Category: আন্তর্জাতিক

  • সাহসী ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শেষে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার শেষ বললো ইসরায়েলি বাধা

    সাহসী ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শেষে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার শেষ বললো ইসরায়েলি বাধা

    গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’। বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কর্মী, ত্রাণকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা সমুদ্রপথে একত্রিত হয়ে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জামাদি নিয়ে গাজায় যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযাত্রা বিভিন্ন বাধা ও বিপত্তিতে ভরা ছিল। ইসরায়েলি অবরোধ, আটক অভিযান এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তাদের গাজায় প্রবেশের সেটি সম্ভব হয়নি।

    প্রায় ৪৫টি জাহাজে করে অধিকারকর্মীরা গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু ইসরায়েলি নৌবাহিনী তাদের সামনে বাধা দেয়। বেশিরভাগ জাহাজকে আটক করা হয়, অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং ধারণা করা যায় যে, তারা সবাই বর্তমানে আটক রয়েছেন। বৃহষ্পতিবার ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার এই অভিযাত্রা গাজায় পৌঁছানোর আগে শেষ হয়ে গেছে। তারা আরও বলেছেন, এসব জাহাজ আটক করতে গেলে বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি।

    রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি নৌবাহিনী এখন পর্যন্ত ৩৯টি জাহাজকে আটক করেছে। তবে একটির পথ এখনও গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আটককৃত মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

    আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী, রিফিউজি বিরিয়ানি অ্যান্ড বানানাস সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা রুহি লরেন আখতার, সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, তাদের জাহাজটি শেষ পর্যন্ত ফিরে যায় সাইপ্রাসে। কারণ, তাদের ক্যাম্পে থাকা কয়েকজন যাত্রী “উচ্চ ঝুঁকিতে” थे এবং আটক হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, তারা তাদের সহযাত্রীদের জন্য সোচ্চার হতে চান, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে চান, এবং গাজায় সহায়তার জন্য নিরাপদ করিডর নিশ্চিত করতে চান।

    অবশ্য, এই ফ্লোটিলার মূল লক্ষ্য ছিল গাজায় সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। যদিও তা সফল হয়নি, তবুও এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংগঠকরা বলেছে, “এটি কেবল একটি ত্রাণ মিশন নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। গাজার অবরোধ মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।”

    ইউরোপীয় গ্রিন পার্টি ইতোমধ্যে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের এই আটক অভিযান ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’। তারা জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আটক যাত্রীদের ছেড়ে দিতে হবে এবং মানবিক সহায়তা অবিলম্বে পৌঁছে দিতে হবে।

    তদ্ব্যতীত, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অভিবাদন বা হামলা চালানোর ঘটনায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী অন্তত ৩১৭জন অধিকারকর্মকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

    অফিশিয়াল ট্র্যাকারে জানা গেছে, ২১টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। ধরা হয়েছে আরও ১৯টি জাহাজেও হামলা হয়েছে বলে ধারণা, আর চারটি জাহাজ গাজায় যাওয়ার পথে রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল অন্তত ৩৯টি জাহাজ আটক করেছে।

    এই অভিযানে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ছিলেন, যেমন স্পেন, ইতালি, ব্রাজিল, তুরস্ক, গ্রিস, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নাগরিকসহ বহু দেশের অধিকারকর্মী।

    ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকৰিত ব্যক্তিদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে থেকে তাদের ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।

    অন্যদিকে, ‘মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ গাজা উপকূলের কাছাকাছি প্রবেশ করেছিল, কিন্তু যান্ত্রিক সমস্যা বা যোগাযোগ বিঘ্নের কারণে ট্র্যাকিং সিগন্যাল হারিয়েছে। তুরস্কের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এই জাহাজটি গাজার থেকে মাত্র ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানায়, গাজার দিকে এগিয়ে যাত্রার সময়ই অবরোধের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে ইসরায়েলি বাহিনী। তারা কার্গো জাহাজগুলো ঘিরে ফেলে এবং বেশিরভাগেই যোগাযোগ ও সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক অধিকারকর্মী এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছেন যেখানে দেখা যায়, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর নির্দেশে তাঁদের দিক পরিবর্তনের জন্য বাধ্য করা হচ্ছে।

