Category: জাতীয়

  • নতুন মামলায় ফের গ্রেফতার সালমান, আনিসুল ও দীপু মনির

    নতুন মামলায় ফের গ্রেফতার সালমান, আনিসুল ও দীপু মনির

    জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঢাকার বাড্ডা থানায় অস্ত্রসহ হত্যাচেষ্টা মামলায় তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আবারও গ্রেফতার হয়েছেন। তারা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

    বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জানা গেছে, তারা আগে থেকেই বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন, তবে এই মামলায় তারা এজাহারনামীয় আসামি।

    এদিন সকালে তাদের বিকেল সাড়ে ১০টাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালত হাজির করা হয়। এরপর আদালতের এজলেসে বিষয়টি শুনানি হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক মো. গোলাম কিবরিয়া খান তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. শামসুদ্দোহা সুমন এই বিষয়ে শুনানি পরিচালনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছর জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই মধ্যবাড্ডা এলাকায় বিশিষ্ট ভুক্তভোগী মো. দুর্জয় আহমেদ অংশ নেন। সেই সময় মিছিলে রাস্তায় অবস্থানকালের মধ্যে আন্দোলন দমনকারী দলের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি ও পরোক্ষ নির্দেশনায় অনুসারীরা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করতে শুরু করে। গুরুতর আহত হন দুর্জয়, যার মাথা ও পেছনে গুলির আঘাত লাগে।

    চিকিৎসার জন্য তিনি জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন। দুর্জয়ের দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর ভুক্তভোগী দুর্জয় আহমেদ বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও ৯০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও 人শ্রেণী মামলা দায়ের করেন।

  • গভীর সমুদ্রে গবেষণা বৃদ্ধি ও সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

    গভীর সমুদ্রে গবেষণা বৃদ্ধি ও সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

    বঙ্গোপসাগরের গভীর তলদেশে প্লাস্টিকের উপস্থিতি ও জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রভাগের এলাকাগুলো যেখানে স্থলভাগের সমান আকারের, সেখানে এই সমৃদ্ধ সম্পদগুলো পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছি না। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এই গবেষণা জরিপ ও প্রতিবেদনটি ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ নামে গবেষণা জাহাজের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গোপসাগরের গভীর জলাশয়ে অবস্থিত জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত পরিস্থিতি যাচাই। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে গত বছর ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি জানায়, গবেষণায় ৬৫টি নতুন জলজ প্রজাতির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে, তবে সমুদ্রের পরিবেশে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, ‘বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য খুবই বেড়ে গেছে, যা পরিবেশের অস্থিতিশীলতার লক্ষণ। ওভারফিশিংয়ের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০১৮ সালের গবেষণার তুলনায় দেখেছে, বড় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং কাছাকাছি দেখতে মাছের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, গভীর সমুদ্রে ২৭০ থেকে ২৮০টি ট্রলার মাছ শিকার করছে, এর মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘টার্গেটেড ফিশিং’ চালাচ্ছে। এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত আগ্রাসী, যা বড় মাছ ধরা হলেও ক্ষুদ্র জেলেদের জন্য ক্ষতি। এ ব্যাপারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘এ ধরনের টার্গেটেড ফিশিংয়ে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হতে পারে। সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’ অন্যদিকে, গবেষণায় টুনা মাছের অগ্রগতি ও সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, সুন্দরবনের নিচে একটি ‘ফিশিং নার্সারি’ আবিষ্কৃত হয়েছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সামুদ্রিক সম্পদকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতি প্রণয়নের প্রয়োজন। বৈঠকে আরো জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের ‘রয়েল নেভি’ এর বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন, যা সমুদ্র গবেষণায় শক্তি বাড়াবে। তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতাই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সক্ষম। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেস্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

  • ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি

    ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি

    ঢাকার একটি আদালত সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ জনের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদন মঞ্জুরের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদান করা হয়।

    নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও রয়েছেন সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খান্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব কামাল উদ্দীন আহমদ, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, সাবেক সিএএজি ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

