সরকার জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিতে একটি পৃথক আইন অধ্যাদেশ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা পরবর্তী উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছিলেন। তাদের এই সাহসী ভূমিকার জন্য দায়মুক্তির আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে। July গণঅভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার খুনিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তারা, তাই তাদের দায়মুক্তি প্রয়োজন। ইতিহাসেও বিভিন্ন দেশে similar দায়মুক্তি আইনের উদাহরণ দেখা যায়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে এই ধরনের দায়মুক্তির বৈধতা স্বীকৃত, এবং ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি আইন প্রণীত হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব নজির ও আইনের ভিত্তিতেই, আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করেছে। আশা করি, খুব শিগগিরই এটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন হবে। আমাদের দায়িত্ব JULY কে নিরাপদ রাখা।’ এর আগে, ৬ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যাতে জুলাই যোদ্ধাদের আইনগত সুরক্ষা দেওয়া যায়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন।
Category: জাতীয়
-

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বীর হত্যার ঘটনায় মামলা, অজ্ঞাত আসামিরা আসামি
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্টার কাবাবের পাশের গলিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বীর। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩-৪ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈণ্যু মারমা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন, যেখানে অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত মুছাব্বীরের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে। আশা করা যাচ্ছে, আজই মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তেজতুরী বাজারের স্টার কাবাবের গলির মধ্যে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন — তিনি হচ্ছেন কারোয়ান বাজার ভ্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সুফিয়ান মাসুদ। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
-

সরকারের এলপিজি ভ্যাট কমানোর ঘোষণা
সারাদেশে বর্তমানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতির মধ্যে সরকার ঘোষণা করেছে যে, এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, এলপিজি আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনে ভ্যাট কমানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আমদানিকৃত এলপিজির উপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট হার ৭.৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, এলপি গ্যাসের অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (LOAB) এর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম কমানো এবং বাজারে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক পুনর্বিন্যাস দেশের সাধারণ জনসাধারণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে উচ্চ মূল্যের চাপ একটু হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মাঝে ব্যবসায়ীরা এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সারাদেশে সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, যার কারণে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। অনেক খুচরা দোকানে এখন আর সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। হোটেলগুলো বিভিন্ন উপায়ে রান্নার কাজ চালিয়ে নিচ্ছে, তবে সাধারণ বাসাবাড়ির অনেক চুলা এখন চলছে না। ফলে ভোক্তাদের একপ্রকার জিম্মিতে পড়তে হয়েছে, রোজনামচা চালানোর জন্য তারা নানা চেষ্টায় ব্যস্ত।
-

জিয়াউল আহসান হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারিত ১৪ জানুয়ারি
শতাধিক গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত নেন।
আদালত কক্ষে জিয়াউলের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং তার বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রসিকিউশন দপ্তর উপস্থাপিত তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে অব্যাহতির আবেদন করেন। পাশাপাশি তারা দাবি করেন যে, তদন্ত কর্মকর্তা কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ সময় জবানবন্দি দেওয়া দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন এবং অভিযোগ গঠন করার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রার্থীতা চালিয়ে যেতে চান। এরপরই বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা ১৪ জানুয়ারির দিন নির্ধারণ করেন।
২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি শেষে প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি সম্পন্ন করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের জিয়াউল আহসানের উপস্থিতিতে তৎকালীন সময়ে নানা অপরাধের জন্য তিনজনকে হত্যা করা হয়।
আরেকটি অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী খাল ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ঘেঁষা এলাকায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া একই সময়ে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে বনদস্যু দমন নামে আরও ৫০ জনের প্রাণ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ মঞ্জুর করে, একইসঙ্গে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
-

বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৫ দফা দাবি
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। গত বছরের ২১ জুলাই ওই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটে, যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত। এর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের অঙ্গীকার ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে আসছে।
সেপ্টেম্বর ৮ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবিগুলো জানান। তারা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার জন্য মূলত পাইলটের উড্ডয়নের ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং স্কুল ভবনের নির্মাণে অনিয়ম দায়ী। তারা উল্লেখ করেন, তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা পাইলটের ওপরে দায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি, অবসরে থাকা বিমানবাহিনী প্রধানের তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: প্রথমত, দুর্ঘটনার জন্য দায়ীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, প্রভাবিত পরিবারগুলোর জন্য পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ; তৃতীয়ত, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ‘শহীদী মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান; চতুর্থত, ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ ও শিশুদের কবরের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; পঞ্চমত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিমানবাহিনীর বাজেটে দুর্নীতি না থাকলে অভ্যন্তরীণ রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ সম্ভব হতো। তাদের দাবির পক্ষে, দুর্নীতির কারণেই ৩৬ জন জীবন হারিয়েছেন এবং ১৭২ জন আহত হয়েছে। তারা বিমান নির্মাণের অনিয়মের কারণেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার জন্য দায়ী করেন। উপস্থিত পরিবারগুলো কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান, দুর্ঘটনার দিন দুপুর ১:১২ মিনিটে বিমানটি বাতাসে আছড়ে পড়লে শিশুরা, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দগ্ধ ও বিভক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ধরনের ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ইতিহাসে বিরল।
অভিযোগ করা হয় যে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসে ঘোষণা দিয়েও তাদের ক্ষতিপূরণ ছাড়া ন্যায্য বিচার পাননি পরিবারের সদস্যরা। তারা আরও জানান, বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখনও ন্যায্য দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তারা দাবি করেন, সরকারের দ্রুত ও নিষ্ঠার সঙ্গে ন্যায্য বিচার ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা যেন দ্রুত গ্রহণ করা হয়। পরিবারের সদস্যরা বলেন, ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্যতা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ চাওয়া। তাদের এই দাবিগুলো মান্যতা পেলে অন্তত কিছু শান্তি ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
-

দিপু হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে ইয়াছিন ঢাকায় গ্রেফতার
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানা শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে এবং আগুন দিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে থাকতেন ইয়াছিন আরাফাত। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল, এবং অবশেষে পুলিশ তাকে রাজধানীর ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে জেলা পুলিশ একটি প্রেস বিবৃতিতে এর সত্যতা নিশ্চিত করে।
ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি (কড়ইতলা মোড়) এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় আত্মগোপন করেন। তদন্তে জানা গেছে, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৮ ডিসেম্বর তিনি পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরির গেটের সামনে স্লোগান দিয়ে জনসমাগমের আয়োজন করেছিলেন। এই উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে দীপুকে নির্মমভাবে মারধর ও তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন তিনি। হত্যার পর, তার দেহটি রশি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে মরদেহ পোড়ানোর জন্য নেতৃত্ব দেন ইয়াছিন।
পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে, ইয়াছিন আরাফাত এখনও ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে,গত ১৮ মাস থেকে তিনি উপজেলার কাশর এলাকার শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পলাতক থাকা এই সময়ের মধ্যে ঢাকার ডেমরা অঞ্চলের বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান নেন এবং নিজেকে পরিচয় গোপন করতে ‘সুফফা মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে শিক্ষকতা শুরু করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
-

দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার জিয়াউল আহসান, কারাগারে পাঠানো হলো
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক এবং সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত তার গ্রেপ্তার দাবি গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালত জানায়, দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম আদালতে এই আবেদন করেন। পরে, আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ জানুয়ারি, দুদকের পক্ষ থেকে মামলার এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলার বিবরণে জানানো হয়, সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর জিয়াউল আহসান নিজ নামে অস্বাভাবিক ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকা সম্পদ অর্জন করেছেন। এই সম্পদ তার বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, ফোরেন এক্সচেঞ্জ ট্রাঞ্জেকশন (এফইপিডি) সার্কুলার-২০১৮ ও ২০২০ সালের আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে তিনি ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে, স্ত্রীর সহযোগিতা ও যোগসাজশে অন্য ব্যক্তির নামে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেন। শুধু নিজ নামে, মোট ৮টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের পরিমাণ পাওয়া গেছে।
উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় অপরাধ করেছেন। এই ঘটনায় তাকে আদালত দ্বারা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-

একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট, হাইকোর্টের শুনতে অনীহার সিদ্ধান্ত
আজ ৭ জানুয়ারি বুধবার, দেশের ঐতিহাসিক এক ঘটনা ঘটেছে যখন একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল। তবে এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একটি রিট দায়ের করা হয়েছিল। এতদিন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিতর্ক চলছিল, কিন্তু আজ হাইকোর্টের বেঞ্চের পক্ষ থেকে আশ্চর্যজনক ঘোষণা আসে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে অংশ নেন। তবে তারা আবেদনটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এই সিদ্ধান্তের পর, রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তের কারণে তারা এখন বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন অন্য এক বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি চালিয়ে যাবেন। উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের অন্য এক আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিটটি হাইকোর্টে দাখিল করেছিলেন। রিটে উল্লেখ করা হয়, ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বিজ্ঞপ্তি স্থগিতের জন্য আবেদন জানানো হয়। পাশাপাশি, রিটে সুপারিশ করা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত। এই আবেদনটির বিবাদী হিসেবে ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা। ইউনুছ আলী আকন্দের যুক্তি ছিল, সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়ক কোনও বিধান নেই। তিনি বলেন, শুধু তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে, কোনও সরকারের অধীনে নয়। এই মামলার নীতিগত বিষয়গুলো এখনো ধীরেধীরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এই ঘটনার ফলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন এক দিকপ্রাপ্ত হয়ে উঠেছে।
-

হাদি হত্যা: আসামি ফয়সালের ৬৫ লাখ টাকা ব্যাংক ফ্রিজ
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব থেকে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার জন্য আদালতের নির্দেশ জারি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দিয়েছেন, সিআইডি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, ব্যাংক হিসাবগুলো বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ায় এই অবরুদ্ধকরণ আদেশ দেওয়া হয়েছে। অ্যারপোর্টে তদন্তের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, মূল অভিযুক্তের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের অর্থনৈতিক লেনদেনের আনুসঙ্গিকতা শনাক্ত করা। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাস, নে¤র-সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, মানিলন্ডারিং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এসব হিসাবের অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা আবশ্যক, যাতে ধরনের অর্থ বেহাত হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায়। অন্যদিকে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে ঠিকা হয়েছে আরও ১৭ জনের বিরুদ্ধে। গোয়েন্দা পুলিশের রিপোর্টে দেখা গেছে, পুলিশ এদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, তার স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বন্ধু মারিয়া আক্তার লিমা, শ্বশুর ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, ব্যবসায়ী মোফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, তার সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালানোর সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির বোন জামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল। অপরদিকে, পলাতক রয়েছেন- বাপ্পি, ফয়সাল, আলমগীর, ফিলিপ, জেসমিন ও তার স্বামী মুফতি মাহমুদ। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারনা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী অটোরিকশার ওপর হামলা চালায় দুষ্কৃতকারীরা, যারা মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ১৫ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। এ ব্যাপারে, ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১২ ডিসেম্বরের ঘটনা উল্লেখ করে, হত্যাচেষ্টার জন্য নির্ভুল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
-

ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা এবারের প্রধান চ্যালেঞ্জ: ইসি সানাউল্লাহ
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মন্তব্য করেছেন, ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা এই সময়ের सबसे বড় পরীক্ষা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া নির্বাচনি ব্যবস্থা আবার গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। এ জন্য ন্যূনতম সংস্কার এবং কার্যকর ব্যবস্থা অনুসরণ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে ৮১টি সংস্থার উদ্যোগে ‘অ্যলাইন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: এএফইডি’ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনি ব্যবস্থার অবস্থা ও সংস্কার প্রসঙ্গে বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে আমি যদি রূপকভাবে বলি—এটা অনেকটা লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার ট্রাকে ফিরিয়ে আনার মতো। এটি দরকার ন্যূনতম মেরামত ও কিছু যন্ত্রাংশ বদল। এভাবেই গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। যদি এই কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিই প্রধান সাফল্য হবে।
ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, পর্যবেক্ষকদের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তারা তৃতীয় নজর। তাদের পর্যবেক্ষণ মানসম্মত হওয়া আবশ্যক। মৌলিক বিষয়াদি যেন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারম্যান তালেয়া রহমান, খান ফাউন্ডেশন এর কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকারসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
