Category: আন্তর্জাতিক

  • দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও হিংসাত্মক চেষ্টা

    দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও হিংসাত্মক চেষ্টা

    ইতোমধ্যে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হিন্দুত্ববাদী এক দল—বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরংসড়ি দল—বিক্ষোভের নামে প্রতিবাদ জানাতে এসে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তারা হাইকমিশনের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করে, যা দেখে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অভিযোগে লিপ্ত হলে পুলিশের লাঠিচার্জের মাধ্যমে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এই বিক্ষোভ শুরু হয়, তখন শত শত মানুষ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয় একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানাতে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, তবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অভিযান চালাচ্ছে। হাইকমিশনের নিরাপত্তার জন্য তিন স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পুলিশ ও প্যারামিলিটারি বাহিনী। এই বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস নামের এক যুবকের নির্মম হত্যার ঘটনা, যা নিয়ে ভারতের হিন্দুত্ববাদী দলগুলো সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানায়। অপরদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে আবারো তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের এক সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হন ভারতের এই দূত, এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সময়ের মধ্যে প্রণয় ভার্মা বেশ কয়েক মিনিটের জন্য মন্ত্রণালয় থেকেই অনুরোধে বেরিয়ে যান। উল্লেখ্য, এর আগে ১৪ ডিসেম্বরও তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়, যখন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্যের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ভারতে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের এড়াতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়। ঢাকার এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি, কলকাতা ও অন্যান্য ভারতের শহরে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র-চীনও মোদিকে ভয় পায়, বাংলাদেশ নিয়ে চুপ থাকবেন না তিনি

    যুক্তরাষ্ট্র-চীনও মোদিকে ভয় পায়, বাংলাদেশ নিয়ে চুপ থাকবেন না তিনি

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে চুপ থাকবেন না—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এক হিন্দু নেত্রী। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও মোদিকে ভয় পায়। ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কিশতওয়ারে হিন্দু সংগঠনগুলোর ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এই মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক ও জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা সুনীল শর্মা। এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেন বিজেপি নেতারা। মূলত বাংলাদেশে এক হিন্দু শ্রমিকের হত্যাকাণ্ড ও অশান্তির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। শর্মা বলেন, বাংলাদেশের ঘটনা ভারতকে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চাইছে কিছু দেশের ষড়যন্ত্র।

    শর্মা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রধানমন্ত্রিকে ভয় পায়, কারণ তিনি বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের প্রতীক। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত যখন সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা অর্জন করবে, তখন দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কিছু দেশ ওই শক্তিকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

    বিক্ষোভকারীরা ডিসপাচারিজের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি তারা ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠানোর পরিকল্পনা করেন। এছাড়া, তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও মুসলিম বিরোধী শ্লোগান দেন। এ কারণে বেশ কিছু দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

    শর্মা বলেন, ‘বাংলাদেশে হত্যার শিকার দিপুর কোন অপরাধ ছিল না। তিনি একজন হিন্দু। আমাদের প্রতিবেশী দেশের হিন্দু সংখ্যালঘুরা লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ছে, আমাদেরও এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বললেন, ‘দুই কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ করেছে। বরং মিয়ানমার, পাকিস্তান থেকেও অনুপ্রবেশকারী এখানে এসেছে এবং তাদের মধ্যে অনেকের পরিচয়পত্র রয়েছে যা দিয়ে তারা ভোটার হয়েছে।’

    শর্মা বলেন, হিন্দুরা তাঁদের সংস্কৃতি ও ধর্মকে ধরে রাখতে দিন দিন লড়াই করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরা মোঘল ও ব্রিটিশ আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়ে এখনও টিকে আছি। কি আমাদের মুছে ফেলতে পারবে? বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য জাতিসংঘ বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কেন চুপ রয়েছে?’

    বিজেপির এই নেতার দাবি, ২০২৬ সালের ভারতে নির্বাচন সামনে থাকায় বাংলাদেশে যে বিক্ষোভ হয়েছে তার পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি বলছেন, ‘আমি নিশ্চিত মোদি চুপ থাকবেন না, সেটা পাকিস্তান বা বাংলাদেশ যেকোনো দেশই হোক।’

  • মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন শেখ ফয়সাল নোমান আর নেই

    মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন শেখ ফয়সাল নোমান আর নেই

    মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ও পরিচিত মুয়াজ্জ বিদ শেখ ফয়সাল নোমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সৌদি আরবের দুটি পবিত্র মসজিদের প্রামাণ্য ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরের ফজর আজানের পরে মসজিদে নববীতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

    শেখ ফয়সাল নোমান দীর্ঘ বছর ধরে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার সুমধুর আজান ও তার ধর্মপ্রাণ মনোভাব উত্তরকালের মুসলমানদের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।