    ফ্লোটিলার এক পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সেনারা জাহাজে প্রবেশ করে এগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়।’

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায়, জলকামান ও সহিংসতা ব্যবহার করে। ৫০টি দেশের শান্তিপ্রিয় কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্মম আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

    ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, কিছু কর্মীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের লোকজনকে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা বলেছে, ফ্লোটিলার অন্যান্য জাহাজগুলো পরীক্ষা করে সেগুলো থেকে সাহায্যসামগ্রী গাজায় পাঠানো হবে।

    সর্বশেষ, এই অভিযান ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে শুরু হয়েছিল, এরপর অন্যান্য দেশ থেকে আরও নৌযান যোগ দেয়। এই অভিযানে মূলত মানবিক সাহায্য ও ওষুধপত্র ছিল। বহু বছর ধরে চলমান গাজা অবরোধের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়। এই অবরোধ মার্চ মাসে আরও কঠোর হয়, ফলে গাজায় খাদ্য ও ওষুধের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায় এবং অঞ্চলটি দারুণভাবে দুর্বল হয়।

    ২০২৩ সালে ইসরায়েলি হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, গাজা বসবাসের অযোগ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে, জায়গাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অভুক্ত ও অসুস্থতার চেহারা।

  • ইসরায়েল ৪৭ দেশের ৪৪৩ স্বেচ্ছাসেবীদের অপহরণ: গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা

    ইসরায়েল ৪৭ দেশের ৪৪৩ স্বেচ্ছাসেবীদের অপহরণ: গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা

    আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী বেআইনিভাবে অন্তত ৪৪৩ জন স্বেচ্ছাসেবীকে অপহরণ করেছে বলে খবর দিয়েছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। এই ঘটনায় জাহাজে থাকা কর্মীদের উপর জলকামান চালানো হয়েছে এবং নোংরা পানি ছিটানো হয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের যোগাযোগের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংগঠনের বিবৃতিতে জানানো হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজগুলো, বিশেষ করে গাজা যাওয়ার পথে, ইসরায়েলি নৌবাহিনী অবৈধভাবে হামলা চালিয়ে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে অপহরণ করেছে। এই জাহাজগুলোতে ছিল খাবার, শিশুদের দুধ, ওষুধের মতো জরুরি সামগ্রী এবং স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা ছিল ৪৭ দেশের।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েলি নৌবাহিনী জলকামান নিক্ষেপ করে, দুর্গন্ধযুক্ত পানি ছিটিয়ে, এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়, ফলে স্বেচ্ছাসেবকরা বিভ্রান্তিতে পড়েন। পরে তাঁদের জোরপূর্বক ইসরায়েলি সামরিক জাহাজ MSC Johannesberg-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

    আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা আদালাহ জানিয়েছে, আটক স্বেচ্ছাসেবকদের বিষয়টি সম্পর্কে খুব সামান্য তথ্য দেওয়া হয়েছে আর এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে তাদের আশদোদ বন্দরে নেওয়া হয়েছে কিনা। সংগঠনের মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তারা আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌযানকে আটক করা যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বনেতাদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, অবিলম্বে অপহৃত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের মুক্তি দেওয়া হোক।

    এদিকে, কিছু জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফরাসি পতাকাবাহী মিকেনো জাহাজটি ফিলিস্তিনি জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে, পোল্যান্ডের পতাকাবাহী ম্যারিনেট এখনো স্টারলিংকের মাধ্যমে যোগাযোগে রয়েছে, যেখানে ছয়জন যাত্রী অবস্থান করছেন।

    নির্ধারিত তথ্য অনুযায়ী, যে সকল জাহাজ নিশ্চিতভাবে ইসরায়েলের হাতে আটক হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ফ্রি উইলি, ক্যাপ্টেন নিকোস, ফ্লোরিডা (সব পোল্যান্ডের পতাকাবাহী), অল ইন (ফ্রান্স), কারমা, অক্সিগোনো (পোল্যান্ডের পতাকাবাহী), মোহাম্মদ ভাহর (নেদারল্যান্ডস), জেনো ও ওটেরিয়া (ইতালি), গ্র্যান্ডে ব্লু, হুগা, অরোরা (সব পোল্যান্ড ও ইতালির পতাকায়) এবং আরও কিছু জাহাজ।

