Category: খেলাধুলা

  • সাকিব বললেন, আমি সব বল আমার দেশের জন্য খেলব

    সাকিব বললেন, আমি সব বল আমার দেশের জন্য খেলব

    সম্প্রতি দেশের বাইরে একটি পডকাস্টে লম্বা সময় ধরে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের শীর্ষ তারকা সাকিব আল হাসান। সেখানে তিনি তার ক্যারিয়ারের নানা দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের কথা ওঠে। তখন উপস্থাপক জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপের আগেই কি তিনি টের পেয়েছিলেন যে এই বিশ্বকাপ তারই জন্য আসছে।

    সাকিব উত্তর দেন, ‘কিছুটা ধারণা ছিল। আইপিএলের আগের মৌসুমে আমি সব ম্যাচ খেলেছি (সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে). ফাইনালও খেলেছিলাম, কিন্তু জিততে পারেনি team. ওয়ার্নার তখন অধিনায়ক ছিলেন, তবে তিনি মৌসুমের মাঝপথে খেলতে পারেননি। পরের মৌসুমে তিনি ফিরে আসেন। কেইন উইলিয়ামসন দারুণ ফর্মে ছিলেন। জনি বেয়ারস্টো ও রশিদ খানও দলে ছিলেন। আমি মনে করি, তাদের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল।

    সাকিব আরও বলেন, ‘আমি দেখছিলাম, যদি কেউ ইনজুরিতে না পড়ে তাহলে আমার এই বছর দলে থাকার সম্ভাবনা কম। তখন আমি ভাবলাম, কেন নিজেকে প্রস্তুত করছি না আমার সামর্থ্য অনুযায়ী? কারণ দুই মাস পরই বিশ্বকাপ। আমি হোটেল রুমে বসে নিজেকে অনুপ্রাণিত করছি, ভাবছিলাম, আমি যা চাই সেটি অর্জন করতে আমি বর্তমানে যথেষ্ট পরিশ্রম করছি না। তাই আমি নিজের সব কিছু উজাড় করে দিয়ে ট্রেনিং শুরু করি। এক মাসের ট্রেনিং শেষে আমার ওজন কমে যায় কেউ কেউ দেখেছেন। মূল কোচ টম মুডি জিজ্ঞেস করেন, কী হয়েছ, আমি বলি, দেখবেন বিশ্বকাপে। আমি সবাইকে দেখিয়ে দেব, আমি কী বলতে পারি। আমি ভেতর থেকে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠি। দুই মাসের ট্রেনিং শেষে আমি আয়ারল্যান্ডে গেলে তিনটি ফিফটি করি। তবে ফাইনালের আগে ইনজুরির কারণে ফাইনাল খেলতে পারিনি, আমি কোনো সুযোগ হাতছাড়া করিনি।

    সাকিব আরও বলেন, ‘২০১৯ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে আমি ৭৫ রান করেছিলাম। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে মনে হয় ৬০ রান ছিল। আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমবার জোফরা আর্চারের মুখোমুখি হয়েছি। সে ১৫০ কিমি/ঘণ্টা+ গতিতে বল করত। কার্ডিফে আমরা খেলছিলাম। সৌম্য সরকার তখন আউট হয়ে গিয়েছিল, বল স্টাম্পে হিট করে বাউন্ডারিতে চলে যায়। আমি পরের ব্যাটার। তাকে মোকাবেলা করে একটি ছয় মারি। কারণ সে শরীর তাক করে বল করছিল, আমি হুক পুল করে বলছিলাম। এরপর আমি ভাবলাম, হ্যাঁ, আমি পারব। এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন বোলারকে আমি মোকাবেলা করেছি, ফলত বাকিরা একদম সহজ।

    সেঞ্চুরি করার পর যেনো খুব বেশি উদযাপন না করাটা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘এর কারণ ছিল এই বিশ্বকাপে আমি একটি লেখা লিখে রেখেছিলাম, যাতে বলা হয়েছে আমি প্রতিটি বল আমার দেশের জন্য খেলব—নিজের জন্য নয়। এটি সম্পূর্ণ দলের জন্য।’

  • সাকিবের মন্তব্য: রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখনও শেষ হয়নি

