Category: অর্থনীতি

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮%, খাবারে খরচ বেশি

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে ২৮%, খাবারে খরচ বেশি

    তিন বছরের ব্যবধানে দেশের দারিদ্র্য হার কোনো উন্নতি না হওয়ার পরিবর্তে বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, অর্থাৎ ২৭ দশমিক ৯৩। গত ২০২২ সালে সরকারের হিসাব অনুযায়ী এই হার ছিল মাত্র ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘ইকনোমিক ডায়নামিক্স এ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এর ফলাফলের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান এই গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা গেছে, অতি দারিদ্র্যের হারও এই সময়ে বেড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে এসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর অর্থ হলো, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্যের পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার যে কোনও মুহূর্তে গরিব হয়ে যেতে পারে। এই গবেষণা মে মাসে ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩,২০৭ জন ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, দেশের তিনটি মূল সংকটের প্রভাব এখনো চলমান। এগুলো হলো- কোভিড মহামারির ধাক্কা (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এই পরিস্থিতিতে, গত বছরের আগস্টের আগে যেখানে মানুষদের মধ্যে ৮.৫৪ শতাংশ সেবা নিতে ঘুষ দিয়েছেন, সেখানে এই হার এখন কমে ৩.৬৯ শতাংশে এসেছে। তবে এখনও অনেক সরকারি দপ্তর এবং পুলিশের সঙ্গে মানুষজনের ঘুষ লেনদেন অব্যাহত রয়েছে।

    শহরের পরিবারগুলোর আয় কমছে, কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে বলে জানান গবেষকরা। শহরের একটি গড় পরিবার মাসিক গড় আয় ৪০,৫৭৮ টাকা, যেখানে খরচ হয় ৪৪,৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে এই গড় আয় ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামে পরিবারের গড় আয় কিছুটা বাড়লেও খরচও বেড়েছে। গ্রামাঞ্চলের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় এখন ২৯ হাজার ২০৫ টাকা, যেখানে খরচ হয় ২৭ হাজার ১৬২ টাকা। ২০২২ সালে এই পরিবারের আয় ছিল ২৬ হাজার ১৬৩ টাকা। সার্বিকভাবে জাতীয়ভাবে দেখা যায়, এক পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা, আর খরচ ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। সঞ্চয়ের কোনও জায়গা নেই বললেই চলে।

    পিপিআরসির গবেষণায় আরও দেখানো হয়েছে, এক পরিবারের মাসিক খরচের প্রায় ৫৫ শতাংশ খরচ হয় খাদ্য খাতে। একটি পরিবার প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার ৬১৪ টাকা খাবার খরচ করে। এর পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও বাসস্থানেও খরচ হয় যথাক্রমে যথাক্রমে ১৮২২, ১৫৫৬, ১৪৭৮ এবং ১৮৯ টাকা।

    হোসেন জিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সরাসরি সামষ্টিক অর্থনীতির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বল became, অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় জনমুখী ভাবনা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু জিডিপি বৃদ্ধির ওপর নির্ভর না করে, আমাদের সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও নাগরিককল্যাণের দিকে মনোযোগ বাড়ানো দরকার।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের জন্য পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদী রোগের বোঝা দিন দিন বাড়ছে, যা মোকাবেলার জন্য নতুন सामाजिक নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নারী প্রধান পরিবারগুলো সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা স্তরে রয়েছে, এদের জন্য বিশেষ সহায়তা জরুরি। তৃতীয়ত, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি পেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চতুর্থত, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা উদ্বেগের কারণ। পঞ্চমত, স্যানিটেশন সংকট সমাধান করা জরুরি, কারণ এখনো প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ নন-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করছে, এটি এই লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা।

