Category: জাতীয়

  • তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ঢাকায় উত্তেজনা ও সাজসজ্জা

    তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ঢাকায় উত্তেজনা ও সাজসজ্জা

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং এর আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ৩০০ ফুটের দীর্ঘ সভামঞ্চ ও এর চারপাশে কর্মসূচির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই মুহূর্তে সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো, যারা উল্লাসে ভাসছেন।

    তিনি বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এর আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার সমর্থকদের ঢাকায় আসার আশায় ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কর্মীরা যেন তাদের নেতাকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন, সে জন্য তাদের নানা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দলীয় পতাকা, জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন নানা ধরনের জনসভার ব্যানার, পোস্টার নিয়ে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

    এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দীর্ঘ ১৭ বছর পর, যা নিয়ে সাধারণ নেতা-কর্মীরা মুখে সুখের হাসি ও আশার কথা বলছেন। তারা মনে করছেন, এই উপস্থিতি তাদের ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে ও আগামী নির্বাচনে জয় লাভের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। দিনভর আনন্দ ও উৎসবের জন্য কর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যেও এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

    তিনি যখন বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন, তখন তিনি অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভার কেয়ার হাসপাতালে যাবেন। পরে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনায় যোগ দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যও দেবেন। এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রাথমিক সূচনা করছে, যা নতুন দিগন্তের পথ দেখাবে বলে আশাবাদী الجميع।

  • ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে দিল্লি ও শিলিগুড়িতে হামলার প্রতিবাদ

    ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে দিল্লি ও শিলিগুড়িতে হামলার প্রতিবাদ

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে নয়াদিল্লি এবং শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ভারতের হাইকমিশনারকে তলবের পর একটি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ অকপটে এসব ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করে, সহিংসতা এবং ভীতিকর পরিস্থিতির জন্য ভারতের প্রতি তীব্র নিন্দা জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব ঘটনা কেবল কূটনীতিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, শান্তি ও সহনশীলতার মূল্যবোধের বিরোধী। সূত্রের ভাষ্য মতে, সকালে ৯টা ৪০ মিনিটে প্রণয় ভার্মা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে প্রবেশ করেন। কিছু সময়ে ভেতরে থাকাকালীন তারা কারো কাছ থেকে আসা-যাওয়া করেন, এরপর তারা দ্রুত মন্ত্রণালয় থেকে বের হন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আশপাশে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনার পাশাপাশি ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়ির বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে ভারতের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আরও বলা হয়, ভারতে থাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সামনের সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাও আমরা অগ্রহণযোগ্য মনে করি। এই সব ঘটনায় গভীর তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। বাংলাদেশ এই বিষয়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে, বিশেষ করে কূটনৈতিক কর্মী ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক দায়িত্ববোধ অনুযায়ী, ভারত সরকারকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড নিঃশঙ্কোচিতভাবে চলাচ্ছে এবং তাদের মর্যাদা সুরক্ষিত থাকে।

  • একনেকে ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার ২২ প্রকল্পের অনুমোদন

    একনেকে ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার ২২ প্রকল্পের অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সম্প্রতি সভায় ২২টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৪১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিভিন্ন খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়ন আরও এগিয়ে যাবে।

    সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন ভবনে একনেকের সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটি চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সপ্তম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮তম সভা।

    বৈঠকের শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুমোদিত ২২টির প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬,৪১৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি সম্পদায়ন হবে ৩০,৪৮২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ হিসেবে মোট ১,৬৮৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যয় হবে ১৪,২৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

    উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় প্রশাসনিক অবকাঠামো, শিক্ষা, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও সমাজকল্যাণ খাতে নানা প্রকল্প। এর মধ্যে অন্যতম হলো কর্ণফুলী টানেল থেকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের গাছবাড়িয়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়ন, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর বাস্তবায়ন করবে।

    বৈঠকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে ডুগডুগি ঘোড়াঘাট পর্যন্ত মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীও অনুমোদন পেয়েছে, যেখানে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে এখন মোট ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

    দক্ষিণে, ঢাকা কাঁচপুর থেকে সিলেট ও তামাবিল মহাসড়কের চারলেন উন্নয়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্পের মেয়াদ চতুর্থবারের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীর অনুমোদন হয়েছে, যার ব্যয় এবার ৪০৪ কোটি ৪ লাখ টাকা।

    নতুন প্রকল্প হিসেবে ঢাকা ওয়াসার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপন, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এলাকা ভিত্তিক অন্যান্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, মোংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা অবকাঠামো উন্নয়ন, ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, ও নার্সিং শিক্ষার উন্নয়ন।

