Category: আন্তর্জাতিক

  • হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা ছাড়ছেন ইসরায়েলি হামলার কবলে

    হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজা ছাড়ছেন ইসরায়েলি হামলার কবলে

    অবস্থার অবনতি হওয়ায় গাজা শহর থেকে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পার করছেন ইসরায়েলি সামরিক হামলার ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে। গত দুই বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিযান, যেখানে শহরের ওপর ব্যাপক আকাশ ও স্থল থেকে হামলা চালানো হয়। শহরের মানুষ আতঙ্কে জীবন রক্ষা করার জন্য পালিয়ে যাচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন যে তারা আর কখনও ফিরে যেতে পারবেন কিনা জানেন না। জাতিসংঘের মহাসচিব এই হামলার গভীরতাকে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন।

    সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, গাজা জ্বলছে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠে আসছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মন্তব্য করেছেন যে, শহরটি এখন অগ্নিগর্ভ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে শহর থেকে কালো ধোঁয়া দৃশ্যমান, এবং উপকূলীয় আল-রাশিদ সড়ক দিয়ে আসবাবপত্র বোঝাই ভ্যান, গাধার গাড়ি ও পায়ে হেঁটে বহু মানুষ দক্ষিণ দিকে ছুটে চলেছেন জীবন বাঁচানোর জন্য।

    প্রাথমিকভাবে অনেক নাগরিক শহরে থেকে যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তবে ব্যাপক ও প্রাণঘাতী বোমা হামলার কারণে তারা স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছেন। মঙ্গলবারের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনারা গাজা শহরে অন্তত ৯১ জনকে হত্যা করেছে। তারা জানিয়েছেন, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারীদের বহনকারী একটি যান লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়া হয়।

    এদিন শহরের অন্তত ১৭টি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়, যার মধ্যে পূর্বাঞ্চলের তুফফাহ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আইবাকি মসজিদও রয়েছে, যা এক বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

    বোমাবর্ষণের পাশাপাশি, শহরের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব অংশে বিস্ফোরক বোঝাই রোবটের সাহায্যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড মনিটর জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা অন্তত ১৫টি বিস্ফোরক রোবট ব্যবহার করছে, যার প্রত্যেকটি একসঙ্গে ২০টি আবাসিক ইউনিট ধ্বংস করতে সক্ষম।

    সূত্র: আল-জাজিরা

  • দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে ঐতিহাসিক লালকেল্লা কালো হয়ে যাচ্ছে

    দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে ঐতিহাসিক লালকেল্লা কালো হয়ে যাচ্ছে

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে ঐতিহাসিক মুঘল আমলের লালকেল্লার দেয়াল কালো হয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এক গবেষণা উঠে এসেছে যা আশঙ্কাজনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারাত্মক বায়ুদূষণের কারণে ঢাকার এই প্রাচীন স্থাপনা তার লালের রঙ হারিয়ে কালো হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন বায়ু দূষণের ধুলিকণা এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য এই অবস্থা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় জানা গেছে, লালকেল্লার লাল বেলেপাথরের দেয়ালে বাতাসের দূষক কণার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হওয়া কালো আস্তরণ ধীরে ধীরে জমছে, যার পুরুত্ব ০.০৫ মিলিমিটার থেকে ০.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এই কালো স্তর ঐতিহাসিক নকশা ও সূক্ষ্ম খোদাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত লালকেল্লা নিয়ে করা প্রথম ও পর্যাপ্ত গবেষণা। বিভিন্ন অংশের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, দূষণের কারণে দেয়ালের সুক্ষ্ম স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ফোস্কা, খোসা ওঠার মতো ক্ষতি দেখা যাচ্ছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, মূলত বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও দূষক পদার্থ এই কালো আস্তরণের প্রধান উৎস, যা ধীরে ধীরে পুরু হয়ে যায়। তাই দ্রুত সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ সংস্কার বা সুরক্ষা উপাদান প্রয়োগ করে এই কালো আস্তরণ রোধ বা কমানো সম্ভব বলে পরামর্শ দিয়েছে গবেষকরা। উন্নত বিজ্ঞান ও সচেতনতায় যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে এই ঐতিহাসিক স্থাপনার বর্তমান রূপ বাঁচিয়ে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • কংগ্রেসের গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আদানির বিরুদ্ধে

