Category: জাতীয়

  • নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ: সীমানা নির্ধারণ, দল নিবন্ধন ও ভোটাধিকার নিশ্চিতება

    নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ: সীমানা নির্ধারণ, দল নিবন্ধন ও ভোটাধিকার নিশ্চিতება

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গুরুত্বপূর্ণ রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্য নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, রোডম্যাপটি অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম ও ভোটগ্রহণের জন্য অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা সময়মতো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরের পর নির্বাচন কমিশন এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারে।

    সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক সংসদীয় এলাকার সঠিক ভৌগোলিক সীমান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এই গেজেটে দেশের ৩০০টি সংসদীয় এলাকার সীমানা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নাগাদ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি জিআইএস (ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা) ম্যাপও প্রকাশ করা হবে, যা ডিজিটাল ফরম্যাটে সেসব এলাকার সীমানা নির্ধারণে বলবৎ থাকবে। এর মাধ্যমে ভোঁগোলিক নির্দিষ্টতা, স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়াও পুরোপুরি চলমান। প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সময় নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিলে, তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো, কারাবন্দি ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশন এই ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ব্যক্তিদের কাছে বিলট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা ভোট দিতে পারেন। এই পদক্ষেপটি নাগরিকের ভোটাধিকার সংরক্ষণে এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

    নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এই সংস্থাগুলোর নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলি ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সচেতনভাবে উপস্থিত থেকে নির্বাচনকে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ রাখার কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    তাছাড়া, নির্বাচন বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসিসহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের সাথে সভা আলোচনা অব্যাহত আছে। এই কার্যক্রম আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

    নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আজ থেকেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা চলে ভোটের কয়েকদিন আগে পর্যন্ত। পাশাপাশি, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যালট বাক্সও চূড়ান্ত করা হবে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাজেট চূড়ান্ত করার কাজ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হয়। ভোটের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য নানা দিক বিবেচনা করে প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব ধাপ সময়মতো এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু, আওতাভুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক হবে। তারা বিশ্বাস করেন, এই ধারাবাহিক উদ্যোগ ও প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করে তুলতে পারবেন।

  • ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান

    ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান

    জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। অভিযোগে জানা গেছে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তির প্রলোভনে তিনি একটি সমন্বয়ক গ্রুপের কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকার চেক এবং ১০ লাখ টাকা নগদ অর্থ গ্রহণ করেছেন। এই দুর্নীতির অভিযোগের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করার চেষ্টা করেছেন বলে সন্দেহ করছে দুদক।

    দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, বিশেষ একটি দলের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তারা ডা. মোস্তফার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে তার অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, অঘোষিত সম্পদ এবং অসাধু প্রক্রিয়ায় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছেন। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।

    অভিযোগে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডা. মোস্তফা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য চেষ্টার অংশ হিসেবে চেক এবং নগদ অর্থ সমন্বয়ক গ্রুপের কাছে দেন। এই লেনদেনের সময় একজন মধ্যস্থতাকারী আছেন, যার নাম আরিফুল ইসলাম। তিনি নিজের পরিচয় দেন সমন্বয়ক আরেফিনের ভাই হিসেবে এবং ডা. মোস্তফার চেম্বার থেকে সরাসরি ওই চেক গুলো গ্রহণ করেন। যদিও আরেফিন নিজে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তিনি ফোনে যোগাযোগ করেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এই চেকগুলোতে তার স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এগুলো আসলে সিকিউরিটি চেক ছিল এবং চেক গ্রহণের সময় অফিসে প্রবেশকারী কিছু ব্যক্তি সম্ভবত অস্ত্র ধারণ করে ছিল, যা তাকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করে। তিনি আরও বলেন, এই সব ঘটনা অবৈধ এবং তার কাছ থেকে স্বেচ্ছায় এই চেকগুলো নেওয়া হয়নি।

  • সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ঘোষণা

    সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ঘোষণা

    দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচির ব্যাপক ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম, প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বুয়েটসহ দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার থেকে এই শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হবে। তবে আজ বৃহস্পতিবার বুয়েটে তাদের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কিছুটা স্তব্ধ থাকে কর্মসূচির উদ্যোগ। বুয়েটের এক সরাসরি সংযুক্তiz শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, দুপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনো শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবরোধ করেনি বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়নি।

    প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের প্রধান তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে— ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ শব্দটি ব্যবহার করতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নবম গ্রেডে পদোন্নতি না দেওয়া এবং স্নাতক প্রকৌশলীর জন্য দশম গ্রেডে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা।

    অপরদিকে, গতকাল বুধবার বিকেলে শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে আরও পাঁচ দফা দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এই দাবিগুলোর মধ্যে প্রধানগুলো হল—

    ১) প্রকৌশল আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে ক্ষমা চাইতে ও তার জবাবদিহি করতে হবে।

    ২) প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে গঠিত কমিটিকে অযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করে দ্রুত নতুন এক কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে শিক্ষক এবং মূল stakeholders অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই কমিটির মাধ্যমে তিন দফা দাবিকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের এই নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

    ৩) শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ডিসি মাসুদকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।

    ৪) হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় সরকারকে বহন করতে হবে এবং আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ দ্বারা কোনো ধরনের additional হামলা সহ্য করা হবে না।

    ৫) রোকন ভাইয়ের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চাকরি থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

    শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন যে, দাবি না মানা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি মানা না হলে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ২১ অক্টোবর

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ২১ অক্টোবর

    আদালত আজ ঘোষণা করেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর শুনানি ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) এই সিদ্ধান্ত নেন। শুনানির শুরুতে বিচারপতি শিশির মনির অভিযোগ করেন, যেসব বিচারপতি এই রায় দিয়েছিলেন তারা পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, যা নিশ্চিত করেছে রিভিউতে নতুন করে আলোচনা হওয়া দরকার।

    আদালত সুস্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গভীরভাবে ভাবছে এবং এমন একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে চায়, যাতে ভবিষ্যতেও নির্বাচনপ্রক্রিয়া বারবার বিঘ্নিত না হয়।

    বিচারপতি শিশির মনির মো mouths গোপন করেন যে, ২০১১ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ এই ব্যবস্থা মান্যতা দিয়েছিল। ওই সময় এই সংশোধনী সংবিধানসম্মত বলে রায় দেয়ার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়। ২০০৪ সালে এই সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট, কিন্তু পরে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ এই ব্যবস্থা বাতিলের আদেশ দেয়।

    অতীতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছিল। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার—all এই রায় আবার দেখার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়, যা ২০০৪ সালে হাইকোর্ট বৈধ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে শেষ জাতীয় নির্বাচন হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ বেশি আসনে জয়লাভ করে। তবে, ২০১১ সালে আপিল বিভাগ এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়, যা এখনও দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

  • নির্বাচকালীন সরকার বিষয়ক সমাধানে আপিল বিভাগের জোর দাবি

    নির্বাচকালীন সরকার বিষয়ক সমাধানে আপিল বিভাগের জোর দাবি

    প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার প্রয়োজন নেই। তার মতে, আপিল বিভাগ এই বিষয়ে একটি কার্যকর এবং স্থায়ী সমাধান চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে এটি বারবার বিঘ্নিত না হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের সমাধান চিরস্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। বুধবার (২৭ আগস্ট) এর শুনানি চলাকালে এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

    সেই দিন সকালে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা চারটি আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শুরু হয় সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে, যেখানে নেতৃত্ব দেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ সহ ৭ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ।

    আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। উভয় পক্ষই তাদের দাসত্বপ্রাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন।

    এর আগে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রথম দিন এই রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছিল। এটি বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ছয় ব্যক্তির করা চারটি আবেদনের জন্য ছিল।

