Category: আন্তর্জাতিক

  • অস্ট্রেলিয়া ইসরায়েলি এমপি রথম্যানের ভিসা বাতিল করল, বলল, ‘তোমাকে আমরা চাই না’

    অস্ট্রেলিয়া ইসরায়েলি এমপি রথম্যানের ভিসা বাতিল করল, বলল, ‘তোমাকে আমরা চাই না’

    প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিকে ঝুঁকে থাকা অস্ট্রেলিয়া কট্টরডানপন্থী ইসরায়েলি সংসদ সদস্য সিমচা রথম্যানের ভিসা বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তার সফরের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, যা গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ বিষয়টি নিজে নিশ্চিত করেছেন।

    ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান রিপোর্ট অনুযায়ী, রথম্যানের ইচ্ছে ছিল অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ইহুদি স্কুল, সিনাগগ ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর চলমান হামলার শিকারদের সঙ্গে দেখা করার। এই সফরের জন্য তিনি আমন্ত্রণ পান অস্ট্রেলিয়ান জিউইশ অ্যাসোসিয়েশন (এজেএ)-এর পক্ষ থেকে। সংস্থাটির প্রধান রবার্ট গ্রেগরি এই সফরকে ‘ভয়ংকরভাবে ইহুদি বিদ্বেষমূলক’ বলে একের পর এক তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

    অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা আমাদের দেশে বিভাজন ও ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে চায়, তাদের আমরা গ্রহণ করব না। আমাদের সরকার কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে, কেউ যদি ঘৃণা ও বিভাজনের বার্তা ছড়িয়ে আসেন, তাহলে আমাদের দেশে তাদের স্থান নেই।’

    সীমান্ত হিসেবে পরিচিত এই দেশটির ইসরায়েলি সংসদ সদস্য রথম্যান মূলত ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সংবিধান, আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটির প্রধান এবং সরকারের বিতর্কিত বিচারব্যবস্থার সংস্কারের অন্যতম প্রাণপুরুষ হিসেবে পরিচিত। তার কট্টর ইহুদিবাদী অবস্থানের জন্যও তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত।

    এজেএ জানায়, রথম্যানের সফরটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে কোনরূপ যোগসূত্র নেই। তবে গ্রেগরি সতর্ক করে বলেন, ‘ইহুদিদের উচিত অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগে অন্তত দুবার ভাবা।’ এর আগে অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার সাবেক ইসরায়েলি মন্ত্রী আয়েলেট শাকেদ এবং ব্লগার হিলেল ফুল্ডের ভিসাও বাতিল করেছিল। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলো ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের প্রকাশ।

    সম্প্রতি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী ক্যানবেরায় ইসরায়েলি নীতির কঠোর সমালোচনা করেন এবং আগামী মাসে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান। রথম্যান এবং ইসরায়েলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষযে এখনও মন্তব্য দেননি।

  • যুদ্ধ বন্ধে অস্ত্রবিরতি নয়, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক দাবি ট্রাম্পের

    যুদ্ধ বন্ধে অস্ত্রবিরতি নয়, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক দাবি ট্রাম্পের

    অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়া আর অস্ত্রবিরতি দিয়ে নয়, বরং কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা দরকার। তিনি বলেছেন, বর্তমানে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। ট্রাম্প এই কথা জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসে দুই নেতার এর公共সংবাদ সম্মেলনে। এর আগে তিনি স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় হোয়াইট হাউসে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি। কয়েকটি ইউরোপিয় দেশের শীর্ষ নেতাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যারা ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপচারিতার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। ট্রাম্প আরও জানান, ইউক্রেন যদি চায়, তারা যুদ্ধ শেষ করতে পারে। তবে এই জন্য একান্ত দরকার একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে সব পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, সবকিছু যদি ঠিকঠাক চলে, তাহলে খুব শিগগিরই এই বৈঠক আয়োজন করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, শান্তি চুক্তির জন্য ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নেই। ওয়াশিংটন ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে এবং তাদের খুব ভালো সুরক্ষা দেবে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি জানান, তিনি এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণে আগ্রহী। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক পরিকল্পনায় ইউক্রেনের সমর্থন রয়েছে ও যুদ্ধের অবসান চান তারা।

