Category: অর্থনীতি

  • পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে

    পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন চূড়ান্ত করেছে পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত। এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক টিম গঠন করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার একটি বিশেষ বোর্ড সভার শেষে মুখপাত্র মোঃ আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান, সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বোর্ড সদস্যরা একীভূতকরণের বিষয়ে সর্বসম্মত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। আরিফ হোসেন খান বলেন, মার্জার বা একীকরণ এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় দুই বছর। তবে এখন থেকে এর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত, এবং খুব শিগগিরই এই প্রকল্প দৃশ্যমান হবে।

    প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক টিম গঠন করা হবে যা এই বিষয়ের দেখভাল করবে। তিনি আরও জানান, ব্যাংকগুলো দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বর্তমান ব্যবস্থাপনা টিম। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তার পদে বহাল থাকবেন। তবে এই একীকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাংকদের পর্ষদ বা বোর্ড বাতিল করা হবে না, বরং ধীরে ধীরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। এই প্রশাসক টিম নিয়মিত তাদের অগ্রগতি ও আপডেট বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ডেপুটেমেন্টে জানাবে।

    এছাড়াও, সভায় ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়। গত মঙ্গলবার ব্যাংকগুলো মূলত আলোচনা করে খেলাপি ঋণ আদায়, বিভিন্ন উদ্যোগ ও সিদ্ধান্তসমূহ।

    সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক গঠন করা হবে, যার সম্ভবত নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। এই ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন ধরে এই পাঁচ ব্যাংকের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক বোর্ড একীভূত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক বিরোধিতা করে।

    একীভূত করার প্রক্রিয়ায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সরকার ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

  • স্বর্ণের দাম reaches সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভবিষ্যত অস্থিরতার আশঙ্কা

    স্বর্ণের দাম reaches সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভবিষ্যত অস্থিরতার আশঙ্কা

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এখন একটি নতুন শিখরে পৌঁছেছে, যা বেশ কয়েক বছরworker পরিণত হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে প্রকাশ পাচ্ছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের upcoming সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা। মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের মূল্য বেড়ে গেছে, বিশেষ করে ফেডের বৈঠকের আগে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দুর্নীতি, জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দুর্নীতি, জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। এ সিদ্ধান্ত ৯৭২তম কমিশন সভায় নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির দায়ে মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা হলেন মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকার (১ কোটি ১৪ লাখ টাকা), আবুল বাসার (৪ কোটি ২ লাখ টাকা), সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং (৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা), মোঃ সেলিম (১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা) এবং জামিল (২ কোটি ২০ লাখ টাকা)। এই শাস্তির কারণে তাদেরকে ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে শেয়ার কারসাজির জন্য জরিমানা করা হয়।

    অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে সংশ্লিষ্টতার জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন সিনিয়র অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড করা হয়েছে। তার সাথে এছাড়াও তাকে পদচূড়ান্ত ও চাকরি থেকে অবাঞ্ছিত করে পাঁচ বছর পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, কোম্পানির শেয়ার কারসাজির জন্য শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অপরাধে তাদেরকে ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দণ্ডিত করা হয়।

    এছাড়া, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির ঘটনায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, এই শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকায় পুঁজিবাজারের আলোচিত ব্যক্তি মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • স্বর্ণের দাম রেকর্ড গড়ার পর পতন

    স্বর্ণের দাম রেকর্ড গড়ার পর পতন

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘ আট দফা মূল্যবৃদ্ধির পরে আজ থেকে নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে। চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এর আগে গত মাসে অন্তত দুই দফা ও চলতি মাসে ছয় দফা দাম বেড়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল, যা ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা। এই দামে স্বর্ণের চাহিদা কমতে শুরু করেছে, যা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক খবর।

    বাজুসের এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে গেছে। এর ফলে নতুন দাম নির্ধারণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