    শিক্ষা ক্ষেত্রে হাজী মোহাম্মদ দনেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন প্রকল্পের সংশোধনী পাস হয়েছে। সমাজকল্যাণে দুস্থ শিশুর জন্য প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    পানি সম্পদ খাতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাসহ গঙ্গা–কপোতাাক্ষী সেচ প্রকল্প, সুরমা–কুশিয়ারা নদী উন্নয়ন ও জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার অধিদফতর অন্তর্গত জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সম্প্রসারণ, কৃষি উন্নয়ন, আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশনের অবকাঠামো প্রকল্পের মতো অন্যান্য প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়।

    এই যৌথ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশে অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

  • শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

    শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

    র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    আজ, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর), দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সঙ্গে গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরাও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

    শুরুতে, অব্যাহতি চেয়ে করা আসামিদের আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। এখনও গ্রেপ্তার হওয়া ও পলাতক আসামিদের নাম-পরিচয় পরিচিতি করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনা হচ্ছে। অভিযোগের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং অভিযোগের ন্যূনতম ২১ দিনের মধ্যে বিচার পুরোপুরি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা।

    আদালত পুরো দিনটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছিল। অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব-বিজিবি ও সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতায় আশপাশের এলাকা নিরাপদ ছিল। সকাল ১০টার পর ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন- র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সামিরুল আলম, মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরপ্রাপ্ত), র‌্যাবের সাবেক গোয়েন্দা পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

    এ মামলায় প্রধান তিনজনসহ মোট সাতজন পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খায়রুল ইসলাম।

    এই গুমের মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য নির্ধারিত ছিল ২১ ডিসেম্বর। কিন্তু আসামি পক্ষের পক্ষে শুনানির জন্য আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, যিনি পরে আগাম তারিখের জন্য বলেন। ফলত, আদালত ঐ দিন থেকে দুই দিন পিছিয়ে ২৩ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, কারণ আসামি পক্ষের আইনজীবীরা সময় বিলম্বের জন্য এভাবেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে তার মন্তব্য।

    আগে, ১৪ ডিসেম্বর, গ্রেপ্তার তিন আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ, অন্যদিকে আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এম হাসান ইমাম। অন্য আসামিদের জন্য আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা আনেন তাদের আইনজীবীরা। তবে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আবার অভিযোগ গঠনের জন্য বলা হয়।

    অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয় ৩ ডিসেম্বর, চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের আক্ষেপের মধ্য দিয়ে। তিনি এর মধ্যে গুমের মাধ্যমে কি কী ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করত—কেউ কারাগারে পাঠানো হত, কেউ অজানা স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে গুম করে রাখা হত।’

    অন্যদিকে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনাল হাজির করানো হয়। শুনানির পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের জন্য প্রকাশনা ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। তৎক্ষণাৎ, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করে তাদের পক্ষের আইনজীবীর ব্যবস্থা করেন আদালত। এ মামলায়, ৮ অক্টোবর অভিযোগ দাখিলের পর, ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

  • শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা যাত্রীর ছাড়া সকল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা যাত্রীর ছাড়া সকল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

    আগামীকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে একদিনের জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ছাড়া অন্য সকলের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কথা মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদের এক বার্তায় নিশ্চিত করা হয়। তাদের এই ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের সব ধরনের সহযাত্রী, অতিথি ও ভিজিটর প্রবেশ স্বাধীনভাবে অনুমোদিত নয়। এ সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র টিকেটধারী ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত যাত্রীদের জন্য প্রবেশের সুযোগ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও চলাচলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা লক্ষ্য করা হয়েছে। বিশেষ করে, বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরার কথা রয়েছে, যা কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো কঠোর করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের বিদেশ ফেরত এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও ব্যস্থতা বৃদ্ধি পাবে এবং কোনও অপ্রয়োজনীয় প্রবেশ প্রতিরোধ করা হবে।

  • প্রথম আলো ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৯ জন

    প্রথম আলো ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৯ জন

    দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে পরিচালিত হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে, সোমবার এই ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, ফলে এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনকে আটক করা হলো।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৩১ জন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও মূল অপরাধীদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই হামলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার রাতে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় ১৫ জনকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    ডিএমপি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ১৮ ডিসেম্বর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয় ও ফার্মগেটে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনার পর ভাষ্য হলো, প্রথম আলো পক্ষ থেকে মামলা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ডেইলি স্টার কার্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলমান। সংস্থাগুলোর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত চলছে, এবং এখন পর্যন্ত ১৩ জন থানা পুলিশ, ৩ জন সিটিটিসি, একজন ডিবি কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোহাম্মদ নাইম, আকাশ আহমেদ সাগর, আব্দুল আহাদ, বিপ্লব, নজরুল ইসলাম (অথবা মিনহাজ), মো. জাহাঙ্গীর, সোহেল রানা, মো. হাসান, রাসেল (অথবা সাকিল), আব্দুল বারেক শেখ (অথবা আলামিন), রাশেদুল ইসলাম, সোহেল রানা, শফিকুল ইসলাম, মো. প্রান্ত সিকদার (অথবা ফয়সাল), আবুল কাশেম, রাজু হোসাইন চাঁদ ও সাইদুর রহমান।

