Category: জাতীয়

  • প্রধান উপদেষ্টার: এবার নির্বাচন দেশ রক্ষার লড়াই

    প্রধান উপদেষ্টার: এবার নির্বাচন দেশ রক্ষার লড়াই

    আগামী নির্বাচন ও গণভোটে শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং এটি দেশকে রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম।

    আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নতুন জামানতপ্রাপ্ত ৫০ জেলা প্রশাসকসহ ৬৪ জেলার প্রশাসকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি। ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন কেবল পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠনের জন্য নয়, এটি গণভোট যুক্ত হওয়ার কারণে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি এক সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নির্বাচন, যা বহু প্রহসনের পরিসমাপ্তি ঘটানোর দিক নির্দেশ করে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন প্রতীক হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের পর্যায়ের অন্যতম একটি স্তর। এটি জাতির ভবিষ্যৎ দিগন্ত নির্ধারণ করবে—শতাব্দীর দিশারী হিসেবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনভাবেই এর ব্যর্থতা মেনে নেয়া হবে না। এই নির্বাচন সফল হলে জাতি নতুন করে জেগে উঠবে এবং জেলা প্রশাসকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে দেশকে এগিয়ে নেবেন।

    তিনি জানান, জেলা প্রশাসকদের সবাই যেন প্রয়োজনীয় সব তথ্য আগাম জেনে নেন, এবং কর্তব্য পালনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে সবাই সচেষ্ট হন। বিশেষ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তরুণ ও নারী ভোটারদের সংখ্যাবৃদ্ধি লক্ষ্য করতে হবে; কারণ অনেক আগে থেকে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

    বিশ্ব পর্যবেক্ষকদের আগ্রহও এই নির্বাচনে দৃশ্যমান। তারা গভীর আগ্রহের সঙ্গে দেখছে, নির্বাচন কতটা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়। ইউনূস বলেন, এই নির্বাচনকে সফল করে তোলার জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে— এটি হলো একটি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এই সংগ্রামে আমাদের জয়ের কোনও বিকল্প নেই। স্বাধীন জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে এই লড়াইয়ে সম্পূর্ণ জিততেই হবে।

    বৈঠকটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং আইন উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুল।

    এছাড়াও বিভিন্ন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক মহা., তারফিকুর রহমান বিভিন্ন দিক থেকে বক্তব্য রাখেন।

  • এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা: ধাক্কাধাক্কি, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ব্যবহার

    এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা: ধাক্কাধাক্কি, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ব্যবহার

    ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ব্যাপক সংঘর্ষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেলও ছোড়ে যা দুই পক্ষের মধ্যে চাপ বাড়ায়।

    জুলাই-মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের নেতারা ব্যানারে একদল লোক আজ সোমবার দুপুর ১টা ৭ মিনিটের দিকে ৩২ নম্বরে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের জন্য চেষ্ট করেন। তখন পুলিশ তাদের সতর্ক করে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, কিন্তু তারা সরেননি বরং প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যায়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং নিউ মডেল কলেজের গলির দিকে টেনে নিয়ে যায়। একই সময়ে সেনাবাহিনীও বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেয়।

    বিক্ষোভকারীরা পরে নিউ মডেল কলেজের সামনের এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এমনকি পুলিশ ও সেনারা আবার তাদের ধাওয়া দেয় এবং তিন রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। কিছু বিক্ষোভকারী পান্থপথ দিয়ে চলে যায়, আবার অন্যরা মিরপুর সড়ক হয়ে ২৭ নম্বরের দিকে যায়।

    বেলা ২টার দিকে পরপর চারটি সাউন্ড নোট ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটে পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ তিনজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলেন।

    এদিকে, বিক্ষোভের আগের দিন দুপুরে সাইন্সল্যাব এলাকা থেকে দুটি এক্সকাভেটর নিয়ে আসে বিক্ষোভকারীরা। তাদের একজন বলেন, তারা julho মঞ্চের ব্যানারে এখানে এসেছেন এবং শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেছেন, কেউ যেন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ধীরে ধীরে ৩২ নম্বরের মিরপুর সড়কের একপাশ বন্ধ করে দেয় ও অন্য পাশে ডাইভারসন করে দেয় যাতে যান চলাচল সচল থাকে।

  • শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত: ট্রাইব্যুনাল

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত: ট্রাইব্যুনাল

    আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর নেতৃত্বে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ তিন সদস্যের বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সময়ে সাজানো জোটের নেতৃত্বে মূলত শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত। একইসঙ্গে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামীান খান এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই তিনজনই এখন বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকলেও, তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ করে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামীান খান পলাতক রয়েছেন ও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গত বছর গ্রেফতার হন এবং এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনও সম্পন্ন হয়েছে।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১ জুন এই তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—৬টি মূল অভিযোগ, যার মধ্যে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খেতাব দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি, অস্ত্র ব্যবহারে আন্দোলন দমন, রংপুরে গুলিতে একজনের মৃত্যু, ঢাকা চানখাঁরপুলে গুলিবর্ষণে ছয়জনের মৃত্যু এবং আশুলিয়াতে ছয়জনকে পুড়িয়ে মারার মতো গুপ্তচরচোরা আক্রমণ।

    অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এই তিন আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ গঠন করে। তবে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামীান খান এখনও পলাতক থাকায় তাদের কোনো গ্রেফতারকরার কার্যক্রম এখনো সম্পন্ন হয়নি, অন্যদিকে, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এখনো জেলহাজতে রয়েছেন। এই মামলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।

  • শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষনা

    শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষনা

    বিশেষ আদালত সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বর্তমানের নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরকে। এই মামলার বিচারবিষয়ক বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করে, ২৪ জুলাই-আগস্টের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায় বাংলায় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    বিচারকরা আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রায়ের প্রথম অংশ পড়ে শোনান। তাঁরা ৪৫৩ পৃষ্ঠার মামলার ডকুমেন্টের ছয়টি অধ্যায় বিশ্লেষণ করেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক বিচারপতি প্যানেল এই রায় দেয়। এরপর দুপুর ২টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায় পড়া সম্পন্ন হয়।

    বিশেষ এই বিচারে যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কাদের। তবে তারা বিভিন্ন কারণে এখন পলাতক থাকলেও মামলার অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক আইজিপি মামুন প্রায় এক বছর ধরে তার কারগারে আছেন। তিনি রাজসাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং এর ফলে তার শাস্তির ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। প্রসিকিউশন এই দুজনের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন।

    মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়, এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড, চানখারপুলে হত্যাযজ্ঞ ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। মোট অভিযোগপত্রের পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় আট হাজার সাতশ’। এতে অন্তর্ভুক্ত তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচশ’ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার সাতশ’ বিশ পৃষ্ঠা। এতে মোট সাক্ষীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ জন।

    প্রথম দিন থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চলছে। গত ১৩ নভেম্বর থেকে রায় ঘোষণা অনুষ্ঠানের দিনকে কেন্দ্র করে যান চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

    সবশেষে, এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার প্রধানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত নেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্পূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি, প্রসিকিউশন ও স্টেটের পক্ষে যুক্তিতর্ক চলে মোট নয় দিন। এসব প্রক্রিয়ার শেষে রাষ্ট্রের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য দাবি করেন।

    অন্যদিকে, মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন, তবে তার খালাসের জন্য বেশ কিছু আইনি দপ্তর আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা মনে করেন, এই মামলার সব দোষীদেরই যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে। তবে, পুরো প্রক্রিয়া আইনি নিয়মবলে চলবে এবং সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

  • হাসিনা খোঁজার জন্য ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বিভ্রান্তিকর মাইকিং

    হাসিনা খোঁজার জন্য ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বিভ্রান্তিকর মাইকিং

    রাজধানীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সোমবার ভোর থেকেই অদ্ভুত এক মাইকিং শোনা যায়, যা সাধারণত কেউ হারিয়ে গেলে প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে বলা হচ্ছিল, ‘একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি… আমাদের হাসিনা খালা (শেখ হাসিনা) গত ৫ আগস্ট সপরিবারে হারিয়ে গেছেন। যদি কেউ তার সন্ধান পান, তবে তাকে হাইকোর্টের ফাঁসির মঞ্চে পৌঁছে দেবেন।’ এই ধরনের বক্তব্য শুনে আশেপাশের মানুষরা অবাক হয়ে যান। এটি সম্ভবত কোনো ধরণের অপপ্রচারের অংশ বা অনাকাঙ্ক্ষিত একটি মিসইনফরমেশন যা পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।

    শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন হওয়ায় আদালতের চারপাশে সকাল থেকেই ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায় বিভিন্ন পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন রায়ের ফলাফলের জন্য। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর থাকলেও রাজধানীর যানবাহন স্বাধীনভাবেই চলাচল করা চলছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে।

    এদিন জনসম্মুখে পতিত আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির কোন প্রভাব পড়েনি, বরং বিভিন্ন ইসলামিক দলসহ আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সকাল থেকেই মাঠে ছিল। একদিকে রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে তৎপরতা চলছে অপর দিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভে প্রায় এক হাজার চারশোর বেশি মানুষ নিহত ও বিশাল সংখ্যক আহতের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের হয়।

    অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বর্তমান রায়ের জন্য বিচারক বিনা বিরতিতে চার দশকের বেশি সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এ মামলার শুনানি করেন। এতে মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়, যার মধ্যে বিভিন্ন প্রভাবশালী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষ্যপ্রমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন আহত ও নিহত ব্যক্তি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, পুলিশ আদিত আহত ও নিহতের পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    উল্লেখ্য, এই মামলার একাধিক আসামি—including শেখ হাসিনা, অঙ্গীকার ধরা হয়েছে—অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আনা হয়। বিচারকাজে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণের পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজে নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তি দেন।

    এছাড়াও মামলার শুনানিতে অংশ নেন বিভিন্ন স্বাক্ষী, যারা ২১শে আগস্টের হামলার বিষয়ে পরবর্তী তথ্য ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাক্ষ্য দেন, যেমন আহত শিক্ষার্থী, পুলিশি গুলিতে আহত ব্যক্তি, সাংবাদিক ও চিকিৎসক। এছাড়াও, বিভিন্ন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীর কথাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    গত ১৩ নভেম্বর, রায়ের তারিখ নিশ্চিত হওয়ার পর, নানা ধরণের পরিস্থিতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সেকারণে, সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে লকডাউন, হরতাল ও কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অংশে অগ্নিসংযোগসহ নানা প্রকার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দলের কর্মসূচির ভয়াবহতা ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এভাবে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্রামীণ ব্যাংকে পেট্রোলবোমা হামলা

    গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্রামীণ ব্যাংকে পেট্রোলবোমা হামলা

    গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত একটি গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় দুর্বৃত্তরা পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে হামলা চালিয়েছে। এতে ব্যাংকের সাইনবোর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অফিসের অভ্যন্তরে কোনও ক্ষতি হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার (১৫ নভেম্বর)午夜 আড়াইটার দিকে শ্রীপুর উপজেলার বারোতোপা এলাকার মাওনা-শ্রীপুর শাখায়।

    প্রতিষ্ঠানের এরিয়া ম্যানেজার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাধারণত প্রতিদিন কাজ শেষ করে শাখার ব্যবস্থাপকসহ চার কর্মকর্তা অফিসে ঘুমিয়ে থাকেন। তবে রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ একটি বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আশপাশের মানুষের উপস্থিতিতে তারা দ্রুত পেছনের গেট দিয়ে বাইরে বের হন। বাইরে এসে তারা দেখতে পান মূল ফটকে আগুন জ্বলছে। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    তিনি আরও জানান, এই হামলায় কোনো হতাহত হয়নি। যদিও সাইনবোর্ডে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অন্য কোনও ধরনের ভাঙচুর বা ক্ষতি হয়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. মামুন বলেন, শ্রীপুরের বারতোপা এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের ভেতরে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ফায়ার সার্ভিসের নজরে আসেনি।

