Category: আন্তর্জাতিক

  • প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট সারকোজিকে পাঁচ বছরের জেল

    প্রাক্তন ফরাসি প্রেসিডেন্ট সারকোজিকে পাঁচ বছরের জেল

    অন্যদিকে, পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের জন্য নির্দেশনা বলা হয়েছে, কেন্দ্রে অন্যান্য ব্যক্তির বা পরীক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনতে পারবে না।

  • স্লোভেনিয়া নেতানিয়াহুর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলো

    স্লোভেনিয়া নেতানিয়াহুর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলো

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়া। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং দুইজন অতি-ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রীকে নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (আগস্ট ৩১) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

    স্লোভেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সেক্রেটারি অফ স্টেট নেভা গ্রাসিক বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্লোভেনিয়া আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকারের সার্বজনীন মূল্যবোধ এবং তার একটি নীতিগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

    এর আগে গত আগস্টে ইসরায়েলের উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্লোভেনিয়া, যার মধ্যে ইসরায়েলি-অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

    নেভা গ্রাসিক আরও জানান, নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত। যে কারণে তাকে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্লোভেনিয়া তার ন্যায়বিচারের প্রতি কঠোর অঙ্গীকার প্রকাশ করছে।

  • লাদাখে বিক্ষোভ-সহিংসতা: কারফিউ জারি, কারগিলে সম্পূর্ণ বন্দোবস্ত

    লাদাখে বিক্ষোভ-সহিংসতা: কারফিউ জারি, কারগিলে সম্পূর্ণ বন্দোবস্ত

    ভারতের হিমালয় অঞ্চল লাদাখে রাজ্য মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়ায় লেহ শহরে কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে। বুধবারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অন্তত চারজন নিহত ও বেশ কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। বিক্ষোভকারীরা বিজেপির স্থানীয় কার্যালয়ে আগুন ধরানোর পাশাপাশি পুলিশের একটি গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি ব্যাপক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয়। বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাগুলোর জন্য আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুককে দায়ী করছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, তিনি আরব বসন্ত ও নেপালের জেন-জি আন্দোলনের উদাহরণ উল্লেখ করে মানুষকে উসকানী দিয়েছেন। তবে, ওয়াংচুক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো ফলপ্রসূ আলোচনার উদ্যোগ না থাকলে আন্দোলন অর্থহীন। এই বিক্ষোভ ও আন্দোলনের সময় এসে পৌঁছেছে যখন আগামী মাসে লাদাখের অটোনমাস হিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে; ২০২০ সালে বিজেপি এই নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে লাদাখকে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আলাদা করে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই বৌদ্ধপ্রধান লেহ ও মুসলিমপ্রধান কারগিলসহ বিভিন্ন অংশের মানুষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিশেষ মর্যাদার অপসারণের ফলে তাদের জমি, সংস্কৃতি ও সম্পদ সাধারণের নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে, অপরদিকে বাইরের অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। লাদাখের জেলা প্রশাসক কবিন্দর গুপ্তা জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে এবং আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিশেষ কমিটি লাদাখের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে ৬ অক্টোবর। অন্যদিকে, কারগিলে ঐতিহাসিক ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ বা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় সংগঠনগুলি, যাতে এই অঞ্চল অচলায়তনে পরিণত হয়। বুধবার লেহে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ায় কার্গিল জেলাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লেহের জনগণের সংহতি প্রকাশ করে কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ) এই ডাকা দেয়, যার মাধ্যমে সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় এবং রাস্তায় মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ব্যবস্থা হিসেবে প্রশাসন কার্গিলে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৫০ এর বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ, আইটিবিপি ও সিআরপিএফ-এর দল মোতায়েন করা হয়েছে। কেডিএ ও লেহ অ্যাপেক্স বডির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাজ্যের মর্যাদা নিশ্চিত করা, লাদাখের ষষ্ঠ তফসিল ঘোষণা এবং স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, বিজেপি সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেওয়ায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেডিএ’র সহ-সভাপতি আসগর আলী কারবালাই সরকারের কঠোরতা কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘বিচারহীনতা ও সহিংসতা বন্ধ করা দরকার’ এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ড. ফারুক আবদুল্লাহ কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, তিনি বিজেপির উপর আঙুল তোলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার জন্য এই ঘটনার জন্য দায়ভার গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রথমে অহিংস আন্দোলন দেখিয়ে লাদাখের মানুষ জানিয়েছেন তারা শান্তিপূর্ণ পথে চলেছেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতায় এই আন্দোলন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। লাদাখ স্বায়ত্তশাসিত পাহাড় উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. মোহাম্মদ জাফর আখুন লেহের এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন ও জনগণের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন। তিনি সকল ধরনের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়।