    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ আরও জানায়, সমাজ মাধ্যমে প্রকাশিত হামলাকারীদের ছবি ও ভিডিও এখনও গোপন। তবে পুলিশ ৩১ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে এবং তাদের মোট গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা আরও বলেছে, উস্কানি ও সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উল্লেখ্য, রোববার রাতে এই হামলার জন্য তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় মামলাটির দায়ের করা হয়। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় তারা প্রায় দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকার সম্পদ লুট করে, এবং পুরো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা।

  • নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নিযুক্ত হলেন নাহিদ, হাসনাত, সারজিস ও অন্যান্য

    নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য নিযুক্ত হলেন নাহিদ, হাসনাত, সারজিস ও অন্যান্য

    সরকার দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং Juli আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে, Juli আন্দোলনে সম্মুখসারির কয়েকজন ব্যক্তিকে গার্ড ও গানম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

    তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও উত্তরের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। পাশাপাশি, আরও কিছু রাজনীতিক ও সংসদপ্রার্থী অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যানের দাবি করেছেন। জামায়াতের এরির ডা. শফিকুর রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রধান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়েছেন।

    আবেদনকারীদের প্রেক্ষিতে, বেশ কিছু পরিবারের সদস্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিরাপত্তা দিতে প্রদত্ত গার্ড ও অস্ত্রের লাইসেন্স শিগগিরই প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই। এর মধ্যে অন্যতম হলেন- গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন, জাফির তুহিন, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

    অপরদিকে, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকেও বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে। হাদির এক বোন লাইসেন্স ও গার্ড পাচ্ছেন, এছাড়া অন্য সদস্যদের জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়। ভবিষ্যত সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে আসন্ন ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানানো হয়েছে।

    বর্তমানে, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী ও বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে সরকার। শেখ হাসিনার দখলে থাকা ক্ষমতা থেকে নড়ে দাঁড়ানোর প্রতিবাদে দেশে পশ্চিমবঙ্গ-সহ নানা হুমকি প্রদানের খবরও এসেছে। গত বছর ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দোসররা বিভিন্ন হুমকি দিয়ে চলেছে। বিদেশে পলাতক নেতাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের অন্যদের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে, বিদেশ থেকে ক্ষতিকর হুমকিগুলি অব্যাহত থাকায় সন্দেহ হচ্ছে যে, সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।

    সম্প্রতি, বিদেশি নম্বর থেকে ওসমান হাদিকে হত্যার হুমকি ও গুলি করার ঘটনার পুরোপুরি তদন্ত চলছে, যেখানে তাকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে হত্যা করে চিকিৎসাব্যবস্থা দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সরকার বুঝতে পেরেছে, যতটা সম্ভব তালিকা করে তাদের জীবন রক্ষায় আন্তরিক উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের আরও অনেকে জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, যেমন এ বি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহ, অন্য রাজনীতিক ও আন্দোলনকারীরা। অধিকাংশ হুমকি ও জঙ্গি হুমকির সঙ্গে এই বাস্তবতাও রয়েছে।

    অতএব, দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আন্দোলনকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য গার্ড ও অস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন বাড়ছে। তবে, পরিস্থিতি বিবেচনায়, সব আবেদনকে সমানভাবে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ অনেক আবেদনের সঙ্গে যোগ্যতা ও পরিবেশগত সমস্যা জড়িত। বেশিরভাগ আবেদনকারী শিক্ষার্থী ও ছোট ব্যবসায়ী, যাদের নিজস্ব যানবাহন বা গার্ড নেই, তারা নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। সরকারও এসব বিষয় বিবেচনা করে অত্যন্ত সহনশীলতার সঙ্গে তাদের দাবি বিবেচনা করছে।

    প্রসঙ্গত, ভবিষ্যত নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে, কিছু প্রার্থী লিখিতভাবে নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এই প্রক্রিয়ায়, সাময়িকভাবে অনেক আবেদনের উপর ভিত্তি করে অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। তবে সব আবেদনকে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না কারণ পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সীমিত সংখ্যক গার্ড ও অস্ত্র সরবরাহ সম্ভব।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র বলছে, অনেকে নিরাপত্তা চেয়ে মৌখিক আবেদন করেছেন, যাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কিছু গার্ড ও অস্ত্রপ্রাপ্তি হয়েছে, তবে সব সদস্যের জন্য নয়। আগামী দিনগুলোতে, মূলত বিচার বিশ্লেষণ ও যাচাই করে, প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করবে।

  • পুলিশ রিপোর্ট আসার ৯০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে: আইন উপদেষ্টা

