Category: জাতীয়

  • বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা, তাপমাত্রা কমতে পারে

    বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা, তাপমাত্রা কমতে পারে

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে, ২২ নভেম্বরের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুজোড় সৃষ্টি হতে পারে। এতে ঘনীভূত হয়ে এটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    পূর্বাভাসে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বিস্তার পশ্চিমবাংলা ও তার সঙ্গে সংলগ্ন এলাকা ঘিরে রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর বিস্তার উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত फैलছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ২২ নভেম্বরের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হবে, যা ক্রমশ ঘনীভূত হয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া সুন্দর থাকবে, তবে শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে, এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    এছাড়াও, শুক্রবার (২১ নভেম্বর), শনিবার (২২ নভেম্বর), রোববার (২৩ নভেম্বর), এবং সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার পাশাপাশি আকাশ আংশিক মেঘলা বা শুষ্ক থাকবে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আসন্ন পাঁচ দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ওই সময়ে আবহাওয়া প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং বজায় থাকবে শীতল পরিবেশ।

  • অল্প সময়ে অনেক কিছু অর্জন: অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ঠার প্রতিফলন

    অল্প সময়ে অনেক কিছু অর্জন: অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ঠার প্রতিফলন

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কী করা উচিত ছিল—এ নিয়ে কিছু সমালোচকদের পক্ষে ঢালাও মন্তব্য করা সহজ। অনেকেই সহজেই বলে দেন সরকার কী করতে পারেনি। কিন্তু এত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরোধিতা সত্ত্বেও এই সরকার যে অল্প সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে, এটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকরী ভূমিকা ও উপদেষ্টা দলের দৃঢ় নিষ্ঠার ফল।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) তিনি এই কথা اپنی ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নীতিমালা, নির্দেশনা এবং আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, দাবী করেন যে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি সকল ধরনের মতামত ও প্রতিবেদন মনোযোগ দিয়ে অনুধাবন করেছেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন কোনো আইন বা নীতি কার্যকর বা পাস না হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি আগ্রহ জাগে না।

    শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন, নীতিমালা ও সংস্কার সম্পর্কিত লেখাগুলো এখন অনেক বেশি সহজলভ্য। তিনি বলেন, এখন চাইলেই ‘চ্যাটজিপিটি’ বা অন্য কোনো এআই টুলকে বললেই বাংলাদেশের ভেতরে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা উন্নয়নের জন্য ৪৫০ পৃষ্ঠার বিশাল একটি বই মুহূর্তে প্রস্তুত করা সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সংস্কার বা নীতির খসড়া তৈরি করাও এখন সহজ।

    তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। গত ১৬ মাসে দেখেছেন, আমাদের মতো দেশে বাজারবান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী ও জনবান্ধব আইন ও নীতিমালা তৈরি কতটা কঠিন। ব্যবসায়ী লবি, রাজনৈতিক দল, মতবাদী সংগঠন, পেশাজীবী সংস্থা, যেসব ডিপ স্টেট বা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আছে এবং সাধারণ আমলাতন্ত্র—প্রত্যেকের কাছ থেকেই বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

    তিনি আরো যোগ করেন, এমনকি খুব সাধারণ ও সহজে পাস হতে পারা কোনো আইনও মাসের পর মাস দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকতে পারে। আবার দৃষ্টিনন্দন ও কর্মসংস্থাপন সৃষ্টিকারী সংস্কারগুলোর বাস্তবায়নও অনেক সময় নানা বাধা মোকাবিলা করে এগোতে হয়। এসব কারণে পাসের সময় লেগে যায় এবং কাজের গতি ধীর হয়ে যায়। তিনি মনে করেন, এই বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে উন্নয়ন আরও দ্রুত সম্ভব হবে।

  • জাতিসংঘে বাংলাদেশ: ১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার আর বহন করা সম্ভব নয়

    জাতিসংঘে বাংলাদেশ: ১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার আর বহন করা সম্ভব নয়