    কংগ্রেসের গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আদানির বিরুদ্ধে

    ভারতের প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ ও জনপ্রিয় শিল্পপতি গৌতম আদানি সম্পর্কে কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, তারা দাবি করছে যে তার প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের মূল বিষয় revolves around বিহারের ভাগলপুরে এক হাজার ৫০ একর জমি, যেখানে প্রায় ১০ লাখ গাছ রয়েছে, সেটি মাত্র ১ টাকা বার্ষিক ইজারা বরাদ্দ করা হয়েছে আদানি গোষ্ঠীর কাছে, এবং সেই জমিতে একটি ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কংগ্রেসের নেতা পবন খেরার মতে, এভাবে বিনামূল্যে জমি, কয়লা এবং নদীর জল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, কিন্তু বিহারের সাধারণ মানুষকে তার জন্য ইউনিট প্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনতে হবে। পবন খেরা আরও মন্তব্য করেন, এটাই বিজেপির ডাবলি “ডাবল” লুটের প্রমাণ, কারণ এর যানবাহন, মহারাষ্ট্রের ধারাভি প্রকল্প, ছত্তিশগড়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের আগে আদানিদের জন্য অবকাঠামো ও প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন বিহারের নির্বাচনের আগে সেই সুযোগে ভাগলপুরেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য কৃষকদের জমি ন্যায্য মূল্য না দিয়ে জোরপূর্বক অধিগ্রহণ করা হয়েছে, এবং ভোটের আগে তাদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানের সময়। উল্লেখ্য, সোমবার ভাগলপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদি মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন, যার মধ্যে আদানি গোষ্ঠীর এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অন্যতম। একই দিনে, আদানি এন্টারপ্রাইজ উত্তরাখণ্ডের শোনপ্রয়াগ থেকে কেদারনাথ পর্যন্ত ৪ হাজার কোটি টাকার রোপওয়ে প্রকল্পের বরাদ্দও পেয়েছে। তবে, কংগ্রেসের এই অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বা বিহার রাজ্য সরকার এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

  • নেপালি প্রধানমন্ত্রী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন ও দুর্নীতির তদন্তের প্রত্যাশা

    নেপালি প্রধানমন্ত্রী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন ও দুর্নীতির তদন্তের প্রত্যাশা

    নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি বিবিসিকে জানান, তিনি ছয় মাসের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে চান এবং এই সময়ের মধ্যে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে চান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। তার লক্ষ্য হলো দ্রুত ভোটের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে নির্বাচন কমিশনকে সক্রিয় করে তোলার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথমে একটি ১০-১১ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে দুর্নীতির বিস্তারিত তদন্তের পরিকল্পনা রয়েছে। এই তদন্তের জন্য তিনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করবেন, যাতে এক মাসের মধ্যে বা দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ হয়। তিনি উল্লেখ করেন, যত দ্রুত সম্ভব দুর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন করে জাতিকে শান্তি ও স্থिरতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

    অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, জেন জি-র আন্দোলনের সময় সম্পত্তি ও প্রাণহানির ঘটনাগুলোর প্রতীয়মান তদন্তের জন্য সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করবে। তাদের পরিকল্পনা হলো, এই তদন্তকে এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা, যাতে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।

    মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে একজন করে প্রতিনিধি নেওয়া হলেও তিনি মত প্রকাশ করেন যে, রাজনীতি থেকে স্বতন্ত্র ও অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই এই দায়িত্বShould পালন করতে পারেন। তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য অপব্যবহার এড়াতে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    মন্ত্রিসভার সদস্য বাছাই প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তিনি কিছু বিশ্বস্ত সহযোগীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ করছেন এবং মাঠ পর্যায়ে চেক করে দেখছেন। পরবর্তীতে সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, নির্বাচনের মতো একটি গণতান্ত্রিক অনুষ্ঠানের জন্য সকল কাজ আইন ও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে, যাতে সুষ্ঠু ও নির্ভুল সরকার গঠন সম্ভব হয়।

    অতিরিক্তভাবে, জেন জি আন্দোলনের সময় গঠিত সরকারের বিরোধীতার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তারা আসলে আন্দোলনকারী বা গঠনতান্ত্রিক দাবিদার নয়। তিনি বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদের নিহতের পরে তিনি দুর্নীতি ও শাসন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চান। তিনি জানান, কিছু দাবি পূরণে সম্ভব হয়নি হয়তো, তবে পরবর্তী সরকার ও সংসদ এই দায়িত্ব গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, সবকিছু শতভাগ সফলতা দাবি না করলেও,max.us সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

