Category: আন্তর্জাতিক

  • ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউইকে ইসরায়েলের হামলায় হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), দেশটির রাজধানী সানায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান এক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় প্রধানমন্ত্রীসহ আরও বহু ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যম আল-জুমহুরিয়া জানায়, দখলদার ইসরায়েলি বিমান সানার একটি অ্যাপার্টমেন্টে বোমাবর্ষণ করে, যেখানে বিদ্রোহী সরকারের নেতা আহমেদ আল-রাহাউই নিহত হন। আর অন্য একটি সূত্র, এডেন আল-ঘাদ বলছে, তিনি তাঁর আরও কয়েকজন কর্মীসহ প্রাণ হারিয়েছেন।

    অপরদিকে, ইংরেজি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, হামলার সময় ইসরায়েলি হামাজাসংক্রান্ত বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে—তাদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অন্তত ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউইয়ের ওপর আলাদা করে হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা তাদের প্রধান নেতা আবদুল মালেক আল-খুতির ভাষণ শুনতে জড়ো হয়েছিল। সেই সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যদিও হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। দেশটির সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা বিপ্লবের মাধ্যমে হুতি বিদ্রোহীরা দখল করে নেয়। এর পর থেকে তারা পরিবর্তিত সরকারকে স্বীকৃতি না দিয়ে স্বতন্ত্রভাবে সানা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সৌদি আরবের নেতৃত্বে একাধিক আরব সার্কেল দেশ ইয়েমেনে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। তবুও হুতিরা নিজেরা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই এই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ইসরায়েলি হামলার কারণে এই নেতা নিহত হওয়া রীতিমতো একটি বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে।

    অপর দিকে, ইসরায়েলের গাজা অঞ্চলে ফিলিস্তিনির বিরুদ্ধে চলমান বর্বরতা ও হামলার মধ্যে হুতিরা নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে গতকালই ইসরায়েলি হামলায় হুতির প্রধান নেতা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিতে দ্বীপস্থলে নেওয়ার অভিযোগ

    ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিতে দ্বীপস্থলে নেওয়ার অভিযোগ

    নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন, তাদের দাবি, দিল্লি থেকে আটক করে দ্রুত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের। এমন পরিস্থিতির মধ্যে, মিয়ানমারে চলমান ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে এসব রোহিঙ্গা আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই কর্মকাণ্ড রোহিঙ্গাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকির’ মধ্যে ফেলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে জানানো হয়, গোপন তদন্তে দেখা গেছে যে, ৯ মে রাতে রোহিঙ্গারা ফোনে জানিয়েছেন, তাদের এক পরিবারকে ভারতীয় সরকার ফেরত পাঠিয়েছে মিয়ানমারে — যেখানে তারা বহু বছর আগে পারিবারিক নিরাপত্তার অভাবে পালিয়ে এসেছিলেন। বর্তমানে মিয়ানমারে চলমান ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই পরিবারগুলো সীমাহীন ঝুঁকির মুখে। জানিয়েছেন, জাতিগত গোষ্ঠী ও প্রতিরোধযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে দেশে ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দিল্লিতে বসে ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, ‘আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কেমন কষ্টে আছেন, আমি তা কল্পনাও করতে পারছি না।’ বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে খুঁজে পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ আশ্রয় নিয়েছেন বাহটু আর্মির কাছে — যা একটি প্রতিরোধশীল গোষ্ঠী, জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে সৈয়দ নূর জানান, ‘আমরা এখানে খুবই অরক্ষিত। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র।’ আশ্রয়স্থলটি কাঠের তৈরি; তিনি আরও বলছেন, তাদের সঙ্গে থাকা আরো ছয়জনের ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে বিবিসি এই ঘটনার বিস্তারিত পুনর্গঠন করেছে। তথ্য অনুযায়ী, তাদের দিল্লি থেকে বিমানে করে বঙ্গোপসাগরে একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করা হয়েছিল। পরে সাঁতরে তারা তীরে উঠতে সক্ষম হয়। বর্তমান পরিস্থিতি খুবই জটিল, কারণ এই দেশের পরিবেশে তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশ থেকে তাদের পালিয়ে আসতে হয়েছে দ্বিগুণ নিপীড়ন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। একজন রোহিঙ্গা, জন, ফোনে জানিয়েছেন, ‘আমাদের হাত বাঁধা ছিল, চোখ-মুখ ঢাকা ছিল, যেন বন্দির মতো। তারপর জাহাজে তোলা হয় এবং সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।’ তিনি আরও জানান, ‘মানুষের প্রতি এভাবে অবমাননা কীভাবে সম্ভব? মানবতা এখনও পৃথিবীতে আছে কি না, আমি জানি না।’ মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, এই অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশনের কাছে এসব প্রমাণ জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি। ভারতের কাছে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ তারা কোনোভাবেই শরণার্থী স্বীকৃতি না দিয়ে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৩,৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবী নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুসারে, সংখ্যাটি ৪০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পর লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে যান, যেখানে বর্তমানে তাঁদের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় থানায় ডেকে আনা হয়। তাদের বলা হয়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ হবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাদের শহরের ইন্দিরলোক আশ্রয়ন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আমিন জানান, সেই সময় তার ভাই ফোন করে জানায় তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তিনি আইনি সহায়তা ও ইউএনএইচসিআর কে খবর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এর পর ৭ মে তারা হিন্দি বিমানবন্দর থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পৌঁছে, সেখান থেকে বাসে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। বাসের গায়ে লেখা ছিল ‘ভারতীয় নৌবাহিনী’। সৈয়দ নূর বলেন, ‘বাসে ওঠার সময় আমাদের হাত প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়, আর মুখোশ পরানো হয়। কিছুক্ষণ পরই আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয়। তারা প্রায় ১৪ ঘণ্টা সেখানে ছিলেন, ভাত, ডাল আর পনির খাওয়ানো হয়েছিল। তবে এ সময় অনেকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়, মারধর ও অপমানের শিকার হয় তারা। সৈয়দ নূর জানাচ্ছেন, ‘আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। কিছুকে বারবার চড় মারা হয়, কিছুকে মারধর করা হয়।’ এক ভিডিও কলের মাধ্যমে ফয়াজ উল্লাহ দেখান, তার হাতে আঘাতের দাগ। তিনি জানিয়েছেন, তাকে ঘুষি, চড় মার five, বাঁশ দিয়ে খোঁচা করা হয়েছে। জিজ্ঞেস করা হয়, ‘ভারতে অবৈধভাবে এসো কেন?’ তার মধ্যে ১৫ জন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা, যারা জানিয়েছেন এরকম জিজ্ঞাসাবাদে তাদের ইসলাম থেকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণ জানার চেষ্টা হয়েছে। এমনকি তাদের খতনা দেওয়া হয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্তও করা হয়, যদিও তার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও সম্পর্ক প্রমাণ হয়নি। এরপর ৮ মে সন্ধ্যায় তাদেরকে ছোট ছোট রাবার নৌকায় তুলেপ্রবেশ করানো হয় সমুদ্রে। হাতে লাইফ জ্যাকেট ছিল, বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে। তবে বাস্তবে তারা মিয়ানমারে, যেখানে তারা মুক্তির আশায় এসেছে। পরে ৯ মে সকালে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পান। তারা তাদের ফোন ব্যবহার করতে দেয় এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এরপর থেকে বাহটু আর্মি তাদের খাদ্য ও আশ্রয় দিচ্ছে। তবে ভারতে পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। জাতিসংঘ বলেছে, ভারত এই রোহিঙ্গাদের ‘আন্দামান সাগরে ফেলে’ তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। গত ১৭ মে, নুরুল আমিনসহ তার এক আত্মীয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যাতে রোহিঙ্গাদের ফেরত না পাঠানো হয়, এবং এই নির্বাসন বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি। তবে ভারতের এক বিচারপতি অভিযোগগুলোকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে আখ্যায়িত করেন। মামলার শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর হবে, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাদের শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হয় কি না, বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ফেরত পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় কি না। এই ঘটনার পর ভারতের রোহিঙ্গা কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে লুকোচুরি করছেন, আবার কেউ বাসায় থাকছেন না। নুরুল আমিন বলেন, ‘আমার মাথায় শুধু ভয় কাজ করে, ভারত সরকার যে কোনো সময় আমাদেরও সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে। এখন আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না।’ জাতিসংঘের মুখপাত্র অ্যান্ড্রুজ মন্তব্য করেন, ‘রোহিঙ্গারা ভারত থাকতে চায়নি, তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়ঙ্কর সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে। তারা সত্যিই প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছুটছে।’