    অপরদিকে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া জাহাজের মধ্যে রয়েছে মিয়ামিয়া, ভ্যাংলেইস, পাভলস, ওয়াহু, ইনানা, মারিয়া, আলাকাতালা, মেটেক, মাংগো, আদাজিও, আহেদ তামিমি, অস্ট্রাল, আমস্টারডাম, ওহওয়াইলা, সেলভাগিয়া, কাতালিনা, এসত্রেলা, ফেয়ার লেডি ইত্যাদি।

    গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা বলেছে, ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ভাঙা এবং গাজায় চলমান গণহত্যার অবসান তাদের মূল লক্ষ্য। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের দমননীতি কেবল তাদের শক্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংগঠনটি সব দেশ ও আন্তর্জাতিক সমাধানকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যেন এসব অপহরণ মুক্তি পায় এবং মানবিক সহায়তা অবাধে চলতে পারে।

  • পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে ভয়াবহ বিক্ষোভ-সহিংসতা, নিহত ৮

    পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে ভয়াবহ বিক্ষোভ-সহিংসতা, নিহত ৮

    পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা কাশ্মিরে চলমান চার দিনের ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভে অন্তত আটজন নিহত হন। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছেন, যাতে বিভিন্ন দিক থেকে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান উত্থাপন করা যায়।

    ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত চার দিনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, যারা আশপাশের শহর থেকে এসে কাশ্মিরের অন্যতম শহর মুজাফফরাবাদে জড়ো হন। তবে এই বিক্ষোভের পুরো চিত্র বাইরের বিশ্বের কাছে এখনো খুবই সীমিত। ফলে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বোঝা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অপরদিকে, কর্তৃপক্ষ টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বিরোধের ঐতিহ্য ১৯৪৭ সাল থেকেই চলে আসছে, যখন এই অঞ্চল দু’দেশের মধ্যে বিভক্ত হয়।

    বিক্ষোভের অংশবিশেষের ছবি থেকে দেখা যায়, বুধবার কাশ্মিরের একটি সেতুর ওপর বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে দিচ্ছে পুলিশ। রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে, এই সহিংসতায় অন্ততঃ তিন পুলিশ সদস্য ও পাঁচ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শুরুর দিন থেকেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

    বিক্ষোভের কারণে হাসাপাতাল, স্কুল এবং পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, কাশ্মিরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের আলোচনার জন্য আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তান সবসময়ই কাশ্মিরি ভাইদের সমাধানের জন্য প্রস্তুত।” একই সঙ্গে, পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল বলেছেন, “আমরা আশা করি, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আমরা এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারব।”

    কাশ্মিরের সুশীল সমাজের নেতারা বলছেন, এই বিক্ষোভ মূলত রাজনীতিবিদ, কর্মকর্তাদের সুবিধা-অধিকার এবং প্রভাবের বিরোধিতার জন্য। একজন স্থানীয় যুব নেতা শওকত নবাজ মীর বলেন, “আমরা যখন হাসপাতালে ওষুধের জন্য বলি, তখন তারা বলে, তহবিল নেই, কিন্তু তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য অর্থ আছে।”

    স্থানীয় সংসদে পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসন বরাদ্দের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাশ্মিরের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, এই প্রতিনিধিদের ব্যবহার করে আঞ্চলিক সরকারকে ক্ষমতায় বসানো বা সরানোর চেষ্টা করা হয়।

    গত বছরও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরে এই ধরনের সহিংস আন্দোলন দেখা গিয়েছিল, যেখানে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে সরকার কাশ্মিরিদের বেশিরভাগ দাবি মানেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি রুপি (প্রায় ৮.৬ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করেন, যার মধ্যে বিদ্যুৎ ও জিনিসের দাম ভর্তুকির বিষয়টি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