    আদালত সূত্র জানায়, মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য আসামিরা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সভায় উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি পরিপন্থীভাবে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। তারা স্বার্থসংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো থেকে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য প্রতারণামূলকভাবে জমি ও ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডে সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ হয় এবং ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় গেজেট প্রকাশ না করেই বরাদ্দ সম্পন্ন করা হয়। পশ্চিমে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

    তদন্তকালে জানা যায়, আসামিরা সপরিবারে দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদি তারা দেশের বাইরে চলে যান, তবে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাদের দেশে থাকতেই দেশের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

  • নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বলে অভিযোগ

    নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে বলে অভিযোগ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশক্তি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কিশোর সাম্য। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নিঃসন্দেহে পক্ষপাতদুষ্টভাবে কাজ করছে। শিক্ষকদের কিছু অংশ ছাত্রদলের পক্ষে অপর অন্য অংশ জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ভোটারদের হাতে দেওয়া কালি কিছু সময় পর রোদের কারণে উঠে যাচ্ছে, যা ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত অভিযোগ করেন।

    অন্যদিকে, এই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ফয়সল মুরাদ বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, ভোটের দিন পোলিং এজেন্টরা নিজ নিজ বুথ থেকে ভোটার স্লিপ বিতরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় নিয়ম পরিবর্তন করা হলে কি নিয়ম প্রতি মিনিটে মিনিটে বদলানো হবে? যদি এর অনুমোদন দেওয়া হতো, তাহলে আমরাও স্লিপ বিতরণ করতাম। কিন্তু আমাদের সেটি করতে দেয়া হয়নি, যা থেকেই বোঝা যায় আগে থেকেই স্লিপ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল।

    বক্তা আরও জানান, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দুটি শক্তিশালী বলয় কাজ করছে। এক সংখ্যালঘু বলয় ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলকে সুবিধা দিচ্ছে, অন্যটি ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলকেও সুবিধা দিচ্ছে। এই বলয়গুলির কারণে নিয়মবলি লঙ্ঘন এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তারা চান একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন বারবার তাদের হতাশ করছে।

    উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৯টায় এবং চলবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।

  • ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিবাদ আর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে খারাপ প্রভাব নয়: অর্থমন্ত্রীর উপদেষ্টা

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিবাদ আর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে খারাপ প্রভাব নয়: অর্থমন্ত্রীর উপদেষ্টা

    ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে, এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোস্তাফিজের ঘটনা শুরু হয়নি বাংলাদেশ থেকে। এটি দুঃখজনক এবং দুই দেশের জন্যই খারাপ কিছু হয়েছে, কিন্তু ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে দেশের অর্থনীতি বা ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি বলে তিনি জানান।

    মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাংবাদিকরা জানতে চান, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টার মধ্যেই আইপিএল থেকে মোস্তাফিজের বাদ যাওয়া এবং বাংলাদেশের সম্প্রচার বন্ধের ঘটনা কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই ঘটনাগুলোর কোনও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েনি। তিনি বললেন, ‘আজকের বৈঠকে স্পোর্টস বা এই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’ এর ফলে তিনি নিশ্চিত করেন, এই পরিস্থিতির অর্থনৈতিক দিক থেকে ক্ষতি হয়নি।

    সাংবাদিকদের অন্য প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমি মনে করি না যে কোনও প্রভাব পড়েছে। আমাদের অর্থনীতির জন্য যা দরকার, যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনও বাধা আসবে না।’

    অর্থনৈতিক বিষয়ের বাইরে এটি পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ও, এ বিষয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়, তিনি জানান, ‘পারস্পরিক সম্পর্কের বিস্তারিত আমি বলতে পারছি না। ফ্রেন্ডলি অ্যাডভাইজার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।’

    সাংবাদিকরা জানতে চান, ভারতের প্রতিবেশী হিসেবে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কাজ করছে বাংলাদেশের সরকার। তবে নির্বাচনের দুই মাস আগে এই ঘটনাটা কি রাজনৈতিক, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রেক্ষিতটা দেখুন, শুরুটা বাংলাদেশ থেকে হয়নি। এটা আপনি স্বীকার করবেন।’ মোস্তাফিজকে চুক্তিতে নেওয়ার পেছনে তদন্তের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘ওকে দয়া বা দাক্ষিণ্য দিয়ে নেওয়া হয়নি। তারা এটা হঠাৎ বন্ধ করে দিতে পারে না। এই ঘটনাও খুব দুঃখজনক, দুই দেশের জন্যই ভালো হয়নি।’

