Category: আন্তর্জাতিক

  • মিয়ানমারে বিস্ফোরণে ঐতিহাসিক রেলসেতু উড়িয়ে দেওয়া হলো বিদ্রোহীদের হামলায়

    মিয়ানমারে বিস্ফোরণে ঐতিহাসিক রেলসেতু উড়িয়ে দেওয়া হলো বিদ্রোহীদের হামলায়

    বোমা হামলা চালিয়ে মিয়ানমারের এক ঐতিহাসিক রেলসেতু ধ্বংস করেছে দেশটির সামরিকবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। এই সেতুটি ঔপনিবেশিক যুগের অন্যতম ব্যতিক্রমী নির্মাণ এবং বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলপথের সেতু হিসেবে পরিচিত। সামরিক জান্তার দাবি, তারা এই সেতুটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে।

    রোববার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রচুর সংখ্যক অভ্যুত্থানবিরোধী গোষ্ঠী বোমা হামলা চালিয়ে এই ঐতিহাসিক সেতুটি ধ্বংস করেছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটার পর থেকে দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বিদ্রোহী দল ও গণতন্ত্রকামী প্রতিরোধ আন্দোলনের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

    জান্তা বাহিনীর একজন মুখপাত্র, জ্য মিন তুন, ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘‘তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) ও পিপলস ডিফেন্স ফোর্স এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং ঐতিহাসিক গোকটেইক রেলসেতু ধ্বংস করেছে।’’

    গোকটেইক রেলওয়ে সেতু মিয়ানমারের সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামো, যা প্রায় ৩৩৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এটি ১৯০১ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত হয় এবং তখন এটি বিশ্বের অন্যতম উঁচু রেলওয়ে ট্রেসেল বলা হতো। প্রকাশ্য ভিডিও ও ছবি থেকে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় সেতুটি আংশিকভাবে ধসে পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    অপরদিকে, টিএনএলএর মুখপাত্র, লওয়ে ইয়াই, অভিযোগ করেছেন, জান্তার বোমা হামলায় এই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আজ সকালে মিয়ানমার সেনারা ড্রোন ব্যবহার করে আমাদের ঘাঁটিগুলিতে হামলার চেষ্টা করে। তারা আমাদের লক্ষ্য করে বোমা ফেলে, যার প্রভাব পড়েছে গোকটেইক সেতুতেও।’’

    সম্প্রতি নাওংকিও ও কিয়াউকমি শহরগুলোতে দেশটির জান্তা বাহিনী ও টিএনএলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল। যদিও জান্তা গত জুলাইয়ে এই শহরগুলো পুনর্দখলের দাবি করেছিল। এই পরিস্থিতি মিয়ানমারের চলমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষের চিত্রটিকে আরও জটিল করে তোলে।

    সূত্র: এএফপি

  • রাহুল গান্ধী বললেন, মোদি সরকার দরিদ্রদের ভোট চুরি করছে

    রাহুল গান্ধী বললেন, মোদি সরকার দরিদ্রদের ভোট চুরি করছে

    ভারতের বিহার রাজ্যে নিভৃত পর্যবেক্ষণের নামে ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষের বেশি নাম অবৈধভাবে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো জোরালো প্রত্যাখ্যান জানিয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এই ধরনের তালিকা হালনাগাদ ও সংশোধনের নামে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সরকারের এই প্রচেষ্টা মূলত ভোট চুরি করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক পন্থা, যা নির্বাচন কমিশনের কূটচালে পরিচালিত। রাহুল গান্ধী এই বিষয়ে বিহার জুড়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ শুরু করেছেন। রোববার তিনি আরারিয়ায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ সব কথা বলেন। তিনি তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ওপর। তিনি দাবি করেন, মোদি সরকার বিহারে বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংষ্করণ (এসআইআর) এর মাধ্যমে দরিদ্রদের ভোট চুরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাহুল গান্ধী এই প্রক্রিয়াকে বলে, ‘ভোট চুরির এক প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি’, যা নির্বাচন কমিশনের অনুকূল চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে চলে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি খাতের বিভিন্ন সংস্থা বেসরকারিকরণের পর এখন এসআইআর এর মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার হরণ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। কংগ্রেসের এই নেতা নির্বাচন কমিশনকে ‘নির্বাচনী ওমিশন (ব্যর্থতা)’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এই পদক্ষেপ অসাংবিধানিক ও বিহারের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য করে সমাজের ক্ষুদ্র প্রান্তিক অংশগুলোকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা। রাহুল গান্ধী বলেন, সংবিধান দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। তাই তিনি মনে করেন, এসআইআর আইনসভা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিহারের মানুষ বিজেপি ও তার মিত্রদের উপযুক্ত জবাব দেবে এবং নির্বাচনে তাদের ভোট দিয়ে সচেতন ও শক্তিশালী প্রান্তিকে প্রাধান্য দেবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার ফি প্রায় দেড়শ শতাংশ বাড়ছে

    যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার ফি প্রায় দেড়শ শতাংশ বাড়ছে

    আগামী ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ভিসার (বি১/বি২) ফি ব্যাপক বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কারণে মার্কিন কংগ্রেস এ সংক্রান্ত একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনতে সম্মতি করা হয়। নতুন আইনের আওতায় পর্যটন ভিসার ফি আগে ছিল ১৮৫ ডলার, কিন্তু এখন থেকে সেটি বাড়িয়ে ৪৩৫ ডলার নির্ধারিত হয়েছে, যা গতিবেগে ১৩৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। বাংলাদেশি টাকায় এর মান প্রায় ৫৩ হাজার টাকা।

  • পাকিস্তানে আকস্মিক বন্যায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ৪৬৬

    পাকিস্তানে আকস্মিক বন্যায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা ৪৬৬

    পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে মৌসুমি বর্ষণের ফলে শুরু হওয়া আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে রোববার কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম। এর ফলে, দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে মৃতের সংখ্যা মোট ৪৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন করে হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। চলমান বর্ষাকালে এই অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    উদ্ধারকারীরা জানান, গত এক দিনে তীব্র বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো বাতাসের কারণে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রদেশে প্রায় ৪০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বুনের জেলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৩৩৭ জন।

    অপরদিকে, দক্ষিণ সিন্ধু, দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান, উত্তর গিলগিট-বালতিস্তান এবং পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে মোট ৬০ জনেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।

    জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, জুনের শেষের দিকে থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাত এবং বন্যার কারণে দেশজুড়ে মোট প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেকের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

  • মালয়েশিয়ায় ২৪ লাখ ৬৭ হাজার কলিং ভিসার কোটা খুলে গেছে

    মালয়েশিয়ায় ২৪ লাখ ৬৭ হাজার কলিং ভিসার কোটা খুলে গেছে

    মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য কলিং ভিসার কোটা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এ খবর দেশের বিভিন্ন প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩টি খাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, গার্ডেনিং ও খনি খাতের পাশাপাশি সার্ভিস সেক্টরে কাজের সুযোগ, যেমন হোলসেল এন্ড রিটেল, ল্যান্ড ওয়্যারহাউস, সিকিউরিটি গার্ডস, মেটাল ও স্ক্রাপ ম্যাটেরিয়ালস, রেস্টুরাঁ, লন্ড্রি, কার্গো এবং বিল্ডিং ক্লিনিং।

    তিনি আরও বলেন, নির্মাণ খাতের জন্য নিয়োগ কেবল সরকারি প্রকল্পের আওতায় থাকবে। অন্যদিকে, উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এমআইডিএ) নতুন বিনিয়োগগুলোকে।

    নতুন এই কলিং ভিসার জন্য আবেদন শুধুমাত্র অনুমোদিত অফিসিয়াল এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে করতে হবে। কোনো এজেন্ট বা সরাসরি নিয়োগকর্তা পূর্বে মত আবেদন করতে পারবে না। আবেদন যাচাইবাছাই শেষে তা অনুমোদন দেবে ফরেন ওয়ার্কার্স টেকনিক্যাল কমিটি এবং পরে জয়েন্ট বা যৌথ কমিটি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন শ্রমিকের কোটা চালু রয়েছে, যা বছরের শেষ পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) অব্যাহত থাকবে। এরপর বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা দেশের মোট জনসংখ্যার ১০% পর্যন্ত সীমিত করা হবে।

