Category: জাতীয়

  • হাদী হত্যাকাণ্ড: পুলিশের তদন্তে ফয়সালের দুই ভিডিওবার্তা পরীক্ষা চলছে

    হাদী হত্যাকাণ্ড: পুলিশের তদন্তে ফয়সালের দুই ভিডিওবার্তা পরীক্ষা চলছে

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বলেছেন, হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফয়সাল নামে একজন শ্যুটার জড়িত থাকায় তিনি সন্দেহ করেছেন। সম্প্রতি ফয়সালের দুটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন তিনি। এই ভিডিওগুলি পুলিশ পেয়েছে এবং শনাক্তকরণ ও যাচাইবাছাই করার 작업 অব্যাহত আছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী নিশ্চিত করেছেন।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ক্রাইম রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ এর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    হাদী হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ফয়সালের দুটি ভিডিও বার্তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, ডিএমপি কমিশনার জানান, এই বিষয়টি তারা নিঃশর্তে অপ্রকাশিত রেখেছেন। ভিডিওগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে রয়েছে। পরীক্ষা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবেন।

    আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশ বিভাগ ব্যাপক রদবদল এবং নতুন रणनीতি গ্রহণ করেছে, যা লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে।

    নির্বাচনকালীন প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে যদি অভিযোগ আসে যে কেউ জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নির্দেশে সদস্য বা গার্ড দিয়ে নিরাপত্তা সেবা দেয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে গার্ড দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি কারো জীবনের ঝুঁকি দেখা যায়, তখনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা প্রস্তুত।

    বিশাল জনসমাগম, যানজট এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের কারণে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাস্তায় পথেঘাটে মানুষের ভিড়, গোষ্ঠীগত চাপা-চাপা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা ও যানজটের কারণে সাধারণ মানুষ কষ্টে জীবন যাপন করছে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে অথবা ইমার্জেন্সি সার্ভিসে যেতে পারছে না কেউ। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা থেকে অনুরোধ সত্ত্বেও এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না, যা খুবই দুঃখজনক। শহরবাসীর এই দুর্ভোগ কমাতে একে অপরের ওপর আস্থা ও সহানুভূতি বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতা জরুরি।

    তিনি জানান, জানুয়ারির ২১ বা ২২ তারিখের দিকে এই বছর একটি বড় নির্বাচনী ক্যাম্পেইন শুরু হবে, যেখানে অরাজকতা বা সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে। এই জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিরপেক্ষতা রক্ষা করে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা।

    অতিরিক্ত হিসেবে, কমিশনার মন্তব্য করেন, বর্তমানে ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ছিনতাই ও অন্যান্য সাধারণ অপরাধের সংখ্যা কমে এসেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সকলের সহযোগিতা ও সতর্কতায় ভবিষ্যতেও এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে পারা সম্ভব। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন, যেন এই পরিস্থিতি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়।

  • বিটিআরসি ভবনে হামলা, ৩০ জনের বেশি আটক

    বিটিআরসি ভবনে হামলা, ৩০ জনের বেশি আটক

    শুল্ক না কমিয়ে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিটিআরসি কার্যালয়ে হঠাৎই বিক্ষোভকারীরা হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এর ফলশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে।

    নির্ধারিত মোবাইল ফোন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা এই হামলা চালান। তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল ছুঁড়ে ও ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালায়।

    পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ‘তাদের আচরণ আকস্মিক ও অপ্রত্যাশিত ছিল। তারা ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।’

    হামলার সময় বিটিআরসির মসজিদের কাঁচ ভেঙে যায়। তবে সেখানে তখন প্রতিষ্ঠানটির বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী নামাজ পড়ছিলেন বলে জানা গেছে, এবং এখন পর্যন্ত কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    অভ্যুত্থানপ্রবণ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এবং পুরো অফিস ভবনটি অস্থিরতা বিরাজ করছে। সবাই আতঙ্কে রয়েছেন, কেউ কেউ আটকে পড়েছেন।

  • জাইমার দাদির জন্য গভীর আবেগঘন স্ট্যাটাস

    জাইমার দাদির জন্য গভীর আবেগঘন স্ট্যাটাস

    সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। মঙ্গলবার এই বর্ষীয়ান নেত্রীর মৃত্যুতে সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি পৃথিবী থেকে চলে যান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ‘অপোসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া। মৃত্যুর দুদিন পর, তিনি দাদীর সঙ্গে কাটানো বিশেষ কিছু মুহূর্তের স্মৃতি তুলে ধরেন। এই স্মৃতি শেয়ার করার পাশাপাশি তারেক রহমানের কন্যা জাইমা একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাদীর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই স্ট্যাটাস দেন তিনি। স্ট্যাটাসের ক্যাপশনে তিনি ভাষাকের ইতিহাসে বিখ্যাত কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ‘বিদায়-বেলায়’ এর পংক্তি দিয়ে তার দাদীর সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন।