    অপরদিকে, শ্রীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহম্মদ আব্দুল বারিক বলেছেন, পুলিশি টহল জোরদার থাকায় হামলাকারীরা বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারেনি। ঘটনাস্থল থেকে বোতল উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে তা জানাতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

  • ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিভিন্ন জেলার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর এবং মাদারীপুর জেলা গুলোর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানী ঢাকায় কিছু দুর্বৃত্ত নানা কৌশলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে এবং বিভিন্ন রাস্তা ও এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য সব সংশ্লিষ্ট বাহিনীই কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে, বিজিবিও নিজের দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়ে মাঠে কাজ করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপ্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সচেষ্ট।

  • কক্সবাজারে তরুণ-তরুণীর আত্মহত্যার দু’ঘটনা উদ্ধার

    কক্সবাজারে তরুণ-তরুণীর আত্মহত্যার দু’ঘটনা উদ্ধার

    কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক দুই ঘটনায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে রত্নাপালং ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে এক তরুণের মরদেহ এবং রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জিয়াউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    প্রথম ঘটনায়, রত্নাপালং ইউনিয়নের কাটিরমাথা এলাকার মৃত তাতু বড়ুয়ার ছেলে জিশু বড়ুয়া তাঁর নিজ বাড়ির আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিশুর মা মল্লিকা বড়ুয়া বলেন, তাঁর ছেলে সুস্থ ছিল, তবে কেন তিনি এমন করেছেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

    দ্বিতীয় ঘটনায়, একই দিন রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮-ইস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৈয়দ আমিনের মেয়ে আসমা আক্তার গাছের ভীমে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর মা জরিনা বেগম বলেন, তিনি দেখতে পান মেয়েকে শয়নকক্ষে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে। তিনি চিৎকার করে সাহায্য চান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক জানান, সম্প্রতি স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অকাল মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে। পাশাপাশি মারামারি, খুন-খারাবি ও আত্মহত্যার প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

    উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, দুই ঘটনাতেই পুলিশের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে মনে করা হচ্ছে, দুটি ঘটনাই আত্মহত্যা, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • অর্থনীতি উন্নতির পথে, অর্থ উপদেষ্টার বর্ননায়

    অর্থনীতি উন্নতির পথে, অর্থ উপদেষ্টার বর্ননায়

    আজ রোববার (১৬ নভেম্বর), রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ব্যতিক্রমী বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক উন্নত অবস্থানে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছে।

    ড. সালেহউদ্দিন আরও জানান, মূল্যস্ফীতি বেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। যেখানে এক সময় এটি ১৪ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, এখন তা কমে ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে যারা বলছেন অর্থনীতিতে কোনও অগ্রগতি হয়নি, তাদের এই মন্তব্য মনোভাব সঠিক নয়, বলে মত দেন তিনি।

    উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, দেশের সমসাময়িক সমস্যা নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে হবে। আর্থিক অগ্রগতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে ডিআরইউ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্রতিবেদনের জন্য প্রিন্ট, টিভি ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করা হয়।

  • আশুলিয়ায় পুড়ে ফেলা আবদুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর নির্দেশ

    আশুলিয়ায় পুড়ে ফেলা আবদুলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর নির্দেশ

    জুলাই হত্যা মামলার ১৪তম দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে দুইজন সাক্ষ্যদাতা উপস্থিত ছিলেন। মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়, আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পুড়ানোর ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া আবদুলের মরদেহ কবর থেকে সংগ্রহ করে তার পরিবারকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে, তার নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আদেশও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল-১ এ ঢাকার কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ীতে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের নামে নয়জনকে গুলিতে হত্যা করার ঘটনায় আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন। তদ্ব্যতীত, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আজ সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনও নির্ধারিত সময়ে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।