    নতুন দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা, ২১ ক্যারেটে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯४১ টাকা এবং সনাতন প্রথায় এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    অপরিবর্তিত থাকছে রুপার দাম, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৩ হাজার ৩১৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ১৩৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজুসের তথ্যানুসারে, স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনা তৈরির ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির হারে পরিবর্তন আসতে পারে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য স্বাভাবিক।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, এই রিজার্ভ বর্তমানে ২৬.০৮ বিলিয়ন ডলার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে, দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০.৫৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বিপিএম-৬ অনুযায়ী মূল রিজার্ভ ছিল ২৫.৭৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তথ্যে জানা গেছে, দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ এখন ৩১.০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে, দেশের প্রকৃত বা নিট রিজার্ভের হিসাব আলাদা, যা শুধু আইএমএফকে জানানো হয় এবং প্রকাশ করা হয় না; এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২১ বিলিয়ন ডলার পার হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসার অন্যতম কারণ হলো প্রবাসী আয়, রফতানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অন্যান্য বৈদেশিক ধারকদের মাধ্যমে ডলার আসা। এরপর দেশ থেকে বিদেশে ঋণ পরিশোধ, বেতন-ভাতা ও নানা খাতে ব্যয় হওয়া ডলার দেশের রিজার্ভ কমিয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতি ইতিবাচক, কারণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা কমেছে।

    উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি, বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলমান সময়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১৩.৪ কোটি ডলার এবং ২ সেপ্টেম্বর আট ব্যাংকের কাছ থেকে ৪.৭৫ কোটি ডলার কোলাকৃত হয়।

    গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের বড় অবদান। এই অর্থ পৌঁছায় মোট ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার জুলাই মাসে এবং ২৪২.২ কোটি ডলার আগস্ট মাসে। অন্যান্য মাসের রেমিট্যান্সের পরিমাণও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

    অতিরিক্তে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। বিগত বছরগুলোর তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বরাবরই ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৩ সালে দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা পরবর্তী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১ সালে ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর বৈদেশিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে রিজার্ভ কিছুটা কমলেও, বর্তমানে পুনরায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, পরিচালনায় আসবে প্রশাসক

    পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, পরিচালনায় আসবে প্রশাসক

    সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংককে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য চলতি সপ্তাহে একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক টিম গঠন করা হবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভার পর মুখপাত্র মোঃ আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। এর আগে, গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে এই সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য বোর্ড মেম্বাররা উপস্থিত ছিলেন।জনপ্রিয় ব্যাংক ও বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই একীভূতকরণে সব পক্ষের সম্মতি রয়েছে, এবং এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুসারে সম্পন্ন হবে।আরিফ হোসেন খান বলেন, মার্জার বা একীভূতকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যার সম্পন্ন করতে সময় লাগবে প্রায় দুই বছর। তবে এর প্রথম ধাপের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত, এবং খুব শিগগিরই প্রক্রিয়াটি দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে।এক্রিয়াটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে পাঁচ সদস্যের একটি প্রশাসক টিম গঠন করা হবে, যা এই প্রক্রিয়ার পরিচালনা করবে। ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বর্তমান ব্যবস্থাপনা দল, এবং প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাদের পদে অব্যাহত থাকবেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার সময় ব্যাংকের পর্ষদ বা বোর্ড বিলুপ্ত হবে না, তবে তারা ধীরে ধীরে কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। প্রশাসকের দল তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং আপডেট বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে।আজকের বোর্ড সভায় আরও আলোচনা হয়েছে ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার এবং খেলাপি ঋণের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে।সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, যার নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামি ব্যাংক’। এই নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন ধরে এসব ব্যাংকের শুনানি শেষে, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামি ও ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদ একীভূত হওয়ার পক্ষে মত দেয়। কিন্তু সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে।প্রক্রিয়াটির অংশ হিসেবে, সরকার ৩৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে মোট ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন বরাদ্দ দিয়েছে, যা এই সংযোজনের অর্থায়নে সহায়ক হবে। এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে সহায়তা করবে।