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি সর্বসম্মতভাবে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য একটি টেকসই সমাধানের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ প্রস্তাবনা হিসেবে পেশ হয় এবং এতে ১০৫টি দেশ পৃষ্ঠপোষকতা দানে অংশ নিয়েছে।

  • এই রায়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে: বদিউল আলম

    এই রায়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে: বদিউল আলম

    সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নত ও নিরপেক্ষ করতে আজকের রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের চত্বরে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

    মূলত, আপিল বিভাগ এই রায়ের মাধ্যমে ১৪ বছর আগে দেওয়া সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছে। এই সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা আজকের রায়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এই বিধানাবলি কার্যকর হবে শুধুমাত্র তার প্রযোজ্যতা ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে।

    বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যে রায় দেন, তা দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছিল। এর কারণে তিনটি নির্বাচনই বিতর্কিত হয়ে পড়ে। আজকের রায়ের মাধ্যমে আমাদের আশা, এই দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নত ও নির্দোষ হবে।”

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর আদালত রিভিউ আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে আবার ফিরিয়ে এনেছেন। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর থেকে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেটি ছিল অসাংবিধানিক রায়, যা তার আপত্তির অন্তর্ভুক্ত।

    এছাড়াও, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, আজকের রায়ে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, খায়রুল হকের নেতৃত্বে দেওয়া পূর্বের রায়টি বাতিল হয়ে গেছে। এর ফলে, সংবিধানে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলো। তিনি মনে করেন, আজকের রায় ঐতিহাসিক ঘটনা, বিশেষ করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে।

    শরীফ ভূঁইয়া বলেন, “অত্যন্ত নিম্নমানের এই রায়টি ছিল বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের সূচনা, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছিল। আজকের সিদ্ধান্ত দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক নতুন পালা শুরু করেছে।”

  • শেখ হাসিনার রায় ঘিরে হত্যার হুমকি, যুবক গ্রেপ্তার

    শেখ হাসিনার রায় ঘিরে হত্যার হুমকি, যুবক গ্রেপ্তার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের পর বিচারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিচারক ও প্রসিকিউটরদের হত্যার হুমকি দেয়া হয় বলে জানা গেছে। এরই অংশ হিসেবে পুলিশ বুধবার (২০ নভেম্বর) চারজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে মো. শরীফ নামে একজনকে ভোলা জেলার লালমোহন থানার সাতআনি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীফের বয়স ২০ বছর। প্রসিকিউটর তানভীর জোহা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর সঙ্গে সঙ্গে অন্য দুই আসামির—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসি ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামুনের শাস্তি কমানো হয়েছে, কারণ তিনি আদালতে মামলার সত্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং অ্যাপ্রুভার হিসেবে জবানবন্দি দেন।

    রায় উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনা ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা দেন, যা তাকে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ প্রদান করে। এর ফলে তিনি এই মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী। বিচারক বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর ওপর হামলা, গুলি চালিয়ে হত্যার মতো ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট ধারা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

    বিচারকরা উপস্থাপিত অডিও-ভিডিও প্রমাণ, সাক্ষ্য ও ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা, পাশাপাশি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়ের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিবেচনা করেন। বিভিন্ন স্থান—যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুর—সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ভিডিও ও প্রমাণ তুলে ধরে ট্রাইব্যুনাল। এই বিষয়গুলো রায় ঘোষণা সময় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়।

  • ট্রাম্পের দাবি: ভারত-পাকিস্তানকে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলাম

    ট্রাম্পের দাবি: ভারত-পাকিস্তানকে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলাম

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ ঠেকাতে তিনি তাদেরকে কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দুই দেশের সরকারকে জানিয়েছিলেন, যদি তারা পরমাণু যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তিনি প্রত্যেকের ওপর ৩৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। তিনি বলেছিলেন, “ওরা হয়তো পরস্পরকে লক্ষ্য করে পরমাণু বোমা ছোড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আর তার ফলস্বরূপ ধ্বংসস্তূপের জন্য মানুষ মারা যাবে, এমনকি লস এঞ্জেলেসেও ধুলোবালি ছড়িয়ে পড়বে। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তুমি চাইলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারো, কিন্তু আমি তোমাদের ওপর এই শুল্ক আরোপ করব।’ শোনা যাচ্ছে, এই হুমকি শুনে ভারত ও পাকিস্তান দুজনেই আপত্তি জানিয়েছিল, তবে আমি বলেছি, ‘প্রতিপক্ষে কিছু যায় আসে না।’

  • যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যায় আরও দু’জন ভাড়াটে খুনি গ্রেপ্তার: র‍্যাব

    যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যায় আরও দু’জন ভাড়াটে খুনি গ্রেপ্তার: র‍্যাব

    রাজধানীর পল্লবী এলাকায় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যার মামলার জড়িত থাকার অভিযোগে র‌্যাব আরও দুই ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সোহেল ওরফে পাত্তা সোহেল ওরফে মনির হোসেন (৩০) এবং সুজন ওরফে মুখপোড়া সুজন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার সাভার এলাকার বিরুলিয়া এবং গাজীপুরের টঙ্গী মাজার রোড থেকে তাঁদের আটক করে র‌্যাব। আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে র‌্যাব-৪-এর সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়।

    র‌্যাব-৪ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সন্ত্রাসীরা যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যার অভিযোগে আসামি এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে। সোহেল ওরফে পাত্তা সোহেল ওরফে মনির হোসেনকে তাদের বিরুলিয়া এলাকায় এবং সুজন ওরফে মুখপোড়া সুজনকে গাজীপুরের টঙ্গী মাজার রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা সবাই ভাড়াটে খুনি।

    আজ বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন র‌্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার মেজর মোহাম্মদ আবরার ফয়সাল সাদী।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে পল্লবী সেকশন-১২-এ অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার ও স্যানিটারি দোকানে অবস্থান করছিলেন গোলাম কিবরিয়া। তখন মোটরসাইকেলে করে তিনজন দুর্বৃত্ত এসে দোকানে ঢুকে তাঁর মাথা, বুক ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এই ঘটনার পর আশপাশের লোকজন মো. জনি ভূঁইয়াকে আটক করে।

    পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সোহেল ও তাঁর অনুসারীরা দোকানে ঢুকে গুরুতর যানবাহন থেকে ঢুকে সাত রাউন্ড গুলির ছাড়া হয়। ঘটনার স্থান থেকে সাত রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার হয়।

  • শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা জরুরি : প্রধান উপদেষ্টা

    শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা জরুরি : প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্ত, উৎসবের রঙে ভরপুর এবং সকলের অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে সেনাবাহিনীর সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) অডিটোরিয়ামে কোর্স-২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের ২৪টি দেশের তরুণ সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে সনদ তুলে দেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের সকলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও দুর্ঘটনামুক্ত পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকা সব সময়ই প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে একটি উৎসব ও আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে হলে সরকারের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা অপরিহার্য।

    জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এটি তার ভূমিকাকে সকলের কাছে সম্মানজনকভাবে তুলে ধরে। তিনি এ জন্য সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন।

    এবারের কোর্সে উপস্থিত ছিল বাংলাদেশ, চীন, ভারত, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ মোট ২৪ দেশের ৩১১ জন তরুণ সামরিক কর্মকর্তা। তারা জানান, এই প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তাদের ব্যক্তিজীবন ছাড়াও দেশ ও জাতির প্রয়োজনীয় কালীন সময়ে কাজে লাগতে পারে। একজন বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তার ভাষ্য, “ডিএসসিএসসি-তে এই কোর্সে আমাদের যে নেতৃত্ব, কৌশল ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে জ্ঞান হয়েছে, তা আমাদের দেশের এবং দেশের বাইরে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত করে ফেলেছে। বিশেষ করে জাতীয় সংকটের সময় আমরা এই জ্ঞান প্রয়োগে সক্ষম হব।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রধান উপদেষ্টার কথাগুলো সময়োপযোগী। আমরা আশা করি, এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা দেশের রক্ষায় এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে।”

