Category: আন্তর্জাতিক

  • সাইবার হামলায় ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল

    সাইবার হামলায় ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল

    ইউরোপের বড় বিমানবন্দরগুলোতে চেক-ইন এবং বোর্ডিং পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কলিন্স অ্যারোস্পেসের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা হয়েছে। এর ফলে লন্ডনের হিথরো, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এবং জার্মানির বার্লিন বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। কলিন্স অ্যারোস্পেস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত কিছু ত্রুটির কারণে তারা আপাতত পরিষেবা দিতে পারছে না এবং এই ত্রুটির সমাধানে সময় লাগবে।

    বিশ্বের বেশ কিছু বিমান পরিবহন সংস্থা এবং বিমানবন্দরে এই প্রতিষ্ঠানটির পরিষেবা ব্যবহৃত হয়। ইউরোপভিত্তিক বেশিরভাগ বিমানসংস্থাই কলিন্স অ্যারোস্পেসের মাধ্যমে চেক-ইন এবং বোর্ডিং এর কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই সাইবার হামলার ফলে এগুলো এখন বন্ধ হয়ে গেছে, যার কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

    লন্ডন, ব্রাসেলস এবং বার্লিনের বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই যাত্রীদের ফোনে বার্তা পাঠিয়ে ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। তবে ইউরোপের অন্যান্য বড় কিছু বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে; যেমন ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ ও জুরিখের বিমানবন্দরে বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

    ব্রাসেলস বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক না হবে, ততক্ষণ তারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যাত্রীদের সেবা প্রদান চালিয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি কিছুটা সময়সাপেক্ষ, যদি শিগগিরই কলিন্স অ্যারোস্পেসের সাইবার হামলার সংঘটন সমাধান না হয়, তবে ফ্লাইটের ডিপার্চার সময় প্রায় ৫৪ মিনিট পিছিয়ে যাবে, বলছেন ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের একজন কর্মকর্তার বরাতে।

  • পর্তুগাল এবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে

    পর্তুগাল এবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে

    অবশেষে গত সপ্তাহে পর্তুগালের সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে দেশটি। এই ঘোষণা একদিকে যেমন ফিলিস্তিনের জন্য নতুন এক পشة অঙ্গীকার, অন্যদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো পর্তুগালও এ ব্যাপারে সংহতি প্রকাশ করছে। আগামী রবিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি ঘোষণা করবে।

    পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো র‌্যাঙ্গেল সম্প্রতি লিসবনে এক বক্তব্যে বলেছেন, ফিলিস্তিনের জাতিসংঘে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যাপারটি এখন তাদের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূলত আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    পর্তুগাল আন্তর্জাতিক মহলে অন্যতম উন্নত দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য। এই জোটের বেশ কিছু দেশ—যেমন সুইডেন, সাইপ্রাস, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে—আগে থেকেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশেষ করে গাজায় হামাস-ইসরায়েল সংঘর্ষের শুরু থেকেই স্পেন এবং তার পরে এই স্বীকৃতির পথে এগিয়েছে অন্যান্য দেশ। স্পেনের পর বাংলাদেশও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এবার সেই পথে হাঁটছে পর্তুগাল, যা ইইউর চতুর্থ দেশ হিসেবে এই স্বীকৃতি দিচ্ছে।

    তবে, লিসবন সতর্কভাবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়ে ইইউ যে অবস্থান নেবে, লিসবন সেটাকেই সমর্থন করবে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নয়। সূত্র: রয়টার্স।

  • সাগরে সৃষ্টি হওয়া সামুদ্রিক ঝড় সুপার টাইফুনে রূপ নিতে পারে

    সাগরে সৃষ্টি হওয়া সামুদ্রিক ঝড় সুপার টাইফুনে রূপ নিতে পারে

    ফিলিপাইনসাগরে সৃষ্টি হওয়া সামুদ্রিক ঝড়টি বর্তমানে টাইফুনে রূপ নিয়েছে। ‘নান্দো’ নামের এই ঝড়টি আগামী সোমবার সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের জাতীয় আবহাওয়া ব্যুরো। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগগুলি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, নিচু এলাকাগুলো এবং ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা লোকদের জন্য। একে মোকাবেলা করতে, প্রেসিডেন্ট মারকোসের নির্দেশে সকল জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যেন জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা যায়।

