Category: আন্তর্জাতিক

  • ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু — যে বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে; খবরটি প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।

    ট্রাম্প এই বোর্ডের আজীবন বা অনির্দিষ্টকালের চেয়ারম্যান থাকবেন বলে জানা গেছে। তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এই স্থানে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, যেসব দেশ এক বিলিয়ন ডলার করে দেবে তারা বোর্ডের আজীবন সদস্য হয়ে উঠতে পারবে।

    একাধিক কূটনীতিক সতর্ক করেছেন যে ট্রাম্পের এই প্রতিষ্ঠান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে; ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, বোর্ডটি হয়ত ভবিষ্যতে জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করবে। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুস, হাঙ্গারি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভিয়েতনাম বোর্ডে যোগ দিয়েছে; সর্বশেষ সদস্য হিসেবে এতে যুক্ত হলো ইসরায়েল।

    এ সময় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যাদের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তারা যদি ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’-এ জায়গা পায়, তাহলে ওই সংস্থার নৈতিকতা ও বিশ্বসাম্য কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় গণহত্যার অভিযোগে কয়েকদিন আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি, গত বছরের নভেম্বরে তুরস্কও গাজায় গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    এসব অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ট্রাম্পের বোর্ডে নেতানিয়াহুর অন্তর্ভুক্তি বিতর্ক ও সমালোচনার নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে।

  • ট্রাম্পের ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি

    ট্রাম্পের ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কাবাস দিয়ে বলেছেন, যদি তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকে তবে ওই দেশকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। এই মন্তব্যের বিবরণ প্রথম দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য হিলে।

    ট্রাম্প মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনের ‘কেটি প্যাভলিচ টুনাইট’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, “তারা এমন কিছু করার চেষ্টা করলে তাদের উচিত নয়। আমি আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি—আমার সঙ্গে যদি কিছু ঘটে, তাহলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে।”

    তিনি জানান, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় জো বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে ব্রিফ করেছিলেন।

    এর আগে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড জানিয়েছেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্রের পেছনে ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা জড়িত থাকতে পারে। সোলাইমানিকে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে নিহত করা হয়েছিল।

    ট্রাম্প এই বিষয়ে আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা উচিত ছিল এবং প্রয়োজনে সাবেক ও বর্তমান নেতারা একে অপরকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে পারেন। তিনি বারবার বলছেন: “আমার স্পষ্ট নির্দেশনা আছে—যদি কিছু ঘটে, তারা পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে।”

    ট্রাম্প পূর্বেও জানিয়েছিলেন যে, যদি ইরান তার হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ এবং কূটনৈতিক সংযোগ রাখার বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।

    একই সময় ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন হাজারের বেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়েও ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এধরণের হত্যা বা প্রদর্শনকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জবাব দিতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে জানানো হয়েছে যে এসব হত্যাকাণ্ড আপাতত বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘গ্রাস’ করতে চায়।

    খামেনি বলেছেন, তারা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায় না, কিন্তু অভ্যন্তরীণ অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিকভাবে যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত—তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।

    এইভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চস্বর হুঁশিয়ারি ও পাল্টাপাল্টি অভিযুক্তি চলায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে’

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে’

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন — যদি তারা তার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র চালায় বা তাকে হত্যার হুমকি অব্যাহত রাখে, তবে ‘‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা’’ হবে বলে সতর্ক করেছেন। খবরটি প্রথমে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য হিল।

    ট্রাম্প মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘তারা যদি আমার বিরুদ্ধে এমন কিছু করে, তাহলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে—আমি এ ব্যাপারে আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি।’’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে ব্রিফ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সরাসরি মুখ খুলে কথা বলা উচিত ছিল এবং প্রয়োজনে সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একে অপরকে রক্ষা করা উচিত।

    তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডের কাছ থেকে উদ্ধৃত এক তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইরানি কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার নেপথ্যে থাকতে পারে এমন ষড়যন্ত্র। সোলাইমানিকে ২০২০ সালে ট্রাম্প সরকারের সময়ই একটি মার্কিন বিমান অভিযানেই নিহত করা হয়।

    ট্রাম্প বলেন, তিনি আগেও প্রশাসনিক পর্যায়ে এধরনের কঠোর অবস্থান নিয়েছেন—এমনকি এক সময়ে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন যদি তারা তাকে হত্যার চেষ্টা করে। তবে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তারা এমন কোনও কাজ করেনি; করলে ‘‘এটি তাদের জন্য ভয়াবহ ফল বয়ে আনত।’’

    সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এসব ঘটনার মধ্যেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আরোপ করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে—যদিও তাকে জানানো হয়েছে যে সাম্প্রতিক সময়ে এসব হত্যার ঘটনা আপাতত বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটিকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে খামেনি দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘গ্রাস’ করতে চায় এবং বাইরের শক্তির পরিকল্পনা দেশকে দুর্বল করার উদ্দেশ্য বহন করে। তিনি সেপ্টেম্বর করে বলেছেন, দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে তারা আগ্রহী নয়; কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কারওও ছাড় দেওয়া হবে না।

    এই তপ্ত বিবাদে প্রতিপক্ষ দু’পক্ষের বক্তব্যই ঘটনাস্থল ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি ও ইরানের নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে সংকট কেমন ভাবে বেড়ে উঠে তা নিঃসন্দেহে নজরকাড়া বিষয় হয়ে পড়েছে।

  • ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত শান্তি পরিষদ ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।

    ট্রাম্প নিজেকে বোর্ডের আজীবন—or অনির্দিষ্টকালীন—চেয়ারম্যান রাখা করেছেন এবং তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতাদের এতে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যারা বোর্ডে আজীবন সদস্য হতে চান, তাদের প্রতি দেশ ১ বিলিয়ন ডলার করে দেবে এমন শর্ত রয়েছে।

    এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুস, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভিয়েতনাম এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে; সর্বশেষ তালিকায় ইসরায়েলও যুক্ত হলো। কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, ট্রাম্পের এই প্রতিষ্ঠান যদি শক্তি বা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তবে তা হয়তো জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে—এমন সম্ভাবনাকেও ট্রাম্প নিজে উস্কে দিয়েছেন।

    তবে নেতানিয়াহুর যোগদানকে নিয়ে বিতর্ক তীব্র। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং কিছু দেশ তাকে গাজার ঘটনায় দায়ী করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে—যার ফলে অনেকের কাছে তাকে ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে নেওয়া সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্ক গত বছরের নভেম্বরে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে নেতানিয়াহু ও তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    এই পটভূমিতে নেতানিয়াহুর মতো বিতর্কিত নেতাকে বোর্ড অব পিসে তুলে নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন না করে সমালোচনা করায় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সমালোচকরা বলছেন, এমন অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক ন্যায় ও মানবाधিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত এই মঞ্চ বিশ্ব কূটনীতি ও শান্তির প্রচেষ্টাকে ধাঁধাঁতে ফেলতে পারে।

  • নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার কারণে ভাবনা বদলে যাচ্ছে ট্রাম্পের

    নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার কারণে ভাবনা বদলে যাচ্ছে ট্রাম্পের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার কারণে তিনি এখন আর কেবল শান্তির দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য নয়। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রية জোনাস গার স্টোরকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প এই বার্তা ব্যক্ত করেন, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, এই চিঠিটি প্রথম প্রকাশিত হয় পিবিএস নিউজআওয়ারএর পররাষ্ট্র-বিষয়ক সংবাদদাতা নিক শিফ্রিনের মাধ্যমে। পরে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে।

    চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘প্রিয় জোনাস, ৮টি যুদ্ধ সফলভাবে বন্ধ করার পরও যখন আপনার দেশের সিদ্ধান্তে আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি, আমি আর শুধুমাত্র শান্তির কথাই ভাবতে বাধ্য হচ্ছি না। যদিও শান্তি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ, এখন আমি কেবল আমার দেশের জন্য কী প্রকৃতভাবে উপযুক্ত, তা ভাবতে পারি।’

    এখানে তিনি গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছাড়া দ্বীপটিকে রাশিয়া বা চীন থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘ডেনমার্ক এই ভূখণ্ডকে রক্ষায় অসমর্থ, এবং যদি আমাদের নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে এ অঞ্চল নিরাপদ নয়’।

    নরওয়ের সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-কে স্টোর জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই চিঠি তিনি আগেই ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথভাবে ট্রাম্পকে পাঠানো এক বার্তার জবাবে পেয়েছেন। ওই বার্তায় উভয় দেশ ও অন্যান্য দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার বিরোধিতা করা হয়েছিল।

    স্টোর আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, প্রেসিডেন্ট স্টাব, ও আমার মধ্যে একটি ফোনালাপের অনুরোধ প্রকাশ করেছি’। তিনি আরও বলেছেন, নরওয়ের অবস্থান গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে অপরিবর্তিত থাকবে।

    অর্থাৎ, ট্রাম্পের দাবিকে নরওয়ের সরকার প্রত্যাখ্যান করে বলে স্টোর নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, এই পুরস্কার নরওয়ে সরকার নয়, স্বতন্ত্র নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি দিয়ে থাকে।

    শেষে, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যাল-এ একই বিষয়ের বক্তৃতা পুনরাবৃত্তি করে লিখেছেন, ‘আর্কটিক অঞ্চলে যে নিরাপত্তা হুমকি বিদ্দমান, তা মোকাবিলার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’ এ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

  • কলকাতা বইমেলায় এবারও বাংলাদেশের বাদ, যুক্তরাষ্ট্রও থাকছে না

    কলকাতা বইমেলায় এবারও বাংলাদেশের বাদ, যুক্তরাষ্ট্রও থাকছে না

    এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশকে যেনো আর স্থান দেওয়া হচ্ছে না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই প্রগতিশীল ও জনপ্রিয় বইমেলায় দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন থাকছে না। তবে প্রতি বছর সেখানে বাংলাদেশের বই বিক্রি থেকে কোনও বাধা পড়ছে না, এমন তথ্য বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
    প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের উপস্থিতি ২০২৩ সালে ছিল না, এর আগে প্রতিবছরই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশক এই মেলায় অংশ নিতেছিলেন। সেই সময় পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল, বাংলাদেশি লেখকদের বই বিক্রি খুবই ভালো হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও সরকারের নতুন নির্বাচন আসার পর থেকে বাংলাদেশ থেকে মেলায় অংশ গ্রহণ বন্ধ হয়ে গেছে।
    অ্যাডভোকেসি গ্রুপ গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি আজ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের তরফ থেকে এবার মেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে তাদের অংশ নেওয়া ঠেকানো হয়েছে।’ এই তথ্যটি কলকাতায় থাকা বাংলাদেশের উপদূতাবাসেরও নিশ্চিত করেছে।
    ত্রিদিব আরও জানিয়েছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে যে সম্পর্ক, তাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের মেলায় যোগদান নিষেধ। সেই অনুমতিপত্র এখনো আসেনি, তাই বাংলাদেশ এই মেলায় অংশ নিতে পারছে না। তবে যদি কেউ কোনও স্টলে বাংলাদেশের বই রাখে, তাহলে আমাদের কোন আপত্তি নেই।’
    এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র, যে প্রতিবছর মেলার নিয়মিত অংশীদার ছিল, এবারের মেলায় থাকছে না। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে बजেটের সমস্যা বা বাজেট বরাদ্দের অভাবে। তবে ভালো খবর হলো, দীর্ঘ ১৫ বছর পর এবার মেলায় চীনের প্যাভিলিয়ন ফিরে এসেছে এবং প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ইউক্রেন।
    অন্যদিকে, এই বছরের মেলার থিম দেশ হচ্ছে আর্জেন্টিনা। মোট ২১টি দেশ এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় এক হাজারের বেশি প্রকাশক অংশ নেবেন। ২২ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, যা চলবে শেষ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলা উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই স্থায়ী ‘বইমেলার প্রাঙ্গণে’ স্থান পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

  • ট্রাম্পের হুমকি: পৃথিবী থেকে ইরানকে ‘মুছে ফেলা’ সম্ভাবনা

    ট্রাম্পের হুমকি: পৃথিবী থেকে ইরানকে ‘মুছে ফেলা’ সম্ভাবনা

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে যদি তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকে, তবে দেশটিকে ‘পৃথিবী থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হবে’। মার্কিন এক গণমাধ্যম, দ্য হিল, এই খবর প্রকাশ করেছে।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) তিনি নিউজ নেশনের সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ‘কেটি প্যাভলিচ টুনাইট’ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের হুমকি তারা দিতেই পারে না। তবে আমি আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি—যদি কিছু ঘটে, তাহলে পুরো ইরানকেই ধ্বংস করে দেয়া হবে।

    তিনি জানান, তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া এক ব্রিফিং, যেখানে ইরানের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়েছিল।

    প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানিকে এক মার্কিন অভিযানে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড মন্তব্য করেন, এই হত্যার পেছনে ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানির দায় থাকতে পারে, যা সম্ভবত প্রভাবিত হয়েছে দেশটির শীর্ষ সামরিক স্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য।

    ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উচিত ছিল এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা। বর্তমান ও সাবেক নেতাদের মধ্যে এ বিষয়ে একে অপরকে রক্ষা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আমার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—যদি কিছু ঘটে, তবে ইরান বোর্ডের বাইরে চলে যাবে।

    আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরান যদি তার জীবন সংক্রান্ত কোনও হুমকি দেয়, তবে তা দেশটিকে ধ্বংস করে দেবে। তখন তিনি এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক পথে সমাধানের রাস্তা খোলা রেখেছিল।

    তিনি বলেছেন, ইরান যদি তার জীবন হুমকি দেয় বা কিছু করে, তবে তা খুবই ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনবে। অন্যান্য দেশের মতো আমি ব্যক্তিগতভাবে এটাকে অগ্রাহ্য করিনি—কারণ তা যদি হয়, তাহলে ইরান কোনও অস্তিত্বই রাখত না।

    অন্যদিকে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী সহ ৩,৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে তার আরাক্টিক শক্তি ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। তবে এ মুহূর্তে জানা গেছে, এসব হত্যা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে দেশটিকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে (ট্র্যাভেল) তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দখল করার চেষ্টা করছে।

    খামেনি আরও বলেন, আমরা চাই না আমাদের দেশ যুদ্ধের দিকে যাওুক। তবে দেশের ভেতরের অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া হবে না, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধীদেরও ছাড় দেওয়া হবে না—তাদের জন্য হয়েছে কঠোর সতর্কতা।

  • জাতিসংঘ বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়

    জাতিসংঘ বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়

    বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জাতিসংঘ গুরুত্ব দিচ্ছে।

    জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে কথা বলেন মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক। এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কিত প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, জাতিসংঘের ইচ্ছা, দেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

    ফারহান হক জানান, জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে বলেছে, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন এবং তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবেন। তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনের সময় এবং পরে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মনোভাব জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, যাতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

    এই মন্তব্যের সময় এমন এক পরিস্থিতিতে যখন দেশটিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্রুত আগাচ্ছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

  • করাচিতে শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ২৮, নিখোঁজ ৮১

    করাচিতে শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ২৮, নিখোঁজ ৮১

    পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কেন্দ্র করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এই দুর্ঘটনায় নিহত সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    গুল প্লাজা করাচির সবচেয়ে বড় শপিংমালগুলোর একটি। ১৯৮০ সালে নির্মিত এই চারতলা মার্কেটের ক্ষেত্রফল একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় এবং এতে এক হাজার ২ শ’য়ের বেশি দোকান রয়েছে। আগুন লাগার ঘটনায় অধিকাংশ দোকানই সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    প্রতক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়। শুকনো আবহাওয়ার কারণে দ্রুত এই আগুন পুরো কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা পরেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে, হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার মূল কারণ হিসেবে গুল প্লাজার কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা।

    করাচির ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, গুল প্লাজার মোট গেটের সংখ্যা ২৬টি। তবে, এর মধ্যে ২টি ছাড়া অন্য সবগুলো винаই বন্ধ থাকতো। আগুনের সময়ও সেগুলো খোলা ছিল না, ফলে শত শত মানুষ আস্তে থাকাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। একই সঙ্গে জানা গেছে, মার্কেটের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা বাকেও নষ্ট ছিল।

    প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে করাচিতে এত বড় আকারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। আহত ও নিহতদের সবাইকে করাচির সিভিক হাসপাতালে আনা হয়েছে, যেখানে এ পর্যন্ত ৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

    ডাক্তার সুমাইয়া সাঈদ জানিয়েছেন, নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, এখনো ৮১ জন নিখোঁজের মধ্যে ৭৪ জনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুধবার প্রথম তলায় উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে।

    গুরুত্বপূর্ণ এই শহর করাচি, পাকিস্তানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিন্ধের রাজধানী। এটি দেশের প্রধান বন্দরশহর, যেখানে দেশের ৮০ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য হয়।

    গভর্নর কামরান তেসোরি এই দুঃখজনক ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের জন্য গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • চীনের ঘটনাচক্রে সর্বনিম্ন জন্মহার রেকর্ড

    চীনের ঘটনাচক্রে সর্বনিম্ন জন্মহার রেকর্ড

    চীনে ইতিহাসের সবচেয়ে কম জন্মহার দেখা যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর শুধুমাত্র প্রতি হাজারে ৫.৬ সন্তান জন্মগ্রহণ করেছেন, যা ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বনিম্ন। এই কমতায় দেশটির জনসংখ্যা সঙ্কট আরও গভীর হয়েছে।

    সরকারের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে চীনে নবজাতকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন, যা আগের বছরে থেকে প্রায় এক দশমিক ৬ মিলিয়ন কম। এই হার ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর ফলে শুধু জন্মহারই নয়, মোট জনসংখ্যাও কমছে। গত বছর দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ কমে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে চার বছর ধরে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

    বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও গবেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপে এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে অনেক তরুণরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নিতে দেরি করছে বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান ধারণের উপযুক্ত সময়ে নারীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা এই পরিস্থিতির মূল কারণ।

    অবশ্য, এই বিপর্যয়ের মাঝেও চীনের অর্থনীতি কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। ২০২৫ সালে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশের নির্ধারিত লক্ষ্যের ঘরে। তবে, জনসংখ্যার এই ধস ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চীনে মোট ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, যেখানে মারা গিয়েছেন প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষ। এর ফলে দেশেরজনসংখ্যা কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তবে বিয়ের সংখ্যাও কমে গিয়ে সাম্প্রতিক চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচে পৌঁছেছে, যেখানে মাত্র ৬ দশমিক ১ মিলিয়ন দম্পতি নিবন্ধন করেছেন বিয়ের জন্য, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০% কম। একদিকে বিবাহবিচ্ছেদের হার কিছুটা বেড়ে গেছে।