Category: জাতীয়

  • একইদিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট

    একইদিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট

    একই দিন সরকারী ঘোষণায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্ধারিত তফসিলকে challenged করে একটি আইনগত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই রিটে দাবি করা হয়েছে যে, ১১ ডিসেম্বর একযোগে দুই নির্বাচন পরিচালনার জন্য যেসব বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা স্থগিত করা হোক। পাশাপাশি, আইনপ্রণেতারা চেয়েছেন, একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের সময়সূচী ঘোষণা করতে।

    সোমবার এই রিটটি দাখিল করেন সুপ্রিম কোর্টের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী, অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উল্লেখ নেই। তাই, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া আইনসঙ্গত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকারের অধীনে হতে হবে।

    এই রিটের শুনানি চলতি সপ্তাহে হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এরসমক্ষে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যার মাধ্যমে এই বিষয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

  • আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আইনি ভিত্তি পরীক্ষা করছে বাংলাদেশ

    আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আইনি ভিত্তি পরীক্ষা করছে বাংলাদেশ

    ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) বাংলাদেশে সম্প্রচারে বন্ধে প্রস্তাবনার আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। এই বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তারা এই প্রক্রিয়াটি যাচাই-বাছাই করছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। রোববার (০৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এর সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, আইপিএল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের জন্য একদিকে দুঃখজনক ও অন্যদিকে ভাবনা-চিন্তার বিষয়। অভিযোগ ওঠে, আইপিএল দেখানো বা না দেখানোর পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে এই সমস্যা কমানো সম্ভব। কিন্তু বিএনপি বা ভারতসহ কিছু দেশে এই সম্পর্কের উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ক্রিকেটার মুস্তাফিজের পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়োগের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, এর পেছনে কি রাজনীতি কাজ করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে দেশের জনগণের মধ্যে আঘাত লেগেছে এবং তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন আমাদেরই উচিত এই পরিস্থিতিতে সচেতন ও সজাগ থাকা এবং আইনী ভিত্তিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া। রিজওয়ানা হাসান আরও জানিয়েছেন, মোস্তাফিজকে কেন এবং কোন কারণে বাতিল করা হয়েছে, সেই যুক্তি সম্পর্কে তারা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, যেসকল যুক্তি দিয়ে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আমাদের গ্রহণযোগ্য নয়। তাই তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কারণ তারা জানেন, এই পরিস্থিতি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে এবং এই পরিস্থিতির অবশ্যই মোকাবিলা করতে হবে।

  • 2025 সালে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে, ঝরেছে প্রায় ১০ হাজার প্রাণ

    2025 সালে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে, ঝরেছে প্রায় ১০ হাজার প্রাণ

    উৎসবমুখর বিদায়ী ২০২৫ সালে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। গত বছর এই পথে মোট ৯ হাজার ৭৫৪ জনের জীবন হারিয়েছে এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার মোট সংখ্যা হয়েছে ৭ হাজার ৩৬৯টি। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৬৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ছয় দশমিক নয় চার শতাংশের বৃদ্ধি। আহতের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৮১২।

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী রোববার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালে সড়ক পথে ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন ও আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যেখানে ৪৮৫ জন মারা গেছেন ও ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথেও ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জনের মৃত্যুসহ আরও ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    সড়ক দুর্ঘটনার প্রবণতা বিশ্লেষণে তিনি বলেন, দেশের মোট দুর্ঘটনার ৩৮.২২ শতাংশ ঘটে জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে। এছাড়াও, ঢাকা মহানগরীতে ঘটেছে ৪.২২ শতাংশ দুর্ঘটনা, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৯০ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ০.৬৮ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

    মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও মন্তব্য করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সড়ক পরিবহন খাতের যথাযথ সংস্কার না করা পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাত্রা, সড়কের নিরাপত্তা এবং ভাড়ার অরাজকতা এখনও কাটেনি। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে মোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ৭৫৪ জন, আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৬। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা যথাক্রমে ৬.৯৪ শতাংশ, ৫.৭৯ শতাংশ ও ১৪.৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

    এছাড়াও রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন ও নৌ-পথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন মৃত্যুর পাশাপাশি ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি, যেখানে ২ হাজার ৪৯৩টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত ও ২ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনের ৩৭.০৪ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ ও আহতের ১৪.৯৮ শতাংশ।