    সাকিবের মন্তব্য: রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখনও শেষ হয়নি

    ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষের আগে থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তিনি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে থাকেন, আর ফিরতে পারেননি। এর ফলে তিনি নিজেকে আরও অধিক জনপ্রিয় এবং দৃঢ়ভাবে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তিনি এসব কথা প্রকাশ করেছেন। একাধিক মামলার আসামি হিসেবে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে রয়েছেন তিনি — এর মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। তবে, তিনি এখনো ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী এবং আরও অনেকদিন রাজনীতি চালিয়ে যেতে চান। সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, ক্রিকেট ক্যারিয়ার প্রায় শেষ করে ফেলেছি আমি। তবে রাজনীতির অংশ এখনও বাকি আছে। এটা আমি বাংলার মানুষের ও মাগুরার মানুষের জন্য করতে চাই। এটাই আমার ইচ্ছা, এবং এখনও আমার আশা আছে। দেখা যাক, আল্লাহ কি করে আমাকে পরিচালনা করেন।’ তিনি জানিয়েছেন, গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পূর্ব থেকেই তিনি দেশের বাইরে ছিলেন, আর সেই সময় থেকে আর দেশের ফিরে আসেননি। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সক্রিয়তা অব্যাহত ছিল। তিনি স্বৈরাচারী নেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন, যা কিছুটা জনরোষের সৃষ্টি করেছিল। তবে, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যতেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চান এবং সেই রাজনীতি এখনো আওয়ামী লীগের নিয়মরীতেই করবেন।

  • ভারতের কারণে আইসিসির ৭৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

    ভারতের কারণে আইসিসির ৭৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই গুরুত্বপূর্ণ আসরকে ঘিরে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এরই মধ্যে টনক নড়ে আইসিসির দাঁতে, কারণ ভারতের বাজারে সম্প্রচার স্বত্ত্বের জন্য তারা বড় ধরনের ঝটকা খেয়ে গেছে।

    আইসিসির সঙ্গে রিলায়ান্সের মালিকানাধীন জিওস্টারের চুক্তি ছিল ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চার বছরের জন্য। এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর আইসিসি পেত ৩০০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৬,৬৮৮ কোটি টাকা। কিন্তু হঠাৎই সম্প্রচার জায়ান্ট জিওস্টার এক চিঠিতে জানিয়ে দেয়, খুব দ্রুতই তারা এই চুক্তি বাতিল করছে, যেখানে মাত্র দুই বছরই বাকি। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসির জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছে। এই খবর দ্য ইকোনমিক টাইমসের व्यापक প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়।

    এখন আইসিসিকে নতুন ধারক খুঁজতে হচ্ছে, তবে বড় অঙ্কের এই অর্থাৎ ৩০০ কোটি ডলার বছরে দেওয়ার মত কেউ এগোচ্ছে না। নতুন চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর আইসিসি পাবেই মাত্র ২৪০ কোটি ডলার, যা আগের চুক্তির তুলনায় ৬০ কোটি ডলার কম, অর্থাৎ বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৭,৩৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি।

    জিওস্টার কেন এই চুক্তি ভেঙে দিল? এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ভারত সরকার সম্প্রচারকারীর জন্য রিয়েল মানি গেমিং অ্যাপগুলো কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ড্রিম১১, মাইইলেভেন সার্কেলসহ বড় বড় অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জিওস্টারের বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের পরিমাণে ব্যাপক হ্রাস হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৭,০০০ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯,৫০০ কোটি টাকা। এরফলে তাদের খরচ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ, ফলে তারা এত বড় চুক্তি চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছে।

    এখন আইসিসি অন্যান্য বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম যেমন সনি, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমের সঙ্গে আলোচনা করছে, কিন্তু কেউ এখনও রাজি হয়নি। যদি নতুন ক্রেতা না পাওয়া যায়, তবে আইসিসিকে বাধ্য হয়েই ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই চুক্তি চালিয়ে যেতে হবে।

    উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নামকরা এই আসর। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ। যদি পাকিস্তান ফাইনালের মুখোমুখি হয়, তাহলে ফাইনাল শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায়, আয়োজন হবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।