    সুত্র: রয়টার্স

  • বিশ্বজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া: বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের নিন্দা

    বিশ্বজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া: বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের নিন্দা

    গাজা অভিমুখী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরাইলের নেওয়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন দেশ তাদের গভীর উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, তুরস্ক, ব্রাজিল, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা সহ অনেক রাষ্ট্রই এ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন। কেউ সরাসরি ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন, আবার কেউ বন্দি নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার পরিষেবা দ্রুত নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। আল-জাজিরা নোঙর করা এই গ্লোবাল ফ্লোটিলার বাধা ও ইসরাইলের আটক অভিযানের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে। বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইসরাইলে এই অবরুদ্ধ ফ্লোটিলাকে আটকালো নিয়ে ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পরিস্থিতির নিরাপদ সমাধান জরুরি। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘আমরা বহু বৃটিশ নাগরিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ত্রাণ যেন মানবিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে নিরাপদে গাজায় পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। গাজায় মানবিক সঙ্কটের সমাধান দায়িত্বে রয়েছে ইসরাইলি সরকার। অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য দ্রুত পৌঁছানোর আহ্বান জানাচ্ছে যুক্তরাজ্য।’ অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে, গাজা উপকূলে ফ্লোটিলায় ইসরাইলি সেনাদের হাতে কর্মীদের আটক হওয়ার খবর তারা জেনে গেছে এবং প্রয়োজনে তাদের নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব পক্ষই আন্তর্জাতিক আইন মানার আহ্বান জানাচ্ছে। স্পেনে, গাজা যায় এমন ফ্লোটিলার ঘটনা নিয়ে মাদ্রিদে ইসরাইলে থাকা উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিকদের তলব করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস বলেছেন, স্পেনে ৬৫ জন স্পেনীয় নাগরিক রয়েছেন। গত বছর ইসরাইল ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি দেওয়ার পর, তারা মাদ্রিদ থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হস্তক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই কর্মকাণ্ড সত্যিই গণহত্যা চালানোর নীতিরই অংশ, যা গাজাকে বিপর্যস্থ করে দিয়েছে। ব্রাজিলের পক্ষ থেকে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে থাকা কয়েকজন ব্রাজিলিয় নাগরিকের মধ্যে সংসদ সদস্য লুইজিয়ানে লিন্সও রয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের সামরিক অভিযান মানবাধিকার লঙ্ঘন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের জন্য গুরুতর হুমকি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই অভিযানকে ‘নৃশংস আক্রমণ’ আখ্যা দিয়ে বলছেন, তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে দ্রুত সবাইকে মুক্তি দেয়া হবে। কারণ তারা মূলত বাধ্যতামূলকভাবে ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ বহন করছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যান্ডালা ম্যান্ডেলা এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, বিশ্বজুড়ে জনগণের জন্য তারা সরকারের উপর চাপ চাপানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে গাজায় নিরাপদে ত্রাণ পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলিরা যদি তাদের অপহরণ করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে এই ফ্লোটিলার মুক্তির জন্য চাপ বাড়ানো। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক স্ট্যাটাসে বলেছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলের অধিকার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে ইসরাইলের হস্তক্ষেপ অবৈধ। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আরও বলছেন, ইসরাইল শুধু ফিলিস্তিনিদের অধিকারই অমান্য করেনি, বরং বৈশ্বিক মানবসমাজের বিবেককেও পদদলিত করছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো জানিয়েছেন, ইসরাইলি কূটনীতিকদের বহিষ্কার ও মুক্তি চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলছেন, নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য দেশের পক্ষ থেকে উপযুক্ত দাবি জানানো হবে। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, ইসরাইল নিশ্চিত করেছে যে, নৌবহরের বিরুদ্ধে কোনও সহিংস কর্মকাণ্ড হবে না। ইতালীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য দেশ সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, যা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রতি তাদের সমর্থন জানায়। গ্রিসের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ইসরাইলের অধিকারীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান করেন। আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ডি হিগিনস সতর্ক করেছেন, গাজায় মানবিক ত্রাণ আগস্ট বাধা দেওয়া হচ্ছে, যা কোনওভাবেই মানা উচিত নয়। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাকসিম প্রেভো বলেছেন, তাঁদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়া। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সকল অংশগ্রহণকারীর কনস্যুলার পরিষেবা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে হবে। মার্কিন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা হোয়াইট হাউসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। জাতিসংঘ এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেসকা আলবানিজ বলেছেন, পশ্চিমা দেশের নীরবতা লজ্জাজনক। বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিনপন্থীরা ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছেন। ইসরায়েল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে আটকানোর ফলে অন্তত ৪০টির বেশি নৌকা এবং একশো’র বেশি অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার পর গোটা বিশ্ব থেকে নেতারা দ্রুত নিন্দা জানিয়েছেন, গাজায় প্রবেশের এবং মানবিক ত্রাণ কার্যক্রমের পথে বাধা দেওয়া অবৈধ। ফিলিস্তিন, তুরস্ক, ব্রাজিল, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউরোপের দেশগুলোসহ বহু দেশে প্রতিবাদ ও অনুশীলন চলেছে। এই ৫০০ সদস্যের নৌবহরে অন্তত ৪৪টি দেশের প্রতিনিধি ছিলেন, যারা আন্তর্জাতিক সমর্থন ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

