Category: জাতীয়

  • ফুটবল দল নেপাল থেকে দেশে ফিরতে পারে বিকেল ৩টায়: আইএসপিআর

    ফুটবল দল নেপাল থেকে দেশে ফিরতে পারে বিকেল ৩টায়: আইএসপিআর

    বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল আজ বিকেল ৩টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমানের মাধ্যমে নেপাল থেকে ঢাকায় ফিরে আসার প্রত্যাশা রয়েছে, জানান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল আজ আনুমানিক বিকেল তিনটায় বাংলাদেশে ফেরার জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিশেষ বিমানে রাজি হয়েছে। এই বিমানে আরও জানানো হয়েছে, আজ সকাল ১১:৫৩ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করে নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

    এর আগে, গত সোমবার নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক, এক্স, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটিতে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশ গুলি চালালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কিছু সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে, যা সহিংসতা আরও বাড়ায়।

    এই সংঘর্ষের মাঝেই দেশের প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ শর্মা ওলি বুধবার পদত্যাগ করেন। দেশের প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল নতুন সরকার গঠনের নির্দেশ দেন। তবে ওলি এখনো কোথায় রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে রেহান রাজ দঙ্গল জানিয়েছেন, তারা সেনা কর্মকর্তাদের কাছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য সুশীলা কার্কিকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তাব দিয়েছেন।

    সুশীলা কার্কি, যিনি ২০১৬-২০১৭ সালে নেপালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এবং দেশের ইতিহাসে একমাত্র নারী এই পদে ছিলেন, তার দিকে আন্দোলনকারীরা চেয়ে আছেন। তবে কিছু আন্দোলনকারী তার প্রার্থিতার বিরোধিতা করছে।

    বুধবার কাঠমান্ডু শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সেনারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। গাড়ি ও লোকজন তল্লাশি করা হয় এবং সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ব্যর্থ হলেও সেনারা মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে অঙ্গীকার করে।

    বৃহস্পতিবার শহরের প্রধান কারাগারে বন্দিদের দমনেও সেনারা অংশ নেয়। তাঁরা যদি কোনো কয়েদিদের পালানোর চেষ্টা করে বা আগুন ধরিয়ে দেয়, সেনারা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পালানোর চেষ্টা করে বিপদে পড়া বন্দিদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

    প্রধানত ‘জেনারেশন জি’র বিক্ষোভ নামে পরিচিত এই আন্দোলন শুরু হয় যখন সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সরকার বলেছিল, এসব প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধন ও সরকারি তত্ত্বাবধানে আসে নি।

    যদিও মঙ্গলবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, তবুও বিক্ষোভ ঝুঁকির পরিমাণ কমেনি। পুলিশ গুলিতে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার কারণে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায় এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পেল। তারা বলছেন, সংসদীয় নেতাদের সন্তানরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও সাধারণ যুবকদের কর্মসংস্থান সংকট এখন মারাত্মকভাবে প্রকট।

    বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে নেপালে তরুণদের বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ২,০০০ এর বেশি যুবক জীবিকার সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাড়ি দিচ্ছে।

  • স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির হোতা মোতাজ্জরুল ইসলাম মিঠু গ্রেপ্তার

    স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির হোতা মোতাজ্জরুল ইসলাম মিঠু গ্রেপ্তার

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ব্যক্তি মোতাজ্জরুল ইসলাম মিঠুকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে। ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মিঠুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে গুলশান থেকে তাকে আটক করে দুদকে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজই তাকে আদালতের মাধ্যমে মামলার জন্য পাঠানো হবে।

    এদিকে, স্বাস্থ্য খাতের আরও এক আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে জানা গেছে, মিঠু তাঁর মালিকানাধীন লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষিজমি ক্রয়, জমি লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার, বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, ব্যাংক হিসাব, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মাধ্যমে আরও ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ তিনি নিজের নামে অর্জন করেন। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