  • মুন্সিগঞ্জে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনুমোদন

    মুন্সিগঞ্জে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অনুমোদন

    মুন্সিগঞ্জ জেলায় একটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ওই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটিতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হবে। গত বছর ১১ নভেম্বর সরকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেয়, সেটি হলো ঢাকার জুরাইনের ব্যারিস্টার রফিকুল হক মেডিকেল কলেজ। বর্তমানে দেশে মোট ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এ খাতে এই নতুন অনুমোদন যোগ হওয়ায় সরকারি চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই নতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থাপনের ফলে মুন্সিগঞ্জসহ আশপাশের জেলার মানুষের জন্য চিকিৎসা এবং শিক্ষা সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

  • খালেদা জিয়ার সমাধিতে মানুষের ঢল ও শ্রদ্ধা নিবেদন

    খালেদা জিয়ার সমাধিতে মানুষের ঢল ও শ্রদ্ধা নিবেদন

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে খালেদা জিয়ার সমাধিতে। বিভিন্ন প্রাইভেট আর গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কেউ মোনাজাত করছেন, কেউ ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আবার অনেকে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকছেন। বেশ কিছু মানুষ ছবি তুলছেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন।

    বিকেল সোয়া তিনটার পরে, জিয়া উদ্যানে প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশের জন্য হাজারো মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। আগে থেকেই এখানে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দুপুর বারোটার দিকে যখন প্রবেশপথ উন্মুক্ত করা হয়, তখন বড় সংখ্যক মানুষ ছুটে আসেন। এর আগে সকাল থেকে জিয়া উদ্যানের মূল ফটকের সামনে নেতাকর্মী ও সাধারণ পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। নিরাপত্তার কারণে অনেককে তখন ঢুকতে দেয়া হয়নি, তবে বিকেলের দিকে ফটক খুলে দিলে প্রচুর মানুষ কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে আসেন।

    সারেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই জিয়া উদ্যানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দুপুরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এখন অনেক মানুষ ছোট-বড় গ্রুপে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে থাকেন। একদিকে দলের নেতা-কর্মী, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ—সবার মনোভাব একটিই, পেছন থেকে আসা স্মৃতি ও ভালোবাসা।

    এমনকি ঢাকার বাইরে থেকে এসেও বিভিন্ন মানুষ এই শোকে সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হন। তারা কেউ কেউ চোখের জল এড়াতে পারেন না। কথার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়, তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। সাধারণ মানুষ হিসেবে এই মরহুমার প্রতি আমার গোপন ভালোবাসা ও সম্মান। তিনি আরও বলেন, আমি খুব সহজ সরলপ্রাণ মানুষ, খালেদা জিয়াকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি এবং তার জন্য কবর জিয়ারত করতে এসেছি।

    জনপ্রিয় এই নেত্রীটির বিদায়ে শত শত মানুষ অংশ নেন। খুলনা শহর থেকে আসেন আব্দুল মনির (৫৭), তিনি বলেন, আমি ৯০-এর আন্দোলনে অংশ নিয়েছি এবং তখন থেকেই বিএনপির সাথে রয়েছি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাজ করেছি। আজ বহু বছর পরে তার কবর জিয়ারত করে স্মরণ করতে এসেছি। তিনি আরও বলেন, এই দিনটি আমার জীবনে স্মরণকালের অন্যতম শ্রদ্ধার দিন।

    অনেকে তো দলীয় না হয়েও এই শোক এবং সম্মান প্রকাশের জন্য এখানে হাজির হন। মুন্সিগঞ্জের ফাতেমা শারমিন প্রথমবারের মতো কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে একটি মঞ্চ তৈরি হয়েছে যেখানে আলেম-ওলামা কোরআন পাঠ করবেন এবং দোয়া করবেন। এ মঞ্চটি আগামী ৪০ দিন সবার জন্য থাকবে।

    বেলা সাড়ে পাঁচটার পরে, খালেদা জিয়ার সমাধি থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। গত মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া রাজধানীর এভার ked್ಪತ್ರায় মারা যান। এরপর বুধবার তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। জানাজার পর, হাজিরা শেষে তাকে তার স্বামীর সমাধি—প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।

    বর্তমানে বিএনপি ও দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এই দুঃখজনক দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মাধ্যমে স্মরণ করছে। সবাই তাদের প্রিয় নেত্রীর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন এবং তার জন্য শান্তির কামনা ব্যক্ত করছেন।

  • পরবর্তী ৫ দিন কুয়াশা ও শীতের দাপটে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে

    পরবর্তী ৫ দিন কুয়াশা ও শীতের দাপটে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে

    আগামী পাঁচ দিন ধরে দেশের আবহাওয়ায় কুয়াশা আর শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুসারে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছু কিছু জায়গায় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে, যার ফলে আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও নিচে নেমে আসার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা।

    শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তার সংশ্লিষ্ট এলাকার ওপর রয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বিস্তৃতি উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত।

    আজ সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকালে, বিশেষ করে রাতের দিকে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কিছু জায়গায় দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।

    এ ছাড়াও গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার মতো জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছু স্থান থেকে প্রশমিত হতে পারে। এদিন সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে পূর্বাভাসে জানানো হয়, সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে আবারও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে যেতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, আবার দিনের তাপমাত্রাও অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের দিকে নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    চতুর্থ ও পঞ্চম দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) ও মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) একই রকম আবহাওয়া চলমান থাকতে পারে। এই দিনগুলোতেও সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝে মাঝে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার দেখা যেতে পারে। পঞ্চম দিনে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সামনের দিনগুলোতে সারাদেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছে আবহাওয়া অফিস। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • ১৭ জেলায় শীতল প্রবাহ, তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা

    ১৭ জেলায় শীতল প্রবাহ, তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা

    দেশের ১৭ জেলায় এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এদিকে, সারাদেশে সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা অনেকে ১ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর, যার ফলে কিছুটা শীতের এই পরিস্থিতি আবার অপেক্ষাকৃত প্রশমিত হতে পারে বলে ধারণা করছে।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর এসব তথ্য জানায়।

    আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বিস্তৃতি পশ্চিমবঙ্গ এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলসহ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে, যা উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

    তিনি আরও বলেন, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে উড়োজাহাজ, নৌকা ও সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

    এছাড়া, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলাসহ কিছু কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। সারাদিনে রাতের তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

    আজ যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি।

    আগামীকাল (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে, তবে মধ্যরাত ও সকাল থেকে অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে, এই পরিস্থিতির কারণে উড়োজাহাজ, নৌকা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ অংশে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে, তবে নদী অববাহিকাসহ কিছু কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টার পরও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে, যেখানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার প্রবণতা থাকবে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) একই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শীতল আবহাওয়া চলমান থাকবে। রাত ও সকালে নদী তলদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সাথে থাকতে থাকবে। সামগ্রিকভাবে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, এবং শীতের এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

  • ঢাকার রাজপথে শোকের মাতম: খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

    ঢাকার রাজপথে শোকের মাতম: খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

    দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান খালেদা জিয়ানের মৃত্যুতে রাজধানীর প্রতিটি কোলাহল যেন শোকের মাতমে পরিণত হয়। তার জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর মানিকমিয়া এভিনিউসহ আশপাশের এলাকাগুলো জনসমুদ্রের মধ্যে রূপান্তরিত হয়, যেখানে এক দিকে চোখ যায়, অন্য দিকে মানুষের ঢল। দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের দেখা মেলে, যারা তার বিদায় জানাতে এসেছেন। প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই এককথায় বলেছেন—আর কখনো দেশের ইতিহাসে এত বড় মুক্তির ঝড়ের মতো জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। এই জানাজাকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় জানাজা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

    বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ানের জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বিকেল ৩টায় সেটা শুরু হয়। আগের দিন থেকেই মানিকমিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়। জনতার বিশাল ঢল জাহাঙ্গীর গেট, মিরপুর রোড, ফার্মগেট ছাড়িয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং মগবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাইক থেকে উচ্চস্বরে প্রচার করা হয়, আর দর্শনার্থীরা রাস্তায় কাতারবন্দি হয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কেউ বাসায়, কেউ ফুটওভার ব্রিজে, যেখানে যেখানে জায়গা পান সেখানে দাঁড়ান। এই জানাজায় অংশ নেন শুধু বিএনপি’র নেতাকর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার মানুষ। এর পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকার গাছ, ফুটপাথ এমনকি কাছাকাছি ভবনের ছাদগুলোতেও ব্যাপক লোক সমাবেশ ছিল।

    প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদায়ে অংশ নিতে ভোর থেকে তীব্র শীতের মধ্যেও মানুষ ছড়িয়ে পড়েন। তারা মানিকমিয়া এভিনিউ, দলের কার্যালয়, এভারকেয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। সকাল থেকে দিনভর তারাও আসতে থাকেন আর বাড়তে থাকে জনস্রোত। জানাজায় অংশ নেওয়া মুসল্লিরা বলেন, এই জানাজা ইতিহাসের অন্যতম বিরল ঘটনা হয়ে থাকবে। শেষ বিদায় হিসেবে এত মানুষের উপস্থিতি খুব কমই দেখা যায়। অনেকের মুখে একটাই কথা—অতি সহজে জীবনধারায় পাওয়া যায় না এই ভাষা, এই অনুভূতি।

