সর্বশেষঃ
সাবেক ১২ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে আজ হাজির করা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে দীপু মনির সুপারিশে মাউশিতে তিন হাজার পদায়ন প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি পশ্চিমবঙ্গে গাইতে এসেছেন বলিউডের দুই তারকা, শিকার হলেন মবের নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য পথপ্রদর্শক নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল আসছে! ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা কেন আলাদা, হেমা মালিনী জানালেন ভারত যেন বাদ দিতে চায় মাশরাফিকেও, দাবি বিসিবি সভাপতি নাসুমের দুর্দান্ত স্পেল, সিলেটের জয়, নোয়াখালী হেরেছে বাগেরহাটে ২৮ দলের মাদকবিরোধী ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট সম্পন্ন বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তাই আগে: রমিজ রাজা বিনা আলাপ-আলোচনা মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দিল ভারতীয় বোর্ড
রায়েরবাজারে দাফন হওয়া ১১৪ মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

রায়েরবাজারে দাফন হওয়া ১১৪ মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

২০২৪ সালে জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করছে পুলিশ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।

সিআইডির প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় এই ১১৪ জন মরদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে শহীদ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে মরদেহগুলোর শনাক্তকরণ ও প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরের ৭ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে এই মরদেহগুলো উদ্ধার, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই প্রসেসো আন্তর্জাতিক মান ও মিনেসোটা প্রটোকল অনুসারে পরিচালিত হয়, যেখানে মান্যতা পেয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে।

সিআইডির প্রধান জানান, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় আর খুঁজে পাওয়া গেছে তাদের পরিবারের কাছে। বাকি এক জনের সন্ধানে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এই উদ্যোগ শহীদদের মর্যাদা রক্ষা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যত বিচার তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মো. ছিবগাত উল্লাহ আরো বলেন, “আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এ ধরনের সংবেদনশীল কার্যক্রম পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে নিখোঁজ শহীদদের পরিচয় নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।”

আজ এই পরিচয় শনাক্ত হওয়া আটজন শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মো. সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর আবেগে কাঁদলেন, তিনি বলেন, “আমার সন্তান সোহেলকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজেছি। অবশেষে সিআইডি আমার সোহেলকে খুঁজে দিয়েছে, তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।”

অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বুঝে পেয়ে কবরের পদ্ধতি জানিয়ে দেন এবং আবেগঘন মুহূর্তে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠান শেষে এই পরিবারের সদস্যদের কবর বুঝিয়ে দেওয়া হয়, এ সময় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর প্রতীক ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; শিল্প মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Shipon tech bd