    তার মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ একজন নিবেদিতপ্রাণ ও জনপ্রিয় খাদেমকে হারালো। ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ জানিয়েছে, শেখ ফয়সাল নোমান ১৪২২ হিজরিতে (২০০১ সালে) মসজিদে নববীতে মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহ্য বজায় রেখেছে; তার দাদা প্রথম মুয়াজ্জিন ছিলেন, এবং তার বাবা এই পেশায় ১৪ বছর বয়সেই যোগ দিয়েছিলেন।

    শেখ ফয়সাল নোমান ১৪২২ থেকে ১৪৪৭ হিজরি পর্যন্ত মোট ২৫ বছর ধরে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে যান। তার এই অবদানের জন্য মুসলিম উম্মাহ অন্তরে গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

  • ভারতে ছত্তিশগড়ে বাংলাদেশি সন্দেহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    ভারতে ছত্তিশগড়ে বাংলাদেশি সন্দেহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    ভারতের কেরালার পালাক্কাদ জেলায় এক দেহঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ছত্তিশগড়ের একজন দলিত শ্রমিককে ‘বাংলাদেশি সন্দেহে’ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার অন্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    নিহত ব্যক্তির নাম রামনারায়ণ বাঘেল (৩১), তিনি ছত্তিশগড়ের শক্তি জেলা কারহি গ্রামের বাসিন্দা। কাজের খোঁজে ১৩ ডিসেম্বর তিনি কেরালার পালাক্কাদে আসেন এবং একটি নির্মাণস্থলে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছিলেন।

    রামনারায়ণের পরিবারের কাছে জানানো হয়েছে, তার দাদার দূরসম্পর্কের তৎকালীন আত্মীয় শশীকান্ত বাঘেলের অনুরোধে তিনি কেরালায় যান। তার স্ত্রী ললিতা ও দুই সন্তান, যারা আট ও নয় বছর বয়সী।

    একটি সূত্রের মতে, সম্প্রতি এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি চুরির ঘটনার পর রামনারায়ণকে চোর সন্দেহে গণপ্রহার করা হয়। এই হামলায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    খবর পেয়ে তার স্ত্রী দ্রুত পালাক্কাদে উদ্দেশ্যে রওনা দেন, তবে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি বলেও জানা গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে, এলাকায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অপরাধের মূল কারণ ও অরজিন নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে, আর মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

  • পিটিআই শীর্ষ নেতাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    পিটিআই শীর্ষ নেতাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড

    পাকিস্তানের লাহোরে ২০২৩ সালের ৯ মে ঘটে ঘটনাবহুল সহিংসতার মামলায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শীর্ষস্থানীয় নেত্রী ডা. ইয়াসমিন রশিদ, ওমর সরফরাজ চীমা, মাহমুদুর রশিদ এবং ইজাজ চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে দীর্ঘ ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে দেশটির সন্ত্রাস দমন আদালত (এটিসি)। এই রায় ঘোষণা করা হয় শনিবার (২০ ডিসেম্বর) লাহোরের কোট লাখপত জেল ভবনের আদালতে এটির বিচারক আরশাদ জাভেদ এর কাছ থেকে।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৯ মে গোলবার্গ ও নাসিরাবাদ এলাকায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং কালমা চকে একটি কনটেইনারে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। গোটা ঘটনায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় গোলবার্গ থানার চার্জশিটে। এই মামলায় ডা. ইয়াসমিন রশিদসহ সাতজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে ২২ জন নির্দোষ মুক্ত ছাড়া পেয়েছেন এবং চারজন পলাতক রয়েছেন।

    অপরদিকে, কালমা চক কনটেইনার অগ্নিসংযোগের মামলায় ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়, যেখানে ২৪ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাঁচজনের খালাস হয়েছে এবং সাতজন পলাতক। এ মামলায় পিটিআই নেতা মিয়া আসলাম ইকবালকেও পলাতক ঘোষণা করেছে আদালত।

    এর আগেও মে ৯–এর সহিংসতা সংক্রান্ত মামলার রায়ে ডা. ইয়াসমিন রশিদ, ওমর সরফরাজ চীমা, মাহমুদুর রশিদ ও ইজাজ চৌধুরীকে বিভিন্ন মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছিল। সবশেষে, একদিন পরে, অন্য একটি এটিসি আদালত একই ঘটনায় তাদের ও আরও তিনজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়।

    তবে এই মামলায় পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশিসহ মোট ১৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৯ মে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হলে তার সমর্থকরা ব্যাপক সহিংসতা শুরু করেন। এই সহিংসতায় লাহোরের কর্পস কমান্ডার হাউস, রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা আক্রান্ত ও ভাঙচুর করা হয়।

    ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রাঙ্গণে দুর্নীতি মামলার অভিযোগে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করার পর এ সহিংসতা আরও জোরদার হয়। যদিও অনেক পিটিআই নেতা-কর্মী এখন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, তবে এখনও অনেকজন কারাগারে রয়েছেন।

    অন্যদিকে, শনিবারই এক আলাদা মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে তোশাখানা-২ দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পেসি আদালত ঢাকায় ৮০টি শুনানির শেষে এ রায় প্রদান করেন। অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার কম দামে কেনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    রায়ে বলা হয়, ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৪ ও ৪০৯ ধারায় ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি তাদের উপর অতিরিক্ত সাত বছর করে সাজা দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়।

  • শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের আহ্বান হাইকমিশনের

    শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের আহ্বান হাইকমিশনের

    শ্রীলঙ্কায় চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ হাইকমিশন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ক্যান্ডি এবং নুয়ারা এলিয়া অঞ্চলের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ সতर्कতা ঘোষণা করে ‘লেভেল-৩ (লাল)’ সতর্কবার্তা জারি করেছে। এছাড়াও, বাদুল্লা, কুরুনেগালা এবং মাতালা জেলার কিছু অংশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘লেভেল ২’ সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটকসহ সবাইকে নিরাপদে থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রোববার এক সতর্কবার্তায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এই তথ্য জানিয়েছেন। হাইকমিশন আরও জানায়, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাংলাদেশের নাগরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রীলঙ্কার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে। হাইকমিশন সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানায়, সবাই শান্ত থাকুন, নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন এবং সকল নির্দেশনা মেনে চলুন। আপনারা সকলের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার।

  • ভারত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হুমকি দেয়ায় মুখ খুলল ভারত

    ভারত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হুমকি দেয়ায় মুখ খুলল ভারত

    নতুন দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে একদল উত্তেজিত হিন্দু ব্যক্তির বিক্ষোভ শুরু হয়। তারা সব ধরনের নিরাপত্তা প্রাচীর অতিক্রম করে বাংলাদেশের হাইকমিশনের মূল ফটকের সামনে পৌঁছায় এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে শুরু করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর দ্রুত বিবৃতি পাঠিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা ক্ষতি হয়নি এবং ঘটনাটি একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মাত্র।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনেই জড়ো হয়ে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্লোগান দেন এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি তোলে। তবে কোনো সময়ই হাইকমিশনের নিরাপত্তা প্রাচীর ভাঙার বা নিরাপত্তাজনিত কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ দ্রুত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং এই ঘটনার যাবতীয় দৃশ্যমান প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় মুখপাত্র বলেন, ভারতে অবস্থিত সব বিদেশি মিশন ও কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায়, ভারতের ভূখণ্ডে থাকা আন্তর্জাতিক মিশন ও কূটনৈতিক কার্যালয়গুলির নিরাপত্তা ভারত সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি ভারতের গভীর নজরে রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ সময় তারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সব পক্ষকে সতর্ক করেছে এবং দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

    অন্তর্বর্তী সরকার এই হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। সরকারীয় সূত্র বলেছে, এর প্রতিকার হিসেবে ঢ willow ও আগরতলায় ভিসা পরিষেবা সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    গত বছর ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। এর আগে ২০০৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অবনতি হলে, এক উग्र হিন্দু সংগঠন বাংলাদেশ হাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করেছিল। তখন পুলিশ তাদের হাইকমিশন ভবন থেকে দুরে সরিয়ে দেয়। এছাড়াও, গত বছরের অক্টোবর মাসে আগরতলায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে হামলা চালিয়ে অনেক ক্ষতি সাধন করে অগ্নিগোষ্ঠীরা।

  • ইমরান খানের সমর্থকদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে আহ্বান

    ইমরান খানের সমর্থকদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে আহ্বান

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবি সম্প্রতি তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় আদালত থেকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড শোনেন। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেছেন তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা আসাদ কায়সার এবং মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কারাবন্দি ইমরান খান তার পরের বার্তা দিয়ে বলেছেন, “আমার কাছে কেউ কিছু চাইতে পারবে না, আমি আমার আদর্শে অটল থাকব।” তিনি পাশাপাশি নিজ সমর্থকদের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।

    মামলার বিষয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের থেকে প্রাপ্ত উপহার নেওয়ার প্রতারণার অভিযোগে এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার ইসলামাবাদের অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টের স্পেশাল জজ শাহরুখ আরজুমান্দ এই রায় প্রদান করেন।

    ২০২২ সালে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারানোর দেড় বছর পরে, ২০২৩ সালে আগস্টে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি প্রথমে পাঞ্জাবের অ্যাটকু কারাগারে ছিলেন, পরে সেপ্টেম্বরে তাকে আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। নিরাপত্তার কারণে এই আদালত আদিয়ালা কারাগারেই বসেছিল।