  • মিয়ানমারে আশ্রয় ছেড়ে যাওয়ার সময় এসেছে এখনই

    মিয়ানমারে আশ্রয় ছেড়ে যাওয়ার সময় এসেছে এখনই

    ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারে সেনা সরকার। এরপর থেকে দেশটিতে চলমান সংঘর্ষ ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেই এবার তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়প্রত্যাশীদের জন্য সতর্কবাণী দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো বলছে, এই পরিস্থিতিতে এখনই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আন্তরিক উদ্যোগ নেয়া জরুরি। পরিস্থিতি যদি দ্রুত শান্তিপূর্ণ না হয়, তাহলে সবাইক্ষেত্রে ক্ষতি আরও বাড়বে এবং দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। চারপাশের বিশ্ব community ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এর এখনই সময় ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করে পরিস্থিতি শান্ত করতে হবে। না হলে দেশের সাধারণ মানুষ ও দুর্বল মানুষ আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও জানান দিচ্ছে, মিয়ানমারকে সুস্থ ও স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইউক্রেনের নিরাপত্তায় শান্তিচুক্তির সহযোগিতা: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইউক্রেনের নিরাপত্তায় শান্তিচুক্তির সহযোগিতা: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে যদি শান্তিচুক্তি হয়, তবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো সক্রিয়ভাবে সহায়তা করবে। এই বৈঠকটি হোয়াইট হাউসের বেশই অপ্রত্যাশিত সময়ে আয়োজিত হয় যেখানে ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অংশ নেন। ট্রাম্প এ কথা বলেন যে, যদিও শান্তিচুক্তি যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্ত নয়, তবুও এটি ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন ধরণের সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলো মূলত প্রথম সুরক্ষা রেখা হিসেবে কাজ করবে, এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে শীঘ্রই ট্রাম্প, জেলেনস্কি এবং পুতিনের তিনপক্ষীয় বৈঠক বসবে। তবে এই বৈঠকের জন্য পুতিন এখনও সম্মতি দেননি। জেলেনস্কি প্রকাশ করেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ বন্ধ করতে চাই এবং এর জন্য আমাদের আমেরিকা ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সমর্থনের প্রয়োজন।’ গত ছয় মাস আগে যখন ট্রাম্প ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো. ডি. ভ্যান্স জেলেনস্কিকে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন, তখন তাদের সম্পর্ক অনেক বেশি ঠাণ্ডা ছিল। এখন however দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তায় শক্তিশালী সমর্থনের জন্য ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, ফিনল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো নেতারা ওয়াশিংটনে একত্রিত হয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘যদিও যুদ্ধবিরতি ভালো হবে, তবে তা একপক্ষের জন্য কৌশলগত অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যুদ্ধ চলাকালীন সময়েও শান্তিচুক্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।’ অন্যদিকে, জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার হামলাকে বন্ধ করতে হলে তাদের সম্পূর্ণ সমর্থন প্রয়োজন। সম্প্রতি রাশিয়ার ড্রোন হামলায় খারকিভ ও জাপোরিজিয়া শহরে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন, যেখানে শিশুসহ অসংখ্য নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্পের সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন যে, তিনি যুদ্ধ শেষ করতে রাশিয়ার শর্তগুলো মানতে পারেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনকে ক্রিমিয়া ফিরে পাওয়ার আশা ও ন্যাটোতে যোগদানের প্রবৃত্তি এড়িয়ে চলতে হবে। তবে জেলেনস্কি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার ব্যাপক আক্রমণে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন এবং দেশের অনুন্নত অঞ্চল গুঁড়িয়ে গেছে। এই মন্তব্যের পর ইউরোপীয় নেতারা আরও আলোচনা করতে হোয়াইট হাউসে যোগ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স

  • ন্যাশনাল গার্ড না দিলে লস অ্যাঞ্জেলেস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত: ট্রাম্প

    ন্যাশনাল গার্ড না দিলে লস অ্যাঞ্জেলেস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন অনেকে। তবে নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি বেশ আস্থা রয়েছে ট্রাম্পের। তিনি বলেছেন, এমনটা না করা হলে লস অ্যাঞ্জেলেস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত।

    লস অ্যাঞ্জেলেস ও এর আশপাশে এলাকায় এই বিক্ষোভ শুরু হয় গত শুক্রবার। রোববার তা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। এদিন রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। সড়ক অবরোধসহ গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল গার্ডের ২ হাজার সদস্যকে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের অনুরোধ সাপেক্ষে সেখানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। তবে এবার ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসমের অনুরোধ ছাড়াই বাহিনীটি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। তার এমন পদক্ষেপের বিরোধিতাও করেছেন নিউসম। তবে তা কানে তোলেননি ট্রাম্প।

    নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ায় সহিংস, উসকানিমূলক দাঙ্গা মোকাবিলার জন্য ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর সিদ্ধান্তটি চমৎকার ছিল। আমরা যদি এমনটা না করতাম, তা হলে লস অ্যাঞ্জেলেস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত।’

    গভর্নর গাভিন নিউসম ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসের সমালোচনা করে ট্রাম্প লেখেন, ‘চরম অযোগ্য গভর্নর গাভিন নিউসম ও মেয়র কারেন বাসের বলা উচিত ছিল, “ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আপনি খুবই অসাধারণ। আপনি ছাড়া আমরা কিছু করতে পারতাম না।” তবে তারা আমেরিকা ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষের সঙ্গে মিথ্যা বলাকে বেছে নিয়েছেন।”

  • উত্তপ্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি, পদত্যাগের ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    উত্তপ্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি, পদত্যাগের ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    বিরোধীদের ‘দমন করতে’ আকস্মিক সামরিক আইন জারির ঘটনায় উত্তপ্ত দক্ষিণ কোরিয়া। এরই মাঝে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।

    গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল হঠাৎ করেই ‘উত্তর কোরিয়াপন্থীদের’ হুমকির কথা উল্লেখ করে সামরিক আইন জারি করেন। পার্লামেন্টে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড’র অভিযোগ তোলেন।

    মঙ্গলবার আকস্মিক সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি: সংগৃহীত

    প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এশিয়ার গণতান্ত্রিক এ দেশটিতে আকস্মিক সামরিক আইন জারির ঘোষণায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন নাগরিকরা। দ্রুতই এটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে বাইরের কোনো হুমকিতে নয়, বরং বিরোধী দলকে ‘দমন করতে’ এ সিদ্ধান্ত নেন ইউন সুক।

    ঘটনার প্রতিবাদে পার্লামেন্টের বাইরে গতকাল রাতেই সমবেত হন হাজার হাজার মানুষ। একই সময় প্রেসিডেন্টের ওই পদক্ষেপ জরুরি এক ভোটাভুটির মাধ্যমে আটকে দিতে পার্লামেন্টে ছুটে যান আইনপ্রণেতারা।

    পরে সর্বসম্মতিক্রমে ভোটে হেরে যান প্রেসিডেন্ট ইউন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আবার হাজির হন। রায় মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে ঘোষণা দেন সামরিক আইন প্রত্যাহারের। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট নিজের দল থেকেই বহিষ্কারের শিকার হতে পারেন।

    এমন উত্তপ্ত পতিস্থিতিতে আজ বুধবার গণমাধ্যমে শেয়ার করা এক বার্তায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন জানান, জরুরি সামরিক আইনের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতার জন্য তিনি নিজেকে দায়ী মনে করছেন।

    তিনি জনগণের মাঝে ‘বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টির জন্য’ ক্ষমা চেয়েছেন। কিম বলেন, আমি সামরিক আইন সংক্রান্ত সব ঘটনার দায়িত্ব নিচ্ছি এবং প্রেসিডেন্টের কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

  • ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জোটের মহাসচিব

    ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জোটের মহাসচিব

    সামরিক জোটে ন্যাটোতে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জোটের মহাসচিব মার্ক রুট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনো শান্তি আলোচনায় আরও অস্ত্র পাঠিয়ে দেশটির হাতকে শক্তিশালী করা।

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে কোনো মূল্যে ন্যাটোর সদস্য হতে চাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতে জোটের সদস্যপদ সম্প্রসারণই ইউক্রেনে তিন বছরের যুদ্ধের ‘উত্তপ্ত পর্যায়ের’ অবসান ঘটাতে পারে।

    ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ফ্রন্ট পূর্ব দিকে এগোচ্ছে না। এটি ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    মার্ক রুট বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, ইউক্রেন শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। শান্তি আলোচনা শুরু করার ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সরকারকে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কীভাবে তা পরিচালনা করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    জুলাইয়ে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেন সদস্যপদ পাওয়ার পথে রয়েছে।

    কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কেউ কেউ যুদ্ধ চলাকালীন এবং দেশের সীমানা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হওয়ার আগে ইউক্রেনকে জোটে নেওয়ার বিষয়ে পিছপা হয়েছে। ইউক্রেনে যোগ দিতে হলে ৩২টি দেশকে সর্বসম্মতিক্রমে একমত হতে হবে।

    ৩০ বছর আগে হাঙ্গেরির রাজধানীতে সই করা একটি চুক্তির আওতায় রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিনিময়ে সোভিয়েত আমলের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়েছিল ইউক্রেন। সেই সময়ের হিসেবে যা ছিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রের সমান।

    ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি দৃঢ় বিবৃতি জারি করে বুদাপেস্ট চুক্তিকে ‘কৌশলগত নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে অদূরদর্শিতার স্মারক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, আমরা নিশ্চিত যে ইউক্রেনের নিরাপত্তার একমাত্র আসল গ্যারান্টি এবং রাশিয়ান আগ্রাসনের প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো ন্যাটোতে ইউক্রেনের পূর্ণ সদস্যপদ।

    ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সাংবাদিকদের বুদাপেস্টের নথির একটি কপি দেখান। তিনি বলেন, এই নথি- এই কাগজ ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা এবং ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার বলেছেন, ইউক্রেনের মিত্রদের অবশ্যই যতক্ষণ সময় লাগে ততক্ষণ তাদের আত্মরক্ষার জন্য যা করা দরকার তা করতে হবে। আবার যুদ্ধটি আলোচনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হবে বলেও আশা করেন তিনি।

  • প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেলো নামিবিয়া

    প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেলো নামিবিয়া

    নামিবিয়ার ক্ষমতাসীন এসডব্লিউএপিও দলের নেত্রী নেতুম্বো নান্দি নাদাইতওয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। দায়িত্ব নিলে তিনি হবেন নামিবিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দেশটির নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করে। খবর রয়টার্সের।

    ৭২ বছর বয়সী নান্দি নাদাইতওয়া বর্তমানে নাবিবিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার জয়ের মধ্য দিয়ে এসডব্লিউএপিও দলটির ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ আরও বাড়ছে। ১৯৯০ সালে দলটির নেতৃত্বে নামিবিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে স্বাধীন হয়। এরপর ৩৪ বছর ধরে দলটি ক্ষমতায় আছে।

    নামিবিয়ার নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুসারে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নান্দি ৫৭ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে তার প্রয়োজন ছিল ৫০ শতাংশের বেশি ভোট।

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করার পর নান্দি নাদাইতওয়া বলেন, নামিবিয়ার জনগণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভোট দিয়েছেন।

    ষাটের দশকে নান্দি যখন এসডব্লিউএপিওতে যোগ দেন, তখন দলটি স্বাধীনতার জন্য লড়ছিল। নামিবিয়ায় গণতান্ত্রিক যুগ শুরু হওয়ার পর নান্দি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অসংখ্য জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    নির্বাচনে নান্দির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন পান্দুলেনি ইতুলা। ইনডিপেনডেন্ট প্যাট্রিয়টস ফর চেঞ্জ (আইপিসি) দলের এ নেতা নির্বাচনে প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।

    নামিবিয়ায় আলাদা করে জাতীয় পরিষদেও ভোট হয়েছে। এসডব্লিউএপিও দলটি সেখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। জাতীয় পরিষদে ৯৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে ৫১টিতে জয়ী হয়েছে দলটি। পরিষদে আইপিসি ২০টি আসনে জয়ী হয়েছে। তারা জাতীয় পরিষদে বিরোধী দল হচ্ছে।

    তবে আইপিসি বলেছে, তারা নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে তারা।

    গত ২৭ নভেম্বর নামিবিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন কারিগরি জটিলতা এবং ব্যালট পেপারের ঘাটতি দেখা দেয়। এমন অবস্থায় কিছু কিছু জায়গায় ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানো হয়। এতে ফলাফল ঘোষণা করতে দেরি হয়ে যায়।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনে এসডব্লিউএপিওর এ বিজয় নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ, উচ্চমাত্রার বেকারত্ব ও অসমতা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল। তবে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে ভূমিকার কারণে গ্রামীণ এলাকা এবং বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে দলটি শক্ত সমর্থন ধরে রেখেছে।

    বিশ্লেষক রাক্কেল আন্দ্রিয়াস বলেন, নান্দি নাদাইতওয়া এসডব্লিউএপিওর বিভক্ত হয়ে পড়া বিভিন্ন অংশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন এবং দলের অন্য সদস্যদের মতো তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই।

  • নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র

    নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ কথা জানিয়েছে।

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কথিত ‘নিষ্ক্রিয়তা’র অভিযোগের ব্যাপারটি যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে দেখছে, ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলার করা এ প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে পাঠানো এক ইমেইলে এক মুখপাত্র এ কথা জানান।

    মুখপাত্র জানান, আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপর সহিংসতা ও তাদের প্রতি অসহিষ্ণুতার যেকোন ঘটনার নিন্দা জানাই এবং বাংলাদেশের সব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানাই।