  • গাজায় ৬ বছর বয়সী জমজ শিশুসহ নিহত আরও ৫১ ফিলিস্তিনি

    গাজায় ৬ বছর বয়সী জমজ শিশুসহ নিহত আরও ৫১ ফিলিস্তিনি

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা অঞ্চলেটি এখন পুরোপুরি যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গাজা সিটি, যা এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নগরী, ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার ফলে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরটিতে চালানো তুমুল বোমাবর্ষণে কমপক্ষে ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছয় বছর বয়সী জমজ শিশু ও একজন সাংবাদিক রয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসরায়েল গাজা সিটিতে চালানো বিশাল আকাশপথীয় হামলায় আল-ঘাফরি হাইরাইজ ভবন সহ অনেক বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই তীব্র হামলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহর থেকে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

    জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক মানবাধিকার র‌্যাপোর্টার ফ্রান্সেসকা আলবানিজে অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল অপ্রচলিত অস্ত্রের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উৎখাত করার চেষ্টা করছে।

    আর এক টেলিভিশন রিপোর্টে জানানো হয়েছে, গাজা সিটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ইসরায়েলের চালানো ‘অস্বাভাবিক তীব্র’ হামলার কারণে বিভিন্ন বড় ভবন ধ্বংসের শিকার হয়েছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহে অন্তত ৫০টি বহুতল ভবন ধসে গেছে। শহরের অন্যান্য এলাকা, বিশেষ করে জায়তুন, আগস্টের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১,৫০০’র বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ইসরায়েলের চোখে গাজা এখন ধ্বংসের ইতিহাস। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করে বলছে, ‘সন্ত্রাসের টাওয়ারগুলো সমুদ্রে ভেঙে পড়েছে,’ তবে হামাসের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়া এই মন্তব্য করা হয়েছে।

    অভ্যুত্থান, স্কুল, হাসপাতালসহ বহু আবাসিক এলাকা নানা গোলাগুলির অজুহাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র গাজা সিটিতেই নিহতের সংখ্যা ৫১, যার মধ্যে ৬ বছর বয়সী জমজ শিশু রয়েছে।

    এছাড়াও, এই হামলায় তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তারা হলেন—নাসর এলাকায় রিপোর্টার মোহাম্মদ আল-কুইফি, ফটোগ্রাফার ও সম্প্রচার প্রকৌশলী আইমান হানিয়ে এবং ইমান আল-জামিলি। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২৮০-এ পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৪ হাজার ৯০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৬ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অগণিত মরদেহ চাপা পড়েছে, যা ভবিষ্যত গবেষণা ও তদন্তের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

  • ভারত জাহাজ ভাঙা শিল্পে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য হারাতে চায়

    ভারত জাহাজ ভাঙা শিল্পে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য হারাতে চায়

    বৈশ্বিক জাহাজ ভাঙা শিল্পে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে এগিয়ে এসেছে ভারত। বাংলাদেশকে এই খাতে আমাদের বৃহৎ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করে ভারতের সরকার সম্প্রতি এক নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করছে, যা দেশের বাজার দখলে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তানের কাছ থেকেও বাজারের অংশ ফিরে পেতে ভারতের এই উদ্যোগ বিশেষ লক্ষ্যপূরণে সহায়ক হবে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে সারা দশ বছর ধরে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে দারুণ বিপ্লব আনার জন্য বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা দেওয়া হবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত তাদের জাহাজ ভাঙার খাতের অবকাঠামো ও ব্যবসা আরও তরতাজা করতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন বা চার হাজার কোটি রুপি অর্থ সাহায্য ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কাছ থেকে বাজারের দখল ফিরিয়ে আনতে চাইছে বলে সূত্রগুলি জানিয়েছে।

    প্রস্তাবিত এই প্রণোদনা ২০২৬ সাল থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী দশ বছর অব্যাহত থাকবে, এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিতে পারে।

    প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায়, জাহাজ মালিকরা যদি পুরোনো জাহাজ ভারতে নিয়ে আসেন, তবে স্ক্র্যাপ মূল্যের প্রায় ৪০ শতাংশের সমপরিমাণ ক্রেডিট নোট পাবেন। এই নোট তিন বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে এবং মালিকরা ভারতে নির্মিত নতুন জাহাজ কিনতেও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। একাধিক নোট একসাথে ব্যবহার বা বিক্রির সুবিধাও থাকছে।

    এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভারতের জাহাজ পুনর্ব্যবহার খাতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করা। সরকারী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ভাঙা জাহাজের এক-তৃতীয়াংশ ভারত থেকে এসেছে, যেখানে বাংলাদেশ এককভাবে ৪৬ শতাংশ দখল করে রেখেছে।

    তবে, ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত আলাং শিপইয়ার্ড বিশ্বে সবচেয়ে বড় জাহাজ ভাঙার কেন্দ্র। এই শিপইয়ার্ড থেকে ভারতের জাহাজ ভাঙার মোট ব্যবসার ৯৮ শতাংশ আসে। তবে, সস্তা শ্রম ও পর্যাপ্ত শ্রমশক্তির কারণে প্রতিবেশী দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—এই বাজারের বড় অংশ দখল করে নিয়েছে।

