Category: আন্তর্জাতিক

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দণ্ডবিধির অবৈধ ফোনালাপের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর দেশটির সাংবিধানিক আদালত তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এই ফোনকলটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করতে দেখা যায়। ফোনালাপে তিনি তার দেশের সেনাদের সমালোচনা করেন এবং বলেন, তাদের কারণেই কম্বোডিয়ার একটি সেনা নিহত হয়েছে। এই রেকর্ডটি ভাইরাল হলে দেশের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কয়েক মাস পরই থান্ডার সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্ত হয়।

    প্রথমে জানা যায়, ১৫ জুনের ওই ফোনালাপে পেতোংতার্ন আবারও বলেন, “যেকোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাতে পারেন। আমি বিষয়টি দেখব।” এই বক্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সীমান্তে তখন উত্তেজনা চরমে থাকায় জাতীয়তাবাদে গা গাঢ় হয়ে উঠে সাধারণ মানুষের মনোভাব। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে যে, তিনি গোপনে থাইল্যান্ডের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এর পর তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, তিনি কেবল উত্তেজনা প্রশমনের জন্য এ কথাগুলো বলেছেন।

    রায় ঘোষণার পর, সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পান্তোংতার্ন দাবি করেন, তিনি দেশের স্বার্থের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বলেছেন, তার লক্ষ্য ছিল দেশের মঙ্গল, ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়। এ সময় তিনি যোগ করেন, তিনি দেশের নাগরিক ও সেনাদের সুরক্ষায় কাজ করেছেন। তবে, ১ জুলাই দেশটির সাংবিধানিক আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় থাকেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম থাইল্যান্ডে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতা হারিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রমাণ।

  • ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইসরায়েলের হামলায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিহত

    ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট), ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একটি হামলা চালায়। এই হামলায় দখলদার বাহিনী সানার একটি অ্যাপার্টমেন্টে বোমাবর্ষণ করে, যেখানে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা নিহত হয়েছেন। ইয়েমেনি সংবাদ মাধ্যম আল-জুমহুরিয়া জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও কয়েকজন সঙ্গীও প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, এডেন আল-ঘাদ বলা হয়েছে, এই হামলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও কিছু বিদ্রোহী নেতা মারা গেছেন। ইসরায়েলি হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলা চালানোর সময় হুতি বিদ্রোহীদের সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা চোরেকভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। বেসামরিক সূত্রের মতে, এই অত্মঘাতী হামলায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুতি বিদ্রোহীরা, যারা ইরান সমর্থিত। এরপর থেকে তারা নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন, যার মুখপাত্র ছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাহাভি। এই পরিস্থিতিতে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি এখনো অস্থির, এবং দেশটির নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। অপরদিকে, ইসরায়েলিরা ফিলিস্তিনের গাজায় বর্বরতা চালিয়েই চলেছেন, যেখানে তারা নিয়মিত ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার শিকার হচ্ছে। তবে, এই বিষয়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর মতো উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরই নিশানা করা। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে অভিযোগ

    ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর একটি জাহাজে তুলে নিজ অভিবাসনের স্বপ্ন ছুঁড়ে ফেলে বাংলাদেশ, তারপর সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হলো রোহিঙ্গাদের দাবি করেছেন ৪০ জন শরণার্থী। তারা বলছেন, রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে তাদের ধরে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয়, যেখানে তারা জীবনের ঝুঁকি মোকাবেলা করছে। এই ঘটনা মিয়ানমারের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে ঘটেছে, যেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য ভবিষ্যৎ রয়েছে অনিশ্চিত। জাতিসংঘের মতে, ভারতে থাকা এই রোহিঙ্গাদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে। ব্রিটিশ ব্রেকিং সংবাদমাধ্যম বিবিসি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনা অভিযানের পর বহু রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও বাংলাদেশে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এক লাখের বেশি। বর্তমানে, ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেলেও, রীতিমতো চাপের মধ্যে থাকেন তারা। গত মে মাসের ৬ তারিখে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ৪০ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় পুলিশ ডেকে আনা হয়। বলানো হয়, তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের জন্য। এরপর তাদের হিন্দুস্তানইন্দিরা বিমানবন্দর থেকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে, বাসে চলন্ত তারা জানায়, তাদের গায়ে বাঁধা হয়েছিল প্লাস্টিকের রশি এবং মুখোশ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে, তাদের একটি নৌবাহিনীর বড় জাহাজে তোলা হয় যেখানে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলেন। এই সময়ে তাদের সাথে মারধর, অবমাননা ও হয়রানি করা হয়। সাক্ষাৎকারে-ফলে জানা গেছে, তাদের অনেকের হাতে আঘাতের দাগ, বেধড়ক মারধর এবং অবমাননাকর আচরণ সহ—তাদের প্রশ্ন করা হয় কীভাবে তারা অবৈধভাবে ভারতে এসেছেন। এটি বিশেষ করে আশ্চর্যজনক যে, সাতজনের মধ্যে চারজন খ্রিস্টান রোহিঙ্গাকেও জিজ্ঞেস করা হয়, কেন ইসলাম ছেড়িয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। এমনকি, একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়, যদিও তার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর ৮ মে সন্ধ্যায়, ছোট ছোট রাবার নৌকায় করে সমুদ্রে নামাতে বাধ্য করা হয় তাদের, যেখানে হাত বাঁধা ও লাইফ জ্যাকেট পরানো ছিল। বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে—কিন্তু আসলে তারা মিয়ানমারে ছিল। পরদিন ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পায়, এবং তাদের ফোন ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়, যেখানে তারা স্বজনদের খবর দেয়। এরপর থেকেই মিয়ানমারের বাহটু আর্মি তাদের সহায়তা দেয়, কিন্তু ভারতে থাকা পরিবারগুলো এখন বড় আতঙ্কে। জাতিসংঘের দাবি, ভারতের এচর্য্য এই রোহিঙ্গাদের জীবন ‘চরম ঝুঁকিতে’ ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রতিবাদে, মে মাসের শেষে, নুরুল আমিন ও তার আত্মীয়রা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যাতে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় এবং এই নির্বাসন বন্ধ হয়। তবে ভারতের একটি আদালত এই অভিযোগকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে আখ্যায়িত করে, এবং মামলাটি সেপ্টেম্বরে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে, ভারতের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে; কেউ গা ঢাকা দিয়েছে, কেউ বাসায় থাকছে না। নুরুল আমিন বলছেন, “আমার কাছে শুধু ভয় কাজ করছে, কখনও ভারতের সরকার আমাদেরও সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে। আমি এখন ঘর থেকেও বের হতে ভয় পাচ্ছি।” জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি, তারা রক্ষা পেতে পালিয়ে এসেছে মিয়ানমারের ভয়ংকর সহিংসতা থেকে।” এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত এখন চলমান, এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে এই ঘটনায়।

  • গাজা শহরকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা দখলদার ইসরায়েলের, নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৩ হাজার

    গাজা শহরকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা দখলদার ইসরায়েলের, নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৩ হাজার

    গাজা উপত্যকায় এক বড় যুদ্ধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যখন দখলদার ইসরায়েল গাজা শহরকে সম্পূর্ণরূপে ঘোষণা করেছে যে এটি এখন ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে পরিচালিত হবে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা সেখানে প্রাথমিক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সেই সঙ্গে আফিসিয়ালভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে গাজা শহরে কোনও ত্রাণ সহায়তার জন্য বিরতি দেওয়া হবে না।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা গাজা শহরে হামলার প্রাথমিক পর্যায় শুরু করেছি এবং এখন স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃহৎ শক্তি নিয়ে অপারেশন চালাচ্ছি।’ এর আগে মে মাসের শেষের দিকে গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিল করে ইসরায়েল। তখন তারা জানিয়েছিল, আজ (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি চলবে না এবং এটি এখন একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হয়েছে।

    অতীতে, ইসরায়েল গাজায় কৌশলগত বিরতি ঘোষণা করে তখন বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সহযোগিতায় ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে হামলা বন্ধ রাখত। কিন্তু এই ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই গাজায় সক্রিয় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। আগস্টের শুরু থেকেই গাজা শহরের বিভিন্ন অংশে তারা বোমাবর্ষণ ও ট্যাংক অবস্থান করে রেখেছে।