  • ভারতও কি ‘জেন জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দেখালো?

    ভারতও কি ‘জেন জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে বিক্ষোভ দেখালো?

    চীনা সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য গত নয় সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় অনশন। তাদের মধ্যে ছিল লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং চাকরিতে সংরক্ষণ চালু করার দাবী, পাশাপাশি লেহ ও কার্গিলের জন্য একটি লোকসভা আসনেরও প্রয়োজনীয়তা। এই দাবিগুলোর সত্যতা নিয়ে বেশ কয়েকটি দল এবং অধিকারকর্মী আন্দোলন চালাচ্ছেন।

    তবে, গত মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি তখনই দ্রুত বিপরীত মোরঠে যায় গুরুতর আহত হন অনশনকারী দুই ব্যক্তি, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর শুক্রবার লেহ শহর তীব্র আন্দোলনের এক ঢেউয়ে পরিণত হয়। বিশাল সংখ্যক জনতা পথ চলা শুরু করে, নানা স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে মিছিল করে। ডিজে-সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, পুলিশের অফিস ও গাড়িতে পাথর ছোড়া ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয় এবং জনতার মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

    ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অনশনরত আন্দোলনকারীদের একজন ওয়াচুংক উসকানিমূলক বক্তৃতা দেয়ার পর জনতা উত্তেজিত হয় এবং সরকারি অফিসে হামলা চালায়। এছাড়াও, পুলিশের গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এতে ৩০ জনের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থলে গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশ, যার ফলে কিছুজনের মৃত্যু ঘটে।

    অভ্যুত্থানের নেত্রী সোনম ওয়াংচুক সবশেষে বলেন, আমি চাই সব যুবক যেন এই সহিংসতা দ্রুত বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ পথে ফিরে আসে। তিনি আরও বলেন, এই দিনটি লাদাখের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক কারণ গত পাঁচ বছর ধরে এখানকার মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন, বহু বার অনশন ও হাঁটূ মৃত্যুর মতো পথ অবলম্বন করেছেন।

    সোনম আরও বলেন, “আজ শান্তির সারিবদ্ধতা কোথাও থাকছে না, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা রাতারাতি বেড়ে গেছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, সহিংসতা বন্ধ করে অবিলম্বে আলোচনা পথে ফিরে আসতে। আমরা অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাব। যখন শান্তি উপেক্ষিত হয়, তখনই এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”

    ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লেহ ও কার্গিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি বৈঠক আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও, গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এই আলোচনায় সংরক্ষণ ও অন্যান্য দাবি দাওয়া সমাধানের জন্য বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যেমন মেয়েদের জন্য এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ, সরকারি ভাষার স্বীকৃতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তবে, কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রবৃত্তি ও গোষ্ঠী এই আলোচনাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা।

    এখন প্রশ্ন উঠছে, লাদাখের এই আন্দোলন কি ‘জেন জি’ বা প্রজন্মের চলমান ক্ষোভের অংশ? শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপালসহ অন্য দেশেও কি ‘জেন জি’র এই তরুণ প্রজন্ম তাদের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ করছে?

    ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলার সময় সাংবাদিক স্যমন্তক ঘোষ বলেন, “অভিযানের মধ্যে দিয়ে এটাকে মূলত জেন জি আন্দোলন বলাই যায়। অনশনরত দুই তরুণের শরীর খারাপ হওয়ার পরে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এর ফলে বেশ কিছু তরুণ রাস্তায় নামেন। বিকেল চারটার পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়, যদিও কারফিউ বহাল রয়েছে। এরপরই সিআরপিএফের গুলিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। তবে, মোটামুটি স্পষ্ট যে, পুরো বিষয়টি জেন জি আন্দোলনের অংশ।”

    ভারতের জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, এই আন্দোলন মূলত যুবকদেরণ। তবে বিজেপির কিছু নেতা দাবি করছেন, এই সহিংসতার পেছনে আছে কংগ্রেসের মদত, যারা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্ঠা করছে।

    অন্যদিকে, বড় শহর ও লাদাখে সংঘটিত এই সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে। ভারতে লেফটেন্যান্ট গভর্নর জানিয়েছেন, এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। রাতের মধ্যে ৫০জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেরও কংগ্রেসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে, এনডিটিভি।

  • সুপার টাইফুন রাগাসার আঘাতে তাইওয়ানে নিহত ১৪, নিখোঁজ ১২৪

    সুপার টাইফুন রাগাসার আঘাতে তাইওয়ানে নিহত ১৪, নিখোঁজ ১২৪

    দক্ষিণ চীন সাগরে উদ্ভূত ভয়ঙ্কর সুপার টাইফুন রাগাসার প্রভাবে তাইওয়ানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন, এবং বর্তমানে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ১২৪ জন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় হুয়ালিয়েন জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা লি কুয়ান-তিন। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে এই ঝড় হুয়ালিয়েনে ব্যাপক আঘাত হেনেছে, যা জেলাটির বেশ কিছু অংশে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।

    লি কুয়ান-তিন এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীদের সর্বশেষ তথ্য মতে, এই ঝড়ে এখন পর্যন্ত হুয়ালিয়েনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা আপডেট হয়ে আরো বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা এখন ১২৪ জন।’

    ফায়ার সার্ভিসের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রবল বর্ষণের কারণে হুয়ালিয়েনের একটি বড় হ্রদের সীমানা ভেঙে পড়েছে, যার ফলশ্রুতিতে পুরো শহর পানিতে ভাসছে। শহরের অনেক স্থান দোতলা উচ্চতার পানিতে ডুবে গেছে। এই পরিস্থিতির বিপরীতে উদ্ধারকারীরা দ্রুত কাজ চালাচ্ছেন।

    এক রোববারের প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঝড়ের কারণে তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগরের তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ঝড়ো হওয়া এবং ভারী বর্ষণ হয়েছে। হংকংয়ে সোমবার থেকে পূর্ববর্তী ১০ নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

    ফলপ্রকাশে, বিশ্বের বহু বিজ্ঞানী ও আবহাওয়া বিশ্লেষক রাগাসাকে এক সুপার টাইফুন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এটি সাধারণ নিম্নচাপ থেকে উদ্ভূত ঝড়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। ফিলিপাইন, চীন এবং তাইওয়ানের আবহাওয়া সংক্রান্ত কর্মকর্তারা এই ঝড়কে ক্যাটাগরি ৫ হারিকেন হিসেবে গণ্য করছেন।

    সোমবার বিকেল ৩ টার দিকে ফিলিপাইনের উপকূলে আঘাত হেনেছে রাগাসা, তখন এর বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার। এই ঝড় কাগায়ানের বাতানিজ দ্বীপের দক্ষিণে আছড়ে পড়েছে, যা থেকে তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের দূরত্ব প্রায় ৭১০ কিলোমিটার।

    প্রভাবের কারণে দক্ষিণ চীন সাগরের তীরে থাকা ফিলিপাইন, তাইওয়ান, হংকং এবং চীনের গুয়াংডং প্রদেশে রোববার থেকে ঝড়ো হওয়া ও ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। হংকংয়ে একটি পরিবারের মা ও তার ৫ বছরের ছেলেকে সাগরের জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হংকংয়ের উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের সময় তরঙ্গের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৩ ফুট।