  • ইসরায়েল গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে

    ইসরায়েল গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা, নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে

    গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েল পুরো শহর গাজা সিটিকে আরো একবার যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। আজ শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা সেখানে প্রাথমিক আক্রমণ শুরু করেছে। একই সঙ্গে, গাজা শহরে এখন থেকে কোন ত্রাণ ও সহায়তার জন্য বিরতি দেয়া হবে না বলেও তারা জানিয়ে দেয়।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি একে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে আক্রমণ চালানো শুরু করেছি এবং গাজা সিটিতে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। গাজার উপকণ্ঠে এখন সেনা ও ট্যাংকের উপস্থাপনাও দৃঢ়।’

    বলা যায়, এর আগে ইসরায়েল গাজার বিরুদ্ধে কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে গাজায় আর কোন সামরিক বিরতি কার্যকর থাকছে না। এই পরিস্থিতিতে গাজার উপত্যকা সত্যিই একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’

    গত মাসে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইসরায়েল প্রথমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করেছিল, যাতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি গাজায় সাহায্য পাঠাতে পারে। তবে, আগস্টের শুরু থেকে তারা হামলা অব্যাহত রাখে এবং শহরটিকে ধ্বংসের পথে চালায়। শহরের বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়ে গাজার মানুষকে অসহায় করে তুলতে থাকেন তারা।

    এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার আক্রমণে প্রতিদিনই বেড়ে যাচ্ছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষ আরম্ভের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৩,০০০ ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কমপক্ষে ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ২৪৪ জন আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    সংখ্যা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের মধ্যে নিহতের মোট সংখ্যা এখন ৬৩,০২৫ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জনে।

    অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যারা অপুষ্টি ও অসহায়ত্বের কারণে মারা গেছেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনায়, অক্টোবরে এখন অবধি ক্ষুধাযুক্তির কারণে নিহতের সংখ্যা ৩২২ জন। এর মধ্যে ১২১ জনই শিশু।

    গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে, ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সাহায্য পাঠাতে গিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০০,২৩৫ জন। আহত হয়েছেন ১৬,০২২৮ জনের বেশি। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

    গত ২৭ মে গাজার হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে, প্রতিদিনই আহত-নিহত ঘটছে। তাদের চারটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

    সুত্র: আল জাজিরা।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এই হামলার জন্য দায়ী। সূত্র বলছে, মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের জেরে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাটির ফুটেজ দেখিয়েছে যে, দুই দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের দলের পতাকার ডান্ডা দিয়ে একে অপরের উপর আঘাত হেনেছেন। এই সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, তবে এখনো কারওর গ্রেপ্তার হয়নি। কংগ্রেস এই ঘটনাকে কঠোর পরিভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।

    প্রথমে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্যের ঘটনা ঘটে যখন ভোটার অধিকার সংরক্ষণ যাত্রা চলছিল। অভিযোগ, দরভাঙ্গার একটি অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের এক নেতা তার পোশাকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে শুক্রবার বিহার পাটনায় উত্তেজনা ছড়ায়, যেখানে বিজেপি রাস্তায় নামলে কংগ্রেসও মাঠে নামে। দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। পরিস্থিতি অস্থির থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

    অন্যদিকে, বিহারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির ছোবল পড়েছে কলকাতার ওপরও। জাতীয় কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সদরদপ্তরে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিজেপি। এই সময় বিজেপি সমর্থকরা কংগ্রেস কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর করে ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, রাকেশ সিংসহ কিছু নেতার নেতৃত্বে নেতৃস্থানীয় ভবনের বাইরে ক্ষতিসাধনের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধীর ছবি ও বিভিন্ন ব্যানার পোস্টার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতি আজ দেউলিয়ার পথে। কংগ্রেসের চুরি ধরার রাগেই এই হামলা। পরিস্থিতি যে সময়ে এই ঘটনা ঘটলো, তখন দপ্তর ফাঁকা ছিল। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, দোষীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হোক।’

