন, আমরা আগের পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরে যেতে চাই না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তরুণ প্রজন্ম এই ব্যাপারে রাজনৈতিক সচেতনতা বজায় রাখবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।

    অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার হয়েছে। তিনি যোগ করেন, বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপ চালানো একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কারগুলো কেবল বাংলাদেশের জন্যই না, বরং অন্যান্য দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান বলেন, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতের অর্থনীতি নতুন করে ভাবছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জন্য বিদেশি শুল্ক ইস্যুতে যা কিছু করা সম্ভব হয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথে বড় এক ধাপ। সরকারি এই পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এখন নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পথে এগুচ্ছে।