    টাইফুনের আঘাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু জরুরি নিয়মও জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে সব ধরনের নৌচলাচল বন্ধ রাখা, মদ্যপান নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং ছোট নৌকা বা মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্রযাত্রা আপাতত নিষেধ। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।

    এছাড়াও, মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী, বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বলেছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যারা ঘরবাড়ি থেকে বের হতে পারেননি বা নৌকা চালাতে সক্ষম নয়, তারা নিরাপদে থাকতে পারেন।

    সরকারি কর্তৃপক্ষ আবহাওয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, স্বাস্থ্যবিভাগ ও উদ্ধারকারি দলগুলো প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি, জলপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বাঁধের অবস্থা দেখা, পাথর ও খনি এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে যাতে করে কোনো বিপদ এড়ানো যায়।

    ডিআইএলজি (অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ) সতর্ক করে বলেছে, ‘ঝুঁকি কমাতে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করতে সবাইকে দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।’ জনগণকে সতর্ক থাকার, কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা করার এবং স্থানীয় নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রসহবাসী আবহাওয়া দপ্তর জানান, ‘নান্দো’ সোমবারের মধ্যে সুপার টাইফুনে পরিণত হতে পারে এবং বাতানেস-বাবুয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। এর ফলে, বাতানেস, কাগায়ান, ইলোকোস নর্তে, ইলোকোস সুর এবং কাগায়ানের উপকূলবর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যাতে করে জনসাধারণ সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে পারে।

  • ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের বাজারে অগ্নিগйর, ক্রেতারা কিনতে পারছেন না

    ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের বাজারে অগ্নিগйর, ক্রেতারা কিনতে পারছেন না

    বাংলাদেশ থেকে আসা ইলিশের খবর শুনে অনেকেই সত্যিই আনন্দিত হয়েছিলেন ভারতের কলকাতা শহরে বসবাসরত মানুষজন। তবে, বাংলাদেশি মাছের বেশি দাম ও উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতাদের মাঝে আগ্রহ কমে গেছে। তাই অনেক ক্রেতা এখন আর ইলিশ কিনতে পারছেন না এবং এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে যে, ভবিষ্যতেও কি বাংলাদেশ থেকে ইলিশের আমদানি আবার চালু হবে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    বৃহস্পতিবার কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশের ইলিশের জন্য ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় লেক মার্কেট, গারিয়াহাট ও মানিকতলা এলাকায় খুচরা মাছের দোকানদাররা হাওয়ার পাইকারি বাজার থেকে ৫ থেকে ২৫ কেজি করে ইলিশ সংগ্রহ করেন। এ সময় শোনা গেছে যে, গুজরাট থেকে বড় এক চালান বাংলাদেশি ইলিশের আসছে, যা বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বাজারে থাকা ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, গুজরাটের ইলিশ বাজারে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য বেশ সুবিধাজনক। বর্তমানে কলকাতায় বাংলাদেশের এক কেজির বেশি ওজনে একটি ইলিশের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রূপি বিক্রি হচ্ছে, যা বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ২৮০০ থেকে ৩৫০০ টাকা।

    অন্যদিকে, গুজরাটের সেই একই সাইজের ইলিশ খুচরা বাজারে ৮০০ থেকে ১১শ রূপিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হিমায়িত ইলিশও বাজারে আসছে, যার মূল্য প্রায় ১৫০০ রূপি।

    কলকাতার মাছ আমদানি পরিষদের সেক্রেটারি আনোয়ার মাসুদ জানান, ‘বাংলাদেশি ইলিশের দাম কমার কোনো আশা দেখghịে। বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষই কিনতে চাইবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী সোমবার মার্কেট পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, আর বাংলাদেশি ইলিশ আমদানি করা হবে কি না।’

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে ভারতে পেট্রাপোল বন্দরে গত মঙ্গলবার ৫০ টন বাংলাদেশি ইলিশ গেছে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ টন ইলিশ প্রবেশ করেছে।

    অমর দাস নামে এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘ডায়মন্ড হারবার থেকে যদি ভালো মানের বড় মাছ পাই, তাহলে আমি ১০০ কেজি স্টক করতে পারি। কিন্তু এখন আমি শুধু ২০ কেজি বাংলাদেশি ইলিশ নিয়েছি কারণ ক্রেতাদের আগ্রহ খুব কম। তখন এই মাছগুলো মজুদ করাটাও লাভজনক নয়।’

