Category: জাতীয়

  • ময়মনসিংহে ট্রেনে নাশকতার চেষ্টা, সাহসী প্রতিরোধে বড় ক্ষতি এড়ানো

    ময়মনসিংহে ট্রেনে নাশকতার চেষ্টা, সাহসী প্রতিরোধে বড় ক্ষতি এড়ানো

    ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের ওয়াশপিটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লোকাল ট্রেনের বগিতে নাশকতার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। তবে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) তিন সদস্যের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ভোর ৪টার দিকে, স্টেশনে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ময়মনসিংহ কার্যালয়ের ইনচার্জ মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, সাহসী তিন আরএনবি সদস্য ছিলেন হাবিলদার মাসুদ রানা, সিপাহি আসাদুজ্জামান এবং নায়েক ঈসমাইল। এই তিনজনের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসের কারণেই ব্যাপক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। জানা যায়, আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় নিরাপত্তাকর্মীরা। তারা দেখেন, বগির কিছু সিটে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকা সত্ত্বেও, ওই নিরাপত্তা সদস্যরা নিজেদের শরীরে থাকা জ্যাকেট খুলে ওয়াশপিটের পানিতে ভিজিয়ে নেভানোর চেষ্টা করেন। সেই ভেজা জ্যাকেট দিয়ে তারা আগুনের উপর জাপটে ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। এর পর দুর্বৃত্তরা অন্ধকারে পালিয়ে যায়। স্টেশন সুপার আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, আরএনবির তৎপরতা ও সাহসের ফলে আগুনে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যদি আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসত, তবে পার্শ্ববর্তী কোচ, ট্রেনের ইঞ্জিন ও প্ল্যাটফর্মের অন্যান্য অংশ বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির কবলে পড়তে পারত। তিনি আরও বলেন, রাতের সময় প্ল্যাটফর্মের বাইরে জারিয়া লোকাল ট্রেনের কোচগুলো ধোয়ামোছার জন্য ওয়াশপিটে দাঁড় করানো ছিল। নাশকতার জন্য লুকিয়ে থাকা একদল দুর্বৃত্ত গাঁজা পাউডার ও পেট্রোল ব্যবহার করে ট্রেনে ওই আগুনের ঘটনা ঘটায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

  • চার ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যু

    চার ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যু

    সোমবার দিবাগত রাত ১১টার পরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি গ্রামে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদার। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সমাজসেবা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। নুরুল ইসলাম ছিলেন দুইবারের সংসদ সদস্য, এর আগে তিনি বৈধভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে তিনি সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। তিনি এক স্ত্রী, এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয়রা, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

    অভিনন্দন, চার ঘণ্টা আগে ভোরের দিকে বরগুনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিউর রহমান তালুকদারও মারা গেছেন। তিনি মারা যান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। মতিউর রহমান ছিলেন ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নেন, কিন্তু পরাজিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিততে পারেননি, বরং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মাত্র সাড়ে তিন হাজার ভোটে হেরে যান। এরপর তিনি বরগুনা-৩ আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাননি। তার মৃত্যুতে স্থানীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • আজও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কড়া নিরাপত্তাজোড়ালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায়, আদালতের আশপাশে সচেতনতা বৃদ্ধি

    আজও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কড়া নিরাপত্তাজোড়ালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায়, আদালতের আশপাশে সচেতনতা বৃদ্ধি

    জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতা থেকে সরানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা পরদিনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কড়া ছিল। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ভোর থেকেই ট্রাইব্যুনাল এবং এর আশপাশের সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়। হাইকোর্টের প্রধান গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে চোখে পড়ে সীমান্ত গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। এরপর ট্রাইব্যুনালের মূল গেটের দিকে এগোতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান মোতায়েন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। ট্রাইব্যুনালের অভ্যন্তর ও বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। গতকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। একই মামলায় পুলিশ বাহিনীর সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর থেকে রাজধানীর এই অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন বাহিনীর যৌথ উপস্থিতি আরও বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

  • ৫ ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জে হাইকোর্টে রিট

    ৫ ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জে হাইকোর্টে রিট

    সংকটে পড়া পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংক একীভূত করার সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার মাহসিব হোসাইন এ রিট আবেদন করেন। রিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটির গুরুত্বপূর্ণ বিবাদী করা হয়েছে।

    ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে সংকটে পড়া এই পাঁচ ব্যাংকের একীভূতির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামিক ব্যাংক। এই পাঁচটি ব্যাংকের সফল একীভূতির মাধ্যমে একটি শরিয়াহভিত্তিক নতুন ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নতুন ব্যাংকের জন্য দুটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে— ‘ইউনাইটেড ইসলামিক ব্যাংক’ এবং ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক’। এই ব্যাংকটি বাণিজ্যিক দিক থেকে পরিচালিত হবে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।

    সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ মূল ঘোষণায় কেউ চাকরি হারাবেন না এবং কোনো আমানতকারী তার টাকা হারাবেন না। প্রাথমিকভাবে নতুন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটি গঠন ও পরিচালনার জন্য পাঁচটি ব্যাংকের সব দায়-দায়িত্ব ও সম্পত্তি গ্রহণ করা হবে।

    ফান্ডিং এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা নগদে প্রদান এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা সুকুক বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে সংগৃহীত হবে।

    সুকুক হলো শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি বন্ড, যা সুদভিত্তিক বন্ডের বিকল্প। এটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো আইনি চুক্তিপত্র।

    এ ছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের শেয়ার দিয়ে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা মূলধনে রূপান্তর করা হবে বেইল-ইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যাতে করে মানহীন ঋণ পরিশোধের পরিবর্তে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধারণ করেন। পরবর্তীতে রেজল্যুশন পরিকল্পনা অনুসারে এটি টাকা হিসেবে ফেরত দেয়া হবে আমানতকারীদের।

    প্রাথমিকভাবে, এই ব্যাংকটি সরকারি মালিকানায় থাকবে। তবে ধাপে ধাপে তা বেসরকারি খাতের হাতে হস্তান্তর করা হবে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে, পাঁচ বছরের মধ্যে এই ব্যাংকটি সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতে চলে যাবে।

    ব্লকচেইন ও একীকরণ প্রক্রিয়ায় এই ব্যাংকের রূপান্তরটি নির্ভরযোগ্যতা ও স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক কমবে এবং ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা দ্রুত ফেরত দেয়া সম্ভব হবে।

  • ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার সুযোগ gains

    ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার সুযোগ gains

    সরকার আজ (১৭ নভেম্বর) শ্রম আইন সংশোধন করে একটি নতুন অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে, যা ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার সুবিধা প্রদান করে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এই নতুন আইনটি জারি করে বলেছে, এখন কোনও প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক একত্রিত হয়ে ট্রেড ইউনিয়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই নতুন বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্রমিকের সম্মতির ভিত্তিতে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন দেওয়া হবে। যেমন, শ্রমিক সংখ্যা ২০ থেকে ৩০০ হলে অন্তত ২০ জনের সম্মতি; ৩০১ থেকে ৫০০ জন হলে ৪০ জন; ৫১ থেকে ১৫০০ জন হলে ১০০ জন; ১৫০১ থেকে ৩০০০ জন হলে ৩০০ জন; এবং ৩০০১ জনের বেশি হলে ৪০০ জনের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাবে। এই পরিবর্তনের ফলে আগের আইনকে হার মানিয়ে এখন সর্বনিম্ন ২০ শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়নের গঠন সম্ভব হলো। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার আরও সুসংহত হলো এবং শ্রম আইনকে যুগোপযোগী করে তোলা হলো বলে জানানো হয়েছে। আইএলও এর চাহিদা ও আন্তর্জাতিক মানানসইভাবে এ সংশোধনী করা হয়েছে। উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই সংশোধন শ্রমিক এবং মালিক উভয়ের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ ও আধুনিক আইন প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা শ্রম আইনকে বিশ্বমানের করে তুলবে। পাশাপাশি, নতুন আইনে গৃহকর্মী ও নাবিকসহ অন্যান্য শ্রমিকদেরও শ্রম আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শ্রমিকদের ব্ল্যাক লিস্টিং নিষিদ্ধ, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুবিধা বৃদ্ধি এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসাথে, একই কাজের জন্য নারী ও পুরুষ শ্রমিকের বেতন বৈষম্য নিষিদ্ধ ও শ্রমিকদের বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের পুনর্বাসন এবং চিকিৎসার জন্য তহবিল গঠনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারকে আরো সুগম করবে। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, এই সংশোধনীতে শিল্প কারখানায় বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াও উন্নত করা হয়েছে, যা শ্রমিক, মালিক, ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।

  • সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, সতর্ক থাকুন

    সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, সতর্ক থাকুন

    আবহাওয়া অধিদফতর আগামী শনিবারের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এর ফলস্বরূপ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানার দেয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

    সরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী শনিবার (২২ নভেম্বর) পর্যন্ত এই অঞ্চলে একটি লঘুচাপ গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরে আরও ঘনীভূত হতে পারে। পাশাপাশি, বর্তমানে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর বিস্তৃতি উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত फैला রয়েছে। এ সব কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনতাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা জারি হয়েছে।

    আগামী বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আংশিক মেঘলাসহ সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে। ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাত ও দিন উভয় الوقتেই তাপমাত্রা আগের মতোই থাকতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আকাশের কিছু অংশে মেঘের আধিকার থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ওই দিনই, শুক্রবার (২১ নভেম্বর), সকাল ৯টার পরে ২৪ ঘণ্টার জন্য আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

    সর্বশেষ, শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ৯টার থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, এবং সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

  • প্রধান উপদেষ্টার: এবার নির্বাচন দেশ রক্ষার লড়াই

    প্রধান উপদেষ্টার: এবার নির্বাচন দেশ রক্ষার লড়াই

    আগামী নির্বাচন ও গণভোটে শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং এটি দেশকে রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম।

    আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নতুন জামানতপ্রাপ্ত ৫০ জেলা প্রশাসকসহ ৬৪ জেলার প্রশাসকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি। ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন কেবল পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠনের জন্য নয়, এটি গণভোট যুক্ত হওয়ার কারণে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি এক সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নির্বাচন, যা বহু প্রহসনের পরিসমাপ্তি ঘটানোর দিক নির্দেশ করে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন প্রতীক হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের পর্যায়ের অন্যতম একটি স্তর। এটি জাতির ভবিষ্যৎ দিগন্ত নির্ধারণ করবে—শতাব্দীর দিশারী হিসেবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনভাবেই এর ব্যর্থতা মেনে নেয়া হবে না। এই নির্বাচন সফল হলে জাতি নতুন করে জেগে উঠবে এবং জেলা প্রশাসকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে দেশকে এগিয়ে নেবেন।

    তিনি জানান, জেলা প্রশাসকদের সবাই যেন প্রয়োজনীয় সব তথ্য আগাম জেনে নেন, এবং কর্তব্য পালনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে সবাই সচেষ্ট হন। বিশেষ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তরুণ ও নারী ভোটারদের সংখ্যাবৃদ্ধি লক্ষ্য করতে হবে; কারণ অনেক আগে থেকে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

    বিশ্ব পর্যবেক্ষকদের আগ্রহও এই নির্বাচনে দৃশ্যমান। তারা গভীর আগ্রহের সঙ্গে দেখছে, নির্বাচন কতটা সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়। ইউনূস বলেন, এই নির্বাচনকে সফল করে তোলার জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে— এটি হলো একটি গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এই সংগ্রামে আমাদের জয়ের কোনও বিকল্প নেই। স্বাধীন জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে এই লড়াইয়ে সম্পূর্ণ জিততেই হবে।

    বৈঠকটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। আলোচনায় অংশ নেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং আইন উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুল।

    এছাড়াও বিভিন্ন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক মহা., তারফিকুর রহমান বিভিন্ন দিক থেকে বক্তব্য রাখেন।

  • এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা: ধাক্কাধাক্কি, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ব্যবহার

    এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা: ধাক্কাধাক্কি, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ব্যবহার

    ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে ব্যাপক সংঘর্ষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেলও ছোড়ে যা দুই পক্ষের মধ্যে চাপ বাড়ায়।

    জুলাই-মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের নেতারা ব্যানারে একদল লোক আজ সোমবার দুপুর ১টা ৭ মিনিটের দিকে ৩২ নম্বরে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের জন্য চেষ্ট করেন। তখন পুলিশ তাদের সতর্ক করে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, কিন্তু তারা সরেননি বরং প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যায়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং নিউ মডেল কলেজের গলির দিকে টেনে নিয়ে যায়। একই সময়ে সেনাবাহিনীও বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেয়।

    বিক্ষোভকারীরা পরে নিউ মডেল কলেজের সামনের এলাকায় অবস্থান নিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এমনকি পুলিশ ও সেনারা আবার তাদের ধাওয়া দেয় এবং তিন রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। কিছু বিক্ষোভকারী পান্থপথ দিয়ে চলে যায়, আবার অন্যরা মিরপুর সড়ক হয়ে ২৭ নম্বরের দিকে যায়।