    চীনের একজন কর্মকর্তাও বলেন, প্রশিক্ষণের মানের বিষয়ে তারা সন্তুষ্ট। “বাংলাদেশের এই সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। ২৩ দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করে আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ভবিষ্যতে এই জ্ঞান আমাদের নিজ দেশ ও অন্যান্য দেশের নিরাপত্তায় কাজে লাগবে,” বললেন তিনি।

  • ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে সাংবাদিক মিজানুরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই

    ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে সাংবাদিক মিজানুরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই

    দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ তার বাড্ডার বাসা থেকে নিয়ে যায়। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা তার হেফাজত রাখার পরে বুধবার সকালে পুলিশ তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে সচেতনতা প্রকাশ করেছে।

    এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা থাকার rumors নিয়ে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি একেবারেই ভিত্তিহীন। মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই ধরনের অপপ্রচারে এনইআইআর বাস্তবায়নের সঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

    বিজ্ঞপ্তিতে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সরকারী কর্মসূচি, যেমন এনইআইআর বাস্তবায়ন করছি। অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসি অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই বিষয়ের ওপর ভিত্তিহীন গুজবের জন্য কিছু গণমাধ্যম আমার বিরুদ্ধে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।

    তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক মিজানুর রহমানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কিছু কিছু গণমাধ্যম প্রচার করছে যে, আমি এই ব্যাপারে জড়িত, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি स्पष्ट করেছেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বিভ্রান্তি ছড়ানো না, বরং সত্য তুলে ধরা।

    মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গোয়েন্দা পুলিশ মিজানুর রহমান সোহেলকে তার বাসায় ফিরে পাঠিয়ে দেয়। তিনি বলেন, এ ধরনের ভুল তথ্য সুবিধামতো জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

    উল্লেখ্য, সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টে মিজানুর রহমান সোহেলকে গোয়েন্দা বিভাগে নেয়ার বিষয়টি বিস্তারিত জানান। এরপর থেকেই ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গুজব ছড়ানো শুরু হয়। তবে সংস্থাগুলো স্পষ্ট করে বলছে, এই বিরোধের মধ্যে সত্যতা নেই এবং তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা জরুরি।

  • জামায়াতের দাবি: ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন

    জামায়াতের দাবি: ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা সদস্য মোতায়েনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনের আলোচনা সভায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে দলের সহ–সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই দাবি জানান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত এক মাসের মধ্যে অনেক নতুন ডিসি বদলি করা হয়েছে, অনেকের বদলি হঠাৎ করে চোখে পড়ে। তিনি মনে করেন, এর পেছনে একটি স্বয়ংক্রিয় বা পরিকল্পিত ডিজাইন কাজ করছে, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    এছাড়া, জামায়াতের পক্ষ থেকে বাস্তুসংস্থান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা বদলির ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে ট্রান্সফার চালুর পক্ষে মত প্রকাশ করা হয়। দলটির মনে হয়, লটারির মাধ্যমে বদলি করলে, কেউ যা চাইবেন, তাকে সে স্থান পাওয়ার সুযোগ থাকবে এবং একযোগে বদলি নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠবে না।

    প্রস্তাবের পক্ষে আরও এগিয়ে এসে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সাহসী ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    অপর দিকে, দলীয় প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন ও শাস্তি নিয়ে দলের প্রতিনিধি ব্যারিস্টার শিশির মনির অভিযোগ করেন, আচারবিধি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি প্রদানের প্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, একই অপরাধে প্রার্থী ও দলের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করতে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিস্তারিত নিয়ম থাকতে হবে যেন সব পক্ষের জন্য বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

    সর্বোপরি, তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সব প্রার্থীর জন্য একযোগে সংলাপ বা আলোচনা করা বাধ্যতামূলক না কি ঐচ্ছিক তা স্পষ্ট করা জরুরি। এ ধরণের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছাড়া কার্যক্রমের উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।