    একই সময়ে তিনি মন্তব্য করেন, এমন পরিস্থিতি আর হবে না। হিটলার নিয়ে হওয়া অলিম্পিকের উদাহরণের মাধ্যমে বোঝাতে চান, ‘সামান্য ইমোশনের জন্য মানুষ কাজ করেন। তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিবেচনা করে সমাধান হবে। আমরা চাই না, আমাদের সম্পর্ক যেন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বাধার কবলে না পড়ে।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এনবিআর দুই ভাগ করার পরিকল্পনা সফল হয়নি, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেটা হয়নি। তবে আশা করছি, ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের মধ্যে সব কিছু সম্পন্ন হবে। ফরমালিটিগুলো শেষ হয়ছে, ছোটোখাটো কিছু বিষয় রয়েছে, হবে।’ এই জন্য তিনি আস্থায় থাকছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই এই কাজ শেষ হবে।

  • শাহবাগ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

    শাহবাগ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

    শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারসহ ইনকিলাব মঞ্চের চার দফা দাবির সমর্থনে শাহবাগ থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ নামে এক শান্তিপূর্ণ পথযাত্রা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা তাদের একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দাবি সামনে আনছেন।

    মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগের হাদি চত্বর থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরবর্তীতে এটি সায়েন্সল্যাব, সিটি কলেজ, মোহাম্মদপুর, তিন রাস্তার মোড়, রায়েরবাজার-বধ্যভূমি, মিরপুর ১০, উত্তরা, বসুন্ধরা, বাড্ডা, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী আলোর পথে যাত্রা করে, আর শেষ হবে শাহবাগের হাদি চত্বরে এসে।

    কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পিকআপে করে ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেন। তারা সরকারের নীরবতা ও অবহেলার কারণে দ্রুত হত্যার বিচার অনিবার্য বলে দাবি করেন। দাবি সমর্থনে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেখানে মুখ্য ছিল— ‘হাদির ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’; ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’; ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’; ‘লাল সবুজের পতাকা, ইনকিলাবের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’; ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা।’

    অংশগ্রহণকারীরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন, দেশের আইনি কার্যক্রমে নিহতের প্রতিকার ও ন্যায্য বিচারের জন্য তারা সোচ্চার।

    ইনকিলাব মঞ্চের চার দফা দাবি হলো:
    1. হত্যাকারী, হত্যার পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের দ্রুত বিচার সুনিশ্চিত করতে ২৪ দিনের মধ্যে তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করতে হবে।
    2. বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।
    3. ভারতের পক্ষ থেকে আশ্রিত খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে জোর দাবি জানিয়ে, না করলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলাসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
    4. সিভিল, মিলিটারি ও ইন্টেলিজেন্স সংস্থাগুলোর মধ্যে থাকা ফ্যাসিস্ট দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

  • ফারুক ই আজম: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের শনাক্তে অবিরত কাজ চলবে

    ফারুক ই আজম: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের শনাক্তে অবিরত কাজ চলবে

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের মধ্যে যারা এখনও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তাদের সনাক্তের জন্য আমরা অবিরত কাজ করে যাবো। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফারুক ই আজম জানান, এরই মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ ফয়সাল সরকার, পারভেজ বেপারী, রফিকুল ইসলাম (৫২), মাহিম, সোহেল রানা, আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)। তবে এখনো অনেকের মরদেহের পরিচয় জানা যায়নি, এবং ভবিষ্যতেও যা সম্ভব, সেই অনুযায়ী তাদের শনাক্তের কাজ চালিয়ে যাবে প্রতিষ্ঠান।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান, সিআইডির প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

    উল্লেখ্য, রবিবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা এখনও চালিয়ে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • রায়েরবাজারে দাফন হওয়া ১১৪ মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

    রায়েরবাজারে দাফন হওয়া ১১৪ মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