    ইতিহাসের দিকে তাকালে বুঝা যায়, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর ১৯৯৮ সালে এই সংশোধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বৈধ বলে ঘোষণা দেন।

    প্রথমে, অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ কয়েকজন আইনজীবী ১৯৯৮ সালে এই সংশোধনের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দাখিল করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এই ব্যবস্থা বৈধ বলে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয় এবং ২০০৫ সালে তা আপিল বিভাগে আসে। এরপর, ২০১১ সালে আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে।

    এই রায়ের পর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলোপসহ অন্যান্য কিছু পরিবর্তনের জন্য ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। এরপর, ৫ আগস্ট সরকার বদলে যায়, এবং এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবারও অনেকে আবেদন করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে সুজন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্য ব্যক্তিদের কয়েকটি আবেদন। প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরই বিভিন্ন ব্যক্তির পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও এই রায় পুনর্বিবেচনায় আবেদন করেছেন।

  • নির্বাচনের রোডম্যাপ কবে প্রকাশ করবে ইসি জানালো

    নির্বাচনের রোডম্যাপ কবে প্রকাশ করবে ইসি জানালো

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাঁধা খসড়া রোডম্যাপের অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই বিস্তারিত পরিকল্পনা আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে। বুধবার (২৭ আগস্ট) ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

    এদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা ও সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই সংলাপ চালানো হবে।

    একই সময়ে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে চলমান শুনানিও চলছে ইসিতে। আজকের শুনানিতে জামায়াত মযদা সমর্থিতরা সাঁথিয়া নিয়ে দাবি জানায় এবং পাবনা-১ আসন গঠনের জন্য দাবি উপস্থাপন করেন। জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর সন্তান নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, বেড়া ও সুজানগর নিয়ে আরও একটি আসন তৈরি করার প্রস্তাব দেন। তবে, ইসির খসড়া সীমানা অনুযায়ী, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার কিছু অংশের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন।

    নির্বাচন কমিশনের জন্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংসদীয় আসনের খসড়া সীমানার ওপর শুরু হয়েছে শেষ দিনের শুনানি। সকাল ১০টায় এই শুনানি শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মকর্তারা।

    শুনানিতে সিরাজগঞ্জ-২ ও ৬ আসনের বাসিন্দারা ২০০১ সালের মতো সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের দাবিতে অংশ নেন। এ সময় কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বাসিন্দারা ২০১৪ সাল অনুযায়ী, চিলমারী উপজেলার রানিগঞ্জ, থানাহাট, রমনা ও চিলমারী ইউনিয়নকে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জানান। ইসি এ সকল দাবির ভিত্তিতে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ ও প্রকাশের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ৩০ জুলাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য খসড়া সংসদীয় সীমানার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

  • পৃথক তিন হত্যা মামলায় আনিসুল-সালমানসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

    পৃথক তিন হত্যা মামলায় আনিসুল-সালমানসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

    ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ইস্যুতে তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, কামরুল ইসলাম, জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং অপর তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম পুলিশ কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার করার অনুমোদন দেন।

    এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার আসামিরা। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, জুনায়েদ আহমেদ পলক, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান, কামরুল ইসলাম ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব চৌধুরী জাহাঙ্গীর আলম।

    প্রতিটি মামলার তদন্তকারীরা আদালতে পৃথক পৃথক আবেদন করেন, যার ভিত্তিতে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। আদালত এই শুনানি শেষ করে বুধবার তাদেরকে স্বীয় উপস্থিতিতে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

    রাসেল হত্যা মামলার তদন্তে জানা যায়, গত বছরের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে যাত্রাবাড়ী কুতুবখালী পকেট গেইটের কাছে এ ঘটনার শুরু হয়। সেই দিন আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাসেল মিয়া গুলিবিদ্ধ হন, তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। নিহতের বোন আকলিমা আক্তার মামলা করেন ৩০ জুন।