    তাঁর পারিবারিক ব্যয় হিসাবেও মোট ৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। ফলে, মিঠুর মোট সম্পদ ও ব্যয়সহ হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তবে, অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে যে এই সম্পদের উৎস বৈধ নয়, কারণ তাঁর বিকল্প আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের উৎসের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তদন্তে দেখা গেছে, তার নামে থাকা এই সম্পদ ও ব্যয়ের বৈধ উৎসের পরিমাণ ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যেখানে অবৈধ সম্পদ বা অসঙ্গতিপূর্ণ আয় ৭৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার মতো। এজন্য দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মোটপক্ষে, ২০১৬ সালে প্রকাশিত পানামা পেপারসে মোতাজ্জরুল ইসলাম মিঠুর নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়নকাজের নামে প্রভাবশালী কৌশলে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

  • ঘুষের অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএ’র ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    ঘুষের অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএ’র ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের জ্বালানি তেলের ঠিকাদারি কাজের জন্য উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগে দুইজন কর্মকর্তাকে এ Week সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা।

    নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে, বিআইডব্লিউটিএর নৌসংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (মেরিন) মোঃ আব্দুর রহিম এবং উপ-পরিচালক মোঃ ওবায়দুল করিম খানকে এই সিদ্ধান্তের আওতায় বরখাস্ত করা হয়।

    এছাড়া, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে। সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতরা বিচারের মুখোমুখি হবে বলে ধারণা।

  • সরকার বাতিল করল ১৩ ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন

    সরকার বাতিল করল ১৩ ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন

    সরকার এখন অস্বাভাবিক এয়ার টিকির মূল্য বৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩টি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল করেছে। এসব এজেন্সি থেকে কোনও ধরনের এয়ার টিকিট ক্রয়-বিক্রয় বা অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক, যা এয়ার ট্রাভেলএজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ, এ কে এম মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত পৃথक আদেশে এই বাতিলকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। বাতিল হওয়া এসব ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে রয়েছে কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, সিটিকম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্সি, আরবিসি ইন্টারন্যাশনাল, মেঘা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার সার্ভিস, মাদার লাভ এয়ার সার্ভিস, জে এস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস, হাসেম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ফোর ট্রিপ, কিং এয়ার এভিয়েশন, বিপ্লব ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল, সাদিয়া ট্রাভেলস, আত-তাইয়ারা ট্রাভেলস এবং এন এম এস এস ইন্টারন্যাশনাল। সরকার জানিয়েছে, এয়ার টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, এই এজেন্সিগুলো বেআইনি ভাবে গ্রুপ বুকিংয়ের নামে রুটের এয়ার টিকিট ব্লক করে রাখছে, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, সাব-এজেন্টের মাধ্যমে উচ্চ দামে টিকিট বিক্রি করছে। তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে, অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে, কালোবাজারি এবং প্রতারণামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত তারা। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৯ ধারার আওতায় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় দু’টি এজেন্সি কাগজপত্র দাখিল করে, তবে অন্য ১১টি এজেন্সি কোনও তথ্য বা জবাব দেয়নি, যা নাগরিক অধিকার ও আইন লঙ্ঘনের শামিল। তদন্তে দেখা গেছে, তাদের কার্যকলাপ জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকারক ও নিয়ম-নীতির বিরোধী। ফলে, এই সকল কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনালসহ মোট ১৩ ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ পথে যাত্রীর স্বার্থ রক্ষায় নানা সতর্কবার্তা দেয়া সত্ত্বেও যেসব ট্রাভেল এজেন্সি, জিডিএস বা এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে বেআইনি কার্যক্রমে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার।

  • বিপুল ভোটে জয়ী জুলাই আন্দোলনের আলোচিত মুখ তন্বি

    বিপুল ভোটে জয়ী জুলাই আন্দোলনের আলোচিত মুখ তন্বি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগের জুন মাসে আহত হওয়া তন্বি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে তিনি ১১,৭৭৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    গত বছর ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ ক্যাম্পাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের ছাত্র ছাত্রী সানজিদা আহমেদ তন্বি। অসুস্থতার কারণে কিছু দিন চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি আন্দোলনে অটুট থাকেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ফলে ছাত্রদল এবং গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদসহ অন্যান্য প্রাথমিক প্যানেলগুলো তার জন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। নিজেকে সমর্থন দিয়ে মোট ছয়টি প্যানেল অংশ নেয়নি ওই পদে। এই ছয়টি প্যানেল হল- ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে উঠা গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদের নেতৃত্বাধীন ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’, ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেল এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন।

