Category: আন্তর্জাতিক

  • ট্রাম্প বললেন, ভারতসহ ২৩ দেশকে ‘প্রধান মাদক পাচারকারী’

    ট্রাম্প বললেন, ভারতসহ ২৩ দেশকে ‘প্রধান মাদক পাচারকারী’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান, ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ বিশ্বের মোট ২৩টি দেশকে বড় ধরনের মাদক উৎপাদক ও পাচারকারী দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এই দেশগুলো অবৈধ মাদক এবং এর কাঁচামাল তৈরি ও পাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এই ঘোষণা তিনি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেন, যেখানে তিনি তালিকা প্রকাশ করেছেন।

    তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশের মধ্যে রয়েছে: আফগানিস্তান, বাহামা, বেলিজ, বলিভিয়া, মিয়ানমার, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হাইতি, হন্ডুরাস, ভারত, জ্যামাইকা, লাওস, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, পাকিস্তান, পানামা, পেরু ও ভেনেজুয়েলা।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প এই তালিকায় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক সরবরাহ ও পাচারে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই দেশের মধ্যে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা মাদকবিরোধী কার্যক্রমে “গুরুতর ব্যর্থতা” দেখিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য, এই দেশগুলোর উপর চাপ বাড়িয়ে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।

    পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই দেশগুলির মাধ্যমে অবৈধ মাদক ও এর কাঁচামাল উৎপাদন ও পাচার মার্কিন জনগণের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। তবে, তালিকায় থাকার অর্থ এটা নয় যে, ওই দেশের সরকার বা প্রতিষ্ঠানগুলো মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করছে না। এটি মূলত ভৌগোলিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে, যেখানে কখনো কখনো শক্তিশালী আইন প্রয়োগের পরেও মাদক উৎপাদন ও পাচার কমানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

    ট্রাম্প আরও জানান, গত ১২ মাসে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী চুক্তির শর্ত মানতে বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যাপক ব্যর্থতা দেখিয়েছে।

    চীন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁচামাল সরবরাহকারী’, যা অবৈধ ফেন্টানিলের উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি, নাইটাজিনস ও মেথঅ্যামফেটামিনসহ অন্যান্য কৃত্রিম মাদকও দেশ থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বেইজিংকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকের ক্রমবর্ধমান প্রবাহ রোধে আরও কঠোর আইন এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    এছাড়াও, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ অবৈধ মাদক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তালেবানরা অনেক অংশে এই ব্যবসা থেকে লাভবান হচ্ছে; এর ফলশ্রুতিতে দেশটির মাদক উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে, মেথঅ্যামফেটামিনের উৎপাদন বেড়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সবশেষে, ট্রাম্পের মতে, ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী মাদক আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখনো জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি। এই ড্রাগের কারণে বর্তমানে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আমেরিকাদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলছেন, এই মাদক সংকটের কারণে দেশের স্বাস্ত্য ব্যবস্থা ও সমাজে গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারালেন

    যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারালেন

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইয়র্ক কাউন্টিতে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা জীবন হারিয়েছেন। পাশাপাশি আরও দুজনের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলাকারেরাও ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ সংবাদটি কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা আল–জাজিরার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    পেনসিলভানিয়া পুলিশের মতে, নিহত ও আহত কর্মকর্তারা মূলত একজন পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত ঘটনার তদন্তে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন। ওই সময় বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। আহত দুই পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকলেও শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

    বুধবার স্থানীয় এক হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পেনসিলভানিয়ায় স্টেট পুলিশের কমিশনার ক্রিস্টোফার প্যারিস। তিনি বলেন, ‘শুটার মারা গেছে।’ কিন্তু কীভাবে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে, সে ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশ সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে এই ঘটনার তদন্তের জন্য।’

    গভর্নর জোশ শাপিরো উপস্থিৎ হন ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য। তিনি নর্থ কোডোরাস টাউনশিপে নিহত ও আহত কর্মকর্তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটি ইয়র্ক কাউন্টি ও পেনসিলভানিয়ার জন্য একেবারেই দুঃখজনক ও বিধ্বংসী দিন।’

