Category: অর্থনীতি

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, আবার বেড়েছে দাম

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, আবার বেড়েছে দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে, যা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) নতুন মূল্য ঘোষণা করে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১,২৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, গতকাল (৭ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২৭১৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করে বাজুস, যা তখন ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা ছিল। এই দামের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম।

  • অর্থ উপদেষ্টার বলেছেন, জলবায়ু মোকাবিলায় প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু অর্ধেকের বেশি টাকা দরকারের সঙ্গে সম্পর্ক টানা যায় না

    অর্থ উপদেষ্টার বলেছেন, জলবায়ু মোকাবিলায় প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু অর্ধেকের বেশি টাকা দরকারের সঙ্গে সম্পর্ক টানা যায় না

    অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমাদের দরকার হচ্ছে ৩০ বিলিয়ন ডলার। তবে, এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার অর্থ আনতে গিয়ে আমাদের অনেক সময় জটিলতায় পড়ে যেতে হয় এবং প্রচুর জানবের হয়ে যায়। তিনি এই মন্তব্য করেছেন আজ, সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর), রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যৌথ আয়োজনের তিন দিনব্যাপী ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়।

    তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন ধরণের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে আমাদের। এর মধ্যে মানুষের তৈরি দুর্যোগের সংখ্যা খুব বেশি, আবার প্রকৃতি আঘাত হানার ঘটনাও কম নয়। এই সমস্যার সমাধানে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন—বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, প্রতিষ্ঠান, অর্থের উৎস ও জনগণ।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে নিজস্ব প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলা করে তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তিনি বলেন, আগে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসতেন; কিন্তু এখন স্থানীয় মানুষ আগে থেকে প্রস্তুত থাকেন। এই প্রক্রিয়াটাকে আরও জোরদার করতে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

    অর্থ উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, আমরা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের তৈরি দুর্যোগের ঘটনা ও ব্যপক। এসব মোকাবিলা এবং প্রস্তুতির জন্য বার্ষিক প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ ধার্য করা হয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার। তিনি জানান, সামনে তিনি আইএমএফের সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের দরাদরি করবেন।

    সাংবাদিকদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক তথ্য ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে সাংবাদিকদের আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। জাপানের শিক্ষার্থীদের মতো আমাদেরও ছোট বেলা থেকেই শিশুদের সচেতন করতে হবে।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, যিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহে গুরুত্ব দিতে হবে এবং এর জন্য আমাদের ক্ষতি বা দুর্যোগের গল্পগুলো প্রকাশ করতে হবে। সাংবাদিকদের এই কাজে সহায়তা চাই তিনি।

    অন্য একজন বিশেষ অতিথি, প্রধান উপদেস্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বলেখ, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের বিভিন্ন শঙ্কাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, যেমন সিলেটে পানি বৃদ্ধি ও ডেঙ্গু রোগের ঢেউ। এসব সমস্যা বৈশ্বিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়নি বলে তারা অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাধা পাচ্ছেন।

    এই তিন দিনের প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে ৬০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন, যার মাধ্যমে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে জানতে ও প্রচার করতে পারবেন।

  • পুঁজিবাজারে দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির অভিযোগে জরিমানা

    পুঁজিবাজারে দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির অভিযোগে জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির দায়ে চার ব্যক্তির পাশাপাশি এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সসহ কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য দুই ব্যক্তিকে জরিমানা এবং নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৭২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংসের শেয়ার কারসাজির মামলায় মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ও জামিলকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। এই শেয়ার কারসাজির জন্য ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদের এই জরিমানাগুলো আরোপ করা হয়।

    অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির দায়ে এনআরবি ব্যাংকের সিএফও মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা ও পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বীমা কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজি মামলায় শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই শেয়ার কারসাজির অভিযোগে তাঁদের ওপর এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়, যা ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংঘটিত ঘটনায় প্রযোজ্য।

    এছাড়া, একই সভায় ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির ঘটনাও উল্লেখ করে, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে পাঠানো হবে। পাশাপাশি, ফরচুন সুজের শেয়ার কারসাজির সঙ্গে জড়িত মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় পত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছুঁতে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা

    খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছুঁতে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা

    এছাড়াও এবার আরও এক দফা বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া মাসের তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। দেশের প্রধান চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করে বলছে, প্রকৃত চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। এর জন্য অনেক শিল্পপতির বিদেশে পলায়ন এবং কারখানা বন্ধের পরিস্থিতিও বড় অবদান রাখছে। ২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, তখন থেকে গত ১৫ বছরে এটি হয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুনের মধ্যে তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। আর এক বছরেও এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে এখন প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে অনেক ঋণই আসলে খেলাপি হিসেবে কাস্টমাইজ করা হয়েছে। ঋণ খেলাপির নিয়মে পরিবর্তনের ফলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রাইভেট সেক্টরে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে স্বচ্ছতার অভাব ছিল, দেশের ব্যাংক খাত নিজেদের চেষ্টায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। কিছু ঋণকে আদালতের নির্দেশে আনঅ্যাকাউন্টেবল দেখানো হয়নি, কিন্তু এখন আমরা সেই সবগুলোকে স্পষ্ট করে দেখাচ্ছি। ফরেনসিক অডিটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে, তাই কিছু ঋণকে ক্লাসিফাই করে ডিফল্ট হিসেবে দেখানো হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ গত ছয় মাসে ১০ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব দিয়ে ঋণ বিতরণে কিছু অনিয়মের জন্যই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলোকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও প্রভাব দিয়ে ঋণ বিতরণ বেড়ে গেছে, এবং ঋণ সংকোচনের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেই। ফলে পূর্বে যা ছিল তার চেয়েও দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি ঋণ দেওয়া হয়েছে, যার জন্য পরবর্তীতে ঋণের পরিশোধ সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে ব্যাংক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

