Category: আন্তর্জাতিক

  • আরবে দেখা গেছে রজবের চাঁদ, রমজানের গণনা শুরু

    আরবে দেখা গেছে রজবের চাঁদ, রমজানের গণনা শুরু

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্যতম, মঙ্গলবার দেখা গেছে পবিত্র রজব মাসের চাঁদ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ রবিবার (২১ ডিসেম্বর) থেকে আরবী বর্ষপঞ্জিকার সপ্তম মাস রজবের প্রথম দিন গণ্য হচ্ছে। রজবের চাঁদ দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পবিত্র রমজানের গণনা শুরু হয়েছে।

    গালফ নিউজ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার আরব আমিরাতে চাঁদ দেখার তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সংস্থা। রজব হলো চারটি পবিত্র মাসের মধ্যে অন্যতম, যা মুসলিম জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই মাস থেকেই শুরু হয় পবিত্র রমজানের প্রস্তুতি ও চর্চা। রজব ও এর পরের মাস শা’বান যদি যথাক্রমে ২৯ বা ৩০ দিন পূর্ণ করে তবে চাঁদের নিরিখে আসন্ন রমজান মাসের সূচি অনুমান করা সম্ভব।

    অতীতে হাদИСে এসেছে, এই মাসের শুরুতে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন তিনি এই মাসগুলোকে বরকতময় করে দেন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য সাহায্য করেন।

    চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রোজার মাসের নIBOutlet_available_ interactions শুরু হয়। তাই, চাঁদ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় আগামী বছর কবে পবিত্র এ মাসের সূচনা হবে।

    বিজ্ঞানীদের মতে, শনিবার দুপুরের দিকে আবুধাবির আল খাতিম জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণাগার থেকে তারা রজবের চাঁদ ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এই সব পর্যবেক্ষণার ফলে জানা গেল, আরব অঞ্চলে রজবের চাঁদ দেখা গেছে, যা রমজানের আগমনের পথে আরও নিশ্চিত করে দিয়েছে।

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় পানশালায় গুলির হামলা, নিহত ৯-১০

    দক্ষিণ আফ্রিকায় পানশালায় গুলির হামলা, নিহত ৯-১০

    দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে বেকার্সডাল টাউনশিপে এক পানশালায় বন্দুকধারীদের ভয়ংকর হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। কিছু সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় হতাহত আরও ১০ জন। ঘটনা ঘটে দেশটির স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে। পুলিশ জানিয়েছে, হামਲাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রায় ১২ জনের একটি সাদা রঙের গাড়ি এসে পানশালায় প্রবেশ করে, গ্রাহকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। তারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, পানশালাটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত।

    সাউথ আফ্রিকার সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এসএবিসি বলেছে, হামলাকারীরা শুধু ভিতরে থাকা গ্রাহকদের নয়, বাইরে থাকা পথচারীদেরও গুলির লক্ষ্য করে। এই আতঙ্কে আতঙ্কিত মানুষজন চিৎকার করতে শুরু করেন এবং প্রাণ বাঁচাতে দিকবিদিক ছুটে যান।

    গাউটেং প্রদেশের পুলিশ কমিশনার ফ্রেড কেকানা বলেন, ‘আমরা এখনো প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতি সংগ্রহ করছি। অনুসন্ধান চালাচ্ছে জাতীয় অপরাধ ও ব্যবস্থাপনা দল। হামলায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।’ কিছু মিডিয়ার প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১০ জন উল্লেখ করা হলেও, পুলিশ মুখপাত্র ব্রেন্ডা মুরিদিলি এএফপি নিউজ এজেন্সিকে জানান, ‘বন্দুক হামলায় এখন পর্যন্ত দশজন নিহত হয়েছেন। তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’ এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনাস্থলে তদন্তকারীদের উপস্থিতি রয়েছে।

  • পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    পিটিআইয়ের শীর্ষ নেতাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    পাকিস্তানের লাহোরে ২০২৩ সালের ৯ মে–র সহিংসতা সংক্রান্ত মামলায় দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেত্রী ডা. ইয়াসমিন রশিদ, ওমর সরফরাজ চীমা, মিয়ান মাহমুদুর রশিদ ও ইজাজ চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতাকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন আদালত (এটিসি)। এই রায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর) লাহোরের কোট লাখপত জেলের ভিতরের আদালতে বিচারক আরশাদ জাভেদ ঘোষণা করেন।

    মামলাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ২০২৩ সালের ৯ মে গোলবার্গ ও নাসিরাবাদ থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগ, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে, ওই দিন গোলবার্গ এলাকায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং কালমা চকে একটি কনটেইনারে আগুন দেওয়া হয়। এই মামলায় মোট ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডা. ইয়াসমিন রশিদসহ সাতজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, ২২ জন খালাস পান এবং চারজন পলাতক বলে ঘোষণা করা হয়।

    অন্য এক মামলায়, কালমা চক কনটেইনার অগ্নিসংযোগে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। এই মামলায় ২৪ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, পাঁচজন খালাস পান এবং সাতজন পলাতক। আদালত পিটিআই নেতা মিয়ান আসলাম ইকবালকেও উভয় মামলাতেই পলাতক ঘোষণা করেছেন।

    এছাড়া, মে ৯-এর সহিংসতা সংক্রান্ত মামলায় আগের দণ্ডের পাশাপাশি ডা. ইয়াসমিন রশিদ, ওমর সরফরাজ চীমা, মাহমুদুর রশিদ ও ইজাজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলায় দণ্ড ঘোষণা করা হয়। তবে এইসব মামলায় পিটিআইয়ের বেশ কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন আদালত, যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি ও বেশ কয়েকজন।

    ২০২৩ সালের ৯ মে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে পাকিস্তানে ব্যাপক অপ্রতিরোধ্য সহিংসতা দেখা যায়। লাহোরের কর্পস কমান্ডার হাউস, রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স (জিএইচকিউ) এবং অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তবে, ইসলামাবাদের হাইকোর্টে দুর্নীতি মামলায় ইমরান খানকে গ্রেফতার করার পর এই সহিংসতা আরও বেড়ে যায়। বেশ কিছু পিটিআই নেতা-কর্মী জামিনে মুক্তি পেলেও এখনও অনেকজন কারাগারে রয়েছেন।

    এদিকে, একইদিনে আরেকটি মামলায়, পাকিস্তানের বিখ্যাত পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে তোশাখানা-২ দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিশেষ আদালত ৮০টি শুনানি শেষে এই রায় দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়, তারা অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রীয় উপহারসমূহ কম দামে কেনা হয়েছে। এই মামলায় তারা দন্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন সেইসাথে তাদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬৪ লাখ রুপি জরিমানা ধার্য করা হয়। রায়ে বলা হয়, বুলগারির_Brandের গয়নার সেট কম দামে কেনার জন্য এই মামলা আনা হয়েছে।

  • বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্কতা জোরদার, ভারতীয় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের তদারকি

    বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্কতা জোরদার, ভারতীয় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের তদারকি

    প্রতিবেশী বাংলাদেশে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন ভারতের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। শুক্রবার ভারতীয় সেনাবাহিনী, আসাম রাইফেলস ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। কেউ বাদ যাননি, তারা সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির দিকগুলো মূল্যায়ন করেন। উল্লেখ্য, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্কতা জোরদার করেছে। ভারতের ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি বিশেষ একটি সীমান্ত ফাঁড়িতে পৌঁছে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সীমান্তে চলমান অপারেশনাল প্রস্তুতিসহ সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা খুঁটিয়ে দেখেন। এই পরিদর্শনকালে তিনি সৈনিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পেশাদারিত্বে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। কমান্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাপ্রধান প্রতিটি স্তরের সদস্যের নিষ্ঠা ও সতর্কতা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক মানিক সাহা বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং রাজ্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আগরতলায় একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের নজরদারির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বরাও সর্বদা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় কর্মকর্তার নেতৃত্বে ভারত সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে এনই।

  • ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না: দিল্লি থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস

    ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না: দিল্লি থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস

    বাংলাদেশের চলমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ভারত গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে, তবে দেশটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লিতে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশন। শুক্রবার এ বিষয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করে আল জাজিরা।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইকমিশনের এক মুখপাত্র উল্লেখ করেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের উচ্চ কর্মকর্তারা জানেন যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খুবই পরিবর্তনশীল ও জটিল। এ কারণে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।’

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সংবিধানপ্রণেতা বা জনগণের উত্থানের ফলস্বরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে পারে, যা সম্প্রতি তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে।’

    বাংলাদেশ হাইকমিশন জোর দিয়ে উল্লেখ করে, ‘ভারত বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি মনোযোগ দিয়ে দেখছে ঠিকই, তবে প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না।’

    প্রসঙ্গত, নয়াদিল্লির প্রতি বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে ভারত পূর্ববর্তী সরকারের সদস্যদের, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন শাসক রয়েছেন, আশ্রয় প্রদান করছে।

  • ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার

    ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদার

    ভারতের নয়াদিল্লি, কলকাতা, ত্রিপুরা এবং আসামে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা গত কিছুদিনে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতা ও দিল্লির বিভিন্ন দূতাবাসে স্থায়ীভাবে পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা অন্তত ৪ থেকে ৬ জন সশস্ত্র পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকছেন। এর পাশাপাশি, শুক্রবার সকাল থেকে হাইকমিশনের সব শাখায় অন্তত ১০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    কলকাতার বেকবাগান এলাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণির বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস চত্বরে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। সেখানে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি দূতাবাসের রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে রাখা হয়েছে, যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না ঘটে।

    দিল্লির দূতাবাস চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, আর কলকাতা ও দিল্লির স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখা হয়েছে হালকা প্রতিরোধমূলক গাড়ি ও জল Cannon। এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের মাটিতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে ট্রিপুরা, কলকাতা, আগরতলা, ব্যাঙ্গালোর ও মহারাষ্ট্রের সরকারগুলোকে। এর পাশাপাশি এই রাজ্যগুলোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিষয়ের জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

  • ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

    ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই হত্যাকাণ্ডকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার পর সাধারণ জনগণ তথা জনসমর্থকদের দ্বারা দুটি প্রধান সংবাদপত্রের অফিসে হামলা চালানো হয়। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে।

    সংস্থাটি আরও জানায়, যদিও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা বাংলাদেশের নাগরিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এতে করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, বাংলাদেশের যুব নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ভয়াবহ এক ঘটনার প্রকৃতি। তিনি উল্লেখ করেন, আগস্টের পর থেকে দেশব্যাপী গণপিটুনির মতো সহিংসতা শুরু হয়েছে, যা সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপের দিকে নির্দেশ করে। ভবিষ্যতের জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলা মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর এক উদ্বেগজনক আঘাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু রাজনৈতিক দলের সহিংসতা উসকানি এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।

    অবশেষে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বাংলাদেশে ওসমান হাদির হত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে মানবাধিকারের মান অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • অভিযোগের মধ্যেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জাতিসংঘের

    অভিযোগের মধ্যেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জাতিসংঘের

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনায় দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। এই খবরটি শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক।

    ব্রিফিংয়ে দুজারিক জানান, ওসমান হাদির মৃত্যু জাতিসংঘের নজরে পড়েছে এবং মহাসচিব এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা প্রকাশ ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এই প্রসঙ্গে মহাসচিব বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে জটিল পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে সহিংসতা এড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা কমাতে ও সহিংসতা প্রতিরোধে সব পক্ষকে সংযম অবলম্বন করতে হবে যেন একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

    এরই মধ্যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বাংলাদেশের সরকারের প্রতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যেন ঘটনা স্পষ্ট হয় এবং দায়ীদের শাস্তি হয়। কমিশনের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ফলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে গত বছর ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের নেতা হাদির হত্যাকাণ্ডে তিনি গভীরভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন। পাশাপাশিই, গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন হাদি, এবং বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিশোধের চেষ্টায় বিভেদ আরও গভীর হবে এবং এতে সকলের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।