  • ঋতুপর্ণা চাকমা পাচ্ছেন বেগম রোকেয়া পদক

    ঋতুপর্ণা চাকমা পাচ্ছেন বেগম রোকেয়া পদক

    বাংলাদেশে নারী জাগরণের অন্যতম প্রবক্তা বেগম রোকেয়া। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের স্বীকৃতি ও অবদানের জন্য মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করে থাকে। এবার এই prestigious পদকের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ড. রুভানা রাকিব, শ্রম অধিকার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং ক্রীড়ায় নারী জাগরণের অন্যতম কাণ্ডারি ঋতুপর্ণা চাকমা। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নারী ফুটবলার। তার জোড়া গোলের সুবাদে বাংলাদেশ শক্তিশালী মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া, গত বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ন হয়, যেখানে ঋতুপর্ণার অবদান বড়। সমাজের নানা প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে এখন তিনি ক্রীড়াঙ্গনসহ পুরো দেশের জন্য অনুপ্রেরণার এক আইকনে পরিণত হয়েছেন। ৯ ডিসেম্বর বুধবার বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিন সরকার রোকেয়া পদক প্রদান করে। অতীতে এই দিনে ক্রীড়াবিদদের পুরস্কৃত করা হয়নি, তবে গত বছর কিংবদন্তি দাবাড়ু রাণী হামিদ পুরস্কৃত হন। এবার আবারও ক্রীড়াঙ্গনের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা এই পদক পাচ্ছেন। অনুষ্ঠান শুরু হবে আগামীকাল এক বিশেষ অনুষ্ঠানে, যেখানে এই সুন্দর মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক অভিনন্দনমূলকভাবে অর্জন করেছে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল ২০২৫ সালে। নারী ফুটবলাররা এর আগে একুশে পদক পায়নি, বরং সাবেক খেলোয়াড় ও ধারাভাষ্যকার আব্দুল হামিদ সাংবাদিকতার জন্য এই পুরস্কার লাভ করেন। দলীয়ভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার প্রথমবারের মতো পেল নারী ফুটবল দল, যা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল।

  • বিশ্বস্ততা দিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিপিএলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত

    বিশ্বস্ততা দিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিপিএলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত

    আগামী বিপিএল আসরে অংশগ্রহণ করবে দেশের সব দলের পাকিস্তানি ক্রিকেটরা। শুরুতেই ছিল অনিশ্চয়তা যে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই খেলা জন্য তাদের অনুমতি দেবে কি না। তবে এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, পিসিবি মোট ৯ জন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে বিপিএলে খেলতে অনুমতি দিয়েছে। এই খবরটি নিশ্চিত করেছে এনডিটিভি।

    তালিকায় থাকা ক্রিকেটাররা হলেন- মোহাম্মদ নাওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, সাহিবজাদা ফারহান, হুসাইন তালাত, ইহসানউল্লাহ, হায়দার আলি, আবরার আহমেদ, খাজা নাফিস এবং সালমান ইর্শাদ।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানি ব্যাটার উমর আকমলকে এনওসি (নোটিশ জন্য অনাপত্তিপত্র) দেয়া হয়নি। তিনি এর কারণ জানতে পিসিবির কাছ থেকে আবেদন করেছেন। উমর আকমল বলেছেন, ‘আমি জানি না কেন আমার এনওসি অনুমোদন করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের কারণে আমি বেশ কিছু ভালো চুক্তিও হারিয়েছি।’

    বিপিএলের অধিকাংশ দলেরই পাকিস্তানি ক্রিকেটার থাকায় এই অনুমতিকে অনেকেই এক বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন।

    বিপিএলের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে। এই পর্বে ছয় দিনে মোট ১২টি ম্যাচ হবে, যেখানে মাঝেমধ্যে দুটি করে দিনের বিরতিও থাকবে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে চট্টগ্রামে, ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এরপর ১৫ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরে আসবে বিপিএল। তিন দিন টানা ম্যাচের পর ১৭ জানুয়ারি শেষ হবে গ্রুপ পর্বের খেলা।

  • অবিশ্বাস্য ড্র: গ্রিভসের দ্বিশতক ও হোপের সেঞ্চুরিতে নাটকীয় সমাপ্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজের

    অবিশ্বাস্য ড্র: গ্রিভসের দ্বিশতক ও হোপের সেঞ্চুরিতে নাটকীয় সমাপ্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজের

    ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার অ্যাশেজ সিরিজের উত্তাপের মধ্যে গতকাল ক্রাইস্টচার্চে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি আকর্ষণীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউজিল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি ছিল অনেকের জন্য বেশ দারুণ এক চমক। এই ম্যাচটি শুরুতে একটু আড়ালেই থেকে যায় যেন, তবে দিন শেষে এটি হয়ে ওঠে টেস্ট ক্রিকেটের এক অনন্য ম্যাচের উদাহরণ। নানা কারণেই এই ম্যাচ হঠাৎ করে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনোযোগ কেড়ে নেয়।

    প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৬৭ রানে অলআউট হওয়া ক্যারিবীয়রা দ্বিতীয় ইনিংসে চমক দেখিয়ে ৫৩১ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায়। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম দুই দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিপক্ষ থেকে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখানোর জন্য তারা প্রেরণা পান। অচিরেইই বোঝা গেল, এই ম্যাচটি কেবল নির্দিষ্ট দিক থেকে না, বরং পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে লোভনীয় করে তুলবে।

    দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয়রা ৬ উইকেটে ৪৫৭ রান সংগ্রহ করে। এই ইনিংসটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের দৃষ্টান্ত, যা প্রচুর উৎসাহ ও উন্মাদনার জন্ম দেয়। শাই হোপ ১৪০ রান করে দলের নেতৃত্ব দেন এবং তার পরই জাস্টিন গ্রিভসের ব্যাট থেকে এক চমৎকার ২০২ রানের ইনিংস আসে। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৮৮ বলের মোকাবিলায়। তার সাথে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন টেলএন্ডার কেমার রোচ, যিনি ৫৩ রানে টিকে থাকেন এবং বলখেলেছেন ২৩৩টি।

    প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জেতার জন্য শেষ কথাটা বলার খুব কাছেই থাকলেও দিনের শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি অমীমাংসিত থাকল। কিছুটা সময় থাকলে হয়তো এই ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত। ক্যারিবীয়দের ডাগআউটে ড্যারেন সামিদের উচ্ছ্বাস দেখে বোঝা গেল, তারা আসলে জয়ই চাইছিল। এই ড্র ছিল ক্রিকেটের জন্য যেন এক চমৎকার নাটক, যা দর্শকদের মনোযোগ কেড়ে নিল।

    এই প্রথম টেস্টে, ক্রাইস্টচার্চে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ২৩১ রান করে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ১৬৭ রানে। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে দলটির প্রধান খেলোয়াড়রা অসাধারণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। অধিনায়ক টম লাথামের ১৪৫ এবং রাচিন রবীন্দ্রর ১৭৬ রানের ইনিংস যেখানে দলের বড় সংগ্রহের ভিত্তি হয়, সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিপক্ষকে আসল চাপে ফেলে দেয়।

    প্রথমে বড় রান তাড়া করতে নেমে সফরকারীরা শুরুতেই বেশ জনপ্রিয় উইকেট হারান। ২৪ রানে শুরু করে ৭২ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের মাধ্যমে বিপদে পড়ে যায়। জন ক্যাম্পবেল ১৫, ত্যাগনারায়ান চন্দরপল ৬, অ্যালিক আথানাজে ৫ এবং অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৪ রানে আউট হন। তবে শেষ মুহূর্তে শাই হোপ এবং জাস্টিন গ্রিভসের দৃঢ়তা সেই পরিস্থিতি বদলে দেয়। শতরানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পুনরাই লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন তারা। এই পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের হয়ে জাম্বেক ডাফি সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন।

    সবশেষে, এই নাটকীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি সমাপ্তির পথে থাকলেও ফলাফল নির্ধারিত হয়নি। এইসময় যদি আরও কিছু সময় থাকত, হয়তো এই ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। তবে ক্যারিবীয়দের আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ়তা স্পষ্ট দেখিয়েছে, এই ড্রও কেবল এক অর্জন নয়, এটি সত্যিই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক ছোট আনন্দের ব্যাপার।