  • স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে

    স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে

    মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে ডলারের দাম দুর্বল হয়ে পড়ায় মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম আবারও ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই বৈঠকে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৩ হাজার ৬৯৬ ডলার ০২ সেন্টে পৌঁছায়, যা পূর্বের দিনের তুলনায় ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। দিনের শুরুতে দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯৭ ডলার ৭০ সেন্ট। যদিও বেশ কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলার অতিক্রম করার আগে এক দফা সংশোধন দেখা যেতে পারে। তারা এও বলছেন, ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সপ্তাহে সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিতে পারে, যেটি স্বর্ণ বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। ইউবিএস বিশ্লেষক জিয়োভান্নি স্টাউনোভো বলেছেন, ডলারের দুর্বলতার পাশাপাশি, মার্কিন ফেডের এই সপ্তাহে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশাই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের প্রত্যাশা, বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুই দিনব্যাপী বৈঠকের ফলাফল হিসেবে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বা আধা শতাংশের হার কমানো হবে, কিঞ্চিৎ সম্ভবত ৫০ বেসিস পয়েন্টও হ্রাস পাবে। এর পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ফেডের চেয়ার জেরোম পাওয়েলকে আরও বড় করে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো দে কাসা বলেন, ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ফেডারেল রিজার্ভ আগামী বছরেও সুদের হার কমিয়ে যেতে থাকবে, যা স্বর্ণের বাজারে আরও সমর্থন যোগাচ্ছে। স্টাউনোভো মতে, ফেডের বিবৃতি প্রকাশের সময় বাজারে অস্থিরতা বাড়বে, বিশেষ করে যদি তারা হ্রাসের পাশাপাশি কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে। তবে ট্রাম্পের প্রত্যাশায়, সামনে আসা মাসগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও উঠবে বলেই তিনি মনে করেন।

  • খেলাপি ঋণের পুনঃতফশিলা ও নতুন সুবিধা ঘোষণা

    খেলাপি ঋণের পুনঃতফশিলা ও নতুন সুবিধা ঘোষণা

    বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে বিভিন্ন শর্ত ও সুবিধার মাধ্যমে খেলাপি ঋণের নিষ্পত্তির পথ একশো শতাংশ সহজ ও কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো এখন ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিল, পুনর্গঠন করতে পারবে, যার ফলে ঋণগ্রাহকরা সহজে ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন। শুধুমাত্র দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্টের মাধ্যমে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, এর সাথে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড ও সংশ্লিষ্ট খাতের সাধারণ সুদের চেয়ে এক শতাংশ কম সুদ দেওয়া যাবে। ব্যাংকগুলো এই সুবিধাগুলো নিজ włas দায়িত্বে দিতে পারবে। প্রয়োজন হলে, ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সংক্রান্ত আবেদনও করতে পারবে ব্যাংকগুলো। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে বিশেষ অনুকুল পরিস্থিতিতে ঋণ পুনঃতফশিল ও পুনর্গঠন করে অঘোষিতভাবে খেলাপির পরিমাণ অনেক কম দেখানো হত। কিন্তু সরকার পতনের পর এখন এই পরিমাণ দুগুণের বেশি বেড়ে ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি, গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিশেষ কমিটি গঠন করে, যেখানে খেলাপি ঋণ পুনঃতফশিলের সুযোগ চালু হয়েছিল। এখন এই সুবিধাগুলো ব্যাংকগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হলো।

    নতুন সার্কুলারে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ব্রিমিত ঋণের হিসাব বিবেচনা করে ব্যাংকগুলো পুনঃতফশিলের জন্য আবেদন করতে পারবে, এবং এই আবেদনসমস্ত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে করতে হবে। আবেদনপত্রের ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এছাড়াও, যদি দাখিলকৃত ডাউন পেমেন্ট ব্যাংকের মূলধন হয়, তবে তা নগদায়নের এক বছর পর থেকে গণনা শুরু হবে। বিশেষভাবে, একাধি তিন বা তার বেশি পুনঃতফশিলের ক্ষেত্রে আরো এক শতাংশ অতিরিক্ত ডাউনপেমেন্ট আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে নীতি সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে না, তবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণের বিপরীতে এই সুবিধা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ঋণ মূল্যের ব্যাংক বা সম্মিলিত সিদ্ধান্তে বিষয়টি গ্রহণ করতে হবে। ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যাংক নিজে সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তবে তা ব্যাংকের বাছাই কমিটির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

    শ্রেণিকরণ ও প্রভিশন সম্পর্কিত নিয়ম অনুসারে, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণের জন্য সাধারণ প্রভিশন প্রয়োগ করতে হবে। প্রকৃত অর্থের আদায় ছাড়া ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর বা আয় স্থানান্তর অসুবিধা হবে না, তবে শর্তসাপেক্ষে সাধারণ প্রভিশনের জন্য স্থানান্তর করা যেতে পারে। একই সঙ্গে, অতীতের লেনদেন ও সার্বিক পরিস্থিতি দেখেই ঋণের সুবিধা দেওয়া হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য গত বছর খোলা এলসি বা বাকিতে আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারজনিত ক্ষতিগুলোকেও হিসাবের আওতায় আনা হবে। গ্রাহক চাইলে, পুনর্গঠন বা এককালীন এক্সিট সুবিধাও নিতে পারবে।