    এদিকে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) মোট ১৪,০৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত মো. আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫,০৬৫৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমার পেয়ে ৩,০৩৮৯ ভোট ও শামীম হোসেন পেয়েছেন ৩,০৬৮১ ভোট।

    জিএস পদে ছাত্রশিবিরের সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী এস এম ফরহাদ সর্বমোট ১০,৮৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫,২৮৩ ভোট। অপরাজেয় পর্ষদের মেঘমল্লার বসু পেয়েছেন ৪,৯৪৯ ভোট।

    এছাড়া এজিএস পদে ছাত্রশিবিরের সমর্থিত প্রার্থী মহিউদ্দীন খান পেয়েছেন ১১,৭৭২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫,০৬৪ ভোট।

    বিশ্লেষণে জানা যায়, এবারের ডাকসুতে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী ২৮টি পদের জন্য প্রতিযোগিতা করছেন। একই সঙ্গে ১৮টি হল সংসদে ১৩টি করে পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হল সংসদে মোট ২৩৪ পদের জন্য ১,০৩৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    অর্থাত্‍ এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৯,০৮৭ জন। এর মধ্যে ১৮,৯৫৯ জন ভোটার রয়েছে পাঁচটি ছাত্রী হলে এবং ২০,৯১৫ জন ভোটার ছাত্র হলে। এই নির্বাচনে মোট ভোটপ্রাপ্তি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন বিভিন্ন পদে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৬২ জন ব্যক্তি ছাত্রী প্রার্থী। বিভিন্ন হলে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮টি হলে, যেখানে মোট পদ সংখ্যা ২৩৪। এসব পদে ভোটে অংশ নিয়েছেন মোট এক হাজার তিনজন প্রার্থী।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু নির্বাচনে ২৮ পদে বিজয়ীদের ভোটের ফলাফল প্রকাশ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু নির্বাচনে ২৮ পদে বিজয়ীদের ভোটের ফলাফল প্রকাশ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ঐতিহাসিক এক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। মোট ২৮ পদের মধ্যে ২৩টিতে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ ছাত্র জোট বিজয় লাভ করে, যেখানে শীর্ষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় ও সদস্য পদে তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অবশিষ্ট পাঁচটি পদে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাবির সিনেট ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এই ফলাফল ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

    শীর্ষ তিনটি পদের মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএস প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছেন: কমিউনিটি পরিষেবার জন্য ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ঐক্যবদ্ধ ছাত্রজোটের ভিপি প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) সর্বমোট ১৪,০৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত মো. আবিদুল ইসলামের খান মোট ৫,৭০৮ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা পেয়েছেন ৩,০৩৮ ভোট, এবং শামীম হোসেন পেয়েছেন ৩,৬৮১ ভোট।

    জিএস পদের জন্য এস এম ফরহাদ ১০০৭৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী তানভীর বারী হামীমের ভোট সংখ্যা ৫,২৮৩। অন্যপ্রার্থী মেঘমল্লার বসু পেয়েছেন ৪,৯৪৯ ভোট, এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী পরিষদ থেকে আবু বাকের মজুমদার পেয়েছেন ২,১৩১ ভোট।

    এজিএস পদে মহিউদ্দীন খান ১১,৭৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫,৬৪ ভোট।

    অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর ফলাফলও অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। মিত্রপ্যানেলের প্রার্থীরা বিভিন্ন পদে জয়লাভ করেছেন, যেমন গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিভাগের ফাতেমা তাসনিম জুমা ১০,৬৩১ ভোট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার ৭,৮৩৩ ভোট, কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা ৯,৯২০ ভোট, এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক জসীমউদ্দিন খান ৯,৭০৬ ভোট। বিশেষ করে, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ৭,৩৮ ভোট, এবং মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া ১১,৭৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

