করাচিতে শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত ২৮, নিখোঁজ ৮১

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কেন্দ্র করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এই দুর্ঘটনায় নিহত সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গুল প্লাজা করাচির সবচেয়ে বড় শপিংমালগুলোর একটি। ১৯৮০ সালে নির্মিত এই চারতলা মার্কেটের ক্ষেত্রফল একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় এবং এতে এক হাজার ২ শ’য়ের বেশি দোকান রয়েছে। আগুন লাগার ঘটনায় অধিকাংশ দোকানই সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়। শুকনো আবহাওয়ার কারণে দ্রুত এই আগুন পুরো কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা পরেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে, হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার মূল কারণ হিসেবে গুল প্লাজার কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা।

করাচির ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, গুল প্লাজার মোট গেটের সংখ্যা ২৬টি। তবে, এর মধ্যে ২টি ছাড়া অন্য সবগুলো винаই বন্ধ থাকতো। আগুনের সময়ও সেগুলো খোলা ছিল না, ফলে শত শত মানুষ আস্তে থাকাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। একই সঙ্গে জানা গেছে, মার্কেটের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা বাকেও নষ্ট ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে করাচিতে এত বড় আকারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। আহত ও নিহতদের সবাইকে করাচির সিভিক হাসপাতালে আনা হয়েছে, যেখানে এ পর্যন্ত ৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

ডাক্তার সুমাইয়া সাঈদ জানিয়েছেন, নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, এখনো ৮১ জন নিখোঁজের মধ্যে ৭৪ জনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুধবার প্রথম তলায় উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই শহর করাচি, পাকিস্তানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিন্ধের রাজধানী। এটি দেশের প্রধান বন্দরশহর, যেখানে দেশের ৮০ শতাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য হয়।

গভর্নর কামরান তেসোরি এই দুঃখজনক ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের জন্য গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।