    তবে, বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য এই কোটা কতজনের জন্য নির্ধারিত হবে, সে বিষয়ে আসামি বা মিডিয়াগুলো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন ও মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের কর্মকাণ্ড ব্যাপক আকারে অব্যাহত

    যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন ও মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের কর্মকাণ্ড ব্যাপক আকারে অব্যাহত

    যুক্তরাষ্ট্রে আইন লঙ্ঘন ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে গত কিছু মাসে ছয় হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের মতে, এই ভিসা বাতিলের প্রধান কারণের মধ্যে রয়েছে হামলা, মদ্যপান অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি করা এবং সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতা করার অভিযোগ। তবে, সন্ত্রাসবাদে সহায়তা বা প্রসঙ্গটি মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়নি।

    অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যারা ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভ বা সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, তারা ইহুদি বিদ্বেষমূলক আচরণে লিপ্ত ছিলেন।

    জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ সংখ্যাটি স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হচ্ছে আরও ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান। এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি কঠোর মনোভাবের অংশ।

    বাতিল হওয়া ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় চার হাজার ভিসা বাতিল হয়েছে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে। এছাড়াও, ২০০ থেকে ৩০০টির বেশি ভিসা বাতিল হয়েছে ‘আইএনএ ৩বি’ আইনের আওতায়, যেখানে সন্ত্রাসবাদে সহায়তা বা সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আইনে ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড’ বলতে বোঝানো হয়, এমন কর্মকাণ্ড যা মানুষের জীবনহানির ঝুঁকি সৃষ্টি করে বা মার্কিন আইন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।

    ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে, মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর আরও বেশি সংখ্যক আন্তর্জাতিক ছাত্রভর্তি হচ্ছে — অনূমি হিসেবে ১১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী বিভিন্ন দেশের। এর আগেও, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি স্থগিত করে ছিল এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট 공개 করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করে দেয়। এই নির্দেশনা ছিল, আবেদনকারীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টসমূহ বিশ্লেষণের জন্য যেন তারা মার্কিন সংস্কৃতি, সরকার, বা নীতির প্রতি কোনও বিদ্বেষ প্রকাশ করেন কিনা।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মে মাসে কংগ্রেসে ঘোষণা দেন, ‘অতীতের মতোই, বিভিন্ন পর্যায়ে ভিসা বাতিলের সংখ্যা বাড়ছে। যারা আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবাঞ্ছিত কার্যকলাপে জড়িত থাকবেন, তাদের ভিসা বাতিল অব্যাহত থাকবে।’ তবে, এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা, যারা এটিকে ‘উপযুক্ত প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    উপসংহারে, জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দরজা এখনও বন্ধ নয়, তবে সতর্ক ও কঠোর নিয়মনীতি জারির মাধ্যমে দেশটির অভিবাসন নীতি কঠোর হয়ে উঠছে।