  • স্বর্ণের দাম বেড়েছে তৃতীয় দিনের মতোই আবারও

    স্বর্ণের দাম বেড়েছে তৃতীয় দিনের মতোই আবারও

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনের মতো আবারও বৃদ্ধির Trend বজায় রাখতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ৩৩৭ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নিধার্মা করেছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই দাম এখন থেকে কার্যকর হবে আগামীকাল বুধবার থেকে।

    বাজুসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়েছে, যার ফলে স্বর্ণের সামগ্রিক দামে বাড়তি প্রভাব পড়েছে। নতুন দামে এখন দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। এছাড়া, অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এরকম: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫২ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির (সাধারণ) স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪৬ টাকা।

    উল্লেখ্য, গতকালও বাজুস স্বর্ণের দামে বৃদ্ধি এনেছিল, যেখানে ভরিতে ১ হাজার ২৬০ টাকা যোগ করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। এটি তখন দেশের সর্বোচ্চ দাম ছিল। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকায় স্থির হয়েছিল।

    অতিরিক্ত, এর আগের দিন সোমবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৭১৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারিত হয়। যা তখন দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    এই বছর, এখন পর্যন্ত মোট ৫২ বার স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দামের বাড়ানো হয়েছে ৩৬ বার আর কমানো হয়েছে মাত্র ১৬ বার।

    অপর দিকে, রুপার দাম এরপরও অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য ২ হাজার ৮১১ টাকা, আর ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ২৯৮ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১ হাজার ৭২৬ টাকা নির্ধারিত।

  • খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে

    খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে

    বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে এই ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রকৃত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও ব্যাপক হারে বাড়ছে। এর পিছনে অন্যতম কারণ হলো অনেক শিল্প উদ্যোক্তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়া এবং কারখানা বন্ধের ফলস্বরূপ ঋণের টাকা ফেরত দিতে না পারা।

    অতীতে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। তবে গত ১৫ বছর পর, অর্থবছরের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, মার্চ থেকে জুন, এই তিন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাফে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা হয়েছে। এক বছরের মধ্যে এই পরিমাণ বেড়েছে মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৬ কোটি টাকা, যা এখন রেকর্ড ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ফর্নসিক অডিটের মাধ্যমে প্রকৃত খেলাপি ঋণের চিত্র পরিস্কার হচ্ছে। এ ছাড়াও, ঋণ খেলাপির নিয়মে পরিবর্তন বারংবার হওয়াও এর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রাইভেট সেক্টর গত দশক ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যাংক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে এবং কিছু খেলাপি ঋণ আদালতের নির্দেশে আনক্লাসিফায়েড দেখানো হতো। তবে এখন আমরা সেই সব ঋণের ব্যাপারে স্পষ্ট ভাবনা নিয়ে তাদেরকে ক্লাসিফাই করে ডিএফ (ডিফার্ড অ্যান্ড অ্যারিয়ারেজড) দেখাচ্ছি।

    অধিকাংশ খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র দেখাতে ফরেনসিক অডিটের রিপোর্ট সহায়তা করছে। কিছু ক্ষেত্রে, এ অডিটে জানা গেছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সব খেলাপি ঋণকে ক্লাসিফাই করে চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে জুন মাসে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬২ কোটি টাকায়। ব্যাংকুলোর এই ঋণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও অশ্লীল প্রভাবের কারণে ঋণ বিতরণে অস্বচ্ছতা ও দলিলের গাফিলতি এখনো বড় সমস্যা। কিছু ঋণ অতিরিক্ত করে দেওয়া হয়, যেখানে মূল পরিমাণের দ্বিগুণ বা তিনগুণ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ঋণ আদায় বা পরিশোধ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আর্থিক স্থিতিশীল রাখতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার জন্য তত্পরতা প্রয়োজন, যাতে আমাদের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল থাকে।

  • স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনও বৃদ্ধি পেলো

    স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিনও বৃদ্ধি পেলো

    দেশের বাজারে ক্রমাগত চতুর্থ দিনের মতো স্বর্ণের মূল্য বেড়েই চলছে। মঙ্গলবার ভরিত স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে আরও ৩ হাজার ১৩৭ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষণা করেছে, এই হারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম।

    বাজুসের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় এবং জানানো হয়েছে যে, নতুন দাম আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতিটি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতিভরি দাম এখন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের মানে ১ লাখ ৫২ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪৬ টাকায়।

    এর আগে, গতকাল (সেপ্টেম্বর ৮) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরি প্রতি ১ হাজার ২৬০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকায়। যা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চ দামের স্বর্ণ।

    সাথে সাথেই, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকায়। এগুলো কার্যকর হয়েছিল ৯ সেপ্টেম্বর।

    এর আগে, সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবারও স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২৭১৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা তখন দেশের সর্বোচ্চ দাম ছিল।

    এভাবে, চলতি বছর মোট ৫২ বার স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এসেছে, যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৬ বার এবং কমেছে মাত্র ১৬ বার।

    বেজোড় খবর হলো, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রোপা বিক্রি হয় ২ হাজার ৮১১ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ২৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ হাজার ৭২৬ টাকায়।

  • স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত

    স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন রেকর্ডে পৌঁছিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা দেয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন দাম কাল থেকে কার্যকর হবে।

    প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১,২৬০ টাকা বেড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) এখন ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্যও বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ে সার্বিক বাজার পরিস্থিতিতে, ফলে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, গতকাল (৭ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২৭๑৮ টাকা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা করা হয়। এটি তখন দেশের সর্বোচ্চ স্বর্ণের দামের রেকর্ড ছিল।

  • অর্থ উপদেষ্টার কাছে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার

    অর্থ উপদেষ্টার কাছে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা, বলেছেন, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের মুখে আমাদের মোকাবিলার জন্য অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলার দরকার। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে মাত্র এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আনতে গিয়ে আমাদের খুবই কষ্টে পড়তে হয়। এই অপ্রতুলতার কারণে বারবার আমাদের জানবের টাকা খরচ করতে হয়।

    আজ ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) যৌথ ও আয়োজন করে তিন দিনব্যাপী ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অপ্রতুল অর্থের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অচিরেই বড় পরিমাণ অর্থের জোগান দরকার বলে জানান তিনি।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের দেশে দুটি ধরনের দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে—প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ। তিনি বলেন, এগুলোর মোকাবিলায় পাঁচটি মূল পক্ষের সমন্বয় জরুরি: বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, সংস্থাগুলো, অর্থ সংগ্রহকারী এবং জনগণ।

    বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষরা তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে থাকেন। মূলত, যদি আমাদের সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া শুধুমাত্র ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টা নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকে, তা হবে না। আগুন লাগলে আগে মানুষ নিজে এগিয়ে আসে, তারপরকি ফায়ার সার্ভিস। এই বাস্তবতা আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি। এই প্রক্রিয়ায় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের বিশ্লেষণ ও জ্ঞানদানের উপরও জোর দিতে হবে।

    অর্থ উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমরা বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব কারণেও তৈরি হয় অনেক দুর্যোগ। এ জন্য প্রতি বছর ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের কূটনীতি চলতে আছে।

    তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ নিয়ে তাঁদের সচেতনতা ও তথ্যপ্রেরণায় ভূমিকা বাড়াতে হবে। জাপানের ছাত্ররা যে যার বয়স থেকেই কয়শ শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতন, আমাদেরও সংশ্লিষ্ট সবাইকে একইভাবে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এ বিষয়ে শিক্ষা প্রদান জরুরি।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এই শতাব্দীর সবচেয়ে বিপজ্জনক সমস্যা। এর কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগ নিতে হবে।

    বিশেষ অতিথির মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী উল্লেখ করেন, জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য আমাদের সচ্ছতা ও উন্নত পরিকল্পনা দরকার। তিনি বলেন, কেসগুলো তুলে ধরতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে দ্রুত অর্থ আদান-প্রদান সম্ভব হয়।

    আরেক বিশেষ অতিথি এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য পরিস্থিতি বোঝাতে জলবায়ু পরিবর্তনও গুরুতর সমস্যা। সিলেটে পানি বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু হারসহ নানা সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ঘটছে। তবে, এই সব গল্প বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে আমাদের আরও বেশি সচেতনতা ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তাহলে আমরা অর্থের জন্য উপযুক্ত কেস তুলতে পারব।

    এই তিন দিনের প্রশিক্ষণে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্ব ও এর মোকাবিলা বিষয়ক রিপোর্টিং দক্ষতা অর্জনে কাজ করবেন।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জরিমানা ও শাস্তি

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জরিমানা ও শাস্তি

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজি করে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। এর মধ্যে নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য চারজন ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানকে যথাক্রমে অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি ডেটা অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও জরিমানা করা হয়। বুধবারের ৯৭২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংসের শেয়ার কারসাজিতে জড়িত মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জামিলকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ড ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়ে এক্ষেত্রে শেয়ার কারসাজির জন্য আরোপ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে ওই কোম্পানির সঙ্গে জড়িত এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকার জরিমানা ও পাঁচ বছর অর্থাৎ চাকরি ও সিকিউরিটিজ লেনদেন থেকে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে, কোম্পানিটির অন্য এক ব্যক্তিকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই কারসাজির জন্য তারা ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দায়ী।

    এছাড়া, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবির) সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। একইসঙ্গে, এই শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুঁজিবাজারের একজন পরিচিত ব্যক্তির, মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।