রাজশাহীর মোহনপুরে সেনাবাহিনীর টহল ভ্যানে ট্রাকের ধাক্কায় আট সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ভোর पाँचটায় মোহনপুর উপজেলা শহরের মডেল টাউন এলাকায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর একটি টহল দল রাতে এলাকায় টহল দিচ্ছিল। যখন তারা মডেল টাউন এলাকার কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন পেছন থেকে একটি ট্রাক দ্রুত এসে তাদের বহনকারী গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে উভয় গাড়ি সড়কের পাশে থাকা খালে পড়ে যায়, যার ফলে আট সেনাসদস্য আহত হন। তাদের দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে; এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওসি আতাউর রহমান বলেন, ‘মোহনপুর থানার মডেল টাউন এলাকায় সেনার গাড়ির ওপর ট্রাকের ধাক্কা লেগেছে, যার ফলে আট সেনা আহত হয়েছেন।’ তিনি জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদে কেউ এখনো মামলা করেনি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
Category: জাতীয়
-

বেশির ভাগ দল নারীর প্রতিনিধিত্ব ১০০ আসনে উন্নীতের প্রস্তাবে একমত
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য বর্তমান ৫০টি সংরক্ষিত আসন বজায় রাখতে হবে বলে মত থাকলেও, নারীর প্রতিনিধিত্ব ১০০ আসনে উন্নীত করার প্রস্তাবে বেশির ভাগ দল একমত হয়েছে। তবে সরাসরি নির্বাচনের পদ্ধতি সংক্রান্ত মতভেদ থেকে গেছে। সুজনের পক্ষ থেকে হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়, পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতির আধিপত্য বজায় রাখতে সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ না দিয়ে কেবলমাত্র কূটনৈতিক পথে এগোনো হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট), রাজধানীর সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কর্তৃক আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব বিষয় উঠে আসে। সুজনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিনের সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন জাতীয় কমিটির সদস্য মো. একরাম হোসেন।
আলোচনায় জানানো হয়, দেশের ৬৪ জেলায় ১৫টি নাগরিক সংলাপ ও বিস্তৃত জনমত জরিপের মাধ্যমে সনদের খসড়া প্রস্তুত করা হয়। এর পরে বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বেশ কিছু বৈঠক শেষে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের সংস্করণটি চূড়ান্ত করা হয়। এতে মোট ৯৫টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪টিতে সর্বসম্মত সমর্থন পাওয়া গেছে এবং ১১টিতে রয়েছে ‘নোট অব ডিসেন্ট’।
সংলাপে বলা হয়, সনদে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিচারকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ এবং উচ্চ আদালতের ফ্লোর বিভাগ পর্যায়ে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, বিচারপরিষদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহুল্য করতে নিরপেক্ষ ও স্বার্থান্বেষহীন নিয়মাবলী চালুর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর দায়িত্ব পালনের বিধান প্রস্তাব করা হয়। একইসঙ্গে, দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির থাকা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়। সংবিধানের ৭০ ধারা সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বে এক উচ্চকক্ষ গঠন এবং বর্তমান একক সদস্যভিত্তিক আসনের পাশাপাশি সাধারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো। জরুরি অবস্থার সময়, মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও এসেছেম সনদে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়েও বড় আকারের সংস্কারের প্রস্তাব থাকলেও, বাস্তবায়নে ঐকমত্য হয়নি। প্রস্তাব ছিল, সংসদ ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের ভোটাধিকার দিয়ে জরুরি অবস্থা নির্বাচন প্রণালি পরিবর্তন করা। পাশাপাশি, সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) বাতিলের প্রস্তাবকে অনেকের দ্বারা ‘যুগান্তকারী সুযোগ হারানো’ বলে অভিহিত করা হয়।
সংলাপে প্রস্তাবিত সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। সুজনের পক্ষ থেকে চারটি বিকল্প পথ সুপারিশ করা হয়: সংবিধান সংশোধন, গণভোট, রাষ্ট্রপতির প্রোক্লেমেশন এবং নতুন গণপরিষদ গঠন। এর উপর ভিত্তি করেই বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
সুজন জানিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হবে এবং ধারাবাহিক বিকল্প সংলাপ চালানো হবে, যেন দেশের সাধারণ মানুষ চায় এমন পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়। দীর্ঘ আলোচনা, জেলা পর্যায়ের সংলাপ ও জনমত জরিপের ভিত্তিতে সনদের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এতে বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যময় পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপুর্ণ বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত।
-

বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন হচ্ছে, জানালেন আইজি প্রিজন
বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তর জেলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে পরিচিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কারা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। থাকছে নতুন নাম: ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কারা সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
তিনি বলেন, কারাগার কেন্দ্রিক সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কারা বিভাগ সংশ্লিষ্ট আইনের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন করে ‘কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট-২০২৫’ এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে এবং সেটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও, অধিক সংখ্যক বন্দিকে স্থান দিতে নতুন করে দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার ও চারটি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া, বিভাগের ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তোলার জন্য ঢাকা বিভাগকে দুটি বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে কারা সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইজি প্রিজন।
-

প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য: দেশ স্থিতিশীল, ভোটে প্রস্তুত
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে নিজস্ব দৃঢ়তার কথা এ সময় আবারও ব্যক করলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরকার প্রত্যক্ষriteriaত প্রস্তুত এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের জন্য। সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পর্যটন শহরটি হোটেল বে ওয়াচে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। এক বছর আগে ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের ফ্যাসিস্টমুক্তি এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়েছি। এখন দেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রস্তুতি নেয়া সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হয়েছে, দেশের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং স্টেবল অবস্থা এসেছে। তাই, আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় গিয়ে দায়িত্ব নেবে, যাতে এই নির্বাচনের মাধ্যমে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ড. ইউনূস। বলেন, রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের ভয়াবহ পরিকল্পনা থেকে সশস্ত্র দখলদারদের থামানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ২০১৭ সালে মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গারা। তাদের ফেরানোর উপায় খুঁজতে চলছে কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যার উদ্যোগে অংশগ্রহণ করছেন দেশের সহায়ক সংস্থা, উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকরা এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধি। এই সম্মেলনের মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে পাওয়া। এরই মধ্যে প্রায় আট বছর অতিক্রম করছে, যখন অবরুদ্ধ ও গণহত্যার শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।
-

পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশিকে বৃত্তি দেবে পাকিস্তান
উচ্চশিক্ষার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করবে পাকিস্তান। এছাড়াও, দেশটি ১০০ জন সরকারি কর্মকর্তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য প্রকাশ করে। এতে জানানো হয়, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান করিডোর’ চালু করতে পেরে আনন্দিত। এই প্রকল্পের আওতায়, পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে, যার এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ১২৫টি বৃত্তি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও দেওয়া হবে। একই সময়ে, ১০০ জন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও, পাকিস্তান কারিগরি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা ৫ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-

ইসির শুনানিতে বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখার দাবি
নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ নিয়ে বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার স্পষ্ট দাবি তুলেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং এটি জনগণের প্রত্যাশার সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কমিশন বাগেরহাটের মানুষের ইচ্ছে অনুযায়ী সেখানে চারটি আসনই আগের মতোই বহাল রাখতে সক্ষম হবে।
আজ সোমবার, ২৫ আগস্ট, দুপুরে বাগেরহাট-৪ আসনের অবসান ও বেআইনিভাবে আসন কমানোর বিষয়ে শুনানির পরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। আইনজীবী জাকির হোসেন অভিযোগ করেন যে, কমিশন বাগেরহাটে কোনো কারণ বা আবেদন না থাকতেই এতে আসন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মতে, এই জেলায় কোনো আবেদন বা আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও, সার্বজনীন সিদ্ধান্তে আসন সংখ্যা হ্রাস করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তিনি বলেন, দীর্ঘ বিবেচনা এবং যুক্তি-তর্ক দিয়ে তিনি দাবি করেছেন যে, বাগেরহাটে চারটি আসনই যথাযথ ও ন্যায্য হিসেবে বহাল রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আজকের দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা-৩, ৪, যশোর-৩, ৬, বাগেরহাট-১, ২ ও ৩; এরপর আড়াইটার দিকে ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ঝালকাঠি-১, বরগুনা-১ ও ২, পিরোজপুর-১, ২ ও ৩, চট্টগ্রাম-৩, ৫, ৮, ১৯, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান আসনের শুনানি চলবে।
পরবর্তী দিন, ২৭ আগস্ট, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলের দাবি ও আপত্তি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পঞ্চগড়-১ ও ২, রংপুর-১, কুড়িগ্রাম-৪, সিরাজগঞ্জ-২, ৫ ও ৬, পাবনা-১; বিকেল ২টে থেকে ৫টার মধ্যে টাঙ্গাইল-৬, জামালপুর-২, কিশোরগঞ্জ-১, সিলেট-১, ফরিদপুর-১ ও ৪, মাদারীপুর-২ ও ৩, শরীয়তপুর-২ ও ৩ এর শুনানি চলবে।
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৮৩টি আসনের সীমানা নিয়ে ১ হাজার ৭৬০টি দাবি ও আপত্তি জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনে। এসব দাবি-অপত্তি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ জুলাই, নির্বাচন কমিশন ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য সীমানার নতুন খসড়া ঘোষণা করে। এতে গাজীপুরে একটি আসন বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়েছে এবং বাগেরহাটের আসনগুলি থেকে প্রথমে চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে। মোট ৩৯টি আসনে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মাঝে আরও বিভিন্ন এলাকা ও আসনসংখ্যা উল্লেখ রয়েছে।
বাগেরহাটের পূর্বের চারটি আসন ছিল: এমোল্লারহাট-ফকিরহাট-চিতালমারি, বাগেরহাট সদর ও কচুয়া, রামপাল ও মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা। তবে খসড়ায় এখন বাগেরহাট-১ আসনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। নতুন প্রস্তাবনায়, বাগেরহাট-২ আসনে সদর, কচুয়া, রামপাল উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আর বাগেরহাট-৩ তে মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে নতুন দ্বৈততা প্রস্তাব করা হয়েছে।
-

জুলাই-আগস্টে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলো সরকার
বাংলাদেশ সরকার লুট হওয়া অস্ত্রের খোঁজ দিতে পারলে বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন লুট হওয়া অস্ত্রের তথ্য দিলে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ পুরস্কার পাচ্ছেন। তিনি জানান, পুরস্কারের পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের জন্য বিভিণ্ণ। পিস্তল ও শটগান হলে পাবেন ৫০ হাজার টাকা, চায়না রাইফেলে ১ লাখ টাকা, এসএমজি থাকলে পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এবং এলএমজি পেলে পুরস্কার হিসেবে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া, লুট হওয়া গুলির জন্য প্রতি গুলির জন্য ৫০০ টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে। যেকোনো তথ্যদাতা তার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বলেন, গত বছর গণআন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ, ফাঁড়ি ও কারাগারভুক্ত গোপন গোষ্ঠী অস্ত্রের লুট করে। এসব অস্ত্রের মধ্যে কিছু ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, এখনও প্রায় ৭০০ অস্ত্র উদ্ধার বাকি থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, সম্প্রতি গাজীপুরে পুলিশ কমিশনারের অঙ্গীকার ও রাস্তা বন্ধ করে চলাচলের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারের এই আচরণ অপ্রয়োজনীয় ও জনভোগের কারণ হয়েছে। এজন্য তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
এছাড়াও, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের এক কর্মকর্তাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোল ও বিএসএফের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
শেষে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। বর্তমানে মব সন্ত্রাস কিছুটা কমলেও তা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে। সরকারের লক্ষ্য—নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা—তার জন্য সবার সহযোগিতা দরকার।
-