    অপরদিকে, হোসেন জিলুর রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বেকারত্বের আগুনে পুড়ে যাচ্ছে বহু যুবক এবং সাধারণ মানুষ। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া ও বক্তৃতার পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের দরকার রয়েছে। আমাদের জরুরি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে এই সমস্যা সমাধানে ব্যাপক ও সুদৃঢ় পদক্ষেপ।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও সক্রিয় হয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার সন্ধ্যার পর দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। একইসময়, আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ হচ্ছে ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।

    এর আগে, গত রোববার দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের পদ্ধতিতে হিসাব করে তা ছিল ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

    উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ২.০২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর দেশটির রিজার্ভ কিছুটা কমে যায়। তখন গ্রস রিজার্ভ হয়েছিল ২৯.৫৩ বিলিয়ন ডলার, আর বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপরদিকে, রেমিট্যান্সবান্ধব প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার ঋণের কারণে, গত জুনের শেষে দেশের রিজার্ভ দিয়ে বাংলাদেশের মোট মূল্য ছিল ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, মার্চ ২০২৩ এর শুরুতে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার নিচে নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে, বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুযায়ী জুনে তা ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রিজার্ভের মাইলফলক ২০২১ সালের আগস্টে অর্জিত হয়েছিল, যখন রিজার্ভ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধারাবাহিক ভাবে কমে গিয়ে, ২০২৩ সালের জুলাই শেষে রিজার্ভ ছিল প্রায় ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। সরকার পতনের পর থেকে অর্থপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কারণে ডলারের প্রাপ্যতা বাড়তে শুরু করে। এছাড়াও, হুন্ডি মারফত অবৈধ অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

  • বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছেন, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে দেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ৫ম সভায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে অধিকাংশ প্রস্তাবই বিদেশি বিনিয়োগের, যার পরিমাণ ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া দেশীয় বিনিয়োগ এসেছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার, এসেছে নানা চীনা প্রতিষ্ঠান থেকে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে সভায় জানানো হয়।

    বিডার পক্ষ থেকে বলা হয়, এই মোট প্রস্তাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ২৩১ মিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রস্তাবের প্রায় ১৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে এ রূপান্তরের গড় হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।

    বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে রয়েছে কন্টেইনার জটের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কন্টেইনারের জন্য বর্তমান সরকারের সময় গতি ফিরিয়ে আনতে গত দুই মাসে ১ হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মাসে আরো ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার পরিকল্পনা চলছে এবং উদ্বোধন-হস্তান্তর কার্যক্রম চলমান।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালু করার অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়, যেখানে বিডা, বেজা, বেপজা ও বিসিক এর পরিষেবাগুলিকে একত্রিত করতে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কাজ প্রায় শেষের দিকে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এর সফট লঞ্চিং হবে। পুরোপুরি চালু হবে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ।

    সভার শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শিগগিরই বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, শিগগিরই বিজ্ঞাপন আসছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন যে মোবাইল অর্থনৈতিক পরিষেবা (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা ও উন্নয়ন বৃদ্ধির জন্য সরকার নগদকে বেসরকারিকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা এই খাতে আরও উন্নত ও কার্যকরী ব্যবস্থা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, আমরা এই খাতের কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা আরও বাড়ানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চাই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা নগদকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং বিনিয়োগকারীদের এই উদ্যোগে আনা হবে। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে তিনি এ কথা বলেন। গভর্নর আরও বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিই।’ তিনি আরও জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত নগদ পরিষেবাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ, এখন ডাক বিভাগের পক্ষে এটি চালানো তার উপযুক্ত নয়। গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যেন তিনি নগদকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারেন, যাতে এটি মোবাইল অর্থনৈতিক সেবা খাতে একটি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। তিনি আশা করেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে নগদ আরও শক্তিশালী ও কার্যকরী হয়ে উঠবে, যা দেশের আর্থিক শ্লথতাকে আরও গতিশীল করবে। সূত্র: শীর্ষনিউজ।

  • ন্যূনতম কর আইনকে কালো আইনেরূপে দেখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান

    ন্যূনতম কর আইনকে কালো আইনেরূপে দেখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান

    ন্যূনতম কর আইনকে তিনি একেবারেই কালো আইন বলছেন। এ বিষয়ে সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেন, ন্যূনতম কর নিয়ে অনেক সমালোচনা শুনেছি। সত্যি বলতে, এটি একটি কালো আইন, যার স্বীকৃতি আসতেই হবে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে করের ভিত্তি মূলত মুনাফার ওপর হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মিনিমাম কর নির্ধারণের মাধ্যমে করের হার ঠিক রাখা হচ্ছে, যা নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, অর্থাৎ কর আহরণ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হলে, আমরাও বাস্তবায়ন সহজ করতে পারব। বর্তমানে আমরা ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে বেশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ, যদি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে করের হার কম করা না হয়, তাহলে রাজস্ব আদায় কঠিন হয়ে পড়বে।

    সংলাপে বক্তারা বলেন, করছাড়ের প্রবণতা বাড়ার কারণে দেশীয় অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনুযায়ী কর-জিডিপি অনুপাত অপর্যাপ্ত রয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, আমরা অনেক করছাড় দিচ্ছি, কারণ আমাদের বড় দেশ, বড় কর্মীসংখ্যা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বার্থে এই করছাড় অব্যাহত রয়েছে। তবে এর ফলে করের জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না। তিনি ধারণা দেন, অনেক সময় ট্যাক্স হিল্ড, ট্যাক্স এক্সেম্পশন দেওয়ায় মানুষ এই খাতগুলোতে বেশি মনোযোগ দেয় না। এটা চলতে থাকলে, কর-জিডিপি অনুপাত ভবিষ্যতেও বাড়বে না।

    চলমান ঋণের বোঝা দানা বাঁধছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের জন্য দরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা চাপবে, বলে সতর্ক করেন। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের কর-জিডিপি অনুপাত বহু নিচে নেমে গেছে—গতবছরে ছিল ৭.৪%, এখন মাত্র ৬.৬%। এই হার অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন ও ঋণের সুদ পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই দক্ষ ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা সৃষ্টি অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

    এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, তিনি একটি জাতীয় অটোমেটেড কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এতে সবকিছুই ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে, ম্যানুয়াল পদ্ধতি যেন আর চালু না থাকে। এতে ভ্যাট ও কর রিটার্ন দ্রুত ও সঠিকভাবে নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি অডিটের মান উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন, যাতে প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হয়। বর্তমানে অডিট ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে অডিটের জন্য নিরপেক্ষতা ও ঝুঁকি ভিত্তিক পদ্ধতি প্রবর্তন করা যায়। এর মাধ্যমে করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

    করদাতাদের জন্য কর বৃদ্ধি ও রিফান্ড প্রসেসের অটোমেটেড ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও তিনি ব্যক্ত করেন। তার মতে, করের আওতা বাড়লে কর হার ও ভ্যাট হার কমানো সম্ভব হবে, আর রিফান্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানো জরুরি।

    প্রসঙ্গত, এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮২% ব্যবসায়ী বর্তমানে ব্যবহৃত কর হারকে ‘অন্যায্য’ বলে মনে করেন এবং ব্যবসার উন্নয়নে এটি বাধা সরিষা। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা মত দিয়েছেন, কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নেই ও দুর্নীতি প্রচলিত সমস্যা। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী নিয়মিত কর দাবিকে কেন্দ্র করে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। আশা করি, এই পরিস্থিতি উন্নত হলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।

  • এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর বাস্তবায়ন কালো আইন

    এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর বাস্তবায়ন কালো আইন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান ন্যূনতম করের আইনকে একে একে কালো আইন বলে মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে এক হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘করপোরেট কর এবং ভ্যাটে সংস্কার: এনবিআর এর জন্য একটি বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সংলাপে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

    তিনি বলেন, ন্যূনতম কর নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এবং এটা নিশ্চিতভাবেই একটা কালো আইন। আমাদের দেশের ব্যবসায়িক স্থিতি বিবেচনায়, করের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মুনাফা। কিন্তু আমরা মিনিমাম করের মাধ্যমে সেটি না করে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করছি। সমস্যা হলো, এই বিধানগুলো যদি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করি, তবে দেশের কর আহরণ কমে যেতে পারে। তাই বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ হয়। এই বছর আমরা ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে সক্ষম হয়েছি, কারণ ব্যবসায়ীদের সুবিধা না দিলে রাজস্ব সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে।

    সংলাপে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক মোঃ তামিম আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন, করছাড়ের বিষয়ে প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে কর-জিডিপি অনুপাত ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের বড় জনগোষ্ঠী ও বড় কর্মীবাহিনী থাকলেও ব্যাপক করছাড়ের কারণে কর আদায়ের হার সন্তোষজনক নয়।

    এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন সময় করছাড়ের মাধ্যমে কিছু খাতকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কর মুক্ত রাখা হয়, যা প্রকৃত উন্নয়ন ও রাজস্ব উন্নয়নে অন্তরায়। ফলে, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির জন্য এই অবস্থা পরিবর্তন করতে হবে।

    অন্যদিকে, তিনি বলেন, ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে, কারণ দেশের প্রাপ্যটা যথাযথ রাজস্ব সংগ্রহ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বোঝা বাড়বে। গত বছরের তুলনায় গতবছর কর-জিডিপি অনুপাত আরও কমে গেছে, যা মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের উন্নয়ন ও ঋণ পরিশোধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কর আহরণ আরও জোরদার করতে হবে।

    নতুন আরেক প্রকল্পের কথা বলছিলেন তিনি, যেখানে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এনবিআরকে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল করা হচ্ছে। এর ফলে, ভ্যাট রিটার্ন ও কর রিটার্ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে, এবং অডিটের মানও উন্নত হবে। বর্তমানে অডিটের ম্যানুয়াল পদ্ধতিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে একই ব্যক্তি বারবার অডিটের আওতায় না পড়ে। ভবিষ্যতেই অটোমেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে অডিট পরিচালনা করা হবে, যা করদাতাদের জন্য সুবিধাজনক।

    কর জাল ও করদাতা অটোমেশন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, করের পরিধি বাড়ানো গেলে কর হার ও ভ্যাট হার কমানোর সম্ভাবনা বাড়বে। করদাতাদের জন্য রিফান্ডও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

    সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, বর্তমান করহার অযৌক্তিক ও ব্যবসার জন্য বড় বাধা। একই সঙ্গে, প্রায় ৭৯ শতাংশ ব্যবসায়ী কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাবকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কর প্রশাসনে দুর্নীতিও তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ১২৩টি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ ব্যবসায়ী নিয়মিত কর দাবির জন্য কর কর্মকর্তাদের দায়িত্বে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। বেশিরভাগই অভিযোগ করেন, কোনো ব্যাখ্যা বা পূর্বাভাস ছাড়াই কর আরোপ করা হয়।

    ভ্যাটের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু সমস্যা উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারী ৭৩.৫ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, জটিল ভ্যাট আইন ও অস্পষ্ট নীতিমালা তাদের জন্য বড় বাধা। পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাসে জটিলতা, কর কর্মকর্তাদের সীমিত সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতায় উঠানামা ও উচ্চ ব্যয় এসব বিষয়েও তারা উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক জরিপ অনুযায়ী, ঢাকাসহ আশপাশের জেলাসহ মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানে এই জরিপ চালানো হয়।

  • প্রায় তিন বছরে দারিদ্র্য ২৮ শতাংশে বাড়লেও খাবারের খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    প্রায় তিন বছরে দারিদ্র্য ২৮ শতাংশে বাড়লেও খাবারের খরচ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে

    সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি এখন খুবই উদ্বেগজনক মোড় পাওয়া গেছে। তিন বছরের ব্যবধানে দেশের দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ, যা আগের সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) একটি সাম্প্রতিক জরিপে। ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এই ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে গবেষণার বিশদ কারিগরিত্ব তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান। এই গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অতি দারিদ্র্যের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে এটি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, আর ২০২৫ সালে এসে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর অর্থ, গত তিন বছরে দেশের দারিদ্র্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং এখনো প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার কোনও কারণে দ্রুত গরিব হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই গবেষণা মে মাসে ৮,۰৬۷ পরিবারের ৩৩,২০৭ জনের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।

  • বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক পরিমাণে বিদেশী ও স্থানীয় বিনিয়োগের প্রস্তাবনা সংগ্রহ করছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাবনা পৌঁছেছে। এই তথ্যটি আজ (২৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির ৫ম সভায় জানানো হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত এই বিনিয়োগের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ছয়শত ছুরাশি বা ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

    বিডার প্রতিনিধির মতে, এ পর্যন্ত মোট ২৩১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মোট প্রস্তাবনার প্রায় ১৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের স্তরে এই রূপান্তরের হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি।

    এছাড়াও, বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানোর জন্য নানা উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি কন্টেইনার জটলা পড়ে থাকলেও, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে গত দুই মাসে এক হাজারের বেশি কন্টেইনার নিলামে বিক্রি হয়েছে।onikনা বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় নিলাম কার্যক্রম আরও দ্রুত করা হচ্ছে। আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনারের নিলাম কার্যক্রম চলবে ও পণ্য হস্তান্তরের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালু করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়, যা বেজা, বেপজা, বিসিকের পরিষেবাগুলোকে একসঙ্গে সংযুক্ত করবে। এই প্রজেক্টের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়। আগামির মাসের প্রথম সপ্তাহে এর সফট- লঞ্চের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পুরোপুরি প্ল্যাটফর্মটি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিনিয়োগের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালানো হয়েছে।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করতে সরকার নগদ নামের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মকে বেসরকারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমরা এমএফএস খাতে আরও বেশি কার্যক্রম এবং প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে চাই। এ জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে আমরা নগদকে বেসরকারি করণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে আনছি। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘অর্থাৎ, সম্ভবত এক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।’ গভর্নর জানান, বর্তমানে ডাক বিভাগের অধীনস্থ নগদকে সেখানে থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে কারণ ডাক বিভাগের এখন এটি পরিচালনার সক্ষমতা নেই। তিনি বলেন, ‘নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।’ গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুনভাবে নগদকে গড়ে তুলতে পারলে এটি এমএফএস খাতে একজন প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। সূত্র: শীর্ষনিউজ।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও গুরুত্বপূর্ণ স্তরে পৌঁছেছে। বুধবার দিনের শেষে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী (বিপিএম৬) রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত রোববার এর পরিমাণ ছিল গ্রস রিজার্ভে ৩০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

    গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মাধ্যমে ২ মার্কিন ডলার পরিশোধের পর তার রিজার্ভ কমে যায়। এর ফলে গ্রস রিজার্ভ হয় ২৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী সেই সময়ে ছিল ২৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপর দিকে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানির আয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণের অবদান সাধারণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলস্বরূপ, গত জুন শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ পৌঁছেছিল ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার—যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, ২০২৩ সালের মার্চের শুরুতে, রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামে। সেই সময়, বিপিএম৬ অনুসারে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। এবং, ২০২৩ সালের জুনে এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের মাইলফলক ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, যখন এটি ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এরপর এটি ধারাবাহিকভাবে কমে যেতে থাকে, এবং ২০২৩ সালের জুলাই শেষে তা ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে, সরকারের বিভিন্ন ধরনের নীতি, অর্থ পাচারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং হুন্ডি প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে দেশের প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।