সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা হয়েছে। এর পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভবিষ্যতে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নজর ছিল এই বৈঠকে কোন সমঝোতা হয়ে ওঠে কি না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল সূত্র জানিয়েছে, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য একটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। সেটি হলো, ইরানকে তাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র—ফোর্ডো, নাতানজ ও ইসফাহান—ভেঙে ফেলে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, ইরানের কাছে থাকা সকল সমৃদ্ধকরণকৃত ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র আরও বলছে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এখন শূন্যে নামিয়ে আনার খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালানোর জন্য কিছু সীমিত পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিতে পারে।
অন্যদিকে, যদি ইরান এই শর্তগুলো মানতে রাজি হয়, তবে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা দেওয়া হবে—অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা মুক্তি পেতে পারে। তবে, এই শর্ত মানা গেলে ভবিষ্যতে আরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যদি ইরান এই চুক্তি মানবে না, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে, ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে রণতরীসহ এক ডজনের বেশি যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করেছে। এ ছাড়াও, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের মতো যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলে উপস্থিত হচ্ছে।
এই সমস্ত কর্মকাণ্ড ও আলোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের সূত্রে।