    এই হামলার আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি একই এলাকায় ঘটেছিল অন্য এক সহিংস ঘটনা, যেখানে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ওই সময় এক বন্দুকধারী কিছুজনকে জিম্মি করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ওই কর্মকর্তা মারা যান, এবং বন্দুকধারীও নিহত হন।

    পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সানডে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা ‘অকল্পনীয়’। ঘটনার সময় একটি স্থানীয় স্কুলে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদে থাকতে ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ নির্দেশ জারি করা হয়, যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তুলে নেওয়া হয়। কাউন্টির কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘন্টায় পরিস্থিতির জন্য বিভিন্ন সড়ক বন্ধ থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি এই হামলার নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেছেন, পুলিশে সহিংসতা ‘আমাদের সমাজের জন্য এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ’। গভর্নর শাপিরো জানান, বন্ডি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ফেডারেল সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।

  • ফ্রান্সে পেশাজীবী সংগঠনের ধর্মঘট, সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে

    ফ্রান্সে পেশাজীবী সংগঠনের ধর্মঘট, সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। এই কর্মসূচিতে শুক্রবার অংশ নিয়েছেন শিক্ষক, ট্রেন চালক, ফার্মাসিস্ট এবং হাসপাতালের কর্মীরা। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছে। মূল কারণ হলো আসন্ন বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনা ও জনসেবা খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

    সংবাদে প্রকাশ, বর্তমান সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা বাতিল করতে ও জনসেবার খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য শ্রমিক, শিক্ষক ও অন্যান্য পেশাজীবীরা আরও কার্যক্রমে নামছে। এর ফলে প্যারিসসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, বৃহস্পতিবার শহরটির মেট্রো সিস্টেমের বেশির ভাগ লাইন বন্ধ থাকায় ভ্রমণকারীরা দুর্ভোগের স্বীকার হন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই ধর্মঘটে অংশ নেয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

    সিজিটি ইউনিয়নের বাস চালক ফ্রেড বলেন, বর্তমান সরকারের শ্রমিকবিরোধী মনোভাব ও অপরাধমূলক নীতির কারণে শ্রমিকদের ক্ষোভ বাড়ছে। অন্যদিকে, শিক্ষক গেয়েতঁ লেগে জানান, আমি জনসেবা রক্ষা করতে এখানে এসেছি এবং দাবি করি, দেশের অর্থনীতি যেন বড় ব্যবসায় বা ধনী ব্যক্তিদের কর ছাড়ের বদলে সাধারণ জনগণের উন্নয়নে ফিরে আসে।

    প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন ও তার নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকর্নু বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনা নিয়ে সংসদে বোঝাপড়া করতে গিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছেন। ইউরোজোনের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির এই দেশটিতে ঘাটতির কারণে বিনিয়োগকারীরাও উদ্বিগ্ন। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীদের সূত্র জানায়, এই ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অন্তত আট লাখ মানুষ অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে, তারা পূর্ববর্তী সরকারের অবিবেচক আর্থিক নীতির নিন্দা জানাচ্ছে এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষুব্ধ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

    পূর্ববর্তী অর্থ বছরের বাজেট ঘাটতি, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ডের দ্বিগুণেরও বেশি ছিল, তা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সরকার এই ঘাটতি কমাতে অপ্রতুল। নতুন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বাজেটের বিরোধিতায় পিছিয়ে পড়েছেন; তবে তিনি আপোসের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

    অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ব্রুনো রিটেইলিয়ো জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তে রায়টের আশঙ্কা থাকায় তারা কঠোর মনোভাব নিয়ে প্রস্তুত। ড্রোন, সাঁজোয়া যানসহ রেসপন্স টিমদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে ২০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা ফ্রান্সের জনস্বার্থের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদ যা দেশের অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন এবং পেশাজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।

