Category: আন্তর্জাতিক

  • অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করলো ভারত

    অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করলো ভারত

    ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয় এবং সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে ভারতের উদ্বেগও প্রকাশিত হয়। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার দুপুরে একটি বিবৃতি দিয়ে এই দাবিগুলোর স্পষ্টতই প্রত্যাখ্যান করে। তারা জানায়, ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস নোটের বক্তব্যগুলো পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। ভারতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত সবসময়ই বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সমর্থন দেয়। তারা উল্লেখ করে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো অপতৎপরতা চালানোর জন্য ভারত তার ভূমি ব্যবহার করবে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করে, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

  • সুদানে শান্তি কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অভিযোগ ও সতর্কতা, জাতিসংঘের বিবৃতি

    সুদানে শান্তি কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অভিযোগ ও সতর্কতা, জাতিসংঘের বিবৃতি

    সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর ভয়াবহ ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় বিশ্ব মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই হামলা সম্পূর্ণ অসাংবাদিকতা এবং এটি যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।

  • ভারত জানিয়েছে ৩৬ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব

    ভারত জানিয়েছে ৩৬ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব

    ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় দেশে নতুনভাবে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ওড়িশা রাজ্যে ৩৫ জন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নতুন নাগরিকদের হাতে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেন স্থানীয় সরকার নেতারা। এসময় ওড়িশা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বলেন, সিএএ আইনটি মূলত নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের জন্য এক নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের প্রতীক। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, ২০১৯ সালে প্রণীত এই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আগত ৩৫ জন অভিবাসীকে গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়। এর ফলে ওড়িশায় এই আইনের আওতায় নাগরিকত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫১ জনে। বর্তমানে রাজ্যটিতে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ আবেদনপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ওড়িশার জনশুমারি দপ্তর জানায়, সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ৩৫ জনের সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া বিধি অনুসারে, বাংলাদেশের, পাকিস্তানের ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার অমুসলিমরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করলে তাদের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই নিয়ম অনুসারে, ওড়িশায় নতুন করে আরও অনেকের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্যদিকে, একই আইনের আওতায় প্রথমবারের মতো আসামে এক বাংলাদেশি নারী ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওই নারী ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন। শিলচরের সাবেক ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সদস্য ও আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব জানান, চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার সময় তার সঙ্গে একটি যুবকের পরিচয় হয়। পরে তাদের বিবাহ হয় এবং তিনি ভারতের বলেই বসবাস শুরু করেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। যদিও তার পরিবার এখনো বাংলাদেশের চট্টগ্রামে থাকে, নারীর দীর্ঘদিন ধরে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ্রহ ছিল। অবশেষে, সিএএর বিধি কার্যকর হওয়ার পর তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। ধর্মানন্দ দেব আরো বলেন, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৫(১)(সি) ও ৬বি ধারার অধীনে নিবন্ধনের মাধ্যমে তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ করে এবং সাত বছর ধরে ভারতে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নিবন্ধনের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন।

  • পাকিস্তান জাতিসংঘে আফগানিস্তানকে সতর্ক করলো

    পাকিস্তান জাতিসংঘে আফগানিস্তানকে সতর্ক করলো

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাকিস্তান সতর্ক করে বলেছে যে, আফগানিস্তান যদি তাদের আশ্রয়দাতা ইসলামি গোষ্ঠীগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে ব্যর্থ হয়, তবে পাকিস্তান নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনুরূপ সতর্কবার্তা ও তালিকা প্রবর্তন করে জানানো হয়েছে যে, তালেবান সরকারের সঙ্গে এখনো এশে বেশ কয়েকটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠী— যেমন দায়েশ (আইএস-খোরাসান), তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), ইস্ট তুর্কমেনিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট, বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি এবং মাজিদ ব্রিগেড—অসংখ্য সদস্য আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ লাভ করছে। পাকিস্তানের প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, বর্তমানে এসব গোষ্ঠীর শত শত নেতা আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের আশ্রয়ে রয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তালেবান সরকারকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় পাকিস্তান নিজেদের সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। এ সময় তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তালেবান আফগানিস্তানে এসব গোষ্ঠীর অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং হামলার জন্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে। প্রবল নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান এখনো আফগানিস্তানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টায় রয়েছে, এরই অংশ হিসেবে দোহা ও ইস্তাম্বুলে একাধিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, দুর্ভাগ্যবশত, পাকিস্তানের এসব শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ সফল হয়নি বলে জানিয়েছে তারা। পাকিস্তানের প্রতিনিধি বলেছেন, চলমান অবস্থায়, নিদর্শনীয় সন্ত্রাসী হামলার কারণে এখনো পাকিস্তানে প্রায় এক হাজার দুইশো নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাকিস্তান দৃঢ়ভাবে বলেছে, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত, পাকিস্তান জানায় যে, নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যেও তারা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সাথে সহনশীলতা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে চায়, যদিও পরিস্থিতি এখনো গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