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ঘটছে। তাকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘নীতীশ কুমার ভুল পথে। আমরা জবাব দেবো।’ এরই মধ্যে বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মায়ের অপমানের বদলা বাংলার ছেলেরা নেবে, এবং এর জবাব তারা দেবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি নিচে নেমে গেছে। একজন গরিবের ছেলে ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশের উন্নতি করছেন, তা নেহায়েত অন্ধকারের বিষয়। তার উজ্জ্বল প্রতিমূর্তি ও তার প্রয়াত মাকে অপমান করে গণতন্ত্রের উপর কলঙ্ক ডেকে আনা হয়।’

    বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাও এই ঘটনা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘অশালীন আক্রমণ সব সীমা অতিক্রম করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

    বিহার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে অপমান করা অস্বীকার্য এবং অনুচিত। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।’

  • ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই এক ডাকা এলোপাতাড়ি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ হামলা ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), যখন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দেশটির রাজধানী সানা densely ধ্বংসের বর্বরতা চালায়।

    ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান সানার এক অ্যাপার্টমেন্টে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে, যেখানে বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ইয়েমেনের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম, যেমন আল-জুমহুরিয়া, জানিয়েছে, আহমেদ আল-রাহাউইসহ ওই হামলায় আরও কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা নিহত হয়েছেন।

    অপর একটি সংবাদমাধ্যম এডেন আল-ঘাদ জানায়, নিহতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা রয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলির হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সম্প্রতি হুতিদের সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর পরিচালিত হামলার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকেও লক্ষ করে আলাদাভাবে আঘাত হানা হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়, যদিও হামলার স্থানটি আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। তবে, হামলার প্রকৃত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেননি।

    ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ার পরে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর ফলে তখনকার প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসু হাদি সৌদি আরবের শরণার্থী হয়ে যান এবং হুতিদের সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব কোয়ালিশন ইয়েমেনে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালালেও, হুতিদের প্রতিরোধে তারা সক্ষম হয়নি। এখনো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে সানাকে ধরে রেখেছে।

    প্রধানমন্ত্রী রাহাভি হুতিদের প্রতিষ্ঠিত সরকারের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজা অত্র বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে হুতিরা নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই, গতকাল ইসরায়েলি হামলায় এই রাষ্ট্রের নেতা প্রাণ হারালেন, যা গোটা অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবেদনে জানা গেছে, কমপক্ষে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তারা বলেছেন, দিল্লি থেকে তাদের আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে করে সাগরের মাঝে ছেড়ে দেওয়া হয়। এইসব নিপীড়িতরা এখন আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, কারণ তারা জানে না আবার কবে তারা স্বজনদের সাথে মিলিত হতে পারবে বা কোন পরিস্থিতির মুখে পড়বে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের এই অবহেলা রোহিঙ্গাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছে।

    নুরুল আমিন নামে একজন রোহিঙ্গা বলছেন, গত ৯ মে তিনি বর্তমানের ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন, যেখানে তিনি জানতে পেরেছেন তার পরিবারের চারজনসহ তাকে ভারতের সরকার ফেরত পাঠিয়েছে। তারা বহু বছর ধরে প্রাণভয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, যেখানে বর্তমানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে জাতিগত গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনী জোরালো লড়াই চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ এক অজানা অপূর্ণতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসরত ২৪ বছর বয়সী আমিন মনে করেন, “আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কী দুঃখ-কষ্টে আছেন, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।” বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাদেরকে দিল্লি থেকে বিমানে করে বঙ্গোপসাগরের এক দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে শেষে আন্দামান সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা সাঁতরে তীরের কাছে ফিরে আসে। এখন তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি, কারণ এরই মধ্যে তারা অত্যাচার, নিপীড়ন ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার।

    জন নামে একজন রোহিঙ্গা জানান, “আমাদের হাত পেঁচানো, চোখ ও মুখ ঢেকে জাহাজে তুলে নেওয়া হয়, তারপর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।” তিনি ও তার সাম্প্রতিক ভুক্তভোগীর স্বজনরা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নুরুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “মানুষকে কোনওভাবেই এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেয়া যায়? মানবতা কোথায়?