    মানিকতলার রাজু দাস জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশি মাছের গঠন ভালো হলেও ছোট আকারের কারণেই দাম অনেক বেশি। যদি বড় মাছের দামে এই রকম দাম হতো, তবে বাজারে বাংলাদেশি মাছের চাহিদা কমে যেত। ডায়মন্ড হারবারের মাছ থাকলে বাংলাদেশি মাছের জন্য কোনো ক্রেতাই থাকত না।’

    তবুও, কলকাতার অনেক মানুষ এখনও বাংলাদেশের ইলিশের প্রতি আলাদা টান অনুভব করেন। তাদের মধ্যে একজন আখ্যান মুখার্জি জানালেন, ‘আমি মাছ বিক্রেতাকে আগে থেকে বলেছি যেন আমাকে বাংলাদেশের ইলিশ দেন। শুক্রবার একটির দাম উঠে ২ হাজার ৫০ রূপি।’

  • মুসলিম বিশ্বের আকাশপথ অবরোধে ইসরাইলকে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা গবেষণা

    মুসলিম বিশ্বের আকাশপথ অবরোধে ইসরাইলকে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা গবেষণা

    আরব এবং মুসলিম দেশের আকাশপথে অবরোধ যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ইসরাইলের অর্থনীতির জন্য ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আল হাবতুর রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদনে। জানা গেছে, কাতার দোহার মধ্যে এই গবেষণা চালানো হয়, যা ইসরাইলি হামলার পরপরই প্রকাশিত হয়।

    সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং আরব লীগে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো সহজাতভাবে ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, তবে তেল আবিবের অর্থনৈতিক অবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। মিডলইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার দোহার মধ্যে ইসরাইলের সামরিক হামলার পর গত সপ্তাহে ওআইসি’র ৫৭টি দেশ এবং আরব লীগের যৌথ জরুরি বৈঠক হয়। সেই সময় মুসলিম বিশ্বনের নেতা ও কর্মকর্তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের পথ খুঁজে বের করেন। এই হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হন, যার মধ্যে কাতারের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাও ছিলেন।

    আল হাবতুরের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি মুসলিম দেশগুলো একজোট হয়ে ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়, তবে ইসরাইলের জিডিপি ৫.৭ শতাংশ থেকে কমে ৪.৮ শতাংশে নেমে আসবে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক মন্দার পথ প্রশস্ত হবে। עוד বলা হয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো ওআইসি-ভুক্ত দেশগুলো যদি ইসরাইলের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়, তবে এশিয়া ও আফ্রিকার উচ্চ প্রবৃদ্ধির বাজারে বড় ধরণের বাধা সেটি হয়ে দাঁড়াবে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়, আকাশসীমা বন্ধ হলে ইসরাইলি বিমান পরিবহনগুলোর জন্য অতিরিক্ত চার থেকে ছয় ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় লাগবে, যার ফলে প্রতি ফ্লাইটে অন্তত ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলার অতিরিক্ত খরচ হবে। এর ফলে ইসরাইলের বিমান সংস্থা এল আলের রাজস্ব বড় ধরনের ভাটা পড়বে, সম্ভবত ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

    এছাড়া, এই পদক্ষেপগুলো ইসরাইলের পর্যটন শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মূল্যবান রতœ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি বাতিল ও গবেষণা-উন্নয়ন উদ্যোগেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। ইরান, সিরিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে নতুন প্রতিরোধমূলক সিদ্ধান্তের জন্ম দিতে পারে এই প্রভাব। এটি পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে বদলে দিতে সক্ষম।

    আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও, ইসরাইলের হামলা রুখতে ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা এই সম্পর্কের গভীরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এতে দেখা যায়, কাতারে অতিরিক্ত ৮ হাজারের বেশি মার্কিন সৈন্য থাকা সত্ত্বেও, সেখানে ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর কিছু করতে পারেনি আমেরিকা। ফলে কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্থিতি এখন সংকটের মুখে।

    আল হাবতুরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মুসলিম এবং আরব দেশগুলো যদি collectively ইসরাইলের আকাশসীমা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্য এবং পুরো অঞ্চলকে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলের দিকে ধাবিত করবে। এর ফলে কূটনৈতিক সংটকের মাত্রা বাড়বে এবং আল-আকসা সমস্যা নিয়ে বিশ্বজনমতও প্রভাবিত হবে।