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের যে ঘটনাগুলো ঘটছে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ব্যাপারে জানতে চাইলে, পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন ( করার স্বাধীনতা কে ) মৌলিক স্বাধীনতা হিসেবে সমর্থন করে। আমরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারসহ আমাদের সকল অংশীদারদের কাছে সেই সমর্থনের কথা জানাই।

    বাংলাদেশে ইসকনকে  ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন না পাওয়া প্রসঙ্গে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ও সংবিধানে ( নাগরিকদের ) যে অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে এ ইস্যুগুলো সমাধান করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের। আমরা বাংলাদেশসহ সকল দেশকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য আহ্বান জানাই।

    ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রোমোটে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানান, আমরা বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের সাথেই আমাদের সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্য দিই। তাদের একে অপরের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারটি আমরা বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের উপরই ছেড়ে দিয়েছি।

  • কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের

    কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের

    প্রতিবেশী দেশ কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ব্যর্থ হলে কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। ওই শুল্ক ইস্যুতে কথা বলতে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) অঘোষিত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। সফরকালে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হয় কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর। এসময় ট্রুডো শুল্ক এত বেশি হলে কানাডার অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    বাণিজ্য ও অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কানাডার অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন জাস্টিন ট্রুডো। এসময় ট্রাম্প জাস্টিন ট্রুডোকে বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত শুল্কও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসন সমস্যা সমাধান না করে কানাডার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলে, তাহলে কানাডার উচিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যাওয়া।’

    ফক্স নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

    সপ্তাহ খানেক আগে ট্রাম্প কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। সেই ঘোষণার পর কোনো পূর্বাভাস না দিয়েই ট্রুডো ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে বৈঠক করেন দুই নেতা। এখন ওই বৈঠক সম্পর্কে নতুন কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ট্রাম্প এই আলোচনাকে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেছেন। শুল্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

    ট্রাম্প-ট্রুডোর আলোচনার টেবিলে উপস্থিত দুই ব্যক্তির মতে, ট্রাম্প ট্রুডোকে স্বাগত জানালেও কানাডার প্রতি তিনি খুবই কঠোর ও স্পষ্টভাষী ছিলেন। আলোচনার সময় ট্রাম্প ট্রুডোকে বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। ৭০ টিরও বেশি দেশ থেকে অবৈধ অভিবাসী এবং বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।

    সূত্রমতে, যখন ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির প্রসঙ্গ তোলেন, তখন তিনি আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, এই ঘাটতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ট্রাম্প ট্রুডোকে বলেন, যদি কানাডা সীমান্ত সমস্যা ও বাণিজ্য ঘাটতি সমাধান করতে না পারে, তবে তিনি প্রথম দিনেই কানাডার সব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবেন।

    ট্রুডো ট্রাম্পকে জানান, এই শুল্ক আরোপ করলে কানাডার অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘তাহলে কি আপনি বলতে চাইছেন যে, আপনার দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ১০০ বিলিয়ন ডলার না ঠকালে বাঁচতে পারবে না?’ এরপরই ট্রাম্প ট্রুডোকে প্রস্তাব দেন, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যায়, তাহলে কেমন হবে? এই মন্তব্যে ট্রুডো ও অন্যরা হাসলেও তাদের মুখভঙ্গি ছিল খুবই আড়ষ্ট।

    এরপরও কিন্তু ট্রাম্প এই ইস্যুতে তার কথা চালিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদটি বেশ ভালো, তবে ৫১ তম অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হলেও সেটা মন্দ হবে না।’ এ সময় আলোচনায় উপস্থিত এক ব্যক্তি ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন যে, কানাডা একটি উদারপন্থী অঙ্গরাজ্য হবে। বিষয়টি আরও হাস্যরসের সৃষ্টি করে। তখন ট্রাম্প প্রস্তাব দেন, কানাডা দুটি অঙ্গরাজ্যে বিভক্ত হতে পারে—একটি রক্ষণশীল এবং অন্যটি উদারপন্থী।

    ট্রাম্প ট্রুডোকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘যদি আপনি আমার শর্তগুলো পূরণ করতে না পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে হয়তো কানাডার সত্যিই একটি বা দুটি অঙ্গরাজ্য হয়ে যাওয়া উচিত। আর ট্রুডো তখন গভর্নর হতে পারবেন।’ সূত্রের মতে, যদিও কথোপকথনে অনেক হাসি-ঠাট্টা হলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি জানুয়ারির ২০ তারিখের মধ্যে পরিবর্তন আশা করছেন।

    প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে আরও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। কানাডীয় অতিথিরা বৈঠকটিকে ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।