  • গাজায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ৪৩৫ জনের মৃত্যু

    গাজায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ৪৩৫ জনের মৃত্যু

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাদ্য সংকটের কারণে অনাহারে ভুগে এখন পর্যন্ত ৪৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে জানিয়েছে, তাতে আরও চারজনের মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হয়েছে, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৩৫ জনে। প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় অবরোধ আরোপ করে রেখেছে এবং সেখানে অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার পান করতে পারছে না, যার কারণে খাবারে অভাবে মৃত্যুর হার বেড়ে চলছে। এ পরিস্থিতিতে গাজার বিশিষ্ট শহর গাজা সিটিতে এখন কঠোর স্থল হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়া, হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে কিছুদিন আগে কাতারের দোহার উপর বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলার পর থেকে যুদ্ধবিরতিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, এবং গাজা সিটিতে বড় ধরনের স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ, দুই সপ্তাহ আগে হামাসের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শহরটি থেকে বহু মানুষ চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই লাখের বেশি মানুষের মধ্যে প্রায় চার লাখ মানুষ অন্যত্র গেছেন। গাজা উপত্যকায় সংঘটিত এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের আঘাতে ৬৫,০০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং দেড় লাখের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়ায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। গাজায় চলমান এই সহিংসতা ও মানবিক সংকট চরম্বে পৌঁছেছে, যা এক দিকে মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। সূত্র: মিডেল ইস্ট আই।

  • ঘর-বাড়ি থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের চেষ্টা করছে ইসরায়েল

    ঘর-বাড়ি থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের চেষ্টা করছে ইসরায়েল

    গাজা উপত্যকা এখন পুরোপুরি ধ্বংসের স্তূপে পরিণত হয়েছে, চারদিকে বোমা বর্ষণের ফলে বাড়ি-ঘর, দামাল লাশ এবং রক্তে ভিজে রয়েছে পথের প্রকৃতি। এই পরিস্থিতিতে গাজা সিটির বাসিন্দারা জীবন বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ছুটছেন, চেষ্টা করছেন কোথায় যেন নিরাপদ আশ্রয় পেতে।

    বহুকালের ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী গেটওয়ে খুলে দিয়েছে গাজার মানুষরা যেন পালাতে পারেন। তবে, এ সুযোগ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার জন্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, বিবিসি, এপি, সিএনএন ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সালাহউদ্দিন সড়ক দিয়ে দক্ষিণের দিকে যাবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে এই পথ দিয়ে যেতে হবে, কিন্তু কোথায় যাবে তার কোনও চূড়ান্ত নির্দেশনা বা গন্তব্য এখনো নিশ্চিত নয়। অজানা ভবিষ্যতের দিকে ছুটে চলা মানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, যেন এটি মুক্তির পথ নয়, বরং এক অনিশ্চিত জীবনযুদ্ধ।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচাই আদ্রি জানিয়েছেন, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টা কল্যাণে সালাহউদ্দিন সড়ক ব্যবহার করে গাজা সিটির বাসিন্দারা দক্ষিণে যেতে পারবেন। তবে, এই রুটটি সরাসরি অন্য দিকে যাচ্ছে না; এটি একটি নেটজেরিম করিডর দিয়ে গাজাকে বিভক্ত করে রেখেছে, যা ২০২৪ সালে ইসরায়েল নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এই পথটি মূল রাস্তার তুলনায় প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। আদ্রি আরও জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রীয় সালাহউদ্দিন সড়কের ভেতর দিয়ে অন্য একটি বিকল্প পথও খোলা হবে।

    গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকার ৩২ বছর বয়সি মা লিনা আল-মাঘরেবী বিবিসিকে বলেছেন, তাঁতের খরচ জোগানোর জন্য গহনা বিক্রি করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কূটকৌশলটি আসলে গাজাবাসীদের মুক্তির পথ নয়, বরং অবরুদ্ধ জনগোষ্ঠীকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা। কারণ, পথে গেলেও তাদের জীবনের নিশ্চয়তা আপাতত নেই।