    এটির কারণে দিন দিন বেশির ভাগ নিরীহ ফিলিস্তিনির প্রাণহানি ঘটছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই এই সংঘর্ষে মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এক রাতে কমপক্ষে ৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং ২৪৪ জন আহত হন। নিহতের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

    শুক্রবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬৩৫২৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জনে দাঁড়িয়েছে।

    অন্যদিকে, গাজার হাসপাতালগুলোতে ব্যবহারে অনাহার ও অপুষ্টি পরিস্থিতির কারণে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের এই সময়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে মোট প্রাণহানি ৩২২ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১২১ জন শিশু।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য নিতে গিয়ে ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সহায়তার জন্য চলমান সংঘর্ষে ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২,০২০৩ জন নিহত এবং ১৬,২২৮ জন আহত হয়েছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ২৭ মে থেকে শুরু করে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর পর থেকে প্রতিদিনই এই ত্রাণ কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রাণহানির ঘটনাগুলি ঘটছে। এসব শনাক্তের পর অনেক এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ৬২ হাজার ৭০০

    গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, মোট প্রাণহানি ছাড়াল ৬২ হাজার ৭০০

    রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর গোলাবর্ষণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে ৮৬ জন নিহত হয়েছেন, আর আহত হয়েছেন আরও ৪৯২ জন। এ তথ্য সোমবার সন্ধ্যার পর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতি জানিয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, আর বাকিরা খাদ্য সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে মারা গেছেন। মন্ত্রণালয় বলছে, সোমবারের এই ঘটনায় গাজার হাসপাতালগুলোতে ৮৬ মরদেহ আনা হয়েছে এবং আহত ৪৯২ জনকে চিকিৎসায় পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যাটি আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ব্যক্তিপ্রচেষ্টার অভাবে তাদের উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযান চলাকালে গাজায় এখন পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৬২,৭৪৪ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক।

    উল্লেখ্য, গাজার উপত্যকায় বন্দি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য গত ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১৮ মার্চ সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনারা। এর পর থেকে চলছে ব্যাপক সংঘর্ষ, এ ঘটনায় গত পাঁচ মাসে মৃতের সংখ্যা ১০,৯০০ এবং আহত হয়েছেন ৪৬,২১৮ জন।

    আগের মাসে গাজায় ত্রাণ ও খাদ্য সংগ্রহে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনারা হামলা চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ মে প্রথম গাজায় ত্রাণ সংগ্রহের জন্য যাওয়ার সময় গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে, যা এখনো নিয়মিত ঘটছে। এ পর্যন্ত এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ২,১২৩ এবং আহত হয়েছেন ১৫,৬১৫ জন।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামাসের সৈন্যরা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি হামলা চালায়। গুলির মাধ্যমে তারা এক হাজার ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ২৫১ জনের অধিককে জিম্মি করে নেয়। এর জবাবে ১৫ মাস ধরে গাজায় ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় উদ্যোগের চাপের কারণে ২০২৪ এর জানুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও, হামাসের জিম্মি ও সংগঠনকে দুর্বল করতেই অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।

    জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার ইসরায়েলে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও, অপরদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাসকে দুর্বল ও জিম্মিদের মুক্ত করার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যতক্ষণ না লক্ষ্য অর্জিত হয়, অভিযান চালানো চলবে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • চীনকে পর্যাপ্ত চুম্বক সরবরাহের কথা না মানলে ২০০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    চীনকে পর্যাপ্ত চুম্বক সরবরাহের কথা না মানলে ২০০ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনকে পর্যাপ্ত পরিমাণে চুম্বক ও অন্যান্য দুর্লভ খনিজ সরবরাহ করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে বা অন্য কোনো কড়া পদক্ষেপ নেবে। এই মন্তব্য তিনি সোমবার (২৫ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দেন, খবর রয়টার্সের ভিত্তিতে।