    বেলা ২টার দিকে পরপর চারটি সাউন্ড নোট ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটে পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ তিনজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলেন।

    এদিকে, বিক্ষোভের আগের দিন দুপুরে সাইন্সল্যাব এলাকা থেকে দুটি এক্সকাভেটর নিয়ে আসে বিক্ষোভকারীরা। তাদের একজন বলেন, তারা julho মঞ্চের ব্যানারে এখানে এসেছেন এবং শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেছেন, কেউ যেন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ধীরে ধীরে ৩২ নম্বরের মিরপুর সড়কের একপাশ বন্ধ করে দেয় ও অন্য পাশে ডাইভারসন করে দেয় যাতে যান চলাচল সচল থাকে।

  • শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত: ট্রাইব্যুনাল

    শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত: ট্রাইব্যুনাল

    আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর নেতৃত্বে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ তিন সদস্যের বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সময়ে সাজানো জোটের নেতৃত্বে মূলত শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত। একইসঙ্গে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামীান খান এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই তিনজনই এখন বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকলেও, তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ করে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামীান খান পলাতক রয়েছেন ও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন গত বছর গ্রেফতার হন এবং এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনও সম্পন্ন হয়েছে।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১ জুন এই তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—৬টি মূল অভিযোগ, যার মধ্যে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খেতাব দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি, অস্ত্র ব্যবহারে আন্দোলন দমন, রংপুরে গুলিতে একজনের মৃত্যু, ঢাকা চানখাঁরপুলে গুলিবর্ষণে ছয়জনের মৃত্যু এবং আশুলিয়াতে ছয়জনকে পুড়িয়ে মারার মতো গুপ্তচরচোরা আক্রমণ।

    অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল এই তিন আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ গঠন করে। তবে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামীান খান এখনও পলাতক থাকায় তাদের কোনো গ্রেফতারকরার কার্যক্রম এখনো সম্পন্ন হয়নি, অন্যদিকে, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এখনো জেলহাজতে রয়েছেন। এই মামলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।

  • শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষনা

    শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষনা

    বিশেষ আদালত সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বর্তমানের নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কাদেরকে। এই মামলার বিচারবিষয়ক বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করে, ২৪ জুলাই-আগস্টের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায় বাংলায় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

    বিচারকরা আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রায়ের প্রথম অংশ পড়ে শোনান। তাঁরা ৪৫৩ পৃষ্ঠার মামলার ডকুমেন্টের ছয়টি অধ্যায় বিশ্লেষণ করেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক বিচারপতি প্যানেল এই রায় দেয়। এরপর দুপুর ২টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায় পড়া সম্পন্ন হয়।

    বিশেষ এই বিচারে যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কাদের। তবে তারা বিভিন্ন কারণে এখন পলাতক থাকলেও মামলার অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক আইজিপি মামুন প্রায় এক বছর ধরে তার কারগারে আছেন। তিনি রাজসাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং এর ফলে তার শাস্তির ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। প্রসিকিউশন এই দুজনের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন।

    মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়, এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড, চানখারপুলে হত্যাযজ্ঞ ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। মোট অভিযোগপত্রের পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় আট হাজার সাতশ’। এতে অন্তর্ভুক্ত তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচশ’ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার সাতশ’ বিশ পৃষ্ঠা। এতে মোট সাক্ষীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ জন।

    প্রথম দিন থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চলছে। গত ১৩ নভেম্বর থেকে রায় ঘোষণা অনুষ্ঠানের দিনকে কেন্দ্র করে যান চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

    সবশেষে, এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার প্রধানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই সিদ্ধান্ত নেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ সম্পূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি, প্রসিকিউশন ও স্টেটের পক্ষে যুক্তিতর্ক চলে মোট নয় দিন। এসব প্রক্রিয়ার শেষে রাষ্ট্রের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য দাবি করেন।

    অন্যদিকে, মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন, তবে তার খালাসের জন্য বেশ কিছু আইনি দপ্তর আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা মনে করেন, এই মামলার সব দোষীদেরই যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে। তবে, পুরো প্রক্রিয়া আইনি নিয়মবলে চলবে এবং সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।