  • ইথিওপিয়ায় গির্জার অস্থায়ী নির্মাণকাঠামো ভেঙে নিহত ৩৬

    ইথিওপিয়ায় গির্জার অস্থায়ী নির্মাণকাঠামো ভেঙে নিহত ৩৬

    আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় এক ভয়াবহ ট্র্যাজিক ঘটনা ঘটেছে যেখানে একটি গির্জার অস্থায়ী নির্মাণকাঠামো ভেঙে পড়ে কমপক্ষে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে মূলত ভার্জিন মেরি উৎসবের সময়, যখন হাজারো তীর্থযাত্রী গির্জায় একত্রিত হন। আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দেশটির আমহারা অঞ্চলের আরেরতি শহরে, যেখানে রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে, যখন মেনজার শেনকোরা নামে একটি গির্জায় হাজারো মানুষ ভার্জিন মেরি উৎসব বা আর্জেনতা পালন করছিলেন। তখনই হঠাৎ করে কাঠের নির্মাণকাঠামো ধসে পড়ে।

    আহমেদ গেবেয়েহু, স্থানীয় পুলিশ প্রধান, সংবাদমাধ্যম ফানা’কে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৬ জনে পৌঁছেছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতের সংখ্যা আনুমানিক ২০০ জনের কাছাকাছি। বেশ কিছু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে জানানো হয়েছে।

    আতনাফু আবাতে, স্থানীয় একজন কর্মকর্তা, ইথিওপিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (ইবিসি) সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, উদ্ধারকাজ চালানোক্রমে চলছে, তবে তারা পুরোপুরি বিস্তারিত জানাতে পারেননি। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে রাজধানীর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ইবিসির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবি অনুযায়ী, ভাঙা কাঠের স্তূপের মাঝে মানুষ জড়ো হয়ে আছেন। অন্যান্য ছবিতে দেখা যায়, গির্জার বাইরের ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো ধসে পড়ার দৃশ্য। এই দুর্ঘটনা দেশের শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

  • মরক্কোতে জেন জি বিক্ষোভে উত্তাল, পুলিশ স্টেশনে আগুন, নিহত ২

    মরক্কোতে জেন জি বিক্ষোভে উত্তাল, পুলিশ স্টেশনে আগুন, নিহত ২

    উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো এখন জেনে গেছে তরুণ প্রজন্মের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের ঝড়। গত বুধবার মরক্কোর উপকূলীয় শহর আগাদিরের লাকলিয়া এলাকায় আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এই বিক্ষোভের পেছনে মূল চালিকা শক্তি হলো ‘জেনজি ২১২’ নামের এক অখ্যাত ও কম পরিচিত সংগঠন, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, বুধবার লাকলিয়ায় একদল বিক্ষোভকারী পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্র লুট করানো। এই সংঘর্ষে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে গোলাগুলি ও টিয়ারশেল ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলেই দুই জন নিহত হন এবং অন্যান্যরা আহত হন। বিক্ষোভকারীদের হাতে কিছু ছুরি থাকলেও তারা পুলিশ গুলির মুখোমুখি হওয়ার আগে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান। তারা থানার সামনে ও পুলিশের গাড়িগুলোর উপর আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কিছু দোকান-বাস্তবস্থাক লুটপাট করে।