    সাজার পাশাপাশি আদালত ইমরান ও বুশরাকে প্রত্যেককে ১ কোটি ৬৪ লাখ রুপি জরিমানারও আদেশ দিয়েছে। এর আগে, সেই মামলায় তাদেরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তবে পরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সেই সাজা বাতিল করে।

  • ইমরান খান ও স্ত্রী বুশরার ১৭ বছরের কারাদণ্ড

    ইমরান খান ও স্ত্রী বুশরার ১৭ বছরের কারাদণ্ড

    পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে তোশাখানার দুটি মামলায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর) অ্যাডিয়ালা জেল জেলায় বিশেষ আদালত পৃথকভাবে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড নির্দিষ্ট করেছেন। এই সিদ্ধান্ত বিচারক সেন্ট্রাল শারুখ অর্জুমান্দ পরিচালিত মামলার শুনানির মাধ্যমে নেওয়া হয়।

    বুশরা বিবির সাজা সময় তিনি সেকশন ৪০৯ অনুযায়ী ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, পাশাপাশি অন্যান্য ধারাগুলির অধীনে—সেকশন ৫, ২ ও ৪৭—এবং ইমরান খানও একই ধারায় ১০ বছর সাজা পান। সেইসাথে উভয়কেই ১৬.৪ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপির জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোট সাজা দেওয়া হলো, প্রত্যেকের জন্যই ১৭ বছর।

    এই মামলার মূল বিষয় হলো, ২০১৮-২০২২ সাল পর্যন্ত ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সৌদি আরব থেকে প্রাপ্ত উপহার সংক্রান্ত। ২০১৮ সালের তোশাখানা নিয়ম অনুযায়ী, এসব উপহার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ইমরান খান ও বুশরা বিবি উপহারগুলো সঠিকভাবে নিবন্ধন না করে, সহকারী ডেপুটি মাল্টি-সেক্রেটারির চিঠি ব্যবহার করে অবৈধভাবে নিজের দখলে রেখেছেন।

    উপহারগুলোর মূল্য প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ইউরো বা আনুমানিক ৭১.৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। এ ঘটনার ফলে জাতীয় রাজস্বে প্রায় ৩৫.২৮ মিলিয়ন রুপি ক্ষতি হয়েছে।

    মামলার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের মে মাসে সৌদি আরবের এক সফরে বুশরা বিবিকে উপহার হিসেবে দেওয়া একটি জুয়েলারি সেট—যার মধ্যে ছিল আংটি, ব্রেসলেট, নেকলেস এবং ইয়াররিং—তাকে দিয়ে এই মামলার অংশ হয়েছে।

    জাতীয় হিসাবরক্ষণ ব্যুরো (এনএবিএ) আগস্ট ২০২২-এ ৩৭ দিনের তদন্ত শেষে এই মামলা দায়ের করে। এ দম্পতিকে ডিসেম্বর ২০২৪-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়, এবং ইসলামাবাদ আদালত তাদের বেকসুর খালাসের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

    এটি প্রথম তোশাখানা মামলার থেকে আলাদা। প্রথম মামলায় দম্পতিকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং মোট ১.৫৭ বিলিয়ন রুপি জরিমানা হয়েছিল। তবে, সেই সাজা পরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এপ্রিল ২০২৪-এ স্থগিত করে দেয়।

  • দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হুমকি

    দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে হুমকি

    ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার মো. ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘সন্ধ্যার প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে কিছু ব্যক্তি তিনটি গাড়িতে করে এসে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ চিৎকার করে। তারা বাংলা ও হিন্দি মিশ্রিত ভাষায় কথা বলছিল, এর মধ্যে বলা হচ্ছিল যে, হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে এবং হাইকমিশনারকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে তারা মেইন গেটের সামনে কিছুক্ষণ চিৎকার করে চলে যায়। এই ঘটনা সদ্যই ঘটে, আমি এটাই জানি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দেখলে মনে হয়, এটা হুমকি-ধামকি ছিল। কথাগুলো হিন্দি-বাংলা দুটো ভাষায় বলছিল, এর মধ্যে বলা হয়, ‘হিন্দুদের মারলে তোমাদের সবাইকে মারব।’ এই ধরনের কথাবার্তা বলা হয়েছে।’ জানানো হয়, উগ্র ভারতীয় একদল ব্যক্তি তখন বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভবন থেকে চলে যাওয়ার পর রাতে হাইকমিশনার জরুরি ভিত্তিতে ডিফেন্স উইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের কাছে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ওরা এসে চিৎকার করে চলে গেছে, বাড়তি কিছু করেনি।’ এই হুমকি ও চিৎকারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে।