Category: জাতীয়

  • রাজধানীতে কলেজ শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

    রাজধানীতে কলেজ শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

    রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ঝিলপাড় এলাকার নিজ বাসায় মো. সিফাত আহমেদ (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে ১৪৬০/এ বাসার ৮ম তলার এক কক্ষে। পরে অচেতন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সিফাত খিলগাঁওয়ের ঝিলপাড় এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি খিলগাঁও মডেল কলেজের কমার্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

    মৃতের চাচাতো ভাই মো. ওসমান জানান, সিফাত পরিবারের তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মোবাইলে অনলাইনে অংক শিখছিল তার ছোট বোন ওয়াফা। তখন সিফাত জেদ ধরে মোবাইলটি ব্যবহার করতে চেয়েছিল, যা নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে তাদের মা এসে বলেন, ‘তোর বোন এখন অনলাইনে অংক শিখছে, তুই পরে মোবাইল নাবি।’ এই কথার প্রেক্ষিতে সিফাত নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ঝুলে পড়ে। পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমাদের জানায়। দ্রুত আমরা বাসার দরজা ভেঙে সিফাতের অচেতন দেহ উদ্ধার করি এবং প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলছি, সিফাতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি খিলগাঁও থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

  • চার দিনে ২০ যানবাহনে আগুন, ৫০টির বেশি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে

    চার দিনে ২০ যানবাহনে আগুন, ৫০টির বেশি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে

    রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এ সব ঘটনার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের নামে নাশকতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগেই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এর ফলে ঢাকাজুড়ে নানা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত চার দিনে ঢাকাসমলিত বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং ৫০টির বেশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেক স্থানেই সন্ধ্যা পর্যন্ত অবিরত অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনা দেখা গেছে। অন্যদিকে, গত ১০ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণগ্রেফতার চালিয়ে মোট ১৯৫জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই আটকদের মধ্যে বেশির ভাগই নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনায় জড়িত বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, ১১ ও ১২ নভেম্বরের অভিযানে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা অনিরাপদ পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রের অস্থিতিশীলতা লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্থানে একত্রিত হয়ে নাশকতা কর্মকাণ্ড চালাতে চেয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে গজারিয়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, গাজীপুরসহ অন্যান্য এলাকা। এর মধ্যে অনেকজনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের পদে থাকেন। ডিবির ধারণা, এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনমনে ভয়াবন্ত আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ১৩ নভেম্বরের দিন ঢাকায় নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে, এই অস্থিরতা উর্ধ্বমুখী থাকায় রাজনীতি ও সাধারণ জীবনপ্রবাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি যানবাহনে আগুন লাগানো এবং অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আশুলিয়া, গাজীপুর, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, সায়েন্সল্যাব, মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় এ ঘটনা বেশিরভাগই ঘটে। বুধবার ভোরে আশুলিয়ায় আলীফ পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। একই দিন গাজীপুরের বাসন ও কাশিমপুর থানার বাসগুলোতে আগুন ধরানো হয়। মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় আলম এশিয়া পরিবহনের বাসে আগুন দিয়ে একজন হেলপার মারা যান। এর আগে, সোমবার বাড্ডা ও নতুনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা জুড়ে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকালে আরো চারটি স্থানে এই ধরনের ঘটনা দেখা গেছে। এর সাথে সাথে ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে দুটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ এবং শাহবাগ, ধানমন্ডি, মিরপুর, ফার্মগেট ও মালিবাগের মতো এলাকার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫০টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ১ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর ১৫টি স্থানে ২৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, যেগুলো মূলত দেশীয় তৈরি পটকার মতো সরল বিস্ফোরক। তিনি বলেন, এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের জন্য পুলিশ তৎপর। তিনি আরও বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও প্রকাশ্য সহিংসতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে এবং রাজনীতি বিভক্তি বৃদ্ধি পায়, তাহলে বিপদ আরও সংগঠিত হবে। তাদের মতে, সহিংসতার এই সংস্কৃতি থামানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দুর্বৃত্তায়ন থেকে বিরত থেকে সংলাপ ও সমঝোতার পথে এগোানো। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আরও বলেন, পুলিশ সব সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ঠেকানোর জন্য কঠোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, এ সব ঘটনায় বেশ কিছু ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও গ্রেফতার হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।

  • ডিপজলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্ত শুরু পিবিআইয়ের দ্বারা

    ডিপজলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্ত শুরু পিবিআইয়ের দ্বারা

    অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও তার সহযোগী মো. ফয়সালের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগের নতুন মামলা দায়ের হয়েছে ঢাকার আদালতে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কাছে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনাটি ঘটেছে মনোয়ারের স্ত্রী রাশিদা আক্তারের দাবি অনুযায়ী।

  • ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়াল ও স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

    ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়াল ও স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

    আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য উপ-কমিটির সদস্য এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়াল ও তাঁর স্ত্রী সবিতা আগারওয়ালের আয়কর নথি জব্দের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনা তিনি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের করা তদন্তযোগ্য আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোঃ সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ প্রদান করেন।

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে দুইটি আলাদা দরখাস্তে এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত এই আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, দিলীপ কুমার আগারওয়াল অসাধু উপায়ে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন ও তা ভোগদখলে রেখেছেন। এছাড়া তিনি নিজের ও তাঁর স্বার্থবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ৩৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। এসব অর্থ তিনি দুর্নীতি, ঘুষ, এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে দুদকের অভিযোগ।

    অন্য আবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর স্ত্রী সবিতা আগারওয়ালও অসাধু উপায়ে ৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন। তার নামে ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পাওয়া গেছে আটটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন। এসব অর্থও দুর্নীতি, ঘুষের টাকা ও মানি লন্ডারিংয়ে ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    উভয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের স্বার্থে তাদের আয়কর পর্যালোচনার জন্য এসব নথি তদন্ত কর্মকর্তার হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন আদালতের অনুমোদন ও নির্দেশনা, যাতে তাদের আয়কর নথিগুলি জব্দ করে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

  • একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাপ্রধানের সক্ষমতা অর্জনের আহবান

    একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাপ্রধানের সক্ষমতা অর্জনের আহবান

    সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে যাতে আমরা একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জগুলির সাথে সামনের দাঁড়াতে পারি। তিনি সম্প্রতি রাজশাহী সেনানিবাসে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট’ এর ২০তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহবান জানান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশের স্বার্থে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া, তিনি অধিনায়কদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, পেশাদারী দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আধুনিক আর্মির বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যার মধ্যে রয়েছে এ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, বগুড়া এরিয়া কমান্ডার এবং অন্যান্য উচ্চস্তরের সেনা কর্মকর্তা। এ অনুষ্ঠানে সব ইউনিটের অধিনায়ক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের আগের দিন, সেনাবাহিনী প্রধানকে সম্মেলন কক্ষে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানিয়ে অভ্যর্থনা জানান আর্টডকের জিওসি, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং বগুড়া এরিয়া কমান্ডার। এর মাধ্যমে, সেনাবাহিনী নতুন করে নিজের প্রস্তুতি ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে তারা দেশের জন্য ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।

  • বিটিভি রাজনীতির হাতিয়ার নয়, সংস্কারের পথে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে: মাহফুজ আলম

    বিটিভি রাজনীতির হাতিয়ার নয়, সংস্কারের পথে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে: মাহফুজ আলম

    তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে বিটিভিকে স্বায়ত্তশাসিত করার কাজ চলমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিটিভিকে পুনর্গঠিত করা হচ্ছে, যাতে এটি কোনো দলের বা রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থের হাতিয়ার হয়ে না ওঠে।

    মাহফুজ আলম আরও বলেন, বিটিভিতে নতুন করে আরও আধুনিক রিয়েলিটি শো এবং প্রতিযোগীদের নিয়ে নতুন অনুষ্ঠান শুরু করা হবে, যা ভবিষ্যতেও চালু থাকবে। এখন থেকে বিটিভি হবে সবার, সব দলের এবং সব মানুষের জন্য।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শাপলা হলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নতুন বাংলাদেশে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এটি একটি সাংস্কৃতিক উপলক্ষ নয় শুধু, বরং তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি নতুন দিগন্তের সূচনা। এটি তরুণদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা এবং প্রতিভা প্রকাশের জন্য একটি অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোর ও তরুণরা নির্বাচিত হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল বা অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে এই সব তরুণরা নতুন বাংলাদেশের পতাকা বহন করবে, নিজেদের প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়ে আমাদের সংস্কৃতি, সমাজ ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জুলাই মাসের শহীদ ও আহতদের স্মরণে এই প্রতিযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও তিনি 강조 করেন।

    মাহফুজ আলম বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশকে একক ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ বহুবিভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যের দেশ, কিন্তু এ বৈচিত্র্যের পূর্ণ সৌন্দর্য আগে আমরা উপভোগ করতে পারিনি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ অনেকাংশে বাধা পেয়েছে, যার ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক ধরনের স্বৈরশাসন বা ফ্যাসিবাদ নেমে আসে।

    তিনি আরও বলেন, এখন থেকে আমাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোতেও সকলের স্থান নিশ্চিত করতে হবে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সংস্কৃতি হবে শক্তির উৎস। অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্য ও মানবতার শান্তিপূর্ণ মিলনের মধ্য দিয়েই আমাদের সভ্যতা বিকাশ পাবে। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সম্পদ ও অনন্য অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই অনন্যতার অনুসরণে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে accelerated হয়ে চলছি।