    প্রথম দিকে শান্তিপূর্ণ থাকলেও ধীরে ধীরে এই বিক্ষোভ সহিংসতা রূপ নেয়। এর মধ্যেই মরক্কোর বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে মারাকেশের পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়া ও কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালানো অন্তর্ভুক্ত। শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, তারা এ যুদ্ধের ব্যাপারে সচেতন ও উদ্বিগ্ন।

    বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে তিনটি: ব্যাপক বেকারত্বের অবসান, দুর্নীতি দূর করা, ও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা। সংসদ সদস্য ও নাগরিকরা দাবিগুলো দ্রুত মান্য করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।

    বিক্ষোভের সূচনা হয় ২৮ সেপ্টেম্বর রাবাতে। তখন থেকেই তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ ফুটে উঠে। বিশেষ করে, জেনজি ২১২ নামে সংগঠনটি তরুণদের বিক্ষোভে নামার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে এসেছে। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে তরুণদের আহ্বান জানানো হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, আজকের মরক্কোতে যুবকদের মধ্যে বিষন্নতা, বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিষাক্ত ছড়াছড়ি চলছে। তরুণদের মধ্যে ৩৫.৮ শতাংশ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাপিয়ে থাকা স্নাতকদের মধ্যে ১৯ শতাংশ বর্তমানে বেকার। গত চার দিনে এই আন্দোলন ব্যাপক উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছে, সংগঠনের সদস্য সংখ্যা আগে ছিল মাত্র ৩ হাজার, যা এখন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি।

    অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপের দিকে এগোচ্ছে, তবে কিছু শহরে – ক্যাসাব্লাঙ্কা, ওউজদা ও তাজায় – এখনও কোনও সহিংসতা ঘটেনি। দেশের প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখান্নৌচের পদত্যাগের দাবি ধীরে ধীরে জোরদার হচ্ছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অস্থির হয়ে উঠছে।

  • গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় নিহত ৬৫, যুদ্ধবিরতি অনির্দেশ্য

    গাজায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় নিহত ৬৫, যুদ্ধবিরতি অনির্দেশ্য

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক দিনে আরও অন্তত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই অবরুদ্ধ শহরটি মারাত্মক ধ্বংসের মুখে পড়েছে, যেখানে স্কুল, ঘরবাড়ি এবং শরণার্থী শিবির সবই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর ফলে হাজারো মানুষ দক্ষিণাঞ্চলের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে, কিন্তু পালানোর পথে তারা নির্মম হামলার শিকার হচ্ছেন।

    বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের কোনো লক্ষণ দর্শন করছে না। बुधवार ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত অন্তত ৬৫ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে হামাসের পক্ষ থেকে আশা জাগানো কোনো বার্তা নেই যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি মানবে।

    বুধবার গাজার জায়তুন এলাকার আল-ফালাহ স্কুলে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই স্কুলটি এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। হামলার পরপরই ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও, আরও একটি হামলা তাদের আহত করে।

    আহতদের মধ্যে মুন্তাসির আল-দাহশান নামে একজন সিভিল ডিফেন্স কর্মী পরে মারা যান। আল-আহলি আরব হাসপাতালে জানানো হয়েছে, এতে কমপক্ষে ছয়জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়।

    একই দিনে দারাজ মহল্লায় একটি বাড়িতে হামলার ফলে সাতজনের মৃত্যু হয়। গাজার দক্ষিণ-পূর্বে অন্য এক হামলায় এক শিশুও মারা গেছে। এই সব ঘটনাসহ মোট ৬৫ জনের মধ্যে ৪৭ জনই গাজার মূল শহরটির বাসিন্দা।