    তবে এখন পর্যন্ত ফিলিপাইন ও তাইওয়ান থেকে কোনো হতাহতের খবরে রিপোর্ট আসেনি।

    বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই ঘূর্ণিঝড়কে যুক্তরাষ্ট্রে বলা হয় হারিকেন। যখন কোনও হারিকেন ব্যাপক এলাকা ব্যাপ্তি ও শক্তিতে পৌঁছে যায় এবং গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে, তখন তাকে ক্যাটাগরি ৫ হারিকেন বলা হয়। ফিলিপাইন ও চীনের আবহাওয়া বিশ্লেষকরা রাগাসাকে ক্যাটাগরি ৫ হারিকেনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

  • এরদোয়ান: গাজা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, এটি গণহত্যার কেন্দ্র

    এরদোয়ান: গাজা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, এটি গণহত্যার কেন্দ্র

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধের নয়, বরং ইসরায়েলের পরিচালিত গণহত্যা চলছে—এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এক আবেগপূর্ণ ভাষণে এই কথাগুলো বলেন।

    এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই গাজা ৭০০ দিনের বেশি সময় ধরে গণহত্যার মুখোমুখি। গত ২৩ মাসে ইসরায়েল প্রতি ঘণ্টায় একজন শিশুকে হত্যা করছে। এসব সংখ্যা নয়; প্রতিটি জীবনই মূল্যবান, প্রতিটি মৃত্যু একটি ঘৃণ্য হত্যা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন পর্যন্ত আধুনিক ইতিহাসে এমন মানবিক বিপর্যয় আর দেখা যায়নি। শিশুদের অজ্ঞান করার ওষুধ ছাড়াই অঙ্গচ্ছেদ এবং অমানবিক হাসপাতাল অভিযান চালানো হচ্ছে। এসবই সভ্যতার জন্য লজ্জাজনক। গাজা কোথাও যুদ্ধ চলছে না—এখানে দুটি পক্ষের লড়াই নয়, এটি একতরফা আগ্রাসন, গণহত্যা এবং ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের নীতি।’

    এরদোয়ান ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর প্রশংসা করেন এবং অন্য রাষ্ট্রগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিউইয়র্কে উপস্থিত থাকতেই পারলেন না, কিন্তু তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে কথা বলছে, যাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধৈর্য্য হারানো এই পরিস্থিতি এখন মানবতার জন্য এক অনিরাপদ চ্যালেঞ্জ।’

    তিনি অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর, বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরায়েলের গণহত্যাকারী চক্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েল কেবল গাজা ও পশ্চিম তীরের দখলে নয়, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন, লেবানন ও কাতারে তাদের আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ব নেতাদের উচিত মানবতার জন্য এই সময়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো। আজকের এই পরিস্থিতি নারীর অধিকার, শিশুর অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়বিচার—সবার মৌলিক মানবাধিকারকে ধূলিসাৎ করছে।’

    এরদোয়ান আরও প্রশ্ন রাখেন, ‘শিশুরা যখন ক্ষুধা ও ওষুধের অভাবে মারা যায়, তখন কি সেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব? গত শতকে মানবতা এমন নৃশংসতা দেখতে পায়নি’। তার ভাষ্য, ‘গাজায় চলমান এই গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এখনো অব্যাহত থাকলে, এ সত্যি বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক ও অকল্যাণকর।”

  • গাজায় স্থিতিশীলতার জন্য মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আবশ্যক: ম্যাক্রোঁ

    গাজায় স্থিতিশীলতার জন্য মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আবশ্যক: ম্যাক্রোঁ

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানে কেবল military force এড়ানো যাবে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী বছর দুয়েক ধরে হামাসকে দমন করতে গাজায় যে অভিযান চালাচ্ছে, তা স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য অর্জনে পর্যাপ্ত নয়। তিনি জানান, এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা অপরিহার্য।

    মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসছে, যার লক্ষ্য ছিল হামাসকে সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ করা। তবে, এখনো হামাসের হাজার হাজার যোদ্ধা জীবিত রয়েছে, যা পরিস্থিতির মাহাত্ম্যকে আরও জটিল করে তুলছে। এ কারণে তিনি মনে করেন, কেবলমাত্র সামরিক পদক্ষেপ দ্বারা এই সংকটের সমাধান আসন্ন নয়।

    ম্যাক্রোঁ আরো বলেন, এই পরিস্থিতির সমাধানে সর্বাত্মক এবং বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে অবিলম্বে ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তি দিতে হবে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহ অবিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্তা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আনার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

    উল্লেখ্য, গত সোমবার ফ্রান্স ও ইসরায়েল যৌথভাবে একটি বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজিত করে, যেখানে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি ও মধ্যপ্রাচ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আলাপ হয়। এই সম্মেলনে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগালসহ বেশ কিছু দেশ অংশ নেয়, তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলন বর্জন করে।

    তথ্যসূত্র: সিএনএন

  • আখতারকে ডিম ছোড়ে মিজান জামিনে মুক্ত

    আখতারকে ডিম ছোড়ে মিজান জামিনে মুক্ত

    নিউইয়র্কে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে, যখন তিনি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক পুলিশ কোনো চার্জ দায়ের করেনি।

    বিশদে জানানো হয়, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে বের হবার সময়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে অবস্থানে থাকা আখতার হোসেনের ওপর হামলা চালায় কিছু আওয়ামী লীগ কর্মী।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তখনই যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিম ছুড়েন। পাশাপাশি, তাসনিম জারার নামাও অশালীন ভাষায় গালাগাল করে তার কণ্ঠস্বর উচ্চ করে ওঠেন অন্য কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আখতার হোসেনসহ অন্যান্যদের নিরাপত্তা দেয়। সেই ঘটনার পর, ২২ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে।

    নিউইয়র্ক আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর মিজান এখন রেহাই পেয়েছেন। এই ঘটনায় নিম্নশ্রেণীর প্রবল উত্তেজনা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটে, যা নিউইয়র্কের কমিউনিটিতে আলোচনার বিষয় হয়েছে।

  • ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইতালিতে ডাকা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে উত্তেজনা

    ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইতালিতে ডাকা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে উত্তেজনা

    গাজায় ইসরাইলের আইসিপি হামলার বিরুদ্ধে ইতালির হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। দেশব্যাপী এই বিক্ষোভের কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, বন্দর ও রাস্তাঘাটে যানচলাচল ব্যাহত হয়েছে, সেই সঙ্গে ট্রেন সেবাও বিপর্যস্ত। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল ও কানাডার মতো দেশগুলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু ইতালি এই উদ্যোগ থেকে এখনো নিজেদের সরিয়ে রেখেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে স্বীকৃতি দিলে এটি ফলপ্রসূ হবে না। যদি কাগজে-কলমে একটি অবাস্তব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি সমাধানের না হয়েও মনে হতে পারে যে সমীপটে সাফল্য এসেছে। এটি বাস্তবে সমস্যার সমাধান করবে না।’

    সোমবার, ইতালির ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে দেশজুড়ে বাইরে রাস্তায় নামেন অন্তত ৮০টি শহরের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বন্দরকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা। মিলান ও রোমের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মিলান থেকে পালেমো পর্যন্ত বহু পৌরসভায় ইতালির মুসল্লিরা রাস্তায় নেমেছেন। জেনোয়া ও লিভোর্নোতে ডক শ্রমিকরা বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেন, তাদের অভিযোগ, ইতালি ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করে একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুরিন ও বোলোনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম অবরোধ করে। রোমের টারমিনি রেলস্টেশনে প্রায় ২০,০০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। ১৭ বছর বয়সী মাইকেলেঞ্জো এজেন্স ফ্রান্স-প্রেসকে (এএফপি) বলেন, আমি এই দুঃখিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে এসেছি।