    ট্রাম্পের ভাষ্য ছিল, চীন যদি আমাদের প্রচুর চুম্বক না দেয়, তাহলে আমাদের তাদের ওপর কঠোর শুল্ক চাপাতে হবে। এই হুঁশিয়ারি বিশেষ করে তখন এসেছে, যখন বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে চীন বিরল খনিজ ও চুম্বকের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করছে। এপ্রিলে চীন বিরল খনিজ ও চুম্বকের একাধিক পণ্য রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর পাল্টা জবাব।

    অন্যদিকে, আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীন দুর্লভ খনিজের ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীন রফতানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে, যা বিশ্ব বাজারে চুম্বকের সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখে। এই উপাদানগুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য, যেমন সেমিকন্ডাক্টর চিপে, ব্যবহৃত হয় এবং স্মার্টফোনের মতো প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতে অপরিহার্য।

    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ইন্টেল কর্পোরেশন তাদের শেয়ার ১০ শতাংশ কিনেছে, যা এই কোম্পানির অর্ধেকেরও বেশি নির্ভরশীল দুর্লভ খনিজের ওপর। এর ফলে, এই বিষয়ে জোড়ালো বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    অন্যদিকে, চীনের বিরল খনিজের রফতানি জোরালোভাবে বাড়ছে, যা চীনা কাস্টমসের তথ্য থেকে জানা গেছে। জুলাই মাসে এই খনিজের রপ্তানি জুনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৪,৭০০ টনের বেশি হয়েছে।

    বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই চলমান শুল্ক বিরোধ মোকাবেলা করতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপগুলো আরো জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। চলতি মাসের শুরুশতেই উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা সমঝোতার আভাস থাকলেও, ট্রাম্পের নতুন হুমকি পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলছে।

    সম্প্রতি, ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে চীনা পণ্যের উপর শুল্কের সময়সীমা ৯০ দিন বাড়িয়েছেন, যার মাধ্যমে তারা আলোচনার জন্য আরও সময় পাবে। যদি এই সময়সীমা না বাড়ানো হতো, তাহলে শুল্কের হার ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারত।

    এর আগে, মে মাসে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যেখানে শুল্ক হার ১২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা হয়েছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্র শুল্কের ওপর ৩০ শতাংশ আঘাত হানা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিল। এখন পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠছে, কারণ এই বাণিজ্য বিরোধের কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে।

  • সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

    সৌদিতে এক সপ্তাহে ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেফতার

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে সম্প্রতি অভিযান চালানো হয়েছে তাদের আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে, ১৪ থেকে ২০ আগস্ট, বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ উদ্যোগে মোট ২২ হাজার ২২২ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অভিযানটি মূলত আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পরিচালিত হয়। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অভিযানের সময় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন তাদের আইন অনুযায়ী অসংগতির কারণে। আবাসন আইন লঙ্ঘনের জন্য ১৩ হাজার ৫৫১ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের দায়ে ৪ হাজার ৬৬৫ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য ৪ হাজার ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রেফতারকৃত প্রবাসীদের মধ্যে ২০ হাজার জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার জন্য তাদের নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৯২০ জনকে সৌদি আরব থেকে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্তভাবে, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৭৮৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ইথিওপিয়ান ও ইয়েমেনি নাগরিকের সংখ্যা বেশি। আবার, অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টায় আরও ৩৩ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এছাড়াও, অবৈধ প্রবেশ ও প্রবেশের চেষ্টাকারীদের পরিবহন ও আশ্রয় দেওয়ায় ১৮ জন ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রবাসীর বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া চলমান, যার সংখ্যা প্রায় ২৫,৯২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৩,৪১৯ জন এবং নারী ২,৫০২ জন।

    সৌদি আরবে অবৈধ উপায়ে প্রবেশ বা অবস্থানের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৫ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিত এসব বিষয়ের ওপর সতর্কতা জারি করছে।

    প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাসের এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই শ্রমিক বা অন্য সম্প্রদায়ের সদস্য। বিশ্ববাখ্যাত এই দেশটি নিয়মিত আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আসছে।

