Category: জাতীয়

  • প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন

    প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন

    বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট বই পেয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল বাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি এ তথ্য উল্লেখ করেন।

    উপদেষ্টা বলেন, এবারের বইয়ের মান আগের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য সফলতা যা একটি স্বর্ণালী বার্তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য। মোট ৩০ কোটি বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য এই বছর ছাপানো হয়েছে।

    তিনি জানান, প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপা ও বিতরণ প্রক্রিয়া শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ৬০ শতাংশ বই এখনো বিতরণের জন্য প্রস্তুত।

    ব্রিফিং এ তিনি বলেন, মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পরে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এই বছর বই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা পালন না করে শিক্ষার্থীদের হাতে সরাসরি বই তুলে দেয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, গত বছরও বছরের প্রথম দিন পাঠ্যবই উৎসব হয়নি।

    অন্যদিকে, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাক্রম বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট বইয়ের সংখ্যা বর্তমানে ৮ কোটি ৫৯ লাখ। সব বই ছাপা, বাঁধাই ও কাটাকাটির কাজ সম্পন্ন হয়ে বিতরণের জন্য সব জেলায় পাঠানো হয়েছে। অগ্রগতির অংশ হিসেবে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল-ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ এবং সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৮ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তবে, বছর শুরুর দিনে সমস্ত শিক্ষার্থী এখনো মাধ্যমিক স্তরের বই পেয়ে যাচ্ছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।

  • যতদূর চোখ যায়, মানুষ আর মানুষ

    যতদূর চোখ যায়, মানুষ আর মানুষ

    সংসদ ভবন এলাকা এখন মানুষের ঢলনে মোড়া। এখানে থেকে যতদূর চোখ যেতে দেখা যাচ্ছে, শুধু মানুষই মানুষ। তারা সবাই এসেছে নেত্রী খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে। জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি শুধু বিএনপি ও দেশের মূল নেতা নয়, একই সঙ্গে মানুষের প্রিয় এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এই জনস্রোত স্পষ্ট করে দিয়েছে—খালেদা জিয়ার জন্য দেশের মানুষ কেমন গভীর আবেগে ভাসছেন।

    সারা দেশ থেকে মানুষ এখন রাজধানীতে এসে যেন তার শেষ বিদায়ে অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই জনসমুদ্রে প্রকৃতি যেনও এরই সঙ্গে সম্মতি জানাচ্ছে—প্রকৃতি নিজেও খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত। গত কয়েকদিনের কনকনে ঠাণ্ডা ঢেকে গিয়েছিল শহর, কিন্তু আজ উঁচু সূর্যের ঝলকানি ও মিষ্টি রোদে একটু স্বস্তি ফিরে এসেছে আগত মানুষের মুখে।

    দুপুর দেড়টার সময় সংসদ ভবনের আশপাশে, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংলগ্ন সড়কগুলো সবই মানুষের ঢলে ভরে গেছে। এই ঢল পৌঁছে গেছে ফার্মগেট এলাকাও।

    খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ২টায়, যার পরে তাকে তার স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হবে। এই শোকাবহ মুহূর্তে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কথা জানানো হয়েছে।

    নিরাপত্তার কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার মরদেহ পৌঁছায়। এটি নিয়ে আসা হয় লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে, যা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকে নিরাপদে বাহন করে নিয়ে এসেছে।

    এর আগে, সকাল ১১টার দিকে গুলশানে অবস্থিত ছেলে তারেক রহমানের বাসা থেকে মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার মরদেহ নেয়া হয়।

    গতকাল রাতে, ভোর ৬টায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুতে মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে, আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ গভীর শ্রদ্ধাজ্ঞলি তাকে বিদায় জানাতে আসছেন।

  • খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধায় ৩৩ দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারের বাসস্থান ত্যাগ

    খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধায় ৩৩ দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারের বাসস্থান ত্যাগ

    বুধবার ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বারিধারার কূটনৈতিক জোনে অবস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত ৩৩টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার পদত্যাগ করেছেন। এই পদক্ষেপটি ছিল বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণ ও শ্রদ্ধা জানাতে, যা ঢাকার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।

    রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে রওনা হয়েছেন, যেখানে তারা বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় জানাতে এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে উপস্থিত থাকবেন। এসময় তারা দেশের বাইরে থাকা বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাথে একত্রে উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে রয়েছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, কানাডার হাইকমিশনার অজিত শিং, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, মার্কিন অস্থায়ী রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ও মালয়েশিয়ার অস্থায়ী রাষ্ট্রদূত আমির অফির আবু হাসানসহ আরো অনেকেই।

    এর পাশাপাশি, ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার এ সমস্ত সংস্থা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক পেজে বিবৃতি প্রকাশ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে।

    বেগম খালেদা জিয়ার নামাজের জানাজা আগামী বুধবার বিকেল ২টায় দেশের সংসদ স্থাপনার দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা পড়াবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

    এই সময় তার পরিবারের সদস্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা, বিদেশি কূটনীতিক, এবং বিএনপি মনোনীত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

    উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

  • খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত

    খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ জানাজায় অংশ নিতে আজ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি সেখানে পৌঁছান। তার সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে, বুধবার দুপুর ২টার দিকে নির্ধারিত সময়ে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হতে ছিল, তবে মানুষের ব্যাপক সমাগমের কারণে তা পরে()]। জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এসেছেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতা। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও অন্যান্য বাহিনী প্রধানরাও জানাজার স্থলে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায় পৌঁছায়। সেখানে তার স্বজনরা ও নেতাকর্মীরা শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তার ছেলে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মায়ের কফিনের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন। জানাজার উদ্দেশ্যে সকাল থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অসংখ্য মানুষ ছুটে এসেছেন। দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের মাঝেও তার প্রতি গভীর श्रद्धা ও দুঃখের ছাপ দেখা যাচ্ছে। জানাজা শেষে, তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে। এই শোকাবহ দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।

  • ই-সিগারেট ও ভেপ নিষিদ্ধের জন্য অধ্যাদেশ জারি

    ই-সিগারেট ও ভেপ নিষিদ্ধের জন্য অধ্যাদেশ জারি

    ই-সিগারেট, ভেপ, পাশাপাশি সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট, কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতায় মোড়ানো বিড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।

    সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই অধ্যাদেশটি অনুমোদন পায়, যা আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে সহ-সাক্ষরিত। এই নতুন নিদের্শনা ২০০৫ সালে গৃহীত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের সংশোধনী হিসেবে জারি করা হয়েছে। এতে তামাক, তামাকজাত দ্রব্য, নিকোটিন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট উপাদানের সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে নতুনভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

    অধিনিয়মে উল্লেখ করা হয়েছে, ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট, নিকোটিন পাউচসহ অন্যান্য নিকোটিনজাত দ্রব্যের তালিকায় যোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতায় মোড়ানো বিড়ি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম বা এর যন্ত্রাংশ তৈরি, আমদানি, বিক্রয়, প্রচার, বিপণন, বিতরণ বা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভেপিং বা ভেপারও নিষিদ্ধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের জেল বা দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় বা আরো বেশি বার অপরাধ করলে দণ্ড দ্বিগুণ হবে।

    কারো কোম্পানি যদি এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তবে তার মালামাল জব্দ করা হবে এবং মালিক, ব্যবস্থাপক বা অন্য দায়িত্বরত ব্যক্তির জন্য ছয় মাসের জেল বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারিত। এই ধরনের অপরাধে লাইসেন্স বাতিলেরও প্রস্তাব আছে।

    কোনো ব্যক্তি ই-সিগারেট বা এর যন্ত্রাংশ ব্যবহার করলে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

    এছাড়া, কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতা বা অন্য গাছের পাতায় মোড়ানো বিড়ি উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ, বিক্রয়, পরিবহন বা ক্রয়-বিক্রয় করলে তিন মাসের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকার জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কোম্পানি এই অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের লাইসেন্স বাতিল, আর্থিক জরিমানা বা লেনদেন স্থগিত করা যেতে পারে।

    সবশেষে, কুম্ভি বা টেন্ডু পাতা দিয়ে মোড়ানো বিড়ি ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি দেওয়া হবে। এই কঠোর নিয়মের মাধ্যমে বাংলাদেশের তামাক ও ই-সিগারেটের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতেই এই সম্প্রতি আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • তারেক রহমানের সঙ্গে নেপাল-ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    তারেক রহমানের সঙ্গে নেপাল-ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

    বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিএনপি ভবনে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী লিয়নপো ডি. এন. ধুংগেল। বিএনপির মিডিয়া সেলে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকের সময় তারা তারেক রহমানের হাতে শোকবার্তা প্রদান করেন। এই সাক্ষাৎটি বিশেষ önem रखनेা কারণ, এর আগে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকায় ঢুকেন নেপালের ও ভুটানের এই দুই মন্ত্রী, গোপালগঞ্জে বাংলাদেশি নেত্রীর মৃত্যুর শোক প্রকাশ করতে। উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঐদিন ভোরে মারা যান। এই দুঃখজনক পরিস্থিতিতে নেতৃবৃন্দের সাথে শোক ও সমবেদনা প্রকাশের জন্য তারা বাংলাদেশে এসেছেন।

  • বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বাদ জোহর

    বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বাদ জোহর

    বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, এর জানাজা আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ মিটিংয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে চোখের সামনাে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে এবং তাকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হবে। সভায় মন্ত্রী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা আরও জানিয়েছেন, আন্তঃসরকারি তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠান চলাকালে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়াও, তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল এবং তার এই মৃত্যু প্রতিটি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে দেশের সাধারণ জনগণের শৃঙ্খলিত সমাগম ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে, এই তিন দিন—৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি—রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকবে সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই শোয়েব রাজনীতিক নেত্রী, মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তার মৃত্যুতে দেশের সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে আসে। এই শোক ও শ্রদ্ধার মধ্যে তাঁর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের প্রতি সব মানুষের সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন বিএনপি নেতারা

    সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন বিএনপি নেতারা

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবর্ধনামূলক এক সংবাদ সম্মেলনে চোখে অশ্রু নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দুজনকে কাঁদতে দেখা যায়, যা নবনির্মিত নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের হৃদয় বিদ indruking করে।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক যে, আজ আমাদের প্রিয় নেত্রী আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমরা কখনো ভাবিনি, এই দিনটি আসবে। আশা করেছিলাম, তিনি আগের মতো সুস্থ হয়ে ফিরবেন। কিন্তু আজ ভোর ৬টায় ড. শাহাবুদ্দিনের ঘোষণা অনুযায়ী, গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, আমাদের নেতা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এই শোক অপূরণীয়, এই ক্ষতি কখনো পূরণ হবে না। তিনি সারাজীবন জনগণের অধিকার ও কল্যাণের জন্য আত্মনিয়ােগী হয়ে সংগ্রাম করেছেন, সেই নেত্রী আর আমাদের মধ্যে নেই। বাংলাদেশে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরী হলো, যা কোনোভাবেই পূরণ হবে না। এই শূন্যতা শুধু সাধারণের নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরও বড় ক্ষতি।’

    রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেন, ‘আমরা আজ এক গভীর শোকের মধ্যে আছি, যেন আমাদের মায়ের ছায়া থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তিনি ছিলেন অসুস্থ, হাসপাতালে ছিলেন, আবার বাড়িতে। তবুও আমাদের মনে হত, তিনি আছেন, কারণ তাঁর উপস্থিতি আমাদের সাহস দিত। এই দীর্ঘ সময় ছাত্র রাজনীতি থেকে তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, তাঁর ত্যাগ স্বীকারের সাহায্যে আমরা শক্তি পেতাম। এত তাড়াতাড়ি তিনি চলে যাবেন, ভাবতেই কষ্ট হয়। এ শোক ও সংকট কাটিয়ে উঠা খুবই কঠিন। নিপীড়নের মধ্যেও তিনি স্বল্প সময়ে স্বাভাবিক জীবন কাটিয়েছেন, তাঁর লড়াইয়ের জন্য আমাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা। বিশ্বের সব মানুষের হৃদয় তাঁর জন্য গভীর শোক প্রকাশ করছে। এই শোকময় সময়ে মানবতা ও গণতন্ত্রের জন্য তিনি যে ত্যাগ করে গেছেন, তার জন্য আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবো।’