    সংগঠনটি সরকারে জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও উপস্থাপন করে। এতে বলা হয়, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবহন খাতের সংস্কার, সড়ক নিরাপত্তা, উন্নত গণপরিবহন ও যাত্রী অধিকার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীদের জন্য এই বিষয়গুলো অর্ন্তভুক্ত করা জরুরি। এছাড়াও, সড়ক নিরাপত্তার জন্য বাজেট বৃদ্ধি, সড়ক নিরাপত্তা উইং চালু, ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের ত্বরিত অর্থপ্রদান, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য উন্নতমানের প্রশিক্ষণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    এছাড়াও, দেশের মূল শহরগুলোতে আধুনিক ইলেকট্রিক বাসের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, ট্রাফিকের স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, আলাদা লেন ব্যবস্থা চালু এবং যানবাহনের নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নীত করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • খাদ্যের মজুদ বেশি, চালের দাম বাড়বে না: খাদ্য উপদেষ্টা

    খাদ্যের মজুদ বেশি, চালের দাম বাড়বে না: খাদ্য উপদেষ্টা

    ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাজনীতিকে বাইরে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, যেখানে কম দামে পণ্য পাওয়া যায়, সেখান থেকেই সরকার জরুরিভিত্তিতে আমদানি করে থাকেন। আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    আলী ইমাম মজুমদার আরও জানান, গত বছরে সরকারের গঠন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে এ বছর দেশের খাদ্যশস্যের মজুদ অপ্রত্যাশিতভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এ অবস্থায় চালের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

    খাদ্য উপদেষ্টা আমাদের জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি গুদামে মোট ২০ লাখ ২৭ হাজার টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া, সরকার আরও ২৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ বাড়ানোর সক্ষমতা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বোরো মৌসুমেও বড় পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পারবে সরকার। চলতি আমন মৌসুমের ধান সংগ্রহের হারও ভালো অবস্থানে রয়েছে।

    তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরের তুলনায় এ বছর খাদ্যশস্য মজুতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

    ভারত থেকে চাল আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয় জড়িত নেই। আমরা আমদানির ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক সমস্যা অনুভব করছি না।

  • বগুড়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ঢাকায় টিকে গেলেন মান্না

    বগুড়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও ঢাকায় টিকে গেলেন মান্না

    ঢাকা-১৮ আসনে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছেন। অন্যদিকে, বগুড়া-২ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র গতকালই বাতিল করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা। বগুড়া-২ আসনের প্রার্থিতা বাতিলের কারণ হিসেবে দেখা যায়, মনোনয়নপত্রে নানা অসংগতি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, ফৌজদারি মামলার কোনও তথ্য না দেওয়া, যে এফিডেভিট তিনি দাখিল করেছিলেন, তার স্বাক্ষর সম্পাদনের একদিন পর করেন এবং সম্পদ বিবরণীর ফরমও দাখিল করেননি। তবে, শনিবার বিকেলে ঢাকায় মনোনয়নপত্র বৈধতা পাওয়ার পর মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তিনি বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তিনি আরো বলেন, প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত, যা যথাযথ নয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের এই কাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে জানান। নাগরিক ঐক্য, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে, বিএনপির সমর্থন নিয়ে বগুড়া-২ আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও, তিনি ঢাকায় আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এই আসনে ভোট করার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেও তিনি জানান। এদিকে, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মান্না একের পর এক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দলের সমর্থন ও জোটের স্থিতিশীলতা নিয়ে তার এই উদ্বেগ রাজনৈতিক পরিস্থিতির অন্যতম কাঠামো দিচ্ছে।

  • কারওয়ান বাজারে পুলিশ ও মোবাইল বিক্রেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ

    কারওয়ান বাজারে পুলিশ ও মোবাইল বিক্রেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ

    রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পুলিশ ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে এলাকাটি এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এনইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার) কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিভিন্ন দাবি তুলে অর্ধদিবসের কর্মসূচি পালন করছিলেন ব্যবসায়ীরা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান করছেন। পুলিশ তাঁদের সরানোর জন্য এগিয়ে গেলে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। পরে আন্দোলনকারীরা বাংলামোটর মোড়ের দিকে ফিরে যান এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জোড়ালি করে।

    প্রতিবেদনটি লিখার সময় (দুপুর ২টা ১০ মিনিট) পরিস্থিতি এখনো থেমে থেমে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর আগে, কারওয়ান বাজার মোড়ে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে থাকলে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় এবং লাঠিপেটা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান, রায়টকারী ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।

    জানা গেছে, এই আন্দোলনের মূল কারণ হলো এনইআর ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তি ও অন্যান্য দাবি। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) সংগঠন এই কর্মসূচির ডাক দেয় এবং সারা দেশে সব মোবাইল ফোনের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

    অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, যেখানে ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। পরে পুলিশ প্রথম দফায় লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়। দিনভর বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠে, পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে, লাঠিপেটা করে এবং অসংখ্য ব্যবসায়ীকে আটক করে। কিছু ব্যবসায়ী শপিংমলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