  • গাজা সিটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত, নিহতের সংখ্যা এখন ৬৩,০০০ ছাড়ালো

    গাজা সিটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত, নিহতের সংখ্যা এখন ৬৩,০০০ ছাড়ালো

    গাজা উপত্যকার বড় শহর গাজা সিটিকে দখলদার ইসরায়েল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা সেখানে এই মুহূর্তে প্রাথমিক হামলা চালাতে শুরু করেছে। সাথে সাথে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে গাজা সিটিতে ত্রাণ সহায়তার জন্য আর কোনো বিরতিও দেওয়া হবে না। আইডিএফের মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক টুইটে লিখেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা গাজা সিটিতে প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছি। উপকণ্ঠে শক্তিশালী আক্রমণে আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে আছি।’ এর আগে, গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েলি সেনারা বলেছে, ‘আজকের (শুক্রবার) সকাল ১০টার পর থেকে গাজা সিটিতে আর কোনো শান্তির্ত্ব আলোচনা চলবে না। এখন থেকে গাজা সিটি একেবারেই এক ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।’ এই ঘোষণার পর, গত মাসে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইসরায়েল স্বল্প সময়ের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৌশলগত বিরতি দেয়। জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থাদের অনুরোধে তারা এই বিরতিকে কিছুটা সময়ের জন্য স্থগিত করে। তবে আগস্টের শুরু থেকেই ইসরায়েল গাজায় বিভিন্ন স্থানে বোমা বর্ষণ ও হামলা চালাতে শুরু করে, শহরটির উপকণ্ঠে ট্যাংক অবস্থান নেয়। এর ফলে, প্রতিদিনই হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবারের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামলায় আরও কমপক্ষে ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৪৪ জন। এখন পর্যন্ত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের মধ্যে গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫ জনে। নিহতের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা হাসপাতালে অনাহর, অপুষ্টি ও যুদ্ধের কারণে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে, অক্টোবরে মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৩২২ জনে দাঁড়িয়েছে, এর মধ্যে ১২১ জনই শিশু। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সাহায্য চাইতে এসে ২৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। মোট সহায়তা চাওয়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ২,০২৩ জন নিহত ও ১৬,২২৮ জন আহত হয়েছেন। এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২৭ মে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই আলাদা কিছু ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রাণহানি হয়। সূত্র: আল জাজিরা।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপির হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পেছনে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রয়াত মাকে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

    সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও সূত্রে দেখা যায়, দুই দলের কর্মীরা দলীয় পতাকার ডন্ডা দিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুরো ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে কংগ্রেস।

    ঘটনার সূচনায়, অভিযোগ উঠেছে যে, ভোটের প্রচার চলাকালে দরভাঙ্গায় এক কংগ্রেস কর্মী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করেন, যা ধরা পড়ে ভিডিওতে। এর ঠিক পরে বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেস নেতাদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

    দরভাঙ্গা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, মামলার নথি ঢুকানো হয়েছে এবং আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

    বিহারেও এই ঘটনা নিয়ে উত্তজনা দেখা দিয়েছে। পাটনায় বিজেপি আজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। অন্যদিকে, কংগ্রেস কর্মীরাও মঞ্চে উঠে প্রতিরোধ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও, এখনও পুরো এলাকা উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে।

    আবার, কলকাতার জাতীয় কংগ্রেসের সদরদপ্তর বিধান ভবনের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিজেপি। সেখানে অভিযোগ ওঠে, কিছু বিজেপি সমর্থক কংগ্রেস কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। নেতৃস্থানীয় বিজেপি নেতাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন ব্যানার-পোস্টার ছেড়ে দেওয়া হয়।