  • বেগম জিয়ার মৃত্যুতে দায় হাসিনা ও তার সরকারের, আইন উপদেষ্টা বলেন

    বেগম জিয়ার মৃত্যুতে দায় হাসিনা ও তার সরকারের, আইন উপদেষ্টা বলেন

    বাংলা politieke দুনিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে। আইন উপদেষ্টার মতে, এই মৃত্যু সাম্প্রতিক সরকারের, বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট মুখোশ পরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের প্ররোচনামূলক ও অন্যায় সিদ্ধান্তের ফল। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো রায় দিয়ে জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছিল, যা নিঃসন্দেহে অহিংস ও নির্মম নির্যাতন। তার দেখানো বারবার আদালতের রায় ও সংবিধানের প্রতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দ্ব্যর্থকতা এই সত্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি দাবি করেন, অবিচার ও নিপীড়নের এই পরিস্থিতিতে দেশের ইতিহাসের এই নেত্রীর মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি দায়ী বর্তমান সরকারের প্রধান ব্যক্তি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সম্ভব সবকিছুই করেছে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে সবসময় খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। যদি তার অবস্থা কিছুটা ভালো হতো, তাহলে হয়তো তাকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হতো। তবে, ভাগ্যক্রমে তিনি আমাদের ছেড়ে গেলেও, দেশের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে বিদায় নিলেন।

    শীঘ্রই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে এক জরুরি বৈঠক করবে, যেখানে খালেদা জিয়ার জানাজার অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, জানাজার স্থানসহ সব ধরনের সহযোগিতা অন্তর্বর্তী সরকার দিয়ে পাওয়া যাবে।

    অতিরিক্তভাবে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা ও সকল আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করা হবে। এর আগে, বাংলার এই বড় নেত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথোপকথন হয়েছিল সশস্ত্র বাহিনী দিবসে, যেখানে তিনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।

    আসিফ নজরুল বলেন, এই মুহূর্তে দেশের মানুষের হৃদয়ে খালেদা জিয়ার স্থান অটুট ও অক্ষয়। তার পাপড়ির মতো স্থায়িত্ব, তার জন্য দেশের প্রতিটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ভবিষ্যতেও অম্লান থেকে যাবে। তার জানাজার নামাজ যথাযথভাবে, শৃঙ্খলার সঙ্গে, ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

    সুরক্ষা ও শোকের স্মারক হিসেবে জানানো হয়, ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এছাড়া, এ সময়ে সরকারি সব ধরনের অনুষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।

    মঙ্গলবার ভোর ৬টা দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তার স্মৃতি, মূল্যবোধ এবং নেতৃত্বের প্রভাব চিরদিন বাংলার মানুষের হৃদয়ে অম্লান থাকবেন।

  • তারেক রহমানের মাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট, দোয়া চান

    তারেক রহমানের মাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট, দোয়া চান

    সদ্য মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। এই শোকাহত দেশের মানুষ অন্ধকারে ডুবে গেছে, বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে শোক প্রকাশ করছেন। সরকারও এই দুঃখের সময় শোকপ্রকাশে ঘোষণা দিয়েছে।

    বিপুল শোকের মধ্যেই তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগময় পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, মা—বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দেশের স্বার্থে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ (মঙ্গলবার) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    তারেক রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেন, অনেকের কাছে তিনি গণতন্ত্রের মা, আপোষহীন নেত্রী, দেশের মূল নেতা। আজ দেশের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, এক এমন পথপ্রদর্শককে হারানো, যিনি গণতন্ত্রের পথে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন এবং এর জন্য অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন।

    তিনি বলেন, আমার জন্য তিনি একজন মাতৃপ্রেমী মা, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায়। তিনি স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সবসময় লড়েছেন, দেশের স্বাধিকার, সুষ্ঠু শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    মাকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ত্যাগ ও সংগ্রামে পরিপূর্ণ এই মানবী পরিবারের একমাত্র খুঁটি, এমন একজন আলোকবর্তিকা, যাঁর অভিন্ন ভালোবাসা আমাদের সব শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তারপরও তাঁর সাহস, সহানুভূতি ও দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে পরিবারকে তিনি শক্তিশালী করেছেন।

    পরিবারের বয়ান তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, দেশের জন্য তিনি স্বামী-সন্তান হারিয়েছেন। সেই ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের মানুষই became his extended family, his identity, his existence. তার কর্ম জীবন রেখে গেছেন এমন এক ইতিহাস, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    শেষে, তিনি দোয়া চেয়ে বলেছেন, সকলেই তাঁর মা-এর জন্য দোয়া করবেন। দেশের প্রতি তাঁর আস্থা, ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা তার পরিবারের প্রতি আজও অটুট, এবং আবেগময় এই শোকার্ত পরিবার সমস্ত দেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ।

    মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। বিকেল ছয়টার দিকে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।