    প্যানেলের বাইরে থেকে অন্য প্রার্থীরা বিভিন্ন পদে জয়লাভ করেন। কেউ তাঁর মধ্যে সংযোজিত হন, কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এই বিজয়ীদের মধ্যে সমাজসেবা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, গবেষণা ও প্রকাশনা, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীও এগিয়ে আসেন। সর্বমোট ১৩ জন সদস্য পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা ১১ জন, যারা সাবিকুন্নাহার তামান্না, আনাস ইবনে মুনির, ইমরান হোসেন, তাজিনুর রহমান, মেফতাহুল হোসেন আল মারুফ, বেলাল হোসাইন অপু খান, রাইসুল ইসলাম, মো. শাহিনুর রহমান, মোছা. আফসানা আক্তার ও রায়হান উদ্দীন।

    অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন হেমা চাকমা (৪,৯০৮ ভোট) ও উম্মা উসউয়াতুন রাফিয়া (৪,২০৯ ভোট)।

    এমন ফলাফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জীবন আবার এক নতুন চেহারা পেয়েছে এবং ভবিষ্যতের রাজনীতির দিক নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

  • পূবালী ব্যাংকে শেখ হাসিনার লকার জব্দ

    পূবালী ব্যাংকে শেখ হাসিনার লকার জব্দ

    জনপ্রিয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি লকার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এলাকা (সিআইসি)। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় অবস্থিত এই লকারটি সন্দেহজনকভাবে জব্দ করা হয় বলে সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবীব জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, শেখ হাসিনার নামে নির্দিষ্ট করে সৌজন্য হিসেবে থাকা একটি লকারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার নম্বর ১২৮। এই লকারের দুটি চাবির মধ্যে একটি শেখ হাসিনার কাছে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গোয়েন্দা দলের একটি টিম দ্রুত এই লকারটিকে জব্দ করে। ভবিষ্যতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এনবিআরের সূত্র বলছে, এই লকারে স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র থাকতে পারে, তবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, এই লকারে গুরুত্বপূর্ণ বা সন্দেহজনক নথিপত্র বা মূল্যবান জিনিস থাকতে পারে। আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় লকারটি খোলা হবে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালানো হবে।

  • ডাকসু নির্বাচন: ২৮ পদে ২৩টিতেই শিবিরের জয়

    ডাকসু নির্বাচন: ২৮ পদে ২৩টিতেই শিবিরের জয়

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি, জিএসসহ মোট ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচনের ফলাফলে ২৩টিতেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ ছাত্রজোটের প্রার্থীরা জয় লাভ করেছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাবির সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিক ফলাফলে তাদের নাম ঘোষণা করেন ডাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

    ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪২ ভোট, যার মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট। একইভাবে, এসএম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট। প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী মেঘমল্লার বসু পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট, যারা তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

    এছাড়া, এজিএস পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবিরের প্রার্থী মুহা. মহিউদ্দীন খান, যিনি ১১ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়েছেন। ছাত্রদলের প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৪ ভোট। আরও ২০ পদে ছাত্রশিবিরের প্রার্থীরা জয় লাভ করেছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা, যারা ১০ হাজার ৬৩১ ভোট পান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ইকবাল হায়দার ৭ হাজার ৮৩৩ ভোট, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান জসিম ৯ হাজার ৭০৬ ভোট লাভ করেন।

    অন্য পদে নির্বাচিতরা হলেন ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ (৯ হাজার ৬১ ভোট), ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসাইন (৭ হাজার ২৫৫ ভোট), কমন রুম, রিডিং রুম ও কাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা (৯ হাজার ৯২০ ভোট), মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া (১১ হাজার ৭৪৭ ভোট), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক এমএম আল মিনহাজ (৭ হাজার ৩৮ ভোট), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম (৯ হাজার ৩৪৪ ভোট)।

    এছাড়া, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন সাবিকুন্নাহার তামান্না (১০ হাজার ৪৮ ভোট), সর্বমিত্র (৮ হাজার ৯৮৮ ভোট), আনास ইবনে মুনির (৫ হাজার ১৫ ভোট), ইমরান হোসেন (৬ হাজার ২৫৬ ভোট), তাজিনুর রহমান (৫ হাজার ৬৯০ ভোট), মেফতাহুল হোসেন আল মারুফ (৫ হাজার ১৫), বেলাল হোসাইন অপু খান (৪ হাজার ৮৬৫ ভোট), রাইসুল ইসলাম (৪ হাজার ৫৩৫ ভোট), মো. শাহিনুর রহমান (৪ হাজার ৩৯০ ভোট), মোছা. আফসানা আক্তার (৫ হাজার ৭૪৭ ভোট) এবং রায়হান উদ্দীন (৫ হাজার ৮২ ভোট)।

