Category: আন্তর্জাতিক

  • ভারতের ডাক: ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্তের দাবি

    ভারতের ডাক: ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্তের দাবি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জননোন্মুখ শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত তদন্তের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বার্তাসংস্থা পিটিআই বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় তারা শহীদ হাদির হত্যার তদন্তের দাবি জানায়।

    সূত্রের বরাতে পিটিআই উল্লেখ করেছে, হাদির হত্যার সঙ্গে ভারতীয় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার কারণে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের উপর এই তদন্তের জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছে। ঘটনা ছিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীর গুলিতে শহীদ হাদি নিহত হন। এরপর ভারতের দূতাবাসের সামনে তার জন্য প্রতিবাদসূচক বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও জোরালো হয়েছে।

    অন্যদিকে, গতকাল ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব তাঁকে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার পাশাপাশি নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছিল, ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য ও হাদির উপর হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারত জুলাই মাসেও তলব করা হয়েছিল। এরই মধ্যে, গতকাল আবারও পাকিস্তানে বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলবের পাশাপাশি ভারত পুনরায় বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করলো। ভারতের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুদেশের মধ্যে সতর্কতা ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ২ টাকার ৬০ হাজার নতুন নোট উদ্ধার

    পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ২ টাকার ৬০ হাজার নতুন নোট উদ্ধার

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাইগঞ্জে কাস্টমস বিভাগের অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি ২ টাকার ৬০ হাজার নতুন নোট উদ্ধার করেছেন। এই নোটগুলো সম্পূর্ণ নতুন এবং কখনো ব্যবহার করা হয়নি। এখনও নিশ্চিত নয় কিভাবে এই বিপুল পরিমাণ নতুন নোট ভারতে পৌঁছেছিল।

    সূত্রের বরাতে ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের একটি দল উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ থানার ঠাকুরবাড়ির কাছাকাছি পৌঁছায়। সেখানে তারা দেখতে পান, দুই যুবক নম্বরপ্লেটহীন একটি মোটরসাইকেলে করে আসছে। তাদের থামতে বললে, তারা ভান করে উচ্চ গতিতে পালানোর চেষ্টা করে।

    এ সময় কাস্টমসের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করতে থাকলে, সন্দেহভাজনরা বাংলাদেশি টাকার কয়েকশো বাণ্ডিল রাস্তায় ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ২ টাকা মূল্যের এই ৬০ হাজার নতুন নোট উদ্ধার করেন, যার মোট মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি টাকা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এসব নোট একদম নতুন এবং ব্যবহার হয়নি।

    রাইগঞ্জের পুলিশ সুপার অনুজ কুমার দাস বলেন, পালানো দুজনের মধ্যে একজন ভলান্টিয়ারের জ্যাকেট পরেছিলেন। তিনি আরও জানান, এই ধরনের বিশাল মালামাল ভারতে পাচার হওয়ার ঘটনা রাইগঞ্জ কাস্টমসের জন্য এটি প্রথম।

    ইতিমধ্যে, সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এই বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রা কোথায় এবং কোন উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চালানো হচ্ছে। এটি একটি গুরুতর অবৈধ লেনদেনের ঘটনা বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • আসামে আদিবাসী এলাকায় সহিংসতা, দুইজনের মৃত্যু

    আসামে আদিবাসী এলাকায় সহিংসতা, দুইজনের মৃত্যু

    ভারতের আসাম রাজ্যের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার খেরনি এলাকায় নতুন করে সহিংসতা দমন শুরু হয়েছে, যেখানে দুজন নিহত হয়েছে। গুয়াহাটি থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এইখেরনি এলাকাটি এ সপ্তাহের শুরু থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বিক্ষোভকারীরা দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা, পাথর ও তীর ছোঁড়ার মতো উগ্র প্রদর্শনী চালাচ্ছে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় রাজ্য সরকার সেনা মোতায়েন করেছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এই খবর নিশ্চিত করেছে দ্য হিন্দু সংবাদমাধ্যম।

    বিবরণে জানা গেছে, এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এ সপ্তাহের শুরুর দিকে, বিশেষ করে উপজাতি এলাকায়। সপ্তাহের মাঝামাঝি তার রূপ মহামারীতে পরিণত হয়। কার্বি জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সরকারের দু’টি জমি-ভিলেজ গ্রেজিং রিজার্ভ (ভিজিআর) ও প্রফেশনাল গ্রেজিং রিজার্ভ (পিজিআর) থেকে ‘বহিরাগতদের’ উচ্ছেদ করার দাবির জের ধরে এই সহিংসতা ছড়ায়। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও, বিক্ষোভকারীরা তা অমান্য করে সহিংসতা চালিয়ে যায়।

    আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, শান্তি বজায় রাখতে বুধবার খেরনি এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    নিহতদের মধ্যে একজন আদিবাসী বিক্ষোভকারী, যিনি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যান। অপরজন ছিলেন একজন অ-আদিবাসী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যিনি অগ্নিসংযোগের সময় একটি ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসাম সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

  • ইসরায়েল ও হামাসের তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি, বিশ্বনেতাদের প্রশংসা

    ইসরায়েল ও হামাসের তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি, বিশ্বনেতাদের প্রশংসা

    ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রোববার থেকে এই চুক্তি কার্যকর হবে, এবং বিশ্বনেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রancsের রাষ্ট্রপ্রধানরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই পদক্ষেপ গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার পথ প্রশস্ত করবে।

    হামাসের নেতা বাসাম নাইমের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই চুক্তিটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। প্রতিটি ধাপের মোট সময়কাল হবে ৪২ দিন।

    প্রথম ধাপ: আগামী রোববার থেকে ৩৩ জন জিম্মিকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হবে। প্রথম দিন মুক্তি পাবে তিন নারী জিম্মি। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

    দ্বিতীয় ধাপ: এই পর্যায়ে স্থায়ীভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করবে। বিনিময়ে হামাস তাদের জীবিত পুরুষ ও সেনাদের মুক্তি দেবে।

    তৃতীয় ধাপ: এই পর্যায়ে নিহতদের মৃতদেহ বা অবশিষ্টাংশ বিনিময় করা হবে, পাশাপাশি গাজার পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা শুরু হবে।

    জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ এ চুক্তিকে ‘শান্তির দ্বার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে বলেন ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুসংবাদ’, এবং তিনি গাজায় দ্রুত মানবিক সহায়তা পাঠানোর উপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, দুই-রাষ্ট্রের সমাধানের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তির বিষয়টি পুনরায় মনে করিয়ে দিলেন।

    গত আগস্টে নিহত ইসরায়েলি-আমেরিকান জিম্মি হার্শ গোল্ডবার্গের পরিবারও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আশা করছে, এই চুক্তির জন্য অন্তত অন্য পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পাবে এবং নিহতদের যথাযথ সমাহিত করা সম্ভব হবে। তবে, তারা কাতার, মিশর এবং মার্কিন প্রশাসনের নজরদারির প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন যেন চুক্তি মাঝপথে বাধার সম্মুখীন না হয়।

    বর্তমানে হামাসের কাছে আরও অন্তত ৯৪ জন জিম্মি বন্দি রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

  • যুক্তরাজ্যে গ্রেটা থুনবার্গ গ্রেপ্তার

    যুক্তরাজ্যে গ্রেটা থুনবার্গ গ্রেপ্তার

    ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের পুলিশ গ্রেটা থুনবার্গকে গ্রেপ্তার করেছে। এই তরুণ অধিকারকর্মীর হাতে দেখা গিয়েছিল একটি প্ল্যাকার্ড, যার ওপর লেখা ছিল, ‘আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক এবং গণহত্যার বিরোধী।’ মঙ্গলবার মধ্য লন্ডনের আসপেন ইনসিওরেন্স অফিসের সামনে ফিলিস্তিনপন্থিরা এই বিক্ষোভ চালিয়েছিলেন, যেখানে গ্রেটাও অংশ নিয়েছিলেন। লন্ডন সিটি পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যক্তিটির নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে এই বিক্ষোভের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, জুলাই মাস থেকে যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, এবং এই ধরনের অর্থাৎ প্যালেস্টাইন সমর্থকদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত কয়েক শ’ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সূত্র: মিডেল ইস্ট আই।

  • ভারত سے ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপক তদন্তের দাবি

    ভারত سے ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপক তদন্তের দাবি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তদন্তের জন্য ভারতের কাছ থেকে জোরালো দাবি জানিয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা পিটিআই জানা গেছে, বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হাদিমুল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। এই বৈঠকে তাকে শহীদ হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও বিবরণী তদন্তের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

    বার্তাসংস্থা প্রবীণ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হাদিকে হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগ ওঠার পর নয়াদিল্লি বাংলাদেশকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করার অনুরোধ করলো। শহীদ হাদিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের গুলিতে হত্যা করা হয় এবং তার মৃত্যুর প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারত বিরোধী মিছিল ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের প্রতি নাখোশের মনোভাব বাড়ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    আরও জানা গেছে, এর আগেও ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব তাঁকে ডেকে জানিয়েছিলেন, শিলিগুড়ি ও ঢাকা অঞ্চলের বাংলাদেশি কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সাথে দেশের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য জোর দাবি জানানো হয়।

    ২৯ নভেম্বর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রণয় ভার্মাকে আবারো তলব করা হয়েছিল। এরপর ১৪ ডিসেম্বর আবারো তাঁকে তলব করে বাংলাদেশের পক্ষ। এ সবকিছুই 보여 দেয় বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা।

    উল্লেখ্য, শহীদ হাদিকে হত্যার পর ভারতের দূতাবাসের সামনে তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই ঘটনার পর বাংলাদেশে ভারত বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠে।

  • ত্রিপুরায় মোতায়েন ভারতীয় সেনা ব্যাটালিয়ন: ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

    ত্রিপুরায় মোতায়েন ভারতীয় সেনা ব্যাটালিয়ন: ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

    বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরায় বিশেষ একটি সেনা ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। তিনি জানান, পাকিস্তানের বা অন্য কোন বাহিনীর ষড়যন্ত্র ঠেকাতে এবং সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেসব সেনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতের সেনাবাহিনীর অংশ ছিল এবং পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, সেই সেনাদের একটি ব্যাটালিয়ন বর্তমানেও ত্রিপুরায় অবস্থান করছে। 

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনার মাউন্টেন ডিভিশন, বিশেষ করে ২০তম, ৮ম, ৬ষ্ঠ ও ৪র্থ ডিভিশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা বর্তমান বাংলাদেশেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে সেনা উপস্থিতি অনেকেরই একদম স্পষ্ট নয়, কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের জন্য শারীরিক উপস্থিতির আবশ্যকতা তাদের নেই। তিনি দেন ‘অপারেশন সিন্দুর’ এর উদাহরণ হিসেবে, যেখানে এক ক্লিকে শত্রু ধ্বংস সম্ভব হয়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশে চলমান অস্থিতিশীলতার পেছনে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র রয়েছে। তার মতে, শেখ হাসিনাকে আন্দোলন থেকে সরাতে ব্যর্থ হলে বিভিন্ন মৌলবাদী, অপরাধী এবং চোর বাংলাদেশের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে। আরও তিনি উল্লেখ করেন, মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়াও ভারতের বিরোধী শক্তির পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত তিনি বোঝান, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ত্বে ভারতের সুরক্ষা পুরোপুরি নিশ্চিত এবং দেশের দায়িত্বশীল নেতৃত্বে দেশ নিরাপদে রয়েছে।

    এদিকে, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা জটিলতা বিবেচনায় ভারত সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে, ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান ভারতীয় সেনা ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত শুক্রবার তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সংলগ্ন দক্ষিণ ত্রিপুরার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। কর্মকর্তারা করোনিয়া মহকুমার সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে, পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। ত্রিপুরার দীর্ঘ ৮৫৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের বড় অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন রয়েছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর.সি. তিওয়ারি ও তার দল সীমান্তের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন। অফিসাররা ভারতীয় সেনা, আসাম রাইফেলস ও বিএসএফের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি দেখেন এবং প্রশংসা করেন তাদের পেশাদারিত্বের জন্য। এভাবে, ভারতীয় বাহিনী সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

  • তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ার সেনা প্রধান

    তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ার সেনা প্রধান

    তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনা প্রধান মোহাম্মед আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদসহ চারজন লিবিয়ান কর্মকর্তা শাহাদাতবরণ করেছেন। এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ ডেবেইবা। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এই দুর্ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করেন এবং জানান, আঙ্কারাতে থেকে ফিরছিলেন ওই বিমানে।

    প্রথমে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয় যখন এটি আঙ্কারার উদ্দেশে যাত্রা করছিল। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি আমাদের কাছে এক গভীর শোকের ঘটনা। দেশের জন্য, সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি বিশাল ক্ষতি। আমরা এমন সাহসী ব্যক্তিদের হারালাম যারা আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এবং দেশপ্রেমের সঙ্গে দেশের সেবা করে গেছেন।’

    অন্য নিহতরা হলেন গ্রাউন্ড ফোর্সেস চিফ অফ স্টাফ আল-ফিতৌরি ঘারিবিল, মিলিটারি ম্যানুফ্যাকচারিং অথরিটির পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাউই, আল-হাদ্দাদের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাউই দিয়াব এবং এক মিলিটারি ফটোগ্রাফার মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।

    আলজাজিরার প্রতিবেদনে একজন তুর্কি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় বিমানটির মধ্যে তিনজন ক্রু সদস্যও ছিলেন। দুর্ঘটনার আগে বিমানটি বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দিলে তারা জরুরি অবতরণের জন্য আবেদন করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক ফিরে আসতে পারেননি।

    প্রেসিডেন্সির কমিউনিকেশন ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, মোহাম্মদ আল-হাদ্দাদসহ তার চার সহযোগী এবং তিন ক্রু নিয়ে ওই প্রাইভেট জেট বিমানটি উড়ছিল। কিছুক্ষণ পরই বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে তারা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে জানায় এবং জরুরি অবতরণের অনুরোধ করে।

    তুরস্কের আভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, বিমানটি আঙ্কারার হয়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির উদ্দেশে উড়ছিল এবং কেসিককাভাক গ্রামসংলগ্ন হায়মানা অঞ্চলে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়।

    তুরস্কের একজন কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেছেন, এই দুর্ঘটনার ফলে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সন্ত্রাস বা অন্য ধরনের হামলার সন্দেহ পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, এই সফরে আসা লিবিয়ার সেনা প্রধান ও তার সঙ্গীরা আঙ্কারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বৈঠক করতে যান। তারা যে প্রাইভেট জেটে করে তুরস্কে এসেছিলেন, সেটি ছিল লিবিয়ার সরকারের ভাড়া করা একটি বিমান।

  • মমতার হুঁশিয়ারি: বাংলায় হাত দিলে দিল্লি কেড়ে নেব

    মমতার হুঁশিয়ারি: বাংলায় হাত দিলে দিল্লি কেড়ে নেব

    ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতির মাঝে সোমবার কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের কর্মীসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও শক্ত ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি যেমন বলেছেন, ‘‘বাংলায় হাত দিলে দিল্লি আমরা কেড়ে নেব।’’ একদিকে তিনি বিজেপির উদ্দেশ্যে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘‘বিজেপি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, সো-called ‘টোটাল অটোক্র্যাসি’ চলছে। ইতিমধ্যেই ৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি হিন্দু।’’ মমতা অভিযোগ করেন, এএসআইআরের দীর্ঘ প্রক্রিয়া হলেও তা স্বল্প সময়ে কার্যকর করা হচ্ছে বলে জনমনে সন্দেহ বিরাজ করছে। তিনি পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘ব্লান্ডার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘‘এটা পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়, পরিকল্পনা ছাড়া। বিজেপির মানসিকতা তাদের নিজের মতে সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা সম্পূর্ণ অগোছালো।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপির দাবি তাদের আরও দেড় থেকে দুই কোটি নাম বদলাতে হবে।’’ বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে তুলে মমতা সরাসরি বলেন, ‘‘বাংলায় জেলার লড়াই করুন, বাংলায় লড়াই করলে ওদের দিল্লিও কেড়ে নেব। চাইলে আমি নিজেও রেহাই দেব না, কিন্তু আমি শুধু মানুষের কথাই বলব।’’এছাড়া, ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বাস্তবপ্রায় কাজ হলেও, এর কোনও প্রভাব ভোটের ফলাফলে পড়বে না বলে ঘোষণা দেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন দিন দিন নির্দেশনা পাল্টে যাচ্ছে, ইতিমধ্যে অন্তত ২২ থেকে ২৪ বার নীতি পরিবর্তন হয়েছে। এর ফলে অবৈধ ভোটাররা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখবেন—বাদ পড়া ভোটাররা বাস্তবে আছেন কি না। যদি কোনও ভুল পাওয়া যায়, তাহলে তারা যেন যথাযথভাবে অভিযোগ জানাতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুক্তভোগী ভোটারদের সহযোগিতা করতে দলীয় প্রতিনিধি, বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে, এএসআইআরের খসড়া তালিকায় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫৮ লাখ ভোটার বাদ গেছে বলে জানা গেছে। ফলে, এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রাথমিকভাবে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকছে।

  • অবৈধ ১৯ অভিবাসীকে বাংলাদেশের পথে পাঠাল আসাম পুলিশ ও বিএসএফ

    অবৈধ ১৯ অভিবাসীকে বাংলাদেশের পথে পাঠাল আসাম পুলিশ ও বিএসএফ

    আসামের পুলিশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ১৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। তাদেরকে আসামের নগাঁও ও কার্বি আংলং জেলা থেকে আটক করা হয়। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অভিযাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এক ধরনের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া যেন শেষ না হয়, তার জন্য নিশ্চিত করে বলা হচ্ছে, তারা যেন জীবনের নতুন পথে ফিরে যায়। এ খবর জানিয়েছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল টাইমস অব ইন্ডিয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে (টুইটার) তিনি এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারত থেকে তারা উধাও হয়ে গেছে, আবার নিজেদের নরককূপে ফিরে গেছে।’ এছাড়া তিনি এও উল্লেখ করেছেন, ‘বার্তা স্পষ্ট—আসামে অবৈধভাবে থাকার কোনো সুযোগ নেই, শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত।’ অভিযানে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, আসামের জনসংখ্যা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন অবৈধ বসতি উচ্ছেদের অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। তাঁদের মতে, এই কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ আসামকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এক সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। কর্মকর্তারা আরও বলেন, এই অভিযান আসামের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার চলমান উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং এটি সরকারের অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান পরিষ্কার করে।