    অন্যদিকে, ইতোমধ্যে ইসরাইলের একাকিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শেষ বক্তব্যে। তিনি বলেন, বিশ্ব মঞ্চে অন্তত এখন খুব একটা সঙ্গ নেই ইসরাইলের, এবং দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন সুবিধামতো নয়। ফলে, এই পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের নিঃসঙ্গতা মানিয়ে নিতে হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। এই সমস্ত প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ কী হবে সেটিই এখন বিশ্বের সঙ্গে সবার চোখের নজড়ে রয়েছে।

  • সৌদি- পাকিস্তান চুক্তি: ন্যাটোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলল দুই দেশ

    সৌদি- পাকিস্তান চুক্তি: ন্যাটোর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলল দুই দেশ

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে আলেকজ্যুতে শক্তিশালী সামরিক সম্পর্ক গড়ে উঠছে, যা পশ্চিমা জোট ন্যাটোর মতোই একটি প্রতিরোধমূলক ছাতা হিসেবে কাজ করবে। সৌদি মিডিয়া এই চুক্তিকে নিয়ে বিশেষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে।
    চুক্তির অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হয়, তবে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। শুক্রবার টিআরটি ওয়ার্ল্ড সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে। সৌদি আরবের গণমাধ্যমে এই চুক্তিকে ‘প্রতিরোধমূলক ছাতা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, যা উভয় দেশকে সীমাহীন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারে সুযোগ দেবে।
    রিয়াদে গত বুধবার সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
    তারা আরো উল্লেখ করে, ‘যে কোনো এক দেশের উপর আক্রমণ মানে উভয় দেশের ওপর আঘাত।’ একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এটি বহু বছরের আলোচনা ফসল এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের মাথায় নয়, বরং দীর্ঘদিনের গভীর সহযোগিতার ফলাফল। তিনি আরও জানান, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেশত সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
    সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান (ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই) এক্স-এ লিখেছেন, “সৌদি আরব ও পাকিস্তান যেকোনো আগ্রাসীর বিরুদ্ধে একসাথে থাকবে চিরদিন।”
    দেশটির বিভিন্ন সংবাদপত্রে এই চুক্তিকে ‘ইসলামি ফ্রন্টের ঐতিহাসিক শক্তিবৃদ্ধি’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। সৌদি ও পাকিস্তানি পতাকা আলোকিত করা হয় বিভিন্ন শহরের টাওয়ারগুলোতেও। একটি কলামে লেখক মুতেব আল আউয়াদ এই চুক্তিকে ‘ইসলামি শক্তির ঐতিহাসিক দুর্গ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি একত্রিত হয়ে আঞ্চলিক প্রতিরোধকে নতুন রূপ দিয়েছে।’ তিনি বলেন, সৌদি অর্থনৈতিক শক্তি ও সামরিক সক্ষমতা বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর ফলে দেশটি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অগ্রভাগে অবস্থান করছে।
    আউয়াদ আরও বলেন, ভিশন ২০৩০ এর কারণে সৌদি প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্রনির্মাণে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে, ফলে দেশটি এখন উপসাগর ও ইসলামী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
    অপরদিকে, পাকিস্তান হলো পারমাণবিক শক্তিধর এক দেশ, যার বিশাল সেনাবাহিনী, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং আরবসাগরের উপকূলে শক্ত অবস্থান রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তার জন্য একটি ‘বন্ধনীয় ছাতা’ সৃষ্টি করেছে, যেখানে থাকবে সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি, যৌথ মহড়া, নৌ ও বিমান সহযোগিতা, পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন কাজ।
    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি পাকিস্তান ও সৌদির মধ্যে ন্যাটোর মতো একটি সম্মিলিত সামরিক নীতি গড়ে তুলেছে। আল-আরাবিয়া সংবাদমাধ্যমকে বিশ্লেষক মুনীফ আম্মাশ আল-হারবি ব্যাখ্যা করেছেন, এতে উভয় দেশের ওপর ভর করে সামরিক ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ থাকছে এবং এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পক্ষগুলোর জন্য একটি বার্তা।
    অপর দিকে, সৌদি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সাল আল-হামাদ বলেন, “এই চুক্তি ন্যাটোর নীতিকে অনুসরণ করে, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ।”
    সৌদি ও পাকিস্তানি সংবাদপত্রগুলো এই চুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়ে আসছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, চুক্তির পর ইসলামাবাদে সৌদি ও পাকিস্তানি পতাকা আলোড়িত হয়েছে।
    বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতার অন্যতম গুরুত্ব হচ্ছে, গাজা যুদ্ধের সময় এই চুক্তির প্রভাব। এর মধ্য দিয়ে গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলা ও সংঘাতের পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই চুক্তির ফলস্বরূপ, কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় উদ্যোগে মধ্যস্থতা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় প্রায় ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু, এবং চাপা পড়েছেন আরও অনেকে। কিছু বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আসল হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি, সম্ভবত দুই লাখের কাছাকাছি।