  • শীত-ঝড়ে গাজার পরিস্থিতি আরও জটিল, ত্রাণ প্রবেশে বাধা নিয়ে উদ্বেগ

    শীত-ঝড়ে গাজার পরিস্থিতি আরও জটিল, ত্রাণ প্রবেশে বাধা নিয়ে উদ্বেগ

    শীতকালীন ইতিহাসের ভয়াবহ ঝড়ের কারণে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, এবং বাস্তুচ্যুত হওয়া কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি नागरिकের জীবন আরও বিপদে পড়েছে।

    জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, ইসরায়েলের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে জরুরি প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা সামগ্রী গাজায় প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও রাজapataরৎ, তাবু এবং কম্বলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রস্তুত ছিল সীমান্তে, তবুও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সেগুলোর প্রবেশে কঠোরতা দেখাচ্ছেন বা নানাবিধ কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

    শীতের প্রভাবে গাজা শহরের শাতি শরণার্থী শিবিরে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের মধ্যেই একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে, যার ফলশ্রুতিতে ২ শিশুসহ মোট ছয়জন আহত হন। উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন।

    অপর দিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, মাত্র দুই সপ্তাহ বয়সী এক শিশু তীব্র শীতে মারা গেছে, যা মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রকাশ করে। অপ্রতুল আশ্রয়ে থাকা শিশু ও বৃদ্ধরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ঝড়ের কারণে গাজায় বহু আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসের মুখে পড়েছে, যা ব্যক্তিগত সম্পদও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কাছাকাছি ৩০ হাজার শিশু এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এ পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে প্রভাবজনক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

    গাজা সিভিল ডিফেন্সের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘এখনকার পরিস্থিতি একটি প্রকৃত মানবিক বিপর্যয় আর ঘোর ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।’

    এদিকে, যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের পরিস্থিতির মধ্যেই কাতার প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানি ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশ and যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেখ মোহাম্মদ গাজায় মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন ও শর্তহীনভাবে প্রবেশের জন্য গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন এবং এর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কাজের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।

    অবশ্য, যুদ্ধবিরতি চালু থাকলেও গাজায় সহিংসতা বন্ধ হয়নি। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজা শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করছে, গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ এর কাছে একটি মর্টার শেল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ে—এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাছাড়া, খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে গাজা শহরের তুফ্ফাহ এলাকায় গুলিতে দুজন আহত হন।

    অধিপ্ত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, কালকিলিয়ার ইসরায়েলি বাহিনী ২০ বছর বয়সী এক যুবককে পায়ে গুলি করে আহত করেছে।

    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মোট ৭০ হাজার ৬৬৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ১৫২ জন আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয় আরও গাঢ় করে তুলছে।

  • সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলেinho ভূমিকম্প অনুভূত

    সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলেinho ভূমিকম্প অনুভূত

    সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে মঙ্গলবার রাত ২টা ১১ মিনিটে ৪.৩ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশের ন্যাশনাল সেন্টার অব মেটিওরোলজি (এনসিএম) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে, যা মূল ভূত্বক থেকে অনেক নিচে। চলতি বছরে এপ্রিলে আরেকটি ৪.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আরব সাগরে সৌদি সীমান্তের কাছে ঘটে যেখানে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশই এই কম্পন অনুভব করে। ওই ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে জানানো হয়, আরবিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের পুরোনো ফল্ট লাইনে চাপ সৃষ্টির ফলस्वরে এই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। আশপাশের দেশগুলো যেমন ইরান, ইরাক ও ওমানে মাঝেমধ্যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে চলতি বছরের ৪ নভেম্বর ওমানের মুসানদামে ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এছাড়া, ১ ডিসেম্বর বাহরাইনে ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং ২২ নভেম্বর ইরাকে ৫.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে। আগস্ট মাসে ওমানে মাদহায় আঘাত হানা ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২.২। এই ভূমিকম্পগুলো প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি এখনও রয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য সতর্কতা ও আগাম প্রস্তুত থাকা জরুরি।