  • মিরাজ-শান্তদের নেতৃত্বে খেলবেন আকবর, সোহান, সাকলাইনরা

    মিরাজ-শান্তদের নেতৃত্বে খেলবেন আকবর, সোহান, সাকলাইনরা

    বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রতি বছরই মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এই জনপ্রিয় আয়োজনে এবারও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তত্ত্বাবধানে ১৬ ডিসেম্বর দুটি দল উঠে খেলবেন। পাশাপাশি, একই দিনে বিকেলে জাতীয় দলের বর্তমান ক্রিকেটাররাও অংশ নেবেন এই আনন্দমুখর ম্যাচে।

    ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) উদ্যোগে মিরপুরে বিকেলে দুটি দল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অদম্য নামে দলের নেতৃত্বে থাকবেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, আর অপরাজেয় দলের অধিনায়ক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের টেস্ট দলের অবিসংবাদিত নেতা নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দুই দলের স্কোয়াডে রয়েছে বাংলাদেশের তরুণ ও উজ্জ্বল ক্রিকেটাররা, যারা বর্তমানে জাতীয় দলের সঙ্গে খেলছেন বা ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করছেন।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এক্সট্রা ছুটিতে থাকায় আরেকটু সহজে এই আয়োজন। তবে, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদরা ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টি খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকায় তাদের স্কোয়াডে রাখা হয়নি। তবুও চোটমুক্ত ক্রিকেটাররাই এই ম্যাচে অংশ নেবেন। লিটন দাসের নাম না থাকলেও, জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশ কিছু তারকা ক্রিকেটাররাও দলে আছেন।

    সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আলোচিত খেলোয়াড় হাবিবুর রহমান সোহান এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে ব্যাট হাতে নিজের প্রতিভা দেখিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন। বিপিএল নিলামে নোয়াখালী এক্সপ্রেস হিসেবে ৫০ লাখ টাকায় নিলামে ওঠেন। অদম্য স্কোয়াডে তার সঙ্গে থাকবেন তরুণ ওপেনার আকবর আলী, যিনি সম্প্রতি ব্যাটিংয়ে উজ্জ্বল ছিলেন। এই দলটিতে আরও থাকছেন জাতীয় দলে থাকা ও ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো ছড়ানোর জেসমিনরা।

    অপরাজেয় দলের নেতৃত্বে থাকছেন শান্তর নেতৃত্বে কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। এতে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, who is the captain, এবং গত এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান করা মাহমুদুল হাসান জয়। এ ছাড়াও থাকছেন দলে স্লোয়ার ডেলিভারি ও ডেথ ওভারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোয়াডগুলো হল:

    অদম্য: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), হাবিবুর রহমান সোহান, তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, তাওহীদ হৃদয়, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, আকবর আলী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, হাসান মাহমুদ, তানভির ইসলাম এবং শরিফুল ইসলাম।

    অপরাজেয়: পারভেজ হোসেন ইমন, মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী, জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, নাসুম আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, নাহিদ রানা এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

  • মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে এবার মায়ামিকে সর্বোচ্চ শিরোপা

    মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে এবার মায়ামিকে সর্বোচ্চ শিরোপা

    ফুটবল বিশ্বে গত কয়েক মৌসুমে অপ্রচলিত মনে হওয়া মার্কিন লিগ এমএলএস এখন কীভাবে বদলে যেতে শুরু করেছে, তার অন্যতম কারণ হল লিওনেল মেসির আগমন। তার স্��র্শে রাতারাতি এসপুট স্পন্দিত হয়ে উঠেছে এই লিগের প্রতিযোগিতা। সম্প্রতি সেখানকার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি, এমএলএস কাপ, প্রথমবারের মতো জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ইন্টার মায়ামি। এই সাফল্য মেসির জোড়া অ্যাসিস্টের কৃতিত্বে সম্ভব হয়েছে, যা দলের জন্য এক মহান অর্জন।

    বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতে ক্যারিয়ারে এক বিশেষ অধ্যায় সম্পন্ন করেছেন। তারপরও পেশাদার ফুটবল চালিয়ে যেতে হবে, এই চ্যালেঞ্জ তিনি গ্রহণ করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে, রীতিমতো আনকোরা দলের মধ্যেও এক নতুন জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন মেসি। দল গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, যেখানে মূল প্রেরণা ছিলেন মেসি নিজেই। রদ্রিগো ডি পলের মতো খেলোয়াড়দের দলে আনা, বুসকেটস, সুয়ারেজের উপস্থিতি—সবই ছিল দলের সাম্প্রতিক সফলতার মূল ভিত্তি।

    দলের সাথে একসঙ্গে অনেক ট্রফি জয় করেছেন মেসি। এবার তিনি এমএলএস কাপে নিজের জয়ের সংখ্যাও ৪৮–এ নিয়ে গেছেন। এই কাপের ফাইনাল ম্যাচটি দুই কনফারেন্সের শীর্ষ দলগুলির মুখোমুখি হয়। উদ্বোধনী থেকে শুরু করে, শীর্ষে থাকা মায়ামি ইস্টার্ন কনফারেন্সের ট্রফি জিতেছে। এর মাধ্যমে তারা পুরো এমএলএসের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট মাথায় তুলে নিয়েছে। গত শনিবার ফোর্ট লডারডেল-এর চেজ স্টেডিয়ামে এই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মায়ামি ও ভ্যাঙ্কুভার সমান লড়াই করেছে।

    ম্যাচের প্রথমার্ধে মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যেই এডিয়ার ওকাম্পোর আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ভ্যাঙ্কুভার। এরপর তাদের জন্য ম্যাচে ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৬০ মিনিট পর্যন্ত। আলি আহমেদের গোল তাদের অনুপ্রেরণা যোগায়, তবে পরবর্তী সময়ে রদ্রিগো ডি পলের গোল লিড প্রদান করে মায়ামিকে। শেষমেষ, যোগ করা সময়ে তাদেও আলেন্দের গোল ম্যাচের জয় নিশ্চিত করে।

    মেসি দুটি গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করেছেন, যা এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। এই জয়ের কৃতিত্বকে স্মরণ করে মেসি বলেন, ‘গত বছর আমাদের জন্য মৌসুমটা খুব হতাশাজনক ছিল, শুরুতেই বিদায় নিতে হয়েছিল। তবে এই বছর আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল এমএলএস জয়। দল শ্রম ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এ লক্ষ্য সফল করেছে। বছরটি ছিল অনেক দীর্ঘ, অনেক ম্যাচ খেলতে হয়েছে, কিন্তু চূড়ান্তভাবে আমরা সফল।’

    ১২ বছর আগে ডেভিড বেকহ্যাম দলটির মালিকানা গ্রহণের পর, ২০২০ সালে খেলোয়াড় হিসেবে দলটির যাত্রা শুরু হয়। তিন বছর পর মেসি যোগ দেন, আর তখন থেকেই দলটির ভাগ্য বদলে যেতে শুরু করে। বেকহ্যাম বলেন, ‘এটা এক অবিশ্বাস্য যাত্রা। মেসি শুধু উপভোগ করতে আসেনি, তার পরিবারও এই শহরকে ভালোবাসে। তবে তার আসলে জেতারই মনোভাব ছিল। সে সবসময় দলের প্রতি আন্তরিক ও নিবেদিত। লিও একজন প্রকৃত বিজয়ী।’

  • ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পূর্ণ সূচি প্রকাশ: কবে কোথায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পূর্ণ সূচি প্রকাশ: কবে কোথায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ

    অবশেষে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পুরো সূচি প্রকাশিত হলো। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস ভেন্যুতে বিশ্বকাপের বিস্তারিত রূপে ঘোষণা করেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো। এ সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও।

    আগামী বছরের ১১ জুন শুরু হবে এই বিশাল প্রতিযোগিতা, যা হবে ত্রৈমাসিক দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিবে ৪৮ দল, যা প্রথমবারের মতো ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। আগের ৩২ দলের পরিবর্তে এবার গ্রুপের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি দল। উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটিতে, ঐতিহ্যবাহী আজতেকা স্টেডিয়ামে।

    প্রথম দিন অর্থাৎ ১২ জুন থেকে শুরু হবে গোলের উন্মাদনা কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে ২৭ জুন পর্যন্ত চলবে। এরপর ২৮ জুন শুরু হবে নক আউট পর্বের প্রথম রাউন্ড—রাউন্ড অফ ৩২। সেখান থেকে প্রতিটি ধাপে প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকবে, যেমন: ৪ জুলাই হবে গোলের মহাযুদ্ধ রাউন্ড অফ ১৬, ৯ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনাল, ১৪-১৫ জুলাই সেমিফাইনাল এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের মহা ফাইনাল।

    বিশ্বকাপের গ্রুপ বিন্যাস অনুযায়ী, বেশ কিছু গ্রুপের দলগুলো হলো:
    – গ্রুপ ‘এ’: মেক্সিকো, দক্ষিন কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইউরোপিয়ান প্লে-অফের বিজয়ী—ডেনমার্ক, চেক রিপাবলিক, বা নর্দার্ন আইর‌্যান্ড।
    – গ্রুপ ‘বি’: কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপিয়ান প্লে-অফের বিজয়ী—ইতালি, ওয়েলস, বা বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।
    – গ্রুপ ‘সি’: ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
    – গ্রুপ ‘ডি’: যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে এবং ইউরোপিয়ান প্লে-অফের বিজয়ী—তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, কসোভো বা রোমানিয়া।
    – এছাড়াও রয়েছে জার্মানি, ইকুয়েডর, কোস্টা রিকা ও ক্যারিবিয়ান দলের গ্রুপ ‘ই’, নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া ও চতুর্থ দল, ইউরোপিয়ান প্লে-অফের বিজয়ী—ইউক্রেন, পোল্যান্ড, আলবেনিয়া বা সুইডেন, ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, পানামা ও ঘানা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান, পর্তুগাল, কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও অন্যান্য দল।

    বিশেষ করে বললে, আর্জেন্টিনার ম্যাচের সময়সমূহ হলো:
    – ১৬ জুন রাত ৯টা: আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়া
    – ২২ জুন দুপুর ১টা: আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া
    – ২৭ জুন রাত ১০টা: আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডন।

    ব্রাজিলের ম্যাচের সময়সূচি:
    – ১৩ জুন বিকাল ৬টা: ব্রাজিল বনাম মরক্কো
    – ১৯ জুন রাত ৯টা: ব্রাজিল বনাম হাইতি
    – ২৪ জুন সন্ধ্যা ৬টা: ব্রাজিল বনাম স্কটল্যান্ড।

    অন্য দেশগুলোর দিকে তাকালে, স্পেনের জন্য রয়েছে ১৫ জুন দুপুর ১২টা, উদাহরণস্বরূপ, ইংল্যান্ডের ম্যাচ যথাক্রমে ১৭ জুন বিকাল ৪টা এবং ২৩ জুন বিকাল ৪টা। এই সময়সূচিগুলো আমেরিকার সময় অনুসারে ঠিক করা হয়েছে।

    সর্বশেষ, এই বিশ্বকাপে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এবারের প্রতিযোগিতা হবে অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ, কারণ প্রথমবারের মতো এত বেশি দল অংশ নিচ্ছে। এছাড়া, প্রতিটি ম্যাচের দিন, সময় এবং ভেন্যু বিস্তারিত জানা থাকায় দর্শকরা নিজেদের পছন্দের ম্যাচগুলো উপভোগ করার জন্য অপেক্ষা করতে পারেন।

  • সালাহউদ্দিনের মতে, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হয়েছেন

    সালাহউদ্দিনের মতে, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হয়েছেন

    সালাহউদ্দিন মনে করেন, এ বছর খেলোয়াড়রা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কৌশল বেশ ভালোভাবে উপলব্ধি করেছে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খেলোয়াড়রা টি-টোয়েন্টি সম্পর্কে ভালো ধারণা অর্জন করেছে। এখন তারা জানে কিভাবে খেলতে হবে। এটিই এই বছরকের সবচেয়ে বড় অর্জন। ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে। এর আগে অনেক সময় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হত না, এখন সবাই নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে ভালোভাবে সচেতন।’