    অন্যদিকে, ১৯ জুলাই রায়েরবাগ বাস স্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাসেল প্রান্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সেই মামলায় ৯৪ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার চাচা নাদিমও রয়েছেন।

    ৫ আগস্ট আন্দোলনের শেষ দিন, পুলিশের গুলিতে জীবন হারান ইমরান হাসান। তার মা কোহিনুর আক্তার বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৯৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    এই ঘটনার নোটিশে জানা যায়, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে অনেকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই মামলার সুবাদে আসামিদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • চলতি বছরেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের হার গত বছরের সমান বা বেশি

    চলতি বছরেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের হার গত বছরের সমান বা বেশি

    নারী ও শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা গত বছর যা ছিল, তার সঙ্গে তুলনা করে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সেই সংখ্যাগুলি প্রায় সমান বা কিছু ক্ষেত্রে আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিবিড়ভাবে বেড়েছে। এর পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণ, বাল্যবিবাহ এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনাও গত বছরের তুলনায় এখনই বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন: ২০২৪ সমীক্ষা’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সমীক্ষাটি ১৪টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে বয়সভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যেমন ১৮ বছরের কম বয়সী কন্যাশিশু ও ১৮ বছরের বেশি বয়সী নারী। এই সমীক্ষায় ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, গৃহকর্মী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ—এই আটটি অপরাধের বিষয়গুলো আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পরিসংখ্যানের হিসাবে দেখানো হয়েছে, ২০২৩ সালে মোট নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ২,০৯৩৭, ২০২৪ সালে তা কমে ২,৫২৫ হলেও চলতি বছর ছয় মাসে ঘটে গেছে ১,৫৫৫টি ঘটনা। কর্মসূচিতে সমীক্ষার বিশদ তথ্য তুলে ধরেন মহিলা পরিষদের জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সাইবার অপরাধ ও গৃহকর্মী নির্যাতনের সংখ্যা কিছুটা কমলেও বাকিগুলো বেড়েছে। বিশেষ করে কম বয়সী মেয়েশিশুরা বেশি ভুক্তভোগী ও অপরাধী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। সমীক্ষার তথ্যে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাই বেশির ভাগ অপরাধের মূল কারিগর। ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ২১ থেকে ২৫ বছর। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে এই সময়ের মধ্যে ৩৬৪জন ধর্ষণের শিকার, তার মধ্যে ২২০ জন কন্যা এবং ১৪৪ জন নারী। এছাড়া, ১৪৮ জনের উপর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪৯ জন কন্যা এবং ৯৯ জন নারী। ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার হয়েছেন ১৩৪জন কন্যা এবং ৭৭জন নারী। যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন ২২৪ জনের মধ্যে ১২৫ জন কন্যা। বাল্যবিবাহের শিকার ২০ জন এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৬ জন নারী ও ২ কন্যা। গৃহকর্মী নির্যাতনের মধ্যে ১৬জন কন্যা ও ৮জন নারী এবং সাইবার অপরাধের শিকার ২৬জন কন্যা ও ৩জন নারী। ধর্ষণের অভিযুক্ত বেশির ভাগ ব্যক্তির বয়স ২১ থেকে ২৫ বছর, যেখানে ২৮ শতাংশ অভিযুক্তের বয়স ১১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এইভাবে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সের অভিযুক্তের সংখ্যা বেশি। সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে সূত্র জানায়, ২৪টি ঘটনার মধ্যে ১৪টি অভিযুক্তের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। শিক্ষক এবং বখাটেদের মধ্যে ২৪ শতাংশ নারী ও মেয়েশিশু উত্ত্যক্তের শিকার। দলের সঙ্গে অপরাধীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অজানা পরিচিত, যা ধর্ষণের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ। স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে বেশি প্রকাশ পায়। অপরাধের পর মামলা করার প্রবণতা বেড়েছে, বিশেষ করে ধর্ষণের পর ৬২ শতাংশ ঘটনাতেই মামলা হয়। সামাজিক উদ্যোগও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে। তবে, মহিলাদের ও শিশুদের নির্যাতনের সব ঘটনাই গণমাধ্যমে আসে না, বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা বা কিছু নির্যাতনের খবর কম প্রকাশিত হয়। আইনগত পদক্ষেপ, মামলা নিষ্পত্তি ও ঘটনার অনুসরণ-up সংক্রান্ত তথ্যও খুব কম সময়ই পাওয়া যায়। মহিলা পরিষদের সভাপতির মতে, নারী ও মেয়েশিশু নির্যাতনের অবস্থা ভয়াবহ হচ্ছে, এবং অপরাধীরা বারবার একই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য রাজনৈতিক ও ক্ষমতাসীন দলগুলোর নানা সহযোগিতাও দায়ী বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে, দেশের নারীরা এখন আরও বেশি নিরাপত্তাহীন এবং এ পরিস্থিতি পুলিশ ও সমাজের সক্রিয় উদ্যোগ ছাড়া এই অবস্থা কঠিনেই রয়ে যাবে।