  • অতীতের শক্তিশালী ধাক্কা দিতে চলেছে কাজিকি ঘূর্ণিঝড়

    অতীতের শক্তিশালী ধাক্কা দিতে চলেছে কাজিকি ঘূর্ণিঝড়

    ভিয়েতনাম উপকূলে বছরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় কাজিকি ইতিমধ্যে আঘাত হানা শুরু করেছে। সোমবার বিকেল থেকে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বলে বিবিসির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ১৩৩ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকা প্রবল বাতাসে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসের গতি এখনও বিপজ্জনক পর্যায়েই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ঝড়টি গত বছরের ভয়াবহ টাইফুন ইয়াগির মতোই শক্তিশালী হতে পারে। ইয়াগি ছিল গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী ঝড়, যার কারণে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ঝড়ের মোকাবিলায় প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে হা তিঙ্ঘ উপকূলীয় প্রদেশ থেকে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি থান হোয়া, কোয়াং ত্রি, হুয়ে ও দা নাংসহ বেশ কয়েকটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে ব্যাপক সুরক্ষার জন্য সর্তকতা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২০০ জনের বেশি, অন্যান্য সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ

    গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২০০ জনের বেশি, অন্যান্য সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ

    ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের আল-নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে পাঁচজন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, যারা মূলত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। সাংবাদিকদের মধ্যে রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), আল জাজিরা এবং মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে—প্রথম আঘাতের পর যখন উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন, ঠিক তখনই আবার নতুন করে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এতে শুধু সাংবাদিকরাই নয়, আরও চারজন স্বাস্থ্যকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানম ঘেব্রেইসাস নিশ্চিত করেছেন।

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এটি এক “দুর্ভাগ্যজনক ভুল” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, সামরিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

    এই ঘটনার পর থেকে চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা এখন প্রায় ২০০। আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) জানিয়েছে, গাজার এই পরিস্থিতি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের একটি হিসেবে পরিণত হয়েছে, যেখানে গত দুই বছরে আরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য গাজায় প্রবেশের উপর কঠোর restriction আরোপ করেছে, ফলে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিকরাই পরিবেশন করে থাকেন।

    বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড শুধু আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, চিকিৎসাকর্মী এবং সাংবাদিকরা সংঘাতের মাঝেও কতটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।” তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি করেন।

    জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, “আরও সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে সেই শেষ কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যারা দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়া শিশুদের খবর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছিল।” ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এই হামলায় গভীর মর্মাহত বলে জানান। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোও বলেন, এই ঘটনা “অসহনীয়”।

    এদিকে, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হন, তাঁদের মধ্যে চারজন আল জাজিরার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৫৮ জনের মরদেহ গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অসংখ্য মরদেহ আটকা পড়েছে বলে জানানো হয়। নিহতের মধ্যে ২৮ জন খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গেলে হামলার শিকার হন।

    অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, যাতে রয়েছে দুই শিশু। এভাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ৩০০-এ, যাদের মধ্যে ১১৭ জনই শিশু। এর পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২,৭৪৪ জন, যা আন্তর্জাতিক মহলের বিশ্বাস অনুযায়ী সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য।

  • যুক্তরাষ্ট্র প্রমানিত করছে বাংলাদেশ ও অন্য দেশগুলোর উদারতা

    যুক্তরাষ্ট্র প্রমানিত করছে বাংলাদেশ ও অন্য দেশগুলোর উদারতা

    বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা প্রকাশ করেছেন দেশটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা particularly উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের অসাধারণ মানবিকতা ও সাহসিকতার জন্য, যা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ব্যাপক সহায়তা ও আশ্রয় প্রদান করে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রশংসা করেছে, কারণ বাংলাদেশ বহু বাধা ও চ্যালেঞ্জের মুখেও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে চলেছে।

    ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে রোববার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস বিবৃতিতে, পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপারসন টমাস টমি পিগট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা দেখেছে এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলটির অন্যান্য দেশও শরণার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছে।

    বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা ও দমন-পীড়নের কারণে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর ফলে, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সেনা অভিযানের পর থেকে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে ছিল চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

    বর্তমানে, ক্যাম্পগুলোতে প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নিচ্ছে। গত কয়েক বছরে, নতুন করে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাসহ বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছেন মোট ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের মানবিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জকে আরও বৃদ্ধি করছে, তবে দেশের মানসিকতা ও উদারতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।