    বিশেষ করে ক্ষোভ-আকাশে বাতাসে, আবেগে ভরা এই আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, সৌদি আরবসহ মোট ৩২ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ভারত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নেপালের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পাকিস্তানের স্পিকারসহ অনেক বিদেশিপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা এই অনন্য মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ভাষা বুঝতে পেরেছেন।

    খালেদা জিয়ার জানাজায় নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়। জানাজার মূল আসরে নারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও আশপাশে হাজারো নারী অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানাচ্ছেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

    বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী তাদের গার্ড অব অনার প্রদান করে। দাফনের পর মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই মোনাজাতে উপস্থিত ছিল হৃদয় বিদারক অনেক দৃশ্য; নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গগণবিদারী কাঁদো কাঁদো দৃশ্য পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অধ্যায় সমাপ্ত হয়, যা সবসময় স্মরণ থাকবে।

  • খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত

    খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার পর থেকে সাধারণ জনগণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এই সুযোগে দেশপ্রেমিক নতুন প্রজন্মসহ নানা বয়সের মানুষ সমাধিস্থলে এসে তার জন্য শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তারা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রিয় নেত্রীর প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন।

    আজকের এই বিশেষ দিনে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরীর জিয়া উদ্যানে উপস্থিত হন অসংখ্য মানুষ। বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা জনতারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পড়ছেন এবং কবরের পাশে এসে নীরবে মাথা নত করছেন। কেউ কেউ একসাথে কোরআন তেলাওয়াত করছেন। কিছু মানুষ কবরের পাশে বসে সূক্ষ্ম মনোভাবনায় দোয়া করছেন, আবার অনেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।

    উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, তারা শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীকে নয়, বরং দেশের একজন মমতাময়ী ও প্রিয় নেত্রীকে সম্মান জানাতে এই কবর জিয়ারতে এসেছেন। কবরের পাশে কিছু মানুষ শান্তভাবে হাত তুলছেন দোয়া করছেন, কেউ বা কোরআন পড়ছেন।

    বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে বেশ সুসজ্জিতভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে। জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সীমিতসংখ্যক মানুষ কবর জিয়ারতের জন্য প্রবেশ করতে পারছেন।

    সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে দীর্ঘ ভিড় দেখা গেছে। অনেক মানুষ পরিবারসহ এসেছেন, অনেকে একা দাঁড়িয়ে প্রিয় নেত্রীর জন্য দোয়া করছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে সব পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতেও সাধারণ জনগণের কবর জিয়ারত অব্যাহত থাকবে। ধাপে ধাপে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকায় আরও বেশি মানুষ এই পুণ্যকাজে অংশ নিতে পারবেন।

    প্রথমদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশমুখ বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ মানুষ বাইরে থেকেই দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। তবে সাড়ে ১২টার পর ধাপে ধাপে কিছু মানুষ কবরজিয়ারতের জন্য ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ধরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার পরপরই রাজধানীর মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজার মাধ্যমে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফিত হন। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল রাখমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।

    দাফনের সময় বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তার দেহ শায়িত হয়। এরপর তারেক রহমান কবরের উপর মাটি ছিটিয়ে দেন। আরও উপস্থিত ছিলেন তার পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান ও শামিলা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, পাশাপাশি আরেক নাতি জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান।

    বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।

  • রাজশাহীতে কলার হাটে ট্রাক উল্টে নিহত ৪, আহত আরো কয়েকজন

    রাজশাহীতে কলার হাটে ট্রাক উল্টে নিহত ৪, আহত আরো কয়েকজন

    রাজশাহী শহরের পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলার হাটের পাশবর্তী রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে একটি বালুবাহী ট্রাক উল্টে পড়ার ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা বৃহস্পতিবার সকালে সকাল ৮টার দিকে ঘটে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঝলমলিয়া কলার হাটের সামনে কুয়াশার কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা সবাই কলা ব্যবসায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    নিহতরা হলেন, নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম, পাইকপাড়ার আক্কেল প্রামানিকের ছেলে মুনক প্রামানিক, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে সেন্টু এবং রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন।

    রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তিনটির লাশ সুরতহাল শেষে প্রত্যেকের দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    অপরদিকে, আহত একজনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে হাসপাতালে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্স জানিয়েছে, আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলমান।

    এই দুর্ঘটনা দিয়ে কলা বাজারের গুরুত্ব ও সচেতনতার উপর মানুষের চোখ ফেরানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।