    কিন্তু সম্প্রতি এই খাতটি কিছুটা ঘুরে দাড়ানোর পথে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে তেল ট্যাঙ্কার ভাঙার কাজ কমে গিয়েছিল, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও পরিবর্তিত জাহাজ রুটের কারণে ভাড়া বাড়ছে। এর ফলে মালিকরা পুরোনো জাহাজের জীবনকাল দীর্ঘায়িত করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

    সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা সরিয়ে আনতে ভারতের পূর্ব উপকূলে নতুন জাহাজ ভাঙার কল, বা ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনাও চলছে।

    এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এই মাসে ২৫০ বিলিয়ন রুপি সমপরিমাণ সমুদ্রসংশ্লিষ্ট উন্নয়ন তহবিল অনুমোদন করতে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় জাহাজ নির্মাণে উৎসাহ দেওয়া ও বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। এই তহবিলটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া বাজেটবর্ষের জন্য নির্ধারিত, যা দেশের সমুদ্রশিল্পের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

  • ক্যাম্পাসে সহিংসতা: ভারতের কাছ থেকে ৫ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে

    ক্যাম্পাসে সহিংসতা: ভারতের কাছ থেকে ৫ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে

    শিক্ষাক্ষেত্রে সহিংসতার অভিযোগে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের শিলচর শহর থেকে পাঁচ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই শিক্ষার্থীরা শিলচর শহরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এনআইটি) অধ্যয়ন করছিলেন।

    তারা কনসিল অব কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) এর অধীনে বৃত্তির আওতায় এনআইটিতে ভর্তি হয়েছেন। এই পাঁচজনই সম্মান (অনার্স) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    শিলচর এনআইটির সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের মধ্যে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে অংশ নেন এই পাঁচ শিক্ষার্থী, যারা রড, ছুরি ও স্ক্রু ড্রাইভার जैसी ধারালো অস্ত্র দিয়ে চতুর্থ বা শেষ বর্ষের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্য থেকে অন্তত দুজনের অবস্থা সংকটজনক।

    আহত শিক্ষার্থীদের শিলচর মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল (এসএমসিএইচ)-এ ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলার সময় এই পাঁচ শিক্ষার্থী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।

    এনআইটি শিলচর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রথমিক তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এই পাঁচ শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার বা এক বছর ক্যাম্পাসে থাকতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পেট্রোৎসাহে তারা ক্যাম্পাসের হোস্টেল ত্যাগ করে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তাদের জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে, এই এক বছর তারা ভারতে থাকতে না পারার জন্য দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানান।

  • ইসরায়েল এখন একান্ত বিচ্ছিন্নতার মুখে: নেতানিয়াহুর স্বীকারোক্তি

    ইসরায়েল এখন একান্ত বিচ্ছিন্নতার মুখে: নেতানিয়াহুর স্বীকারোক্তি

    গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে অব্যাহত থাকা নির্বিচার আগ্রাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হয়েছে। ইসলামি প্রতিবাদের কঠোর মুখে পড়ে ধাক্কা খেয়েছে সেই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তর। তবে এই সমস্যা নিয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তিনি জানিয়ছেন যে, এই বিচ্ছিন্নতা পরিস্থিতি হয়তো কয়েক বছর অব্যাহত থাকবে। এমতাবস্থায় ইসরায়েলের একমাত্র সমাধান হলো নিজের দেশকেই রক্ষায় একা থাকাই।

  • গণবিক্ষোভের ভয়: মোদি সরকারের ১৯৭৪-পরে আন্দোলন নিয়ে গবেষণা নির্দেশ

    গণবিক্ষোভের ভয়: মোদি সরকারের ১৯৭৪-পরে আন্দোলন নিয়ে গবেষণা নির্দেশ

    দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপালে তরুণ নেতৃত্বে ব্যাপক গণবিক্ষোভের কারণে সরকার পতনের ঘটনাগুলি বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভারতের জন্যও এই আন্দোলনগুলো উদ্বেগজনক, যেখানে নেতাদের ধারণা, এগুলি ভবিষ্যতে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দেশটির ইতিহাসে ১৯৭৪ সালের পর থেকে সংগঠিত সকল ধরনের আন্দোলনের কারণ, কার্যকারণ ও গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণের জন্য একটি গবেষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ব্যাপক আন্দোলন’ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এজন্য বিপিআরঅ্যান্ডডি, অর্থাৎ ভারতের পুলিশ গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যুরোকে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (এসওপি) তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘকালীন আন্দোলনের কারণ, অর্থনৈতিক প্রভাব, ফলাফল এবং পেছনের সংঠিত গোষ্ঠীর কার্যকলাপ খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে পরিকল্পনা করা হবে।