  • বাংলাদেশসহ ৯ দেশের উপর আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি

    বাংলাদেশসহ ৯ দেশের উপর আরব আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বাংলাদেশসহ মোট নয়টি দেশের ওপর পর্যটন ও কর্মভিসায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে আরও আটটি দেশ হলো আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, ক্যামেরুন, সুদান এবং উগান্ডা। এটি কার্যকর হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে, এবং ইউএই সরকার এই তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

    প্রাথমিকভাবে, ইউএই কোনোভাবেই এই নিষেধাজ্ঞার নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি, তবে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণগুলো হচ্ছে—সন্ত্রাসবাদ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দেশবাসীর সুরক্ষা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা, এবং কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি সংগঠিত করা।

    এটি যে সাময়িকভাবে আরোপিত হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করা হতে পারে।

    নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু দেশের প্রবাসীরা তাদের কাজের অনুমতি নবায়ন বা নতুন চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফ্রিকার কিছু দেশের নাগরিকরা এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

    অন্যদিকে, ব্যবসা ও পর্যটন খাতেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। তবে, যারা ইতোমধ্যে বৈধ ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে মুক্ত আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই কাজ বা বসবাস চালিয়ে যেতে পারছেন।

  • পাকিস্তানের পাশে থাকবে সৌদি আরব, যদি ভারত হামলা করে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    পাকিস্তানের পাশে থাকবে সৌদি আরব, যদি ভারত হামলা করে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে যদি ভারতের কোনো হামলা হয় পাকিস্তানের ওপর, তাহলে সৌদি আরব তাঁর পাশে থাকবে। তিনি এ কথা আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভিকে এক সাক্ষাৎকারে জানান।প্রশ্ন করা হয়েছিল, সম্প্রতি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যদি ভারত হামলা করে, তবে কি রিয়াদ পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে। তিনি নিশ্চিত করে জানান, হ্যাঁ, একদমই। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। চুক্তির ৫ নম্বর ধারায় লক্ষ্য করা যায়, ‘যৌথ প্রতিরक्षा’ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে; এর অর্থ, যদি কোনো এক দেশের ওপর হামলা হয়, তবে সেটি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সব দেশের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে।তিনি আরও বলেন, এই চুক্তিটি ন্যাটোর আদলে গড়া, যা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা মূলক, আক্রমণাত্মক নয়। এতে কোনভাবেই হামলা বা আক্রমণের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে, যদি সৌদি আরব কিংবা পাকিস্তানের ওপর হামলা হয়, তবে প্রতিটি দেশ একসঙ্গে তা প্রতিহত করবে।১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এক বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবে সৌদির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে সামরিক সব দিকই অন্তর্ভুক্ত।বিশ্বের মুসলিম দেশের মধ্যে পাকিস্তান একমাত্র দেশ যাকে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। যদিও দেশটি এশিয়ার দরিদ্র দেশের মধ্যে অন্যতম, তবে ৬ লাখ সেনাসমৃদ্ধ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, সৌদি-পাকিস্তান চুক্তিকে তারা ‘সৌদি রিয়ালের সঙ্গে পাকিস্তানির পরমাণু অস্ত্রের বিবাহ’ বলেও অভিহিত করেছেন।

  • ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ: দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা ফি বাড়ালেন অর্ধেক লাখ ডলার

    ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ: দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা ফি বাড়ালেন অর্ধেক লাখ ডলার

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ ডলার ফি আদায় করা হবে। শুক্রবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ফি আরোপের মূল উদ্দেশ্য হলো এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার কমানো এবং সুরক্ষিত করে দেশীয় কর্মসংস্থান। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফি না দিলে ভিসা প্রবেশের অনুমতি নাও পেতে পারেন।