  • নাইজেরিয়ায় ফজরের নামাজের সময় হামলায় নিহত ২৭ মুসল্লি

    নাইজেরিয়ায় ফজরের নামাজের সময় হামলায় নিহত ২৭ মুসল্লি

    নাইজেরিয়ার উত্ত northernাঞ্চলের কাটসিনা রাজ্যে ফজরের নামাজের সময় এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় কমপক্ষে ২৭ জন মুসল্লি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টার সময়, মুসল্লিরা তাদের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য মসজিদে উপস্থিত ছিলেন, তখনই সশস্ত্র কয়েকজন হামলাকারী ঢুকে গুলি চালানো শুরু করে। ঘটনার সময় তারাতারি পরিস্থিতি অরাজক হয়ে যায়। প্রত্যন্ত গ্রাম উঙ্গুয়ান মানতাউয়ের এই মসজিদে সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছিল না, হঠাৎ করে অচেতনভাবে গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অনেকের মৃত্যু হয়, আহতদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থা মারাত্মক। এখন পর্যন্ত কেউ এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলার পেছনে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারে। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমি ও পানির দখল নিয়ে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলে আসছে, যার ফলশ্রুতিতে বেশ কয়েকবার এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে পশুপালক ও কৃষকদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব প্রবলভাবে রয়ে গেছে, যা কখনো কখনো রক্তের সংঘর্ষ রূপ নেয়। গত জুনে, এই অঞ্চলের অন্য একটি হামলায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ঘটনাটির পরে, নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাটসিনা রাজ্যের পুলিশ প্রধান নাসির মুয়াজু। উঙ্গুয়ান মানতাউ গ্রামে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ ভীত ও আতঙ্কিত, তারা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা

  • আফগানিস্তানে ট্রাক, মোটরসাইকেল ও বাসের সংঘর্ষে নিহত ৭১ জন

    আফগানিস্তানে ট্রাক, মোটরসাইকেল ও বাসের সংঘর্ষে নিহত ৭১ জন

    আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ হেরাতে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের ভয়াবহ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭১ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন হেরাত প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ মুত্তাকি।

    হেরাত প্রাদেশিক পুলিশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ সাইদি জানান, নিহতদের মধ্যে বাসটির যাত্রীরা সবাই আফগান নাগরিক, যারা ইরান থেকে কাবুলের দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার জন্য বাসের বেপরোয়া গতি ও চালকের অসতর্কতা দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।

    অফগানিস্তানে দীর্ঘ দিন ধরে চলা সংকট ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, আশির দশকে সোভিয়েত বাহিনীর আফগানিস্তানে দেওয়া সামরিক অভিযান চলাকালে হাজার হাজার আফগান শরণার্থী ইরানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের সরকারের নির্দেশে এঁরা নিজেদের দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। জানুয়ারির প্রথম দিকে পর্যায়ক্রমে ১০ লাখ ৬০ হাজারের বেশি আফগান দেশে ফিরে আসেন।

    সোমবারের এই দুর্ঘটনার আগের যাত্রীরা ও লক্ষ্য করে আসা বাসটি ওরা শরণার্থী হিসেবে ইরানে বাস করতেন। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে, তারা এবার আফগানিস্তানে ফিরে আসছিলেন।

    সাইদি জানান, বেপরোয়া গতিতে চলতে থাকা বাসটির সাথে প্রথমে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় কিছুক্ষণ পরই একটি জ্বালানিবাহী ট্রাকের সাথে বাসটির মুখোমুখি ঘটে এবং এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে ঘটনাস্থলেই নয়, পরে বিস্ফোরণে আরও অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

    নিহতদের মধ্যে ট্রাক চালক, তার সহকারি, মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রী সহ মোট ৬৭ জনই বাসের যাত্রী ছিলেন। তবে unfortunate কেউ কেউ আহত হয়েছেন। সাইদি জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটার পর মাত্র তিনজন যাত্রী বেঁচে থাকতেই পারেন।

    অভিযোগ ও ইতিহাস থেকে জানা যায়, আফগানিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ। দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, খাড়া পাহাড়ি রাস্তা এবং চালকদের অসতর্কতা হামেশা বড় বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উল্লেখ্য, ডিসেম্বর মাসে একটি জ্বালানি ট্যাংকার ট্রাকের সাথে বাসের সংঘর্ষে ৫২ জন নিহত হয়েছিলেন।

  • ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান কি কখন শুরু হবে?

    ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান কি কখন শুরু হবে?