    অন্যদিকে, জাল-জালিয়াতি বা অন্য কোনো প্রতারণামূলক কাজে সৃষ্টি হওয়া ঋণে এই সুবিধা দেওয়া হবে না। ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যথাযথ ক্ষতি মূল্যায়ন ও প্রতিষ্ঠানের পুনরায় ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে পুনঃতফশিল বা পুনর্গঠন নিশ্চিত করা যেতে পারে।

    আদেশ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় স্পষ্ট কারণসমূহ উল্লেখ করতে হবে। সুবিধা দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে, ব্যাংক ও গ্রাহক একমত হয়ে চলমান মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া স্থগিতের ব্যবস্থা নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে। প্রয়োজনে, সুবিধা ভোগী গ্রাহক যদি শর্ত লঙ্ঘন করে, তবে তার সকল সুবিধা বাতিল করা হবে এবং ব্যাংক আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবে।

  • শর্তসাপেক্ষে ভারতে ১২০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয় সরকার

    শর্তসাপেক্ষে ভারতে ১২০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেয় সরকার

    আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার শর্তসাপেক্ষে ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ভারতে মোট ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রফতানির অনুমতি দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখার উপসচিব এস এইচ এম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ মাছের রফতানি অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যা ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অনুমোদিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠান হলো ৩৭টি, এবং রফতানির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ১,২০০ মেট্রিক টন।

    তবে, এই রফতানি সফলভাবে সম্পন্ন করতে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যেমন রফতানি নীতিমালা ২০২৪-২০২৭ অনুসরণ বাধ্যতামূলক, শুল্ক কর্তৃপক্ষের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকা, এবং পরবর্তী আবেদনের সময় পূর্ববর্তী অনুমোদিত রফতানির তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে হবে। এছাড়া অনুমোদিত পরিমাণের বেশি মাছ রফতানি করা যাবে না, এবং রফতানি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করতে হবে।

    অতিরিক্তভাবে, এই অনুমোদন হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং অনুমোদিত কোম্পানি নিজে রফতানি করতে পারবে, সাব-কন্ট্রাক্ট দিতে পারবে না। সরকার প্রয়োজনে এ রফতানি অনুমতিপত্র বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

    এদিকে, গত ৮ সেপ্টেম্বর সরকার দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইলিশের রফতানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। আগ্রহী রফতানিকারকদের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পর্কিত সব কাগজপত্র সহ হার্ড কপিতে আবেদন করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

    আবেদনকারীদের ট্রেড লাইসেন্স, ইআরসি, আয়কর ও ভ্যাট সার্টিফিকেট, বিক্রয় চুক্তিপত্র, এবং মৎস্য অধিদফতরের লাইসেন্স দাখিল করতে বলা হয়। প্রতি কেজি ইলিশের রফতানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ১২.৫ মার্কিন ডলার।

    উল্লেখ্য, গত বছর দুর্গাপূজার সময় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে ৩,০০০ মেট্রিক টন ইলিশের রফতানি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল, যা পরে ২,৪২০ টনে হ্রাস পায়।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দু’ কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে অর্থদণ্ড ও জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দু’ কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে অর্থদণ্ড ও জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজি করে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে এই کارروকা বিভিন্ন ব্যক্তির এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, যেখানে নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য চারজন ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান, এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সসহ কোম্পানির শেয়ার কারসাজির জন্য দুই ব্যক্তি দণ্ডিত হয়েছেন। কমিশনের ৯৭২তম সভা বুধবার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। সভা শেষে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংসের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জামিলকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই জরিমানার আদেশ ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়কালে তাদের কার্যকলাপের জন্য জারি হয়। অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি পঞ্চাশ বছরের জন্য তার চাকরি এবং securities লেনদেনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আদালত শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই অর্থদণ্ডও ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে। আরও এক অংশে, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে নির্দিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, মোঃ আবুল খায়ের হিরু এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যারা এই কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই সব ঘটনাগুলোর মধ্যে ফিন্যান্স ও বাজারের স্বচ্ছতা ও সুরক্ষার জন্য বিএসইসির পদক্ষেপ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বলে জানানো হয়েছে।