    এমনকি, রাহুল গান্ধীর ছবিসহ বিভিন্ন ব্যানারও সেখানে দেখা গেছে। এ ঘটনার পক্ষে প্রদেশ কংগ্রেস নিন্দা জানিয়েছে এবং এন্টালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, “রাজনীতিতে দেউলিয়া না হলে এ ধরনের কাজ কেউ করে না। দেশের স্বার্থে কংগ্রেস চেষ্টা করছে; কিন্তু বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে আকাশে ভাসছে। তারা এই ধরনের কাজ করছে যখন দপ্তর ফাকা ছিল। আমরা প্রশাসনের কাছে ডেম্যান্ড করছি, দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ অভিযোগ করেন, ঘটনাগুলির মদদ দিচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতা। তিনি বলেন, “নীতীশ কুমার ভুল করেছেন, আমাদের জবাব দিতে হবে।”

    অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, “মায়ের অপমানের বদলা বাংলার প্রতিটি সন্তান নেবে। আমরা অবশ্যই এর জবাব দেব।”

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে লিখেছেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি নিচে নেমে গেছে। একজন গরিব মায়ের ছেলে ১১ বছর ধরে দেশ চালিয়ে যাচ্ছে, যা মানা যায় না। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে এই ভাষা লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্ক।”

    বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেন, “এ ধরনের অশালীন আক্রমণ চরম অগ্রহণযোগ্য। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে অবমাননা করা অনুচিত। আমি এর কড়া প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছি আদালত। সম্প্রতি একটি ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর তা জনসম্মুখে আসে, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে উল্লেখ করেন। এই ফোনকলে তার সেনা বাহিনীর সমালোচনা এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে ১৫ জুনের ফোনকলটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি তিক্ততর হয়ে উঠে। এই ফোনকলের রেকর্ড ভাইরাল হলে দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই পরিস্থিতিতে দেশটির সেনাবাহিনী ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হয় পেতোংতার্নকে। তিনি তখন দাবি করেন, তিনি দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সরকারের প্রতি অবমূল্যায়ন, দেশের স্বার্থের সাথে আপোষের অভিযোগ উঠেছে। গত ১ জুলাই আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি বর্তমানে সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে মোট পাঁচজন থাই প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে সম্প্রতি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার জন্য দায়ী মূলত বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা। ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয় যখন প্রধানমন্ত্র নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানী ও বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে। এক ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই দলের যোগ্য কর্মীরা দলের পতাকার ডান্ডা হাতে একে অপরকে মারধর করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতি করে তোলে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হলেও, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং তদন্ত চালানো হচ্ছে। কংগ্রেস ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে, দরভাঙ্গায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে, পাটনায় বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়, সেখানে কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

    বিহার রাজ্যের পরিস্থিতিও গুরুতর। বিহারের পাটনায় বিজেপি নেতারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে, যেখানে কংগ্রেসের কর্মীরা পাল্টা আন্দোলনে অংশ নেয়। পাটনায় সংঘর্ষে অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    কলকাতা শহরেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের বিধান ভবনের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশে বিজেপি সমর্থকররা কংগ্রেস দপ্তরে ভাঙচুর চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়েছে।

    অভিযোগের সুরে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, ‘রাজনীতি দেউলিয়া না হলে এই ধরনের কাজ কেউ করে না। মোদি-প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেওয়ার জেরেই এই হামলা হয়েছে, এবং এটি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন আমরা। দোষীদের দৃষ্টিতে আনা ও সাজা দেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ জানান, প্রত্যক্ষতভাবে এই ঘটনার পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে এবং তিনি নীতীশ কুমারের নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জবাব দেব।’ অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মায়ের অপমানের বদলার জন্য বাংলার প্রতিটি ছেলে কংগ্রেসকে দেবে। আমরা অবশ্যই এর জবাব দেব।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি এত নিচে নেমে গেছে যে, তারা দেশের উন্নয়নের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে এই ভাষা লজ্জার ও গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্কজনক।’

    বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাও বলেন, ‘এ ধরনের অশালীন আক্রমণ সীমা অতিক্রম করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

    বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ও তার প্রয়াত মায়ের সম্মাননির্বাচন অশোভন ও অবমাননাকর। আমি এর নিন্দা জানাই।’