    পুলিশ রিপোর্ট আসার ৯০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হবে: আইন উপদেষ্টা

    পুলিশের রিপোর্ট পাওয়ার পরে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। আজ (সোমবার, ২২ ডিসেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি এ কথা জানান।

    তার পোস্টে তিনি লিখেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে। দ্রুত বিচার আইন, ২০০২ এর ১০ ধারা অনুসারে, পুলিশ রিপোর্ট পাওয়ার একটুনে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে।’

    অন্যদিকে, শহীদ হাদির বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানী ঢাকার শাহবাগের ‘শহীদ হাদি চত্বরে’ এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

    সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, এই ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা নির্বাচনের আগে হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান এবং বলেন, বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং প্রয়োজনে এফবিআইর সহায্য নিতে হবে।

    তাদের মতে, গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা হয়। এর এক দিন পর, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড়ে দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অগ্রগণ্য চিকিৎসা জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অবস্থা গুরুতর হওয়ায়, ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার, তিনি মারা যান। তার মরদেহ গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হয়। এরপর মরদেহটি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রাখা হয়, এবং পরদিন শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ আবারো হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে আনা হয়।

    অবশেষে, দুপুরে জানাজার পূর্বে মরদেহটি জাতীয় সংসদ ভবনের এলাকায় নেওয়া হয়। হাদির মৃতদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের শোক প্রকাশ করা হয়।

  • আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন

    আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা-১০ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নাগরিক নেতা এবং সমাজকর্মী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ধানমন্ডি থানা নির্বাচন কর্মকর্তা অফিস থেকে এই ফরম গ্রহণ করেন। ঢাকা-১০ আসনটি ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ অঞ্চল নিয়ে গঠিত, যেখানে এই অঞ্চলের ভোটাররা স্থানীয় উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন।

    মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দেড় বছর কাজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মুখ খুলেছেন। পাশাপাশি তিনি জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেন।

    আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, যার কারণে অন্যান্য প্রার্থীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি জানান, নিয়মিত গোয়েন্দা সংস্থা থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা পাওয়া যাচ্ছে, যা তার নির্বাচনি প্রচারণায় বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

    তিনি একথাও উল্লেখ করেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের দায়িত্ব হলো প্রতিটি প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন ঝামেলা করতে চাইছে।

    উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের পর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার সহকর্মী মাহফুজ আলম পদত্যাগ করেন।

    অপরদিকে, এই আসনে বিএনপি থেকে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম মনোনীত হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজ্ঞ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসীম উদ্দিন সরকার। এখন পর্যন্ত দেশের অন্যান্য প্রার্থী হিসেবে এই আসনে কোনও ঘোষণা দেয়নি ұлттық নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

  • ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য

    ভারত-বাংলাদেশ উত্তেজনা: রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কথা বলেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে রাশিয়ান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,আমরা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে চাই না। তবে পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ, এটি শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি একটি ভূরাজনৈতিক ব্যাপার, যার নেতিবাচক প্রভাব এলে ফলপ্রসূ সমাধান না হলে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমাতে হবে। এটা জোর দিয়ে তিনি বলেন, এটাই এখন অত্যন্ত জরুরি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে খোজিন বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের বড় অবদান ছিল এবং তখন রাশিয়াও সমর্থন দিয়েছিল। সেই সময় আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি, বিশেষ করে মাইন পরিষ্কারের ক্ষেত্রে। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমি মনে করি যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনা কমানো উচিত।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশ বেছে নিতে পারি না। ইউক্রেনের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতা আমাদের উদ্বিগ্ন করে—আবার এখানকার পরিস্থিতি নিয়েও আমরা গভীর উদ্বেগে রয়েছি।

    এ সময় তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের এই অবস্থান লক্ষ্য করেছি যেখানে তিনি সব পক্ষের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে উত্তেজনা কমানো যায়।

    নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজির কথা তুলে ধরে খোজিন বলেন, আমরা একটি ইতিবাচক, বন্ধুত্বপূর্ণ, অহিংস এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে আগ্রহী। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বলেন, বিভিন্ন অস্থিরতা ও সহিংসতার ঘটনাগুলি দেখা যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশে উত্তেজনা কমাতে আমরা আগ্রহী, যা নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।

    আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে তিনি জানান, আমরা স্বাগত জানাই— তবে এর জন্য নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসা জরুরি। নির্বাচন কমিশনই এই বিষয়ে দায়িত্বশীল। তৎপরতার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।

    পূর্বের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে খোজিন বলেন, রাশিয়া যখন অন্য দেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে, তখন আমাদের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি, সামাজিক সংস্থার সদস্যরা বা কখনো উচ্চ মাধ্যমিক দপ্তরের প্রতিনিধিরাও থাকেন। অতএব, নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না এলে আমরা অপেক্ষা করব।