  • শাহজালালে ১৩০ কোটি টাকা কোকেন জব্দ, গায়ানার নারীর আটক

    শাহজালালে ১৩০ কোটি টাকা কোকেন জব্দ, গায়ানার নারীর আটক

    ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দা সদস্যরা ১৩০ কোটি টাকা মূল্যমানের বিপুল পরিমাণ কোকেনসহ গায়ানার এক নারীকে আটক করেছে। ওই নারীর নাম কারেন পিটুলা স্টাফলি।

    মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্তের (শাহজালাল বিমানবন্দর) উপ-পরিচালক সেলিনা আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই নারী গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আটক হন।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি কাতার দোহা থেকে একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়। כשה তিনি অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করেন, তখনই তার উপর নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে তল্লাশিতে প্লাস্টিকের তিনটি বাক্সে থাকা একে একে ২২টি ডিম্বাকৃতি ফয়েল পেপারে মোড়ানো পণ্য পাওয়া যায়।

    তল্লাশি ও ইনভেন্টরির সময় পুলিশ, এসআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শনিবারের এই অপারেশনে পাওয়া কোকেনের ওজন ৮ দশমিক ৬ কেজি, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১৩০ কোটি টাকা। ধৃত নারী ও অবৈধ তেল-শস্য উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুল্ক গোয়েন্দাদের মতে, এই বিষয়ে চোরাচালানের অভিযোগে ফৌজদারি ও কাস্টমস আইন অনুসারে বিভাগীয় মামলা দায়েরের কার্যক্রম শিগগিরই সম্পন্ন করা হবে।

  • ডাকসু নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা

    ডাকসু নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনেরιο নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রবেশপথগুলোতেও সেনা সদস্যরা অবস্থান করবে। এর পাশাপাশি, ভোট গণনার সময় কেন্দ্রগুলো ঘিরে রাখবে সেনা জওয়ানরা, যাতে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে এবং ভোটের ফলাফল প্রকাশের সময় সম্পূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।

    নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক সভার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনটির চূড়ান্ত প্রস্তুতিপর্বের আলাপে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও প্রধান রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ভোটের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি মূল গেটের সমস্ত প্রবেশপথে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন এবং ভোটের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো কড়া প্রহরায় থাকবে। মূল উদ্দেশ্য হলো, বাইরের কেউ যেন ভোট গণনার সময় কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে।

    অতিরিক্তভাবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ভোটের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে, ভোটের সাত দিন আগে থেকে হলগুলোতে বাইরের কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।

    এদিকে, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম আগামী মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) থেকে শুরু হবে। প্রার্থীরা পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণের মাধ্যমে ভোটের প্রচারে অংশ নেবেন। তবে, এ বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রচার কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে।