Category: জাতীয়

  • রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন বিচারপতি আখতারুজ্জামানের পদত্যাগপত্র

    রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন বিচারপতি আখতারুজ্জামানের পদত্যাগপত্র

    বিচারপতি আখতারুজ্জামানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের এক নিউজ আপডেটে এ তথ্য জানানো হয়, যেখানে আরও বলা হয় যে, সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম এ সম্পর্কিত ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে, গত ৩১ আগস্ট তিনি তার পদত্যাগপত্র সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন।

    অভিযোগের জেরেঅত্মে, অনুসন্ধানের জন্য তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। এরপর, ১ জুলাই সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের নির্দেশে, বিচারপতি আখতারুজ্জামান সশরীরে হাজির হয়ে তার ব্যাখ্যা প্রদান করেন। সেই ব্যাখ্যা দেওয়ার পর তিনি তার পদত্যাগপত্র প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে জমা দেন। এরই মাধ্যমে, বাদজে সাক্ষ্যপ্রমানের প্রক্রিয়া শেষ করে, তার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ, রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আখতারুজ্জামানের বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশনা দেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গত বছরের ১৬ অক্টোবর দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের দোসর হিসেবে বিবেচনা করে ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠান। এর মধ্যে বিচারপতি আখতারুজ্জামান অন্যতম। এ ছাড়াও, বিচারপতি নাইমা হায়দার, শেখ হাসান আরিফ, আশীষ রঞ্জন দাস, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, এস এম মনিরুজ্জামান, আতাউর রহমান খান, শাহেদ নূর উদ্দিন, মো: আকতারুজ্জামান, মো. আমিনুল ইসলাম, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, খিজির হায়াত, ও খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে ছুটিতে রাখা হয়।

    তদন্তের মাধ্যমে, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের নেতৃত্বে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই শুরু হয়। এ তদন্তের অংশ হিসেবে, বিচারপতি আখতারুজ্জামানকে তার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে ডাকা হয়।

    গত ২১ আগস্ট, সুপ্রিম কোর্টের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকোর্ট বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, যার মধ্যে একজন হলেন বিচারপতি আখতারুজ্জামান। পরে, ২৬ আগস্ট তার উপর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে, শুনানির আগেই, ৩১ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠান।

    সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর, হাইকোর্ট বিভাগের আরও তিন বিচারপতি পদত্যাগ করেন: সালমা মাসুদ চৌধুরী, কাজী রেজা-উল হক, এবং এ কে এম জহিরুল হক। এরা সকলেরই পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেন গত বছরের ১৯ নভেম্বর। পরে, গত ৩০ জানুয়ারি, বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনেরও পদত্যাগ কার্যকর হয়।

    প্রসঙ্গত, বিচারপতি মোঃ আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া, তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

  • চার বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকছে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে

    চার বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকছে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে

    বিচারক কর্তৃপক্ষে অনিয়ম ও সংশ্লিষ্ট ফ্যাসিস্টের দোসর অভিযোগי তদন্তের জন্য বেশ কিছু বিচারপতি এখনো প্রয়োজনীয় নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে চার জন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও সম্পন্ন হয়নি এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের নেতৃস্থানীয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের একজন গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, মোট ১২ জন বিচারপতির বিরুদ্ধে বিচারের জন্য তদন্ত চলছে, যাদের মধ্যে সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পদত্যাগ পত্র জমা দেন বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান। তিনি ৭ সেপ্টেম্বর আবাৎকা এই পদত্যাগ স্বীকৃতি পেতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছেন।

    অভিযোগের আশপাশে থাকা বিভিন্ন ঘটনায় বিভিন্ন সময় আন্দোলন-প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের পর, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞানীরা ও আইনজীবীরা বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট চত্বরের দিকে আন্দোলন চালিয়ে যান। তারা সেই সময় বিচারপতিদের অনিয়মের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং বিচারপতিদের অপসারণের দাবিতে ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে কর্মসূচির আহ্বান জানান।

    বিচারপতিদের এই আন্দোলনের মধ্যে, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎও অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনার পর, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, যিনি বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আছেন, বলেন, বিচারপতিদের পদত্যাগ বা অপসারণের বিষয় জাতির রাষ্ট্রপতির আওতায়। তিনি জানান, ১৬ অক্টোবর, হাইকোর্টের কার্যক্রম শুরু হওয়ার দিন, কিছু বিচারপতি সেই কাজে অংশগ্রহণ করবেন না।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবরের পর, বিচারপতিদের অপসারণের বিষয়টি পুনরায় জড়িত হয়। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পুনরুজ্জীবন এবং কর্তৃত্বের মাধ্যমে, তদন্ত শুরু হয় ও অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসাবে, ১৬ অক্টোবর থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু বিচারপতির ক্ষতিপূরণ বা পদত্যাগের নির্দেশনা আসে।

