কলকাতা বইমেলায় এবারও বাংলাদেশের বাদ, যুক্তরাষ্ট্রও থাকছে না

এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশকে যেনো আর স্থান দেওয়া হচ্ছে না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই প্রগতিশীল ও জনপ্রিয় বইমেলায় দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন থাকছে না। তবে প্রতি বছর সেখানে বাংলাদেশের বই বিক্রি থেকে কোনও বাধা পড়ছে না, এমন তথ্য বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের উপস্থিতি ২০২৩ সালে ছিল না, এর আগে প্রতিবছরই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশক এই মেলায় অংশ নিতেছিলেন। সেই সময় পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল, বাংলাদেশি লেখকদের বই বিক্রি খুবই ভালো হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও সরকারের নতুন নির্বাচন আসার পর থেকে বাংলাদেশ থেকে মেলায় অংশ গ্রহণ বন্ধ হয়ে গেছে।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপ গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি আজ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের তরফ থেকে এবার মেলায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে তাদের অংশ নেওয়া ঠেকানো হয়েছে।’ এই তথ্যটি কলকাতায় থাকা বাংলাদেশের উপদূতাবাসেরও নিশ্চিত করেছে।
ত্রিদিব আরও জানিয়েছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে যে সম্পর্ক, তাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের মেলায় যোগদান নিষেধ। সেই অনুমতিপত্র এখনো আসেনি, তাই বাংলাদেশ এই মেলায় অংশ নিতে পারছে না। তবে যদি কেউ কোনও স্টলে বাংলাদেশের বই রাখে, তাহলে আমাদের কোন আপত্তি নেই।’
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র, যে প্রতিবছর মেলার নিয়মিত অংশীদার ছিল, এবারের মেলায় থাকছে না। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে बजেটের সমস্যা বা বাজেট বরাদ্দের অভাবে। তবে ভালো খবর হলো, দীর্ঘ ১৫ বছর পর এবার মেলায় চীনের প্যাভিলিয়ন ফিরে এসেছে এবং প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ইউক্রেন।
অন্যদিকে, এই বছরের মেলার থিম দেশ হচ্ছে আর্জেন্টিনা। মোট ২১টি দেশ এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় এক হাজারের বেশি প্রকাশক অংশ নেবেন। ২২ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, যা চলবে শেষ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলা উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই স্থায়ী ‘বইমেলার প্রাঙ্গণে’ স্থান পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।