    ২০২৪ সালে জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করছে পুলিশ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।

    সিআইডির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় এই ১১৪ জন মরদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মরদেহগুলোর শনাক্তকরণ ও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরের ৭ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে এই মরদেহগুলো উদ্ধার, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই প্রসেসো আন্তর্জাতিক মান ও মিনেসোটা প্রটোকল অনুসারে পরিচালিত হয়, যেখানে মান্যতা পেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে।

    সিআইডির প্রধান জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় আর খুঁজে পাওয়া গেছে তাদের পরিবারের কাছে। বাকি এক জনের সন্ধানে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এই উদ্যোগ শহীদদের মর্যাদা রক্ষা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যত বিচার তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    মো. ছিবগাত উল্লাহ আরো বলেন, “আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এ ধরনের সংবেদনশীল কার্যক্রম পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে নিখোঁজ শহীদদের পরিচয় নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।”

    আজ এই পরিচয় শনাক্ত হওয়া আটজন শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মো. সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর আবেগে কাঁদলেন, তিনি বলেন, “আমার সন্তান সোহেলকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজেছি। অবশেষে সিআইডি আমার সোহেলকে খুঁজে দিয়েছে, তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।”

    অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বুঝে পেয়ে কবরের পদ্ধতি জানিয়ে দেন এবং আবেগঘন মুহূর্তে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠান শেষে এই পরিবারের সদস্যদের কবর বুঝিয়ে দেওয়া হয়, এ সময় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; শিল্প মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি জোরদার

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি জোরদার

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় দেশের সাম্প্রতিক নানা সমস্যা ছাড়াও নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিশেষ ভাবে আলোচিত হয়। সভার পরে তিনি ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার ও ভোটের দিনগুলোতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিস্থিতি বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, সরকার সময়মত নির্বাচন অনুষ্ঠানে অঙ্গীকারবদ্ধ। যারা নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করবে, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দ্রুত চূড়ান্ত চার্জশিট দেয়ার ব্যাপারে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এ হত্যা কাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে vigilante থাকতে এবং ফ্যাসিস্ট দোসরদের প্রবেশ প্রতিরোধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

  • শীত regদেশে কাঁপছে, ১৫ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ এবং কনকন ঠাণ্ডা

    শীত regদেশে কাঁপছে, ১৫ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ এবং কনকন ঠাণ্ডা

    বাংলাদেশের সারাদেশ আজ শীতের কষ্ট experiencing করছে। দেশের মোট ১৫টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বর্তমানে শীতল শৈত্যপ্রবাহ বইছে, যা চলতে থাকতে পারে আরও দেড় থেকে দুই সপ্তাহ। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে এই শৈত্যপ্রবাহটি এক থেকে দুইবর্ষে তীব্র রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    শীতের এই মহামারীর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোরের সময় কনকনে ঠাণ্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেক দিনমজুর ও নিচুআয়ের মানুষ সকালে কাজে বের হতে পারছেন না। শিশু ও বয়স্করা শীতের তীব্রতা ощত করতে পারছে, সঙ্গে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে থাকাকালীন মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    অন্যদিকে, কুয়াশার কারণে সড়ক এবং নৌপথে যান চলাচল ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে কর্মজীবী মানুষ ও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অংশে টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, বগুড়া, বদলগাছি, তাড়াশ, বাঘাবাড়ি, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুমারখালির ওপর দিয়ে বর্তমানে দ্রুত শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু ও এক থেকে দুটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবাহিত হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদ-নদী অববাহিকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারে, যা দিনের বেলা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশাও পড়তে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, কখনো কখনো কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, ফলে দিনের তাপমাত্রা এবং রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি আরও বৃদ্ধি পায়।

    আজ সকাল ৯টার দিকে শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও সাধারণত আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কিছু এলাকায় বেলা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। এই কুয়াশার প্রভাবের কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, যা শীতের সময়কালকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ঈশ্বরদীতে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এবং ঢাকায় দাঁড়িয়েছে ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই শীতের শুরু থেকেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী থাকায় শীতপ্রেমীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ শীতের এই মৌসুমটি আরও বেশি করে উপভোগ করছেন।