    অবশ্য, এই ঘোষণা আসার আগেই শহরটিতে ইসরায়েলির হামলা আরও বাড়ছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় ব্যাপক স্থল অভিযান। গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমের শেখ রাদওয়ান এলাকায় বোমা ভর্তি রোবট দিয়ে আঘাত হেনেছে ইসরায়েলি সেনারা। শহরজুড়ে তীব্র হামলা অব্যাহত থাকায় অসংখ্য বাসিন্দা ঘর থেকে বের হয়ে আসছে।

    গাজা সিটির আল-রানতিসি শিশুহাসপাতালেও চলেছে ইসরায়েলি বর্বরতা। হাসপাতালে হামলার নিন্দা জানিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এ ধরনের ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছে; তবে এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ৪০ জন রোগী হাসপাতালে থেকে পালিয়ে এসেছে।

    এছাড়াও, দেইর আল-বালাহতে গুলিবর্ষণ ও আর্মড হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই গাজা সিটির বাসিন্দা।

    গাজায় চলমান এ মার্কিন-প্রচণ্ড স্থলহামলায় দুই ডিভিশনের প্রায় ২০ হাজার সেনা অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে শহরের সুযোগ-সুবিধা যেমন দ্রুত বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুরো শহরটি বিশ্ব থেকে আলাদা হয়ে গেছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় কমিশন, যা ইসরায়েলের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। মূলত, ২০২৪ সালে ইসরায়েল ও ইউরোপের মধ্যে মোট বাণিজ্যের ৩৭ শতাংশই এই সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তির আওতায়।

    ইউরোপীয় বৈদেশিক নীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেছেন, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তবে, এটি কার্যকর করতে হলে ইউরোপের সব সদস্য দেশের সম্মতিপ্রাপ্ত সমর্থন দরকার, যা সহজ নয়।

    এদিকে, গাজার অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সহায়তা জোরদার করতে আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সাহায্য সংস্থার নেতারা। তারা বলছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে এখানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩২১ জন। এই ভয়াবহ সংকটে গাজা পুনরুদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।

  • গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান, ইসরায়েল নতুন করে একা হয়ে পড়ছে

    গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান, ইসরায়েল নতুন করে একা হয়ে পড়ছে

    গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযানে নিযুক্ত হয়ে আরও একা হতে চলছে ইসরায়েলি সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গাজা শহরে শুরু হয় ইসরায়েলি সেনাদের বিতর্কিত স্থল অভিযান। পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, এই মুহূর্তটি ইসরায়েলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিমান হামলা এবং কামানবর্ষণের মাধ্যমে নির্বিচার হামলার পাশাপাশি, ইসরায়েলি সেনারা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। দুই ডিভিশন শহরটির কাছে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, আর রিজার্ভ টিমের დამატি ডিভিশন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেনারা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন, এবং তিন দিক থেকে গাজা শহরকে ঘিরে রেখেছেন। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য পশ্চিমে উপকূলীয় সড়কটি খোলা রাখা হয়েছে যাতে তারা দ্রুত দক্ষিণের দিকে পালাতে পারেন। তবে অনেক বাসিন্দা এখান থেকে যাচ্ছেন না। আনুমানিক দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ শহর ছেড়ে গেলেও, এখনও প্রায় ছয় লাখ মানুষ অপারগভাবে অবস্থান করছেন। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং স্বজন হারিয়েছে। পরিবহন এবং তাঁবুর দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হওয়ায় নিরাপদে দক্ষিণে পালানো অনেকের জন্য এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে, ক্রমাগত বোমাবর্ষণে সত্ত্বেও অনেক মানুষ গাজা শহরেই থাকছেন। এই পরিস্থিতি মনে হয় প্রথম বড় আক্রমণের পুনরাবৃত্তি, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইতিমধ্যে দুই বছরে অন্তত ৬৪ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে, যার বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। বাড়ি বাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি বহু এলাকায় মানুষ অনাহারে ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে নতুন করে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বেড়ে উঠছে। ২২ মাস আগে গাজায় প্রথম হামলার সময় জনসমর্থন ছিল বেশ সমর্থনযোগ্য। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ ইসরায়েলিরা বেশীরভাগই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে না পেরে, বরং যুদ্ধবিরতির পক্ষে। সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইইয়াল জামিরও মনে করেন, হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয় এবং দীর্ঘমেয়াদী এই লড়াইয়ে জিম্মিদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি সুপারিশ করেন, যুদ্ধবিরতি রাখা উচিত, যাতে জিম্মিদের মুক্তি সহজ হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গাজায় অভিযান চলাকালে কিছু জিম্মিকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নেতানিয়াহুর বাসভবনের সামনে জেরুজালেমে জিম্মিদের স্বজনরা বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ করেছেন, তাঁদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ সন্তানদের প্রাণের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়, তবে এইবার বাস্তবতা ভিন্ন। নেতানিয়াহু সব ভেবে ফেলেছেন, কারণ তার টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত দক্ষিণপন্থি মিত্রদের সমর্থন প্রয়োজন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ, যেমন ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য, দ্রুত ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার হুমকি দিয়েছে। আমেরিকা এখনো ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সব বন্ধ করে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। তবে কূটনীতিক মহলের ধারণা, এই অভিযান শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি হামাসের ক্ষমতাহানিই দুর্বল করতে পারেনা, তাহলে ওয়াশিংটন চাপ দিয়ে যুদ্ধবিরতি আনায়ত্ত করতে চাইবে। এই নতুন আক্রমণ গাজায় ইসরায়েলের জন্য বিজয় নয়, বরং আরও রক্তক্ষয়, ফিলিস্তিনের অসহনীয় দুর্ভোগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাকিত্ব বাড়াবে।

  • পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া

    পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব দুটি দেশ সম্প্রতি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশের ওপর আঘাত হানা হয়, তাহলে সেটি উভয় দেশের জন্য আগ্রাসন হিসেবে গণনা করা হবে। এই বিবৃতি দুদেশের মধ্যে সুদীর্ঘকাল ধরে চলে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের নতুন চেহারা দেখিয়েছে। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো একে অপরের প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদার করা এবং কোন ধরনের হামলার বিরুদ্ধে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। খবরটি জানিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের সক্রিয় নজরদারি ও গভীর চিন্তাচরণ চলছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা দেখেছি যে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এই কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি একটি দীর্ঘদিনের অপ্রকাশিত সমঝোতার আনুষ্ঠানিক রূপ। আমরা এই চুক্তির প্রভাব খতিয়ে দেখছি, সেটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিশ্লেষণ করছি। আমাদের দায়িত্ব, যেন দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে ও সর্বস্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।” এর আগে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বাড়ি আল-ইয়ামামায় পাকিস্তান ও সৌদি আরবের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তি ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে, যেখানে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি, একে অপরের বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণের মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্য আছে। খবরটি প্রকাশের সময়ে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন। বিশেষত, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যখন কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা এবং এর পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত-সৌদি সম্পর্ক বেশ দৃঢ় হয়ে উঠছে। মোদির তিনবারের সৌদি সফর এবং ২০১৬ সালে তাঁকে দেওয়া ‘কিং আবদুল আজিজ স্যাশ’ সম্মাননা এই সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে। বর্তমানে, সৌদি আরব ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। এই সম্পর্কের উন্নতি ও গভীরতা উভয়ের মধ্যে গভীর সমঝোতা ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