    বাকি পাঁচ পদে জয়ী হয়েছেন অন্য প্রার্থীরা, যার মধ্যে সমাজসেবা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবাইর বিন নেছারী; সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ; গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী; সদস্য হিসেবে হেমা চাকমা ও উম্মু উসউয়াতুন রাফিয়া।

    প্রথম দফা ভোটগ্রহণ গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়, যাতে কোন বড় ধরনের ঘটনা ঘটে নি। এবারের নির্বাচনে আক্রান্ত প্রার্থীরা ৪৭১ জন। সাধারণ ছাত্র সংসদের ২৮ পদে প্রার্থী ছিলেন ৪৭১ জন, আর হল সংসদে ১৮টি পদে প্রার্থী ছিলেন ১৩ হাজার ৫ জন।

    বিপুল ভোটারসংখ্যা ছিলো ৩৯,৮৭৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ এবং ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন ভোটার ভোট দেন।

  • রংপুরে গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির অভিযোগ

    রংপুরে গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যু, পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির অভিযোগ

    রংপুরে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত আবু সাঈদের মরদেহ নিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিস্ফোরক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান মরদেহের গুলির চিহ্ন বা মৃত্যুর কারণ সুরতহালে যথাযথভাবে উল্লেখ না করতে পুলিশের একটি অংশের চাপ দিয়েছিলেন। এই তথ্য আশ্চর্যজনক এবং উদ্বেগজনক, কারণ এতে স্পষ্ট হয় যে, গোয়েন্দা ও তদন্তের স্বচ্ছতা রক্ষায় বাধা দেওয়ার জন্য পুলিশের একটি অংশ এই ঘটনা ধামাচাপা রাখার চেষ্টা করছিল।

    আজ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে এই বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন এসআই তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৬ জুলাই বিকেলে তিনি তাজহাট থানায় দায়িত্বে ছিলেন। হঠাৎ ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে জানতে পারেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি মরদেহ রয়েছে। প্রথমে আন্দোলনের ভিড় থাকায় তিনি তা দেখতে যাননি। পরে উর্ধতন কর্মকর্তা নির্দেশ দিলে আবার হাসপাতালে গিয়ে আবু সাঈদের মরদেহ দেখতে পান, যেখানে তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল এবং মাথার পেছনের অংশ থেঁতলানো ছিল।

    এসআই তরিকুল ইসলাম আদালতকে জানান, তিনি যখন মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করছিলেন, তখন সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান তাকে স্পষ্টভাবে বলেন যে, রিপোর্টে লেখা যাবে না যে ওই ব্যক্তিকে গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। যখন তিনি অভিযোগ করেন যে তিনি সত্য লিখতে চান, তখন তাকে না করার জন্য রেগে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক হুমকি দেন। তিনি তাকে চাকরি খোয়ানোর কথাও বলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে, 당시 পুলিশের একটি অংশ বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিল।

    উল্লেখ্য, এই মামলার পক্ষে বিভিন্ন সময়ের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা এক ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমগ্র পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মামলার তদন্ত ৬২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে এখনও ২৪ জন পলাতক। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চারজন আইনজীবী নির্দেশিত হয়েছেন। মামলার আর্জি ও অভিযোগ নিয়ে আদালতে শুনানি ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান।

  • সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামসহ আ.লীগের ৭ নেতাকে গ্রেফতার

    সাবেক সচিব শফিকুল ইসলামসহ আ.লীগের ৭ নেতাকে গ্রেফতার

    ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, সাবেক পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলামসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন ও তার অঙ্গসংগঠনের সদস্য বলে জানা গেছে। গোপন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগে রয়েছে, এই দলের সঙ্গে তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত।

    ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব।

    অপরদিকে, এর আগে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকেও একই মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।