    গাজার সবচেয়ে বড় শহরটি এখন ইসরায়েলের অবিরাম বিমান মানব হামলার শিকার, যার ফলে নগরীর অবস্থা দিন দিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। প্রতিদিন বহু মানুষ মারা যাচ্ছে, বাড়িগুলো ও স্কুলের ধ্বংসলীলা চলছে। মানুষ দ্রুত দক্ষিণের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু পিছু ছুঁড়ে হামলার শিকার হচ্ছেন।

    আন্তর্জাতিক সংস্থা রেড ক্রস জানিয়েছে, গাজায় তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হচ্ছে। কিছু দিন আগে ডক্টরস উইদআউট বার্ডার্সও (এমএসএফ) এই ঘোষণা দিয়েছিল। তবে রেড ক্রস বলছে, দির আল-বালাহ ও রাফাহর অফিস থেকে যতটা সম্ভব তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

    এছাড়াও, গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা আল-রাশিদ সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে যাতায়াত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এখন হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে এই রাস্তাটিকে ধরে পালাচ্ছে।

    গাজার পশ্চিমে আল-শিফা হাসপাতালের প্রাঙ্গণে অজ্ঞাত ১১ জনের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এই হাসপাতালটি এখন টানা হামলার মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কিডনি রোগীদেরও জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।

  • গাজার জলসীমায় পৌঁছেছে ফ্লোটিলার এক জাহাজ, পথে আরও ২৩টি

    গাজার জলসীমায় পৌঁছেছে ফ্লোটিলার এক জাহাজ, পথে আরও ২৩টি

    গাজার উপকূলের কাছাকাছি প্রবেশ করেছে আন্তর্জাতিক সাহায্যবাহী জাহাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার এখনো অন্তত ২৬টি নৌযান এগিয়ে চলেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানিয়েছে, সর্বশেষ ট্র্যাকার তথ্য অনুযায়ী—’মিকেনো’ নামের একটি জাহাজ গাজার আঞ্চলিক জলসীমায় সফলভাবে প্রবেশ করেছে। তবে, এখনো পরিষ্কার নয়, ইসরায়েলি বাহিনী কি এই জাহাজকে আটক করেছে কি না।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনারা এই ঐতিহাসিক ফ্লোটিলারকে আটকানোর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। চলতি পরিস্থিতিতে, কার্যকর নৌযানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪-এ, এর মধ্যে কিছু জাহাজ গাজার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর আগে, গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর জন্য এই ফ্লোটিলাকে বাধা দেওয়ার জন্য ভূমধ্যসাগরের উপকূলে আঞ্চলিক জলসীমায় পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলি নৌবাহিনী কয়েকটি জাহাজকে আটক করে।

    ফ্লোটিলার মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখনও যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে এবং গাজামুখী আন্তর্জাতিক সহায়তা বহর থেকে অন্তত ২০০ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শতাধিক কর্মী সহায়তা পাঠানোর জন্য ৪০টির বেশি নৌযান চলছে, যদিও ইসরায়েল বলছে, এই পরিকল্পনাও ব্যাহত করার জন্য তারা তৎপর। আল–জাজিরার প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নৌবাহিনী জলকামান দিয়ে পানি ছুড়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়েছে এবং জাহাজে থাকা কর্মীদের আটক করেছে।

    সাইফ আবুকেশেক, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মুখপাত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী মাঝসমুদ্রে ১৩টি নৌযান থামিয়ে দিয়েছে। এতে ৩৭ দেশের ২০১ জনের বেশি কর্মী ছিলেন, যেমন স্পেন থেকে ৩০, ইতালি থেকে ২২, তুরস্ক থেকে ২১, এবং মালয়েশিয়া থেকে ১২ জন। তিনি জানান, তাদের এই অভিযানে আটক হলেও ‘মিশন চলমান’।