    মিলানের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের কাছে গাজায় যুদ্ধবিরতি দাবিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকা পুড়ালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি কালো পোশাকধারী দল পুলিশের দিকে পাথর, ধোঁয়া বোমা ও লোহার রড ছুঁড়লে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বোলোনিয়ায় প্রধান রিং রোডে অবরোধ করা হয়। পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেন, এই ভাঙচুর কোনোভাবেই গাজা-সংক্রান্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি জানান, এই ধরনের সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। তার মতে, এসব ঘটনা গাজার মানুষের পরিস্থিতি পরিবর্তন করবে না, বরং এটি ইতালির নাগরিকদের জন্য ক্ষতি ডেকে আনবে।

    অপরদিকে, বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি সংসদে গাজা-ইসরাইল ইস্যুতে পরিষ্কার অবস্থান ব্যক্ত করেননি। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলি শ্লাইন বলেন, ‘যখন যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখন তিনি নিজের প্রিয় খাবার নিয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন।’ পরে তিনি মিলানের ব্যাপক সহিংসতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।

    অপরদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ‘জর্দান নদীর পশ্চিমে কোন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না।’ প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগো বলেন, ‘এ ধরনের স্বীকৃতি অন্ধকার শক্তিকে উস্কে দেবে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

  • সুদানের দারফুরে মসজিদে ড্রোন হামনায় নিহত ৭৮

    সুদানের দারফুরে মসজিদে ড্রোন হামনায় নিহত ৭৮

    সুদানের দারফুর অঞ্চলের একটি মসজিদে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় মেডিক্যাল সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করে বলছে, ভয়াবহ এই হামলাটি ঘটেছে দিনটি শুক্রবার ভোরে, দারফুরের এল-ফাশ শহরে। হামলার জন্য স্থানীয় সময় সকালে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করা হলেও, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি তারা।

    গত দুই বছর ধরে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত প্রবলেম্ভভাবে চলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি আরএসএফ শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং এল-ফাশের সম্পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর লড়াই চালাচ্ছে। এই শহরটি দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে এখনো তিন লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক অবরুদ্ধ হয়ে জীবন বিপন্ন করছেন।

    একটি প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, ভোরের ফজরের নামাজের সময় ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে বহু মানুষ প্রাণ হারান। চিকিৎসা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। ঘটনার স্থান থেকে মৃতদেহ পরিষ্কারে কাজ চলছে।

    বিবিসির ফুটেজ যাচাই করে দেখা গেছে, সেখানে প্রায় ৩০টি মরদেহ সাদা কাপড়ে ঢেকে বা কাফনের পোশাকে মোড়ানো অবস্থায় মসজিদের পাশেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

    এই সপ্তাহে নয়, একাধিকবার এল-ফাশে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস আক্রমণ চালাচ্ছে। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শহরটির কাছে অবস্থিত, বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য উত্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্র ‘আবু শৌক’ শিবিরেও ভয়াবহ হামলা হয়েছে।

    ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের (এইচআরএল) স্যাটেলাইট ছবি দেখাচ্ছে, আশ্রয়কেন্দ্রের বড় অংশ এখন আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, ফুটেজে দেখা গেছে, আরএসএফ সেনারা জয়েন্ট ফোর্সের সদর দপ্তরে প্রবেশ করেছে, যা আগে জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পাউন্ড ছিল।

    বিস্তারিত যাচাইয়ে জানা গেছে, সেনাদের উপস্থিতি সেখানে দৃশ্যত দৃশ্যমান, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। এই অগ্রগতি হলে এল-ফাশের বিমানবন্দর ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তর সরাসরি আরএসএফের হামলার লক্ষ্য হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরএসএফ শহরে থাকা সাধারণ লোকজনকে টার্গেট করে থাকতে পারে, কারণ অধিকাংশ বাসিন্দাই এক জাতিগোষ্ঠীর। আরএসএফ তাদের শত্রু হিসেবে দেখে।

    ফ্রেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, এই সংঘাত ক্রমশ জাতিগত রূপ নিচ্ছে। দুই পক্ষই একে অপরের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি জানিয়েছেন, আরএসএফ দখলকৃত এলাকায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে বলে অনেক অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু, তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়, এবং তারা বলে ফেলে যে, তারা কোনো গোত্রীয় সংঘাতের সঙ্গে জড়িত নয়।