    নতুন নিয়োগ সম্পর্কে, ২০২২ সালে বিভিন্ন বিচারপতিকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন এখন অবসর নিয়েছেন। পাশাপাশি, কিছু বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্তের ফলশ্রুতিতে তাঁদের অপসারণের নির্দেশ আসছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে, বিচারপতি খিজির হায়াত ও খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে অপসারণের কাজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া, সর্বশেষ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানও পদত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এখন বাকি চার বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • সন্ধ্যা ৭টায় জাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবার সম্ভাবনা

    সন্ধ্যা ৭টায় জাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবার সম্ভাবনা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় এই ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান। তিনি এই তথ্য জানান শার্শিকভাবে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে।

    এর আগে, প্রক্টর ও জাকসু নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, আজ দুপুর আড়াইটার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এ ধরনের নির্বাচনের আয়োজন হচ্ছে, তাই আমাদের অভিজ্ঞতা কিছুটা কম। তবে সবাই সমন্বয় করে কাজ করছে এবং দ্রুত ফলাফল ঘোষণা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অপরদিকে, জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী বলেন, দুপুরের মধ্যে ফলাফল জানা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

    অতীতে, গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, আজই (শুক্রবার) রাতের মধ্যেই ফলাফলের ঘোষণা করতে চাচ্ছেন তারা। এর লক্ষ্য হচ্ছে, দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করে ছাত্রদের মাঝে ফলাফল তুলে ধরা। সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে সার্বিক প্রস্তুতি চলছে।

  • দুদকের তলবে সাবেক ৭ সচিবসহ ১২ জনের নাম উত্থাপন

    দুদকের তলবে সাবেক ৭ সচিবসহ ১২ জনের নাম উত্থাপন

    ঢাকার ধানমন্ডিতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেলেঙ্কারির ঘটনায় নাম এসেছে বেশ কিছু বিশিষ্ট سابق কর্মকর্তাদের। তাদের মধ্যে আরও রয়েছে সাতজন সাবেক সচিব, দুদকের দুজন সাবেক কমিশনার, দুইজন সাবেক বিচারক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের একজন সাবেক মহাপরিচালক। অভিযোগ উঠেছে, এই জনপ্রতিনিধিরা নিয়মের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে দামি ফ্ল্যাট হাতিয়ে নিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অভিযোগের বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার সংগঠনটি ১২ জনের নামের তালিকা করে তাদের आगामी ১৭, ১৮ ও ২১ সেপ্টেম্বর হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, “অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান দলের এক পর্যায়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ। এই সময় তাদের উপস্থিত থাকতে হবে এবং নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।” ভবিষ্যত সাক্ষাৎকারে তলবপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক খান ও মোঃ জহুরুল হক, সাবেক সিনিয়র সচিব মোঃ ইউনুসুর রহমান, সাবেক সচিব এম এ কাদের সরকার, সাবেক সিনিয়র সচিব এম আসলাম আলম, মোঃ আনিছুর রহমান, এস এম গোলাম ফারুক, আকতারী মমতাজ, মোঃ সিরাজুল হক খান, মোঃ মঞ্জুরুল বাছিদ, সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক নেহাল আহমেদ। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গৃহায়ন অধিদপ্তরের ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় নিয়মবিরুদ্ধভাবে উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়। ধানমন্ডি এলাকার ১৩ নম্বর (নতুন ৬/এ) রাস্তার ৭১১ নম্বর (নতুন ৬৩) প্লটে ১৪ তলা ভবন নির্মিত, যেখানে ১৮টি ফ্ল্যাট ছিল। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ (১২টি) সরকারি কোটা ও ৪০ শতাংশ (৬টি) বেসরকারি কোটার অধীন বলে গণ্য হলেও, রাজ্যের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগে আরও ওঠে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রঙিন ভোটের রাতের পরিস্থিতির জন্য কিছু কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় এই বিলাসবহুল ফ্ল্যাট দেওয়া হয়। ৫ মে একটি টেলিভিশন চ্যানেল অবকাশে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুদক বিষয়টির অনুসন্ধানে নামে, এবং ১২ মে তদন্তের সত্যতা নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ধানমন্ডি-৬ নম্বর প্লটে থাকা জমির মূল্য অত্যন্ত বেশি। অভিযোগ করা হয়, শেখ হাসিনার নির্দেশে ওই জমি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করে সেখানে ডুপ্লেক্সসহ ১৪ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এই ভবনে দুজন সাবেক কমিশনারের জন্য থাকছে দু’টি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের পাশাপাশি নিচে দুটি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। অভিযোগের মতে, মোজাম্মেল হক খান ও জহুরুল হক নিজস্ব ডুপ্লেক্স পান। অন্য দশজন বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন মোঃ ইউনুসুর রহমান, কাদের সরকার, এম আসলাম আলম, আকতারী মমতাজ, মোঃ সিরাজুল হক খান, মোঃ মঞ্জুরুল বাছিদ, সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, এম গোলাম ফারুক ও আনিছুর রহমান।

  • জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জনে আরও চার প্যানেল, পুনরায় নির্বাচন চান ছাত্রছাত্রীরা

    জাকসু নির্বাচন: ভোট বর্জনে আরও চার প্যানেল, পুনরায় নির্বাচন চান ছাত্রছাত্রীরা

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রদলসহ মোট পাঁচটি প্যানেল ভোট বর্জন করেছে। তারা এই নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রত্যেকটি প্যানেল হলো— ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আংশিক প্যানেল। এর সঙ্গে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও তাদের সঙ্গে একমত হয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার বিকেল চারটার দিকে, ভোট চলাকালে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ভোট বর্জন করে। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল ভোটের ফলাফল বর্জন করে। একই সময়ে, স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ ও সজীব আহমেদ জেনিচের ফ্রন্টের আংশিক প্যানেলও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে শংসপ্তক পর্ষদ নির্বাচনের ফলাফল বর্জন করে অন্য কয়েকটি প্যানেল। তবে, কিছু প্যানেল ভোট বর্জন করেনি, যেমন— বাগছাস সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম, শিবিরের সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মেলন। সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শরণ এহসান বলেন, “আমরা এই অনিয়মের নির্বাচনের বয়কট করেছি এবং দ্রুত সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় নতুন নির্বাচন নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণা ও পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।” অন্যদিকে, ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে চারটি প্যানেলের প্রার্থীরা পুনরায় নির্বাচনের জন্য দাবি জানান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার কিছু সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উপস্থাপন করা হয়। সেই সময়ে উপস্থিত ছিলেন সম্প্রীতির ঐক্য, সংশপ্তক পর্ষদ, অঙ্গীকার পরিষদ ও ছাত্র ফ্রন্টের কিছু প্রার্থী। সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী শরণ এহসান বলেন, “আমরা অনিয়মের এই নির্বাচনের নিন্দা জানাই এবং দ্রুত সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ফলাফলের জন্য নতুন করে নির্বাচন গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে গঠন করতে হবে এবং নতুন নির্বাচন ও তফসিল ঘোষণা করতে হবে।’

  • প্রবাসীরা আগামী নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া 가능: সিইসি

    প্রবাসীরা আগামী নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া 가능: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটার ও জাতীয় পরিচয়পত্রধারী (এনআইডি) বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তিনি আরও জানান, এ জন্য ‘পোস্টাল ব্যালট বিডি’ নামে একটি অ্যাপ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে যা এই ব্যবস্থাকে আরও সহজতর করবে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল টরন্তো আয়োজিত এক আলোচনা সভায়, যেখানে ‘স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের কার্যক্রমের উদ্বোধন ও প্রবাসীদের ভোট প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ’ বিষয়টি ছিল মূল আলোচ্য, তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রকাশিত এক তথ্যবিবরণীতে এ কথা জানানো হয়েছে।

    সিইসি বাংলাদেশের নির্বাচনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা ও আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে।

    প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কানাডা সফরে এসে তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তারা একইসঙ্গে এ ধরনের সভা আয়োজনের জন্য কনস্যুলেটের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    কনসুল জেনারেল মো. ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন, যারা বিভিন্ন পেশার সদস্য— ব্যবসায়ী, ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা— এই আলোচনা ও প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন।

    এ সময় প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন। এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ভোটের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • শেষ মুহূর্তে ছাত্রদলের বর্জনে কেন্দ্রে প্রার্থী প্রবেশের বিধি বাতিলের সিদ্ধান্ত অব্যাহত

    শেষ মুহূর্তে ছাত্রদলের বর্জনে কেন্দ্রে প্রার্থী প্রবেশের বিধি বাতিলের সিদ্ধান্ত অব্যাহত

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত খসড়া আচরণবিধি নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে ডাকা হয়। এই সভা দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়। তবে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে ও মতামত জানাতে বেশি সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগে শেষ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভা প্রত্যাখ্যান করে চলে যান।

    সভা অনুষ্ঠিত হয় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে। উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ কামাল উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা ও অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সভায় প্রথমে আলোচনা করেন নির্বাচন কমিশনার আমির মুহাম্মদ নসরুল­াহ, সেখানে উত্তপ্ত আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তরপর্ব হয়। বেলা প্রায় ২টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পুরো সভা ছেড়ে চলে যান, তাঁদের অভিযোগ ছিল যে, শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয় নি।

    সভায় উপস্থিত ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, আচরণবিধি নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থী নানা প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশন তেমন সুযোগ করে দেননি। এ কারণেই তাঁরা আলোচনা থেকে বাদ পড়ে চলে গেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কেউ চাইলে লিখিতভাবে অভিযোগ বা মতামত জানাতে পারে, যা তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

    সভা পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আচরণবিধি, গঠনতন্ত্র, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, সুষ্ঠু নির্বাচন ও অন্যান্য বিষয়ে মতামত ও প্রশ্ন করেছেন। কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্ন করার সুযোগ পাননি।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক শিক্ষার্থী মিজानুর রহমান প্রশ্ন করেন, স্বাধীনতার বিরোধী শক্তির উত্তরসূরিরা কি চাকার মধ্যে চাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, কারণ এ বিষয়গুলো গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়টি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় থাকবে।

    বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) যুগ্ম-সদস্য সচিব আশরাফ চৌধুরী বলেন, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ সহ মোট পাঁচজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোন আলোচনা বা সিদ্ধান্ত না নিয়ে আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা তাঁরা স্বাভাবিক মনে করেন না। এ সময় সঞ্চালক অধ্যাপক আরিফুল হক বলেন, এটি পূর্বনির্ধারিত সভা, পেছানোর সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।

    অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর ছাত্র হাসান আহমেদ প্রশ্ন করেন, প্রক্টর মোহাম্মদ তানভীর হায়দার বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন কি না, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন যে, প্রক্টর এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, কি তাঁদের দাবি বাস্তবায়ন হলে, প্রক্টরের পদত্যাগ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে?

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন এই প্রশ্নের জবাব দেন, বলেন, নির্বাচন পরিচালনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাদের।

    সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাহিত্য সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, তিনি বলেন, ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ হলে প্রার্থী প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে। আগে হলে ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা নেওয়া হলেও, রক্ত পরীক্ষা সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য।

    সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পেজে চরিত্রহনন, কুৎসা প্রচার ও অপপ্রচার চলছে, যা নির্বাচনের পরিবেশ নাজুক করে তুলছে। তারা চাইছেন, নির্বাচনের সময় সাইবার সেল গঠন করে এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে। এছাড়াও, সম্প্রতি ভিন্ন গ্রাম জোবরা গ্রামের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলে মত আদানপ্রদান হয়।

    সভার সমাপ্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রশ্নগুলো লিপিবদ্ধ হয়েছে। এ অনুযায়ী চূড়ান্ত আচরণবিধি তৈরি ও প্রকাশ করা হবে।

    খসড়া আচরণবিধিতে মোট ১৭টি বিধি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময় কোনও প্রকার মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে পারবে না। প্রার্থীরা পাঁচজনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন না। একইভাবে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাদের পক্ষে মনোনয়নপত্র, প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য কোনও যানবাহন বা রথযান ব্যবহার নিষিদ্ধ।

    নির্বাচনী বিধির ১২ নম্বর বিধির খির ধারায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী ও অন্য কেউ অনুমোদন ছাড়া প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য ಜಿಲ್ಲায়ও এই বিধি চুরি দেখা যাচ্ছে। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, এই প্রবেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই আলোচনা করে নেয়া হবে।

  • বরিশালে আধিপত্যের কারণে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মারামারি, আহত ২৫

    বরিশালে আধিপত্যের কারণে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মারামারি, আহত ২৫

    বরিশালের মুলাদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছাত্র শিবিরের ২০ জন এবং ছাত্রদলের ৫ জন। এ ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুলাদী সরকারি কলেজে।

    আহত শিবির কর্মীরা জানান, ঘটনাস্থলে কলেজে অনুষ্ঠিত হতে পারা শিবিরের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভার মুহূর্তে হামলা চালায় ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী। এ সময় তারা বাংলার অভিমানে শ্লোগান দেয় এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    অপরদিকে, মুলাদী উপজেলা ছাত্রদল নেতাদের দাবি, কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দিয়ে শিবিরের নেতারা স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের মারধর করেছে। এ ঘটনার ফলে কলেজে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল কলেজে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে কিছু ছাত্রদল নেতা মঞ্চে থাকায় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এরপর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, আহতের ঘটনা পুলিশ আসার আগেই ঘটেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