    উল্লেখ্য, নতুন এই ব্যবস্থা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে সর্বস্তরের মোবাইল ফোন ব্যবহারে অনাধিকার হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধে এনইআইআর চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইমিইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। তবে, এই নতুন পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা, যারা মনে করছেন এর ফলে তাদের ব্যবসায় ক্ষতি হবে এবং অনেক অনাধিকার হ্যান্ডসেট বাজারে আনা বন্ধ হয়ে যাবে।

  • ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

    ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্রকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) এ মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং অফিসার ও ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী তার প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করেন। অফিস সূত্র জানিয়েছে, ভুক্তভোগী প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের দাখিলকৃত হলফনামা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিচ্ছিন্নভাবে যাচাই করে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফলে, তার মনোনয়নপত্র গ্রহণে কোনো আইনি বাধা নেই। উল্লেখ্য, গত ২৯ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল এই মনোনয়নপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ সময় পরে ২০০৮ সালে নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পরে এবারই প্রথম জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মনোনয়নপত্রের এই তারিখে জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল এবং প্রার্থীদের বাছাই প্রক্রিয়া ৪ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর, তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের যাচাইয়ের পরে যদি কোনও আপত্তি থাকে, তবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করা যাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।

  • পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানালেন

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানালেন

    ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। শনিবার (৩ জানুয়ারি) তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানান এবং তার স্মরণে রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পাকিস্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি এই সফরে খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি তার জীবনী ও অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

    এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করে পাকিস্তানের সংসদের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক বুধবার ঢাকায় এসে তার জানাজায় অংশ নেন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন, যেখানে তারা পারস্পরিক সমবেদনা ও সম্মানের কথা ব্যক্ত করেন। তাঁর এই সফর ও শোক প্রকাশ দুই পক্ষের স্বতঃস্বভাব সম্পর্ককে আরো গভীর করে তুলেছে এবং দুদেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

  • রাজশাহীতে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

    রাজশাহীতে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে রাজশাহীতে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোর ১০টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার। সভায় রাজশাহী-১ ও রাজশাহী-২ আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে দেখা গেছে, রাজশাহী-১ আসনের ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অন্য তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, রাজশাহী-২ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ দুটি আসন থেকে মোট ১৫ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন, যার মধ্যে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে এবং ছয়জনের বাদ পড়ে বাতিল হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা আপিল করতে পারবেন।

    জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনে মনোনয়ন বৈধ পেয়েছেন বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরিফ উদ্দিন, আমার বাংলাদেশ পার্টির আব্দুর রহমান, এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মুজিবুর রহমান। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আল সাআদ, যিনি স্বাক্ষর থাকা স্বত্ত্বেও তার সমর্থকদের মধ্যে ২ জন মৃত এবং চারজনকে পাওয়া যায়নি। স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেননি তার স্বাক্ষরকারীরা। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানা ইসলাম তারেকের আয়-ব্যয়ের নথিতে স্বাক্ষর অনুপস্থিত। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ছয়জনকে পাওয়া যায়নি, এবং সংগঠনের স্বাক্ষরেও মিল থাকা হয়নি। গণ অধিকার পরিষদের মীর মোহাম্মদ শাহজাহানের ক্ষেত্রে সংগঠনের সভাপতি নূরের স্বাক্ষর জমা থাকা স্বত্ত্বেও স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    অন্যদিকে, রাজশাহী-২ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বাকি ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়ন বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতে ইসলামের ডা. জাহাঙ্গীর, আমার বাংলাদেশ পার্টির অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেসবাউল ইসলাম, এবং নাগরিক ঐক্যের শামসুল আলম। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন, যাঁর আয়-ব্যয়ের তথ্য ও স্বাক্ষর না থাকার পাশাপাশি মৃত ভোটারের সংখ্যা পাওয়া গেছে। তার সমর্থকদের মধ্যে আটজনই জানেন না যে তাদের স্বাক্ষর জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। লেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির ওয়াহিদুজ্জামানের বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ খেলাপি থাকার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ উদ্দিনের আয়কর তালিকা না থাকা ও ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গরমিল থাকা’s কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

  • ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

    ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

    আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকার ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তামিম আহমেদ।

    আসলে চলতি সময়ে এই আসনে প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, যা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়। তবে পরে দশ দলীয় জোট গঠন হওয়ার ফলে এই আসনে নিয়োগ পান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    অ্যাডভোকেট আতিক দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিদায় নিতে সম্মত হয়েছেন এবং নাহিদ ইসলামের জন্য শুভকামনা প্রকাশ করে নির্বাচনে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে এই আসনে আর প্রার্থীর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে না বলে আশা করা যাচ্ছে।