    বহু সমালোচক দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করেছেন যে এইচ-১বি ভিসা মার্কিন চাকরির বাজারে হুমকি সৃষ্টি করছে, যেখানে কম মেধাবী ও কম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মীদের চাকরি চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, এর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে প্রোগ্রামটি বৈশ্বিক মেধাবী কর্মীদের আমেরিকায় আনতে সাহায্য করে দেশর অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

    এছাড়াও, ট্রাম্প একটি নতুন ‘গোল্ড কার্ড’ চালু করেছেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী দ্রুত ভিসা পেতে পারবেন। এই স্কিমে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি ফি দিয়ে দ্রুত ভিসার সুবিধা লাভ করা যাবে, যা দেশের অভিবাসন নীতিতে একধরনের পরিবর্তন সাধন করছে।

    সেদিন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক, যিনি বলেন, ‘প্রতি বছর এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলার ফি ধরা হয়েছে। বড় কোম্পানিগুলো এতে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আপনি যদি কাউকে প্রশিক্ষণ দিতে চান, তাহলে আমাদের দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক তরুণদের প্রশিক্ষণ দিন। বিদেশিরা এসে আমাদের কর্মসংস্থানে হস্তক্ষেপ না করে, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করুন।’

    এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা ২০০৪ সাল থেকে বার্ষিক ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ ছিল। এত দিন বিভিন্ন প্রশাসনিক ফি মিলিয়ে প্রতি ভিসার জন্য প্রায় ১,৫০০ ডলার চার্জ নেওয়া হতো। মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে এই ভিসার আবেদন প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজারে নেমে এসেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এবারই প্রথম এই সংখ্যাটা এত কমে দাঁড়িয়েছে। সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী ছিল অ্যামাজন, টাটা, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল এবং গুগলের মতো কোম্পানিগুলো।

    ওয়াটসন ইমিগ্রেশন ল’র প্রতিষ্ঠাতা আইনজীবী তাহমিনা ওয়াটসন বিবিসিকে বলেন, ‘নতুন এই ফি অনেকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোর জন্য কর্মী পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে।’

    অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের এই বৈপরীত্যের কারণে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অনেকের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমর্থকরা এই ফি বাড়ানোকে দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন, তবে প্রতিদ্বন্দ্বীরা একে কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন।

    ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় বাড়তি নজরদারি ও কঠোরতা আনেন, যা ২০১৮ সালে আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার ২৪ শতাংশে পৌঁছে দেয়। এটি পূর্ববর্তী ওবামার সময়ের ৫ থেকে ৮ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি, আর জো বাইডেনের সময় তা ২ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে স্থিত রয়েছে।

    নতুন বিধিনিষেধের ফলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এই দেশগুলো থেকে সর্বাধিক সংখ্যক এই ধরনের ভিসার আবেদন আসে। এ সব পদক্ষেপ দেশটির অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসছে, যা ভবিষ্যতে বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা এবং প্রক্রিয়া প্রভাবিত করবে।

  • পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের মন্তব্য

    পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের মন্তব্য

    পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। এই চুক্তির ভিত্তিতে বলা হয়েছে, যদি কোনো এক দেশের ওপর আঘাত করা হয়, তাহলে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিষয়টি বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

    ভারত এই চুক্তির প্রসঙ্গে সতর্কতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এই স্বাক্ষরিত চুক্তি দেশের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খবর দেখেছি। এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া থাকা সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমাদের সে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারব।”

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চুক্তি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়, কেউ যদি একজনের ওপর আঘাত চালায়, তাহলে সেটি দুজনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মতো গণ্য হবে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সৌদি সফরের সময়, যেখানে তিনি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। রিয়াদে এই চুক্তি হওয়ার পর তা নিয়ে বাক্যবিনিময় শুরু হয়।

    প্রায় আট দশক ধরে চলা ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে এই চুক্তি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সৌদি আরব। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং কোনও সংঘর্ষ হলে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। মূলত এই চুক্তি এমন সময়ে স্বাক্ষরিত হলো যখন চলতি বছরের এপ্রিলে কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা ও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের কারণে দু দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে।

    অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রিয়াদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে। এই সময়ে ভারত সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। মোদির তিনবার সৌদি আরব সফর করার পাশাপাশি, ২০১৬ সালে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘কিং আবদুল আজিজ স্যাশ’ পেয়ে থাকেন। ভারত ও সৌদি আরবের এই সম্পর্ক আরও গভীর ও দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে পড়েছে।