  • শক্তিশালী মৌসুমি বৃষ্টিবলয় আসছে দেশের উপর দিয়ে

    শক্তিশালী মৌসুমি বৃষ্টিবলয় আসছে দেশের উপর দিয়ে

    দেশের উপরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে একটি শক্তিশালী মৌসুমি বৃষ্টিবলয়, যা ‘ঈশান ২’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, এই বৃষ্টিবলয় ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় থাকবে। এই মৌসুমি ঝরঝরি আকাশের নিচে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বর্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের এলাকাগুলো। তবে এর প্রভাব দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াবে এবং তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে দেবে, যা দুর্যোগের পাশাপাশি কিছু স্বস্তিও বয়ে আনতে পারে।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুকের মাধ্যমে বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের মাঝে দেশজুড়ে এই শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রংপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের অনেক স্থানে এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি, দমকা হাওয়া, বর্ষণ বা বজ্রসহ ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বিস্তৃতি রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। এর একটি শাখা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত। ফলে মহাবিপদের পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে স্বস্তিরও আসা শুরু হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৃষ্টিবলয় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে জনজীবন কিছুটা ব্যাহত করতে পারে। উত্তরাঞ্চলে নদীভাঙন, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দাদের সাবধান থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    উল্টো, অনেক অঞ্চলে দীর্ঘদিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার অবসান হতে পারে, যা জনজীবনে স্বস্তি এনে দেবে। মনে করা হচ্ছে, ‘ঈশান ২’ এর প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেলে অনেকেই আরাম পাবেন।

    বৃষ্টিবলয় কতটা শক্তিশালী হবে এবং এর ফলে কত পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা মূলত এর সক্রিয়তা ও প্রভাবের উপর নির্ভর করবে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ধারা দেখে মনে হচ্ছে, এই ধরণের বৃষ্টিবলয় এখন আরও প্রায়ই এবং বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তাই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে আগাম সতর্কতা এবং প্রস্তুতি নেয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও বিডব্লিউওটি সাধারণ মানুষের প্রত্যেককে নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

  • অধ্যাপক আলী রিয়াজের ঘোষণা: কমিশন চাপিয়ে দেবেনা, যুক্তির ভিত্তিতে যাবে সমঝোতা

    অধ্যাপক আলী রিয়াজের ঘোষণা: কমিশন চাপিয়ে দেবেনা, যুক্তির ভিত্তিতে যাবে সমঝোতা

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কোনোভাবেই কঠোরতা বা জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ। তিনি elaborately জানান, এই সনদের বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরাসরি কমিশনের হাতে নয়। আসলে, কমিশন শুধু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারকে সুপারিশ পাঠানোর দায়িত্ব পালন করে।

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের সূচনায় নিজের বক্তব্যে আলী রিয়াজ এই কথা বলেন। নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রায় ২৯টি রাজনৈতিক দল এই বৈঠকে অংশ নেয়।

    অভিযোগের অবসান করে তিনি বলেন, আগে Conversations চলাকালীন বেশ কিছু বিষয়ে পক্ষপাতিত্বে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি, যার জন্য একটি খসড়া প্রস্তুত ছিল। এই খসড়াটিতে আপনারা মতামত দিয়েছেন। এছাড়াও অঙ্গীকারনামার বিষয়েও বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে, এবং বিশ্বাস করা হচ্ছে আগামীকাল বিকেলে চূড়ান্ত খসড়াটি আপনার হাতে পৌঁছে যাবে।

    আলী রিয়াজ আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। এই বিশেষজ্ঞ প্যানেলে দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, তিনজন আইনজীবী এবং একজন আইনের শিক্ষক ছিলেন। এই মতামত বিশ্লেষণ করে, এবং রাজনৈতিক দলের মতামত সংগ্রহ করে বোঝা গেছে যে, এই সনদের কিছু বিষয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বারা বাস্তবায়িত হতে পারে।

    অধ্যাপক আলী রিয়ाज জোর দিয়ে বলেন, কমিশন নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বরং, আমরা বিশেষজ্ঞ প্যানেল ও রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট সুপারিশ পাঠানোর আগ্রহী। এই manner of কাজের মাধ্যমে, আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, সিদ্ধান্তগুলো আলোচনা ও ভাবনা-চিন্তার মাঝেই গৃহীত হবে এবং সকলের সম্মতিকৃ্ত হবে।