  • ইরান এবার চোরাচালানজikkut ডিজেলবাহী ট্যাংকার জব্দ, বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রু আটক

    ইরান এবার চোরাচালানজikkut ডিজেলবাহী ট্যাংকার জব্দ, বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রু আটক

    ওমান উপসাগরে চোরাচালানের জন্য বহন করা একটি ডিজেলবাহী ট্যাংকারকে জব্দ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এই জব্দকৃত জাহাজে থাকা ১৮ জন ক্রুকে আটক করা হয়েছে, এর মধ্যে কিছু বাংলাদেশের নাগরিকও রয়েছেন। তবে কতজন বাংলাদেশি এই অভিযানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এই খবর জানা গেছে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি শুক্রবার জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে ৬০ লাখ লিটার চোরাচালানের ডিজেল বহনকারী এই বিদেশি ট্যাংকারটিকে আটক করা হয়েছে। দক্ষিণ হুরমুজগান প্রদেশের প্রধান বিচারপতি মুজতবা গাহরেমানির বরাত দিয়ে তারা জানায়, মূল জালিয়াতি চক্র ও চোরাকারবারিদের মোকাবিলা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের জাসক বন্দর শহরের কাছে জলসীমা থেকে এই জাহাজটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

    মুজতবা গাহরেমানি বলেন, জাহাজটির প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং চালানের ‘বিল অফ ল্যাডিং’ না থাকার কারণে এটি সন্দেহের মুখে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, জাহাজটি সব নেভিগেশন ও দিকনির্দেশনা সিস্টেম বন্ধ করে রেখেছিল। এছাড়াও, এই ট্যাংকারে ১৮ জন ক্রু ছিলেন, যাদের মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে ট্যাংকারের ক্যাপ্টেনও রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ক্রুদের বেশিরভাগই আগে ভারত, শ্রীলঙ্কা, বা বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ‘ থামার নির্দেশ অগ্রাহ্য করা’, ‘পালানোর চেষ্টা’ এবং নেভিগেশন ও কার্গো চালানের নথিপত্র না থাকা।

    অতিরিক্ত ভর্তুকি ও স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ার ফলে ইরানে জ্বালানির দাম বিশ্বের অন্যতম নিন্মে থাকছে। এর ফলে স্থল ও জলপথে ব্যাপক হারে জ্বালানি চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে।

    উল্লেখযোগ্য করে বল হয়, বিশ্বের অন্য কোনো দেশের তুলনায় ইরানে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম সবচেয়ে কম। সরকারের এই সুবিধার কারণে দেশটিতে জ্বালানি চুরি ও পাচারকারীর গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, যারা সস্তায় তেল কিনে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে।

    এপ্রিল মাসে পারস্য উপসাগর থেকে একাধিক চোরাইকৃত জাহাজ জব্দ করেছিল ইরানিরা। অন্যদিকে, গত বুধবার ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে মার্কিন নৌবাহিনী, যা মূলত ইরান ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে তেল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই জাহাজের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে অবৈধ তেল পরিবহন চলছিল।

    উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ভেনেজুয়েলারে বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেকবারই ব্যবস্থা নিয়েছে। এই ধারাবাহিক চুরি ও অবৈধ কার্যক্রমের কারণে ইরান ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বৈরিতা বাড়ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে বন্দুকধারীর গুলিতে দুজন নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে বন্দুকধারীর গুলিতে দুজন নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স শহরে দুঃখজনক একটি ঘটনা ঘটেছে যেখানে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে বন্দুকধারীর গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে পরীক্ষা চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

    প্রভিডেন্সের মেয়র ব্রেট স্মাইলি নিশ্চিত করেছেন যে হতাহতের খবরটি সত্য। তিনি জানান, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ অজান্তে অস্ত্রধারীর হামলা চালায়। কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত না যে, হামলাকারী কিভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং বেরিয়ে যান। হামলাকারীর বর্ণনা করা হয়েছে, কালো পোশাক পরা একজন পুরুষ। তবে এখনো তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

    প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিকেল ৪টা ২২ মিনিটের দিকে জরুরি সতর্কবার্তা দেয়, যেখানে বলা হয় যে বারুস ও হোলে ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফিজিক্স ভবনের কাছে সক্রিয় বন্দুকধারী রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয় যে তারা দরজা বন্ধ রাখুন, ফোন সাইলেন্ট করুন এবং নিরাপদে লুকিয়ে থাকুন, যতক্ষণ না কোনও পরবর্তী নির্দেশনা আসছে।

    পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগ্নেয়াস্ত্র বা বন্দুকধারীকে সেখানে পায়নি। এরপরও অনলাইনে এক তথ্য ছড়িয়ে পড়ে যে হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছিলেন, পরে তিনি সরে যান।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা প্যাক্সটন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি এমন একটি দিন, যা আমরা কখনোই আমাদের কমিউনিটির জন্য কামনা করিনি। এটি আমাদের সবাইকে গভীরভাবে হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। ’ তিনি ক্যাম্পাসের সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং লকডাউনের নির্দেশনা মানার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি এখনও শঙ্কামুক্ত নয়, আশেপাশের সবাইকে নিরাপদ থাকবার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

  • ইসরায়েলের দাবি, হামাসের শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে

    ইসরায়েলের দাবি, হামাসের শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে

    গাজা শহরে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে যে তারা হামাসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রায়েদ সাদকে হত্যা করেছে। তবে, এই বিষয়ে এখনও হামাস কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন বা নিশ্চিতকরণ দিতে পারেনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

    গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল শনিবারের এই বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। হামাসের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হয়নি, তবে তারা বলেছে যে গাজা শহরের বাইরে একটি বেসামরিক গাড়িতে আঘাত হানা হয়েছে, যা অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি ঘটনা।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রাম পোস্টে অভিযোগ করেছে, রায়েদ সাদ হামাসের সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছিলেন, যা দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় চলা ইসরায়েলি হামলার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাদকে এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং তিনি হামাসের অস্ত্র উৎপাদনকারী বাহিনীর অন্যতম প্রধান নেতাও ছিলেন।

    সূত্র মতে, সাদ ইজ আল-দিন আল-হাদ্দাদের পর গোষ্ঠীর সশস্ত্র শাখার দ্বিতীয়-মানুষ হিসেবে বিবেচিত। তিনি গাজা শহরের ব্যাটালিয়নের প্রধান ছিলেন, যা হামাসের সবচেয়ে বড় ও সুসজ্জিত বাহিনী।

    ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, একটি ইসরায়েলি ড্রোন গাজা শহরের পশ্চিমে নাবুলসি মোড়ে একটি গাড়ির উপর আঘাত হানে, যার ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, এই হামলাটিই হয়তো সেই হামলা কি না, যেখানে কথিত হামাসের সদস্য নিহত হয়েছেন, এ বিষয়ে স্পষ্টতা নেই।

    গাজার কর্মকর্তাদের মতে, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই আক্রমণগুলি দৈনিক গিয়েছে, মোট সংখ্যা প্রায় ৮০০-র বেশি এবং এতে অন্তত ৩৮৬ জন নিহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল এখনও গাজায় অধিকাংশ মানবাধিকার সহায়তা ট্রাকের প্রবেশ বন্ধ রেখেছে।

    বিশ্বসংগঠন জাতিসংঘ শুক্রবার সাধারণ পরিষদে এক অধিবেশনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যেখানে গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুবিধা দেওয়ার, জাতিসংঘের প্রাঙ্গণে হামলা থামানোর এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার দাবি জানানো হয়েছে।

  • থাইল্যান্ডে কারফিউ জারি হচ্ছে সীমান্ত উত্তেজনার কারণে

    থাইল্যান্ডে কারফিউ জারি হচ্ছে সীমান্ত উত্তেজনার কারণে

    দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রাত প্রদেশে সম্প্রতি উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে থাইল্যান্ড কারফিউ ঘোষণা করেছে। এটি মূলত বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে ঘটে। খবর রয়টার্সের মতে, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এ বছর দুই দেশ বলাই বাহুল্য একাধিকবার সংঘাতে জড়িয়েছে। মে মাসে সীমান্তে সংঘর্ষের সময় একটি কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর এই বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলশ্রুতিতে সীমান্তের উভয় পাড়ায় কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    কারফিউ ঘোষণার পর থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি ব্যাংককে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনার আগে কম্বোডিয়াকে অবশ্যই শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।’

    শনিবার থাই সেনাবাহিনী জানায়, তারা সীমান্তে একটি সেতু ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি, ওই সেতুর মাধ্যমে কম্বোডিয়া ভারী অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম প্রবেশ করাচ্ছিল। পাশাপাশি, কম্বোডিয়ার উপকূলীয় কোহ কং প্রদেশে থাকা কামান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে।

    অন্যদিকে, কম্বোডিয়া অভিযোগ করেছে যে, থাই সৈন্যরা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।

    কারফিউটি কার্যকর হবে কোহ কং জেলার সীমান্তবর্তী ত্রাত প্রদেশের পাঁচটি জেলায়। তবে পর্যটনপ্রিয় দ্বীপগুলো কোহ চ্যাং ও কোহ কুড এই কারফিউর বাইরে থাকবে। এর আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় সাকেও প্রদেশেও কারফিউ চালু হয়েছিল, যা এখনও জারি রয়েছে।

    সোমবার থেকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া নিজেদের ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বহু স্থানে ভারী অস্ত্রের গোলাগুলি বিনিময় করছে। এই সংঘর্ষ গত জুলাইয়ে পাঁচ দিন ধরে চলা লড়াইয়ের মতোই তীব্র, যা এই বছরের সবচেয়ে গুরুতর বিবেচিত। তখন তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় বিরোধ শেষ হয়।

    অন্যদিকে, গত শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি থাইল্যান্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা ‘সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধের’ ব্যাপারে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    তবে শনিবার অনুতিন জানিয়েছেন, ‘আমাদের ভূমি ও জনগণের উপর যে হুমকি এসেছে, সেটি যদি শেষ হয়, তাহলে লড়াই বন্ধ করে দেব।’

  • ইরানে নোবেলজয়ী নারী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি গ্রেফতার

    ইরানে নোবেলজয়ী নারী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদি গ্রেফতার

    ইরানি মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে আবারও গ্রেফতার করেছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) মাশহাদ শহরে আহত আইনেরজীবী খোসরো আলিকোরদির স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় তাকে হত্যার ভয়ে ‘হিংস্রভাবে’ আটক করা হয় বলে জানিয়েছে প্যারিসভিত্তিক নার্গিস ফাউন্ডেশন।

    সিএনএন জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনী হানা দিয়ে নার্গিসসহ আরও কয়েকজন কর্মীকে আটক করে। এই ইভেন্টটি নিহত আইনজীবী খোসরো আলিকোরদির স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    নর্ভেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদি ইরানের একজন প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী। তিনি দীর্ঘ দুই দশক ধরে মূলত তেহরানের কুখ্যাত অ্যাভিন কারাগারে বন্দী ছিলেন। এই কারাগারটি সাধারণত সরকার বিরোধী ও সমালোচকদের জন্য নির্ধারিত। তিনি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ এবং প্রচারে যুক্ত থাকায় মোট ৩১ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

    ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়ে যাওয়ার পরে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এক অস্ত্রোপচারের জন্য তার দণ্ড কিছু সময়ের জন্য স্থগিত হয়। যদিও কিছু স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকার পরও তিনি জেল থেকেই মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। গত এক বছরে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন এবং ইরানের পরিস্থিতির কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছেন।

    সপ্তাহখানেক আগে টাইম ম্যাগাজিনে লিখা এক নিবন্ধে নার্গিস বলেছেন—“ইরানি জনগণ আসলে কোনো শান্তিই পায় না। কারণ, দেশটি তাদের ব্যক্তিগত জীবন সবদিক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। নজরদারি, সেন্সরশিপ, গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং সহিংসতার হুমকিতে তাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।” তিনি দেশের নাগরিক সমাজ, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার রক্ষকদের জন্য বিশ্বব্যাপী সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।

    ২০২৪ সালে সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন—“আমি অ্যাভিনের ভেতরে বা বাইরে থাকি না কেন, লক্ষ্য একটাই—গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।”

    নার্গিস মোহাম্মাদি কারাগারে থাকাকালীন নারীদের ওপর নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ করে আসছেন, এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন চিঠি ও বিবরণে ১৯৯৯ সাল থেকে নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরেছেন। তবে, ইরানি সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    তার যমজ সন্তান কিয়ানা ও আলি ২০২৩ সালে নরওয়েতে অনুষ্ঠিত নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। তার স্বামী তাগি রাহমানিও দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে রাজনৈতিক বন্দী ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো মানুষ সরিয়ে নেওয়া আদেশ

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ভয়াবহ বন্যা, হাজারো মানুষ সরিয়ে নেওয়া আদেশ

    টানা ভারি বর্ষণের কারণে পশ্চিমের উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঝোড়ো বৃষ্টির ফলে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য ও কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিয়াটল ও টাকোমার দক্ষিণে বাসিন্দাদের বাড়িঘর ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান দূরদর্শনে দেখা যাচ্ছে, বহু কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর পানি বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি চলে আসার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে। ওরিংটন শহরে সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, লেভেল ৩ অর্থাৎ জরুরি অবস্থার জন্য চলে যাওয়ার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। বন্যার কারণে জীবন ও সম্পদ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস করছে, তাদের এখনই নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, সেই এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের বেশ কিছু অংশের বাসিন্দা ইতোমধ্যে পানিতে প্লাবিত হলেও সীমান্তবর্তী কানাডার অ্যাবটসফোর্ড শহরে বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানির নিচে চলে গেছে। সেখানেও অনেক বাড়িঘর বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পরিবহন প্ল্যাটফর্ম ড্রাইভ বিসি জানিয়েছে, ভ্যাঙ্কুভারের সঙ্গে সংযোগকারী কয়েকটি প্রধান সড়ক বিভিন্ন স্থানে বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা একটি ‘অ্যাটমোসফেরিক রিভার’-এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পশ্চিম উপকূলে ২৫ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বর্ষণের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেলেও বর্ষার পানি কমতে আরও কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে এই অঞ্চলগুলোতে আবহাওয়া কিছুটা শুকিয়ে যাবে। তবে পশ্চিম ওয়াশিংটন ও উত্তর-পশ্চিম ওরেগনের কিছু এলাকায় ভয়াবহ ও বিধ্বংসী বন্যার বিপদ অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওয়াশিংটন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা বালুর বস্তার দেওয়াল নির্মাণসহ জরুরি কাজ পরিচালনা করছে। আরও দুইশ সেনা তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিল্পশিল্প ও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে আবহাওয়া ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে মৌসুমি আবহাওয়া খুব বেশি পরিবর্তিত হচ্ছে, কোথাও শক্তিশালী ঝড় ও বন্যা দেখা দিচ্ছে, আবার কোথাও দীর্ঘ খরা চলছে। এই পরিস্থিতির ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছে বিজ্ঞানীরা।