বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন যে, মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা ও কার্যক্রম সক্রিয় করার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগদকে বেসরকারিকরণ করার। তিনি বলেন, আমরা এই খাতে আরও বেশি প্রতিযোগিতা এবং উদ্ভাবন আনতে চাই, এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বিনিয়োগকারীদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হবে। এই ঘোষণা তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বললেন, বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে। তিনি আরও জানান, ‘আমরা সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করব।’ গভর্নর বলেন, বর্তমানে দেশের ডাক বিভাগের অধীনে থাকা নগদকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, কারণ এখন তাদের এটি চালানোর সক্ষমতা নেই। তিনি বলেন, ‘নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে আনা জরুরি।’ আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা নগদকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারব যাতে এটি মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে এক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসতে পারে। সূত্র: শীর্ষনিউজ।
Category: অর্থনীতি
-

ন্যূনতম কর আইন একটি কালো আইন: এনবিআর চেয়ারম্যান
ন্যূনতম কর আইনকে একটি কালো আইন হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, এটি একটি স্বাভাবিক বিশ্বাসের বিষয় যে, করের মাধ্যমে ব্যবসার মুনাফার উপরই আয় করা উচিত। 그러나 এই ন্যূনতম কর নির্ধারণের মাধ্যমে অনেক পরিস্থিতিতে মূল করের হার থেকে আলাদা করে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারিত হচ্ছে, যা সত্যিই সমস্যা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেছেন, যখন এই ধরনের আইনের বাস্তবায়ন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে, তখনই দেশের কর রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই বছর ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, কারণ ব্যবসায়ীদের সুবিধা না দিলে রাজস্ব সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়বে।
-

বাংলাদেশে তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশ, খাবারে খরচ ৫৫ শতাংশ
তিন বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হার বেড়েই চলেছে, যা প্রতিনিয়ত উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, যা সরকারি হিসেব অনুযায়ী ২০২২ সালে ছিল প্রায় ১৮.৭ শতাংশ। এটি δείকে স্পষ্ট যে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে, যেখানে জানানো হয় যে দারিদ্র্য বাড়ার এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ওই গবেষণার শিরোনাম: ‘ইকনোমিক ডায়নামিক্স এ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান। তিনি গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং জানান যে, অতি দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২০২২ সালে এই হার ছিল ৫.৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে এসে বৃদ্ধি পেয়েছে ৯.৩৫ শতাংশে। এর মানে, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্য হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এখনও প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার যখন-তখন গরিব হয়ে যেতে পারে। গবেষণাটি মে মাসে ৮,০৬৭ পরিবারের ৩৩,২০৭ জনের মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সংকট—কোভিড মহামারি (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা—এগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়াও, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, করোনা মহামারীর পর ঘুষের প্রবণতাও কমলেও, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত বছর আগস্টের আগে যেখানে ব্যবহৃত ঘুষের হার ছিল ৮.৫৪%, সেখানে আগস্টের পরে এটি কমে ৩.৬৯% এ নেমে এসেছে। সরকারি অফিস, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে বেশি ঘুষ নেওয়া হয়। শহরের পরিবারের আয় কমলেও খরচ বেড়েছে, ফলে জীবনযাত্রার মান আরও Challenging হয়ে উঠেছে। শহরের এক পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল প্রায় ৪০,৫৭৮ টাকা, যা খরচ হয় ৪৪,৯৬১ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামীণ পরিবারের গড় আয় কিছুটা বেড়ে ২৯,০২০৫ টাকা হয়েছে, তবে খরচ ২৭,১৬২ টাকা। মোটামুটিভাবে দেশের গড় আয় ৩২,৬৮৫ টাকা হলেও খরচ দাঁড়িয়েছে ৩২,৬১৫ টাকা, অর্থাৎ সঞ্চয় করার সুযোগ খুবই সীমিত। মূলত, এক পরিবারের মোট খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থ খাবারে খরচ হয়, যার অর্থ দাঁড়ায় মাসে গড়ে ১০,৬১৪ টাকা। এছাড়া, শিক্ষার জন্য খরচ হয় ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা এবং আবাসনে ১,৮৯ টাকা। হোসেন জিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় মোটামুটি বড় অর্থনীতির দিকে নজর দিচ্ছে। জনমুখী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা খুবই জরুরি। সমতা, বৈষম্যহীনতা এবং নাগরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে সেগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাঁচটি নতুন ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র রয়েছে পরিস্থিতি উন্নত করতে, যেমন দীর্ঘস্থায়ী রোগের বেড়ে চলা বোঝা, নারী প্রধান পরিবারের দুর্বলতা, ঋণের বোঝা, খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষরণ ও স্যানিটেশন সংকট। মূলত, চলমান সংকটগুলো মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করে হোসেন জিলুর রহমান বলেন, দেশে বেকারত্বের সমস্যার মোকাবিলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি যেন সরকারের মূল লক্ষ্য হয়, পাশাপাশি বৈষম্য দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। এসব উদ্যোগ দেশের সমৃদ্ধির পথে বড় ধাপ হবে।
-

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার বেশি 되었েছে, এবং এটি ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার দিনের শেষে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এই অর্থ সংরক্ষণ স্থিতি গ্রস রিজার্ভ হিসেবে ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলার পৌঁছেছে। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে, গত রোববার, দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ছিল ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ ২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু)। পরবর্তীতে, দেশের রিজার্ভ কমে গিয়ে ২৯.৫৩ বিলিয়ন ডলারমূল্য দাঁড়ায়। বিপিএম৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের উন্নতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণের কারণে, জুনের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, মার্চ ২০২৩ সালের শুরুতে, রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে গিয়েছিল। একই সময়ে, বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার।
২০২৩ সালের জুনে, আইএমএফের শর্ত মেনে কেড়েণ্ট্রি ব্যাংক বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ প্রকাশ করছে। তখন, রিজার্ভ ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে, ২০২১ সালের আগস্টে রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ দেখা গিয়েছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে, ২০২৩ সালের জুলাই শেষের দিকে, মাত্র ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। সরকারের পতনের পর, অর্থপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণ কঠোর হওয়ায়, ডলার প্রবাহ বেড়েছে। উচ্চ হুন্ডি রোধে, প্রবাসী আয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
-

সরকার ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে যে, গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব They’ve received। আজ (২৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ৫ম সভায় এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত বিনিয়োগের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, স্থানীয় বিনিয়োগ ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন ডলার। এ সময় সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব আসে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। এই প্রস্তাবগুলোকে বিবেচনা করে দেখানো হয়, এখন পর্যন্ত এ ধরনের বিনিয়োগের প্রায় ১৮ শতাংশ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্বজুড়ে সাধারণত রূপান্তরের হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে থাকে বলে জানা গেছে।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানোর জন্যও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বন্দরে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি কন্টেইনার পড়ে আছে। বর্তমান সরকারের সময় গত দুই মাসে প্রায় ১ হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিলাম কার্যক্রম আরও গতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়।
আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলা এবং পণ্য হস্তান্তর কাজ চালু থাকছে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালুর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিডা, বেজা, বেপজা এবং বিসিকের বিভিন্ন পরিষেবাগুলোর একত্রিকরণ প্রায় শেষের দিকে।
আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সফট লঞ্চিং এবং শেষের দিকের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি পুরোপুরি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সভায় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যারা দেশের বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও সহজ করে তুলতে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
-
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলারের הגבুলে পৌঁছেছে। বুধবার দিনশেষে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ এখন ৩১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক মনিটরি ই মিনিস্টার ফর অ্যাফেয়ার্স (আইএমএফ) এর হিসাব পদ্ধতি, বিপিএম ৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ অবস্থান ২৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে, গত রোববার, বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার, এবং বিপিএম ৬ এর হিসেবে সিঁড়িতে ২৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এই তথ্যগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
প্রায় তিন মাস আগে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) এর মাধ্যমে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে। এর ফলে গ্রস রিজার্ভ কিছুটা কমে এসে ২৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়নে এসে পৌঁছায়, আর বিপিএম অনুসারে তা পড়ে ২৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়নে।
অপর দিকে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দেয়া ঋণের কারণে, গত জুন মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে। এটি ছিল গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে রিজার্ভ আবার ৩২ বিলিয়ন ডলার নিচে নেমেছিল। একই সময় আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, বিপিএম ৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগে ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে যেতে শুরু করে। গত জুলাই শেষে, অর্থাৎ অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আগে, রিজার্ভ ছিল মাত্র ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। তবে, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, বৈদেশিক সাহায্য এবং অর্থের প্রবাহে পরিবর্তনের ফলস্বরূপ, প্রবাসী আয় বেড়ে ২৭ শতাংশের বেশি, যাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় আরও ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগ, রপ্তানি, রেমিটেন্সসহ নানা দিকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্টক উন্নতির ধারায় রয়েছে।
-

গভর্নর: ৭-৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্যাশলেস অর্থনীতির কেন্দ্র
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্যাশলেস লেনদেনের ভিত্তি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রেক্ষাপটে পরিণত হবে যেখানে নগদে না যাওয়া লেনদেনই সাধারণ হবে।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে একটি উন্নয়ন কৌশল বিষয়ক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন। গভর্নর উল্লেখ করেন, নগদ লেনদেনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও কর ফাঁকি বেড়ে যায়, তাই এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদি এটি সফল হয়, তবে সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও स्थায়ী হয়ে উঠবে। এর পাশাপাশি, নতুন ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন চালু করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যাতে সমাজের সব স্তরই এর সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
গভর্নর মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ‘ন্যানো লোন’ এর প্রসার নিয়ে বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হজার মানুষ এই ধরনের ঋণ সুবিধা গ্রহণ করছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঋণের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা।”
-

বাধ্যতামূলক ছুটিতে বিএফআইইউ প্রধান
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এই খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গভর্নর বলেন, বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় শাহীনুল ইসলাম আপাতত ছুটিতে থাকবেন। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
-

২৩ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পৌনে দুই বিলিয়ন ডলার
দেশে চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২৩ দিনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১ হাজার ৩৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকায় হিসাব করে)। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম ২৩ দিনে মোট ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৩৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার, বিশেষত দুই ব্যাংকের মধ্যে একটি কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১০৯ কোটি ৭১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। পাশাপাশি, বিদেশি ব্যাঙ্কগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। তবে, এ সময়ে ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনও রেমিট্যান্স আসেনি। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, আইসিডি ইসলামিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
এর আগে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। তবে, ওই মাসে ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনও রেমিট্যান্স আসেনি।
অতীতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স রেকর্ড হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে, ওই অর্থবছর (২০২৪-২৫) প্রবাসী আয়ে এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা ও প্রবাসীদের জন্য আয়ের সহজ পথ সৃষ্টি করায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে।
-

তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮ শতাংশে; খাবারের জন্য খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে
তিন বছর আগের তুলনায় দেশের দারিদ্র্য হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যা বর্তমানে প্রায় ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), যা জানিয়েছে, ২০২২ সালে দারিদ্র্য হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সম্প্রতি, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এক গবেষণা ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান দারিদ্র্য, অতি দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব বিষদভাবে বিশ্লেষণ করেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অতি দারিদ্র্যের হারও বাড়ছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে। অর্থাৎ, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়কালে চলমান ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে এই গবেষণা চালানো হয়, যেখানে প্রায় ৩৩ হাজার ব্যক্তির জীবনমানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ মহামারি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এই সংকটগুলোকে আরও জটিল করে তোলে। পিপিআরসি বলেছে, গত আগস্টের আগে মানুষের মধ্যে ঘুষ দেওয়ার প্রবণতা ৮.৫৪ শতাংশ হলেও সে হার এখন কমে ৩.၆৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে, সবচেয়ে বেশি ঘুষের কার্যক্রম হচ্ছে সরকারি অফিসে, এরপর পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনুসারে, শহরের পরিবারের মাসিক গড় আয় কমে যাচ্ছে, তবে খরচ বাড়ছে। শহরের গড় আয় এখন ৪০,৫৭৮ টাকা, যা ২০২২ সালে ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামে পরিবারগুলোর গড় আয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২৯,০২০৫ টাকা, খরচ ২৭,১৬২ টাকা। সামগ্রিকভাবে জাতীয় স্তরে, গড় আয় ৩২,৬৮৫ টাকা, আর খরচ ৩২,৬১৫ টাকা, অর্থাৎ সামান্য সঞ্চয় বা অবশিষ্টাংশ থাকছে না।
উল্লেখ্য, এক পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ অর্থ খরচ হয় খাবার পূরণের জন্য। মাসে গড়ে এই পরিবারের খাবারে খরচ হয় ১০,৬১৪ টাকা। এছাড়া শিক্ষায় ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা ও আবাসন খাতে ১,০৮৯ টাকা করে খরচ হয়।
নেতৃত্ববলে, হোসেন জিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু জিডিপির দিকে তাকিয়ে না থেকে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা এবং নাগরিকের কল্যাণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যেমন দীর্ঘস্থায়ী রোগের বৃদ্ধি, নারী প্রধান পরিবারের দুর্বলতা, ঋণের বোঝা, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং স্যানিটেশন সংকট।
বিশেষ করে, দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি বিবেচনায়, বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন পরিকল্পনা ও দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি উচ্চারণ করেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধানে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যেন দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জীবন মান উন্নত হয়।