    অন্য নৌযানগুলো এখনও ভূমধ্যসাগর পার করে গাজার অবরোধ ভাঙার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে, মাত্র ঘণ্টা দুখর আগে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বেশ কিছু জাহাজ গাজা উপত্যকার কাছাকাছি অবস্থান করছে, মাত্র ৮৫ কিলোমিটার দূরে। আবুকেশেক আরও বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৩০টি জাহাজ এখনো দখলদার সেনাদের বাধা এড়িয়ে গাজার উপকূলে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত। তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, অনুপ্রেরণায় ভরপুর। ভোরের মধ্যে এই অবরোধ ভেঙে একসঙ্গে গাজায় পৌঁছানোর জন্য তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

  • জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ নিহত, বিজয় দলের জনসভা স্থগিত

    জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ নিহত, বিজয় দলের জনসভা স্থগিত

    তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও নবগঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজাগম (টিভিকে) এর প্রধান থালাপতি বিজয় নিজের দলের এক জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ জন নিহত হওয়ার ঘটনাটি বিস্ময়কর ও দুঃখজনক। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় আয়োজিত টিভিকে দলের এক জনসভায়। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল বিজয়ের একনিষ্ঠ সমর্থক, যারা প্রাণ হারিয়েছে এই অনুষ্ঠানে।

    দলের পক্ষ থেকে এক এক্স (আগের টুইটার)-এ দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রিয়জনদের হারানোর বেদনা ও শোকের কারণে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বিজয়ের সমস্ত জনসভা কর্মসূচি স্থগিত করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

    পুলিশের তথ্য মতে, জনসভাস্থলের ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১০ হাজার লোকের, কিন্তু সেদিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। খাদ্য, পানি ও বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তার সামঞ্জস্যহীন ব্যবস্থাপনাই দুর্ঘটনার এক বড় কারণ।

    প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, দুপুর থেকে শুরু হওয়া জনতারা সন্ধ্যা ৭টার পর বিজয়ের সভাস্থলে পৌঁছোতে শুরু করে, যার ফলে অসংলগ্ন ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিই পদদলনের কারণ হিসেবে ধরছে প্রশাসন।

    এই দুর্ঘটনার পর ৫১ বছর বয়সী অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের বিরুদ্ধে জনদুর্ভোগের প্রতি উদাসীনতা ও ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এছাড়া, হামলার আশঙ্কায় বিজয়ের নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে টিভিকে দলের নেতারা উল্লেখ করেছেন, তারা বহু বড় জনসভা আয়োজন করেছেন, এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় ডিএমকে নেতাদের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।

    অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ডিএমকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    থালাপতি বিজয় দক্ষিণ ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা। তিনি ২০২৫ সালের শুরুতে ‘তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজাগম’ (টিভিকে) নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু রাজ্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। তার রাজনৈতিক উপস্থিতি শুরু থেকেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং তার জনপ্রিয়তা দেশে-বিদেশে ব্যাপক শ্রদ্ধা ও সমর্থন পেয়েছে।

  • জাতিসংঘে পাকিস্তানের ব্যাপক সমালোচনায় জয়শঙ্কর

    জাতিসংঘে পাকিস্তানের ব্যাপক সমালোচনায় জয়শঙ্কর

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন নিউইয়র্কে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তার বক্তৃতায় তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশটি মূলত বড় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল। জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, যখন কোনো দেশ সন্ত্রাসকে সরকারি নীতিতে পরিণত করে, সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ায় এবং এর গুণগান করে, তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর চরম নিন্দা জানানো উচিত। তিনি বলেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের মূল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে, ভারতবারেক বলতে পারেন, গত কয়েক দশক ধরে ভারতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানই দায়ী। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের পাশাপাশি সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানে চালানো অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গে, ভারত তার জনগণের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আত্মরক্ষা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি, যারা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে সেইসব দোষীর বিচারেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন ও এর বিস্তার রোধ করতে হবে। এই জন্য আমাদের প্রয়োজন কঠোর বা চাপ সৃষ্টি, যা সন্ত্রাসের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোকে দুর্বল করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোকে প্রশ্রয় দেয়, তারা বুঝবে যে সন্ত্রাসই তাদের জন্য প্রত্যাঘাতের কারণ হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি।