Category: জাতীয়

  • রংপুরে গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির অভিযোগ

    রংপুরে গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির অভিযোগ

    রংপুরে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের মরদেহ নিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিস্ফোরক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান মরদেহের গুলির চিহ্ন বা মৃত্যুর কারণ সুরতহালে যথাযথভাবে উল্লেখ না করতে পুলিশের একটি অংশের চাপ দিয়েছিলেন। এই তথ্য আশ্চর্যজনক এবং উদ্বেগজনক, কারণ এতে স্পষ্ট হয় যে, গোয়েন্দা ও তদন্তের স্বচ্ছতা রক্ষায় বাধা দেওয়ার জন্য পুলিশের একটি অংশ এই ঘটনা ধামাচাপা রাখার চেষ্টা করছিল।

    আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে এই বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন এসআই তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৬ জুলাই বিকেলে তিনি তাজহাট থানায় দায়িত্বে ছিলেন। হঠাৎ ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে জানতে পারেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি মরদেহ রয়েছে। প্রথমে আন্দোলনের ভিড় থাকায় তিনি তা দেখতে যাননি। পরে উর্ধতন কর্মকর্তা নির্দেশ দিলে আবার হাসপাতালে গিয়ে আবু সাঈদের মরদেহ দেখতে পান, যেখানে তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল এবং মাথার পেছনের অংশ থেঁতলানো ছিল।

    এসআই তরিকুল ইসলাম আদালতকে জানান, তিনি যখন মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করছিলেন, তখন সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান তাকে স্পষ্টভাবে বলেন যে, রিপোর্টে লেখা যাবে না যে ওই ব্যক্তিকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। যখন তিনি অভিযোগ করেন যে তিনি সত্য লিখতে চান, তখন তাকে না করার জন্য রেগে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক হুমকি দেন। তিনি তাকে চাকরি খোয়ানোর কথাও বলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, 당시 পুলিশের একটি অংশ বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিল।

    উল্লেখ্য, এই মামলার পক্ষে বিভিন্ন সময়ের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা এক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমগ্র পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মামলার তদন্ত ৬২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে এখনও ২৪ জন পলাতক। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চারজন আইনজীবী নির্দেশিত হয়েছেন। মামলার আর্জি ও অভিযোগ নিয়ে আদালতে শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান।

  • সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামসহ আ.লীগের ৭ নেতাকে গ্রেফতার

    সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামসহ আ.লীগের ৭ নেতাকে গ্রেফতার

    ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য বলে জানা গেছে। গোপন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগে রয়েছে, এই দলের সঙ্গে তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।

    ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব।

    অপরদিকে, এর আগে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকেও একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সম্মান রক্ষা করবই

    মবের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সম্মান রক্ষা করবই

    সেনার সদর দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, কোনো আন্দোলন বা কোনো চক্রের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখার বা ক্ষুণ্ণ করার সুযোগ নেই। সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য ব্যক্ত করেন সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক কর্নেল স্টাফ কর্নেল মোঃ শফিকুল ইসলাম।

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বাসায় দুর্বৃত্তের সৃষ্টি করা মব বা হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে এবং এই গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সম্মান অটুট থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যারা এ ধরণের অবাঞ্চিত কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, তারা কখনোই আমাদের সম্মান পায় না, বরং তাদের কঠোর দৃষ্টিতে দেখা হয়।

    উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে যখন এক মব সৃষ্টি হয়েছিল, তখন সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। সেনা কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেন, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যাবে ইনশাআল্লাহ।

    তিনি আরও জানান, মবের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখবে। যেখানে যেখানে মব সৃষ্টি হয়, সেখানে দ্রুত সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কখনও কখনও কিছু বিলম্ব হয়, যা মূলত তথ্য সংগ্রহের জন্য। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে মোতায়েন করে, এরপর সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে দেরি হলে পরিস্থিতি জটিলতা দেখা দিতে পারে, তবে সেনাবাহিনী কখনোই লুকোচুরি করে না, বরং সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

    বিশ্লেষণে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে নৃশংসভাবে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, যারা মব সৃষ্টি করে আইন হাতে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তবে, আইনশঙ্খলা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনী একা দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে, কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, একই ঘটনা যখন ঘটে, তখনই সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেখানে যায়। কখনও কখনও বিলম্ব হয়, কারণ পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য জানাতে একটু দেরি হয়। ফলে, কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সবসময় চেষ্টা করি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

    অবশেষে, রাজবাড়ীতে নুরুল হক বা ‘নুরাল পাগলারের’ মরদেহ পোড়ানোর ঘটনাসহ অন্য কয়েকটি ঘটনার ব্যাপারে তিনি জানান, পুলিশ যখন ঘটনাস্থল জানতে পারে, তখনই সেনাবাহিনী সেখানে মোতায়েন করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১১টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া, দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী একযোগে কাজ করছে।

  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার

    কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ছাত্রী সুমাইয়া আফরিন (২৪) ও তার মায়ের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

    সুমাইয়া কুবির লোক প্রশাসন বিভাগে ১৬তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী। তারা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম।

    বাসার মালিক আনিসুল ইসলাম রানা জানিয়েছেন, চার বছর আগে কুমিল্লার আদালতের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম এই বাসা ভাড়া নেন। তাঁর মৃত্যুর পর, তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (৫০) ও সন্তানরা এ বাসায় থাকতেন। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে তাদের খুব একটা দুরত্ব ছিল না।

    গতরাতের ঘটনা বিশ্লেষণে জানা যায়, নিহতদের দুই ছেলেও ঢাকা থেকে বাসায় ফিরে এসে দরজা খোলা দেখতে পান। শুরুতে তারা মনে করেন, তাদের মা ও বোন ঘুমাচ্ছেন। তবে অনেক সময় পেরোতে পেরেও যখন দরজার বাইরে কোনো সাড়া শব্দ শোনা যায়নি, তখন তারা বাসায় প্রবেশ করে দেখেন, মা ও বোন নড়াচড়া করছেন না। এরপর তারা ৯৯৯-এ জরুরি কল করেন, ও রাত গভীরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রোববার সকাল ৮টা ৮ মিনিটে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি মাথায় টুপি ও পাঞ্জাবি পাজামা পরা অবস্থায় বাসায় প্রবেশ করেন। বেলা ১১টা ২২ মিনিটে তিনি বাইরে বের হন, এরপর আবার ১১টা ৩৪ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন। তবে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের আগে আর কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

    কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ দুটির মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা, এ ঘটনাকে হত্যা ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

  • সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ৩৩ হাজার দুর্গাপূজা মণ্ডপ

    সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ৩৩ হাজার দুর্গাপূজা মণ্ডপ

    সকলের জন্য সুখবর, এবার দেশের মোট প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, এবারের দুর্গাপূজায় মদ ও গাজা পরিবেশনা বা আসর বসানো বন্ধ থাকবে। পূজা উপলক্ষে ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে থাকবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সঙ্গে থাকবে পর্যাপ্ত আনসার সদস্য। পাশাপাশি, আশেপাশে যে কোনও মেলা বা জমায়েতের মাধ্যমে মদ ও গাজার আসর বসানো হবে না। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) শারদীয় দুর্গাপূজা প্রস্তুতি সভার শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জন্য বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজিবিকে। সব এলাকাতেই আনসার বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ঢাকা নগরীতে একটি নির্দিষ্ট লাইনে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে প্রতিমা বিসর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৩৩ হাজার পূজা মণ্ডপে সুবিন্যস্ত ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে এই প্রত্যাশায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, পূর্বের বছরের মতো এবারেও কোনও ধরনের উদ্বেগ বা ভয় দেখা দেয়নি, বরং উৎসাহ আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এই উৎসবের আয়োজন সম্পন্ন হবে।

  • কক্সবাজার সমুদ্রে নিখোঁজ মুশফিকুর রহিমের ভাইঝির মরদেহ উদ্ধার

    কক্সবাজার সমুদ্রে নিখোঁজ মুশফিকুর রহিমের ভাইঝির মরদেহ উদ্ধার

    কক্সবাজার সমুদ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার একদিনের ভেতরে মারা গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা মুশফিকুর রহিমের ভাইঝি, মোহাম্মদ আহনাফ। গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে সৈকত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে গভীর সমুদ্রে খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেল। আহনাফ বগুড়া পৌরসভার কাটনারপাড়া ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের ভাইঝি।

    ঘটনাটি ঘটে রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে, যখন আহনাফসহ আরও দুই কলেজ শিক্ষার্থী লাবণী পয়েন্টের সৈকতে গোসলের জন্য নামে। ওই সময় ঢেউয়ের প্রভাবে তারা সাগরে ভেসে যান। ফায়ার সার্ভিস, লাইফগার্ড এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ effort-এ রাত পর্যন্ত তাদের সন্ধান চালানো হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে, শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় আহনাফের মামা, মোহাম্মদ মোজাহিদুর রহিম, জানান যে, পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহের লাশ ময়নাতদন্ত না করেই দাফনের আবেদন জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বগুড়ায় নিয়ে আসা হবে।

    কক্সবাজারের সি সেইফ লাইফগার্ডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, সৈকতের কিছু অংশে গুপ্তখাল রয়েছে যা বিপদজনক। লাবণী পয়েন্টের যে স্থানে সে নিখোঁজ হয়, সেখানে আগেই সতর্কতাসঙ্কেতের লাল পতাকা উড়ানো ছিল। তারা পর্যটকদের অনুরোধ করেন, সমুদ্রে নামার আগে সতর্ক থাকুন ও লাইফগার্ডের নির্দেশনা মানুন।

    প্রসঙ্গত, এর আগে এই বছরের জুলাইয়ে হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতেও একইভাবে গোসলে গিয়ে তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছিলেন। যাদের মধ্যে দুজনের লাশ পাওয়া গেলেও অরিত্র হাসানের মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। অনুরুপ গত এক বছরে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে ১২ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই সব ঘটনা থেকে জানা যায়, সমুদ্রে সুরক্ষার জন্য সচেতনতায় নেমে আসা পর্যটকদের আরো সতর্ক থাকা উচিত এবং প্রত্যেকের জন্যই লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলা আবশ্যক।

  • সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান গ্রেফতার

    সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান গ্রেফতার

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রাজধানীর ইস্কাটনের বোরাক টাওয়ার থেকে সাবেক সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খানকে গ্রেফতার করেছে। আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয়। এই খবর নিশ্চিত করেছেন ডিবি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম। তিনি জানান, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা এক মামলার ভিত্তিতে এ গ্রেফতারি ঘটে। আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খানকে আজই আদালতে হাজির করে এক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, মামলার ভিত্তিতে মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খানের পাশাপাশি ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারী পাঁচজনও রয়েছেন। এর আগে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

  • জাকসু নির্বাচন স্থগিতের জন্য হাইকোর্টে রিট

    জাকসু নির্বাচন স্থগিতের জন্য হাইকোর্টে রিট

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের জন্য ব্যাপক শুভেচ্ছা ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি চললেও, এক বার আবার নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ৩৩ বছর পরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়, যা নির্বাচনের পরিপূর্ণতা এবং শান্তিপূর্ণ আয়োজনের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এক শিক্ষার্থী সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন, যার ফলে নির্বাচন স্থগিতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আদালত এখনও শুনানির দিন নির্ধারণ করেনি, আর এর কারণের বিস্তারিতও জানানো হয়নি। এই খবর প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রজগতে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ও সংগঠন আশঙ্কা করছেন, এই রিটের ফলে সাধারণত দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল সেই নির্বাচন আবার পিছিয়ে যেতে পারে। ২০২১ সালে ৯১ বছরের সূচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় পৃথকভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছিল। যদিও, চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু, পোস্টারিং চলমান ও ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বামপন্থী জোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বৈষম্য ও সামাজিক অন্যায় বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেক শিক্ষার্থীরাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যোগ দিয়েছেন। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার এ কে এম রাশিদুল আলম জানিয়েছেন, অপ্রিয় পরিস্থিতি এড়াতে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। ১৯৯২ সালে সর্বশেষ জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা প্রায় তিন দশক আগে। তার পর থেকেই, ১৯৯৩ সালের এক ছাত্র বহিষ্কারের ঘটনায় আন্দোলন দমন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জাকসু ও হল সংসদকে বাতিল করে দেয়। এরপর থেকে আর কোন নির্বাচন হয়নি। তবে এই দীর্ঘ বিরতিতে, ৯ বার এই নির্বাচনের আয়োজন হয়েছিল। অন্যদিকে, হাইকোর্টে রিট দায়েরের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, অনেকের ধারণা যদি রিটের মাধ্যমে কোনও আইনি ত্রুটি পাওয়া যায়, তা সংশোধনের সুযোগও তৈরি হতে পারে। আবার অনেকে এটিকে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল হিসেবেও দেখছেন যা শুধু নির্বাচন পিছানোর জন্য। এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনের সময়ও হাইকোর্টে রিট হয়েছিল। প্রথমে নির্বাচন স্থগিত হলেও, আদালত পরে সেই আদেশ স্থগিত করে দেয়, ফলে নির্ধারিত ৯ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেক্ষেত্রে, এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলেন বামজোটের প্রার্থী ফাহমিদা আলম। এই সম্পূর্ণ পরিস্থিতি অনেকের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলাফল এখন গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রজগৎই গ্রহণ করবে।

  • শিগগির ১৫০ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হবে

    শিগগির ১৫০ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু হবে

    সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে দেশের ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মিড ডে মিল (দুপুরের খাবার) চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বাঁশরার এই পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এটি নিশ্চিত করেন।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘মিড ডে মিলের কাজ এগোচ্ছে। খুব শিগগির ১৫০টি উপজেলায় এই পরিষেবা শুরু হবে।’ আগে জানানো হয়েছিল, এই বছরের জানুয়ারির মধ্যে দেশের ১৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে এটি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমরা ডিপিপি তৈরি করেছিলাম, যা পুরোনো বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী ছিল। পরে আমরা এটি উপস্থাপন করি একনেকে, তখন নতুন বিবিএসের পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। এর ফলে দরিদ্র জেলাগুলোর তালিকায় কিছু পরিবর্তন আসে। সেই নতুন তথ্য অনুযায়ী আবার সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এজন্য কিছু বিলম্ব হয়েছে।’

    উপদেষ্টা আরও জানান, ‘প্রক্রিয়াগুলো—যেমন প্রকিউরমেন্ট, ট্রেনিং—সব কিছুই চলছে। আমরা আশাবাদী যে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজগুলো সম্পন্ন হবে।’

    তিনি বলেন, কবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে, তা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা আশা করি, সেপ্টেম্বরের শেষ বা অগাস্টের শেষের দিকে দেশের ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা সম্ভব হবে।’

    খাবার হিসেবে এতে ডিম, মৌসুমি ফল, বিস্কুট ও দুধসহ মোট পাঁচ ধরনের খাদ্য থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

  • গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের মাজারে হামলা, গ্রেফতার ৫ জন

    গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের মাজারে হামলা, গ্রেফতার ৫ জন

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের মাজারে হামলার ঘটনার মোটিভ ও পরিস্থিতিতে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার সকালে পুলিশ এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম এখনও প্রকাশ হয়নি।

    গত ৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাতে জুমার নামাজের পর ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা নুরাল পাগলের দরবারে হামলা চালায়। এই হামলার সময় পুলিশ ও স্থানীয়রা দমন-পীড়নের চেষ্টা করলে জনতার আতসবাজিত ঘরঘাটি বাধে। এতে গুলিতে একজন নিহত হন এবং অন্যের সঙ্গে আহত হন শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয় এবং হামলা প্রতিরোধে লাঠিচার্জ ও জলকামানা চালায়।

    অভিযানের সময়ে পুলিশও হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে, হামলাকারীরা নুরাল পাগলের মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেয় এবং কবরের উপরে নির্মিত স্থাপনাটিও ভেঙে ফেলে।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল একমাস আগে মারা যান। তার ভক্তরা তাকে কবর দেন এবং কবরের উপরে একটি উচ্চ গঠন নির্মাণ করেন, যা দেখলে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আপত্তি তুলেছেন। কিছুদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

    সে কারণে, শুক্রবার বর্ষীয়ান মুসল্লিরা জুমার নামাজের পর তৌহিদি জনতার ব্যানারে এক মতবিনিময় ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এই বিক্ষোভের শেষে তারা দরবারে হামলা চালিয়ে তার ভঙ্গুর কবর ভেঙে দেয়। পাশাপাশি, কবরের ভেতরে থাকা অর্ধ গলিত মরদেহও তুলে পুড়িয়ে দেন হামলাকারীরা।

    এখন গোয়ালন্দে এই ঘটনার প্রভাব ও উত্তেজনা বজায় রয়েছে, আর পুলিশ এর তদন্ত ও কারাদণ্ডের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।