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে একমত
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য একমত হয়েছে। উভয়পক্ষ আলোচনা ও পরস্পরের অবস্থান তুলে ধরার মাধ্যমে সমস্যাগুলো পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান যে গণহত্যা ও অন্য অপকর্ম করেছে, তার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা। এছাড়া, পাকিস্তান থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে যাবেন—এ বিষয়েও বাংলাদেশ আশাবাদী। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, দুই দেশ অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে চায় এবং সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এগুলো পেছনে ফেলতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, এই ভালো সম্পর্ক স্থাপন ও বজায় রাখতে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সমাধান খুঁজে বের করতে উভয় পক্ষ একত্রে কাজ করবে।
রোববার, ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, একে অন্যের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে, দুপক্ষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো স্মুথলি ও সুসংহতভাবে এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, এই অগ্রগতি কার্যত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব করতে উৎসাহ দেয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় উঠে এসেছে, অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যেমন হিসাব-পত্র ও টাকার ব্যাপারে সমাধান করতে হবে। এছাড়া, গণহত্যার জন্য পাকিস্তান যেন দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। পাশাপাশি, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আটকেপড়া মানুষজনকে ফেরত নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে। তৌহিদ হোসেন আবার বলেন, ৫৪ বছর ধরে চলা এই সমস্যা একদিনে সমাধান হওয়ার আশা কেউ করে না, কেবল আলোচনা ও আন্তরিকতা দিয়ে এগুলো অতিক্রম করতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলছিলেন, এই বিষয়ের জন্য একটি অগ্রগামী পদক্ষেপ হয়েছে, যেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, একাত্তর ইস্যুতে ১৯৭৪ সালের ত্রিপक्षীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে মোশাররফের দুঃখ প্রকাশের বিষয় আলোচনায় এসেছে। তবে, তৌহিদ হোসেন এর উত্তর দেন, এই চুক্তি বা দুঃখ প্রকাশের বিষয় আমাদের সমস্যা সমাধানে কোনো অবদান রাখে না; আমরা নিজেদের অবস্থান বলে দিয়েছি।
পররাষ্ট্র বিনিময়ের সময়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান স্বাক্ষর করে একটি চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর মধ্যে থাকছে: ভিসা মুক্ত চুক্তি (সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য), বাণিজ্য বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির সহযোগিতা, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যেকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপেন ইনস্টিটিউটের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা।
বৈঠকের আগে, সকাল ১০টায়, দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। এরপর, আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়, যেখানে ইসহাক দার পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল নেতৃত্ব দেন এবং তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন। আলোচনা শেষে, দেশ দুটির প্রতিনিধিরা বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।
সন্ধ্যায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দার জন্য এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করে সরকার। এরপর তিনি বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ও সাক্ষাতের জন্য সরকারি বিভিন্ন দফতরে যান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডঃ শফিকুর রহমানের বাসায় সাক্ষাৎ করেন।
উল্লেখ্য, এই সফর শুরু হয় গত শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসহাক দার উপস্থিতিতে। এর আগে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায় এসেছেন। এই সফর বাংলাদেশের মামলার মধ্যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী বললেন, একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যু দুইবার সমাধান হয়েছে
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু দুটি পৃথক সময়ে সমাধান হয়েছিল। রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
সাংবাদিকেরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাসহ অমীমাংসিত কতিপয় ইস্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে, ইসহাক দার বললেন, ১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে পারভেজ মুশাররফের সফরের মাধ্যমে এই বিষয়ে কিছুটা দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি সমাধান হয়েছিল। তিনি আরও বললেন, আপনারা আপনার হৃদয় পরিষ্কার করুন। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তথ্য অনুযায়ী, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এক চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
– দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা মওকুফের চুক্তি;
– দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন;
– দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা;
– দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা;
– বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদ (আইএসএসআই) এর মধ্যে সহযোগিতা।পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় পৌছেছেন। এটি এক যুগের মধ্যে পাকিস্তানের প্রথম কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর। সফরের প্রথম দিনই তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
অতীতে, ২৭ এপ্রিল ইসহাক দার ঢাকায় আসার কথা থাকলেও, ভারতের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে তার সফর স্থগিত হয়।
-

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তি ও চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের শেষে এসব চুক্তি ও স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার মধ্যে।
বৈঠকের আগে সকালে অনুষ্ঠিত হয় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যেখানে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের নেতৃত্বে ছিলেন ইসহাক দার। এই বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই মূল চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসা বিলোপ চুক্তি, যা সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে রয়েছে দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাগুলোর (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, পাশাপাশি বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইস্লামাবাদের মধ্যে সহযোগিতা।
দুই দেশের কর্মকর্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেছেন। সকাল ১০টায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই তারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ইসহাক দার তাঁর দলের নেতৃত্বে থাকলেও, ঢাকায় বেশ কিছু সরকারি ও ব্যক্তিগত সফর করেন। তিনি বাংলাদেশে মোটরশিল্প, বিনিয়োগ ও সম্পর্ক জোরদার সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের সফরকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক হয়, যেখানে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সন্ধ্যায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামাবাদের জন্যে বিশেষ একটি সৌজন্যভোজে অংশ নেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাকিস্তানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা শুধু সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়েই আলোচনায় থাকেননি, বরং তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় গোপন সাক্ষাতের পরিকল্পনাও করেছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এদিকে, ইসহাক দার গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে ঢাকায় আসেন প্রথমবারের মতো। এর আগে, জুলাইয়ে ঢাকায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী এবং গত বুধবার পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ঢাকা সফরে আসেন। এ সময় তারা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সংক্ষেপে, এই সফর ও স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি দুজন দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