  • ভারতীয় বিশ্লেষকদের মত, জনগণ ভোট যাকে দেবে, তাকেই মানতে হবে

    ভারতীয় বিশ্লেষকদের মত, জনগণ ভোট যাকে দেবে, তাকেই মানতে হবে

    আপ্রত্যাশিত দলবদল বা পালাবদলের কারণে অনেকক্ষেত্রে দিল্লির মনোভাব যেমন পরিবর্তিত হয়েছে, এখন ভারতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের জনগণ যেই প্রার্থী বা দলকে তাদের ভোট দেবে, তার সঙ্গে মানানসই হতে হবে। বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচনের পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা ধৈর্য্যধার্য করে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন, এখনই কোনো ধরনের প্ররোচনায় অতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া শুরুকরার পরিবর্তে অপেক্ষা করাই উত্তম। ভারতের সাবেক শীর্ষজন্য আমলা ও প্রসার ভারতী বোর্ডের প্রাক্তন সিইও জহর সরকার বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের বুঝতে হবে এবং এ ব্যাপারে মানতেই হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমাদের উচিত অপেক্ষা করে দেখা, কোনও তৎপরতা বা হস্তক্ষেপ এড়ানো।

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ভারতের দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশ্লেষকদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মতামত। তবে বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এ অনুষ্ঠানে বিস্তারিতভাবে কখন ও কীভাবে আলোচনা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

    জহর সরকার বিশ্বাস আরও বলেন, যদি বাংলাদেশে নতুন সরকার ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে থাকে, তবে তা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার একটি কেয়ারটেকার সরকার, যাদের জন্য অকারণে গুলি চালানো বা অতিরিক্ত আঘাতের প্রয়োজন নেই। নির্বাচন সম্পন্ন হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতা গ্রহণ করবে।

    অপরদিকে, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ভারতের সাবেক হাইকমিশনার, বলছেন, যদি বাংলাদেশে ভুল করে কোনো সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে তার নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য এর পরিণতি কি হতে পারে, তা ভেবে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই আমাদের স্বার্থের জন্য প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাব, তবে সবার সঙ্গে সহযোগিতা করার স্পিরিটও বজায় রাখব। তবে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে আমাদের সীমান্ত সংলগ্ন দেশগুলো তারা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও, তখনও আমাদের স্বার্থের প্রশ্ন আসে।

    আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া অন্য একজন বিশেষজ্ঞ বলা হয়েছেন, ওপি জিন্দাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত। তিনি বলছেন, সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি দেখেছেন আয়ত্তের বাইরে যাচ্ছে জামায়াতের শক্তি। তিনি ধারণা করছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ নাও করতে পারে, আর ভারতেরও সেই বাস্তবতা বুঝতে হবে।

    শ্রীরাধা দত্তের বিশ্লেষণে উঠে আসে, গত তিনটি নির্বাচন বিতর্ক বা বিএনপি প্রত্যাখ্যানের মধ্যে পরিচালিত হওয়ার কারণে ভারতের দৃষ্টিতে তারা নাদুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এ পরিস্থিতি স্বীকার করে নিতে হবে, ভালো বা মন্দ, সেটি ওরা নিজেরাই ঠিক করবে। এর ফলে, বিভিন্ন দল ও নেতাদের মালিকানা ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য রাজনীতিতে নমনীয়তা দেখাতে হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি এবং জামায়াতে ইসলামী নতুন করে শক্তিশালী হওয়ার লক্ষণ দৃশ্যমান। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের অপরাধের জন্য নতুন রূপে প্রকাশিত হচ্ছে। হালনাগাদ ঢাকা সফরে, জামায়াতের নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর, শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি সরকার গড়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক দল পাওয়া যায়, তাহলে কি তারা শরিয়া আইন চালু করতে চান। তিনি উল্লেখ করেছেন, তারা কখনোই এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলেনি যে তারা সরকার এলে শরিয়া আইন আনতে চায়।

    শ্রীরাধা দত্তের মতে, জামায়াতের আসলে রয়েছে এক ‘চার্ম অফেনসিভ’, যা দেখানো হয় অপ্রতিরোধ্য ও মারমুখী শক্তি হিসেবে, কিন্তু বাস্তবে তাদের কার্যকলাপ ভিন্ন। ভারতেও এটা স্পষ্ট, জামায়াতের মূল পরিচয় মুসলিম ব্রাদারহুডের অংশ, যেখানে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও হর্ষবর্ধন শ্রিংলার মত বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াত কখনোই বাস্তবে পাল্টাবে না।