    পবিত্র ও মহিমান্বিত মাস রমজান উপলক্ষে বিশ্বের মুসলিমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। এই মাসটি শুধুমাত্র ইবাদত কিংবা আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের জন্য নয়, এটি পারিবারিক সম্পর্কের আরও গভীরতা আনতে, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা এবং সৌহার্দ্য ছড়াতে বিশেষ গুরুত্ব ভাগ করে নেয়। ২০২৬ সালেও এই বিশেষ মাসের জন্য মুসল্লিরা প্রস্তুত হচ্ছেন।

    গালফ নিউজের একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, জ্যোতির্বিদদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রমজান মাসের শুরু হতে পারে ১৭ ফেব্রুয়ারি। এর আগে, আরব বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে রমজানের চাঁদ দেখা যেতে পারে রমজানের প্রথম রাতে। তবে রমজানের সূচনা ও শেষের নির্ধারিত তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করছে, যার জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।

    আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, শাবানের ২৯তম দিনেই রমজানের চাঁদ দেখা হয় এবং এর পরে রমজান মাস শুরু হয়। প্রত্যেক দেশের আলাদা চাঁদ দেখা কমিটি বা ধর্মীয় সংস্থা চন্দ্র দেখে রমজান মাসের শুরু ও শেষের তারিখ ঘোষণা করে থাকে। চন্দ্র মাসগুলো সূর্য-ক্যালেন্ডারের থেকে ছোট হওয়ায় প্রতি বছরই এগুলোর তারিখ অল্প একটু পিছিয়ে যায়। এর ফলে মুসল্লিরা শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, বা বসন্তের মতো বিভিন্ন ঋতুতেই এই মহিমান্বিত মাসের অভিজ্ঞতা পান।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রমজান শুরু হতে পারে ১৭ ফেব্রুয়ারি। তবে চূড়ান্ত ঘোষণা চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করেই হবে।

    সূত্র: গালফ নিউজ।

  • ট্রাম্প বললেন, ইউক্রেনের ন্যাটো ও ক্রিমিয়ার আশা ছাড়াই শান্তি বার্তা দিন

    ট্রাম্প বললেন, ইউক্রেনের ন্যাটো ও ক্রিমিয়ার আশা ছাড়াই শান্তি বার্তা দিন

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটে যোগদানের Aspirations এবং রাশিয়া দখল করা ক্রিমিয়া পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও অন্যান্য ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এ ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা দেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর নিশ্চিত করেছে।

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শুক্রবার আলাস্কায় আলোচনার পর ট্রাম্প এবার ইউক্রেনকে চাপ দিচ্ছেন। তিনি চান, কিয়েভ শান্তিচুক্তি মেনে নিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটাক। বর্তমানে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত ও হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এই সংঘর্ষে।

    হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রথমে নিজের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক করবেন, এরপর ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, ফিনল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ইউরোপীয় নেতারা একযোগে ওয়াশিংটনে গিয়ে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাতে চান।

    রোববার ট্রাম্প তার প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, জেলেনস্কি যদি চায়, দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে পারেন। আবার চাইলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ওবামার আমলে ক্রিমিয়া গুলিবিহীন দখল হয়েছে, ন্যাটোও ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।

    এদিকে, ইউক্রেন ও তার মিত্ররা আশঙ্কা করছেন, হয়তো ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে কোনো সমঝোতার জন্য চাপ দিতে পারেন। তবে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন, কারণ ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।

    পুতিনের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের ডনেস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ ছাড়তে হবে। তবে জেলেনস্কি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার পক্ষে। কিন্তু এরপর ট্রাম্প রাশিয়ার দাবির পক্ষে অবস্থান নেন।

    জেলেনস্কি রবিবার রাতে ওয়াশিংটনে পৌঁছে বলেছেন, এই যুদ্ধ দ্রুত ও স্থায়ীভাবে শেষ করতে চায় সবাই। রাশিয়া এই যুদ্ধ শুরু করেছে, তাই তারই শেষ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বন্ধুদের সঙ্গে মিলেই শান্তি চান তিনি।

    অন্যদিকে, ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলায় বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এদিকে, ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকে তাদের বাইরে রাখা হয়েছে বলে। তাই তারা আগে থেকেই জেলেনস্কির সঙ্গে সমন্বয় করেছেন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াদেফুল বলেছেন, বিশ্ব এখন ওয়াশিংটনের দিকেই তাকিয়ে আছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকে কিয়েভ-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অনেকটাই গড়বড়। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকায় জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।