    ২০২৫ সালের প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাহফুজ আলম আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া তরুণদের প্রতিভা, নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী শক্তি আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই-তিন সপ্তাহের সময়সীমায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুনভাবে মানেবাস জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি আশা করেন, তরুণ প্রতিভাবানরা এই সৃজনশীল যাত্রা অব্যাহত রাখবে এবং দেশের গৌরব আরও বৃদ্ধি করবে। তিনি বিশেষ করে জোর দেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের এই যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে, নতুন বাংলাদেশের জন্য এই অঙ্গীকার ও মানসিকতা বজায় রাখা জরুরি।

  • নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ

    নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ

    রাজধানীর শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসের পরিত্যক্ত ভবনের ব্যালকনিতে আগুন লাগানোর মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এসব অনুশীলন কর্মসূচি পালন করে বিক্ষুব্ধরা, যারা বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা এই ঘটনায় দায়ী করে সরকারের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই পদক্ষেপ নেন। পাশাপাশি, তারা ভবনের দেওয়ালে ভাঙচুর চালিয়ে ভাস্কর্যও ভেঙে ফেলেন। উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা মামলার রায় ঘোষণার দিন কলকরত্মের কারণে আওয়ামী লীগ ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) এই মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই দিনটি ধার্য করে।

  • রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন

    রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন

    আজ, বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই মাসে অনুমোদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা বা নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই স্বাক্ষর মাধ্যমে তিনি চূড়ান্ত অনুমোদন দেন যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার নতুন এক ধাপের সূচনা করে। এখন এই সনদটি কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা চলছে।

    অতিরিক্তভাবে, বিকেল দুইটা ৩০ মিনিটে একজন গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে ভাষণ প্রদান করবেন জাতির উদ্দেশে। এই ভাষণে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা এবং ভবিষ্যতের জন্য জাতীয় পুনর্গঠনের পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সময়কার রাজনীতি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে অনেক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

  • আশা, আইনজীবীর মতে, শেখ হাসিনা খালাস পাবেন

    আশা, আইনজীবীর মতে, শেখ হাসিনা খালাস পাবেন

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো অস্বচ্ছতা দেখা যায়নি বলে জানান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি আরও জানান, তারা দুজনের জন্য খালাস পাওয়ার আশা তিনি ব্যক্ত করেছেন।

    ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ট্রাইব্যনালের প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমির হোসেন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রায়ের তারিখ ধার্য হয়েছে, আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) বিচারকাজের ফলাফল জানা যাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, তার ক্লায়েন্টরা এই মামলায় খালাস পাবেন।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, কোন ধরনের যুক্তি বা তথ্য দিয়ে তারা খালাস পাবে, তা তিনি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দির পরে জেরা করে গুরুত্বপূর্ণ আরও অনেক তথ্য উঠে এসেছে। সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসা বিতর্কিত দালিলিক সাক্ষ্য ও ডকুমেন্টের মাধ্যমে সাক্ষ্যপ্রমাণে গুঁড়ো হওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেখ হাসিনা ও কামাল এই মামলায় খালাস পেয়ে যাবেন।

    বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আমির হোসেন বলেন, আমার দৃষ্টিতে বিচারতন্ত্রে কোনো অস্বচ্ছতা চোখে পড়েনি। কাউকেই হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, যেহেতু তিনি পেয়েছেন যথাযথ দলিল-দলিলাদি, কাগজপত্র, সেগুলোই তার প্রধান ভিত্তি। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে পাওয়া সকল দলিল তিনি যথাযথভাবে ব্যবহার করেছেন।

    নিজেকে সমর্থনের জন্য শেখ হাসিনা ও কামাল এই আদালতে থাকাকালে ভরসা করেছিলেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও। এ দাবি করেছেন আমির হোসেন।

    এদিন দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে, জুলাইয়ে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য নির্ধারিত দিন ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল এ দিন সংশ্লিষ্ট কারাদণ্ডের রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ আরও উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এছাড়া মামুনের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন ইয়ায়েদ বিন আমজাদ।

  • সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের পরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের পরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এই গণভোটের আয়োজন সম্পূর্ণভাবে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে দীর্ঘায়িত বা বাধাগ্রস্ত করবে না। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    প্রফেসর ইউনূস বলেন, ভবিষ্যত নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ভাগেই এই গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে দেশের পরিবেশ আরও উৎসবমুখর হবে এবং অর্থনৈতিক ব্যয়ও কমবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন করা হবে যেন বিবাদের ঝামেলা এড়িয়ে দ্রুত অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব হয়। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংস্কার কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।