  • পাকিস্তান-সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: আক্রান্ত হলে একসঙ্গে রক্ষা করবে দু’দেশ

    পাকিস্তান-সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: আক্রান্ত হলে একসঙ্গে রক্ষা করবে দু’দেশ

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব গতকাল বুধবার একটি ঐতিহাসিক কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশকে আগ্রাসনের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আখ্যায়িত করে দেখা হবে। অর্থাৎ, এক দেশের ওপর আঘাত এলে উভয় দেশের স্বার্থে মনোভাব প্রকাশ করে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে। এই বিষয়টি জানা গেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সৌদি আরব সফরের সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এদিন তাঁকে আল-ইয়ামামা প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান স্বাগত জানান। চুক্তি স্বাক্ষরের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রায় আট দশকের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এবং ইসলামি সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের স্বার্থে দুই দেশ এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তিতে অবদান রাখবে। এর মূল লক্ষ্য হলো, কোনও এক দেশের ওপর আঘাত মানে দুই দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে বিবেচনা হবে এবং দু’দেশই একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন একটি অগ্রগতি, কারণ আগে পাকিস্তান ও সৌদি আরব বিভিন্ন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হলেও, এবার সম্পূর্ণ নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে — যেখানে এক দেশের ওপর আঘাত হলে তা উভয়ের উপরই আঘাত হিসেবে গণ্য হবে।

    এই কর্যক্রম শুধুমাত্র পাকিস্তান-সৌদি সম্পর্ককেই দৃঢ় করছে না, বরং পুরো মুসলিম বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক অস্থিরতা, ইসরায়েলের হামলা, দোহা সম্মেলন এবং মুসলিম বিশ্বে স্বৌরভ ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই চুক্তির গুরুত্ব অনেক। এটি প্রমাণ করে, সৌদি আরব এখন পাকিস্তানকে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে দেখে।

    শাহবাজ শরিফ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সৌদি যুবরাজকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি দু’পবিত্র মসজিদির স্বর্গদ্বার ও বাদশাহ সালমানের সুস্বাস্থ্য এবং সৌদি জনগণের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন। সৌদি বাদশাহও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের জন্য সুখ, স্বস্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

    বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এবং অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব উপস্থিত ছিলেন।

  • গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা: জাতিসংঘের তদন্তের দাবি

    গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা: জাতিসংঘের তদন্তের দাবি

    ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৩ সালে হামাসের সাথে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনের মতে গুরুতর পাঁচ ধরনের গণহত্যার মধ্যে চারটি কার্যকর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা, গোষ্ঠীটির ধ্বংসের জন্য পরিকল্পিত পরিস্থিতি তৈরি করা এবং জন্ম রোধের জন্য অপপ্রয়াস।

    জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি নেতাদের বিবৃতি এবং সেনাদের আচরণ গণহত্যার মনোভাব বোঝাতে সক্ষম। স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, গাজায় গণহত্যা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং এর দায় পুরোপুরি ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর চাপানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত দুই বছরে এই পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিরা ধ্বংস করা।

    অভিযোগের বিপরীতে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এটিকে বিকৃত ও মিথ্যা বলার অভিযোগ এনে, কমিশনকে বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে। তবে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এই তদন্ত সংস্থা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং জাতিসংঘের অধীনস্থ। তারা গাজা সীমান্তে ইসরাইলের হামলার সময়কার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রণয়নে কাজ করেছে।

    এদিকে, এই রিপোর্টের প্রকাশের সময়ের সাথে মিলিয়ে গাজায় নতুন করে স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, দুইটি ডিভিশনের হাজারো সেনা অংশ নিয়েছে এই অভিযানে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইসরাইল গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চল বিধ্বস্ত ও জ্বলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় ভবিষ্যতেও এই সংঘর্ষের ভয়াবহতা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মহল।