    অগাস্টে নয়াদিল্লিতে একটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কনফারেন্সে এই নির্দেশনা দেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি বলেন, স্মার্ট অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে আন্দোলনের প্রকৃতি বোঝার পাশাপাশি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলো বিশ্লেষণ করে বড় ধরনের আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিতে হবে। এই জন্য তিনি বিপিআরঅ্যান্ডডিকে সব আন্দোলনের নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করতে বলেছেন।

    শাহ ভারতের পুলিশ, তদন্ত সংস্থা এবং আর্থিক জোট—যেমন এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি), এফআইইউ (অর্থনৈতিক তদন্ত সংস্থা) ও সিবিডিটি (সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডাইরেক্ট ট্যাক্সেস)-র সঙ্গে সমন্বয় করে এই গবেষণা পরিচালিত করবে। এর পাশাপাশি, সন্ত্রাসী অর্থায়ন রোধ, আন্তর্জাতিক জালিয়াতি বিরোধী ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় সমাবেশের মাধ্যমে সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর জন্যও এসওপি তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, অমিত শাহ রাজ্য পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থা—যেমন এনআইএ, বিএসএফ এবং এনসিবি—কে আলাদা কৌশল ও পরিকল্পনা তৈরি করে চলমান সংকট মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে, পাঞ্জাব ও খালিস্তান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নজরদারি বাড়ানোর জন্য এই সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা থাকছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধ সংগঠনের নেটওয়ার্ক ভাঙা, অপরাধীদের স্থানান্তর ও নজরদারি বাড়ানো, যাতে দেশি-বিদেশি সকল চক্রান্ত দ্রুত নজরে আসে ও প্রতিহত করা যায়।

  • নেপালে নিহতদের পরিবার থেকে পেনশন ও মর্যাদার দাবি, মরদেহ না নেওয়ার ঘোষণা

    নেপালে নিহতদের পরিবার থেকে পেনশন ও মর্যাদার দাবি, মরদেহ না নেওয়ার ঘোষণা

    নেপালে সাম্প্রতিক জেন জি আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ঘোষণা করেছে, তারা তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ গ্রহণ করবে না যতক্ষণ না শহীদ স্বীকৃতি ও দেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং অন্যান্য দাবিগুলো পূরণ হয়। এই দাবি মেনে না নিলে তারা মরদেহ না নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তার জন্য সরকারের কাছে আশা ব্যক্ত করেছেন।

    নিহতদের পরিবার এই ঘোষণা দিয়ে বলছে, তাদের একমাত্র লক্ষ্য এখন হচ্ছে প্রায়শ্চিত্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তারা নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির জন্য প্রত্যাশা করছেন, যাতে দ্রুত এই দাবিগুলো মান্যতা পায়।

    এই ঘোষণা দিয়ে তারা মূলত জানিয়েছেন, তারা তাদের প্রিয়জনদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে প্রস্তুত নয় যতক্ষণ না তাদের দাবি পূরণ হয়। মূলত, নিহতদের পরিবার দাবি করেছেন— ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভে নিহতদের শহীদ ঘোষণা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদাসহ দাফন, এবং এই মৃত্যুর উৎসব ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মিছিল শহর শহর প্রদক্ষিণ করার।

    বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কাঠমান্ডু পোস্ট এক প্রতিবেদনে বলছে, আন্দোলন ও সহিংসতার শিকার নিহতদের স্বজন ও আহতদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির সঙ্গে সরাসরি দেখা করার অপেক্ষায় আছেন।

    নিহত এক তরুণ, কমল সুবেদীর স্বজনরা জানিয়েছেন, শনিবার প্রধানমন্ত্রী সঙ্গেও মৌখিক সমঝোতা হয়েছিল। তবে রোববার লিখিত প্রতিশ্রুতির জন্য অপেক্ষা করছে তারা।

    তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— নিহতদের শহীদ ঘোষণা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন, এবং দাফনের শেষকৃত্য মিছিল রিং রোডে অনুষ্ঠিত। এছাড়া, তারা advocacy করেছেন শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, বরং সচিব পর্যায়ের সম্মানজনক পেনশন সুবিধাও প্রদান করতে।

    অতীতে, প্রধানমন্ত্রী কার্কির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিহত প্রত্যেকের জন্য ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তবে পরিবারগুলোর দাবি, এই ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি, নিহতের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদানের জন্য আরও বিস্তৃত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।